ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধুলির রক্তিম শিখা

১০ম পর্ব

লেখক: পরিনিতা

#গোধূলির_রক্তিম_শিখা 

#লেখনীতে_পরিনিতা 
গোধূলির লগ্নের শেষ প্রহর অতি নিকটে। বিকেলের রোদের সোনালি আভাতে, গায়ে ধূসর রঙের শার্ট আর প্যান্ট, গলায় গামছা ঝুলিয়ে হাতে বাঁশি নিয়ে এক যুবক চাতক পাখির মতো চাহনি রেখে তাকিয়ে আছে মাঠের আইল ধরে দূরের পথের দিকে। শীতের হিমের দক্ষিণা বাতাসে সে যুবকের চুল উড়ছে। গায়ের পশম কাটা দিচ্ছে বারংবার তবুও সে অপেক্ষা করছে তার হৃদয়হরণীর। 
কিন্তু দিনের আলো নিভে রাতের অন্ধকার ছেয়ে যাচ্ছে প্রায়, কিন্তু সে হৃদয়হরণীর অপেক্ষায় থাকা যুবকের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।
রাসেন আর নেহাল দূরে গাছের সাথে ঠেক দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাদর মুড়ি দিয়ে। তারা দুজনে দেখছে শতাব্দীর এক অবাক করা যুবককে। যে কি এতবছর অব্দি কোন নারীর দিকে চোখ তুলে তাকায়নি সে যুবক ই কি-না আজ ভরদুপুর থেকে এখন অব্দি নাওয়াখাওয়া ভুলে গিয়ে এ মাঠের ধারে রাস্তার ওপারে গাছের সাথে ঠেক দিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এ যুবকের এমন পরিনতির জন্য দায় কাকে করা যায়? ওই মালিকন্যাকে নাকি এ অধমকে? এ নিয়ে দু'জনের মনে নীরব যুদ্ধ চলছে।
এদিকে,,
ফুল বদ্ধ জানালার ওপারে ঘরের অন্ধকারে চুপচাপ চৌকির উপরে হাত পা গুটিয়ে বসে আছে। মনে তার বেশ দ্বিধাবোধ। লোকটাকে গিয়ে কি শাসানো উচিত? না কতলোকেরাই তো কত ভাবে ফাঁদ পেতে আছে, কই তাদের তো এমন শাসানোর কথা ভাবনায় ও আসে নি? এমন অনুভূতি হওয়ার কারণ কি? লোকটা আবেগে গা ভাসাচ্ছে। ফুল তা খুব ভালো করেই জানে। লোকটা সৌন্দর্যের পূজারি হয়ে বিমোহিত হয়ে পড়ছে। তার অতীত সম্পর্কে নিশ্চয়ই অগ্যাত তাই এমন অনুভূতি আবেগ হয়ে ধরা দিচ্ছে তার। চারদিক গুটগুটে অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। মাগরিবের আজানের ধ্বনি শোনা গেলো। ফুল উঠে অযু করতে গেলো।
এদিকে,,
অনিক চুপচাপ গোধূলি লগ্নের সমাপ্তি দেখলো। নেহাল আর রাসেল অনিকের সামনে এসে বললো,
" বাড়ি চল। মেয়েমানুষ তো ভয় পাচ্ছে হয়তো।"
অনিককে বুঝিয়ে শুনিয়ে ওরা বাড়িতে নিয়ে গেলো। 
প্রেমা অনিকদের ঘরের দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আজ সারাদিনে একবারও সে অনিকের দেখা পায়নি। 
তখন ই অনিকের দেখা মিললো, সাথে নেহাল আর রাসেল ও আছে। 
অনিককে দেখেই প্রেমা বললো,
" সারাদিন খাবারদাবার বাদ দিয়ে বাদরের মতো কই কই উড়ে বেড়াচ্ছো?"
নেহাল প্রেমার কথার জবাবে রসিকতার ছলে বললো,
" পেরেমে পরলে এমন একটুআধটু বাঁদর হওয়া লাগেই। কি বলিস অনিক?"
নেহালের কথাগুলো প্রেমার কানে যাওয়া মাত্র ই, মেয়েটার বুকটা ধক করে কেঁপে উঠলো। যেনো তার কানে বিষক্রিয়া হয়েছে এমনকিছু। 
মনে ধপ করেই এক অজানা ভয়ে বাসা বাঁধলো। 
ওরা সবাই সামনের রুমের বিছানার উপর বসে আছে।
অনিক নেহালের দিকে তাকিয়ে বললো,
" আরে কি বলছিস! ঢেমলি এমন কিছু ই না বুজেছিস। ওর মাথায় সমস্যা তা-ই আবোলতাবোল বকছে।"
প্রেমা সেরুম থেকে বেরিয়ে নিজেদের ঘরের দিকে চলে আসলো।
অনিক প্রেমার এমন আচরণ দেখে অবাক হয়ে বললো,
" এ-র আবার কি হলো!!"
ওরা তিনজন কতক্ষণ বসে গল্পগুজব করলো। নুরুন্নেছা বেগম (অনিকের মা) মুড়িমাখা বানিয়ে ওদের সামনে দিয়েছে ওরা খেয়েছে তা বেশ তৃপ্তি করে। কিছুক্ষণ তারা দুজনে চলে গেলো। 
এদিকে প্রেমা নিজের রুমে বসে বেশ কিছুক্ষণ গাল ফুলিয়ে বসে ছিলো এক অজানা আশঙ্কায়। সে তো বলেছে এমনকিছু ই না। তবুও মন মানতে চাইছে না। সে জানে অনিক কখনও কারো দিকে চোখ তুলে তাকানোর মতো না। তবুও কেনো এমন লাগছে? এটা নিশ্চয়ই তার মনের ভুল তাই না? হ্যাঁ তা-ই। সে কেনো হারানোর ভয় পাবে? জেঠিমা তো বলেছে অনিক তার ই। তাহলে এত সাহস কার -ওঁকে কেড়ে নেওয়ার?
প্রেমা চুলে খোপা করে অনিকদের ঘরের দিকে গেলো। অনিক বিছানার উপর বসে বসে ডিভিডি তে ক্যাসেট বাজিয়ে হিন্দি সিনেমার গান শুনছে।
 
"Aaja piya tohe pyaar doon....
gori baiyyaan tope vaar doon
Kis liye tu, itna udaas
Sukhe sukhe honth, ankhiyon me pyaas
Kis liye? kis liye.... 
Hooo Aaja piyaa tohe peyar doon"
প্রেমা গিয়ে অনিকের পাশে দাঁড়ালো। অনিক প্রেমার উপস্থিতি টের পেয়ে গানটা বন্ধ করে ওর ভাবমূর্তি লক্ষ করলো। প্রেমার হাতের মুঠোতে কিছু টাকার নোট। এগিয়ে দিয়ে বললো,
" হিন্দি নতুন সিনেমা এসেছে শুনলাম। তুমি দেখে এসে আমাকে কাহিনী গুলো শুনাও। নেও টাকা। কালই যাবে সিনেমা হলে। আর আমাকে কবে নিয়ে যাবা সিনেমা দেখতে? তুমি না বলেছিলে পরের বার নিয়ে যাবে ?"
অনিক হালকা হেসে বললো, 
" কোন পরের বার নেবো তা কি বলেছি নাকি? নেবো একদিন।"
প্রেমা কোমরে হাত দিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। অনিক ওর কপালে টোকা দিয়ে বললো,
" যা ভাত নিয়ে আয়। খেতে দে আমাকে। ক্ষুধা লেগেছে। যা যা।"
প্রেমা ভাত আনতে গেলো। হালকা খুশি ও হলো অনিকের আগের মত আচরণে। শুধুশুধু ই সে ভয় পাচ্ছিলো।
কেটে গেলো আরও পাঁচটা দিন। অনিক শত চেষ্টা করেও তার হৃদয়হরণীর দেখা পেলো না। কত ছলচাতুরী করলো কিন্তু সে রমনী বড়ই নির্দয়।দেখা দিলো না সে পাষাণী। 
এদিকে,,
ফুল আজ কয়দিন পাশের বাড়ির কল থেকে পানি আনে। সে বাড়িতে মেয়েরা মাটির কাজ করে। মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানায়। গঞ্জের মেলাতে সেসব জিনিসের চাহিদা অনেক। 
এ কাজে সে অনেক পারদর্শী। এইতো কয়েকবছর আগেও তার মাটি দিয়ে বানানো হাতের কাজের প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ ছিলো। শখের বসেতে তখন সে এসব করতো। গায়ের অনেকে পয়সার বিনিময়ে কিনতেও চাইতো, কিন্তু করিম আলী মেয়ের নরম হাতে সংসার ঘানি টানতে দিতে নারাজ ছিলেন এত অল্প বয়সে। তিনি চাইতেন তার মেয়ে হেসেখেলে নিজের সুখে প্রকৃতির মাঝে থাকুক। এ চাঁদবদন হাতে কষ্টের আঘাত দিতে চাইতেন না তিনি। অতঃপর বিয়ের পর সে শখকে একেবারেই মাটি চাপা দিতে হয়েছিলো তার। আজ বহু বছর পর তার কিছু করতে ইচ্ছে করলো সে শখকে অবলম্বন করে। ধারদেনাতে সংসার টইটম্বুর হয়ে আছে। অতীতের ধারদেনা শোধ করতে করতে সংসারের হাল বেহাল। এখন সে যথেষ্ট বড় হয়েছে। আব্বা নিশ্চয়ই তারে এখন না করতে পারবে না। আর কষ্টের কথা বলে ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যাওয়ার ও সাধ্যি নেই আজ কারণ, এ কষ্ট তার এখন নিত্য দিনকার সঙ্গী। 
তাই সাহস করে আজ সকালেই আব্বার কাছে সে তার ইচ্ছের কথা জানিয়েছে। অনেক কিছুর পর তার আব্বা রাজি হয়েছে। কিন্তু তার জন্য দরকার প্রচুর পরিমাণ মাটির। করিম আলী তার মহাজনের কাছে চাইলেন। তিনি দিলেন ও। বেশ উদার তিনি। কিন্তু তার বদলে করিম আলীকে ক'দিন কম পারিশ্রমিক দেওয়া হবে আর দু ঘন্টা বেশি কাজ করা লাগবে। করিম আলী তাতেও রাজি হয়ে গেলেন। মেয়ের শখের কাছে তার এসব কষ্ট নস্যি। 
দুপুরে খাবার দিতে যাওয়ার সময় একটু একটু মাটি আনবে ঠিক করলো ফুল।গোসল করলো না আজ সে। কারণ, মাটির কাজ তো সে-ই তো ময়লা হয়েই যাবে। কাজ শেষে একবারে ই করবে সে।
খাবার পুঁটলি আজ মাথায় নিয়ে হাতে ওড়া নিয়ে, কোমর দোলাতে দোলাতে চললো সে ভুবনমোহিনী। পড়নে তার বাসন্তী রঙের কাপড়খানা। লম্বা বিনুনি দুলছে কোমর অব্দি। রাসেল এদিক দিয়েই যাচ্ছিলো। ফুলকে দেখে সে সহজেই চিনতে পারলো।।দৌড়ে গেলো সে অনিককে খবর দিতে। 
এদিকে,
ফুল তার আব্বার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিমধ্যে। টুসু আছে সেখানে। করিম আলী ভাত না খেয়ে, নিচের জমিটুকু খনন করতে লাগলেন, 
টুসু মেয়েটা ওরাতে ফুলের সাথে হাতাহাতি করে মাটি ভরলো। করিম আলী মেয়ের মাথায় মাটির বোঝা দিতে চাইলেন না। কিন্তু ফুল তা মানতে নারাজ। সে তার আব্বাকে বললো, তার কাজ সে একা করতে চায়, মাটিও সে একটু একটু করে নেবে, আর তার আব্বা যেনো নিজের কাজ করে। এমনিতেই সন্ধ্যার পর পযন্ত কাজ করতে হবে ওনাকে। 
টুসু ফুলের মাথায় মাটির ওরা তুলে দিলো। ফুল সে ওরা নিয়ে মাঠের পাশ দিয়ে চললো।
এদিকে, অনিক ফুলের আগমনের কথা শুনে দৌড়ে আসলো এদিকে। কিন্তু ফুল তখন চলে গিয়েছে বাড়িতে প্রায়। আশাহত হলো সে ভীষণ। সে আরেকটু তাড়াতাড়ি আসলে নিশ্চয়ই দেখা পেতো। তার ই বা উপায় কি ছিলো? সে কি জানতো এতদিন পর আবার এসময়ে আসবে? সো তো পুকুরে মাছ ধরছিলো লুঙ্গি আর ফতুয়া পড়ে। রাসেলের কাছে ফুলের আগমনের কথা শুনে কোনমতে পা থেকে কাঁদা গুলো ধুয়ে দৌড়ে দিয়েছে শুধু। 
অনিক মাঠের কাছেই বসে রইলো। মন তার বেশ খারাপ। তখনই আশার আলো হয়ে দেখা দিলো তার কাঙ্ক্ষিত সে রমনী। 
ফুলও দেখলো ছেলেটাকে। চিনলো ও সে। এতদিন এর থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছে সে। আজ-ও কি-না সে সামনেই পড়ে গেলো। কেনো আবার সে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে তার।
ফুল মাথানিচু করে ওড়াটা কাঁধে নিয়ে চললো। অনিক এতক্ষণ নিজের মনোবল স্থির করলেও এ রমনিকে দেখামাত্র ই তার সমস্ত সাহস যেনো ফুরিয়েছে কিছু বলতেই পারলো না। 
পরপর তিনবার ফুল ওর সামনে গিয়ে মাটির ওড়া নিয়ে আসলো গেলো কিন্তু সে কিছু বলতেই পারলো না। না এ নির্দয় রমনি তার দিকে একটিবারের জন্যও তাকিয়েছে!
এ ভরদুপুরে বেশ কয় ওড়া মাটি নেওয়ার ফুলের মাথাটা যেনো কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।
অনিকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে ঠিক রাখতে চাইলেও কিন্তু সে সফল হলো না। এ ছেলের সামনে এসে ই সে পড়ে যেতে নিলো। কিন্তু ছেলেটা সে তার মাথার ওড়াটা ধরে ফেললো, ফলে সে-ও সে ওড়াটার উপর ভার ছেড়ে দিয়ে পড়লো না।
ফুলের হাত-পা কাঁপছে ভীষণ। ভয়ে নাকি অস্বস্তিতে তা বুঝলো না সে। ছেলেটার তার মাঝের দুরত্ব এক হাত। কারণ ছেলেটা তার মাথার ওড়াটা ধরে রেখেছে নিজের হাত দিয়ে।
অনিক বুঝলো ফুল অস্বস্তিবোধ করছে। অনিক আস্তে করে উচ্চারণ করলো,
" ভয় পাবেন না। আমি আপনাকে অস্বস্তি বোধ করাতে চাই নি। আপনি পড়ে যাচ্ছিলেন তাই ওড়াটা ধরলাম। "
ফুল কিছু বললো না। চলে যেতে নিলেই। অনিক দু-হাত দিয়ে সে ওরা নিজের মাথায় নিলো।
ফুল এবার বললো,
" এইসব কি করতাছেন?"
অনিক হাঁটা ধরে আলতো হেঁসে বললো,
" করুণা করছি আপনাকে। ভাববেন না বিনিময় ছাড়া আপনাকে করুণা করছি আমি। কোন একসময় দরকার পড়লে আপনি ও নাহয় আমার উপর এমন করুণা করে দেবেন। শোধবোধ হয়ে যাবে তাহলে। "
ফুল কথা বাড়ালো না। তার দাঁড়ানোর শক্তি নেই আপাতত। মাথাটা এখনও ঝিমাচ্ছে তার। শুধু বললো না। চুপচাপ হাটলো।
অনিক আগে আগে হাঁটছে আর ফুল পিছুপিছু।
বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ফুল পেছন থেকে বলে উঠলো, 
" এইযে শুনুন।"
অনিকের মূহুর্তের মধ্যে ই দাঁড়িয়ে গেলো।
 তার পা এগোনোর সাহস হলো না আর। এ ডাকটা যেনো তার বুকে তীরের ন্যায় আঘাত হানলো। সাধারণ একটা উক্তি, কিন্তু এর ব্যাখা এক শব্দে করা অসম্ভব। অনুভূতি ও অসামান্য। কেমন আপন লাগলো এ ডাকটা তার কাছে।
অনিক কথা বলার ভাষা হারালো যেনো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। ফুল সামনে এসে ঘোমটার আড়াল থেকে বললো,
" গায়ের লোকে মাইয়ালোক আর ছেরারে একলগে দেখলে কলঙ্ক লাগাইবো। আর আগাইয়েন না। থেমে যান এখানেই যতটুকু এগিয়েছেন। "
অনিকের এ কথাটির মানে যেনো দু'টো বুঝলো। যেনো মেয়েটা তার কথার জালে তাকে এক বাক্যে দু'টো লাইন দু অর্থে বোঝানোর চেষ্টা করলো।
অনিক কিছু বললো না। মেয়েটার মাথায় মাটির ওড়াটা দিলো। ফুলও আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না। হাঁটা ধরলো মাঠের মাঝখান দিয়ে। 
পেছন থেকে অনিক বলে উঠলো, 
" কলঙ্ক লাগবার ভয় আমার নেই। চাঁদের গায়েও তো দু একটা কলঙ্ক লেগেছে তাতে সমাজের কি আসে যায়? তবুও তো সমাজের কাছে সবচেয়ে সুন্দর বস্তুর নাম চাঁদ ই।"
ফুল আর এক মূহুর্ত ও দাঁড়ালো না। তাড়াহুড়ো করে এক প্রকার পালিয়ে আসলো সেখান থেকে। 
চললো আরও চারদিন। ফুলের বিভিন্ন মাটির আসবাবপত্র বানিয়ে পোড়াতে দিয়েছে। মাটির থালা, মাটির সরা, মাটির কড়াই। আরও কতকিছু। 
এ কয়দিন অনিককে দু'বার এসেছিলো নান বাহানায়। অনেকে অনেক কানাঘুষা ও করছে এসব নিয়ে।
ফুলের ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগলো না। যে কলঙ্কের বোঝা থেকে সে দূরে ভাগতে চাইছে কেনো নিয়তি তা-ই তার সামনে বারবার প্রকট করতে চাইছে?
আজ বহুদিন পর কলসি কাখে নিয়ে চললো সে মাঠের ওপারের কলপাড়ে। তার দৃঢ়বিশ্বাস সে ছেলেটা ওখানেই আছে। 
আর তার বিশ্বাস সত্যি ই হলো অনিক সেখানেই নিয়ম করে দাঁড়িয়ে ছিলো এই আশায়, যদি সে আসে।
চারদিকে কেউ নেই। কেমন সুনশান জায়গাটা। ফুল আজ কলসি না ভরে অনিকের থেকে একটু দূরত্ব দাঁড়িয়ে। আঁচলে মুখ ঢেকে বললো,
" আমার সমাজের বুলির(কথার) মেলা ভয়। আম্নে ক্যান আশেপাশে ঘুরঘুর করেন বারণ করা সত্ত্বেও? "
অনিক ফুলের কথার জবাবে বললো,
" বারণ করেছেন? এটা বারণ ছিলো বুঝি? বারণ করতে সোজাসাপটা কর্কশ কন্ঠে বলতে হয়। তা করেছেন বুঝি?"
ফুল আঁচলের আড়ালের এপাশে থেকে আড়চোখে তাকিয়ে বললো, 
" রসিকতা করছেন?"
অনিক হালকা হেঁসে বললো,
" ইনিয়েবিনিয়ে রসিকতা করার অধিকার দিতে চাইছেন বুঝি?"
ফুল এবার একটু সোজাসাপটা বললো,
" আম্নে আবেগে গা ভাসাইতেছেন।"
অনিক গামছায় মুখটা মুছে বললো, 
" আবেগ? আবেগের বয়স তো কবেই চলে গিয়েছে।"
ফুল কন্ঠে সামান্য তেজ নিয়ে বললো,
" ছন্নছাড়া জীবন থেকে বেরিয়ে আসুন। বাস্তবতা চিনুন। এসব আবেগ ই মনে হইবো তখন আম্নের কাছে।"
অনিক সাথে সাথে জবাব দিলো আজ,
" আমি তো প্রেমপনয়ের আর্জি নিয়ে আসিও নি। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।"
ফুলের এবার বেশ রাগ হলো। এ ছেলেটার উপর যত বেশি হলো তার থেকে বেশি হলো তার নিজের উপর। কেনো কথা বাড়াতে গেলো সে।
ফুল কলসি ভরলো পানিতে। কাখে নিতে নিলেই অনিক সে কলসিতে হাত দিয়ে বাঁধা দিয়ে বললো,
" আপনি এভাবে উপেক্ষা কেনো করছেন আমায়? আমাকে যোগ্য মনে হয় না আপনার কাছে? আমি কথা দিচ্ছি। আমি সমস্ত ছন্নছাড়া চলাফেরা ছেড়ে দেবো। আপনি শুধু আশ্বাস দেন যে আমার হবেন আপনি। "
ফুল এবার তার সমস্ত মেজাজের উপর তার নিয়ন্ত্রণ হারালো। শাসানোর সরে বললো,
" আমি নিজেই যেখানে অযোগ্য সেখানে অন্যের যোগ্য আর অযোগ্যের কি বিচার করমু? আম্নে কতখানি চেনেন আমারে? সৌন্দর্যের মায়ায় পড়লে তারে ভালোবাসা কয় না, তারে কয় ক্ষনিকের মোহ, যা একটা সময় চইলা ও যায়।"
অনিক হালকা হেসে বললো, 
" আপনার কেনো মনে হলো যে আমার আপনার প্রতি যা কিছু আছে তা ক্ষনিকের মোহ?"
ফুল হাত উঁচিয়ে বললো,
" চেনেন আমাকে কতটুকু আম্নে? আমার অতীত সম্পর্কে বা গোটা আমি সম্পর্কে কিছু জানেন? তা সম্পর্কে অবগত হইলে এতক্ষণ আম্নের এসব অনুভূতি দক্ষিণা বাতাসের হাওয়ার মতই পালাইতো।"
অনিক ফুলের কথাতে ভ্রু কুঁচকে বললো, 
" দুঃখিত! আপনার কথার মানে বুঝতে পারলাম না।"
ফুল একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো,
"তবে শুনুন।"
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন