ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধুলির রক্তিম শিখা

১২তম পর্ব

লেখক: পরিনিতা

#গোধূলির_রক্তিম_শিখা 

#লেখনীতে_পরিনিতা 
ফুল পাশ কেটে চলে যেতে নিলেই হাসেম হো হো করে বিশ্রী হেঁসে বললো, 
" আজ কই পালাইবা আগুন সুন্দরী। এ সুযোগ হাতছাড়া করলে আমার জীবন বৃথা হইবো।"
মেয়েটা মন থেকে যতই শক্ত হোক না কেনো। কিন্তু সে একজন মেয়ে মানুষ, এটাই তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। এ ধারণা তার একার নয়, নয়তো এ গায়ের প্রতিটি মেয়ে -বউদের ও। মাইয়া মানুষের ইজ্জতের মেলা দাম, তাইতো কোন কিছু হয়ে গেলে দোষ না থাকলেও সে-ই ঘুরেফিরে মাইয়া মানুষের উপরেই আইসা সমস্ত দোষ পড়ে। তাই মাইয়া মানুষে গো উচিত সবার নজরের অগোচরে চলা, নিঃশ্বাসের শব্দ ও যেনো তাদের কেউ না শুনে।
ঘোমটার আড়ালে থাকুক বা মায়ের আঁচলের তলে যেমনেই হেক না কেনো নজর পড়লেই দোষ। তবে নজরদাতার নয়, যার উপর নজর পড়বো তার দোষ। এ গায়ের এইডাই নিয়মনীতি। তাইতো গায়ের একটু দূরে বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কোন মেয়েমানুষদের অভিভাবকরা পাঠাতে নারাজ। ছেলেরা ক্ষেতে কাজ করে নিজের খাবার জোগায় আর নারীরা একটু মাথা তোলা হওয়া মাত্র ই তাদের বিবাহ দিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের সুরক্ষার জন্য হলেও।
আর যদি দু একজনের কপাল মন্দ হয়, তাহলে তাদের জন্য হয়ে উঠে এ জীবন দূর্বিষহ। যা ঘটেছে মালির কন্যা ফুলের বেলাতে। 
ফুল কাঁচুমাচু হয়ে এদিকে ওদিক তাকাতে লাগলো নীলাভ চোখের মণিগুলো এদিক ওদিক চাহনি ঘোরাতে লাগলো। সে চাহনিতে রয়েছে ভয়ের আভাস। এ ভয় আজ এক নারীর অসহায়ত্বের।
হাসেম বেশ খুশি হলো মনে মনে ফুলের এমন ভয় পাওয়া দেখে। এ আগুন সুন্দরীরে একবার ছুঁয়ে দেখার তার মেলা দিনের শখ। এ গাঁয়ের চার কূলে ও এমন করাক সুন্দরীর দেখা মিলে না বললেই চলে। কিন্তু এ মাইয়ার আবার বেশ নাখরা দেখায়। নাইলে এতদিন ধরে আশেপাশে সে ঘুরঘুর করছে একটাবারের জন্য তাকায়ও নি। এইতো সেদিন হাসেম তার বাপেরে দিয়া বিয়ার সমন্ধ পাঠাইলো এই মাইয়ার জন্য কিন্তু মাইয়ার বাপে রাজি হইলো না। সে থেকেই বেশ ক্ষোভ তার।
হাসেম হো হো করে হেঁসে বললো,
" তোমার বাপেরে বললাম বিয়া করুম আমি। কিন্তু হে নাকি আমার বাপের মুখের উপর না করে দিছে।এইডা কি ঠিক হইলো কও? আমার মতো যোগ্য পাত্ররে অপমান করলো? "
বলেই হাসেম দু কদম এগিয়ে আসলো।
ফুল তার দেখে চার কদম পিছিয়ে গেলো। ফুল কান্নারত কন্ঠে বললো, 
" আমারে যাইতে দেন। আম্নের লগে আমার কোন শত্রুতা ও নাই। আল্লাহর দোহাই যাইতে দেন আমারে।"
হাসেম এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,
" আগুন সুন্দরী গো শত্রু বানাইতে শত্রুতা লাগে না। তাগো রূপ ই তাগো সবচেয়ে বড় শত্রু।"
ফুল উল্টো দিকে দৌড় দিতে লাগলো আর কিছু না বলে। ফুলের পড়নে রঙচটা সেলোয়ার-কামিজ, জায়গায় ছিঁড়ে ও গিয়েছে। তার মা সুই সুতা দিয়ে সেলাই করে দিয়েছেন। খালি পায়ে দৌড়াচ্ছে মেয়েটা। পায়ে কাটা বিধলো। কাঁটা পায়ের তালুতে ঢুকে রক্তারক্তি অবস্থা। সারা রাস্তা রক্তে রাঙা পায়ের ছাপ। ফুল একটু খানি থামতে গেলেই হাসেম তার চুলের মুঠিতে চেপে ধরলো।
এরপর বললো,
" বিয়া করতে চাইছিলাম হুনলি না। এইবার দেখুম কেমনে সমাজে মুখ দেখাছ। খুব দেমাক না?"
বলেই ফুলকে টানতে লাগলো।
হটাৎ কোত্থেকে যেনো কেউ একজন এসে হাসেমকে পেছন থেকে লাথি দিলো। হটাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় টাল সামলাতে না পেরে হাসেম উপুড় হয়ে পড়লো।
ফুল ও পড়ে গেলো। চুলের খোঁপা খুলে গিয়েছে তার। পড়ে যাওয়াতে সমস্ত চুল মুখের সামনে এসে আছড়ে পড়লো তার। চুলগুলো সরিয়ে কান্নাজড়িত ভেজা চোখের নীলার মনির চাহনি দিয়ে মেয়েটা দেখলো এ মূহুর্তে দীপ্ত শিখার মতো উজ্জ্বল হয়ে আসা আগুন্তকঃ কে।
অনিক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ফুলের দিকে। পড়নে তার ফতুয়া আর লুঙ্গি। গলায় গামছা ঝুলিয়ে রাখা। লুঙ্গির সাথে কোমরে বাঁশি গুঁজে রাখা। বাঁশ ঝারের মাঝামাঝি জায়গায় তারা বর্তমানে অবস্থান করছে। চারদিকে কাক কা কা করছে। দূর থেকে শেয়ালের ডাক ও ভেসে আসছে। 
হাসেম উঠেই অনিকের পেট বরাবর লাথি দিলো। অনিক দু কদম পিছিয়ে গেলো।লাথিটা তার জোরেই লেগেছে। ফুল ইতিমধ্যে উঠে দাঁড়িয়েছে কাঁদছে মেয়েটা। সে চাইলেই এখন দৌড়ে পালাতে পারতো। কিন্তু সে দৌড়ালো না। লোকটা তার হয়ে লড়ছে, সে অকৃতজ্ঞের মতো পালাবে না। কিন্তু কিছু করতেও পারলো না সে ভীষণ ভীতু। 
অনিক হাসেমকে ফের গিয়ে নাক বরাবর ঘুষি দিলো। হাত মুচড়ে ধরলো। হাসেমের সে ভাঙা হাতটা কিছুদিন আগে ই হলো ভালো হয়েছে এখন ই আবার আঘাত পাওয়ায় সে ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো। অনিককে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজে কোনমতে দৌড়ে পালালো। ধাক্কাতে অনিক পাশে গিয়ে পড়লো কিসের যেনো একটা কাঁচের ভাঙা টুকরো ছিলো সেখানে। সে কাঁচের টুকরো তে তার হাতটা কাটলো।বেশ ভালো ঘা ই হলো রক্ত বের হচ্ছে রিতীমত। 
ফুল এগিয়ে গিয়ে বললো,
" আপনার হাত থেকে রক্ত পড়ছে। "
অনিক সে কথার উত্তর না দিয়ে বললো,
" নিজের জন্য লড়াই করতে মনের জোর না থাকুক অন্তত গলার জোর তো আছে? চেঁচালেন না কেনো? শকুনকে খুবলে খাওয়ার পথ খুঁজে দিচ্ছেন?"
ফুল সাথে সাথে বললো,
" চেঁচিয়েছি কিন্তু এত সকালে কেউ আসেই নি। আর আম্নেরে ধন্যবাদ আমার বিপদে আগাইয়া আওনের লাইগা। ফয়সালটা থাকলে এতকিছু হতো ও না।"
ফুলের এমন কথা শুনে অনিকের মাথায় আরও রক্ত উঠে গেলো।।সাথে সাথে ই বললো,
" যখন আপনি ওর সামনে পড়েছেন তখন থেকেই আমি সবটা দেখেছি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে। "
ফুলের এক মূহুর্তের জন্য অনিককে খুব কথা শোনাতে ইচ্ছে হলো। লোকটা তার বিপদ দেখেও এতক্ষন দিব্যি আড়ালে থেকে মজা নিচ্ছিলো।
ফুল তেতে উঠে বললো,
" একটা মেয়ের এমন পরিস্থিতিকে দেখে মেলা খুশিতে আছিলেন তাই না? যাকে পছন্দ করলেন সে যখন রাজি হইলো না তয় তারে এহন আরেকজনের কাছে অপদস্ত হইতে দেইখা মজা লাগতেছিলে আম্নের?"
অনিক সাথে সাথে জবাব দিলো,
" আপনার এ পরিস্থিতির জন্য একশ শতাংশের আশি শতাংশ আপনি নিজেই দায়ী। "
ফুল বললো,
" মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াতে সব পরিস্থিতির জন্য নিজে দায়ী হয়ে গেলাম?"
অনিক নিজের রক্তাক্ত হাতটা চেপে ধরে বললো, 
" আপনি আমাকে সেদিন জানালেন আপনার অতীতের কথা, সে খাতিরেই বলতে বাধ্য হলাম আজ আপনার চিন্তাধারা দেখে। আপনার সাথে আসলেই অন্যায় হয়েছিলো, একটা মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে জোরজবরদস্তি করে সম্মানহানি করে নিজের করে নেওয়াটা আসলেই অন্যায় ছিলো। কিন্তু আপনি যখন সংসার শুরু করলেন, দেখলেন যখন সে সংসারে আপনার জন্য না কোন সম্মান, না কোন ভালোবাসা, না কোন ভরসা ছিলো, দিনের পর দিন লাঞ্চিত হলেন, ক্যান সেদিন প্রতিবাদ করলেন না? ক্যান জোর গলায় নিজের পক্ষ নিয়ে লড়তে পারলেন না? যদি একটু পদক্ষেপ নিতেন হয়তোবা সে আপনার মূল্য বুঝতো। যদি তা না ও হতো অন্তত আত্মতৃপ্তি পেতেন নিজের টা নিজে। আর সে ছিলো অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট তাকে হাজার চেষ্টা করে আপনি সংসার বিমুখ করতে পারতেন না। ভালোবাসা বাঁচে, ভরসা, সম্মান, বিশ্বাসে। যা কোনটাই পাননি আপনি। কেনো সব সহ্য করে গেলেন? আপনার কারণে তারা আরও সুযোগ পেয়েছে। নরম মাটি পেলে সবাই ই গায়ো মাখতে চায়।
আর দ্বিতীয়ত তখন থেকে এখন পযন্ত আপনার প্রতিনিয়ত শকুনের নজরে পড়তে হচ্ছে।আমি প্রথমে আসি নি কারণ আমি চাচ্ছিলাম আপনি নিজেকে রক্ষার্থে প্রতিবাদী হয়ে উঠুন, নিজের পক্ষ নেন, কিন্তু আপনি তার করলেন না, উল্টো নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করলেন। কেনো আপনাকে বাঁচানোর জন্য সবসময় ফয়সাল বা আপনার বাবা বা আমার মতো কাউকে আসতে হবে? নিজের জন্য লড়াই করতে শিখুন। যে হাত একবার বাজে ইঙ্গিতে আপনার দিকে এগিয়েছে সে হাত কেনো অক্ষত রাখবেন? সমাজের ভয়ে? সে তো বাতাসের মতো রোজ তারা তাদের পালাবদল করে। যখন যেদিকে তাদের সুবিধা তারা সেদিকেই যাবে। আপনি ভালো করলেও তার সমালোচনা করবে, না করলেও করবে। তাহলে তাদের কথা ভেবে নিজের জন্য লড়াই করতে ভুলে যাবেন কেনো? আপনি শুধু একবার নিজের পক্ষ নিন। তাহলে দেখবেন একজনকে দেখে বাকি দশজন নিজের পক্ষ নেবে। 
এতক্ষণ যা কিছু বললাম খারাপ লাগলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আর যদি না পারেন তাহলে আবার ও এমন পরিস্থিতিতে পরবেন না হয় এ অনিক আপনার জন্য আবারও নিজের রক্ত জড়াতে চলে আসবে।"
বলেই থামলো ছেলেটা।
এদিকে ফয়সালের মনটা কেমন কেমন জানি করছিলো আজ। কাজটা শেষ করেই ভাবলো ঘর থেকে একবার ঘুরে আসবে। গরম ভাত খেয়ে একেবারে কাজে ধরবে সন্ধ্যা পযন্ত। 
বেশ কিছুদূর এগোতেই সে দেখলো তার আপুর মতো কাউকে দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত কাঁদছে। পাশেই একজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ফয়সাল কোদালটা হাতে নিয়ে ই দৌড়ে গেলো সেখানে। কাছে গিয়ে দেখলো হ্যাঁ তার আপু ই। আর সামনে মাস্টারের পোলা অনিক দাঁড়ানো। এ বেটারে চেনে ফয়সাল, গায়ের দস্যু ছেলেদের মধ্যে একজন। তবে স্বভাব চরিত্র ভালো। 
অনিক তার আপুর কাছে আসলো।ফয়সালকে দেখে ফুল আরও জোরে কাঁদতে লাগলো। 
ফয়সাল অসহায় দৃষ্টিতে নিজের বোনের দিকে একবার তাকিয়ে অনিকের দিকে তাকিয়ে বললো, 
" কি করছেন ভাই? আমার আপু কান্দে ক্যা? কি করছেন ভাই। এই কোদাল দিয়া কিন্তু আপনার হাত কাইট্যা দিমু আমার আপুরে কি করছেন কন।"
বলেই এতটুকু ছেলেটা এক প্রখর আত্মসম্মান নিয়ে বোনের পাশে দাঁড়ালো। 
ফুল সাথে সাথে ভাইকে আঁটকে দিয়ে বললো, 
" উনি কিছু করে নি।"
ফয়সাল কিছু ই বুঝতে পারলো না।
অনিক উঠে দাঁড়িয়ে সবটা বললো।শেষে নিজের হাত চেপে ধরে এ ও বললো,
" বোনকে বাড়ি নিয়ে যা।"
বলেই নিজের চলে আসলো। ফুল তাকিয়ে রইলো অনিকের যাওয়ার পানে।
__________
পরেরদিন ভোর হলো। কেটে গেলে গোটা একটা রাত। আগামীকাল ঈদ। ফয়সাল তার আপুর জন্য দু'টো সেলোয়ার-কামিজ সেলাই করিয়ে এনেছে গঞ্জের দর্জির কাছ থেকে। ফুল এখনও জানে না কিছু ই। কালকের সে ঘটনার পর থেকে কেমন একধ্যানে বসে আছে। রাতে ও কিছু খায়নি।
ফয়সাল তার আপুর হাতে কাগজে মোড়ানো পুটলিটা দিলো। ফারবিন বেগম রান্না চাপিয়েছেন আড়চোখে দেখছেন সবটা। করিম আলী ও তাই। ফুল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাগজটা সরাতেই দেখলো নতুন জামা। ফয়সালের দিকে তাকালো।সে অবুঝ নয় মোটেও, সো বুঝলো এ কয়দিন ভাইয়ের ভোরে উঠে বাড়তি আয়ের কারণ। অথচ তার ভাই নিজের ছেঁড়া লুঙ্গি পড়ে আছে।কিন্তু বোনকে সাজিয়ে রাখতে কত আয়োজন। 
ফুল পাশেই জামাগুলো রেখে ভাইয়ের শ্যামকালো, ঠোস গলা হাতটুকু ধরে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললো, 
"কবে এত বড় হইয়া গেলি রে?"
 
ফয়সাল ও কেঁদে ফেললো। ফারবিন বেগম আর করিম আলী ভাইবোনের এ দৃশ্য অশ্রুভেজা চোখেই দেখছেন। 
ফয়সাল তার আপুকে আদূরে কন্ঠে বললো,
" আপু পইড়ো কালকে জামাটা।"
ফুল কিছু বলতে পারলো কান্নার জন্য শুধু উপর নিচ মাথা নাড়লো। 
_______________
কাল ঈদ চারদিকে খুশি খুশি ভাব। বিকেল হয়ে এসেছে প্রায়। ফারবিন বেগম চুলাতে একটু কলমির শাক আর পুঁটি মাছ বসিয়েছেন।
করিম আলী বাড়ি নেই। তবে তার আসার ও সময় হয়েছে ক্ষেত থেকে। 
ফয়সাল বাড়িতে এসেছে সবেমাত্র ই।
এদিকে,
রমিজ মেম্বারের জমিতেই ফয়সাল এতদিন বাড়তি আয়ের জন্য কাজ করেছে। হাসেমের কানে তা যেতেই সে একটা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আটলো। 
প্রায় গোটা বিশেক লোকজন নিয়ে এলো করিম আলীর উঠানে। হাঁকডাক ছেড়ে ফয়সালকে ডাকা হলো। ফয়সাল হতভম্ব হয়ে এগিয়ে এলো।
সেখানকার থাকা একজনে বললো,
" মেম্বারের ক্যাশের টাকা চুরি কইরা বইনের লাইগা জামা আনতে লজ্জা করলো না?"
ফয়সাল বললো,
" আম্নেরা কি কইতাছেন আমি চুরি করমু ক্যান। "
করিম আলী ও এলেন। তিনি ছেলের হয়ে বললেন,
" আম্নেরা কি কইতাছেন? আমি চোর পালি না। আমার ছেরায় কারো কিছু চুরি করে নাই।"
লোকজন দুইটা গিয়ে ফয়সালকে চড় মারলেন। স্বীকার করতে বললেন। তিনি ফয়সাল বারবার তর অস্বীকার করছে।
ফুল ঘরের দোরে বসে ছিলো। সে বুঝতে পারছে সব,তার ভাইকে ফাঁসাতে এসেছে। নিশ্চয়ই কোন মতলব আছে এর। ফুল নড়লো ও না কিছু করলো ও না।
হাসেম চেঁচিয়ে বললো,
" আমার আব্বার ক্যাশের পাচঁ হাজার টাকা চুরি করছে। হয় টাকা অহন দিবো তাইলে করিম আলীর মাইয়ারে আমার লগে বিয়া দিবো।"
অনিকও ইতিমধ্যে হাঙ্গামা শুনে এসেছে এদিকে। বাঁশের বেড়ার এপাশে দাঁড়িয়ে থেকে সবটা দেখচে সে। ফুল দেখলো অনিককে কিন্তু আর তাকালো না সে সেদিকে। তার সামনে থাকা মাটির দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে আছে। পড়নে তার বাসন্তী রঙের কাপড়খানা। মাথায় ঘোমটা দেওয়া। 
করিম আলী মিনতির স্বরে বললো,
" আমার ছেরায় চুরি করে নাই। আর যদি দোষ করেও থাকে আমার ছেরায় করছে, আমার ছেরিরে টানেন ক্যান আম্নেরা? গরিবের উপর এ কেমন জুলুম। "
লোকদুটো করিম আলী ধরে রাখলেন দুদিক থেকে। ফয়সালকে ও ধরে রাখলো।
হাসেম ফুলের দিকে এগোতে৷ নিলেই ফারবিন বেগম বাঁধা হয়ে দাড়াতেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো ওনাকে হাসেম। সবাইকে একপ্রকার বন্দী করে হাসেম ফুলের দিকে এগোলো।
ফুলের ভাবমূর্তি পরিবর্তন হলো না। কিন্তু আজ তার মুখে কোন ভয়ভীতি ছাপ নেই। যা আছে তা বোঝা ও মুশকিল। দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বসে রইলো। 
ফুল আড়চোখে একবার অনিকের দিকে তাকালো৷ অনিক বাঁশের বেড়ার এপাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিমধ্যে। 
ফুলের পাশে ধান কাটার নিড়িকাচি(এক ধরনের ধান কাটার দা) ছিলো। আঁচলের এপাশটাতে অতি সাবধানে তার হাতের মুঠোয় নিলো। হাসেম কাছে আসতেই ফুল আঁচল গুটিয়ে দাঁড়ালো।
হাসেম হো হো করে হেঁসে বললো, 
" পিডার নাম বাবাজি, চল শালী। আর নখরা করিস না।"
বলেই ফুলের হাত ধরতে নিলেই ফুল ধারালো কাঁচি টা দিয়ে হাসেমে হাতের আঙুলে টান দিলো। দু'টো আঙুলের দুই কর করে নিচে কেটে সাথে সাথে ই পড়ে গেলো। হাসেম নিজের হাতটা ধরে কাতরাতে লাগলো।
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন