#গোধূলির_রক্তিম_শিখা
#লেখনীতে_পরিনিতা
বিকাল হয়ে এসেছে। গাঙের পাড়েতে দুই সই মিলে চললো। ফুলের গায়ে তার মায়ের নতুন একখানা কাপড় যা সেদিন তার মা'কে সে দিয়েছিলো। কাপড় খানা খয়েরী রঙের পাড় কালো রঙের। কাপড়খানাতে এই মেয়ের সৌন্দর্য যেনো চারদিকে জ্যোতির মত ছড়াচ্ছে। চুলে লম্বা বিনুনি দুলছে কাপড়ের আঁচলের ঘোমটা পিছন দিক দিয়ে হাটুর নিচ অব্দি ঠেকেছে, সে আঁচল টপকে লম্বা বিনুনি দুলছে।
পাশেই আছে টুসু সে-ও কাপড় ই পড়েছে। শ্যামবর্ণের মেয়েটার গায়ে বাসন্তী রঙের একখানা কাপড় কি সুন্দর লাগছে। এ যেনো কবির বর্ণনায় শ্যাম কন্যা মেয়েটার মা নেই। ভাইরা বউ সংসার নিয়ে আছে। খোঁজখবর ও নেয় না। মেয়েটার আছে বলতে শুধু বাবা-ই আছে।
ফুল ঘাটের কাছে এলো কিন্তু কোন না-ও দেখতে পেলো না। চারদিক আবার তাকিয়ে টুসুর দিকে তাকিয়ে বললো,
" আমি আগেই কইছিলাম নাই কোন না-ও (নৌকা) "
টুসু মনে মনে বিড়বিড় করে বললো,
" কিরে তবে কি ধোঁকা দিলো নাকি। ধ্যাত।"
টুসু আবার তাকাতেই দেখলো একটা মাঝারি সাইজের নৌকা এদিকেই আসছে। কিন্তু মাঝির চেহারা গামছায় ঢাকা। তার সাথের জনের ও। অবশ্য প্রচন্ড রোদে এমন করে ঢেকে রাখা স্বাভাবিক।
না-ও তীরে এসে ভিড়তেই টুসু ভান ধরে এগিয়ে বললো না-ও যাবে কি না। কিন্তু উত্তর এলো যাবে না এখন নাও।
টুসু এসে ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে বললো,
" তুই গিয়ে একটু ক, মানা কইরা দিলো তো আমারে।"
ফুল ভ্রু কুঁচকে বললো,
" ক্যান আমি কইলে মনে হয় রাজি হইবো?"
টুসু ফুলের হাত ধরে বললো,
" আইচ্ছা তাইলে চল বাইত যাই গিয়া। হুদাই তাইলে এইহানে দাঁড়াইয়া থাকমু ক্যান?"
ফুল বললো,
" না আইজ না-ও ছড়মুই।"
বলেই এগিয়ে গিয়ে ঘোমটার আড়ালে থেকে ই বললো,
" ও মাঝি তোমার না-ও ঘুরাও। আমগোরে নিয়া চলো। শুধু ওই পাড় ঘুরিয়ে আনলেই হইবো। পুরো ১৬ আনা ই দিমু।"
সঙ্গে সঙ্গে মাঝি নিজের মুখের গামছাটা সরিয়ে বললো,
" শুধু ওই পাড় ক্যান আপনি চাইলে আমি সাত সমুদ্র তেরো নদী ই পাড়ি দিতে রাজি।"
ফুল ভ্রু কুঁচকে গিয়ে টুসুর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। যেনো সে খুব অন্যায় কাজ করে ফেলেছে।
টুসু চেঁচিয়ে রসিকতার ছলে বললো,
" ১৬ আনার বদলে এক আনা ও পাইবেন না, রাজি তো?"
অনিকের পাশে থাকা নেহাল গামছা সরিয়ে এবার বললো,
" এই বান্দইরা ছেমরি, খালি কিপ্টামি করার ধান্দা তাই না?"
টুসু নেহাল থেকে দু'টো শুকনো ঢোক গিললো। তখন ছেলেটাকে বেশ অপদস্ত করেছে সে। এখন আবার এ ছেলেই তার সামনে ভাবতেই তার হালুয়া টাইট হয়ে যাচ্ছে।
টুসু আস্তে স্বরে বললো,
" এইরে বোয়ালমাছটা এখানে!!!"
বলেই ফুলের পেছনে এসে লুকালো।
ফুল শুনলো টুসুর বলা কথাটা।
" বোয়ালমাছ মানে? "
টুসু কিছু বললো না। চোরের মত লুকিয়ে রইলো। ফুল পেছন দিকে ফিরে টুসুর হাত ধরে যেতে নিলেই,,,
অনিক চেঁচিয়ে বললো,
" আজ মুখ ফিরিয়ে নিলে এ জীবনে ও আর এমুখো হব না।"
ফুলের পা জোড়া কেনো জানি সেখানেই স্তব্ধের ন্যায় দাঁড়িয়ে ই রইলো। যেনো পা জোড়া চলতে শুরু করলেই আজ অনর্থ নিশ্চিত। বুকে তার ধুকধুক শব্দ করছে অনবরত। যেনো দুপক্ষের যুদ্ধ বেঁধেছে। এ যুদ্ধ এক নারীর আপনসত্তার সাথে তার চারদিকের ভয়ের। দু'পক্ষই বেশ ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ কারো কাছে যেনো হার মানতে রাজি নয়।
টুসু ফুলের এ দাঁড়ানোর মানে একটু হলেও বুঝলো। সে অবুঝ নয়।
টুসু সব বুঝেও না বোঝার ভান ধরে বললো,
" কিরে চল তুই না বাড়িতে যাবি? দাঁড়াইলি ক্যা?"
ফুল ঘাড় ঘুরিয়ে অনিকের দিকে তাকালো। ছেলেটার পড়নে লুঙ্গি, ফুল হাতা শার্ট কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা। গলায় ঝুলছে গামছা। চুলগুলো পেছনের দিকে নেওয়া। অনিকেট চুল বেশ ঘন। ছেলেটার মুখের হাসিটা আজ বেশ স্নিগ্ধ। এ ছেলে তাকে সবদিক থেকে ফাসানোর মতলব করছে যেনো। ফুল টুসুর হাত ধরেই এগিয়ে গিয়ে না-ও তে বসলো। অনিক হাসলো নিঃশব্দে। নেহাল আড়চোখে টুসুর দিকে তাকিয়ে যেনো চোখ দিয়েই মেয়েটাকে গিলে গিলে খাচ্ছে আজ পণ করলো মনে মনে এ বান্দইরা ছেমরিকে উচিত শিক্ষা দেবে সে।
ফুল ঘোমটা টেনে বসলো সুন্দর করে। অনিক বৈঠা বাইছে নদীতে। নৌকা চলছে তাকে যেভাবে চালানো হচ্ছে।
ফুল আড়চোখে বেশ কয়েকবার তাকিয়েছে অনিকের দিকে। এবার অনিক তাকাতেই নজরে নজর পড়লো তাদের। ফুল থতমত খেয়ে এদিকওদিক তাকাতে লাগলো। অনিক হাসছে মৃদু। ফুলও মুখে হাত দিয়ে সবার অগোচরে হাসলো।
টুসু এদিকে চিন্তায় মশগুল। এ বোয়ালমাছ তাকে কি করবে এবার? আয়হায় কি যে হবে তার!
অনিক ফুলের আমতাআমতা করা দেখে বললো,
" লুকিয়ে লুকিয়ে দেখাটা আপনাকে শোভা পাচ্ছে না। যার হৃদয়ে সর্বত্র আপনার বিচরণ তাকে সরাসরি চোখে চোখ তুলে দেখতেই পারেন।"
ফুল টুসুর দিকে তাকিয়ে বললো,
" না মানে আমি। মানে ওইযে।"
অনিক বুঝলো তার হৃদয়হরণী আবারও নিজের মধ্যে নিজেকে লুকাতে ব্যাস্ত।
অনিক বললো,
" কিছু বলবেন?"
হটাৎ এমন প্রশ্নে উত্তর দেবে তা জানে না ফুল। কারণ এ প্রশ্নের যে উত্তর ই নেই তার কাছে। তবে এখন না উত্তর দিলে লোকগুলো তাকে ভাববে? নির্লজ্জ ভাববে তাকে।
ফুল এদিকওদিক তাকিয়ে বলেই দিলো,
" মানে ওইযে আপনার হাতের ঘা সেরেছে? "
অনিক নেহালের দিকে তাকালো। টুসুও বেশ অবাক। এত মাস পর এ মেয়ে আজ এ কথা বলছে!
অনিক বৈঠা থামিয়ে ফুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
" এতমাস পর আজ সে ঘা এর হালচাল জানতে চাচ্ছেন? বাহ বাহ কে বলে আমি ব্যার্থ দেবদাস। আমি এ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমিকপুরুষ।"
অনিক একটু দম নিয়ে আবারও বললো,
" এ ঘা তো সেরে গিয়েছে। মনের ঘা কে সারানোর উপায় করছি। সাহায্য করুন।"
ফুল সাথে সাথে আজ জবাব দিলো,
" আমি মনের সেবক নই।"
অনিক বললো,
" এ ঘা'এর উপসম একমাত্র আপনার হাতেই। আমি এক অসহায় হৃদয়ে জখমকৃত ব্যাক্তি। করুনা করুন।"
ফুল আবারও অনিকের দিকে তাকালো, বললো,
" আপনাকে করুণা করতে পারলে তো আমি নিজেই বেঁচে যেতাম।"
অনিক সাথে সাথে লাফ দিয়ে বললো,
" তার মানে এতদিনে মন গলেছে আপনার। এ মূহুর্ত কেনো চিরস্থায়ী হয় না। এ মূহুর্ত সারাজীবন থাকুক। "
ফুল অনিকের দিকে তাকিয়ে হাসলো। অনিক ও হাসলো।
এদিকে টুসু এদের দেখে বললো,
" এক জোড়া বাবুইপাখির মাঝে আমি এক অসহায় কাউয়া। আজ কেউ নাই বলে!"
নেহাল ওর দিকে তাকালে টুসু একটা শুকনো ঢোক গিললো।
ফুল আগে নামলো নৌকা থেকে। তারপর অনিক নামলো। টুসু নামতে গেলেই নেহাল ওর হাত ধরে ফেললো।
টুসু হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করে বললো,
" হাত ছাড়েন। ছাড়েন কইতাছি।"
নেহাল ওর দিকে ঝুঁকে বললো,
" ক্যান এইবার আর বান্দরগিরী করবা না? এখন সব কুবুদ্ধি কই গেলো। "
টুসু কতক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,
" সাপ সাপ আম্নের পায়ের কাছে সাপ।"
নেহাল সাপে ভয় পায় ভীষণ। টুসুর হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
" কই কই সাপ, কই?"
টুসু ততক্ষণে নৌকা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। ফুলের হাত ধরে বললো,
" চল নাইলে আজ আর রক্ষে নেই।"
ওরা দু'জন দৌড়াতে লাগলো।
এদিকে প্রেমার বাবা হান্নান হাওলাদারের নজরে আজও এলো সব।তিনি আজ কাজে না গিয়ে সোজা বাড়ির দিকে গেলেন।
হোসেন হাওলাদার বাড়ি এসেছেন একটু আগে। প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এসেছে।
হোসেন হাওলাদার ভাত খাচ্ছিলেন। হান্নান হাওলাদার পাশে বসে বললো,
" ভাইজান মাইয়া তো বড় হইছে আমার। আপনের ছেলেও বিয়ের উপযুক্ত হইছে। আমি এ সপ্তাহেই তাদের বিয়েটা দিতে চাইতেছি।"
হোসেন হাওলাদার পানি পান করে হাত ধুয়ে। গামছায় হাত মুছতে মুছতে বললেন,
" প্রেমা এখনও মেট্রিক পরীক্ষা ও তো দিলো না। কলেজ পড়ার ও কথা তার, তোর ই তো ইচ্ছে ছিলো। তবে আজ এমন কথা বলছিস কেনো?"
হান্নান হাওলাদার ভাইকে সবটা বললো। সব শুনে হোসেন হাওলাদার দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছেন। নুরুন্নেছা বেগম এতক্ষণ এখানে ছিলেন না। স্বামীর এমন রগচটা মাখা চেহারা দেখে তিনি ঘাবড়ে গেলেন। লোকটা সহজে রাগে না,কিন্তু একবার রাগলে সে রাগ সহজে কমে না।
এদিকে,
ফুল ঘরে বসে আছে। পাশের বাড়ি থেকে একজন মহিলা ফুলের জন্য সমন্ধ এনেছেন।
" হুনেন ভাবি যুবতী মাইয়া এমনে ঘরে রহন ভালা। কোনসময় কার নজর পড়ে কওন যায় নি৷ আর মন তো, আম্নের মাইয়াই বা কয়দিন ঠিক থাকবো তার ঠিক আছে নি।"
ফারবিন বেগম সাথে সাথে ই বললেন,
" আমার মাইয়া এরুম না ভাবি। আম্নে এসব কইয়া ঝগড়া বাঁধাইয়েন না।"
ওই মহিলার সাথের জন প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বললেন,
" আমার ভাইয়ের একটু বয়স বেশী তাতে কি হইছে। পোলাপাইন চারজন ই তো। হেরা হেগো দাদির কাছে ই থাকবো। আম্নে মাইয়ারে রাজরানি কইরা রাখবো।"
ফয়সাল পাশেই বসে ভাব খাচ্ছিলো তার আব্বার সাথে।
ফয়সাল বললো,
" আম্নের ভাইয়ের বয়স ৪৪ বছর এইডা কম মনে হয়?"
প্রথম মহিলা তেতে বলে উঠলো,
" তো তোর বইন কোন খানের রানি আইছে। মাস্টারের ছেড়ার লগে যে কিচ্ছা কাহিনী করে তারপরেও যে সমন্ধ আনছি এইডাই তো অনেক।"
ফয়সাল উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
" বাইত আইয়া সাইধ্যা সাইধ্যা ঝগড়া করতে আইয়েন না চাঁচি। যান যান নিজের বাইত যান। আমার বইনেরে বিয়া দিতাম না।"
মহিলা বলে উঠলো,
" হ হ আমরা তো যামু। তোগো এ ঘরে খাওন খাইতে ও আই না আমরা। তোগো হাড়িত ভাত ই তো নাই। ছেঁড়া খাতাত শুইয়া লাখ টাকার স্বপ্ন দেখে তোর বইনে। যেইদিন মাস্টারের পোলার লগে উরপে নিচে ধরা খাইবো হেইদিন বুঝবি। চুলকালি লাগাইয়া তোগোরে পুরা গেরাম ঘুমামু।"
ফয়সাল শুনে মহিলাদের সামনে এসে বললো,
" বাইর হন চাঁচি আমার বাড়ি থাইক্যা। নাইলে বইনের লাইগা খু*ন কইরা আমি জেলে যামু।"
ফুল ঘরে বসেই কাঁদতে লাগলো। এ ভয়টাই সে পাচ্ছিলো। সমাজ বেশ নিষ্ঠুর। এ কারণে সে পিছু হটছিলো। কিন্তু এ সমাজ তাকে ঠিকই টেনে আনলো।
____________
রাত হয়েছে। অনিক ঘরে আসছে সবেমাত্র। ঘরে ঢুকতেই দেখলো হান্নান হাওলাদার (তার কাকা), কাকি, আর বাবা-মা বসে আছেন। সবার মুখে হাসি-হাসি ভাব।
অনিক সামনে মিষ্টি রাখা দেখে, সেখান থেকে একটা মিষ্টি মুখে পুরলো। এরপর তার কাকার দিকে তাকিয়ে বললো,
" কোন সুখবর আছে নাকি? হটাৎ এত মিষ্টিমন্ডার আয়োজন? "
হান্নান হাওলাদার বললেন,
" হ ভাতিজা তা আছে ই বৈকি। "
অনিক বললো,
" শুনান দেখি। কি খবর! "
হান্নান হাওলাদার কিছু বলার আগেই বললো,
" আর পাঁচদিন বাদে শুক্রবার, তোমার আর প্রেমার বিবাহের দিন ধার্য করা হয়েছে।"
"আর পাঁচদিন বাদে শুক্রবার, তোমার আর প্রেমার বিবাহের দিন ধার্য করা হয়েছে।"
বাবার মুখ থেকে এমন কথা শুনে অনিক তার মুখে পুরে রাখা মিষ্টি গিলেও যেনো গিললো না। কাঁটার মত বিধলো কথাটা তার গলায়।
অনিক সবাইর দিকে তাকালো। সবাই কেমন হাসিহাসি মুখ করে আছে।
অনিক কিছু বলার আগেই হোসেন হাওলাদার (অনিকের বাবা) বলে উঠলো,
" তোমার দাদির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে তোমার? তিনি ই এ ইচ্ছা মারা যাবার সময় ব্যাক্ত করে গিয়েছিলেন।"
দাদির প্রতি অনিকের এক আলাদা টান। ছোটবেলা থেকেই অনিক বেশ দস্যিপনা করতো, তার সমস্ত আহ্লাদী আবদারের একমাত্র বাহন ছিলো তার দাদি। তিনি ই বাবার পিটুনির হাত থেকে অনিককে বাঁচাত। বছর চারেক হলো তিনি গত হয়েছেন। প্রেমা তখন ক্লাস ফাইভে ছিলো। দাদি যে এরকম কিছু বলে গিয়েছিলো তা অনিকের অজানা। নুরুন্নেছা বেগম (অনিকের মা) এর দিকে অনিক তাকালো তিনি ছেলের মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। বুঝা ই যাচ্ছে তিনি বেশ খুশি। প্রেমা নেই এখানে। থাকারও কথা না। গ্রামে এমন আলোচনায় মেয়েরা থাকে না।
অনিক শুধু বললো,
" প্রেমার এ বিষয়ে মত আছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন আপনারা?"
অনিক কথা বলতে দেরি হলো হোসেন হাওলাদার(অনিকের বাবা) এর উত্তর দিতে দেরি হলো না,
" ও তোমার মত বাউণ্ডুলে নয়, আমাদের সিদ্ধান্ত ই ওদের সিদ্ধান্ত। "
অনিক বললো,
" যে সংসার করবে তার ও তো একটা মতামতের ব্যাপার থাকে। আপনারা এভাবে জোর করতে পারেন না।"
হোসেন হাওলাদার বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন তিনি রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,
" ঘরে যাও। সেসব সিদ্ধান্তের জন্য আমরা বড়রা রয়েছি।"
অনিক আবারও কিছু বলতে নিলেই হোসেন হাওলাদার তেতে উঠে তেড়ে এসে অনিককে ঘাড় ধরে ওর রুমের দিকে ধাক্কা দিয়ে বললেন,
" ঘরে যাও।"
নুরুন্নেছা বেগম ছেলেকে গিয়ে ধরলেন। স্বামীর এমন আচরণের মানে তিনি মোটেও বুঝতে পারলেন না। হোসেন হাওলাদার সহজে রাগেন না। কিন্তু একবার রাগলে সে রাগ যে জিনিসের প্রতি আসে তা আর মনে তুলতে পারেন না। ছেলেকে সবসময় বকাঝকা করলেও কোনদিন এভাবে অল্পতেই এমন আচরণ করেন নি। তবে আজ কি হলো?
অনিক বিছানার এককোনায় বসে আছে। সে কিছুতেই এ বিয়েতে রাজি হতে পারবে না। সে ফুলকে ভালোবাসে। প্রেমাকে কোনদিন এমন নজরে সে দেখেই নি, তবে আজ কেনো সবার এ সিদ্ধান্ত? এ বিয়েতে কেউ সুখী হবে না।
বারবার অনিকের সামনে ফুলের সে লজ্জামাখা মুখ, চোখ রাগানো। চাঁদনী রাতের জানালা দিয়ে সে নীলবর্ণের চোখের চাহনি। ঘাটে পা ভিজিয়ে রাখা। নৌকায় বসা সে হাসি সমস্ত ঘটনা যেনো তার চোখের সামনেই পুনরায় ঘটতে লাগলো। অনিক ভাবতেও পারলো না সে কি করবে!
নুরুন্নেছা বেগম স্বামীর কাছে গেলেন, এখন ঘরে কেউ নেই, হান্নান হাওলাদার (প্রেমার বাবা) তাদের ঘরে চলে গিয়েছেন।
নুরুন্নেছা বেগম সামনে এসে দাঁড়ালেন স্বামীর। তিনি বললেন,
" আমার ছেলেটা তখন খারাপ কিছু ও বলে নি, আপনি তাকে এমন করে উঠলেন কেনো?"
হোসেন হাওলাদার বললেন,
" ছেলেটা আমার ও তা ভুলে যাচ্ছো কেনো? ছেলেটার ভালোমন্দ বুঝার জন্য অন্তত আমাকে নিশ্চয়ই কারো কাছ থেকে জ্ঞান নিতে হবে না? পারলে ছেলেকে বুঝাও, না হয় তার পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। "
বলেই তিনি বেরিয়ে গেলেন। রেখে গেলেন প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় তার গিন্নিকে।
নুরুন্নেছা বেগম কিছু না বুঝলেও এতটুকু বুঝলেন, কিছু তো হয়েছে না হয় ওনার স্বামী কোনদিন এমন করে বলতেন না।
পরের দিন সকালে পাশের বাড়ির ৫-৬ জন মহিলা এলেন ফুলেদের বাড়িতে। ফুল বসে বসে আলু ভাজির জন্য আলু কাটছিলো।
ফারবিন বেগম খুদ ঝাড়ছিলেন, আর একটু পর পর চুলোর পাতা দিচ্ছিলেন।
ফয়সাল আর করিম আলী বসে আছেন। দুজনে কাজের ব্যাপার কথা বলছিলেন।
সে ৫-৬ জন মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো,
" ভাবি হুনছেন নি! মাস্টারের ছেরার বিয়া আর চাইর-পাচ দিন পরে। হে গো ঘরে তো মারামারি লাইগা গেছে। গতকাইল হুনলাম চিল্লচিল্লি হুনা যায় হে গো বাড়ি থেইক্যা। "
ফুল আলু কাটছিলো, কথাটা কানে যেতে ই হাত পিছলে গিয়ে বুড়ো আঙুলের মাথাটা একটু কাটলো। ফারবিন বেগম দেখলেন সবটা। আঙুলের মাথা থেকে ফোটা ফোটা রক্ত ঝরছে, কিন্তু তার মেয়ে যেনো অন্যমনস্ক। সবাই ই লক্ষ করলো। ফারবিন বেগম গিয়ে ফুলের হাতটা ধরে মাটি একটু দিয়ে চাপা দিয়ে ধরলো৷ মায়ের স্পর্শ পেয়েই ফুল ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসলো।
ফারবিন বেগম আবার গিয়ে বসলেন। ফুল আবারও আলু কাটায় মনযোগ দিলো।
ফারবিন বেগম মহিলার কথা প্রতিত্তোরে বললো,
" আমরা এডিন (এগুলোর) কিছুর খবর রাখি না ভাবি। আমগো কাছে এসবের জবাব ও নাই।"
আরেকজন মহিলা বললো,
" শিলার ভাইয়ের লাইগা নাকি আম্নের ফুলের সমন্ধ আনছিলো, মানা কইরেন না ভাবি, মানইজ্জত থাকতেই মাইয়ারে পাড় করেন, লাইলে সমাজে চুনকালি দিবো আম্নেগো মুখে।"
ফুল চোখ তুলে তাকালো। এ মহিলাগুলো যে তাদের এ উছিলায় কথা শুনাইতে আসছে তা সে খুব ভালো করেই জানে।
ফারবিন বেগম তেতে উঠে বললেন,
" আমার মাইয়ারে নিয়া আম্নেগো এত মাথা বিষ ক্যান ভাবি? আমার মাইয়ারে আমরা চিনি। আম্নেরা হুদাই এসব রটাইতাছেন ক্যান? কি ইঙ্গিত করতাছেন?"
মহিলারা বললেন,
" ক্যান মাস্টার পোলার প*ষ্সিন*ষ্টি কইরা বেড়ায় আম্নের মাইয়া তা জানেন না? পোলার লগে গিয়া নৌকাত ঘুরে অনেকেই দেখছে। বিয়াইত্তা মাইয়ায় গতর সামলাইতে পারে না, চুনকালি ছাড়া আর কি দিবো?"
করিম আলী এবার উঠে দাঁড়ালেন। এগিয়ে এসে বললো,
" আম্নেরা কি আমার মাইয়ার খারাপ কিছু দেখছেন? মাইয়ায় যদি হেমন কিছু করে আমার মাইয়া আমি দুই টুকরা কইরা ফেলমু। "
ফয়সাল কোমরে গামছা বেঁধে দাঁড়ালো।
ফারবিন বেগম মহিলাদের বললো,
" বাড়ি বইয়া আইয়া কি এডিন নি কইতেন আইছেন? আমার বিয়াইত্তা মাইয়া চিন্তার লাইগা আমরা আছি। আম্নেরা আম্নে গো চরকায় তেল দেন।"
মহিলাগুলো উঠে দাঁড়ালেন। যেতে যেতে একদলা থুতু ফেলে একজন বললো,
" সুযোগ বুইঝা এই থুতু একদিন ঔ মাইয়ার মুখে মারুম। হেদিন ন্যারা কইরা পুরা গেরাম ঘুরামু।"
বলেই চলে গেলেন। ফুলের দিকে তাকালো সবাই, ফুল চুপচাপ আলু কেটেই যাচ্ছে। না কোন কাঁদার কোন ছাপ না আছে মুখে কোন হাসি। ভিতরে কি চলছে তা বুঝা বেশ মুশকিল।
দুপুরে ফুল কলপাড়ে গেলো কলসি ভরে পানি আনার জন্য। কলসি কাখে নিয়ে আসার সময় ই অনিক দৌড়ে এলো হাঁপাতে হাঁপাতে। ফুল পাশ কেটে চলে যেতে নিলেই ওর পথ আটকে দাঁড়ালো অনিক।
অনিক হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
" এড়িয়ে যাবেন না। আজ এড়িয়ে গেলে খুব দেরি হয়ে যাবে হয়তো।"
ফুল সে প্রসঙ্গ পাল্টে বললো,
" নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।"
আবারও চলে যেতে নিলেই অনিক ফুলের বাম হাতটা ধরলো। ফুল তৎক্ষনাৎ হাতটা ছাড়িয়ে বললো,
" কলঙ্ক যা রটবার যা ইতিমধ্যে রটিয়েছে। আরও খাতায় কিছু যোগ করতে চাচ্ছেন বুঝি?"
অনিক সে কথার প্রতিত্তোরে বললো,
" হটাৎ এত শুদ্ধ বাংলা রপ্ত করলেন যে?"
ফুলের ভীষণ রাগ হলো এই লোকটার এমন সময় এমন কথা বলাতে।
ফুল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো।
অনিক বললো,
" আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনি আশ্বাস দিন আমায়।"
ফুল সাথে সাথে বললো,
" আমি একজন তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে, আপনার পরিবার তা মেনে নেবে? আমি তাদের খারাপভাবে উপস্থাপন করতে চাইতেছি ও না, এ কথা আমার আপনার সবার পরিবারের বেলাতেই। আপনি দয়া করে আর আমার পথ আটকাবেন না।"
অনিক বললো,
" ভালোবাসাটা শুরুতে একপ্রাক্ষিক ছিলো, তবে বর্তমানে নয়। আপনি কেনো এত অবুঝপনা করছেন?"
ফুল এবার কর্কশ কন্ঠে অনিকের চোখে চোখ রেখে কাঁপা কাঁপা কান্নাজড়ানো কন্ঠে বললো,
" আমার সাথে কি আপনের কোন সম্পর্ক ছিলো? কোন ফ*ষ্টিন*ষ্টি বলার মতো কিছু? কিন্তু সারা গ্রামের মানুষরা তা নিয়ে চর্চা করে বেড়াচ্ছে। আমারে ঘরের মানুষেরে আর আমারে বাড়ি বয়ে এসে কথা শুনিয়ে যায়। আমি কলঙ্কিনী তা তারা চুলকালি দিয়ে আমার চরিত্রে আলপনার ন্যায় আকতে চায়। কিন্তু এমন তো কিছু ছিলো না তাই না? তাইলে ক্যান লোকে আমারে বললো? যে ভয়ে আমি আপনার ভাষ্যমতে আমার নিজেরসত্তা থেকে পালিয়ে বেড়ালাম, সে ভয় আমাকে দুঃস্বপ্নের মত অবশেষে তাড়া করে বেড়ালো। ক্যান করলো?"
অনিক চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ফুল আবারও বললো,
" আমার আপনার সাথে পরিচয় ক'মাসের মাত্র। যারা আপনাকে লালনপালন করেছেন তাদের হক আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সবসময় নিজেকে প্রাধান্য দিতে হবে এমন তো কোন রীতিনীতি নেই। নতুন জীবনের শুভকামনা। ভালো থাকবেন। "
বলেই পাশ কেটে চলে এলো। বেশ কিছুক্ষণ হাটার পর ফুল অনিকের অগোচরে চলে যাওয়া মাত্র ই, গলা কাঁপিয়ে কাঁদলো খুব। এ ভয়টাই সে পাচ্ছিলো। নারী হৃদয় যতই পাষাণ হোক না কেনো যত্নের পাগল। তাই তো লোভী হয়ে সে এতে নিজের মনকে সায় দিয়েছিলো। সে জানতো এ পরিণতি ভয়াবহ হবে তাই এত লুকোচুরি।
অনিক ধপ করে মাটিতে বসলো। তার ভেতরকার ভাঙচুর সে বুঝাতে পারলো না। শুধু বুকের বা পাশটায় শূন্যতা অনুভব করলো আজ। খুব মূল্যবান কিছু হারানোর ভয় তাকে জেঁকে বসেছে।
অনিক অগোছালো ভাবে ঘরে ফিরলো। বিছানায় এসে বসতেই প্রেমার আগমন। প্রেমা দেখলো তার প্রণয় পুরুষকে। দেখলো সে পুরুষের উদাসিন চেহারা। এ চেহারার সাথে যে অতিপরিচিত। সে চেনে এ চেহারা। কারণ কিছু মাস আগে সে-ও এমন চেহারার অধিকারীনি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সে থেকে আজ অব্দি তার এ উদাসিনতা নিত্যদিনের সঙ্গী।
প্রেমা অনিকের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,
" সিনেমা দেখতে যাবে?"
প্রেমাকে এতক্ষণ খেয়াল করে নি অনিক। প্রেমার হাসিটা কেমন অদ্ভুত লাগলো অনিকের। মেয়েটা যে তার থেকে উত্তরের আশায় আছে তা অনিক বুঝলো।
অনিক কিছু বলার আগেই হোসেন হাওলাদার বললেন,
"যাবে। যাও তৈরি হয়ে নেও তুমি। "
হোসেন হাওলাদার অনিকের যাওয়ার জন্য সম্মতি দিয়েছেন এ ভেবে, দুজনের মধ্যকার দুরত্ব কমে আসবে।
প্রেমা চলে গেলো। অনিক মাথায় হাত দিয়ে চুপচাপ বসে রইলো।
মিনিট ত্রিশের মধ্যে তারা রওনা হলো। সিনেমা হলটা বেশ দূরে। গরুর গাড়িতে চড়ে তারা বের হলো। প্রেমার পড়নে সুতির একখানা থ্রি পিস, মাথায় ওড়না দেওয়া সুন্দর করে। অনিকের পড়নে আগের মতই প্যান্ড আর শার্টটা। মুখটা বেশ মলিন। তারা একটা হিন্দি ছবি দেখলো।প্রেমা হিন্দি ভাষা বুঝে না। তবুও দেখলো। বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলো। বাড়িতে যেতে আর মিনিট বিশেকের মত লাগবে। একটা সুনশান জায়গায় তারা হাটছে।। মাঠের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমা বললো,
" নদীর পাড়ে বসবে একটু?"
অনিক প্রেমার দিকে তাকালো। প্রেমা ছলছল চোখ তার নজর এড়ালো না। ভাবলো হয়ত প্রেমাও অন্য কাউকে ভালোবাসে তাকে বলতে চাচ্ছে। অনিক রাজি হলো।
তখন চারদিকের আকাশ গোধূলির লগ্নে রক্তিম শিখার মত উজ্জ্বল। এক ঝাঁক কোকিল উড়তে দেখলো তারা খোলা আকাশে। প্রেমা বসলো নদীর পাড়েতে। অনিকও বসলো।
বেশ কিছুক্ষণ দু'জনেই চুপ রইলো।
অনিক নিরবতা ভেঙে বললো,
" ছেলেটা কে প্রেমা?"
প্রেমা অনিকের দিকে তাকিয়ে বললো,
" কোন ছেলে?"
অনিক বললো,
" যার জন্য আজ আমাকে বলতে এসেছিস। যার সাথে তোর প্রণয়ের সম্পর্ক। আমাকে নির্ভয়ে বল আমি সাহায্য করবো তোকে।"
প্রেমা আলতো হেঁসে বললো,
" তাই? কি সাহায্য করবে? তাকে এনে দেবে আমার জন্য? "
অনিক সাথে সাথে উত্তর দিলো,
" অবশ্যই। "
প্রেমা বললো,
" জোর করে এনে দিতে হবে তাহলে। এরজন্য কিছু বেশ কাঠখর পোড়াতে হবে তোমাকেই। "
অনিক প্রেমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। বললো,
" জোর করবো কেনো? সে কি তোকে ভালোবাসেনা? বিয়ে করতে চায় না?"
প্রেমা কিছুক্ষণ শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। লালরঙা পশ্চিমা আকাশ তাকে সায় দিচ্ছে যেনো আজ।
প্রেমা বললো,
" সে ছেলে বড্ড দস্যু জানো! ছোটবেলা থেকে আমার কাছ থেকে টাকা মেরে খেয়েছে। আমাকে জ্বালানো ছাড়া তার দিনই চলতো না। সে ভীষণ আনমনে ছিলো , কিন্তু আমার সম্মানের দিকে কেউ আঙুল তুললেও সে তার দায়িত্ব কঠোর হস্তে পালন করেছে। কিন্তু আমি নিয়ম ভাঙলাম, নিয়ম ভেঙে আমি তাকে ভালোবাসলাম। এ দিক থেকে সে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ দোষে আমি একাই দোষী। "
বলেই চুপ হয়ে গেলো মেয়েটা। মাথানিচু করে রইলো।
অনিক প্রেমার দিকে তাকালো। সে অবুঝ নয়। প্রেমার কথার মানে তার কাছে স্পষ্ট।
অনিক গলায় কাছটা বেশ জ্বলছে।
প্রেমা দেখলো অনিককে। হটাৎ আরও বিধস্ত দেখালো ছেলেটাকে।
প্রেমা মৃদু হেঁসে বললো,
" ভয় পাচ্ছো? বিয়ে নিয়ে? আচ্ছা তুমি ই বলোতো। যে জিনিসটা আমার কখনো ছিলোই না, সে জিনিসে কি আমার জোরজবরদস্তি করে তদারকি করা সাজে?"
অনিকের থেকে কোন উত্তর পাওয়া গেলো না। প্রেমা আবারও হাসলো।
প্রেমা বললো,
" মেয়েটা ভীষণ সুন্দর তাই না?"
অনিক প্রেমার দিকে তাকালো মেয়েটা কাঁদছে, চোখ থেকে ওর পানি ঝরছে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে অনিক, তবুও মেয়েটার মুখে হাসির রেখা। এ হাসি জোরজবরদস্তি করেই ধরে রাখা হয়েছে তা জানে অনিক।
অনিক উপরনিচ মাথা নাড়লো।
প্রেমা আবারও সাথে সাথে বললো,
" মেয়েটার চোখে ভীষণ মায়া তাই না?"
অনিক এবার প্রসঙ্গ পাল্টে বললো,
" আমাকে ভালোবেসেছিস কেনো প্রেমা? কেনোই বা লুকিয়েছিস তাহলে?"
প্রেমা বললো,
" না লুকালে বুঝি ভালোবাসার বদলে তুমি ও ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে? "
অনিক বললো,
" আমার কি করা উচিত এখন?"
প্রেমা জানতো অনেক এমনকিছুই বলবে। ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো করেই জানে সে অনিককে।
প্রেমা বললো,
" এ বিয়েতে আমরা কেউ ই সুখী হতে পারবো না। সবাই যে একজীবনে সবকিছু সব পাবে এমন কোন কথা আছে? "
অনিক কিছু বলতে নিলেই প্রেমা বললো,
" তোমার তো একটা হিল্লে হলো বলে হলো। আমার জীবনটাকে গুছিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ও তোমাকে দিলাম। পারবে তো?"
অনিক শান্ত ভঙ্গিতে বললো,
" হুম।"
কিন্তু ভেতরে তার অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো। প্রেমা নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলো। কোনদিকে তাকালো না।
অতঃপর কিছুক্ষণ পর দুজনে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
________
রাত হয়েছে বেশ। প্রেমা তার জেঠাদের ঘরের দিকে গেলো। হোসেন হাওলাদার আর হান্নান হাওলাদার একসাথে বসেই ছিলেন। লিস্ট করছেন ওনারা। খরচের।
অনিক পাশেই চুপচাপ বসে ছিলো। রাসেল আর নেহাল ও রয়েছে।
প্রেমা গিয়ে দাঁড়ালো। অতঃপর তার জেঠাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" তোমরা এ বিয়ের আয়োজন করো না জেঠা। আমার মত নেই।"
চলবে....