#গেধূলির_রক্তিম_শিখা
#লেখনীতে_পরিনিতা
সন্ধ্যার দিকে তিনজন মহিলা আর দু'জন ছেলে এলো টুসুদের বাড়িতে। সে তিনজন মহিলার মধ্যে ফুল আর ফারবিন বেগম ও ছিলো।
টুসুর বাবা বসে তাদের আসার কারণ জানতে চাইলেই সেখানে উপস্থিত থাকা নেহাল বললো,
" আমি আপনার মেয়ে টুসুকে বিয়ে করতে চাই।"
ছেলেটার মুখে এমন কথা শুনে (আকবর হোসেন) মূহুর্তের জন্য জন্য চুপ হয়ে গেলো।
অতঃপর গম্ভীর ভাব নিয়ে বললো,
" তোমার লগে কি তার কোন সম্পর্ক আছে?"
নেহালের মা মরিয়ম বেগম বললেন,
" সম্পর্ক নেই, তবে আপনার মাইয়ারে আমার ছেরায় পছন্দ করছে এমনকি আমার ও ভালো লাগছে তাই এসেছি। আপনার মাইয়ার হাত চাইতে।"
ফুল আর ফারবিন বেগম ও বসলেন।
আকবর হোসেন (টুসুর বাবা) তিনি আমতাআমতা করে বললেন,
" আমার মাইয়ার বিয়া দুইদিন পরে। আম্নেরা কি মশকরা করেন? আমি কথা দিছি ওগোরে।"
নেহাল বললো,
" আমি ওরে ভালো রাখমু চাচা।"
আকবর হোসেন বললেন,
" আমি তোমারে চিনি,তুমি মতিউরের ছেরা। তোমার ও বাপ নাই, আমার মাইয়ার ও মা নাই। আমি ওরে বাপ-মা চাইয়া বিয়া দিমু।"
ফুল আকবর হোসেনকে বললো,
" এসব ভাগ্য আল্লাহ ই নির্ধারণ করে চাচা। ওরে শশুর শাশুড়ি দেখে বিয়ে দিলে, আল্লাহ যদি ওনাদের ও পরপরই নিয়ে যান তখন? তখন কি করবেন? ওনার বাবার তকদির ও আল্লাহ ই লিখছে। এটা নিশ্চয়ই না করে দেওয়ার যথার্থ কারণ হতে পারে না। আপনি বলুন আপনি কেনো না করছেন। বলুন। "
আকবর হোসেন চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন,
" আমার মা মরা মাইয়া। ওর দুই ভাইয়েরা নিজে গো সংসার লইয়া গেছে গিয়া। আমার মাইয়াডার কেউ খোঁজখবর নেয় না। আমার শরীর ভালা না। বুকে ব্যাথা উঠে অনেক। গত ঘটেকেরে ধরলাম, কিন্তু পাত্রর বাড়ি থেইকা মোটা অংকের টেকা চায়।
কিন্তু আমি গরীব মানুষ, অহন আর পোলারা খোঁজখবর ও নেয় না। তাই সমন্ধটা পাওয়া মাত্র ই বিয়া দেওনের সিদ্ধান্ত নিছি, হে গো কোন চাওয়া-পাওয়া নাই। "
নেহাল আকবর হোসেনের হাত ধরে বললো,
" আমি ওঁকে ভালো রাখবো। আমি এর চেয়ে বেশি কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমি ভালো রাখবো টুসুকে।"
আকবর হোসেন ফারবিন বেগমের দিকে তাকালেন। ফারবিন বেগম ও সায় দিলেন। আকবর হোসেন বললেন,
" আমার টুসুর দায়িত্ব দিলাম তোমারে। একটু শয়তানি করে বেশি কিন্তু মনডা ভালা।"
কাঠের দরজার ওপাশে টুসু দাঁড়িয়ে ছিলো। নেহাল তা দেখেছে। বাবার মুখ থেকে এমনটা কথা শোনা মাত্র ই খুশিতে নাকি কৌতুহল বসত একটা লাফ দিয়ে উঠলো মেয়েটা। পাশ থেকে পাতিল পড়লো মাটিতে, শব্দ হলো।
আকবর হোসেন সেদিক লক্ষ করে বললো,
" কি হইছে? কি পড়ছে?"
উনি উঠতে নিলেই অনিক বললো,
" হয়তো কোন বান্দর লাফালাফি করতাছে, বাদ দেন চাচা।"
ফুল দেখেছে সব, মুচকি হেঁসে বললো,
" চাচা আমি বসুন, আমি গিয়ে দেখতেছি।"
বলেই ফুল পেছনের রুমে গেলো। ফুল যেতেই টুসু আমতাআমতা করে এদিকওদিক তাকাতে লাগলো,
" কি ব্যাপার এত খুশি পেটে ধরে না কেনো? এ খুশি কি বোয়ালমাছটাকে পাওয়ার খুশি নাকি!"
টুসু ফুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
" ধ্যাত বেডি। তোর ভোমর আসুক, তারপরে আমি ও মাইক নামিয়ে তোর কানের কাছে ঘুনঘুন করবো।"
______________
কাটলো দু'দিন । আকবর হোসেন টুসুর আগে যেখানে বিয়ে ঠিক হয়েছিলো সেখানে সেদিন রাতেই গিয়ে না করে দিয়েছিলো, এ নিয়ে খুব তর্কাতর্কি ও হয়েছিলো। আকবর হোসেনকে অনেক কটুকথা ও শুনতে হয়েছে, কিন্তু মেয়ের সুখের জন্য তিনি এ কথা গায়ে মাখলেন না।
আজ টুসুর বিয়ে।
ছোট করেই আয়োজন করা হয়েছে। হোসেন হাওলাদার এসেছে। আর রাসেলের বাবা-মা। নেহালের নানুর বাড়ি থেকে কয়জন, আর ফুলেরা। এই হলো বিয়ে-বাড়ি তাদের।
আকবর হোসেন নিজের সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে বিয়ের আয়োজন করেছেন। বেশি কিছুর আয়োজন করতে পারেন নি তিনি। এ নিয়ে নেহালের পক্ষ থেকে ও কোন সমস্যা নেই।
হুজুর এলেন, টুসুকে কবুল বলতে বলছিলেন আর টুসু অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো। তা দেখে ফুল ওর পাশে বসে বললো,
"কি সমস্যা? কবুল বলছিস না কেনো?"
টুসু ফুলের হাত ধরে বললো,
" আসলেই কি ওই বোয়ালমাছটার লগেই আমার বিয়ে হইতাছে? কি সাংঘাতিক। আমার তো বিশ্বাস ই হইতাছে না। একটা চিমটি কাটবি ফুল৷"
ফুল সাথে সাথে জোরে একটা চিমটি কাটলো। টুসু হাত ঢলে ঢলে বললেো,
" এত জোড়ে চিমটি কাটতে কইছি আমি?
ফুল আস্তে করে বললো,
" চুপচাপ কবুল বল বেদ্দপ ছেমড়ি। "
অতঃপর হুজুর দুজনের বিয়ে পড়ালেন। সবার দোয়া নিয়ে, বিবাহকার্য সম্পন্ন হলো। একজন ছন্নছাড়া বাউণ্ডুলে মেয়েটা ও কারো অর্ধাঙ্গিনী রুপে নিজেকে রূপায়িত করলো।
টুসু গায়ে একটা লাল রঙা কাপড় ছিলো, সে কাপড়ের আঁচল দিয়ে ঘোমটা টানা ছিলো। যাপয়ার সময় ফুলকে ধরে সে-কি কান্না তবে ফুল ঘরেই ছিলো বাইরে বের হয় নি। হোসেন হাওলাদার শুনেছে ও মেয়েটা এসেছে, কিন্তু তিনি তেমন কোন প্রতিক্রিয়া ই দেখান নি। ওনার চালচলন স্বাভাবিক।
টুসুকে গরুর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হলো।
নেহালদের চৌচালা ঘর৷ ঘর তিনরুম। রাসেল সহ নেহাল সবকিছু গুছিয়েছে। একা হাতে তার মা পেরে উঠতো না।আর দুই বন্ধু ই অনিকের নাম হাজার বার নিয়েছে। সে থাকলে আজ কতই না দস্যিপনা করতো।
রাত তখন গভীর,
নেহাল রুমে ফিরলো। টুসু তখন একপাশে চুপচাপ বসে আছে। নতুন পরিবেশ তাই তার ভয় ভয় করছে।
দরজা আঁটকে নেহাল টুসুর পাশে এসে বসলো। নেহাল পকেট থেকে কিছু একটা এনে টুসুর হাতে পড়িয়ে দিলো। একজোড়া চুড়ি।
নেহাল হেঁসে বললো,
" গঞ্জের মেলা থেকে কিনলাম আজ। তোমার স্বামীর এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য নেই যে।"
টুসু চুড়িজোড়া হাতে পড়লো। তার শ্যাম বর্নের দু হাতে জ্বলজ্বল করছে সোনালী রঙের চুড়িজোড়া।
টুসু হালকা হেঁসে বললো,
" আমি এতেই সন্তুষ্ট। খুব সুন্দর চুড়িগুলো।"
নেহালও হাসলো। টুসু কিছুক্ষণ পর বললো,
" আম্নে তো দু চোক্ষে আমারে দেখতে পারতেন না। তাইলে বিয়া ক্যান করলেন?"
নেহাল টুসুর আরেকটু পাশ ঘেঁষে বললো,
" শত্রুরে নিজের কাছে রেখে সারাজীবন শত্রুতা বাড়াবো তাই।"
টুসু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো।
অনেকক্ষণ চললো ফিনফিন নিরবতা। পাশেই এক আধো আধো হারিকেনের আলো জ্বলছে।
নেহাল সেদিকে তাকালো। টুসুও তাকালো নেহালের চাহনি লক্ষ করে।
নেহাল টুসুর দিকে তাকিয়ে বললো,
" আলোটা নিভিয়ে ফেলি?"
টুসু হকচকিয়ে উঠলো। সে একটু ও অবুঝ নয়, লোকটার কথার মানে বুঝলো।
মেয়েটা খাটের উত্তর দিকে ছিটকে একটু দূরে গিয় বসলো।
মেয়েটা ঘোমটার আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। নেহাল আরও কাছে এগিয়ে গেলো আবারও। টুসুর ঘোমটা সরিয়ে কানের কাছটায় একটা আলতো করে চুমু খেয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
" আলোটা নিভিয়ে ফেলি বউ?"
টুসু দু হাত দিয়ে নিজের মুখটা ডাকলো। লজ্জায় সে কুঁকড়ে মরছে। ইশশশশশশশশশশ!
টুসু উপরনিচ মাথা নাড়লো। নেহাল মুচকি হেঁসে হাত বাড়িয়ে পাশে থাকা হারিকেনের চিমনি নিচের দিকে দিয়ে দিলো। আলো নিভলো।
এক পবিত্র হালাল সম্পর্কের সূচনা হলো। দস্যি, ছন্নছাড়া, গায়ের মেঠোপথে ঘুরে বেড়ানো মেয়েটাও কারো বউ হবার প্রথম ধাপ পাড় করলো।
___________________
আজ গুনেগুনে এক বছর ছয় মাস কেটেছে অনিকের শহর যাত্রার। ফুল অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে।
ফারবিন বেগম মেয়ের মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। ফয়সালটা হটাৎ করে বেশ লম্বা আর তরতাজা যুবক হয়ে গিয়েছে যেনো। মাত্র ১৫ বছরে ই সে তার আব্বার চেয়ে ও লম্বা হয়ে গিয়েছে। মুখের আদল বদলেছে তার।
ফুল অনিকের দেওয়া চিঠিটা সকাল-বিকাল তিনবার করে পড়ে। রীতিমতো এ তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকটাকে দেখার জন্য তার দুচোখ জোড়া ব্যাকুল হয়ে আছে।
________________
তখন ভর দুপুর। শীতের কুয়াশা ভেদ করে করে ভরদুপুরে হালকা রোদের চাহনি দেখা দিয়েছে৷ কনকনে হীম বাতাস বইছে চারদিকে। নুরুন্নেছা বেগম উঠানে রোদে বসে রোদ পোহাচ্ছন। হোসেন হাওলাদার একটা কাঠের চেয়ারের উপর বসে আছেন।
ফাইমা বেগম আর প্রেমা লেফ মুড়ি দিয়ে আছে ঘরে।
হটাৎ কেউ নুরুন্নেছা বেগমের ঠিক পেছন থেকে বলে উঠলো,
" মা।"
কাঙ্ক্ষিত ডাকটা কানে যেতেই ভদ্রমহিলার কলিজা কেঁপে উঠলো। তৎক্ষনাৎ তাকাতেই দেখলো, তার একমাত্র নাড়িছেঁড়া ধন, তার সন্তান দাঁড়িয়ে। ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে ই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেদেঁ ফেললেন। অনিক সযত্ন মায়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছে।
নুরুন্নেছা বেগম ছেলের দিকে তাকালেন, হালকা চাপ দাঁড়ি হয়েছে, শরীরের স্বাস্থ্য আগের মতই আছে তবে আগের তুলনায় বেশ সুদর্শন লাগছে ছেলেকে।
অনিক একটু দূরে বসে থাকা বাবার দিকে গেলো। পা ধরে সালাম করলো। তার হাত পা কাঁপছে। হোসেন হাওলাদার কিছু বললো না, শুধু ছেলের মাথায় হাত রাখলেন একবার। অনিকের মন ভীষণ ভার। ছেলেমানুষের কথায় কথায় কাঁদতে নেই, নয়তো আজ বাবার পা ধরেই সমস্ত অনুভূতি ব্যাক্ত করতো সে।
অনিক উঠে দাঁড়ালো।
প্রেমা এসে দাঁড়ালো। ফাইমা বেগম ঘুমিয়ে গিয়েছে তাই আর জাগালো না।
প্রেমা এসে দাঁড়ালো অনিকের পাশে। মেয়েটার চেহারায় আগের মত বাচ্চা সূলভ ভাবটা নেই। ম্যাট্রিক দিয়েছে সে। অনিক প্রেমার মাথায় হাত রেখে বললো,
" কেমন আছিস ঢেমলি?"
প্রেমা ছলছল চোখে মুখে খুশির হাসি এনে তার জেঠির দিকে তাকিয়ে বললো,
" দেখো তোমার ছেলে আমাকে কি বলছে। ঢেমলি বলছে আমাকে।"
অনিক আলতো হেসে প্রেমার মাথায় এক গাট্টা মেরে বললো,
" ন্যাকা ঢেমলি আমি ভেবেছি তুই বড় হয়ে গিয়েছিস কিন্তু তুই তো ঢেমলিই আছিস। "
অনিক হেঁসে তার মায়ের দিকে এগিয়ে গেলো,
অনিকের কাঁধে ঝুলানো একটা ব্যাগ, আর হাতেও বড়সড় একটা ব্যাগ। সে ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করে মায়ের চোখ ধরে তার হাতে পড়িয়ে দিলো। নুরুন্নেছা বেগম চোখ খুলে দেখলেন, একটা সোনালি রঙা আঙটি তার হাতে জ্বলজ্বল করছে। ভদ্রমহিলা বেশ স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। একবার হাতের দিকে তাকালেন তো একবার স্বামীর দিকে।
নুরুন্নেছা বেগম বললেন,
" এ তো স্বর্ণের আংটি।"
অনিক উপরনিচ মাথা দুলিয়ে বললো,
" এ আমার রোজগারের টাকায় কেনা মা। তোমার ছেলের প্রথম তিননাসের ইনকামের টাকায় কেনা। "
নুরুন্নেছা বেগম আংটিতে একবার হাত বুলিয়ে দূরে বসে থাকা হোসেন হাওলাদারের দিকে তাকালেন। তিনি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে আছেন।
নুরুন্নেছা বেগম একটু জোরেই কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,
" আমার ছেলে আমার জন্য নিজের উপার্জনের টাকায় কিনেছে। আমার ছেলে বেকার নয়। দেখো দিয়েছে ও আমাকে।"
বলেই কাঁদতে লাগলেন। স্বামীর দিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
" আমার ছেলেকে আপনি সেদিন তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। দেখুন আজ আমার ছেলে উপার্জন করছে। এর খুশি কই রাখমু। আমার ছেলে দায়িত্ব নিতে শিখেছে।"
বলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। হোসেন হাওলাদার অন্য দিকে ফিরে দু ফোঁটা চোখের পানি সবার অগোচরে মুছলেন। কেউ টের ই পেলো না।
অনিক তার হাতের ব্যাগ থেকে, একসেট পাঞ্জাবি - লুঙ্গি তার বাবার দিকে এগিয়ে দিলো। সাথে একটা ঘড়িও। হোসেন হাওলাদার ছেলের দিকে তাকালেন। নিলেন ও। কিন্তু দুজনের একজন ও কেউ কিছু বললো না।
অনিক ও বেশীক্ষণ তার বাবার সামনে দাঁড়িয়ে ৎাকলো না।
একটা শাড়ি হাতে নিয়ে প্রেমার দিকে দিয়ে বললো,
" নে ভালো রেজাল্ট করেছিস, সে উপলক্ষে। "
প্রেমা খুশিমনে নিলো তা।
অনিক সবার জন্য ই এনেছে অনেককিছু।
নেহাল আর রাসেল ও এলো। তারা অবশ জানে অনিক আসবে, কারণ চিঠি দেওয়া-নেওয়া হত তাদের।
নুরুন্নেছা বেগম ছেলেকে ভাত বেড়ে খেতে দিলেন।বেশ তৃপ্তি করেই সে বহুদিন পর মায়ের হাতের রান্না খেয়েছে।
সেখানে তখন সবাই ই উপস্থিত ছিলো। অনিক তার বাবার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে বললো,
" আমাকে কথা দিয়েছিলেন আপনি বাবা। ওয়াদা রাখার সময় এসে গিয়েছে। "
হোসেন হাওলাদার গায়ে চাদর জড়ালেন। নেহাল আর রাসেল থমথমে মুখে সব দেখছে। অনিক ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কোনরকম সোরগোল ছাড়াই হোসেন হাওলাদার নেহাল আর রাসেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
" করিম আলীর বাড়িতে চলো। বিবাহের দিন তারিখ দিতে যেতে হবে। "
বলেই তিনি হাটা ধরলেন। নেহাল আর রাসেল ও চললো ওনার সাথে। অনেক স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রেমা ওঁকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে বললো,
" বোবা-কালা হয়ে গিয়েছো নাকি? যাও ওনাদের সাথে। যাও।"
বলেই ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের হলো। অনিক ও পা চালিয়ে ওনাদের সা গেলো।
ফুল মাথায় বড় করে ঘোমটা টেনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলো তখন। সন্ধ্যা সন্ধ্যা ভাব হয়ে এসেছে। শীত ও পড়তে শুরু করে দিয়েছে।
হটাৎ করে খেয়াল করলো। একদল লোক এদিকে ই আসছে ক্ষেতের আইল বেয়ে। লোকগুলো আরেকটু কাছে আসেতেই ফুল পাশে থাকা একজনকে খেয়াল করলো। দেড় বছর পর কাঙ্খিত ব্যাক্তিকে দেখে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো যেনো।
ঝাঁটাটা ফেলে দিয়ে টুক করে ঘরে ঢুকে গেলো। করিম আলী বাড়িতেই ছিলো। বাপ ছেলে কাজ থেকে ফিরে গোসল সেড়ে বসেছিলেন মাত্র।
ওনাদের দেখে দু'জন ই এগিয়ে গেলো। ফারবিন বেগম একটা পাটি পেতে দিলেন, সাথে কয়টা মোড়া ও দিলেন বসার জন্য।
সবাই বসলো। ফুল জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষের একপাশ দেখলো। কারণ তার কাছ থেকে একপাশ ই দেখা যাচ্ছে। হাত-পা কাঁপছে মেয়েটার৷ ভয় লাগছে ভী কেনো জানি।
হোসেন হাওলাদার করিম আলীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
" ওদের বিয়ের ব্যাপারে বলতে আসলাম। দিন তারিখ ঠিক করুন খুব শীঘ্রই। আপনার মেয়েকে আমার ছেলের জন্য নিতে চাইছি।"
করিম আলী একটু চুপ করে বললো,
" আপনে গো ইচ্ছেমত দেন তারিখ। "
বিবাহের দিন চারদিন পর ঠিক করা হলো।
অনিক একবার তাকালো শুধু সে জানালার দিকে অমনি ফুল সরে গেলো। অনিক মুচকি হাসলো।
ফারবিন বেগম মুড়ি বাতাসা এনে দিলো সবাইকে। সবাই মিষ্টিমুখ ও করলো।
হোসেন হাওলাদার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ,
"তো এই কথাই রইলো। বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ, শুক্রবার বিয়ে।"
চলবে....