ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইলশেগুঁড়ি

সমাপ্তি পর্ব

লেখক: নূপুর ইসলাম

#ইলশে_গুঁড়ি

#নূপুর_ইসলাম
রেহনুমা বিরক্ত নিয়ে নিশির দিকে তাঁকালো। মেয়েটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কে বলবে এটা তাঁর মেয়ে। সে বিরক্তমাখা কন্ঠে বলল,--- থামবে নিশি! এত রিয়াক্ট করার মতো কিছু হয়নি। আমি সোহেলের সাথে কথা বলছি। এত সোজা না রেহনুমার মেয়েকে ছুঁড়ে ফেলা।
নিশি নিষ্প্রাণ দৃষ্টিতে তাঁর মায়ের দিকে তাঁকালো। কেন তাঁর মাকে সে বুঝাতে পারছে না। ফিরে গিয়ে কি হবে। জোর করে কি সংসার হয়? সোহেল আর তাঁর মধ্যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। কেন এত পায়ে ধরতে হবে। সে কি এতই ফেলনা? 
সে আর কিছু বলল না। কিই বা হবে বলে! সে উঠে ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল,--- মেয়েদের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচা খুবই কষ্ট। তাঁর সব আছে তবুও সে বেরিয়ে আসতে পারছে না। আর মেজো চাচি সে কিভাবে পেরেছিল। তার তো কেউই ছিল না। নিজের আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে অনেক সাহসের প্রয়োজন। অনেক!
তখনি দৌড়ে দিসা আসলো। দরজায় টোকা দিয়ে বলল, --- বড় চাচি আসবো?
রেহনুমা বিরক্ত মুখেই বললেন, --- এসো! কি হয়েছে? এভাবে দৌড়াচ্ছো কেন? ঘরের ভিতরে এভাবে দৌড়া দৌড়ি আমি পছন্দ করি না। তুমি জানো না। 
দিসার মুখ ভার হলো। সে তো তাঁদের জন্যই এসেছিল। 
--- কি হলো! কথা বলছো না কেন?
দিসা মুখ ভার করেই বলল,--- তিথি আপু হাবিব ভাইকে পাখি গুলোকে ছেড়ে দিতে বলেছে।
---- সে বললেই হবে , কে সে?
দিসা আর কিছু বলল না। ধুর! এখানে আসাই তাঁর ভুল হয়েছে।
রেহনুমা বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো! তাঁর মেজাজ অনেক খারাপ! একদিকে তাঁর ছেলে মেয়ে।কোন টাকেই সে বাগে আনতে পারছে না। আরেক দিকে মাহবুব। তাঁর কোন কাজই মাহবুবকে টলাতে পারছে না। তিথির সব ব্যাপারে সে নির্বাক।আর ঐ দিকে এই মেয়ে যা খুশি তাই করছে । 
সে উঠে দাঁড়ালো! দাঁড়িয়ে বলল,--- চল আমার সাথে। এই মেয়ের আসল জায়গা তাঁর দেখাতেই হবে। দিনকে দিন মাথায় উঠছে। 
রেহনুমা বাড়ির পিছনে এসে দেখলো তিথি খাঁচার ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর আশে পাশে পাখিগুলো উড়াউড়ি করছে। তাঁর মেজাজ খারাপ হলো। কোন সাহসে মেয়েটা এটার ভিতরে গেছে। এটা তাঁর মেয়ের। আর তাঁর, মেয়ের, ছেলের কিংবা সংসারে কোন কিছুতে তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কিছু করলে তাঁর সহ্য হয় না। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, --- তিথি বাইরে আসো। 
তিথির কোন ভাবান্তর হলো না। কিছুই হয় নি এমন ভাবে সে শুধু ফিরে তাঁকালো। 
রেহনুমার শরীরে আগুন ধরে গেল। অনেক দিন হলো সে রাগেনা। চারিদিকের ঝামেলায় সে নিজের কন্ট্রোল হারালো। সে চেঁচিয়ে বলল,-- বাইরে এসো অসভ্য মেয়ে। এখন এই মুর্হুত্বে তুমি বাইরে আসবে
আর যদি না আসো তাহলে আজ এই মূর্হুত্বে তোমাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে এই বাড়ি থেকে বের করবো। 
---- কি হয়েছে?
রেহনুমা চমকে চোখ তুলে তাঁকালো। দোতলার নিজের রুমের বারান্দায় মাহবুব দাঁড়ানো। সে আজ এই সময় বাসায়? কই সে তো জানে না। তাঁর কন্ঠ নামলো, তবে সে দমলো না। মাহবুবের দিকে তাঁকিয়ে বলল,-- দেখেছো মাহবুব! তোমার মেয়ে কত অসভ্য। এতবার করে বলছি এই মেয়ে কথা কানেই নিচ্ছে না।
মাহবুব নির্বিকার ভাবে বলল,--- কি বলেছো তুমি?
-- আমি তো বলিনি! বলছে তো তোমার মেয়ে। এই পাখিগুলো ছেড়ে দিতে। কতো বড় স্পর্ধা। আমার মেয়ের...
রেহনুমা কথা পুরো করতে পারল না। তাঁর আগেই মাহবুব বলল, --- হাবিব।
-- জ্বি স্যার।
-- পাখিগুলো ছেড়ে দাও। বলেই মাহবুব ভিতরে চলে গেলো।
রেহনুমা স্তব্ধ! শুধু সে না বাকি সবাইও স্তব্ধ! 
তিথি শীতল চোখে রেহনুমা দিকে তাঁকালো তাঁর মুখে বাঁকা হাসি।  
রেহনুমা আগুন চোখে তিথিকে কিছুক্ষণ দেখলো। তাঁর শরীর রাগে কাঁপছে। মে হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে এলো।
 
____
রেহনুমা রাগে দরজায় নক না করেই সোজা ভেতরে ঢুকলো। রাগে তাঁর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। তাঁর হিতাহিত জ্ঞান নেই। সে খেয়ালও করলো না তাঁর পেছনে পেছনে সবাই চলে এসেছে। 
মাহবুব শান্ত ভাবে রেহনুমা দিকে তাঁকালো। তাঁকিয়ে বলল,--- ভদ্রতা ভুলে গেছো? কারো রুমে আসার আগে নক করতে হয়।
রেহনুমা দাঁত চিবিয়ে বলল ---- আমি কারো রুমে আসিনি মাহবুব।
মাহবুব হাসলো! হেসে বলল,--- তো! কার রুমে এসেছো? বন্ধু,প্রেমিক, দেবর নাকি নিজের বড় একটা অস্ত্র। যাকে দিয়ে চালের পর চাল দিচ্ছো।
রেহনুমা অবাক হয়ে তাঁকালো। এ কোন মাহবুবকে দেখছে সে। এত তাঁর সেই চিরচেনা মাহবুব না। সে কেঁদে ফেলে বলল ,--- এত দিন পরে এসে তোমার এই মনে হচ্ছে মাহবুব ? কি না করেছি আমি তোমাদের জন্য। নিজের সব বিলিয়ে দিয়েছি আর আজ ঐ তাইয়্যেবার মেয়ের জন্য আমাকে কথা শুনাচ্ছো। যে কিনা তোমাকে ফেলে চলে গেছে।
মাহবুব গর্জে উঠল! --- তিথি আমারও মেয়ে রেহনুমা। আমার! সে আমার আর তাইয়্যেবার মেয়ে। আর তাইয়্যেবা আমাকে ফেলে যায়নি। তুমি বাধ্য করেছিলে তাঁকে । 
রেহনুমা থমকে গেল। মাহবুব তাঁর সাথে চিৎকার করে কথা বলছে। এ কোন মাহবুবকে দেখছে সে? 
মাহবুব রেহনুমার দিকে তাঁকিয়ে বলল,--- তুমি কারো জন্যই কিছু করোনি। যা করেছো তা হলো নিজের জন্য। প্রথমে বড় লোক বাপের ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করেছো। বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে এ বাড়িতে এসেছো,থেকেছো। সবার মন জয় করেছো। আরাম, আয়েশ টাকা দেখে আমার প্রেমিকা হয়েছো। কিন্তু যখন দেখেছো আমার বউ হয়ে সেই সম্মান, সেই ক্ষমতা কখনো পাবে না তখন আমার বড় ভাইকে ধরেছো। তাঁরাতো আর জানতো না আমার সাথে তোমার কি সম্পর্ক। তাঁরা ভাবতো আমরা শুধু বন্ধু। তাই বড় ছেলের জন্য প্রস্তাব রাখে। আর তুমি সব কিছু এমন ভাবে সাজিয়েছো যেন মা, বাবার মুখের দিকে তাঁকিয়ে বিয়েতে রাজি হয়েছো। না করলে তাঁরা খুবই কষ্ট পাবে।
 আর আমিও ছিলাম বোকা। চোখ বন্ধ করে তোমার সব কথা বিশ্বাস করেছি। তুমি তোমার জীবন, তোমার স্বামী, তোমার সংসার নিয়ে সুখে থেকেছো। কই তখন আমার কথা তো চিন্তা করোনি। চিন্তা তো করতে শুরু করলে তখন থেকে যখন দেখলে, তোমার স্বামী শুধু নামেই এই বাড়ির বড় ছেলে। কাজের ক্ষেত্রে তো এই মাহবুব। তখন তোমার হিসেব আবার এলোমেলো হলো। তুমি আমাকে ভালো করেই জানতে। যতই ভালোবাসিনা কেন? বড় ভাইয়ের বউকে আমি কখনো অন্য চোখে দেখবো না। তাই প্ল্যান অন্য ভাবে সাজালে। স্বামী, সংসার, দেবর দের এমন ভাবে আগলে ধরলে। তাঁরা তোমাকে ছাড়া যেন কিছুই না বোঝে। হলোও তাই। সব ক্ষমতা তোমার হাতে মুঠোয় । কিন্তু সমস্যা হলো মা যখন আমাকে বিয়ে করাতে চাইলেন। তুমি ভালো করেই জানতে বিয়ে হলেই তোমার এই ক্ষমতা থাকবে না। কারণ! যার স্বামীর ক্ষমতা বেশি তাঁর জোরও বেশি। তাই এমন একজন কে দরকার যে তোমার কথায় উঠবে আর বসবে।
তাইয়্যেবা এতিম ছিল। মামার বাড়িতে থাকতো। বাবার বন্ধুর মেয়ে হিসেবে বাবা খোঁজ খবর নিতো। তবে কখনো ছেলের বউ করার কথা চিন্তা করেনি। তবে তুমি তাঁকে ভাবতে বাধ্য করেছে। রগচটা, ঘাড়ত্যারা ছেলে তাঁর। এর জন্য এরকম মেয়েই ভালো। মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে। এক দিকে বাবার ব্রেইন ওয়াস করেছো। আরেক দিকে আমাকে বুঝিয়েছো।
 তোমাকে ছাড়া আমিতো আর কাউকে ভালোবাসতে পারবো না। তাই এরকম মেয়েই ভালো। সব জেনে শুনেই মুখ বুঝে থাকবে। এত আরাম আয়েশ, টাকা, এরকম মেয়েদের এর চেয়ে বেশি কি চাই।  
ব্যস আর যাবে কোথায়? তোমার মায়ায় থেকে বাঁচতে পারার ক্ষমতা তো আমাদের ছিল না। হয়ে গেল বিয়ে। বিয়ের এক বছর পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যা হলো না। সরল, সোজা মেয়ে তাইয়্যেবা। কোন চাওয়া পাওয়া নেই। বড় বোনের মতো মানে তোমায়। যেভাবে নাচাচ্ছো সেভাবেই নাচছে। সমস্যাতো শুরু হলো তো অন্য দিক দিয়ে। আমি তাইয়্যেবার প্রেমে পড়ে গেলাম। তাঁর সরলতায় মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আর কেউ না বুঝলেও তুমি বুঝে গেলে। আর তা তোমার সহ্য হলো না। যে তোমার জন্য পাগল ছিল। সে সাধারণ একটা মেয়েকে ভালোবাসে এটা তুমি মানতে পারলে না। ব্যস শুরু হলো নতুন করে চাল। আমিও বোকা সেই চালে পা দিলাম অনায়াসেই । 
তাইয়্যেবা কনসিভ করল। তুমি ছলে বলে কৌশলে আমাকে বুঝাতে লাগলে এই বাচ্চা আমার না। আমি দু মাস কাজের জন্য মালেশিয়াতে ছিলাম সেটারি সুযোগ নিলে। তাঁর নাকি তাঁর মামাতো ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক আছে। জানতাম কতটা নিষ্পাপ, কতটা পবিত্র ছিল আমার তাইয়্যেবা। তবুও তোমার কথা বিশ্বাস করে ফেললাম। দশটা মাস সে একা একা সাফার করল। একই ছাদের নিচে থাকি আমি অথচো তাঁর দিকে ফিরেও তাকাই না। আমার মেয়ে প্রথম বার পৃথিবীর আলো দেখলো। আমি সেখানে নেই। তাইয়্যেবা মেয়েকে নিয়ে আমার অপেক্ষায় বসে থাকতো। তবুও আমি নেই। তবুও তাঁর আফসোস নেই, আক্ষেপ নেই, বুকে তাঁর মেয়েকে জড়িয়ে সে পড়ে রইল, ইট, পাথরের আমার এই মহলে। 
মাহবুবের কন্ঠ নেমে এলো। তারপর ধীরে ধীরে বলল,--- তবুও তাঁর প্রতি তোমার একটুও দয়া হলো না । এতটুকুও না। 
শেষ চালটা বড় কঠিন ভাবেই চাললে। বলে না সহ্যের ও একটা সীমা আছে। সে সব সহ্য করেছে, স্বামী অবেহেলা, স্বামীর ঘৃনা, তাঁর সন্তানের প্রতি অনাদর। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা! সে সহ্য করতে পারে নি। সেই দিন আমি স্টাডি রুমে ছিলাম। তুমি জানতে তাইয়্যেবা কিছুক্ষণ পরে এই দিক দিয়েই যাবে। দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলে। আর আমাদের পেছনের সব কথা একে একে বলতে লাগলে । আমি অবাক হয়ে গেলাম। এতদিন পরে তুমি এসব কেন বলছো? বুঝতে পারলাম না। তাইয়্যেবা যেতেই তুমি স্বাভাবিক হয়ে আমাকে করুন ভাবে বললে,--- "হঠাৎ করেই সব মনে পড়ে গেলো। আবেগের বসে জড়িয়ে ধরে ফেলেছো। আমি যেন তোমাকে ক্ষমা করে দেই"।আমি তখন বুঝতেই পারিনি কি করেছো তুমি। 
সে সব মেনে আমাকে চেয়েছিল কিন্তু বড় ভাবির সাথে সম্পর্ক সে মানতে পারেনি। সরল, সোজা তাইয়্যেবার মনে কতখানি ঘৃণা তৈরি করেছিলে জানো তুমি? সেদিন থেকেই তাইয়্যেবা বদলে গেল। হয়ে গেল একদম চুপ। সেই চুপ হতে হতে হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে । আমি জানতেও পারলাম না। আর হারিয়ে যাওয়ার আগে সে আমাকে কি দিয়ে গেছে জানো রেহনুমা? 
 --"ডিভোর্স পেপার! 
নাম মাত্রও সম্পর্ক রাখতে চায় না সে। আর কি দিয়েছে জানো? প্রমাণ! তাঁর সম্মান আর সন্তানের প্রমাণ! ডিএনএ টেষ্ট পেপার। 
 কত কষ্ট হয় জানো যখন নিজের সম্মানের আর সন্তানের পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হয়। তুমি জানো রেহনুমা? জানো?
রেহনুমা ঢোক গিললো! গিলে মাহবুবের দিকে তাঁকালো। অনেক দিন পর আজ সেই পুরোনো মাহবুবকে দেখলো। সেই রাগ,সেই তেজ। যা যেতে যেতে তাইয়্যেবা নিয়ে গিয়েছিল। 
 মাহবুব বড় একটা শ্বাস ফেললো। ফেলে আবার বলল,---" দাঁত থাকতে আমি দাঁতের মর্যাদা বুঝিনি। পাগলের মতো খুঁজেছি, এক বার পায়ে পরে ক্ষমা চাইতে চেয়েছি। আমার মেয়েকে একবার বুকে জড়াতে চেয়েছি। পাইনি! কোথাও পাইনি। সেই খবর কি তুমি রেখেছিলে। রাখোনি! 
তখন তুমি আনন্দে উল্লাসে ব্যস্ত। তুমি কি করেছো? কেন করেছো? কিভাবে করেছো? সেটা আমি ধীরে ধীরে বুঝেছি। তবুও আমি তোমাকে কিছুই বলিনি। এক ভালোবাসার অপরাধে তুমি আমার জীবন তছনছ করে দিয়েছো, আমি কিছুই বলিনি। কেন জানো? আমি শেষ হয়ে গেছি, আমি আমার পরিবারকে শেষ করতে চাইনি। কারণ! তারা তোমাকে অন্ধের মতো ভালোবাসে। আর যতটুকু দোষ তোমার ছিল তাঁর চেয়ে হাজার গুন বেশি আমার ছিল। কেন আমি আমার ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখতে পারিনি। কেন আমি সরল, সোজা, নিষ্পাপ মেয়েটার দিকে একবারও তাঁকাইনি। কেন একবারও তাঁর দিকটা জানতে চাইনি। 
আমার মেয়ে এসেছে, যেই কারণেই হোক এসেছে। সে এসে আমাকে কি দিয়েছে এটা তুমি জানোনা রেহনুমা। জানোনা! কতদিন আমি শান্তিতে ঘুমাই না। যে দিন এই মেয়েটা এসেছে। সেই দিন অনেক দিন পরে আমি শান্তিতে ঘুমিয়েছি। দেখ এটাও তোমার সহ্য হলো না। আবার চাল চালতে শুরু করলে। আমি বুঝলাম! সেই দিন এত কিছু বললে আমি চাইলেই তোমার তৈরি তাসের ঘর তখনি ভেঙে দিতে পারতাম।কিন্তু আমি দেইনি। কেন দেইনি জানো? কারণ! আমি জানি! এইবার তোমার সামনে সেই সোজা সরল তাইয়্যেবা না। তাইয়্যেবার মেয়ে দাঁড়ানো। সে ভালো করেই জানে তাকে কখন কি করতে হবে। কিভাবে করতে হবে। আর সে এও জানে মাহবুব যদি তার পরিবারের জন্য চুপ থাকতে পারে। তার মেয়ের জন্য মুখ খুলতেও পারে। এই যে দেখো সে কিন্তু সেটাই করেছে। যে দাবার গুটি তুমি এতদিন নিজের মতো চালিয়েছো। সেই গুটি দিয়েই সে তোমাকে মাত করেছে। মাহবুব হাত উঁচু করে দরজার দিক দেখালো।
রেহনুমা মাহবুবের হাত বরাবর তাঁকালো।সে পড়ে যেতে যেতেও দেয়াল ধরে দাঁড়ালো। দরজার সামনে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। সে চোখ বন্ধ করে ফেললো। শরীর কাঁপছে তার, মাথাও ঘুরছে। সব শেষ করে ফেলেছে সে? সব শেষ। 
মাহবুব হাসলো! হেসে বলল,---
তিথি ভালো করেই জানে কাকে কিভাবে শাস্তি দিতে হয়। তোমাকে সে অনেক ভাবেই দিতে পারতো। তবে নিজের তৈরি সাম্রাজ্য নিজের হাতে ধ্বংসের মতো বড় শাস্তি আর কি হতে পারে। এই পর্যন্ত তুমি যা করেছো, সব করেছো ঠান্ডা মাথায়। তুমি কি কখনো রেগেছো রেহনুমা?
 না! তুমি চাল চেলেছো, সে তোমাকে চেলেছে। তোমার তৈরি খেলাঘর তোমাকে দিয়েই ভেঙেছে। কারণ! সে জানতো সে হাজার বার বললেও তাঁর মায়ের সাথে যে অন্যায় হয়েছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না। যে কালো পট্টি বছর বছর ধরে তুমি বেঁধেছো তা সহজে খুলবে না। তাইতো সে এসেছে। তা না হলে যে ঘর থেকে তাইয়্যেবা এক কাপড়ে তাঁর মেয়েকে নিয়ে চলে গিয়েছিলে সেই ঘরে তাইয়্যেবার মেয়ে কখনো ফিরেও আসতো না। যে খেলা তুমি শুরু করেছিলে সে খেলা তাইয়্যেবার মেয়ে এসে শেষ করল। তুমি তোমার সাম্রাজ্যের দিকে তাকাও তো রেহনুমা। কি দেখতে পাচ্ছো?
 
মাহবুব চুপ হলো। হাঁপিয়ে গেছে সে। বড় একটা নিশ্বাস ফেললো! ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। দম বন্ধ হয়ে আসছে তাঁর। কোথায় গেলে একটু শান্তি পাবে। সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। থাকুক! অপরাধ করেছে সবাই ! একজনকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার অপরাধ। আর অপরাধের শাস্তি এক দিন না একদিন ভোগ করতেই হয়। 
___
শোয়েব তিথির পাশে এসে দাঁড়ালো। মেয়েটা এখনো শূণ্য খাঁচার দিকে তাঁকিয়ে আছে। আজ অবশ্য চোখে মুখে কোন মুগ্ধতা নেই। কেমন যেন একটা বিষন্নতার ছায়া । ভিতরে এতো কিছু হলো সে সেখানে যাইনি। শোয়েবও অবশ্য বেরোয়নি। অন্যের বাড়ির ঝামেলায় তাঁর থাকতে ইচ্ছে করে না । আরেকজনও যাইনি। সে শোয়েবের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নির্বিকার ভাবে সিগারেট খেয়েছে। যেন বাড়ি ঐ প্রান্তের ঝড়ে তাঁর কিছু আসে যায় না। তবে শোয়েব জানে এই যে নির্বিকার, এলেবেলে, ছন্নছাড়া দেখতে ছেলেটা। এর ভিতরেই সবচেয়ে বেশি ভাঙছে, ঝড়ে ছিন্ন ভিন্ন হচ্ছে। নিজের মায়ের ঘৃণিত রুপ কারই ভালো লাগে। তবে তা কেউ জানবে না। কাউকে সে বুঝতেও দেবেনা। 
শোয়েব মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 
-- তো! তিথি প্রজাপতি! কবে উড়াল দিচ্ছেন ?
তিথি শোয়েবের দিকে তাঁকালো। তাঁকিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বলল, --- কাল! কাল সকালে। 
--- কখনো যদি এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাই তবে যাবো একবার আপনার কাছে। দেখবো ইউএস এর আকাশে প্রজাপতিরা কিভাবে উড়াউড়ি করে। যদিও সম্ভাবনা খুবই কম। বাবা সব করতে পারলেও আমাকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলাতে পারবেন বলে মনে হয় না। 
তিথি বিষন্ন ভাবে হাসলো । তবে কিছু বলল না। 
শোয়েব নিজে থেকেই বলল,--- আমি যাকে খুন করেছি। সে ছিল আমার বোনের ধর্ষক আর হত্যাকারী। আপনি বললেন না। বড়লোক বাপের ছেলেমেদের বড় বড় অপরাধ ছোট মনে হয়। তাঁর টাও হয়েছিল। তাই আরেক বড়লোক বাপের ছেলে, তাঁর ছোট ভুলের ছোট্ট একটা শাস্তি দিয়েছে। এই শাস্তির জন্য পরিণাম যাই হোক আমার কোন আফসোস নেই। 
তিথি এবারো কিছু বলল না। শুধু নিষ্পলোক ভাবে তাঁকিয়ে রইল। কি বলবে সে? এই পৃথিবীতে সব শাস্তি গুলো কি ভালো ভালো কিছু মানুষদের জন্যই? 
শোয়েব একটা ডায়েরি তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিলো। তাঁর হাতেই ছিল, সে খেয়াল করেনি। তিথি প্রশ্নবোধক ভাবে তাঁর দিকে চাইলো।
--- আপনার মায়ের! আপনার মা এই বাসায় থেকে তাঁর কিছুই নিয়ে যায়নি। এই ছোট্ট ডায়েরিটাও না। এই ডায়েরিতে শুধু সে তাঁর ভালোবাসা, ভালোলাগার অনুভূতিগুলো গুলো লিখেছিল। রেহনুমা আন্টি সব কিছুই আড়াল করেছিলেন। তবে সত্যিই কি পেরেছিলেন? এটা নোমানের কাছে ছিলো। অনেক আগে থেকেই ছিল। এই ডায়েরিটা পড়েই সে জেনেছে কিভাবে একটা মানুষকে তাঁর সবকিছু উপেক্ষা করে তীব্র ভাবে ভালোবাসা যায়।   
তিথি হাত বাড়িয়ে ডায়েরিটা নিল। সে তাঁর মায়ের ভালোবাসার দিকটা কখনো জানতে পারেনি। সে শুধু দেখেছে, নিষ্প্রাণ একটা মানুষ কে। যে তাঁর মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য অবিরাম যুদ্ধ করছে।
সে ডায়েরিটা বুকে জড়িয়ে ধরলো। তাঁর মা! তাঁর মায়া মমতাময়ী মা। কি হতো তাঁর জীবন টা এমন না হলে।
 সে চোখতুলে নোমানের বারান্দার দিকে তাঁকালো। সেখানে কেউ নেই। শূণ্য বারান্দা! বাবা, মার কর্মফল সব ছেলে মেয়েদেরই ভোগ করতে হয় । সেটা ভালো হোক আর খারাপ।
 
শোয়েব টাওজারের পকেটে হাত রাখলো আর বিষন্নমাখা কন্ঠে বলল,--- কখনো যদি চলার পথে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন অনুভব হয়। তখন এই ছেলেটার কথা একবার হলেও ভাববেন তিথি! সে আপনাকে ভালোবেসেছে! মাহবুব বা তাইয়্যেবার মেয়েকে নয়। সাধারণ একটা মেয়েকে। যে কিনা খুব অল্পতেই মুগ্ধ হয়। 
তিথি দীর্ঘশ্বাস ফেললো! ফেলে বলল,--- আমি কখনো আর ফিরে আসবো না। কখনো না। কারো জন্যও না।
শোয়ের মাটির দিকে তাঁকালো আর প্রায় ফিসফিস করে বলল, --- আমি জানি! আর এও জানি। আপনি না ফিরলেও একজন আপনার কাছে যাবে। সে তাঁর দেশ, পরিবার, এমনকি নিজের পরিচয়ও ছিন্ন করে যাবে। যাকে আপনি চাইলেও ফেরাতে পারবেন না। 
____
তিথি দরজায় টোকা দিলো।
মাহবুব ইজিচেয়ারে শুয়ে ছিল। সে স্বাভাবিক ভাবেই বলল,--- এসো। 
তিথি ভিতরে আসলো। তাঁর বাবার দিকে তাঁকালো। তিথির মনে হলো এই কয়েক দিনেই এই মানুষটার বয়স অনেকটাই বেড়ে গেছে।
মাহবুব উঠে বসলো! বসে বলল,--- দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো।
তিথি চুপচাপ তাঁর সামনে বসলো। তবে কিছু বলল না।
মাহবুব নিজে থেকেই বলল,--- কাল তাহলে চলে যাচ্ছো?
-- আপনি জানতেন? 
 
--- হ্যাঁ! যখন বললে ফরিদপুর। তখন একটু খোঁজ খবর করেছিলাম।
-- আর কিছু জানেন নি ?
মাহবুব নিস্তেজ ভাবে তিথির দিকে তাঁকালো।
 তিথির মনে হলো তাঁর সামনে বসা এই মানুষটার ভেতর ভেঙে চুরে যাচ্ছে। তবুও কি নিশ্চুপ! তিথি এখন বুঝলো সেও কেন এমন ।
তিথি তাঁর মায়ের ছবির দিকে তাঁকালো আর আপন মনেই বলল,--- আমরা ভালো ছিলাম! সত্যিই ভালো ছিলাম। বাবার খামতি আমার সিধে সাদা মা কখনো বুঝতে দেইনি। এই দুনিয়াটা নিষ্ঠুর তাঁর চেয়েও বড় নিষ্ঠুর উপরে যে আছে। সে বেঁছে বেঁছে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বান্দাদেরই বেশি কষ্ট দেন। মার ক্যান্সার ধরা পড়লো। কি যে অসহনীয় যন্ত্রনা! আমি সহ্য করতে পারতাম না। দৌড়ে নিয়ে যেতাম কাছের এক সরকারি হাসপাতালে। তারাও কি করবে। দুদিন রেখে ফিরিয়ে দিতো। ক্যান্সারের চিকিৎসা করাবো, ভালো হসপিটালে যাবো টাকা কই? আমি দিশা পাই না। 
ঠিক করলাম আপনার কাছে আসবো। আপনার কাছেতো টাকার অভাব নেই। অসহায় একটা মেয়ের মাকে না হয় ভিক্ষা হিসেবেই দিলেন। মা কিভাবে যেন বুঝে গেলেন। আমাকে টেনে পাশে বসিয়ে হাত ধরে কোমল সুরে বললেল, --- "আমি তোর বাবার টাকায় বেঁচে থাকার চেয়ে বিনা চিকিৎসায় মরলেও শান্তি পাবো। তুই আমাকে এই শান্তি টুকু দিবি না মা? "
তিথি বিষন্নভাবে হাসলো, হেসে বলল,--- একটা মানুষ একটা মানুষকে কতটুকু ঘৃণা করলে মৃত্যুর কষ্টকেও সুখ মনে হয় ? সেটা কি জানেন ?
তিথি ঘাড় ঘুরিয়ে মাহবুবের দিকে তাঁকালো। মাহবুব পাথরের মতো বসে আছে। তাঁর চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।
তিথি চোখ ফিরিয়ে নিল । আপন মনে আবার বলল,--- তিন মাস অসহনীয় কষ্ট ভোগ করে মা মারা গেলেন। মা মারা যাওয়ায় আমি একটুও কাঁদলাম না, কষ্ট পেলাম না । মনে মনে বললাম, ---যাক এবার একটু শান্তিতে ঘুমাক । 
মা মারা যাওয়ার পরে আমি হয়ে গেলাম এতিম। মা ছিলো যেমন আমি হয়ে গেলাম তেমন। ডানে বামে কেউ নেই। কোন চিন্তাও নেই। তখন মনে হলো এ যে আমার মা। এত সব থেকেও এই পৃথিবীতে কষ্ট করে গেলেন। অথচো যারা এর জন্য দায়ী তাঁরা সুখের সাগরে ভাসছে। তাঁদের ও তো একটু শাস্তি পাওয়া দরকার। তাঁদেরও জানা দরকার কষ্ট কি জিনিস। 
মার পরিচিত এক স্যার ছিলেন। সে মার ব্যাপারে সবই জানতো। মা মারা যাওয়ার পরে সে এগিয়ে আসলেন। থাকতাম মার দূরস্পর্কের এক ভাইয়ের কাছে। আর লেখা পড়ার খরচ দিতেন সে ।
তিথি আবার হাসলো! অবজ্ঞার হাসি! হেসে বলল,--- মাহবুব আহমেদ! বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহবুব আহমেদ। তাঁর একমাত্র মেয়ে বেঁচে আছে মানুষের দয়ায়। ভাবা যায়? 
 যাক সেই স্যারই আমার জন্য সাহায্যের চূড়ান্ত করলেন। তাঁর এক পরিচিত প্রফেসর ছিলেন। যে কিনা প্রতি বছর কয়েকজন মেধাবী ছাত্রকে বিদেশে পাঠান। ফুল এইড দিয়ে। ফুল ফ্রি স্টুডেন্টশিপ উইথ এইড। শুধু লাগবে টিকিটের খরচ। সে কিভাবে যেন আমার জন্য সব ম্যানেজ করে ফেললেন। ডেটও পরে গেল। তখন আমার মনে হলো। চলে যাবো।এই শহর, এই দেশ সব, সব ফেলে চলে যাবো । হয়তো এখানে ফিরে আসার দ্বিতীয় কোন কারণ থাকবে না। তাই যাওয়ার আগে হিসেবটা একটু মিটিয়ে যাই। 
একজন এত এত অপরাধ করে সংসার, স্বামী, সন্তান নিতে শান্তিতে থাকবে আর আমি এমনিই চলে যাব? তা কি করে হয়। তাই যাওয়ার আগে একটু আগুন লাগিয়ে দিয়ে যাই। অন্তত আফসোস তো থাকবে না। তাই আসলাম। হিসেব মিটমাট করলাম। 
মাহবুব চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো। তাঁর অস্তির লাগছে। যখন থেকে তাইয়্যেবার ব্যাপারে জেনেছে। তখন থেকে কি অসহনীয় যন্ত্রনা। এই যন্ত্রনার শেষ কোথায়? 
সে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ঢোক গিলে বিষন্নভাবে বলল ,---- আর আমার শাস্তি। সেটাতো বাকি রয়ে গেল। তাইয়্যেবার সবচেয়ে বড় অপরাধী তো আমি। 
তিথি হাসলো! হেসে উঠে দাঁড়ালো! দাঁড়িয়ে বলল, --- নিজের মেয়ে নিজের বাবাকে, বাবা বলে না, এমনকি স্বীকারও করে না। মৃত্যুর সময় তাঁর লাশটাও দেখতে আসবে না। এর চেয়ে বড় শাস্তি কি হতে পারে মিষ্টার মাহবুব?
মাহবুব চমকে পেছন ফিরে তাঁকালো। তিথি তাঁকে বাবা বলে স্বীকার করে না। সে জানে! তবুও তাঁর মুখে নিজের নাম ছুরির মতো যেন বুকে আঘাত করল।
সে করুণ চোখে তাঁর মেয়ের দিকে তাঁকালো । কি শান্ত আর মায়াবী একটা মুখ। এই মায়াবী মুখের মেয়েটাই কখনো খুব নরম আবার কখনো স্পাতের মতো কঠিন। তাঁর খুব ইচ্ছে হলো মেয়েটার মাথায় একটু স্নেহের হাত রাখতে। আর বলতে, ক্ষমা করতে হবে না। যা মন চায় শাস্তি দে। তবুও বাবার চোখের সামনে থাক।
তবে সাহস হলো না। কত হতভাগা বাবা সে? হ্যাঁ এটাই তাঁর শাস্তি। তাইয়্যেবার দেওয়া নীরব শাস্তি। এই শাস্তি তাঁকে ভোগ করতে হবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। 
তিথি আর দাঁড়ালো না । সে বেরিয়ে এলো। তাঁর সব হিসেব শেষ। 
____
তিথি বের হলো খুব ভোরে। ঠিকমতো আলোও ফোটেনি। তাঁকে শুধু বিদায় জানালো বৃদ্ধ মরিয়ম বানু। সে তিথিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলো আর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শুধু বলল,--- "ক্ষমা করিস দাদু ভাই। পারলে আমাদের ক্ষমা করিস।"  
তিথির মধ্যে কোন ভাবান্তর হলো না। সে স্বাভাবিক ভাবেই রওনা দিলো। সে যখন রওনা দিলো তখন আকাশ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তাঁর মার কাছে শুনেছে সেও এই বাসায় থেকে যখন বের হয়েছিল তখনো নাকি বৃষ্টি ছিল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি! না! তাঁর মা বলতো ইলশেগুঁড়ি । তাঁকে বুকে চেপে এই রকমই ইলশেগুঁড়ি মাথায় নিয়ে তাঁর মা চলেছিল এক অনশ্চিয়তার পথে। আজ সেও যাচ্ছে। সে জানে না সামনে কি আছে। তবে এটা জানে! সে তাইয়্যেবার মেয়ে। আর সব সংঙ্কটের মোকাবেলা সে করতে জানে। 
গাড়ি চলতে চলতেই তিথি নিজের অজান্তেই একবার পেছনে ফিরে তাঁকালো। ভোরের আধো আলো আধো অন্ধকারে গোলাপী বাগান বিলাসের নিচে কেউ একজন এসে দাঁড়িয়েছে। সে মুখ দেখতে পারল না। তবে তাঁর হাতে থাকা অন্ধকারে জ্বল জ্বল করা সিগারেট টা ঠিকই দেখতে পেল। আর যতক্ষণ দেখা যায় সে তাঁকিয়েই রইল । 
#সমাপ্ত

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে সমাপ্তি পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন