#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
৭.
এবার ছাদের মেঝেতে বড়ো পাটি বিছিয়ে গোল হয়ে বসেছে সবাই।
উজান, রায়হান, তুহিন, তাহের, রাসেল, নাহিদ, সামিয়া, ইরা, সুমাইয়া, রুহানী, ইসরাত, ইশিতা সবাই আছে। শুধু হাসি নেই। ওর মেয়ে বিরক্ত করছিলো বলে ঘরে চলে গিয়েছে। রাত তখন বারোটা বাজে।
রুহানীর ডান পাশে ইরা। তার পাশে সুমাইয়া তার পাশে ইশিতা। রুহানীর বাম পাশে ইসরাত। ইসরাতের পাশে সামিয়া। রুহানীর সামনে উজান। উজানের পাশে তুহিন। তুহিনের সামনে ইসরাত। উজানের অন্য পাশে রায়হান তার পাশে তাহের। তুহিনের অন্য পাশে রাসেল।
উজানকে জোর করে ধরে রেখেছে তুহিন। এই ছেলের আবার উজানকে ছাড়া চলেই না। উজান বিরক্ত মুখে বসে আছে। সবাই গল্প করছে। বসে থাকতে থাকতে রুহানীর কোমরের ব্যাথা বাড়ছে। তবুও শান্ত হয়ে বসে আছে। এতো আয়োজন রেখে সে কিছুতেই ঘরে একা থাকতে পারবে না!
গল্পের এক পর্যায়ে তুহিন বলে উঠলো,
"চলো এবার আমরা সবাই বোতল ঘোরানো খেলাটা খেলি।"
রাসেল হইহই করে উঠলো,
"হ্যাঁ চলো চলো অনেক মজা হবে। একটা সুন্দর বিনোদন হবে।"
উজান গম্ভীর কন্ঠে বললো, "আমি ঘরে যাবো তোরা খেল।"
তুহিন হাত টেনে ধরলো উজানের। মুখ ফুলিয়ে নাক টেনে বলে উঠলো,
"মাত্র দুইটা দিন আমাকে একটু সময় দিতে পারছো না তুমি? মাত্র দুইটা দিনই তো। তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না, ভাইয়া! ভালোবাসলে কি আর আমাকে ফেলে যেতে পারতে?"
উজানের কপালে তিন হাত ভাজ পরলো তুহিনের নাটক দেখে! ধুম করে তুহিনের পিঠে একটা কিল দিলো উজান।
উজান বলে উঠলো, "নাটক কম কর। কথায় কথায় মেয়েদের মতো মুখ ফুলায় আজব!"
তুহিন হেসে হাত ছেড়ে দিলো। রাসেল একটা কাচেল বোতল এনে মাঝে রাখলো।
রাসেল বোলতলটা ধরে বললো, " চলো ট্রুথ অর ডেয়ার খেলি। শুরু করলাম।"
বলেই বোলত ঘোরালো। সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বোতলের দিকে। বোতল এসে থামলো রায়হানের সামনে। রায়হান হেসে উঠলো।
রায়হান হেসে বলে উঠলো, "সর্ব প্রথম আমার কাছেই আসতে হলো!"
তুহিন হেসে বললো, "তো ভাইয়া রেডি তো?"
"হ্যাঁ রেডি।"
রাসেল বললো, "কি নিবা বলো, ট্রুথ অর ডেয়ার?"
"ডেয়ার টেয়ার করার ইচ্চা নাই ট্রুথই নিলাম।"
রুহানী চেচিয়ে উঠলো, "আমি বলবো। আমি বলবো।"
উজান ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার দিকে। এই মেয়ের সব কিছুতে পাকনামি!
তুহিন বললো, "আচ্ছা বল।"
রুহানী বলে উঠলো, "তুহিন ভাইয়া আপনাদের সবার ছোটো হয়েও আগে বিয়ে করে ফেলছে আপনি করবেন কবে ভাইয়া?"
রুহানীর প্রশ্ন শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। তাহের টিটকারি করে বলে উঠলো,
"হ্যাঁ আসলেই ভাইয়া! ছোটো ভাই বিয়ে করে ফেলছে অথচ আপনি এখনো সিঙ্গেল! লজ্জা করে না আপনার?"
রায়হান কনুই দিয়ে গুতা মারলো তাহেরকে। রুহানীর জবাব দিলো,
"করবো খুব শীগ্রই। আর দেরি করবো না। তুহিনের বিয়ে হয়ে গেলেই মা'কে তার কথা জানাবো।"
সবাই চমকে উঠলো রায়হানের কথায়। রায়হানের কি আগে থেকে মেয়ে পছন্দ করা আছে?
ইরা আর না থাকতে পেরে প্রশ্ন করেই ফেললো, "আপনার কি মেয়ে পছন্দ করা আছে, ভাইয়া?"
রায়হান হেসে মাথা চুলকে একবার রুহানীর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো,
"হ্যাঁ আছে।"
উজান তাকিয়েই ছিলো রায়হানের দিকে। রায়হানের চোখ রুহানীর দিকে ঘুরতে দেখেই উজানের গায়ের রক্ত ছলকে উঠলো। চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো পাথরের মতো, দাঁত আঁচড়ে ধরে রেখেছে।কপালের শিরা টান টান হয়ে উঠেছে, মাথার রগগুলো ধপধপ করছে। চোখে নেমে এলো এক ভয়ানক লাল আভা।
উজানের শরীর এমনিতেই স্বাভাবিকের তুলনায় গরম থাকে, রাগে সেটা যেনো দাবানলে রূপ নিলো।
এবার সুমাইয়া প্রশ্ন করলো, "কে সেই মেয়ে ভাইয়া? আমরা কি তাকে চিনি? বাড়ি কোথায়? কিসে পড়ে? নাম কি?"
"আরেহ আস্তে আস্তে! এতো প্রশ্ন একসাথে করলে উত্তর দিবো কিভাবে? মেয়ে তোরা চিনিস। খুব কাছেই থাকে। সময় হলেই জানতে পারবি। খেলাতে তো এতো প্রশ্ন করার নিয়ন নেই।"
উজান এবার রাগে রুহানীর দিকে তাকালো। রুহানী তাকিয়ে আছে রায়হানের দিকে। রুহানীকে রায়হানের দিকে তাকাতে দেখে এবার আগুনে ঘি ঢালাত মতো কাজ হলো। উজান রাগে উঠে যেতে নিলে তুহিন হাত চেপে ধরলো। চোখের ইশারায় যেতে নিষেধ করলো।
উজান আবার বসলো যায়গায়। কপালে দুই আঙুল চেপে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো
বোতল আবার ঘোরানো হলো। কয়েকবার ঘোরানোর পর এবার বোতল উজানের সামনে এসে থামলো। উজান বিরক্তিতে চ বর্গীয় শব্দ করলো।
তুহিন খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলো, "ভাইয়া প্লিজ প্লিজ ডেয়ার নাও। কথা দিচ্ছি একদম সহজ একটা ডেয়ার দিবো। সত্যি বলছি। প্লিজ ডেয়ার নাও।"
উজান তুহিনের হাসিহাসি মুখে তাকালো। জবাব দিলো, "আচ্ছা ডেয়ার নিলাম।"
তুহিন লাফিয়ে উঠলো খুশিতে। বলে উঠলো,
"তোমার ডেয়ার হলো, তোমাকে একটা গান গাইতে হবে।"
উজান ভ্রু কুঁচকে বললো, "এটা সহজ ডেয়ার?"
"তো? এর থেকে সহজ ডেয়ার আর একটাও আছে নাকি? আমার জানা মতে এর থেকে সহজ ডেয়ার আর একটাও নাই। নাও, নাও শুরু করে এবার।"
উজান বিরক্ত হয়ে গিটার হাতে নিলো। গিটার ছাড়া সে গান গাইতে পারে না। তুহিন উজানের কানে কানে বললো,
"আপনার মায়ালতাকে ডেডিকেট করে সুন্দর একটা গান শোনান মিস্টার সাফওয়ান উজান মাহতাব।"
মুহুর্তের ভেতর উজানের মুখের সব বিরক্তি কেটে গেলো। মুখে প্রশান্তির ছায়া নেমে আসলো। গিটারে টুংটাং আওয়াজ করে উঠলো। উজান গেয়ে উঠলো,
~তুমি না ডাকলে আসবো না,
কাছে না এসে ভালোবাসবো।
দূরত্ব কি ভালোবাসা বাড়ায়?
নাকি চলে যাওয়ার বাহানা বানায়?
দূরের আকাশ নীল থেকে লাল, গল্পটা পুরোনো....
এবার উজান সরাসরি রুহানীর দিকে তাকিয়ে গলার সব টুকু আবেগ দিয়ে গেয়ে উঠলো,
~ডুবে ডুবে ভালোবাসি, তুমি না বাসলেও আমি বাসি।
ডুবে ডুবে ভালোবাসি, তুমি না বাসলেও আমি বাসি।
এই লাইনটা গাওয়ার সময় উজানের ঠোঁটে হালকা হাসি দেখা দিলো।
উজানের এই দৃষ্টিতে কেমন যেনো জট পাকিয়ে রুহানীর মনের ভিতর ঢুকে পড়লো।
রুহানীর দম আটকে এলো। এক অদ্ভুত আলোড়নে শরীর থমকে গেলো।
তার মনে হলো, সে চোখ সরাতে পারছে না উজান ভাইয়ের থেকে!
উজান ভাইয়া গান গায় জানতো,
কিন্তু এমন সুন্দর এতো আকর্ষণ থাকে গানে সেটা জানতো না!
গান শেষ হতেই সবাই হাত তালি দিয়ে উঠলো। ইশিতা বলে উঠলো,
"মাইন্ড ব্লোয়িং! তোর গান গাওয়া আমার খুব পছন্দ উজান। এতো সুন্দর গানের গলা তোর! উফ! একদম বুকে গিয়ে লাগে!"
নাহিদ বললো, "হ্যাঁ। উজানের গানের গলা অনেক সুন্দর।"
ইসরাতও এবার বললো, "তুহিন সব সময় উজান ভাইয়ার কথা বলতো আমাকে। উজান ভাইয়া সুন্দর গান গাইতে পারে এটাও বলতো। আজকে প্রথম ভাইয়ার গান শুনলাম। আসলেই ভাইয়ার গানের গলা অনেক সুন্দর!"
রাসেল বললো, "তাহলে আরেকটা গান হয়ে যাক? কি বলো তোমরা?"
ইরা, সুমাইয়া, সামিয়া, নাহিদ, ইশিতা, তুহিন সবাই এক সাথে চেচিয়ে উঠলো।
"ইয়েস।"
উজান বললো, "না। আমি আর গান গাইতে পারবো না। অনেক রাত হয়েছে এবার সবাই ঘুমাতে যা।"
তুহিন বললো,"এটাই শেষ। প্লিজ ভাইয়া আরেকবার। তারপর সবাই চলে যাবো প্রমিজ।"
সবাই অনুরোধে আবার গিটার হাতে নিলো উজান।
আবারও উজান গেয়ে উঠলো মন কাড়া একটা গান।
~তোর মন পাড়ায় থাকতে দে আমায়,
আমি চুপটি করে দেখবো আর ডাকবো ইশারায়।
তুই চাইলে বল আমার সজ্ঞে চল,
ওই উদাস পুরের বৃষ্টিতে আজ ভিজবো দুজনা!
অভিমানী মন আমার চায় তোকে বারেবার,
অভিমানী মন আমার চায় তোকে বারেবার, তাই বলি আয়রে ছুটে আয়।
এবার সবাই উজানের সাথে গলা মিলিয়ে গেয়ে উঠলো,
~তোর মন পাড়ায় থাকতে দে আমায়,
আমি চুপটি করে দেখবো আর ডাকবো ইশারায়।
গান শেষ হতেই উজান বললো, "এবার সবাই ঘরে যাও।"
সবাই একে একে ঘরে চলে গেলো। রুহানী উঠতে গিয়ে টের পেলো কোমরের ব্যাথা অনেকটা বেড়েছে। আস্তে করে উঠে খুড়িয়ে খুড়িয়ে ছাদ থেকে বেরিয়ে গেলো। তার যাওয়ার পানে উজান তাকিয়ে রইলো।
সবাই নিচে চলে গেলেও ছাদে নাহিদ আর উজান থেকে গেলো।
রেলিঙের পাশে দাঁড়িয়ে উজান ট্রাউজারের পকেট থেকে বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেটের প্যাকেট বের করলো। প্যাকেট থেকে দুটি সিগারেট বের করে একটা নাহিদের হাতে দিয়ে আরেকটা নিজের ঠোঁটে গুজলো।
গ্যাস লাইট দিয়ে সিগারেটে আগুন ধরিয়ে প্রাণ ভরে বড়ো বড়ো দুইটা টান দিলো। মুখ উপরে করে নাক মুখ দিয়ে সম্পুর্ণ ধোয়া ছেড়ে দিলো।
এতোক্ষন পরে একটু শান্তি লাগছে!
নাহিদও সিগারেট জ্বালালো। দুটো টান দিলো। ধোয়া আকাশে ছেড়ে দিয়ে নাহিদ বলে উঠলো,
"কিছু বুঝতে পারলি, উজান?"
উজান সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে ধোয়া উড়িয়ে বলে উঠলো,
"ওর ব্যাপারে নো স্যাকরিফাইস। ওর দিকে চোখ তুলে তাকালেও চোখ তুলে ফেলবো আমি।"
"আবহাওয়া সুবিধার না। যা করার দ্রুত করিস।"
উজান কোনো জবাব দিলো না। সিগারেট একটা শেষ করে আরেকটা জ্বালালো।
কিছুক্ষন কথাবাত্রা বলে নাহিদ চলে গেলো। উজান আরো কিছুক্ষন থাকলো। পরপর পাঁচটা সিগারেট খেয়ে নেমে আসলো নিচে।
রুহানীর রুমের বাম পাশের রুমটা উজানের আর ডান পাশে সুমাইয়ার।
রুহানীর রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রুহানীর গুঙানোর আওয়াজ ভেসে আসলো উজানের কানে। উজান সেখানেই থেকে গেলো। দরজায় হালকা ধাক্কা দিতেই খুলে গেলো সেটা।
আচমকা দরজা খুলে যেতেই রুহানী চমকে তাকালো দরজার দিকে। উজান ভেতরে ঢুকলো। রুহানী ডান কাত হয়ে শুয়ে আছে। কোমরের বাম পাশে ব্যাথা বেড়েছে খুব। ব্যাথায় নড়াচড়া করতে পারছে না। শুয়ে ব্যাথায় গুঙাচ্ছিলো!
উজান জিজ্ঞেস করলো, "কি হয়েছে?"
রুহানী কাচুমাচু করে উঠলো। এখন যদি ব্যাথার কথা মুখ ফুটে একবার বলে তাহলে শিওর উজান তাকে আবার ধমকাবে।
উজান ট্রাউজারের পকেটে হাত রেখে এগিয়ে আসলো। রুহানীর সামনে সটান হয়ে দাঁড়ালো। রুহানী একবার আড় চোখে তাকিয়ে আবার মাথা নামিয়ে ফেললো।
উজান আবার জিজ্ঞেস করলো, "কি হয়েছে? ব্যাথা করছে?"
এবার যদি উত্তর না দেয় তাহলে ধমকাবে উজান তাই রুহানী মাথা নাড়ালো।
উজান ফ্লোরে এক হাটু রেখে বসে পরলো রুহানীর সামনে। রুহানী বিছানার কোনায় শুয়ে আছে।
উজান রুহানীর কোমরের কামিজে হাত দিতেই রুহানী হকচকিয়ে উজানের হাত চেপে ধরলো। উজান শান্ত চোখে তাকালো রুহানীর দিকে। কি ছিলো ওই চোখে কি জানি! রুহানী আর বাধা দিলো না।
কোমরের থেকে কামিজ কিছুটা সরাতেই ফর্সা ত্বকে জমাট বাঁধা কালচে রক্তের দাগ চোখে পড়লো। উজান এবার প্রচন্ড রেগে গেলো। এই ব্যাথা নিয়ে সে এভাবে এতোক্ষন ছাদে এক ভাবে বসে ছিলো!
উজান ধমকে উঠলো, "এতো ব্যাথা নিয়ে ওভাবে ছাদে বসে ছিলি কেনো?"
ধমক খেয়ে রুহানী চোখ বন্ধ করে ফেললো। সেই ধমক দিয়েই ছাড়লো এই লোক!
উজান কোনো কথা না বলে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। মিনিট কয়েকের মধ্যেই সে ফিরে এলো হাতে মলম আর কিছু ওষুধ নিয়ে।
ধীরে ধীরে সে কামিজটা আরেকটু তুলে ধরলো। রুহানী কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
"উজান ভাইয়া থাক, আমি নিজে..."
"চুপ!"
রুহানীর কথা সম্পুর্ণ করতে দিলো না উজান তার আগেই তার দিকে তাকিয়ে ধমকে উঠলো।
রুহানী আর কিছু বলার সাহস পেলো না। লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে গেলো। বুক ধুকপুক করছে। তার সব অঘটন এই লোকটার সামনেই কেনো হয়? কেনো! কেনো! কেনো!
উজান অনেকটা কাছে থাকায়। ধমক দেওয়ার কারনে উজানের মুখ থেকে সিগারেটের গন্ধটা স্পষ্ট টের পেলো রুহানী। উজান ভাইয়া সিগারেট খায় এটা সে জানতো না আগে!
উজান মলমের একটু অংশ হাতে নিয়ে সে নরমভাবে রুহানীর কোমরের ক্ষতটায় লাগাতে লাগলো। উজানের উষ্ণ হাতের ছোঁয়া কোমরে লাগতেই রুহানী শিউরে উঠলো, ঠোঁট চাপা দিয়ে রেখেছে।
উজান ধীরে ধীরে ক্ষতটার চারপাশে হাত বুলিয়ে দিলো, যাতে ওষুধটা ভালোভাবে বসে। রুহানীর বুক ধুকপুক করছে। মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে, চোখে পানি চিকচিক করছে। ব্যাথা করছে।
মলম লাগানো শেষ হতেই উজান হাত সরিয়ে নিলো। ওষুধ খায়িয়ে দিলো।
উঠে দাঁড়িয়ে বললো, "কামিজ সরাবি না।এভাবেই থাক। কিছু প্রয়োজন হলে ফোন করবি আমি ঘরেই আছি।"
রুহানী মাথা নাড়ালো। উজান আস্তে করে দরজা চাপিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
এতো রাতে উজানকে রুহানীর ঘর থেকে বের হতে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো শাহিনুর বেগমের। হাতের পানি ভরা জগটা টেবিলের উপরে রেখে দোতায় উঠে আসলো শাহিনুর বেগম। রুহানীর দরজার সামনে এসে থামলো। দরজাটা হালকা করে খুলে দেখলো রুহানী এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। কোমরের কামিজ অনেকটা উপরে তোলা!
শাহিনুর মুখ চেপে ধরলেন। বিরবির করলেন,
"আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ!"
চলবে,,,