ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুধু বলো ভালোবাসি

১০ম পর্ব

লেখক: মুহসানাত নুসাইবা
#শুধু_বলো_ভালোবাসি
#মুহসানাত_নুসাইবা
১০.
সকাল সাতটা বাজে। চোখ পিটপিট করে তাকাতেই সামনে উজানকে দেখলো রুহানী। মাত্রই গোসল করে বেরিয়েছে সে। কোমরে সাদা তোয়ালে পেচানো, আরেকটা তোয়ালে এক হাতে ধরে অন্য হাতে চুল মুছছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে। ভেজা চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে গলার কাছে, বুকে, তারপর নেমে যাচ্ছে পেট বরাবর। রুহানীর ভ্রু কুঁচকে গেলো, এতো শীতে, এতো সকালে কে গোসল করে! এই লোকটা দিনে কয়বার গোসল করে!
তার চোখ আটকে গেলো উজানের গড়নে। বুক চওড়া, পেটের মাংসপেশি স্পষ্ট, প্রতিটি রেখা জিমে ঘাম ঝরিয়ে গড়ে তোলা। কাঁধ চওড়া ও শক্ত, বাহুর শিরাগুলো পর্যন্ত টানটান করছে। ভেজা ত্বকে পানির বিন্দুগুলো ছোট ছোট মুক্তর মতো ঝলমল করছে। হালকা চাপা রোদে পোড়া গায়ের রঙে একধরনের তীব্র পুরুষালি আকর্ষণ ছড়িয়ে আছে।
ঠিক তখনই উজান আয়নার দিকে তাকিয়ে হালকা ভ্রু তুলে বললো,
"এভাবে আড়ালে না তাকিয়ে সামনে
দাঁড়িয়ে সরাসরি দেখতে পারিস।"
রুহানী চমকে উঠলো।
"কি… কী?"
উজান কাঁধ ঝাঁকালো, চুল মুছতে মুছতে হালকা বাঁকা হাসলো।
রুহানী তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়ে নিলো, ঠোঁট চেপে বললো,
"আপনার ভুল হয়েছে। আমি তাকাইনি।"
উজান হালকা হাসি চাপলো, আয়নার ভেতর থেকে চোখ নামাল না। কিছু বললো না। 
রুহানীর গলা শুকিয়ে এলো, বুকের ভেতর ধক ধক বাড়তে লাগলো। সে দ্রুত ঘুরে কম্বল মাথা পযন্ত টেনে শুয়ে পরলো।
___
দুপুর তিনটার দিকে রুহানীর কোচিং ক্লাস। হাতে সময় থাকলেও আজ একটু আগে যাওয়া দরকার ভেবে দুপুর দুইটার কিছু পরেই সুমাইয়ার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লো সে। 
বাড়ি থেকে অনেকটা হেঁটে এসেছে তারা। অলিগলি পেরিয়ে মূল সড়কের দিকে আসতেই আচমকা সামনে এসে পথ আটকালো নাহিদ সাথে আরও তিনজন ছেলে। চারজনই রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে শিকারি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ এভাবে সামনে এতোগুলো পুরুষ দেখে রুহানীর বুক ধক করে উঠলো। সুমাইয়ার হাতের চাপ শক্ত হয়ে এলো। ভয়টা দুজনের চোখেই ধরা পড়লো। অজান্তেই তারা এক পা পিছিয়ে গেলো।
নাহিদ এগিয়ে এলো এক পা, ঠোঁটে বিদ্রূপের হাসি। তার চোখে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি, গলায় বিষ মেশানো কণ্ঠে বলে উঠলো,
"আমার সাথে রিলেশনে থাকাকালীন তো হাতটা পর্যন্ত ধরতে দাওনি। অথচ যাদের বাড়িতে বড়ো হয়েছো, সেই ছেলের সঙ্গে নষ্টামি করতে বুঝি চরিত্রে দাগ লাগে না, রুহানী জানু?"
রুহানী স্থির হয়ে গেলো, শরীরের সব শক্তি এক মুহূর্তে হারিয়ে ফেলেছে। কথা গলায় আটকে গেলো। কিন্তু পরের মুহূর্তেই বুকের ভেতর রাগ জমতে লাগলো, চোখে আগুন জ্বলতে শুরু করলো। আঙুল উঁচিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় বললো,
"সাবধানে কথা বলবেন। না জেনে শুনে কোনো কথা বলবেন না, অসভ্য লোক!"
কথা শেষ হবার আগেই নাহিদ এগিয়ে এসে তার আঙুল মুঠোর মধ্যে চেপে ধরলো। শক্ত মুঠো, হাড় ভেঙে ফেলার পায়তারা করছে। রুহানী শ্বাস আটকে তাকালো নাহিদের চোখে।
দাঁত চেপে, চোখ রাঙিয়ে নাহিদ বললো,
"আমার দিকে আঙুল তুলছিস? কতো বড়ো সাহস তোর, রুহানী! আর কি না আমি না জেনে শুনে বলছি? তোরা কী করে ধরা খেয়েছিস এটা সারা এলাকার মানুষ জানে। এখন নাটক করতে আসছি? তুই যে  বেশ্যাগিরি করতে গিয়ে ধরা খাইছিস, এটা কেও না জানা আছে?"
শব্দগুলো ধারালো ছুরি হয়ে বুক ভেদ করলো রুহানীর। রুহানীর কানে আশেপাশের সব শব্দ মিলিয়ে গেলো শুধু এই অপমানের কথা বারবার বাজতে লাগলো মাথায়। চোখ ভরে পানি চলে এলো। চোখের কোণ বেয়ে গরম অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কোনো কথা বেরোচ্ছে না। মনের ভেতর হাজারো কথা জমে আছে। প্রতিটি শব্দ দিয়ে সে নিজের নির্দোষ প্রমাণ দিতে চায় কিন্তু ঠোঁট আটকে গেছে।
তারপরেই সুমাইয়ার তীক্ষ্ণ চিৎকার করে উঠলো,
"এই! ছারেন বলছি ওর হাত! অসভ্য লোক, হাত ছাড়েন!"
নাহিদ এবার চোখ গরম করে তাকালো সুমাইয়ার দিকে। সুযোগ বুঝে রুহানী মুঠো থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো। আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌড় দিলো সামনের দিকে। তার কানে পেছন থেকে ভেসে আসতে লাগলো চারজন পুরুষের বিকট অট্টহাসি, সেই হাসি তার মেরুদণ্ডে বরফ ঢেলে দিচ্ছে।
দৌড়াতে দৌড়াতে তার বুকের ভেতর কেবল একটাই কথা বাজছে, সবাই জেনে গেছে। সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আর কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না।
গলাটা যেনো আগুনে পুড়ছে, চোখের পানি থামছেই না।
____
ক্লাসে ঢুকতেই সবার উৎসুক দৃষ্টি পরলো রুহানীর দিকে। মুহূর্তের ভেতরে পুরো ক্লাস শান্ত হয়ে গেলো।
রুহানীর মনে হলো, সবার দৃষ্টি ছুরির মতো এসে বিঁধছে তার গায়ে। বুকের ভেতর ধকধক বেড়ে গেলো, পা ভারি হয়ে আসলো। এক মুহূর্তের জন্য দরজার কাছে থমকে দাঁড়ালো সে। পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু পিছনে তাকাতে সাহস পেলো না।
সুমাইয়া হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো। নিঃশব্দে ইশারা করলো, চল, বসে যাই। মাথা নিচু করে তারা ধীর পায়ে গিয়ে পেছনের সিটে বসল।
চারপাশে ভেসে আসতে লাগলো ফিসফিসানি।  বিষের তীব্রতা যেনো প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়ছে। কে কোথা থেকে কী বলছে বোঝা যাচ্ছে না, শুধু কিছু শব্দ কেটে কেটে কানে আসছে।
ঠিক তখনই, ডানদিক থেকে স্পষ্ট গলায় ভেসে এলো কারো কথা, 
"আমি ভাবছিলাম, এই মেয়ে আর ক্লাসেই আসবে না। কিন্তু দেখো তো, কত বড়ো বেহায়া এত কিছুর পরেও আবার পড়তে এসেছে! আমি হলে তো এতক্ষণে গলায় ফাঁস নিতাম।"
শব্দগুলো বুকের মধ্যে আছড়ে পড়লো। এক মুহূর্তে শরীরের সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেলো। হাত দুটো কাঁপছে, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। মাথা আরও নিচু হয়ে গেলো।
রুহানীর ভেতরে একের পর এক চিন্তা জমতে লাগলো।
এই মানুষগুলোকে হাজার বোঝালেও লাভ নেই। এরা কখনো সত্য শুনতে চায় না। সবাই মিথ্যার মধ্যে বাস করে, মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে। এই দুনিয়ায় সত্যের কোনো দাম নেই। বরং মিথ্যাই এখানে সবচেয়ে সহজে বিশ্বাস পায়।
চোখের কোণে পানি জমে আছে, কিন্তু সে কাঁদতে চায় না। অন্তত এদের সামনে নয়। ভেতরে আগুন জ্বলছে, অপমানের, অসহায়তার। এই ক্লাসে বসে থাকাটা তার জন্য প্রতিটি মিনিটে এক নতুন শাস্তি, তবুও সে বসে রইলো। কারণ পালিয়ে গেলে, ওরা ভেবে নেবে তারা জিতে গেছে।
____
বাড়িতে ফিরেই রুহানী এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে নিজের ঘরে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিলো।
ব্যাগটা কোণের দিকে ছুঁড়ে ফেলে সে মেঝেতে বসে পড়লো। দুই হাঁটুর মাঝে মুখ লুকিয়ে, চুল এলোমেলো হয়ে গালে লেগে আছে। বুকের ভেতর চাপা ধুকপুকানি আর গলায় আটকে থাকা কান্না মিলেমিশে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
রাতের খাবার সময় সবাই হাজারবার ডাকলেও রুহানী দরজা খুলেনি।
সে বসে রইলো একই জায়গায়, একই ভঙ্গিতে। মনের ভেতর সারাদিনের অপমানের প্রতিটি শব্দ বারবার বাজছে আর প্রতিবারই মনে হচ্ছে বুকের ভেতর কেউ পাথর রেখে দিয়েছে। মরে যেতে ইচ্চা করছে।
তার জন্য এখন ঘরটাই একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। যেখানে চোখ তুলে কারো দিকে তাকাতে হবে না, কারো মুখে সেই হাসি বা ফিসফিসানি দেখতে হবে না। আজ তার পৃথিবী কেবল এই চার দেওয়াল, আর নিজেকে ভেতর থেকে শক্ত করে আটকে রাখা দরজা।
____
রাত দশটার দিকে উজান বাড়ি ফিরলো। দরজায় দু’একবার কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে খুলে দিলো রুহানী।
তার চোখ-মুখ বিবর্ণ, ফোলা চোখে কান্নার দাগ শুকিয়ে লবণের রেখা হয়ে আছে। চুল এলোমেলো, মুখে সারাদিনের ক্লান্তি আর ভেতরের ভাঙাচোরা অবস্থা স্পষ্ট।
উজান কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ তাকিয়ে রইলো তার মুখে। ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করলো প্রতিটি অভিব্যক্তি। রুহানী তার দৃষ্টি এড়িয়ে সরে গেলো দরজা থেকে, ধীর পায়ে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো।
উজান ভেতরে এসে ব্যাগটা টেবিলে রাখলো, হাতের ঘড়ি খুলে বাথরুমে ঢুকলো। কিছুক্ষণ পর একেবারে গোসল সেরে বেরিয়ে এলো। ট্রাউজার আর টিশার্ট পরে নিলো। কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো আবার, হাতে করে ফিরলো এক প্লেট খাবার নিয়ে।
প্লেটটা টি-টেবিলে রেখে ডেকে উঠলো,
"রুহানী।"
রুহানী সাড়া দিলো না। উজান জানে, রুহানী ঘুমায়নি। শুধু ইচ্ছে করেই তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না।
বিছানার ধারে এসে উজান এক পা রেখে, এক হাত দিয়ে টেনে তুললো তাকে।
রুহানী তখনই রাগে গর্জে উঠলো, 
"কি সমস্যা আপনার? আমাকে কি একটু শান্তিতেও থাকতে দেবেন না? সব আপনার জন্য হয়েছে। আমার জীবনটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছেন। আপনার তো কোনো বদনাম হচ্ছে না, যা হওয়ার সব আমার হচ্ছে। কারণ আমি মেয়ে! এই সমাজে সব দোষ মেয়েদেরই হয়।"
বলতে বলতে সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
উজান কিছু বললো না, শুধু তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো, নীরবে সব অভিযোগ শুনে গেলো।
রুহানী আবারও বললো,
"এখানে কি সব দোষ আমার একার? এখানে তো আপনিও আছেন, তাহলে কেনো সবাই শুধু আমার দিকেই আঙুল তুলছে?"
উজান তার হাত ধরে পাশে বসালো। খাবারের প্লেট তুলে নিয়ে ভাত মেখে তার মুখের সামনে ধরলো। রুহানী মুখ ফিরিয়ে নিলো,
"খাবো না আমি।"
উজানের কণ্ঠ গম্ভীর হয়ে উঠলো,
"চুপচাপ খা।"
"খাবো না বললাম না!" রুহানীর গলা ঝাঁজিয়ে উঠলো।
"এক চড় মারবো কিন্তু। চুপচাপ হা কর।" উজান এবার ধমকে উঠলো।
রুহানী আবার কেঁদে ফেললো।
উজান এবারও কঠিন স্বরে বললো,
"আরেকবার কাঁদলে সত্যি চড় খাবি।"
রুহানী ধীরে ধীরে কান্না থামিয়ে দিলো। উজান আবার ভাত তুলে মুখের কাছে ধরলো, এবার সে চুপচাপ খেতে শুরু করলো।
খাওয়াতে খাওয়াতে উজান ধীর গলায় বললো,
"শোন, লোকের কাজই হলো অন্যের খুঁত ধরা। মানুষের স্বভাবই হলো অন্যের নামে সমালোচনা করা। এতে তাদের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না, কিন্তু ক্ষতি হয় শুধু বদনামের শিকার মানুষের। একটা কথা মনে রাখবি, তুই না তাদের খাস, না তাদের পরিস। এতদিন তুই তোর খালার খেতি, খালার পরতি, আর এখন তুই তোর স্বামীর খাবি, স্বামীর পরবি। তাহলে কেনো অন্যের কথায় চলবি?
তুই তাদের হাজার বোঝালেও তারা বুঝবে না। তারা সত্য মানতে শেখেনি। তুই তাদের সামনে সত্য দাঁড় করালেও তারা মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগবে।
তুই জানিস সত্যটা কি, আমি জানি সত্যটা কি, আর আল্লাহ জানেন সত্যটা কি। এতেই হবে। মানুষের কথায় কান দিলে তুই এই দুনিয়ায় চলতে পারবি না রুহানী। তুই তোর কথায় চলবি, তোর মনের কথা শুনবি… আর এখন আমার কথা শুনবি।"
তার কথাগুলো ধীরে ধীরে রুহানীর বুকের ভেতর ঢুকে যাচ্ছিলো। যেনো কেউ বুকের ভেতরে ঠান্ডা জল ঢেলে আগুন কমিয়ে দিচ্ছে। তার চোখে আবারও পানি এলো, কিন্তু এবার সেটা অভিযোগের জন্য নয়, বরং অদ্ভুত এক নিরাপত্তার জন্য। হঠাৎ মনে হলো, পৃথিবী যতই বিষ ছড়াক, উজানের পাশে থাকলে হয়তো সে বেঁচে যাবে।
পৃথিবীর কাছে তার নামটা হয়তো কলঙ্কের সাথে জড়িয়ে গেছে। যারা একদিন তার পাশে ছিলো, তারাই এখন পেছনে হাসাহাসি করছে। 
তার মনে হলো, হয়তো এই প্রথম সে বুঝলো, সব সত্য সবার কাছে প্রমাণ করার দরকার নেই। কিছু সত্য কেবল কিছু মানুষের মাঝেই নিরাপদ থাকে।
খাওয়া শেষে উজান প্লেট নিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। রুহানী আবারও কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে পরলো।
উজান ফিরে এসে বিছানায় শুতেই রুহানীর হঠাৎ সজাগ হলো। আরেহ সে তো আজকে আরেকটা কম্বল আনবে বলছিলো, এটা তো সে একদমই ভুলে গেছে! এখন আবার এক কম্বলে শুতে হবে দুইজনের! 
চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন