ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুধু বলো ভালোবাসি

১৮তম পর্ব

লেখক: মুহসানাত নুসাইবা
#শুধু_বলো_ভালোবাসি 
#মুহসানাত_নুসাইবা
১৮.
প্রতিদিনের মতো আজও অভ্র ভোরবেলায় হাঁটতে বেরিয়েছে। হেঁটে হেঁটে যখন নদীর পাড়ে এসে পৌঁছালো, হঠাৎই দৃষ্টি আটকে গেলো পরিচিত এক দৃশ্যে। ঠিক গতকালের মতোই সেই মেয়েটা বসে আছে নদীর ধারে, একই ভঙ্গিতে।
অভ্রর বুকের ভেতর এক অদ্ভুত আলোড়ন উঠলো। অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠলো। সে মনে প্রানে দোয়া করে এসেছিলো আরেকবার মেয়েটার সাথে দেখা হোক। গতকাল হঠাৎ চোখে পড়া মেয়েটি তার হৃদয়ে ঝড় তুলে গেছে। এমন এক ঝড়, যা তার শান্তির ঘুম কেড়ে নিয়েছে, ভাবনায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
কতো বড়ো সাহস এই মেয়ের, তার এতো বছরের রেকর্ড এক নজরেই ভেঙে দিয়েছে!
অভ্র নিজের ভেতরই বিরক্তি অনুভব করলো। সে তো কখনোই এমন ছিল না। সারাজীবন কত মেয়েকে দেখেছে সে, কেউ তার নজর কাড়তে পারেনি। কারো দিকে সে দ্বিতীয়বার তাকাতে বাধ্য হয়নি। ভাই-ভাবি কতো মেয়ের ছবি দেখালো বিয়ের জন্য, অথচ কোনো মেয়েকেই মনে ধরেনি তার। অথচ এই অপরিচিতা! বয়সে রুহানীদের সমান, একদমই পিচ্চি! অথচ এই মেয়েটির এক ঝলক চাহনিই তার বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা দৃঢ়তার দেয়াল ভেঙে দিয়েছে মুহূর্তে।
কেমন করে সম্ভব? তার মতো এক দামড়া বেডা মানুষের মন এমন এক পিচ্চির প্রতি টান অনুভব করছে? এ কেমন নিয়ম? এ কেমন দুর্বলতা?
নিজের প্রতি অভ্রর বিরক্তি বেড়ে গেলো।
এমন সময় মেয়েটা হঠাৎ মাথা তুলে তাকালো অভ্রর দিকে। চোখে চোখ পড়তেই অভ্র অদ্ভুতভাবে ভরকে গেলো। 
নিজের প্রতি আবারও বিরক্ত হলো সে। কি এক মুসিবত!
মেয়েটা উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে গেলে অভ্র পিছু ডাকলো।
"এই মেয়ে, দাঁড়াও।
মেয়েটা থেমে গেলো। পেছনে ফিরে তাকালো না। অভ্র দ্রুত কয়েক কদম এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো,
"তোমার নাম কি?"
একটু নীরব থেকে মেয়েটি পরিষ্কার কণ্ঠে বললো,
"আয়েশা খাতুন।"
আর কোনো কথা না বলেই সে চলে গেলো।
অভ্র স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রইলো নদীর ধারে। 
"আরেহ চাচা, প্রেমে পরে গেলেন নাকি!"
রাসেলের কন্ঠে পেছনে ফিরে চাইলো অভ্র। সেখানে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে উজান, তুহিন আর রাসেল। 
অভ্র ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত ভরে এগিয়ে আসলো। 
তুহিন ভ্রু নাড়িয়ে বলে উঠলো, 
"কি চাচাজান? প্রেমে পরেছেন?"
অভ্র মাথা নাড়িয়ে শিকার করলো,
"আই থিংক।"
রাসেল বলে উঠলো, "আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। অবশেষে আপনার কাওকে ভালো লাগলো!"
অভ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো। উজানও হাসলো।
পরপর রাসের আবার বললো, "কিন্ত মেয়ে তো অনেক ছোটো, চাচা!"
পাশ থেকে উজান বলে উঠলো, "সো হোয়াট? ভালোবাসায় বয়স মানে না।"
রাসেল বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো,
"তোমার কাছে তো মানবে নাই, নিজেও তো বিয়ে করেছো নিজের থেকে দশ বছরের ছোটো এক পিচ্চিকে!"
উজান বাঁকা হেসে বললো, 
"দ্যাটস হোয়াই, ভালোবাসার বয়স মানে না।"
তুহিন বললো, "কিন্ত মেয়েটা যদি রুহানীর বয়সের হয়ে থাকে তাহলে অভ্র চাচা ওই মেয়ের থেকে তেরো বছরের বড়ো! ওই মেয়ের পরিবার মানবে?"
অভ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো, "না মানলে মেয়ে তুলে নিয়ে আসবো।"
রাসেল হেসে বলে উঠলো, "আরেহ মানবে, মানবে। ওই মেয়ের আপন মা ও ছোটো থাকতেই মারা গিয়েছে। সৎ মায়ের কাছে অবহেলিত হয়ে বড়ো হয়েছে। বাবাও তেমন খেয়াল রাখে না। এখুনি বিয়ে দিয়ে বিদায় করতে চায়। ছেলে যেমনই হোক তাদের কাছে এটা কোনো বিষয় না।"
অভ্রর কপালে ভাজ পরলো। উজান বললো,
"তাহলে আর দেরি কিসের? বাড়ি ফিরে গেলেই বাবাকে পাঠাবো।"
তুহিন লাফিয়ে উঠলো, "ফাইনালি চাচার বিয়ে খাবো!"
অভ্র বললো, "মেয়েটার বাড়ি কোথায়?"
রাসেল জবাব দিলো, "ওইতো একটু সামনে গেলেই ওদের বাড়ি।"
"চল ঘুড়ে আসি ওইদিক থেকে।"
বলেই সেই পথে হাটা শুরু করলো চারজন। তাদের বাড়ির সামনে আসতেই চোখে পরলো একতলা একটা পুরোনো বিল্ডিং। বাহির থেকে দেয়ালের বালু পরতে শুরু করেছে। কিছুকিছু যায়গার ভেতরে ইট বেরিয়ে এসেছে। সাদের উপরে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো। 
ওই পথ দিয়ে যাওয়া সময় আচমকা অভ্র গেয়ে উঠে,
"তোমার বাড়ির রাস্তাটার মায়ায় পরেছি,
তোমার বাড়ির ফুল গাছটার মায়ায় পরেছি,
তোমার বাড়ির গেটের আমি মায়ায় পরেছি,
তোমার বাড়ির জানালার মায়ায় পরেছি,
এই ভেবো না তোমার বাবার ধনের লোভে পরেছি! আয়হায় হায় হায়!!
অভ্রর গান শুনে তুহিন, রাসেল জোরে হেসে উঠলো। উজান ঠোঁট কামড়ে হাসলো।
____
ওয়াশরুম থেকে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসলো রুহানী। মাথায় গামছা বেঁধে রাখা। ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে গামছাটা খুলে ফেলতেই ভেজা কালো চুলগুলো ঝরে পড়লো পিঠ জুড়ে। হালকা পানির ফোঁটা গড়িয়ে গড়িয়ে নামতে লাগলো তার কাঁধে, গলায়। রুহানী আড় চোখে পাশে তাকালো।  খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে উজান ফোন দেখছে।
ভ্রু কুঁচকে গেলো। চোখ সরিয়ে আবার আয়নার দিকে তাকালো। উজান, অভ্র, তুহিন, রাসেল ওরা চারজন মারামারি করে এলো। অথচ বাড়ির কেউ পর্যন্ত জানলো না। যেন কিছুই হয়নি, চারজনই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভেতরে সামান্যতম অনুশোচনা নেই, ভয় নেই!
রুহানী আবার তাকালো উজানের দিকে। কিন্ত উজান আর ওখানে নেই! গেলো কই? পেছনে ফিরতেই চমকে উঠলো।
সঙ্গে সঙ্গে দুই পা পিছিয়ে গেলো। পিঠ গিয়ে ঠেকে গেলো ড্রেসিং টেবিলের সাথে।
উজান দাঁড়িয়ে আছে একদম সামনে। গভীর, স্থির চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রুহানীর পিছিয়ে যাওয়াতে উজান ধীর পায়ে কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।
রুহানীর বুক ধুকপুক করে উঠলো। সে একবার সাহস করে মাথা তুলে উজানের চোখের দিকে তাকালো। ওই দৃষ্টিতে কিছু একটা ছিলো রুহানী তাকিয়ে থাকতে পারলো না। মাথা নিচু করে ফেললো।
উজান যখন এমনভাবে তাকায় তখন তার চোখে চোখ রাখা যায় না। ওই দৃষ্টিতে তাকালে নিজেকে স্থির রাখা যায় না। 
উজান আরও কাছে এল। হালকা ঝুঁকে মুখটা এগিয়ে দিলো রুহানীর দিকে। রুহানীর চোখ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে এলো। 
হঠাৎ অনুভব করলো তার ঘাড়ের পাশে গরম নিশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে। আলতো করে উজান তার বাম পাশের ভেজা চুলগুলো পেছনে সরিয়ে দিলো। আর ঠিক আচমকা গলার কাছে মুখ ডুবিয়ে দিলো উজান।
উজানের কান্ডে রুহানী থমকে গেলো।
এক মুহূর্তে শিরদাঁড়ায় কাঁপন ছড়িয়ে গেলো। নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়ে গেলো। 
চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললো। শরীর শিউরে উঠছে প্রতিটি স্পর্শে। উজান বিরতিহীন ভাবে ছোটো ছোটো চুমু দিয়ে যাচ্ছে!
রুহানী দুই হাত উচু করে উজানের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরলো। উজানের ডান হাত গিয়ে পৌঁছেছে রুহানীর কোমরে। 
রুহানী অস্পষ্ট কন্ঠে ডেকে উঠলো, 
"উজান ভাই!"
উজান ঘাড়ে মুখ রেখেই অস্পষ্ট আওয়াজ করে উঠলো, "উম..."
রুহানী ছটফট করতে শুরু করলো ছাড়া পাওয়ার জন্য। উজান আরো শক্ত করে কোমর চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। 
রুহানী কিছু বলতে পারছিলো না। অথচ অনুভব করছিলো, তার সব দুর্বলতা ভেঙে যাচ্ছে উজান নামের পবিত্র, হালাল পুরুষের স্পর্শে। প্রিয় পুরুষের প্রথম স্পর্শে শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রক্তের স্রোত বইছে, শিহরণ জাগছে। 
হঠাৎ উজান মুখ উচু করে তাকালো রুহানীর মুখের দিকে। উজান আদেশ করলো,
"তাকা আমার দিকে।"
রুহানী মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো। উজান ধমকে উঠোলো,
"তাকা বলছি।"
রুহানী চোখ পিটপিট করে তাকালো। উজান কড়া করে বলে উঠলো,
"আমার সামনে কখনো ভেজা চুলে আসবি না।"
বলেই তাকে উজান ছেড়ে দিলো। গটগট পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। 
রুহানী জোরে শ্বাস ফেলে সেখানেই বসে পরলো। দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেললো। অবাধ্য হার্টটা জোরে জোরে বিট করছে। উজান ভাইয়া মাত্র এটা কি করলো! 
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন