#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_29
🚫 হ্যাশট্যাগ বিহীন কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ‼️
আরিয়ান ফুল স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে।ও নিজেও জানে না ওর গন্তব্য কোথায়।ও শুধু জানে আজকের জন্য ওকে বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হবে।ও এবার তাচ্ছিল্য করে বললো,
"বেশ করো তোমরা নিজেদের যা ইচ্ছে।তবে এবার আমিও সেটাই করবো যেটা আমার ইচ্ছে।
ও কিছুক্ষণ আগের ভাবনায় মশগুল হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ আগে-
আরিয়ান বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর ওর বিয়ের শেরওয়ানির বোতাম একটা একটা করে লাগাচ্ছে রিদ্ম।আর সাথে বকবক করছে।
"বুঝলি আরিয়ান তানভীর আর মাহিরই তো দিন।ব্যাটারা বউ নিয়ে দিব্যি একজন কক্সবাজার আর অন্যজন সিঙ্গাপুর ঘুরছে।তোর বিয়েতেও আসতে পারলো না ওরা।আর এদিকে আমরা দুই সিঙ্গেল কোল বালিশ জড়িয়ে"দাদা পায়ে পড়ি রে মেলা থেকে বউ এনে দে🎼"গান গেয়ে যাচ্ছি।(নাক সিঁটকে) অবশ্য তোকে এসব বলে আর কি হবে? তুইও তো শালা আর কিছুক্ষণ পর ওদের দলেই নাম লেখাবি।
আরিয়ান হতাশার শ্বাস ফেললো।আর এদিকে ওকে এতো নড়াচড়া করতে দেখে রিদ্ম শয়তানি হেসে বললো,
"কিরে ভাই তোর আবার সুরসুরি লাগছে নাকি? আরে ব্যাটা এসব জমিয়ে রাখ বুঝলি।বাসর রাতে..."
আরিয়ান ওর মাথায় চাটি মেরে বললো,
"চুপ কর,শালা!"
রিদ্ম মাথা ডলতে ডলতে বললো,
"এই তুই কেন আমাকে শালা বলছিস রে?(বোঝার ভঙ্গিতে)আচ্ছা এবার বুঝলাম তোর বউয়ের তো কোনো ছোট ভাই নেই তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চাইছিস।"
আরিয়ান বিরক্ত নিয়ে বললো,
"চুপ করবি তুই?
রিদ্ম দুই হাত স্যারেন্ডারের ভঙ্গিতে উঠিয়ে বললো,
"ওকে!ওকে!চুপ করলাম।"
ও এবার সিরিয়াস হয়ে বলে,
"কি ব্যাপার আরিয়ান তোকে এমন লাগছে কেন? তুই কি এই বিয়েটা নিয়ে খুশি নোস?কিন্তু আজ তো তোর সবচেয়ে আনন্দের দিন।ফাইনালি আজ এটা হচ্ছে। দেখ আল্লাহ নিজেই তোর ইচ্ছে পূরণ করে দিয়েছেন।"
আরিয়ান তেতেঁ উঠলো।
"ঠিক কোন কারণে তোর মনে হচ্ছে আজ আমার আনন্দের দিন?(করুন গলায়)তুই সব জেনেও এসব বলছিস রিদ্ম? তোর থেকে অন্তত এটা আমি আশা করিনি।"
রিদ্ম ওর কথায় থতমত খেয়ে গেলো।হাঁ করে বললো,
"যাহ্ বাবা ভুল কি বললাম?জানি বলেই তো বলছি।তুই কতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলি এই দিনটার।আর তোর তো বউ অপছন্দ হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।সে তো..."
আরিয়ান ওকে থামিয়ে দিয়ে রেগে বললো,
"জাস্ট শাট আপ!যা তুই এখান থেকে।আমার চোখের সামনে আসবি না।এন্ড লিসেন,আমার কাউকে দেখার অথবা পছন্দ করার কোন প্রয়োজন নেই।আর সেখানে সম্ভাবনার কথা আসছে কি করে?"
রিদ্ম আরো কিছু বলতে নেবে এমন সময় আরিয়ানের শেষের কথাটা ওর কানে বাজলো।ও চমকে উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
"হোয়াট!তুই এখনো তোর হবু বউকে দেখিস নি।"
আরিয়ান ওর দিকে না তাকিয়েই গা ছাড়া ভাবে জবাব দিলো।
"না দেখিনি এন্ড দেখার প্রয়োজনও মনে করছি না।"
রিদ্ম কিছু বলতে চেয়েও চুপ হয়ে গেলো।ও কিছু একটা ভাবলো।ওর মনে একটা শয়তানি বুদ্ধির উদয় হলো।ও মনে মনে বললো,
"ব্যাটা অনেকক্ষণ ধরে ঘ্যান ঘ্যান করছে।একটু জ্বালানো যাক ব্যাটাকে।"
এদিকে চুপ করে থাকতে দেখে আরিয়ান খ্যাঁক করে উঠলো,
"এই কি ভাবছিস? যেতে বলেছি না তোকে?"
রিদ্ম বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে বললো,
"কিছু না রে আসলে ভাবছিলাম কি আর করার?আঙ্কেল আন্টি এত কষ্ট করে তোর বিয়ে ঠিক করেছে। করতে তো হবেই।আর সরি,আমিও এখন তোর চোখের সামনে থেকে দূর হতে পারব না।আঙ্কেল আন্টি তোকে রেডি করার দায়িত্ব দিয়েছে তাই না।চল তোকে রেডি করেছি দেই,চল,চল।"
আরিয়ান বলতে চাইলো,
"আরে..."
কিন্তু রিদ্ম ওকে কিছু বলতে না দিয়ে গান গেয়ে গেয়ে রেডি করিয়ে দিতে লাগলো।হঠাৎ করে ওর এতো বেশি ফুর্তি দেখে আরিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেলো।কিছুক্ষণ পর রেডি করানো শেষ হলে রিদ্ম ওকে দেখে নিয়ে বললো,
"পারফেক্ট!মিস্টার বর সাহেব একদম রেডি। এই শোন লজ্জা পেয়ে এখানে বসে থাকবি কিন্তু। যাওয়ার সময় হলে আমি তোকে ডেকে নিয়ে যাব।"
রিদম নাচতে নাচতে চলে গেলো।ও যেতেই আরিয়ান দাঁত কটমট করে বললো,
"লজ্জা পেয়ে বসে থাকবো তাই না? দেখাচ্ছি তোকে!"
তারপর ও বারান্দা দিয়ে পাইপে বেয়ে নিচে নেমে গেলো আর গাড়ি নিয়ে চলে এলো।
বর্তমান-
আরিয়ান ড্রাইভ করছিলো এমন সময় ওর ফোন বেজে উঠলো।ফোনের স্কিনে তাকিয়ে দেখলো রিদ্ম নাম ভেসে উঠেছে।ও বিরবির করে বললো,
"শালা যেখানে যাবো জ্বালানোর জন্য হাজির হয়ে যাবে। হয় স্বশরীরে নয়তো ফোনে।ঠিকই নতুন সিমের নাম্বার জোগাড় করে ফেলেছে।"
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ও ফোন রিসিভ করে ব্লুটুথ অন করলো। অপর পাশ থেকে রিদ্মর উত্তেজিত কন্ঠ শোনা গেলো।
"আরিয়ান কোথায় তুই?তোকে না বললাম ঘরে বসে থাকতে।বরযাতো যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।আর এদিকে বরং লাপাত্তা।"
আরিয়ান শান্ত গলায় বললো,
"আমি বর যাত্রীতে যাব না।তাই চলে এসেছি।"
"এই কি বলছিস কি তুই?আরে ভাই আজকে বিয়ে। মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে নাকি তোর?তুই না গেলে বিয়েটা কবে কিভাবে?
আরিয়ান বিদ্রুপ করে বললো,
"কেন তোর তো দেখছি বিয়ে নিয়ে বেশ আগ্রহ আর পাত্রীকে নিয়েও।তাহলে এক কাজ কর না বিয়েটা তুইই করে নে।"
রিদ্মর মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো।
"জাস্ট স্টপ ইট আরিয়ান!কি সব বলছিস কোনো সেন্স আছে?"
আরিয়ান ও রেগে বলে উঠলো,
"ইউ সুড স্টপ ইট!তোরা আমার লাইফটাকে জাস্ট ছেলেখেলা বানিয়ে রেখেছিস।তো এখন তোরাও একটু রিয়েলাইজ কর।"
রিদ্ম শান্ত হয়ে বলার চেষ্টা করলো,
"রিল্যাক্স আরিয়ান, দেখ আমার কথা শোন। তোর বিয়ে আর কারো সাথে না বরং..."
আরিয়ান ফোনটা কেটে দিলো।ওপাশ থেকে রিদ্ম তখনও "হ্যালো" "হ্যালো" করছে। কিন্তু কোনো শব্দ না পেয়ে কান থেকে ফোন নামিয়ে বললো,
"কি ভূল করলি আরিয়ান তুই?(দেয়ালে ঘুষি মেরে)যে করেই হোক ওকে আমার খুঁজে বার করতে হবে।
আরিয়ান ফোনটা রাখতেই ফোনে একটা মেসেজ এলো।বিরক্তিতে আরিয়ানের ভ্রু কুঁচকে গেলো।
"আবার কি?"
অনিচ্ছা সত্ত্বেও আরিয়ান মেসেজটা চেক করলো। মেসেজে লেখা"লোকেশন ইস্রিনা জঙ্গল"। আরিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে বললো,
"ইন্টরেস্টিং!প্রজেক্ট সাইট থেকে সোজা জঙ্গল!"
আসলে গত পরশু রাকিবের সাথে হওয়া ডিলটার সাইট ভিজিটে গিয়েছিল আরিয়ান।সেখানেই ওর ফোনটা পড়ে যায়।অনেক খুঁজেও সেটা আর পাওয়া যায়নি।বিয়ের চক্করে পুলিশেও জানানো হয়নি।কি যেন ভেবে নতুন ফোন ও সিম নেওয়া সত্বেও পুরনো সিমটা বন্ধ করেনি আরিয়ান।বরং এসব বিষয়ে এক্সপার্ট ওর এক পরিচিতকে সিমের লোকেশন ট্র্যাক করতে বলেছে।আজ হঠাৎই ফোনটা অন করা হয়। তাই সেই লোক তৎক্ষণাৎ লোকেশন ট্র্যাক করে আরিয়ানকে মেসেজ করেছে।
"দেখতে হচ্ছে তো ফোনটা জঙ্গলে কি করছে।"
আরিয়ান ইস্রিনা জঙ্গলের দিকে রওনা দিলো।
---------------
চারপাশে ঘন অন্ধকার ছড়িয়ে আছে।দূরের গাছগুলোও কেমন ভয়ংকর লাগছে।হালকা বাতাসে পাতাগুলো কাঁপছে।মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ নিস্তব্ধতাটাকে আরও ভারী করে তুলছে।মেঘলা দ্রুত হাঁটছে।না হাঁটছে বললে ভুল হবে,দৌড়াচ্ছে।ভারী লেহেঙ্গা পরে এতটা পথ আসতে আসতে ওর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।শ্বাস ছোট ছোট হয়ে আসছে।কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে।ভারী গহনাগুলো এখন বোঝা মনে হচ্ছে। রাস্তায় সকলেই ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো হয়তো ওর বেশভূষার জন্য।তবুও ও থামছে না।কারণ ওর মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুরছে।আরিয়ান বিপদে।ওর ফোন থেকে আসা সেই মেসেজটা এখনও কানে বাজছে।
“মেঘলা প্লিজ বাঁচাও আমাকে।আমি ইস্রিনা জঙ্গলে আছি।প্লিজ এসো,প্লিজ।”
মেসেজটা দেখেই মেঘলার বুকটা ধক করে উঠেছিলো।যদি সত্যিই আরিয়ানের কোনো বিপদ হয়ে থাকে?যদি কেউ ওর ক্ষতি করতে চায়?যদি দেরি হয়ে যায়?এই চিন্তাগুলোই শেষ পর্যন্ত ওকে এখানে টেনে এনেছে।
মেঘলা কাঁপা কাঁপা গলায় ডাকলো,
"আরিয়ান কোথায় তুমি?প্লিজ একটা কথা বলো।দেখো আমি চলে এসেছি।"
চারপাশে শুধু নীরবতা বিরাজমান।মেঘলার ভয় আরও বাড়তে লাগলো।ঠিক তখনই ঝোপের আড়াল থেকে ধীর পায়ের শব্দ ভেসে এলো।মেঘলা চমকে পেছনে সরে গেল।পরের মুহূর্তেই অন্ধকার ভেদ করে একটা মানুষ সামনে এসে দাঁড়ালো।কালো শার্ট পরিহিত,চোখে মুখে শয়তানি হাসি। মেঘলার মুখ থেকে অস্ফুটে বের হয়ে এলো,
"রাকিব!"
চলবে...
💬 গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন