ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৪৭তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_47

🚫কপি করা নিষিদ্ধ

চেয়ারে বাঁধা নীহারিকার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিদ্ম ও আরিয়ান।সেই সময়ই হন্তদন্ত হয়ে সেখানে এলো তিথি ও মেঘলা।মেঘলা আরিয়ানের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে নিবে এমন সময় ওদের চোখ পড়ল নীহারিকার দিকে। ওদের চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে এমন অবস্থা হলো।তিথি পলক ঝাপটে একবার নীহারিকার দিকে তাকাচ্ছে তো একবার মেঘলার দিকে।ও হাঁ করে বললো,

—কোনোভাবে এখানে জুদবা সিনেমার শুটিং হচ্ছে না তো?লাইক মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই বোনের পুনর্মিলন?

মেঘলার ও যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না।রিদ্ম মুখ বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বললো,

—মাথায় ঘিলুর সংকট থাকলে এসব জুদবা ফুদবা আজগুবি চিন্তাই মাথায় আসে।লজিকাল চিন্তা নয়।

তিথি তেঁতে উঠে বললো,

—ওই মিয়া আপনি আবার শুরু করেছেন?আর সাহস কত বড় আপনার আমায় ঘিলু ছাড়া বলেন আপনি?

—পড়লো কথা হাটের মাঝে যার কথা তার গায়ে বাজে।

তিথির মাথা হয়ে গেল আরো গরম।এখনই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাবে যাবে ভাব।এমন সময় আরিয়ান ধমকে উঠলো,

—স্টপ ইট!এখানে ঝগড়া করার সময় নয়।এখন আমাদের যে কাজ সেটাই করতে হবে।(নীহারিকার দিকে তাকিয়ে)সো মিস চটপট নিজের নাম পরিচয় বলে ফেলুন আর কি আকাম করে আমরা বউয়ের মত চেহারা নিয়েছেন সেটাও বলে ফেলুন।

মেঘলা ভ্রু কুঁচকে বললো,

—তার আগে এটা জবাব দাও তোমরা এই মেয়েটাকে পেলে কোথায়?আর তোমরা তো করিম চাচার কাছে গিয়েছিলে?তারপর এসব কিভাবে হলো?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

আরিয়ান ও রিদ্ম পরস্পরের দিকে চেয়ে বাঁকা হাসলো।

ফ্ল্যাশব্যাক

হসপিটালের করিডোরে চিন্তিত মুখে বসে আছে রিদ্ম ও আরিয়ান।করিম চাচার বাড়ি থেকে ওনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।ওনার মাথায় আঘাত করা হয়েছে।অবস্থা বেশি একটা ভালো নয় বলে ডক্টর জানিয়েছে।রিদ্ম কিছু একটা ভাবছিলো।হঠাৎই ডাক দিলো।

—আরিয়ান।

—হুম।

—করিম চাচা কি বলল কিছু বুঝতে পারছিস?আমার তো সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

আরিয়ান মাথা নেড়ে হা হুতাশ করে বললো,

—জানিনা কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা।করিম চাচা তো বললেন উনি বাজার করে ফিরছিলেন সে সময় মেঘলার মতো একজন মেয়েকে দেখতে পেয়েছিলেন।উনি ভেবেছিলেন প্রথমে মেঘলাই কিন্তু তারপর কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইতেই মেয়েটা তাড়াতাড়ি পালাতে লাগলো।এতে নাকি ওনার সন্দেহ হয় তাই উনি সেই মেয়েটার পিছু করতে থাকেন আর আমাকে কল করেন।তখনই ওনার মাথায় কেউ আঘাত করে পেছন থেকে।উনি তো দেখতেও পাননি কে ছিল।

—বিষয়টা তো আমাদের ভাবনার থেকেও জটিল মনে হচ্ছে।তার মানে ভাবি চেহারার মতোই কেউ আছে?আর সেই হয়তো এ সমস্ত কাজ করেছে।

—এক্সেক্টলি!এটাই হয়েছে।কিন্তু আমরা জানবো কি করে কে সে আর এগুলো কেন করছে?নাকি অন্য কারো কথায় করছে?কিংবা মেঘলার সাথে ওই মেয়েটি শত্রুতাই বা কি?

আচমকার রিদ্মর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।ও তুড়ি মেরে বললো,

—আইডিয়া!

আরিয়ান তড়িৎ ওর দিকে তাকালো। ভ্রু কুঁচকে বললো,

—কি আইডিয়া?

—(বাঁকা হেসে)চল দেখাচ্ছি।তবে মনে হচ্ছে তোর সিইও সাহেব থেকে অন্য প্রফেশনে ট্রান্সফার হওয়ার সময় এসে গেছে।

আরিয়ানের ভ্রু আরো কুঁচকে গেলো।আর রিদ্ম এখনো শয়তানি হাসছে।

*****

নীহারিকা বাড়ি ফিরে ফোনে ইশিতার সাথে কথা বলছে।করিম চাচার সাথে রাস্তায় ঘটা সমস্ত ঘটনা ইশিতা ভালো করেই জানে।আর উনার মাথায় আঘাত রাকিব করেছিল।ইশিতা ফোনে নীহারিকাকে সমানে ঝেড়ে চলেছে।

—ইউ স্টুপিড!কোন কমনসেন্স নেই তোমার?কতবার বলা হয়েছিল তোমাকে রাস্তায় বের হলে ফেসটাকে ভালো করে কভার করে নেবে?বাট ইউ ফুলিশ গার্ল!তোমার জন্য আজ কত বড় একটা ব্লান্ডার হতে যাচ্ছিল জানো?যদি রাকিব ঠিক সময় ওই করিম চাচা মাথায় না মারতো তাহলে এতক্ষণে নিজেতো জেল থাকতেই সাথে আমাদেরও ডোবাতে।

নীহারিকা সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলো,

—দেখুন আমি তো জানতাম না যে এভাবে ওই লোক...

—(ধমকে উঠলো)ইউ জাস্ট শাট আপ! কোনো কথা শুনতে চাই না আমি।যদি আমি রাকিবকে তোমার ওপর টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স নজর রাখতে না বলতাম তাহলে তো আজ...

—(সতর্ক দৃষ্টিতে হাঁ করে)এক সেকেন্ড!এক সেকেন্ড! আপনি আমার উপর নজর রাখতে বলেছেন তাও চব্বিশ ঘন্টা?কিন্তু কেন?

—কিন্তু কেন?হাহ্!কেনোর নমুনা তো তুমি দেখলেই। শোনো এরপর থেকে কোন ব্লান্ডার করলে তোমার কি অবস্থা হবে সেটা কিন্তু ভালো করেই জানো।ইশিতা নিজের কাজে কোন বাধা পছন্দ করেনা।সো ইউ শুড বি কেয়ারফুল!

ইশিতা ফোন রেখে দিল।

—হ্যালো!হ্যালো!

নীহারিকা কান থেকে ফোন নামিয়ে দেখলো ফোন কেটে দিয়েছে।ও হাতের মুঠো শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

—আপনি ওই নীহারিকাকে চিনেন না ম্যাডাম।খুব জলদি আপনিও চিনে যাবেন এই নীহারিকা ফুলিশ নাকি...(কুটিল হেসে)

*****

—সবজি নেবে সবজি?তাজা তাজা আলু,পটল,বেগুন,কুমড়ো!সবজি নেবে সবজি?

হাঁক ছেড়ে ডাকছে দুই সবজিওয়ালা।দুজনেরই গায়ের রং কুচকুচে কালো,ঘন দাড়ি গোফ।তবে বেশ চেনা চেনা লাগছে না এদের?কারা এরা?আরিয়ান খ্যাপাটে গলায় রিদ্মকে উদ্দেশ্য করে বললো,

—গর্ধভের বাচ্চা!তোর এসব আজগুবি প্ল্যানের জন্য শেষপর্যন্ত আমাকে এই সবজিওয়ালা সাজতে হলো!

রিদ্ম বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে বললো,

—আরে বন্ধু চিল!ধরে নে না সেই স্কুলে,কলেজে থাকতে যেমন হতো তেমনি গো অ্যাজ ইউ লাইকে নাম দিয়েছি। তবে যাই বল তোকে বেশ লাগছে কিন্তু।পুরোই ব্ল্যাকী ব্লাকি।(টিটকারি মেরে)

—(দাঁতে দাঁত চেপে)আর এত দিনে তোর সত্যিকারের পরিচয় রিভিল হলো।দেখে মনে হচ্ছে নিজের সত্যিকারের পেশায় ফিরে এসেছিস।দ্যা গ্রেট রিদ্ম দ্যা সবজিওয়ালা।

—(হাই তুলে)যা ইচ্ছে বলে নিতে পারিস।তবে আমার এইভাবে সেজে খুব ভালো লাগছে।আর তার সঙ্গে এই সুন্দর সুন্দর সবজি। (একটা বেগুন হাতে তুলে)

আরিয়ান চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলো।কিছু বলতে নিবে এমন সময় ওদের ভ্যানের সামনে একজন মোটামত মহিলা এলো।সে জহুরি নজরে ভ্যানের সবজি গুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে।ওদের উদ্দেশ্যে ওই মহিলাটি মোটা ও ভারী গলায় বললো,

—ওই এক কেজি বরবটি কত?

আরিয়ান তো পড়ে গেল বিপাকে।জীবনে কোনোদিন বাজার না করা ওর এসব সম্বন্ধে কোনো ধারণাই নেই। ওরে সব ভাবনার মাঝে পাশে থেকে রিদ্মর জবাব ভেসে এলো,

—আরে বেশি না খালাম্মা।

মহিলাটি তেঁতে উঠে বললো,

—ওই খালাম্মা বললি কাকে?আমাকে দেখে খালাম্মা বলে মনে হয়?

ওরা দুজন বেশ ভড়কে গেল। দুজন মিলে মহিলাটির আপাদমস্ত পরখ করলো।পঞ্চাশের নিচে বয়স তো কোনোভাবেই হবে না।রিদ্ম আরিয়ান এর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,

—আজকাল কে যে সিক্সটির খালা আর কে যে সিক্সটিনের শিলা বোঝাই তো মুশকিল হয়ে গেছে রে।

ওদের ফিসফিসের মাঝেই মহিলার গলা শোনা গেলো।

—এই কি ফিসফিস করছিস দুজনে?আপা বলবি আমায় বুঝেছিস?

রিদ্ম ঢং করে মেকি হেসে বললো,

—জি আপা।

—আচ্ছা এখন বল বরবটি এক কেজি কত?

—মাত্র তিনশো টাকা।তবে আপনের জন্য আড়াইশো টাকা দিয়া দিমু।

—কিহ্!বরবটি কেজি তিনশো টাকা?এই কারা তোরা? কবে থেকে ব্যবসা করিস?সবজিওয়ালা নাকি ডাকাতি করতে ঢুকেছিস হ্যাঁ?

—আমাগো বরবটি স্পেশাল আপা?সোজা চায়না থেকে আমদানি করা!

—ওই মশকরা করিস আমার সাথে?দাঁড়া!এখনই লোক ডাকছি।পাবলিকের কয়টা ক্যালানি খেলেই সব বের হয়ে যাবে।

অবস্থা খারাপ দেখে আরিয়ান দ্রুত বলে উঠলো,

—ওরে মাফ কইরা দেন আপা।আসলে ওর মাথায় একটু গন্ডগোল আছে তো।বরবটি মাত্র চল্লিশ টাকা কেজি।নিয়া যান আপনে।

—(শান্ত হয়ে)হ্যাঁ এবার ঠিক বলেছিস।তোকে দেখে ঠিকঠাক মনে হচ্ছে।(রিদ্মকে উদ্দেশ্য করে)এই পাগলটাকে এনেছিস কেন সঙ্গে?এসব পাগল-ছাগল নিয়ে ব্যবসা করতে আসলে ব্যবসায় দুদিনেই লালবাতি জ্বলে উঠবে।

আরিয়ান এবার মুখটা করুন করে বললো,

—কি করমু বলেন আপা?বন্ধু মানুষ!পাগল হইলেও পেটটা তো চালাইতে হইব।তাই ওরে নিয়া আসি।

—ঠিক আছে।ঠিক আছে।জলদি বরবটি গুলো দে।

আরিয়ান জলদি বরবটি দিয়ে মহিলাটিকে বিদায় করলো।রিদ্ম এতক্ষণ হাঁ করে সবকিছু দেখছিলো। মহিলাটি যাওয়া মাত্রই ও কটমট করে বলে উঠলো,

—আমি পাগল তাই না?তোকে তো আমি...

—পাগল বলেছি তোর সাত কপালের ভাগ্য।না হলে পাবলিকের ধোলাই খেয়ে এতক্ষণে আলু ভর্তা হয়ে বসে থাকতিস।আর জীবনে বাজারে গেছিস যে বরবটির দাম বলতে যাস?তাও কিনা চায়না থেকে এক্সপোর্ট করা!রিডিকিউলাস!শোন এসব ভন্ডামি ছেড়ে যে কাজে এসেছি সেটাতে মনোযোগ দে।মেঘলার ছবি দেখে লোকজন তো বলেছে যে ওই বহুরূপী মেয়েটা সামনের এই বিল্ডিংটাতেই থাকে।আর একজনের থেকে তথ্যও তো পাওয়া গেল যে ওই মেয়েটা রোজ এখান থেকে সবজি কিনে।আজও হয়তো আসবে।

ওদের কথার মধ্যেই নীহারিকা বিল্ডিং থেকে বের হলো। চারদিকে একবার তাকিয়ে ও ওদের ভ্যানের দিকেই আসছে।এদিকে আরিয়ান আর রিদ্মর তো নীহারিকাকে দেখে চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম।রিদ্ম বিড়বিড় করে বললো,

—ভাই তুইও কি সেটাই দেখছিস সেটা আমি দেখছি?

—একদম।(নীহারিকার দিকে নজর রেখেই)

আরিয়ানকে এভাবে একদৃষ্টিতে নীহারিকার দিকে চেয়ে থাকতে দেখে রিদ্ম শয়তানি হাসলো।মজা করে বললো,

—আরে এই মেয়েটা দেখতে ভাবির মত।ভাবি নয় কিন্তু। তুই আবার ভাবি ভেবে সব নজর...

—জাস্ট শাট আপ!কাজের সময় এসব আউল ফাউল কথা কোত্থেকে পাস তুই?

রিদ্ম মুখ লটকে চুপ হয়ে গেলো। নীহারিকা ভ্যানের কাছে এসে সবজি দেখতে শুরু করলো।আরিয়ান ও রিদ্ম সতর্ক দৃষ্টিতে ওকে দেখছে।নীহারিকা এবার ব্যস্ত ভঙ্গিতে বললো,

—দুই কেজি টমেটো আর এক কেজি বেগুন দিয়ে দাও। আর তাড়াতাড়ি করো।

—জি আইচ্ছা।

আরিয়ান আর রিদ্ম পলিথিনে সবজি ভরতে ভরতে আড়চোখে নীহারিকাকে খেয়াল করছে যে এখন ব্যস্তভঙ্গিতে কাউকে বারবার ফোন করে চলেছে।তবে ওপাশের ব্যক্তি বোধহয় ফোন তুলছে না।যার কারণে ওর মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ বিদ্যমান।ও এবার একটু বিরক্ত হয়ে বললো,

—জলদি করো না।এতক্ষন লাগছে কেন?

—জি আপা হইয়া গেছে।

এমন সময় হঠাৎ রিদ্ম মাথা চেপে ধরে জোরে চিৎকার দিলো,

—ও আল্লাহ গো!

নীহারিকা চমকে উঠে বললো,

—এই কি হয়েছে ওনার?

আরিয়ান রিদ্মকে জড়িয়ে ধরে বললো,

—আপা গো আমার বন্ধুটার অনেক বড় মাথার রোগ। মেলা টাকা খরচ করতাছে চিকিৎসার জন্য।এখন হুট কইরা মাঝরাস্তায় অসুস্থ হইয়া গেল।আশেপাশে কোনো রিক্সা পামু কিনা?আপা আমাগো একটু সাহায্য করেন।একটু হাসপাতালে লইয়া যান।

—হোয়াট!আমি কেন নিয়ে যাব?তোমার বন্ধু তুমি নিয়ে যাও।এমনিতেই সবজি দিচ্ছো না আবার এসব ঝামেলা।

আরিয়ান হাতজোড় করে বললো,

—দয়া করেন।আমার বন্ধুটা অনেক কষ্ট পাইতাছে। কোনো শিক্ষিত পড়ালেখা জানা মানুষ ছাড়া আমরা মুখ্য সুখ্য মানুষ কেমনে কি করি?আপনে একটু চলেন।

রিদ্ম চিৎকারের গতি আরো বাড়িয়ে দিলো,

—আল্লাহ!আল্লাহ গো!

নীহারিকা কি করবে না করবে ভেবে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর বললো,

—ঠিক আছে চলো।একটা গাড়ি ডেকে নিয়ে এসো।

—আপা এনে তো কোন গাড়ি পাওয়া যাইব না।সামনের রাস্তায় একটু চলেন।আমার বন্ধুরে নাইলে আমার ভ্যানে করে নিয়া যাইতাছি।

—(দাঁতে দাঁত চেপে)ঠিক আছে চলো।

আরিয়ান সবজি এগুলো সরিয়ে রিদ্মকে ভ্যানে শোয়ালো।এরপর নিজে ভ্যান চালিয়ে নীহারিকাকে পাশে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলো।কিছুটা নির্জনে যেতেই আরিয়ান ভ্যান থেকে নামলো। নীহারিকা ভ্রু কুঁচকে বললো,

—কি হয়েছে নেমে গেলে কেন?

—কিছু না আপা।

আরিয়ান হঠাৎ করেই একটা রুমাল নীহারিকার মুখে চেপে ধরলো।

—উম উম!

নীহারিকা ছোটার জন্য সমানে ছটফট করছে।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ও নিস্তেজ হয়ে গেল কারণ রুমালটিতে ক্লোরোফম ছিল।

আরিয়ান আর রিদ্ম দুজনে হাইফাইভ করলো।

*****

বর্তমান

সব শুনে মেঘলা আর তিথির চোয়াল ঝুলে পরার মতো অবস্থা।তিথি হাঁ করে বললো,

—শেষ পর্যন্ত তোমরা সবজিওয়ালা সেজে কিডন্যাপ করলে জিজু?

বলা বাহুল্য বর্তমানে তিথি আরিয়ানকে অফিসে স্যার বলে ডাকলেও পার্সোনাল লাইফে জিজু বলেই ডাকে। আর বর্তমানে আরিয়ানের সাথে ওর বেশ ভালোই সখ্যতা হয়ে গেছে।তিথির কথা শুনে আরিয়ান হালকা হাসলো।ভ্রু নাচিয়ে বললো,

—সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুলটা বাঁকাতে হয়।বুঝলে শালিকা?

—একদম খাপে খাপ পন্চুর বাপ।

মেঘলা চিন্তিত মুখে বললো,

—একটু থামবে তোমরা?(সবাই ওর দিকে তাকালো) আগে এই মেয়েটির থেকে সব জানতে হবে।সেটা বেশি জরুরি।(আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে)

আরিয়ানও এবার সিরিয়াস হয়ে বললো,

—ইয়েস ইউ আর রাইট!(নীহারিকাকে উদ্দেশ্য করে)তো ম্যাডাম নিজে থেকেই সব বলবেন নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে?

নীহারিকা সমানে উম উম করে যাচ্ছে।তিথি এগিয়ে এসব মুখের স্কচটেপটা খুলে দিল।ছাড়া পেতেই নীহারিকা হাঁফাতে লাগলো।কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে বললো,

—তোমরা এভাবে কিডন্যাপ করলে আমায়?জানো এর পরিণাম কি হতে পারে?একজনকেও ছাড়বো না আমি!

তিথি তাচ্ছিল্য করে বললো,

—আরে ডিয়ার হামসাকাল আগে ধরে তো দেখাও। তারপর না ছাড়াছাড়ি।আর জলদি জলদি বলো তোমার এই চেহারার রহস্য কি।

নীহারিকা শয়তানি হেসে বললো,

—তোমরা যত যাই করে নাও কিছুই জানতে পারবে না।আর এই মেঘলা জেলে পচেঁ মরবে।

আরিয়ানের চক্ষু লাল হয়ে এলো।তিথি চোখ বড় বড় করে বললো,

—এই কি বললি তুই?বহুত সাহস না তোর?মেঘলার জেলে পচাঁর কথা বলিস তুই?জেলে তো তুই পচঁবি।মুখ না খুললে এমন একটা দেব না!

তিথি মারার জন্য হাত উঠালো।নীহারিকা চোখ বন্ধ করে ফেললো।আরিয়ান হাত উঁচিয়ে তিথিকে থামিয়ে দিলো।ও চোয়াল শক্ত করে বললো,

—আরে শালিকা এসব মারামারি তো ওল্ড ফ্যাশন হয়ে গেছে।আমরা একটু নতুন কিছু ট্রাই করব?(রিদ্ম কে চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করে)কি রিদ্ম ঠিক তো?

রিদ্ম বাঁকা হেসে কিছু একটা আনতে চলে গেলো।তিথি ও মেঘলা চোখ ছোট ছোট করে সমস্তটা দেখছে।রিদ্ম ফিরে এলো হাতে একটা বক্স নিয়ে।বক্সের ভেতর অসংখ্য ইঁদুর কিলবিল করছে।কাঁচের বক্স হয় সহজেই ভেতরের সব দেখা যাচ্ছে।নীহারিকা বক্সটি দেখতেই আঁতকে উঠলো।কারণ ইঁদুরকে ভীষণ ভয় পায় ও।মেঘলা কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো,

—এ...এসব কি?

—আরে ভাবি এগুলো দিয়ে তো তোমার এই হামসাকালকে আদর-যত্ন করা হবে।

নীহারিকা তোতলাতে তোতলাতে বললো,

—ক...কি ক...করবে তো...তোমরা?

আরিয়ান বললো,

—বেশি কিছু না জাস্ট আপনার শরীরে এইগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে আর এরা আপনার শরীরে ডান্স করবে।তো রিদ্ম শুরু হয়ে যা।

রিদ্ম নীহারিকার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।নীহারিকার মাথার উপর বক্সটা উপুর করে ঢাকনাটা সরিয়ে দিতে নেবে এমন সময় চোখ বন্ধ করে নীহারিকা চিৎকার দিয়ে উঠলো,

—বলছি!বলছি!সব বলছি আমি।থামো প্লিজ!

রিদ্ম থেমে গেল।আরিয়ান ভ্রু উঁচিয়ে কৌতুকের সহিত বললো,

—বাহ কনফিডেন্স এতো তাড়াতাড়ি শেষ।ঠিক আছে তাহলে জলদি জলদি বলেই দিন।

—এসব কিছু রাকিব আর ঈশিতা মিলে করেছে।আর আমি প্লাস্টিক সার্জারি করে মেঘলার মত চেহারা নিয়েছি।

সকলে স্তব্ধ হয়ে গেলো।তিথি এতদিনে রাকিব আর ইশিতার ব্যাপারে সমস্ত কিছু জেনে গেছে।ও রেগে বলে উঠলো,

—এসব শয়তানি ওই রাকিব আর ইশিতাই করতে পারে।শয়তানের দল!শেষ পর্যন্ত প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্য নিয়েছে।

আরিয়ান কটমট করে বললো,

—ওই রাকিব আর ইশিতার শেষ পরিণতি এসে গেছে। এবার ওরা দেখবে এই আরিয়ান খান ঠিক কি কি করতে পারে!

নীহারিকার আরেকটা কথায় সকলেই চমকে উঠলো।

—কিন্তু ওরা একা নয় ওদের সঙ্গে আরও একজন মহিলা আছেন।

মেঘলা অবাক হয়ে বললো,

—এ আবার কে?যে আমার ক্ষতি করতে চায়।

—জানিনা।আমি চিনি না তাকে।ইশিতা কখনো তার পরিচয় বলে নি।আমি শুধু তার চেহারা চিনি।

আরিয়ান কিছুক্ষণ কিছু একটা ভেবে নিজের ফোন ঘেটে কিছু খুঁজতে শুরু করলো। কিছু একটা বের করে নীহারিকার সামনে নিজের ফোনটা ধরে বললো,

—দেখুন তো মহিলাটি ইনি কি না?

নীহারিকা উত্তেজিত কন্ঠে বললো,

—এই তো সেই মহিলা!

আরিয়ানের মুখের রং উড়ে গেলো।ও এবার বাকি সকলের দিকে তাক করে ফোনটা ধরলো।ছবিটা দেখে বাকি সকলেরও একই অবস্থা‌।মেঘলা অবিশ্বাস নিয়ে বললো,

—এটা কিভাবে...

আরিয়ান বললো,

—এটাই সত্যি!

চলবে...

💬১০০ রিয়েক্ট পূরণ হলে পরবর্তী পর্ব আসবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন