#প্রণয়ের_বৃষ্টি
#writer_nazmin
#Part_50
🚫কপি করা নিষিদ্ধ
স্কাইলাইন গ্রুপ অফ কোম্পানির সামনে সাদা গাড়িটি থামলো।মেঘলা অনেক উচ্ছ্বাস নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো।সামনে পা বাড়িয়েও পিছনে ফিরে ঝুঁকে ড্রাইভার আকিব চাচার উদ্দেশ্যে বললো,
—চাচা তুমি চলে যাও।আমি তোমাদের ছোটবাবার সঙ্গে ফিরবো।
মধ্য বয়সী আকিব চাচা পান খাওয়া লাল দাঁতগুলো বের করে হেসে বললেন,
—আইচ্ছা বৌমা।তা বৌমা আইজ বুঝি মেলা খুশি?
মেঘলা কিছু না বলে শুধু লাজুক আসলো।আকিব চাচা মৃদু হেসে মাথা নেড়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন।ইনি খান বাড়ির সবচাইতে পুরোনো ড্রাইভার।তাই এনার সঙ্গে পরিবারের লোকের মতোই সম্পর্ক সকলের।মেঘলা এ বাড়িতে বউ হয়ে আসার পর থেকে ওর সাথেও চাচার অনেকটা সুসম্পর্ক।
আজ অফ ডে হওয়ায় অফিস ছুটি।তবে আগামীকাল বেশ বড় একটা প্রজেক্টের প্রেজেন্টেশন আছে।আরিয়ান আজ অফিসে সেটা নিয়েই কাজ করছে।গেটের সামনে দাঁড়ানো গার্ডসরা মেঘলাকে সালাম দিলো।মেঘলাও হাসিমুখে সালামের জবাব দিয়ে ভেতরে ঢুকলো।এই চার বছরে অফিসে বেশ খানিকটা বদল এসেছে।মেঘলা এখন আর মার্কেটিং অফিসার নয় বরং আরিয়ানের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অর্থাৎ পিএ।তিথি আর রাহুলেরও প্রমোশন হয়েছে।খুশিমনে আরিয়ানের কেবিনের দরজা খুললেও ভেতরের দৃশ্য দেখে মেঘলার পুরো দুনিয়াটা দুলে উঠলো।ও কয়েক পা পিছিয়ে গেলো।ভেতরে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে আছে একটি মেয়ে।আরিয়ান ও সেই মেয়েটির মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। এমনকি ও তো মেঘলার দিকে খেয়াল পর্যন্ত করেনি।মাথায় নানা ভয়ংকর চিন্তাভাবনা আসা সত্বেও ও মাথা থেকে এসব ঝেড়ে ফেলে ভাবলো না এবারও নিশ্চয়ই ওর কোন ভুল হচ্ছে!ওকে আগে আরিয়ানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে।এই ভেবে যেই ও কেবিনে ঢুকতে নেবে এমন সময় কিছু কথা কানে আসতেই থেমে গেলো।মেয়েটি কেঁদে কেঁদে আরিয়ানকে বলছে,
—এভাবে আর কতদিন?
আরিয়ান নরম গলায় বললো,
—চিন্তা করিস না।আর তো মাত্র কিছুদিন।এ কয়টা দিন কোনো ভাবে কাটিয়ে দে।একবার ডিভোর্সটা হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
মেঘলার হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে।ওর সারা শরীর ঘেমে উঠেছে।এইসব কথাগুলোর কি অর্থ দাঁড়ায়?তবে কি!
ওদিকে মেয়েটি বলছে,
—কতদিন এভাবে অভিনয় করবি।যদি ও একবার সত্যিটা জেনে যায় তখন কি হবে?
আরিয়ান মেয়েটিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হালকা হেসে বললো,
—যাই হয়ে যাক আমি সবসময় তোর পাশে আছি।
মেঘলা নিজের জায়গায় জমে গেল।চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেছে ও।ওর চোখ দিয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো।চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলে ও নিজ মনে বললো,
—ভালো থেকো আরিয়ান।সবাই তো ভালোবাসার যত্ন নেয়।আমি না হয় তোমার অবহেলাকেই মাথার মুকুট করে রাখবো।
মেঘলা মুখ চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে ওখান থেকে চলে গেল।আরিয়ান জানতেও পারলো না ওর জীবনের সবচেয়ে দামি খবরটা।
*****
মেয়েটি চোখ মুছে ভ্রু নাচিয়ে হেসে বললো,
—তা তোর বিবিজানের খবর কি তাই বল।কেমন চলছে প্রেম-টেম?
আরিয়ান দুষ্টু হেসে বললো,
—একদম বিন্দাস।পুরো প্রেমের সাগরে ভেসে চলেছি।
মেয়েটি আরিয়ানের মাথায় হালকা করে চাটি মেরে বললো,
—এখনো সেই আগের মতই আছিস।দুষ্টুমি এক ফোঁটাও কমেনি।স্কুল-কলেজে থাকতে যা করে বেড়াতিস!আমি তো বাবা ভয়ে থাকতাম কখন আবার তোর বান্ধবী বলে কেউ তোর ভাগের ক্যালানিটা আমায় দিয়ে দেয়।
আরিয়ান মুখ বাঁকিয়ে বললো,
—তুই ক্যালানি খেতে রেডি থাকলে তোকে দিতে আর দোষ কোথায়?সব সময় তো কাঁপতে থাকতিস।আগেও কাঁপতিস এখনো কাঁপিস।কতবার বলেছি একটু সাহস বাড়া।না কে শুনে কার কথা?শেষমেষ মেডিকেলের পড়াটাও অর্ধেক ছেড়ে দিলি।
মেয়েটি মুখ লটকে বললো,
—এই এভাবে বলছিস কেন?তোরা তো জানিসই এসব র'ক্ত-টক্ত,লা'শ কাটা আমার দ্বারা কি হয় বলতো?তবুও মা-বাবা জোর করে মেডিকেলে এডমিশন দেয়ালো।আর আল্লাহর কি খেল চান্সও পেয়ে গেলাম! কিন্তু গাধা দিয়ে কি আর হাল চাষ হয়?ব্যস!যা হওয়ার তাই হলো।দেড় বছরের মধ্যে ড্রপ আউট!
আরিয়ান শুধু হতাশার নিঃশ্বাস ফেললো।সত্যিই পৃথিবীতে এমন অনেক মা-বাবা আছে যারা নিজেদের ইচ্ছেটা সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে গিয়ে সন্তানের কিসে ভালো হবে,কিসে মন্দ হবে সেটা ভাবতেও ভুলে যায়।আরিয়ান প্রশ্ন করলো,
—আচ্ছা কাশফি তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?আসলে অনেকদিন ধরেই করবো করবো ভাবছিলাম।
কাশফি মজা করে বললো,
—বাব্বা কি দিনকাল এলো?আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতেও তোর ভাবতে হয়!
—(ইতস্তত করে)না মানে...আচ্ছা আঙ্কেল,আন্টি কি ইফাদ ভাইয়ার ব্যাপারটা জানে না?
প্রশ্নটি শুনতেই কাশফির মুখে আধার নেমে এলো।আরিয়ানের বেশ খারাপ লাগলো।ও সান্তনা বাণী হিসেবে কিছু বলবে এমন সময় কাশফি বলা শুরু করলো,
—মেয়ে মেডিকেলে পড়ে কত গর্বের সাথে মানুষকে বলতো।শেষে কিনা সেই মেয়ে মুখে তাদের মুখে চুনকালি মেখে মেডিকেল ড্রপ আউট হলো।এমন মেয়ের জন্য যে সরকারি চাকরিজীবীওয়ালা পাত্র পেয়েছে এই তো ঢের।জলদি বিয়ে দিয়ে বিদায় করলো।বিয়ের পর অবশ্য বেশ যত্ন আত্নিই করতো।সরকারি চাকরিজীবিওয়ালা জামাই কিনা।মেয়েকেও তো একটু দাম দিতে হয়।প্রথম যেদিন স্বামীর দ্বারা আঘাতে জর্জরিত হয়েছিলাম সবার প্রথমে মা-বাবার কথাটাই মাথায় এসেছিল।এই দুনিয়ায় তাদের থেকে আপন আর কে আছে?ফোনে মাকে সব বললাম।সব শুনে মা বললেন আমি নাকি উনার জামাই এর সাথে বেয়াদবি করেছি।তাই এমন হয়েছে।ইফাদের কথা যেন মেনে চলি হেন তেন আরো উপদেশ দিলেন আর সংসারে মানিয়ে নিতে হয় এই মূল বাক্যটা তো ছিলই।তাও পরে আরো অনেকবার বেহায়ার মতো মা-বাবাকে বলেছিলাম এমনকি(হাতে থাকা লালচে মারের দাগগুলোকে উদ্দেশ্য করে)মাকে তো এই দাগ গুলোও দেখিয়েছিলাম।তবে মায়ের প্রতিবার একটাই উত্তর থাকতো।সংসারে মানিয়ে নিতেই হবে।আর আমার মত অযোগ্য মেয়ের জন্য এমন জামাই তো হাতে চাঁদ পাওয়ার মত।(আরিয়ানের দিকে চেয়ে)জানিস আমিও একসময় ভেবেছিলাম কাকে আর বলবো।মা-বাবাই তো বলছে এসব।তাই ভাবলাম মানিয়েই নেই।ইফাদের এই আঘাত,কথায় কথায় করা সন্দেহ, মানসিক অত্যাচার, পরকিয়া এগুলোকে এক প্রকার জীবনের অংশ ধরে নিয়েছিলাম।(কাশফির গলা কেঁপে উঠলো)কি...কিন্তু সে...সেদিন আ...আর পারলাম না যেদিন ওই জানোয়ারটা নিজের সন্তানকে খুন করতে চাইলো।ইফাদের মনে হতো আমার গর্ভের এই সন্তান ওর সকল কর্মকাণ্ডে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।এরকম লাইফ আর লিড করতে পারবেনা।তাই ও সেই কবে থেকে আমার এবোরশন করানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। দিনকে দিন ওর উৎপাত বেরেই যাচ্ছিল।আর শেষে বহু কষ্টে তোর নম্বর নিয়ে তোর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম।
আরিয়ানের মনে পড়ে ঠিক কি হয়েছিল।কাশফি আরিয়ানের স্কুল লাইফের ফ্রেন্ড।ছোট থেকেই অনেক সুন্দর বন্ধুত্ব ওদের মধ্যে।স্কুল কলেজে একসাথে পড়াশোনা করেছে।তবে তারপর আরিয়ান ভার্সিটিতে আর কাশফি মেডিকেলে এডমিশন নেয়।রিদ্মও হাই স্কুল থেকেই আরিয়ানের বন্ধু।তবে কাশফির সাথে ওর আহামরি তেমন বন্ধুত্ব নেই।মেডিকেল ড্রপ আউট হওয়ার পরে কাশফির বিয়ে হয় ইফাদের সাথে।বিয়ের পর আরিয়ানের সাথে ওর যোগাযোগ ছিলই না বলতে গেলে।ইফাদ প্রচন্ড সন্দেহপ্রবণ এবং মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ মানুষ।কাশফিকে শারীরিক,মানসিক আঘাত করা, সন্দেহ প্রবণতা এ সকল কিছুই ওর মধ্যে ছিল।কিছুদিন আগে কাশফি জানতে পারে ও প্রেগন্যান্ট।ও খুশি মনে ইফাদকে সংবাদটা দিলেও ইফাদ মোটেই খুশি হয় না। বরং এবোরশন করতে বলে।কাশফি বিরোধীতা জানালে ইফাদের অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।শেষে নম্বর যোগার করে একদিন রাতে আরিয়ানকে কল করে সমস্তটা জানায় ও।এতদিন পর কাশফির ফোন পেয়ে আরিয়ান অবাক হওয়ার সাথে সাথে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে যায়।কাশফির মুখ থেকে সব শুনে আরিয়ান কাশফিকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।ওরা দুজনে মিলে একটা প্ল্যান করে।আরিয়ান ইফাদকে একটা লোভনীয় অফার দেয়।বড় বিজনেসম্যান হওয়ার দরুন আরিয়ানকে কম-বেশি সকলেই চিনে।তাই কাজটা আরো সহজ হয়।আরিয়ান ওকে বলে ও একটা নিউ বর্ন বেবি এডপ্ট করতে চায়।আর কাশফিরা যেই গাইনোকোলজিস্ট কে দেখায় উনিই আরিয়ানকে ওদের ইনফরমেশন দিয়েছে কারণ ইফাদ সেই ডক্টরকে বলেছিলে যে ও এই বাচ্চাটা রাখতে চায় না।আরিয়ান এও বলে বাচ্চাটার পরিবর্তে ও পঁচাত্তর লক্ষ টাকা দেবে।লোভী ইফাদ এতো বড় সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় নি।ও আরিয়ানের সাথে ডিলে রাজি হয়। তারপর থেকে ও কাশফি আর ওর বাচ্চার প্রচুর খেয়াল রাখতে শুরু করে।আর এদিকে কাশফি আরিয়ানের সাহায্যে গোপনে ডিভোর্স ফাইল করে।আজ ডিভোর্স সংক্রান্ত একটা কাজের ব্যাপারে কথা বলতেই অফিসে এসেছিল তখন কথাবার্তার একপর্যায়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে।আর সেই সময় মেঘলা এসে পৌঁছায় এবং পুরো ব্যাপারটা না জেনেই ভুল বুঝে বসে।
*****
সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আরিয়ান জলদি অফিস থেকে ফিরে এসেছে।সাথে এনেছে মেঘলার পছন্দের হলুদ গোলাপ আর কিটক্যাট।বাচ্চার ব্যাপারটা নিয়ে মেয়েটা বেশ আপসেট থাকে।আরিয়ান কত করে বুঝিয়েছে আল্লাহ যখন চাইবেন তখনই হবে।কিন্তু ও বুঝলে তো!আরিয়ান বেল বাজালে রিতু এসে দরজা খুললো।ওকে দেখে আরিয়ানের হাসি নিভে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে গেলো।ও রিতুকে জিজ্ঞাসা করলো,
—কিরে তুই দরজা খুললি?তোর ভাবি কোথায়?
—ভাবি তো বাড়িত নাই ছোট ভাইজান।
—কেন কোথায় গেছে?
—হেডা তো জানিনা।
আরিয়ান কিছু একটা ভেবে বললো,
—ঠিক আছে যা তুই।
—আইচ্ছা।
রিতু চলে গেলো।আরিয়ান বাড়িতে ঢুকেই চেঁচিয়ে ডাকলো,
—মা!মা!
নীলিমা আক্তার ট্রেতে করে দুটো গ্লাস হাতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।বিরক্তি মিশ্রিত গলায় বললেন,
—কি হয়েছে এভাবে চেঁচাচ্ছিস কেন?(আশেপাশে ভালো করে লক্ষ্য করে)আর মেঘলা মা কোথায়?এসেই উপরে চলে গেল নাকি?আমিতো তোদের জন্য শরবত নিয়ে এলাম।
আরিয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
—কি বলছো এসব?মেঘলা কোথায় মানে?রিতু যে বললো ও নাকি বাড়িতে নেই বাইরে কোথাও গেছে।
—হ্যাঁ ও তো তোর অফিসেই গেছে আর তোর সাথেই তো ফিরবে বলে আকিব ভাইকে গাড়ি নিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিল।তোর সাথে ফেরেনি?
—না আমার সাথে তো ওর দেখা হয়নি।ইনফ্যাক্ট আমি তো জানিও না ও অফিসে গেছে।
—(অবাক হয়ে)কি বলছিস কি এসব?
ওনাদের কথোপকথনের মাঝেই ফারহান খান নিচে নেমে এলেন।এতক্ষন ঘরে বসে বই পড়ছিলেন তিনি।ওনাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
—কি হয়েছে নীলিমা এত চিন্তিত লাগছে কেন তোমাদের?
—আরে আর বলো না মেঘলা মা না অফিসে গেলো।এখন আরিয়ান বলছে অফিসে নাকি ওর সাথে দেখাই করেনি।
—আরে এতে এতো চিন্তা করার কি আছে?(আরিয়ানের উদ্দেশ্য)এক কাজ করো তুমি মাহবুবকে একটা ফোন করো।হয়তো মেঘলা মা ওখানেই গেছে। বোধহয় বাড়ির জন্য মন কেমন করছিল তাই অফিস থেকেই চলে গেছে।
যতই মন খারাপ করুক অফিসে গিয়েও আরিয়ানের সাথে দেখা না করেই মেঘলা চলে গেছে এটা আরিয়ান কিছুতেই মানতে পারছিল না।তবুও ও হাতের জিনিসপত্র গুলো রেখে মাহবুব আলমকে ফোন করলো।মাহবুব আলম ফোন রিসিভ করলেন।
—আসসালামু ওয়ালাইকুম আব্বু!
ওপাশ থেকে হাসি মিশ্রিত উত্তর ভেসে এলো,
—ওয়ালাইকুমুস সালাম বাবা!কেমন আছো তুমি?
—জ্বী আব্বু ভালো আছি।আপনারা কেমন আছেন?
—আমরাও বেশ ভালো আছি বাবা।
আরিয়ান মেঘলার বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে নেবে এমন সময় মাহবুব আলম নিজে থেকেই বললেন,
—তা এতদিন হয়ে গেল।মেঘলা আর তুমি এসো না। একটু এসে ঘুরে যাও বাবা।আমাদের সবার ভালো লাগবে।
আরিয়ান স্তব্ধ হয়ে গেলো।মানে মেঘলা ওখানে যায়নি! ওপাশে মাহবুব ভালো হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছেন। আরিয়ানের হাত থেকে ফোনটা নিচে পড়ে গেলো। নীলিমা আক্তার আর ফারহান খান দৌড়ে এগিয়ে এলেন।ফারহান খান উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন,
—আরিয়ান মাহবুব ভাই কি বললেন?কি হয়েছে?
—আ... আব্বু মে...মেঘলা ওখানে যায়নি।
আরিয়ানের গলার স্বর কাঁপছে।ওর পা দুটো টলছে। নীলিমা খান চিন্তিত গলায় বললেন,
—যায়নি মানে?তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়?
আরিয়ান কোনমতে নিজেকে সামলে নীলিমা আক্তারকে জিজ্ঞাসা করলো,
—মা তোমার ঠিকঠাক মনে আছে তো মেঘলা অফিসে যাওয়ার কথাই বলেছিল তো?
—হ্যাঁ বাবা আমার স্পষ্ট মনে আছে আর আজ ও অনেক খুশি ছিল।দুপুরে আমার কাছে এলো।তোর পছন্দের একটা শাড়ি পরলো।বাড়ির গাড়ি নিয়েই তো গিয়েছিল।
আরিয়ানের মাথা কাজ করছিল না।মেঘলা কোথায় গেল তাহলে!এমন সময়ের মাথায় এলো মেঘলা যেই সময় অফিসে গিয়েছিল তখন তো সেখানে কাশফি ছিল!ওহ্ শিট!ও হাত মুঠো করে সোফার হাতলে ঘুষি মারলো।নীলিমা আক্তার চমকে গিয়ে বললেন,
—কি করছিস আরিয়ান?
—মা আমার অনেক বড় একটা ভুল হয়ে গেছে।মেঘলাকে...মেঘলাকে খুঁজতেই হবে।খুঁজতেই হবে! কোথায় যেতে পারে ও ?(মাথার চুল খামচে ধরে)কোথায় যেতে পারে?
চলবে...
💬এখানে কার দোষ বেশি মেঘলা না আরিয়ানের? কমেন্ট করে জানাবেন