ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের বৃষ্টি

৫২তম পর্ব

লেখক: নাজমিন

#প্রণয়ের_বৃষ্টি

#writer_nazmin

#Part_52

🚫কপি করা নিষিদ্ধ

তাশা দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে পায়চারি করছে।এটা ওর একটা বদঅভ্যাস যে অতিরিক্ত টেনশন করলেই ও দাঁত দিয়ে নখ কাটা শুরু করে।আর বর্তমানে টেনশনটা ওর ভেতরের কৌতূহল নিয়ে।ও কিছুতেই নিজের কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারছে না যে গল্পের পরবর্তী অংশে কি হলো।ও এবার বিরক্ত হয়ে বললো,

—ধুর!কেন যে মায়ের কাছে গল্প শুনতে চাইলাম?আমার তো মনে হচ্ছে খাবারই হজম হবে না।এখন গল্পটা আমায় কে বলবে?যাদের বলার কথা তারা কি করছে!

তাশা দরজায় উঁকি দিয়ে রান্না ঘরের দিকে তাকালো।এখনো একই চিত্র চলছে।তাশা কপাল চাপড়ালো।শেষে কিনা বেগুন কাটা নিয়ে ঝগড়া।ওর মা-বাবা পারেও বটে।রিদ্ম দুবছর হলো রিটায়ার্ড করেছে।তিথিও বর্তমানে পুরদস্তুর গৃহিণী।রিদ্মর মা-বাবা দুজনেই বছর দুয়েক হলো ইন্তেকাল করেছেন।তাশার কথা চিন্তা করে চাকরিটা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে তিথি।আসলে এখন মাঝে মাঝেই রিদ্মর তিথিকে সাহায্য করার অনেক ইচ্ছা জাগে।আজও ইচ্ছা জেগেছিল।তিথি বেগুন ভাজার জন্য কিছু বেগুন কাটতে নিয়েছিল এমন সময় রিদ্ম এসে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।তিথি বারবার বারণ করলেও ও শোনেনি।শেষমেষ যা হবার তাই হলো!গোল করে কাটার বেগুন কুচি কুচি করে কেটে বসে আছে।এই নিয়ে একদফা ঝগড়া সেই যে শুরু হয়েছে আর থামার নাম নেই।মাঝে মাঝে তো এদের ঝগড়ার চাপাচাপিতে তাশাই স্যান্ডউইচ হয়ে যায়। কাকে ছেড়ে কার পক্ষ নিবে?দুজনেই তাশাকে নিজের দলে টেনে আনতে বদ্ধপরিকর থাকে। তবে একমাত্র মেয়ের হওয়ায় দুজনের কাছেই ওর আদরটা অনেক বেশি।বাবার তো নয়নের মনি ও।তাইতো চট্টগ্রাম ভার্সিটিতে পড়াশোনা করা সত্ত্বেও বাসা থেকে যেয়েই ক্লাস করে।রিদ্ম যে মেয়েকে চোখের আড়াল করতে নারাজ। তিথি অবশ্য এত ন্যাকামি দেখলে মাঝে মাঝে একটু ক্ষেপেই যায়।আর পাইলট হওয়ার সুযোগটা খুব ভালোই তুলেছে রিদ্ম।নিজে প্রাইভেট জেট কিনে নিয়েছে আর নিজের মেয়ের পাইলট ও নিজেই।বেলের শব্দ পেতেই তাশার চোখে আনন্দের ঢেউ খেলে গেলো।বড় করে হেসে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললো,

—এসে গেছে!

ও দরজা খোলার উদ্দেশ্যে ভোঁ দৌড় দিলো। তিথি ও রিদ্ম ঝগড়া থামিয়ে দরজার দিকেই যাচ্ছিলো।মেয়েকে এভাবে দৌড়াতে দেখে রিদ্ম চিন্তিত গলায় বললো,

—আস্তে আম্মু!পড়ে যাবে তো!

তিথি মুখ বাঁকিয়ে কটাক্ষ করে বললো,

—তোমার গুনধর মেয়ে কারো কথা শুনলে তো?

রিদ্ম আড়চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বললো,

—মেয়ে যে কার মত হয়েছে সেটা পাবলিক ভালো করেই জানে।

তিথি তেঁতে কিছু বলবে এমন সময় রিদ্ম ফোন কানে ব্যস্ত ভঙ্গিতে 'হ্যালো!হ্যালো!' করতে করতে ঘরের দিকে চলে গেলো‌।তিথি দাঁত কিড়মিড় করতে থাকে।

*****

যতটা উচ্ছ্বাস নিয়ে দরজা খুলেছিল দরজার ওপর প্রান্তে থাকা মানুষটাকে দেখে তাশার উচ্ছ্বলতা ততোটাই নিভে গেলো।ও চোখ মুখ কুঁচকে বললো,

—তুই!

বর্ষণ ওর মাথায় গাট্টা মেরে ব্যঙ্গ করে বললো,

—কেন সালমান খানের আশা করেছিলি বুঝি?যেই ভাবে জোনাকির পাছার মত জ্বলতে জ্বলতে দরজা খুললি!

তাশা মাথা ডলতে ডলতে চিৎকার করে উঠলো,

—বর্ষণের বাচ্চা!ছাড়বো না আমি তোকে!

বর্ষণ ফের ওর মাথায় গাট্টা মেরে বললো,

—এই বেয়াদব!বড়দের নাম ধরে ডাকিস?তোর থেকে গুনে গুনে চার বছর একদিনের বড় আমি।সম্মান দিতে শেখ।

তাশা ভেংচি কেটে বললো,

—এহ্!সম্মান দিতে শেখ!তোকে আবার সম্মান? তোকে তো পারলে...

এমন সময় ওর মাথায় ফের গাট্টা পরলো।ও পেছনে তাকিয়ে দেখলো তিথি রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

—বাদর মেয়ে!সবসময় আমার ছেলেটাকে জ্বালাস তাই না?বেচারা ঘরেও ঢুকতে পারে নি আর শুরু করে দিয়েছিস!

—মাম্মা তুমি সব সময় শুধু আমাকেই বলো। দেখছো না এই বর্ষণ কি করছে?

তিথি ধমকে উঠলো,

—এই বর্ষণ কিরে বর্ষণ কি?তোর বড় হয় না ও? ভাইয়া বলে ডাকবি।

কথাটা শুনে এতক্ষণ মুখ টিপে হাসতে থাকা বর্ষণেরও হাসিও কেন জানি দপ করে নিভে গেলো।ভাইয়া!ও কোনো একটা ভাবনায় মশগুল হয়ে গেলো।তাশা নিজের সাফাইয়ে কিছু বলবে এমন সময় তিথি গদগদ গলায় বলে উঠলো,

—কিরে বর্ষণ বাবা বাইরে দাঁড়িয়ে কি করছিস? জলদি ভেতরে আয়।(বর্ষণের পেছনে তাকিয়ে) আর তোর মা-বাবা কোথায়?

বর্ষণ উত্তর দেওয়ার আগেই ওর পেছন থেকে ভেসে এলো,

—দাওয়াত যখন দিয়েছিস তখন সব অতিথিরাই এসেছে।কামচুরি করার কোনো সুযোগ নেই।

সকলে আওয়াজ অনুসরণ করে তাকিয়ে দেখলো দুজন মধ্যবয়স্ক নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে।ততক্ষণে রিদ্মও এসে তিথির পাশে দাঁড়িয়েছে।নারী,পুরুষ দুজন এগিয়ে এলো। রিদ্ম এসে পুরুষটির সাথে কোলাকুলি করলো।তাকে ছেড়ে দিয়ে তার কাঁধ চাপড়ে বললো,

—এতক্ষণে আসার সময় হলো তোর ব্যাটা? এখনো লেট লতিফ আরিয়ানই রয়ে গেলি?

আরিয়ান চোখ ছোট ছোট করে বললো,

—আচ্ছা আমি লেট লতিফ ছিলাম?স্কুল থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সব জায়গায় লেট পৌঁছানো দ্যা গ্রেট রিদ্ম শাহরিয়ার কিনা এটা বলছে?

রিদ্ম মাথা চুলকে নিচু স্বরে বললো,

—আরে ভাই একটু অফ যা না।বাচ্চাদের সামনে ইজ্জত মারবি নাকি?

তিথি মাঝখানে ফোড়ন কাটলো,

—তা বলবে না কেন শুনি?জীবনে নাকি এমন লোকও আছে বিয়ের দিন ওয়াশরুমে গিয়ে বিয়ে পড়ানোর সময় দেরি করে এসেছে?হুহ!

সকলে মুখ টিপে হাসছে।রিদ্ম মুখটাকে বাংলার পাঁচের মতো বানিয়ে রাখলো।তাশা এতক্ষণে মুখ খুললো।মুখ ফুলিয়ে অন্যদিকে ফিরে বললো,

—আমাকে দেখছি কারো চোখেই পড়ছে না?

মেঘলা আরিয়ান হেসে দৃষ্টি বিনিময় করলো।মেঘলা ওর কাছে এগিয়ে এসে ওর গাল টিপে তোর চোখে করে ঢং করে বললো,

—ওরে বাবালে!আমাদের তাশামণিকে কেউ দেখছেই না?(আরিয়ানের উদ্দেশ্যে ভ্রু কুঁচকে)কি বলো তো তুমি আরিয়ান?আমাদের তাশামনির কথা জিজ্ঞাসা করবে না সবার আগে?

আরিয়ান দাঁত দিয়ে জিভ কেটে বললো,

—এই যা ভুল হয়ে গেলো তো।(তাশার উদ্দেশ্যে) সরি মামনি!এই যে চাচ্চু কান ধরছি।(কানে ধরে)

তিথি হই হই করে উঠলো,

—আরে আরিয়ান ভাইয়া কি করছো?

তাশা ফিক করে হেসে দিলো।হাসি থামিয়ে বললো,

—এটা কিন্তু ঠিক না।প্রতিবার এভাবেই আমার রাগ বলিয়ে দাও তোমরা।

তাশা দিয়ে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরলো।আরিয়ানও মুচকি হেসে ওকে জড়িয়ে ধরলো। ওই অবস্থাতেই তাশা বললো,

—আজ কিন্তু তোমার অনেক কাজ আছে। আমায় গল্প শোনাতে হবে।

মেঘলা ভ্রু কুঁচকে বললো,

—গল্প?কোন গল্প?

তিথি কপাল চাপড়ে বললো,

—এই মেয়ের মাথা থেকে আর গল্পের ভূত নামলো না।আগে চলো সবাই।খেতে খেতে বলছি।

চলবে...

💬 প্রণয়ের বৃষ্টি সিজন টু চাই নাকি কমেন্ট করে জানাবেন

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন