ফন্ট সাইজ:
থিম:
হারানো তারার সপ্ন

লিখনিতে :@Nagi Seishiro⚽💙

লেখক: @Nagi Seishiro⚽💙

— আামি কখনো সানজিদা কে বিয়ে করবো না বাবা!

— আদ্র…..
—মা তুমি বাবা কে বুঝাও!
চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে কথাটা বলে চলে গেলো। 
আকিব চৌধুরীর তিন সন্তান, 
(আদ্রিয়ান চৌধুরী আদ্র)
(মাহিয়া চৌধুরী মেঘ)
(রায়ান চৌধুরী আয়ান) 
তার স্ত্রী (রাবেয়া)
আাকিব চৌধুরীরা দুই ভাই।
(কবির চৌধুরী) 
(আকিব চৌধুরী) 
কবির চৌধুরীর এক সন্তান (মিথিলা চৌধুরী মিম)
তার স্ত্রী (আমিনা)
রোবেয়ার বড়ো বোন (মালিহা)তার দুই সন্তান (জুই) (সানজিদা) 
সানজিদা ছোটো থেকেই আদ্র কে ভালোবাসতো। সে আর না পেরে তার মাকে বলে দেয় এবং তার মা রোবেয়াকে বলে।সে আাকিব চৌধুরীকে বললে সে তাদের বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু আদ্র,সেতো মেয়ে মানুষের জাত একদমই পছন্দ করে না, কিন্তু কেনো সেটাও জানে না😅 । আর তার মা, সেতো তার মায়ের কথায় উঠতে বসতে পারবে।
____________________________________
রাত ১:৩৪
আশে পাশে কোনো মানুষ নেই, কয়েকটা দোকান দেখা গেলেও বন্ধ। চিকোন সরু রাস্তায় অন্ধকার হলেও চাদের আলোয় হালকা আলোকিতো।
আদ্র গাড়ি নিয়ে বেড়িয়েছিলো অজানা গন্তব্যে। গাড়িটি সো সো করে এগিয়ে যাচ্ছিল অজানা গন্তব্যে। শুধু একটু শান্তির আসায়। দু ঘন্টা ড্রাইভ করার পর এক নির্জন এলাকায় এসে পরে গাড়িটি।আদ্র কিছু একটা দেখে গাড়িটা থামায়।গাড়ি থেকে নামতেই দেখতে পায় একটি মেয়ে দৌড়াচ্ছে। পেছনে অনেক গুলে ছেলে দৌড়াচ্ছে মেয়েটিকে ধরার জন্য। আদ্র দেখলো কিনতু কোনো পতিক্রিয়া না করে পুনরায় গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়। গারিটা স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথে মেয়েটি ধাক্কা খায় তার গাড়িতে।আদ্র বিরক্তিতে  চ শব্দ করে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে মেয়েটির সামনে গিয়ে এক ঝটকায় মেয়েটিকে উঠাতেই তার নজর পড়ে মেয়েটির ডাগর চোখে।
আদ্রের মনে বেজে উঠে, 
কী নেশা জরালে,
কী নেশা ছড়ালে,
আাদ্র যেনো এক ভিন্ন্য জগতে চলে এসেছে।
হঠাৎ মেটির ভয়য়ার্ত কাপা কাপা কণ্ঠ শুনে তার হুশ ফিরলো।
— প প প্লিজ অঅ আমাকে বাচান, প্লিজ বাচান আমায় প্লিজ। 
মেয়েটির কথায় কান না দিয়ে মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে গাড়িতে উঠতে নিলে পেছন থেকে কিছু হাসাহাসি আর ব্যেঙ্গাত্তক কণ্ঠ ভেসে এলো,
—ভাই দেখছেন এই মেয়ে কার কাছে সাহায্য চাইতে গেছে...
বলে উচ্চস্বরে হাসতে থাকে। 
— ঠিক বলছি.....
ধামমম
ছেলেটির কথা শেষ হওয়ার আগে আদ্র ছেলেটির মুখে জোরে একটা পান্চ মারতেই ছেলেটি মাটিতে পরে যায়। নাক দিয়ে রক্ত পরছে।পাশের ছেলেগুলো এগিয়ে আসতেই সবাইকে খুব খারাপ ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে মেয়েটির দিকে ঘার ঘুরায়।
—নাম কী?
কথাটি বলতে বলতে মেয়েটির দিকে ঘুরে তাকায়।
মেয়েটি মাথা নিচু কারে দারিয়ে ছিলো।আদ্রের কথাটি শুনে মেয়েটি আদ্রের দিকে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে কাপা কাপা কন্ঠে বলল,
—জ জ্বী মেহেরিন।
—বাড়ি?
— জ্বী____
—এখানে কী?
—পালিয়েছি।
—Wtat! 
আদ্র ভাবতেই পারেনি এই পিচ্চি কিনা পালিয়েছে। আবার মনে কৌতুহল  হলো, কেনো পালিয়েছে? কৌতুহল জমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই ফেলল,
—কেনো পালিয়েছো?
—বিয়ে থেকে।
তারা কথা বলছিল কিন্তু তারা জানতো না তাদের জীবনে কি হতে চলেছে। 
গাছের পেছনে একটি ছেলে  বসেছিল। সে এসেছিল সিগারেট খাওয়ার জন্য। কিন্তু এসে দেখে দুইটি ছেলেমেয়ে কি যেন করছে। তা দেখে সে তৎক্ষণাৎ কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না। কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল ভয়ংকর । সে এলাকার মুরুব্বীদের ডেকে আনলো। তারা এসে দুটি ছেলে মেয়েকে একসাথে দেখে তাদের ডাকলো। তাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। মেয়েটির ড্রেস এলোমেলো ছেলেটির ড্রেস তেমন গোছানো না। তারা হয়তো অন্য কিছু মনে করেছে।তাই তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে ফিসফিসানি শুরু করল। আদ্র আর মেহরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের মধ্যে একজন  ওদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল, 
—তোমাদের মধ্যে কি সম্পর্ক? 
আদ্র  সঙ্গে সঙ্গে বলল, 
—সম্পর্ক! কিসের সম্পর্ক! এই মেয়েকে আমি  চিনি না! 
ওনাদের মাঝখান থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন, 
—তোমাগো মত ছাও কত যে দেখছি। আকাম কুকাম কইরা পরে কও আমি ওরে চিনি না ও আমারে চিনে না। 
মহিলাটি কথা শুনে আদ্রের কিছু খটকা লাগলো। সে যা ভাবছে তা করতে যাচ্ছে না তো এরা। আদ্রের ভাবনার মাঝে একজন বৃদ্ধ বলে উঠল, 
—ওগোরে বিয়া করায় দাও। নাইলে আমগো গ্রামের নাম খারাপ হইয়া যাইবো। 
কথাটা শোনা মাত্র  মেহেরিন চোখ দুটো বড় বড় করে তাদের দিকে তাকালো। মেয়েটি ভয়ার্ত কন্ঠে বলল, 
—ক ক কী বলছেন এইসব আপনারা, আমাদের মধ্যে কোন সম্পর্কতো দূরের কথা আমরা একে অপরকে চি.....
কথাটা শেষ করার আগেই একজন মহিলা বলে উঠলেন, 
—এই নষ্ট মাইয়া চুপ কর। 
মেহরিন বিস্ময়ে  আওড়ালো, 
— ন নষ্টা...
—হ তোর লাহিন নষ্ট মাইয়ার লাইগা আমগো এলাকার নাম খারাপ হইতে যাইতাছিল। ভাগ্গিস আমার পুলাডায় আছিলো।আমার পোলাডায় যদি না থাকতো তাইলে তোরা ছিহহহ মুখেও আনতে পারতাছিনা।
আরেকজন বলে উঠলো 
—ওই কেউ কাজি নিয়াই তো, আর এই পোলা মাইয়া ডিরে ঘরের লইয়া যা পলাইতে যেন না পারে। 
এরপর ওদেরকে ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। মেহেরিন বিস্মিত হল।এই লোকটি কেন প্রতিবাদ করছে না। 
কাজি আনা হলো।আদ্র কে কবুল বলতে বললে সে তিনবার বলে দিল কিন্তু মেহেরিনের সময় পড়লো বিপত্তি। কারণ মেয়েটি কান্না করেই যাচ্ছে আর বোঝানোর চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়েটা হয়ে গেল মেহেরিনের কবুল বলা দিয়ে।
 তাদের যে লোকের বাড়িতে বিয়ে হয়েছো সে বাড়িতে আজ তাদের রাত কাটাতে হবে।আদ্র কিছু বলে নি কারন সে জানত এখানে কিছু বলে কোনো লাভ হবে না।
রোমটিতে জিনিস পত্র বলতে একটি বিছানা, দুটি ছোফা, একটি আালমারি। 
আদ্র আজ ছোফায় ঘুমিয়েছে আর মেহেরিন বিছানায়। সারা দিনের দখলে মেহেরিন ক্লান্ত হয়ে  তারাতারি ঘুমিয়ে পরলেও আদ্র,আদ্রের চোখে এক ফোটাও ঘুম নেই। কারনটা সাভাবিক।বড়োলোক বাড়ির ছেলে রাজকিও বিছানায় ঘুমিয়ে অবভ্যস্ত সে জায়গায় এই ছোট্ট ছোফায় কি আর তার ঘুম আসে। 
সামনে কোনো মসজিদ থেকে আাজানের ধ্বনি কানে আসতেই মেহেরিন এর ঘুম ভেঙে যায়।ওঠে জানালা টি খুলে দেয়। সাথে সাথে একটি ঘুমন্ত পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
—জানালা বন্ধ করো।
—আমমম.... জী করছি।
বলে জানালা বন্ধ করে দিলো মেহেরিন। 
সে এখন নামাজ পরবে। কিন্তু জায় নামাজ কোথায় পাবে কথাটা ভাবতেই হঠাৎ দরজায় টোকা পরল।
মেহেরিন দরজার সামনে দাড়িয়ে নিচু স্বরে আাওরালো,
—কে..
—আগো নাতিম দরজা খুল। আামারে চিনবি না তুই।
মেহেরিন দরজা খুলতেই দেখলো একজন বৃদ্ধা মহিলা। হাতে কিছু ড্রেস আর জায়নামাজ।ওগুলো মেহেরিনের দিকে বারিয়ে দিয়ে বলল,
—লও নাতিন। এডি আমার বড়ো নাতিনের জামা তোমার গায়ে ভালা মানাইবো এবার যাও তো যাও গোসল কইরা নামাজ পইরা লও। 
এরপর মহিলাটি পেছন ঘুরে যেতে যেতে মেহেরিনকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে বললেন,
—নামাজ পইরা আমারে ডাক দিও নানি কইয়া আর কিছু লাগলে সংকোছ কইরো না।
—ঠিকাছে।
আদ্র সারা রাত এপিঠ ও পিঠ করে ভোরের দিকে যেই একটু ঘুমিয়েছিলো মেহেরিন জানালা খুলে আাবার জাগিয়ে দিয়েছে। এতে আদ্র ভিষণ বিরক্ত। 
—এই মেয়ে! 
মেহেরিন দরজা লাগিয়ে পেছনে তাকালো কিন্তু কিছু  বলল না
—তুমি জানালা খুলেছিলে কেনো? 
এবার মেহেরিনের মাথা নিচু করা মিনমিনে কন্ঠ ভেসে এল।
—ঘরটা অন্ধকার হয়েছিলো তাই।
আদ্র আর কিছু বলল না।
____________________________________
সকাল ৮:০০
আদ্র আর মেহেরিন চলে যেতে নিলে তারা যার বাড়িতে ছিল তারা তাদের খায়িয়ে দায়িয়ে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছে।
মেহেরিন আর আদ্র পাশাপাশি বসে আছে।  আদ্র ড্রাইভ করছে।আর মেহেরিন,সেতো ভাবছে কাল তাদের সাথে কি হয়ে গেলো। সেতো এসেছিলো বিয়ে থেকে পালিয়ে। কিন্তু কি লাভ হলো, সেই বিয়ে তো করতেই হলো। বিয়ে টা যেইভাবেই হোক হয়েছেতো। সেটা তো আর অশ্বিকার করা যায় না। 😅
মেহেরিন আবার ভাবলো, কালকের মানুষ গুলো তাদের সাথে কেমোন আচরোন করলো আর আজ😅
তার এই ভাবনার মাঝেই আদ্র বলে উঠলো,
—আমাদের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু এখোনি ড্রিভর্স হবে না ৬ মাস ওয়েট করতে হবে।
—কেনো?
আদ্র মেহেরিনের দিকে তাকালো,
—কারনটা সাভাবিক,বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী একসাথে এডজাস্ট করতে হয় আর যদি না পারে তবে ডিভোর্স করে ফেলে তাই তাদের ৬মাস সময় দেয়া হয়।  একটু থেমে বলল, 
—বিয়ের সাথে সাথে ডিভোর্স হয় না। 
—তো এখোন কি করবো আমরা?
—সময় হলে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিব। 
মেহেরিনের ডিভোর্স শব্দটা কানে আসতেই কেমন জেনো লাগলো।তবু্ও সে বড়ো একটি শ্বাস নিয়ে বলল,
—কবে হবে সময়?
আদ্র মেহেরিনের কথার Ans না দিয়ে বলল,
—বাড়ির এড্রেস দাও।
মেহেরিন বলল।
____________
পরিচয়,
মেহেরিনের পুরো নাম (মেহেরিন তাসনিন মায়া) বাবা (কায়সার)মা তার জন্মের সাময় মারা যায় একপর সে দ্বিতীয় বিয়ে করে পাঁচ বছরের  একটি মেয়ে ছিল । নাম (যারা) ।মেহেরিনের সৎ মায়ের নাম (ছামিয়া)।মেহেরিন কে ছোটো বেলা থেকে তার বাবা অবহেলা করতো। তার ধারনা ছিল মেহেরিনের জন্য তার (মালিহা)মারা গিয়েছে। কিন্তু ছামিয়া, ছামিয়া তার সৎ মা হলে কি হবে সে তাকে মায়ের অভাব কোনো দিন বোঝতেই দেন নি।মেহেরিনের বয়স  ১৭। সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। বাবা তাকে না বলে এক বুরো লোকের সাথে বিয়ে দিয়ে দিতো।কিন্তু ছামিয়া তা হতে দেয় নি। সে মেহেরিন কে পালাতে সাহায্য করেছে।আর যারার বিয়ে হয়ে গেছে ১ বছর আগে। বর্তমানে সে ১ মাসের গর্ববতি।
____________
বর্তমান,
গাড়িটি এসে থামলো দুতালা বারির সামনে।
গাড়ি থেকে নামতেই আদ্র বলল, 
—কালকের বিষয়ে কাউকে কিছু বলার প্রয়জন নেই।
মেহেরিন মাথা নারিরে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল।
বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতেই দেখল...
......
চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে লিখনিতে :@Nagi Seishiro⚽💙 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন