ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি ময় এক অদ্ভুত নেশা

২য় পর্ব

লেখক: রুপা

#তুমিময়_এক_অদ্ভুত_নেশা

লেখনীতে_ #রুপা 
পর্বঃ ২
••
আরিশাকে দেখে সায়রা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল- – “তুই আজকে এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলি কীভাবে?”
আরিশা সায়রার দিকে এগিয়ে গিয়ে মজা করে বলল- – “আমি স্বপ্নে দেখলাম তুই আমার আম্মুকে নিজের আম্মু বানিয়ে ফেলেছিস, আর আম্মু তোর কথা শুনে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিচ্ছে! তাই ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে আম্মুর কাছে আসছিলাম। এসে দেখি সত্যি সত্যি তুই আম্মুকে নিজের করে নিয়েছিস!”
আরিশার কথা শুনে শারমিন শাহরিয়ার মেয়ের কান ধরে আদুরে গলায় বললেন-
– “তবে রে! তুই এখন থেকেই আমার মেয়েকে হিংসে করা শুরু করেছিস?”
– “হিংসে করব না তো কী? তুমি তোমার পুত্রবধূকে পেয়ে নিজের মেয়েকেই ভুলে যাচ্ছো! হিংসে তো হবেই!” আরিশা অভিমানী সুরে বলল। 
তারপর সায়রার দিকে তাকিয়ে যোগ করল-
– “আর তুই কীভাবে পারলি শাশুড়িকে পেয়ে তোর বেস্ট ফ্রেন্ডকে ভুলে যেতে? এখন তো আবার আমি তোর একমাত্র ননদও! মানুষের মুখে শুনেছিলাম শাশুড়ি আর বউমা সারাক্ষণ ঝগড়া করে। আমি ভেবেছিলাম আমার আম্মু আর ভাবি যখন ঝগড়া করবে, তখন আমি ‘ভালো ননদ’ সেজে মাঝখানে গিয়ে মিটমাট করে দেব। কিন্তু এখন তো দেখছি শাশুড়ি-বউমার এই অতি পীরিতে আমি ‘কাবাব মে হাড্ডি’ হয়ে গেছি!”
এরপর আরিশা দুজনের দিকে তাকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল-
– “তোমাদের দুজনের কারণে আমার মনের ইচ্ছেটা অপূর্ণই থেকে গেল। আল্লাহ তোমাদের মাফ করবেন না! আমার কত শখ ছিল মা আর ভাবির ঝগড়া দেখব, সব মাটি হয়ে গেল!”
আরিশার কথা শুনে শারমিন শাহরিয়ার এবং সায়রা দুজনেই হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতে শারমিন শাহরিয়ার বললেন-
– “তোরা দুইজনই আমার মেয়ে। একজনকে গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছি, আর অন্যজনকে আল্লাহ আমার ঘরে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। মেয়ে হোক বা পুত্রবধূ—তোদের প্রতি আমার ভালোবাসা সবসময় এক সুতোয় গাঁথা থাকবে। তোরা দুজন সবসময় আমার ঘর আলো করে রাখবি। বাইরের মানুষ যখন তোদের দেখবে, তারা যেন মনে করে তোরা দুই বোন।”
_______
নাস্তার টেবিলে বসে সবাই নাস্তা করছে। পাশে দাঁড়িয়ে আছে সায়রা। শারমিন শাহরিয়ার অনেকবার বলেছে সায়রা যেন সবার সাথে বসে নাস্তা করে নেয়, কিন্তু সায়রা কিছুতেই তাকে ফেলে নাস্তা করবে না। ঠিক তখনই সায়রার দৃষ্টি স্থির হলো সিঁড়ির দিকে; তার চোখের পলক যেন থমকে গেল।
আরাভ সিঁড়ি দিয়ে নামছে। মনে হচ্ছে পুরো ড্রয়িংরুমের আলো যেন ওর ওপর এসে থিতু হয়েছে। ওর গায়ের উজ্জ্বল শ্যামলা রঙে রোদে পোড়া তামাটে আভার মতো এক ধরনের আভিজাত্য। ফিটফাট পোশাকের নিচে বলিষ্ঠ দেহ আর চওড়া কাঁধ ওর পুরুষালি ব্যক্তিত্বকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওর মুখের গড়নে এক অদ্ভুত অভিজাত রুচির ছাপ। তীক্ষ্ণ চিবুক আর সুগঠিত জ-লাইন (Jawline) চেহারায় এক ধরনের গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলেছে। পরিপাটি করে জেল দিয়ে সেট করা চুল, আর গভীর কালো চোখের মণি যেন কথা না বলেও অনেক কিছু বলে যাচ্ছে। ওর ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে রাখা, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে ভেতরের কোনো এক দৃঢ় সংকল্প বা গাম্ভীর্য। প্রতিটি পদক্ষেপে যেমন আত্মবিশ্বাস আছে, তেমনি মুখে আছে এক শান্ত কিন্তু দৃঢ় অভিব্যক্তি। আরাভের পুরো অবয়বে আভিজাত্য মেশানো এক বলিষ্ঠ পৌরুষ ফুটে উঠেছে।
সায়রা দ্রুত নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিল। যে লোক এই বিয়েটাই মানতে চায় না, তার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। আরাভ এসে চেয়ার টেনে বসলো। শারমিন শাহরিয়ার ছেলেকে নাস্তা পরিবেশন করে দিলেন। আরাভ একবারও এদিক-ওদিক না তাকিয়ে চুপচাপ নাস্তা খেতে শুরু করল। খেতে খেতেই আহসান শাহরিয়ার ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
– “কাল থেকে তুমি ভার্সিটি জয়েন করছো?”
আরাভ খুব ছোট করে উত্তর দিল-
– “হুম!”
– “তাহলে সায়রা মা-কেও তোমার সাথে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবে, আর আসার সময় সাথে করেই নিয়ে আসবে।”
বাবার কথা শুনে আরাভের খাওয়ার হাত থেমে গেল। সে স্থির দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল-
– “ব্ল্যাকমেইল করে বিয়েতে রাজি করিয়েছো, বিয়ে করেছি। কিন্তু সংসার করবো—এমন কথা দিইনি। আমি এই বিয়ে মানি না, তাই স্বামীর কোনো দায়িত্বও পালন করতে পারবো না। আর ওকে অন্য কোনো রুম দিয়ে দাও; আমি কারও সাথে আমার ব্যক্তিগত রুম শেয়ার করতে পারবো না।”
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আহসান শাহরিয়ার রেগে গিয়ে বললেন-
– “তুমি কী বলছো এসব? ওকে আলাদা রুম দেবো মানে? ও তো বাইরের কেউ নয়, তোমার বিবাহিত স্ত্রী। তার সাথে রুম শেয়ার করতে পারবে না মানে?”
আরাভ নির্বিকার স্বরে বলল-
– “আমি ওকে আমার বউ বলে মানি না। আর বিয়ে? সে তো তুমি আমাকে বাধ্য করেছো করতে।”
বাবা-ছেলের এই তিক্ত কথোপকথন শুনে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সায়রার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে যাতে চোখের পানি উপচে না পড়ে। নিজেকে সামলে নিয়ে সে শান্ত কণ্ঠে তাদের উদ্দেশ্য করে বলল-
– “আব্বু, তুমি শান্ত হও। রাগ করলে তোমার প্রেশার বেড়ে যাবে।” 
এরপর আরাভের দিকে তাকিয়ে বলল-
– “আর আপনি চিন্তা করবেন না, আমি আজ থেকে আরিশার সাথে ওর রুমে থাকবো।”
এরপর বাবা-ছেলের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না। তারা চুপচাপ খাওয়া শেষ করে টেবিল থেকে উঠে চলে গেল। এখন খাওয়ার টেবিলে শুধু সায়রা আর শারমিন শাহরিয়ার বসে আছে। সায়রার মনের ভেতর যে ঝড় বইছে, তাতে তার খাওয়ার সব ইচ্ছা মরে গেছে।
সায়রাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে শারমিন শাহরিয়ার বললেন খাওয়ার জন্য, কিন্তু সায়রা অস্ফুট স্বরে বলল-
– “আমার খেতে ইচ্ছে করছে না, আম্মু।”
শারমিন শাহরিয়ার এবার মৃদু ধমক দিয়ে খাবারগুলো নিজের প্লেটে তুলে নিলেন। তারপর সায়রাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিতে লাগলেন। সায়রা এতক্ষণ খুব শক্ত থাকার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এই অকৃত্রিম আদর পেয়ে সে আর নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারল না। তার বাঁধভাঙ্গা কান্না দেখে শারমিন শাহরিয়ার অস্থির হয়ে উঠলেন। তিনি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন-
– “কী হয়েছে মা? কাঁদছিস কেন? আরাভের কথায় কষ্ট পেয়েছিস?”
সায়রা কান্নায় ভেঙে পড়ে ধরা গলায় বলল-
– “আমি যদি কোনোদিন চলে যাই, আমাকে মনে রাখবে তো আম্মু? তোমার আরও একটা মেয়ে ছিল—হয়তো অল্প কয়েক দিনের জন্যই ছিল, তবুও তো ছিল। আমায় মনে রাখবে তো আম্মু?”
••
রুমে অস্থির হয়ে পায়চারি করছেন শারমিন শাহরিয়ার। তখন সায়রার কথার কোনো জবাব না দিয়ে চুপচাপ খাইয়ে দিয়ে চলে এসেছিলেন তিনি। সায়রার কথাগুলো শোনার পর ওনার নিজের গলা দিয়েও আর খাবার নামেনি। মেয়েটার কথায় কতটা অসহায়ত্ব ফুটে উঠছিল! আরাভের বাবা কেন যে মেয়েটার জীবন এভাবে নষ্ট করলেন? সায়রার চোখের দিকে তাকালেই মায়া হয়; কত মিষ্টি আর মায়াবী একটা মেয়ে! একটু আদর পেলেই ও গলে যায়। এই মেয়েটাকে একটু ভালোবাসা দিলে বিনিময়ে ও এক আকাশ সমান ভালোবাসা উজাড় করে দেবে।
এমন সময় রুমে প্রবেশ করলেন আহসান শাহরিয়ার। ওনাকে দেখেই শারমিন শাহরিয়ার প্রশ্ন করলেন-
– “কেন তোমার ওই ত্যাড়া ছেলের সাথে মেয়েটার বিয়ে দিলে? মেয়েটাকে দেখলেই বুকে আগলে নেওয়ার ইচ্ছে হয়। তোমার ছেলে কোনোদিন সায়রাকে নিজের বউ হিসেবে মানবে না; তবে কেন মেয়েটার জীবন এভাবে নষ্ট করলে তুমি?”
স্ত্রীর কথা শুনে আহসান শাহরিয়ার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন-
– “আমি তো মেয়েটার জীবনটা সাজিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। তুমি জানো, সায়রার আট বছর বয়সে ওর মা মারা যান। তারপর ওর মায়ের এক বান্ধবী ছিল, ডিভোর্সী, নাম ছিল পারভিন। মা মারা যাওয়ার পর পারভিন সায়রার খুব খেয়াল রাখত। সায়রার বাবা সরওয়ার বেশির ভাগ সময় বিজনেসের কাজে বাইরে থাকতো। তাই সায়রার কথা ভেবে এবং ওর এক ফুফুর জোরাজুরিতে সরওয়ার পারভিনকে বিয়ে করে।”
তিনি থামলেন, তারপর আবার বলতে শুরু করলেন-
– “বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই পারভিনের আসল চেহারা বেরিয়ে আসতে থাকে। সে সরওয়ারকে বিয়ে করেছিল শুধু সম্পত্তির লোভে। এরপর থেকেই শুরু হয় মেয়েটার ওপর অত্যাচার। সায়রাকে দিয়ে বাসার সব কাজ করাত পারভিন। দুই বছর পর পারভিনের একটা মেয়ে হয়, তখন থেকে অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সরওয়ারের একটা ছেলেও ছিল, যে কি না কয়েক বছর আগে বাবার সাথে রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পারভিন সব কিছু করত সরওয়ারের আড়ালে; সামনে থাকলে নিজের মেয়ের মতো আদর দেখাত, কিন্তু আড়াল হলেই শুরু হতো নির্যাতন। সায়রা পড়াশোনার ফাঁকে যেটুকু সময় পেত, ওকে দিয়ে সব খাটুনি করিয়ে নিত। এভাবেই বড় হয়েছে মেয়েটা।”
আহসান সাহেব ধরা গলায় শেষ করলেন-
– “হঠাৎ একদিন সরওয়ার আমাকে কল করে সায়রার জন্য একটা ভালো ছেলের খোঁজ দিতে বলে। আমি কয়েকবার আরিশার সাথে সায়রাকে দেখেছিলাম, তখনই আমার ওকে পছন্দ হয়। ভেবেছিলাম আরিশাকে তো একদিন বিয়ে দিয়ে পরের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে, তাই সায়রাকে নিজের মেয়ে করে এ বাড়িতে এনে একটা সুন্দর জীবন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও মনে হয় পারলাম না। আমি ব্যর্থ হয়ে গেছি।”
সায়রার জীবনের এত কষ্টের অতীত শুনে কান্না করে দিলেন শারমিন শাহরিয়ার। চোখের পানি মুছে তিনি স্বামীকে দৃঢ় কণ্ঠে বললেন-
– “তোমার ছেলে সায়রাকে মেনে নিক আর না নিক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ও এই বাড়িতেই থাকবে—আমার মেয়ে হয়ে। আরিশা যেমন আমার মেয়ে, সায়রা আজ থেকে আমার তেমনই আরেকটা মেয়ে। তোমার ছেলে যদি সায়রাকে বউ হিসেবে মেনে না-ও নেয়, তবে ও যেন ভুলেও সায়রাকে কোনো কটু কথা বলে কষ্ট না দেয়। তুমি তোমার ছেলেকে পরিষ্কারভাবে এটা বলে দেবে।”
স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে আহসান শাহরিয়ার মনে মনে বেশ খুশি হলেন। যাক, অন্তত সায়রা এই বাড়িতে একা হয়ে পড়বে না। ছেলে মেনে না নিলেও, সায়রা এই বাড়িতে তাঁর আদরের মেয়ে হয়েই থাকবে।
________
– “ফারহান, আমি এই বিয়েটা করতে চাইনি। আব্বু আমাকে বাধ্য করেছে।”
আরাভ রুমে এসে কোথাও যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল, এমন সময় ওর প্রিয় বন্ধু ফারহানের ফোন আসে। ফোনের ওপাশ থেকে ফারহান কী বলল তা শোনা গেল না, তবে আরাভ আবার বলতে শুরু করল-
-- "আব্বু আমাকে বলেছিল আমি যদি এই বিয়ে না করি, তবে আমাকে লেকচারার হিসেবে জয়েন করতে পারবো না, তার পরিবর্তে ওনার বিজনেস জয়েন করতে হবে। তুই তো জানিস, এই শিক্ষকতা আমার কতটা শখের পেশা! তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই বিয়েটা করেছি।”
কিছুক্ষণ ওপাশের কথা শুনে আরাভ আবারও বলল-
– “তুই যাই বলিস, ও যদি ফিরে আসে। ও রাজি থাকলে, আমি সায়রাকে ডিভোর্স দেব। আমি জানি এখানে সায়রার কোনো দোষ নেই, কিন্তু আমিই বা কী করতে পারি? এতে তো আমারও কোনো হাত ছিল না।”
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সায়রার চোখ দিয়ে তখন টপটপ করে পানি পড়ছে। সে আরাভের রুমে এসেছিল নিজের জামাকাপড়গুলো নিয়ে যেতে, কিন্তু এসে শুনতে পেল আরাভের প্রতিটি কথা। সায়রা দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে দরজায় নক করল সে। ভেতর থেকে আরাভ কে জিজ্ঞেস করলে সায়রা জানালো সে তার কাপড় নিতে এসেছে। আরাভ দরজা খুলে দিল।
সায়রা ভেতরে ঢুকে নিজের কাপড়গুলো নিয়ে লাগেজে ভরে বেরিয়ে আসছিল। ঠিক তখন আরাভ পেছন থেকে বলে উঠল-
– “তুমি আমার এক কথায় রুম ছেড়ে দিচ্ছ? কাল রাতে তো বেশ তেজ দেখালে!”
আরাভের কথায় সায়রার পা থেমে গেল। সে পেছন ফিরে সরাসরি আরাভের চোখের দিকে তাকাল। খুব শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল-
– “কাল রাতে যা বলেছি, তা একদম সত্যি বলেছি। আপনি কাপুরুষের মতো কাজ করেছেন, তাই আপনাকে কাপুরুষ বলেছি। আব্বু না হয় আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল, কিন্তু আপনার কি উচিত ছিল না আমাকে জানানো যে এই বিয়েতে আপনার আপত্তি আছে? আপনি জানালে আমি এই বিয়ে কোনোদিন হতে দিতাম না। আপনার জেদের কারণে আজ আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল। আপনার তো কিছুই হবে না, কলঙ্ক তো সবসময় মেয়েদের গায়েই লাগে, ছেলেদের গায়ে নয়।”
সায়রা একটু থেমে আবার বলল—
— “চিন্তা করবেন না, কলঙ্ক লাগার ভয়ে এই মেহজাবিন সায়রা কোনো মেরুদণ্ডহীন মানুষের সাথে সংসার করবে না। আপনি যখন সময় পাবেন, ডিভোর্স পেপার রেডি করে রাখবেন। এই মেহজাবিন সায়রা যেখানে নিজের গুরুত্ব পায় না, সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে।”
কথাগুলো বলে সায়রা গুমট ঘরটা থেকে বেরিয়ে গেল। তার চলে যাওয়ার পথের দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল আরাভ। তার কানে তখনও বাজছে— 'কাপুরুষ', 'মেরুদণ্ডহীন'। সে নিজের মনেই ভাবতে লাগল—
– ‘আসলেই কি আমার কারণে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে গেল? তখন তো মাথায় আসেনি যে সায়রাকে একবার জানাই। ভেবেছিলাম ও হয়তো আমার টাকা দেখেই বিয়েতে রাজি হয়েছে, তাই বললেও কোনো লাভ হবে না। তখন তো মাথায় শুধু নিজের স্বপ্ন বাঁচানোর চিন্তাটাই ছিল!’
চলবে….

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন