ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি ময় এক অদ্ভুত নেশা

৮ম পর্ব

লেখক: রুপা

#তুমিময়_এক_অদ্ভুত_নেশা

লেখনীতে_ #রুপা 
পর্বঃ ৮
••
সায়রাকে আবারও নিয়ে আসা হয়েছে স্কয়ার হাসপাতালে। যেখানে জারিফ নিজেও একজন হার্ট সার্জন। আরাভ যখন সায়রাকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে আসে, তখন নার্সরা তড়িঘড়ি করে সায়রাকে একটি কেবিনে শুইয়ে দেয়। একজন নার্স দ্রুত গিয়ে জারিফকে খবর দেয় যে, গতকাল এক্সিডেন্ট হওয়া সেই মেয়েটিকে আবারও হাসপাতালে আনা হয়েছে। খবরটা শোনামাত্রই জারিফ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে। সে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে সরাসরি সায়রার কেবিনে ঢুকে পড়ে। এদিকে সায়রার কেবিনে জারিফকে ওভাবে ঢুকতে দেখে আরাভ প্রচণ্ড অবাক হলো।
কেবিনে ঢুকে বেডে শুয়ে থাকা নিস্তেজ সায়রাকে দেখে জারিফের বুকটা মুচড়ে উঠল। তার আদরের ‘ফুলের’ কী অবস্থা হয়েছে! জ্বরের তাপে মুখটা ফ্যাকাসে লাল হয়ে গেছে। জারিফ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করল। তবে চিকিৎসা শেষ করেই তাকে ওটি-তে (OT) ছুটতে হলো, কারণ হাসপাতালে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সার্জন নেই যে তার বদলে ওটি সামলাবে। জারিফ যাওয়ার আগে সায়রার দিকে একবার করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
জারিফ চলে যেতেই আরাভ ধীরপায়ে সায়রার কেবিনে ঢুকল। দেখল মেয়েটা একদম নিস্তেজ হয়ে বেডে শুয়ে আছে। আরাভ কোনো কথা না বলে সায়রার পাশে একটা টুল টেনে বসল। সায়রার শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে তার মনের ভেতর এক অদ্ভুত হাহাকার দানা বাঁধতে লাগল।
আরাভ সায়রার নিস্পন্দ মুখের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলতে লাগল–
– “সায়রা, তুমি জানো? তোমাকে এভাবে নিস্তেজ হয়ে বেডে শুয়ে থাকতে দেখে আমার একদমই ভালো লাগছে না। তোমাকে তো সেই তেজের সাথে আমার সাথে ঝগড়া করলেই বেশি মানায়! প্লিজ, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। কথা দিচ্ছি, আমি আর তোমার সাথে ওভাবে ঝগড়া করব না।”
আরাভ একটু থামল, সায়রার ফ্যাকাসে হাতটার দিকে তাকিয়ে অপরাধবোধ নিয়ে আবার বলল–
– “কাল রাতে বলা কথাগুলো তোমার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, তাই না? আসলে আমি রেগে গেলে কী বলি, তা আমি নিজেও জানি না। আমি জানি তুমি খুব ভালো একটা মেয়ে; কিন্তু আমি হয়তো তোমার মতো অতটা ভালো নই, তাই বারবার কথার দ্বারা তোমাকে আঘাত করে ফেলি। বিশ্বাস করো সায়রা, আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না, কিন্তু তোমার সামনে আসলেই আমার কী হয়ে যায় আমি নিজেও জানি না। আই অ্যাম সরি সায়রা... রিয়েলি সরি!”
আরাভের কথার মাঝেই কেবিনে একজন নার্স প্রবেশ করলেন। তিনি আরাভকে বাইরে যেতে বললে আরাভ বিনা বাক্য ব্যয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। নার্স সায়রার স্যালাইনটা খুলে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সায়রার জ্ঞান ফিরল। সায়রার জ্ঞান ফেরার খবর শুনে আরাভ মনে মনে অনেকটা নিশ্চিন্ত হলেও বাইরে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করল না।
আরিশা কেবিনে ঢুকেই সায়রাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল–
– “সারু! আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম রে। তোর যদি কিছু হয়ে যেত, তবে আমি কার সাথে মজা করতাম, কার সাথে আড্ডা দিতাম? তুই আমাকে ছেড়ে কখনো যাস না, আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব না!”
সায়রার শরীর এখনো বেশ দুর্বল। সে অনুভব করতে পারছে আরিশা তাকে হারানোর ভয়ে কতটা অস্থির হয়ে পড়েছে। সায়রা মনে মনে একটু হাসল; তার স্বামী যেমনই হোক না কেন, শ্বশুর-শাশুড়ি আর ননদ হিসেবে সে যেন হীরা পেয়েছে! সে আরিশার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে ফেলেছে। সায়রা খুব ক্ষীণ স্বরে বলল–
– “আরু, আমি ঠিক আছি রে, দেখ। তুই কান্না থামা, আমার কিচ্ছু হবে না। আমার ভাইয়া এখনো আসেনি, ভাইয়া আসা পর্যন্ত আমাকে অন্তত ঠিক থাকতে হবে। কারণ ভাইয়া যদি এসে দেখে তার পুতুল ভালো নেই, তবে সে নিজে কীভাবে নিজেকে সামলাবে?” দুর্বলতার কারণে সায়রার গলার আওয়াজটা একদম ছোট হয়ে এসেছে।
সায়রার কথা শুনে আরিশা একটু শান্ত হয়ে চোখের জল মুছে জিজ্ঞেস করল–
– “তোর ভাইয়া এসে তোকে নিয়ে যাবে, তাই না?”
– “হ্যাঁ, ভাইয়া আমাকে কথা দিয়েছে। চার বছর পর ফিরে এসে ও আমাকে ওর সাথে নিয়ে যাবে।” 
সায়রার চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা আর প্রত্যয় ফুটে উঠল।
– “কিন্তু এখন তো তোর বিয়ে হয়ে গেছে সারু!” আরিশা কিছুটা সংশয় নিয়ে বলল।
‘বিয়ে’ শব্দটা শুনে সায়রার মুখে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। সে ম্লান হেসে বলল–
– “বিয়েটা যদি স্বাভাবিক হতো আর তোর ভাই আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিত, তবে হয়তো ভাইয়া নিয়ে যেতে চাইলেও আমি স্বামী-সংসার ছেড়ে যেতাম না। কিন্তু যেখানে বিয়ের প্রথম রাতেই আমাকে অপমান করে হাতে টাকার চেক ধরিয়ে দেওয়া হয় আর তাঁর জীবন থেকে চলে যেতে বলা হয়—সেখানে আর যা-ই হোক, ওই মানুষের জন্য মায়া বাড়িয়ে আমি পড়ে থাকব না।”
সায়রা একটু দম নিয়ে আবার বলল–
– “প্রথমে ভেবেছিলাম বিয়েটা যেহেতু হয়েই গেছে, আমি সবটুকু দিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। স্বামীকে ভালোবাসব। কিন্তু বাসর রাতের পর সেই ইচ্ছেটা মরে গেছে। এখন তোর ভাইও এই বিয়ে মানে না, আর আমিও মানি না। তাই ভাইয়া আসার পর এখানে থেকে আমি কী করব? ভাইয়া এলেই আমি তার সাথে চলে যাব।”
আরাভ মাত্র কেবিনে ঢুকতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সায়রার কথাগুলো কানে আসতেই তার পা দুটো যেন মেঝেতে আটকে গেল। সায়রার বলা প্রতিটি কথা আরাভ দরজার আড়াল থেকে শুনেছে। আর তার প্রতিটি শব্দ আরাভের বুকে তপ্ত কাঁটার মতো বিঁধছে। আরাভ আর কেবিনে ঢুকার সাহস পেল না; সে ধীরপায়ে করিডোরের চেয়ারে গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল।
সে ভাবতে লাগল— সায়রা তো একটি কথাও ভুল বলেনি! সব তো ধ্রুব সত্য। সে নিজেই তো বিয়ের রাতে টাকার চেক ধরিয়ে দিয়ে সায়রাকে চরম অপমান করেছিল এবং তার জীবন থেকে চলে যেতে বলেছিল। আরাভের এখন মনে হচ্ছে, এতটা নিষ্ঠুর হওয়া তার একদমই উচিত হয়নি। তবে তার মাথায় এখন একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে—কে সায়রার এই ভাই? যে কি না এসেই সায়রাকে নিয়ে যাবে? আর যদি নিয়ে যাওয়ারই পরিকল্পনা থাকে, তবে বিয়েটা হতে দিল কেন?
সায়রা বলল তার ভাই চার বছর পর ফিরে এসে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছে। গতকাল রাতেও সায়রা জ্বরের ঘোরে বারবার তার ভাইয়ার কাছেই অভিযোগ করছিল। আরাভ যখন এসব গভীর চিন্তায় মগ্ন, তখনই তার নজরে এল জারিফ। ওটি (OT) শেষ করে ড্রেস বদলে দ্রুতপায়ে সায়রার কেবিনের দিকেই আসছে সে। জারিফ কেবিনে ঢুকে দেখল সায়রা বেডে চোখ বুজে শুয়ে আছে আর পাশে টুলে বসে আছে আরিশা। জারিফ গভীর মমতায় সায়রাকে ডেকে উঠল–
– “ফুল!”
পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে সায়রা ক্লান্ত চোখে পিটপিট করে তাকাল। দেখল জারিফ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। জারিফকে আসতে দেখে আরিশা কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল; তার একটু ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন। আরিশা বেরিয়ে যেতেই আরাভ কেবিনের দিকে পা বাড়াল—ভাবল সায়রার যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়! কিন্তু দরজার সামনে আসতেই আরাভ আবারও থমকে গেল।
সায়রা তখন জারিফের কোলে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আরিশা বেরিয়ে যাওয়ার পর জারিফ সায়রার কাছে এসে জ্বর চেক করে দেখল তাপমাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। সে সায়রার দুই কাঁধ ধরে তাকে আলতো করে বসিয়ে দিল এবং নিজে সায়রার পাশে বসল। জারিফ মমতাভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল–
– “ফুল! এখন কি ঠিক আছিস? কিছু খাবি? আমি নিয়ে আসব?”
– “নাহ্, আমি কিছু খাব না। আমার ভীষণ মাথা ব্যথা করছে!” সায়রা ভাঙা গলায় উত্তর দিল।
সায়রার মাথা ব্যথার কথা শুনে জারিফ অস্থির হয়ে উঠল। সে নিজের কোলের ওপর একটা বালিশ টেনে দিয়ে সায়রাকে বলল–
– “এদিকে আয়, আমার কোলে মাথা রাখ। আমি মাথা টিপে দিচ্ছি, দেখবি ব্যথা কমে যাবে।”
সায়রা কোনো বাক্য ব্যয় না করে জারিফের কোলের বালিশে মাথা রাখল। জারিফ খুব যত্ন নিয়ে আস্তে আস্তে সায়রার মাথা টিপে দিতে লাগল। হঠাৎ সায়রা আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তা দেখে জারিফ উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করল–
– “ফুল! খুব বেশি মাথা ব্যথা করছে?”
সায়রা কাঁদতে কাঁদতেই ধরা গলায় বলল–
– “ভাইয়া কোথায়, জিরাফ ভাই? ভাইয়া কেন আসছে না? ভাইয়া তো বলেছিল চার বছর পরে এসে আমাকে নিয়ে যাবে, তাহলে ভাইয়া কেন আসছে না?”
সায়রা একটু থেমে দম নিয়ে আবার বলল–
– “তুমি জানো, তুমি চলে যাওয়ার পর ভাইয়াও আমাকে একা রেখে চলে গেছে। শুধু একটা চিঠি দিয়ে বলেছে—চার বছর পর এসে আমাকে নিয়ে যাবে। তোমরা সবাই কেন আমাকে একা রেখে চলে গেলে? প্রথমে আম্মু চলে গেল না ফেরার দেশে, তারপর তুমি চলে গেলে... আর তুমি যাওয়ার পর ভাইয়াও চলে গেল। এখন তুমি ফিরে আসছ, তাহলে ভাইয়া কেন আসছে না?”
কথাগুলো বলতে বলতে সায়রা আরও বেশি কান্নায় ভেঙে পড়ল। এদিকে সায়রার কথা শুনে জারিফের বুকটা হু হু করে উঠল। সে কীভাবে বোঝাবে তার এই ‘ফুল’কে যে, সায়রা যেমন ভাইয়ার জন্য কষ্ট পাচ্ছে, ঠিক একইভাবে ভাইও দিন-রাত কষ্টের সাগরে ডুবে আছে! এমন কোনো রাত নেই, যেদিন সাফওয়ান তার পুতুলের ছবি বুকে জড়িয়ে না ঘুমিয়েছে। ভাইয়ের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বলই তো এই পুতুল! জারিফ মনে মনে ভাবল— “তোকে কীভাবে বুঝাব রে ফুল? তুই চিন্তা করিস না, আর মাত্র কয়েকটা দিন... তারপর ভাইয়া চলে আসবে তোর কাছে। তখন পুতুল সবসময় তার ভাইয়ের কাছেই থাকবে।”
জারিফ মনের কথা মনেই চেপে রেখে মুখে সান্ত্বনার সুরে বলল–
– “চিন্তা করিস না ফুল, ভাইয়া খুব শীঘ্রই চলে আসবে। আর যতদিন ও না আসছে, ততদিন আমি তো আছি! আমি সাফওয়ান ভাইয়ের পুতুল আর আমার ফুলের খুব খেয়াল রাখব। তোর কোনো সমস্যা হলে সবার আগে আমাকে জানাবি; ছোটবেলার মতো আমি তোর সব সমস্যা চুটকি বাজিয়ে ঠিক করে দেব!”
জারিফ শেষের কথাগুলো একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল যাতে সায়রাকে হাসানো যায়। হলোও তাই; সায়রা তার ‘জিরাফ ভাই’-এর কথা শুনে চোখের জল মোছার আগেই হেসে উঠল। সায়রার হাসি দেখে জারিফও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এবং নিজেও হাসিতে যোগ দিল।
এদিকে কেবিনের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আরাভ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। জারিফের সাথে সায়রার আসল সম্পর্কটা কী? জারিফ কেন সায়রাকে ‘আমার ফুল’ বলে ডাকছে? আর সায়রা কেনই বা জারিফের সামনে এতটা সহজ? আরাভের বুকের ভেতর এক অজানা যন্ত্রণা দানা বাঁধতে শুরু করল।
________
মাথা টিপে দেওয়ার একপর্যায়ে সায়রা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। জারিফ সায়রাকে অতি সাবধানে বেডে শুইয়ে দিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এল। নিজের কেবিনের দিকে যাওয়ার জন্য সে পা বাড়াতেই পেছন থেকে একটি গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল–
– “সায়রার সাথে তোর আসলে কী সম্পর্ক? আর তুই আমেরিকা থেকে কবে ফিরেছিস? বাসার কেউ তো জানে না যে তুই দেশে ফিরে এসেছিস!”
কণ্ঠস্বরটি চিনতে জারিফের এক মুহূর্তও সময় লাগল না; এটি আরাভের কণ্ঠ। জারিফ ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে পেছনে ফিরে তাকাল। দেখল আরাভ উত্তরের আশায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। জারিফ এবার আরাভের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল–
– “ও আমার প্রাণসঞ্জীবনী! বেঁচে থাকতে হলে ওর এই হাসিমুখটা আমাকে দেখতেই হবে। এবার তুমিই ভেবে দেখো, ও আমার কে হয়! আর আমি কবে দেশে এসেছি, সেটা বাসার কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনি।”
জারিফের এমন উত্তর আরাভের মোটেও পছন্দ হলো না। তার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে এল। সে এবার দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বলল–
– “দূরে থাকবি ওর থেকে! মনে রাখিস, ও আমার স্ত্রী। 
কথাটা শুনে জারিফ অদ্ভুতভাবে ব্যঙ্গ করে হেসে উঠল। সে তাচ্ছিল্যভরে বলল–
– “স্ত্রী? তা এই সম্পর্কটা কি তুমি নিজে বিশ্বাস করো বা মানো?”
জারিফের প্রশ্নে আরাভ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে যখনই পাল্টা কিছু বলতে যাবে, তখনই সেখানে আরিশা এসে উপস্থিত হলো। সে প্রথমে আরাভ আর জারিফকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো। পরক্ষণেই দুশ্চিন্তা নিয়ে জিজ্ঞেস করল–
– “তোমরা দুজন এখানে কী করছ? সারু কোথায়? ও কি কেবিনে একা? ওর যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়!”
আরিশার কথা শেষ হওয়ার আগেই জারিফ বলে উঠল–
– “চিন্তা করিস না আরু, আমি আমার ফুলকে ঘুম পাড়িয়ে এসেছি। আমি থাকতে আমার ফুলের কোনো অসুবিধাই হবে না, হতে দেব না আমি!”
জারিফ প্রতিটি শব্দ আরাভকে শুনিয়ে শুনিয়ে জোর দিয়ে বলল। এদিকে আরাভের চোয়াল রাগে আরও শক্ত হয়ে গেল। জারিফের এই বারবার ‘আমার ফুল’ ডাকটা তার কানে তপ্ত কাঁটার মতো 
••
সায়রাকে বাসায় নিয়ে এসেছে আরাভ আর আরিশা। যদিও জারিফ তাকে আরও একদিন হাসপাতালে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু সায়রা কিছুতেই রাজি হলো না। জারিফ অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও সায়রা জেদ ধরে বসে আছে; তার কথা—সে হাসপাতালে থাকবেই না! তাকে যদি জোর করে রাখা হয়, তবে সে জারিফের সাথে আর কোনোদিন কথা বলবে না। অগত্যা সায়রার এই অবুঝ জেদের কাছে জারিফকে হার মানতে হলো।
তবে সায়রা এবার জারিফের কাছে নতুন আবদার জুড়ে দিল—জারিফকেও তাদের সাথে বাসায় যেতে হবে তার শাশুড়ির সাথে দেখা করার জন্য। জারিফ অনেক বুঝিয়ে বলল যে, সে এখন যাবে না; সে একবারে ভাইয়া আসার পর তার সাথেই দেখা করতে যাবে। সায়রা প্রথমে মানতে না চাইলেও জারিফের অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর শেষমেশ মেনে নিল।
এদিকে সায়রাকে জারিফের কাছে ছোট বাচ্চাদের মতো আবদার করতে আর জেদ ধরতে দেখে আরাভের মোটেও ভালো লাগছে না। যে মেয়ে তার সাথে কোনোদিন ভালো মুখে একটা কথা বলে না, সে মেয়ে কি না আরেকজনের সাথে হাসিমুখে আবদার করছে, জেদ করছে! সায়রা আরাভের সামনে গেলেই নিজের মুখটা গম্ভীর করে রাখে; এমন হাসিখুশি সায়রাকে সে আগে কোনোদিন দেখেনি। একবার ভার্সিটিতে হাসতে দেখেছিল ঠিকই, কিন্তু আরাভ সামনে যেতেই সায়রা তখন গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল।
তিনজন বাসায় পৌঁছাতেই শারমিন শাহরিয়ার সায়রাকে ধরে পরম মমতায় সোফায় বসিয়ে দিলেন। সায়রার অসুস্থতার খবর শুনে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বোনের বাসা থেকে জরুরি কাজ ফেলে তড়িঘড়ি করে ফিরে এসেছেন। 
আরাভ এসেই তাড়াহুড়ো করে নিজের রুমে চলে গেল। সে রুমের দরজাটা লক করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল, তারপর কল করল তার প্রিয় বন্ধু ফারহানকে। ওপাশ থেকে কল রিসিভ করতেই আরাভ অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল–
– “ফারহান, মায়াপরীর কোনো খোঁজ পেয়েছিস?”
আরাভের কথা শুনে ওপাশে ফারহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল–
– “নাহ দোস্ত, কোনো খোঁজ পাইনি। কোত্থেকে শুরু করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
ফারহানের কথা শুনে আরাভ কিছুক্ষণ ভেবে বলল–
– “তোকে আমি একটা বাড়ির ঠিকানা দিচ্ছি, সেই বাড়িতে গিয়ে তুই ওর খোঁজ করবি। তারপর ওই বাড়ির লোকজন কী বলে, সেটা আমাকে তাড়াতাড়ি জানাবি।
আরাভ কল কেটে দিয়ে রুমে এসে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। হাসপাতালে যাওয়া এই কাপড়গুলো পরে থাকা সম্ভব নয়, তাই তাকে দ্রুত গোসল সেরে নিতে হবে।
আরাভ ওয়াশরুমে ঢোকার পরপরই আরিশা সায়রাকে রুমে নিয়ে এল। সায়রাকে বেডে বসিয়ে দিয়ে রেস্ট নিতে বলে আরিশা যখন তার জন্য খাবার আনতে যাবে, ঠিক তখন সায়রা দুর্বল কণ্ঠে বলে উঠল–
– “আরু, আমার স্নো-কে একটু নিয়ে আয় না! সকালে একবার ঘুমন্ত অবস্থায় দেখেছিলাম, এখন একটু আমার কাছে এনে দে।”
সায়রার কথা শুনে আরিশা হাসিমুখে বলল–
– “আচ্ছা তুই বস, আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।”
কথাটা বলেই সে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল, যেখানে স্নো-এর জন্য থাকার ছোট্ট ঘর বানিয়েছে আরিশা আর সায়রা। দুই মিনিটের মধ্যে সে স্নো-কে নিয়ে ফিরে এল এবং সায়রার কাছে দিয়ে নিচে চলে গেল।
আরিশা চলে যেতেই সায়রা খাটের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে স্নো-কে বুকের ওপর টেনে নিল। তারপর আদুরে গলায় বলল–
– “ মাম্মার সাথে রাগ করছিস তুই? সকাল থেকে তোকে কোলে নিইনি বলে?”
সায়রার কথা শুনে স্নো যেন তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানাতে মিউ মিউ করে উঠল। তা দেখে সায়রা দুঃখী মুখ করে বলল–
– “আসলে মাম্মা তো অসুস্থ ছিল, তাই আমার স্নো-বাবুকে নিতে পারিনি।”
স্নো এবার সায়রার বুকের সাথে আরও একটু লেপটে গেল, যেন মায়ের আদর খাচ্ছে। সায়রা স্নো-কে আদর করতে করতে বলল–
– “তুই জানিস, তোর মামা খুব শীঘ্রই আসবে! তারপর আমাকে আর তোকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে, যেখানে আমাদের কোনো কষ্ট হবে না। কেউ আমাদের অপমান করতে পারবে না। মিস্টার শাহরিয়ার তোকে সেদিন তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিল না? তোর মামার সাথে যখন চলে যাব, তখন আর কেউ তোকে তাড়িয়ে দেওয়ার সাহস পাবে না। সেখানে আমি, তুই আর ভাইয়া—তিনজন মিলে খুব হাসিখুশি থাকব। তারপর ভাইয়ার জন্য একটা লাল টুকটুকে বউ আনব!”
হঠাৎ সায়রার কিছু একটা মনে পড়তেই সে স্নো-কে বলল–
– “আচ্ছা শোন, তোকে একটা সিক্রেট বলি। কাউকে বলবি না কিন্তু! শুধু আমরা মা-ছেলে জানব।”
সায়রা এবার মুখটা স্নো-এর কানের কাছে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল। তারপর আবার স্নো-এর দিকে তাকিয়ে বলল–
– “এই কথাটা তোর মামা আসলে তাকেও বলবি না, ঠিক আছে?”
স্নো মায়ের কথা শুনে মিউ মিউ করে উঠল, যেন মায়ের কথায় সায় দিচ্ছে।
তাদের মা-ছেলের কথার মাঝেই 'খট' করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হলো আরাভ। পরনে শুধু একটা সাদা তোয়ালে। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ সুঠাম দেহ; পেশিবহুল শরীরে জলের ফোঁটাগুলো মুক্তোর মতো চিকচিক করছে। প্রশস্ত খালি বুক নিঃশ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে ওঠানামা করছে। এদিকে আরাভকে এরকম অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে সায়রার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে তড়িঘড়ি করে স্নো-এর চোখ চেপে ধরল। আরাভ প্রথমে সায়রাকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল, কিন্তু সেটা প্রকাশ না করে উল্টো সায়রাকে শুনিয়ে বলল–
– “মেয়ে তুমি তো দেখছি বড্ড নির্লজ্জ! একটা ছেলেকে এভাবে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছ?”
আরাভের কথা শুনে সায়রার গাল মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে অপ্রস্তুত হয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে পালটা জবাব দিল–
– “নির্লজ্জ আমি নাকি আপনি? একটা মেয়ের সামনে এভাবে অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঘুরতেছেন?”
– “আমি কি জানতাম তুমি রুমে আসবে? আমি যখন ওয়াশরুমে ঢুকেছিলাম, তখন তো তুমি রুমে ছিলে না।”
– “রুমে ছিলাম না তো কী হয়েছে? রুম লক করে কেন ঢোকেননি যাতে কেউ ঢুকতে না পারে?”
– “ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কি কেউ রুম লক করে? আমি তো জানি শুধু ওয়াশরুমের দরজা লক করতে হয়!”
– “রুমের দরজা লক করেননি বলেই তো আমি রুমে ঢুকেছি। আপনি কি জানেন না এখন এই রুমে আপনি ছাড়াও আরও একজন থাকে?”
আরাভ কিছু একটা বলতে যাবে, তখনই সায়রা আবার বলে উঠল–
– “এখনো নির্লজ্জের মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেন? যান, গিয়ে কাপড় পরে নিন!”
সায়রার ধমক খেয়ে আরাভ নিজের অবস্থার দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি আলমারি থেকে শার্ট-প্যান্ট নিয়ে আবারও ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
আরাভ যেতেই সায়রা বিড়বিড় করে বলল–
– “নির্লজ্জ!”
________
খাবার টেবিলে বসে শাহরিয়ার বাড়ির সবাই খাবার খাচ্ছে আর শারমিন শাহরিয়ার সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। সায়রাকে সবার আগে তার শাশুড়ি নিজ হাতে খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে দিয়েছেন; এখন সে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে। একে একে সবার খাওয়া শেষ হলে সবকিছু গুছিয়ে শারমিন বেগমও ড্রয়িং রুমে উপস্থিত হলেন। সবাইকে দেখে আহসান শাহরিয়ার বলে উঠলেন–
– “আরাভ, তোমার কি চারদিনের ছুটি হবে?”
বাবার কথা শুনে আরাভ ওনার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল–
– “কেন? আমার ছুটি নিয়ে তোমার কী প্রয়োজন?”
– “ত্যাড়া উত্তর না দিলে তোমার হয় না, তাই না? শোনো, তোমার ফুফুর বাড়ি থেকে আমাকে আর তোমার মাকে আজ ডেকে জানিয়েছে যে, সাতদিন পরেই নূহার বিয়ে। তাই আমাদের সবাইকে তিনদিন পর সেখানে যেতে হবে। সবকিছু হুট করে হয়ে যাওয়ার কারণে ওরা আগে থেকে জানাতে পারেনি। এখন তোমার ছুটি হবে কি না, সেটা বলো।”
– “নাহ, আমি কোনো বিয়েতে যেতে পারব না। তোমাদের যেতে হলে তোমরা যাও।”
আরাভের কথাটি আহসান শাহরিয়ারের মোটেও পছন্দ হলো না, তাও তিনি কথা বাড়ালেন না। তিনি ‘ঠিক আছে’ বলে এবার সায়রার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন–
– “সায়রা মা, আমাদের সাথে বিয়েতে যেতে তোমার কোনো অসুবিধা আছে? শরীর অসুস্থ, যেতে পারবে তো?”
সায়রা কথাটা শুনে একবার আরাভের দিকে তাকাল। আরাভ যদিও সায়রার দিকে তাকিয়ে নেই, কিন্তু কান খাড়া করে রেখেছে সায়রা কী জবাব দেয় তা শোনার জন্য। সায়রা ভাবল—এখানে থাকলে তাকে আরাভের সাথে একলা এই বাড়িতে থাকতে হবে, তার চেয়ে সবার সাথে বিয়েতে চলে যাওয়াই ভালো। সায়রা উত্তর দিল–
– “আমার কোনো অসুবিধা নেই আব্বু। বিয়েতে যেতে তো আরও তিনদিন বাকি, ততদিনে শরীর সুস্থ হয়ে যাবে।”
উত্তরটা মনে হয় আরাভের পছন্দ হলো না; সে দাঁড়িয়ে গটগট পায়ে উপরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। সায়রা একবার আরাভের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে আবারও সবার সাথে গল্পে যোগ দিল।
_______
কেটে গেছে তিনটি দিন। এই তিন দিনে বাড়ির সবার, বিশেষ করে শাশুড়ির যত্নে সায়রা এখন বেশ সুস্থ হয়ে উঠেছে। আজ সায়রা আর আরিশা শপিং মলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বসে আছে। প্রথমে ড্রাইভারের সাথে যাওয়ার কথা থাকলেও ড্রাইভারকে নিয়ে আহসান শাহরিয়ার বিশেষ কাজে বাইরে গেছেন। এখন বাসায় কেবল আরাভের গাড়িটাই আছে, কিন্তু সায়রা আরাভের গাড়িতে যেতে নারাজ। আরিশা অনেক বোঝানোর পর সায়রাকে রাজি করাল আরাভের সাথে যেতে।
আরাভ নিচে আসতেই আরিশা আর সায়রাকে তৈরি হয়ে বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকাল, কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করল না। আরাভকে দেখামাত্র আরিশা উঠে ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলল–
– “ভাইয়া, আমাকে আর সায়রাকে একটু শপিং মলে দিয়ে আসবে? ড্রাইভার আঙ্কলের সাথে যেতাম, কিন্তু আব্বু ওনাকে নিয়ে অফিসের কাজে চলে গেছেন। প্লিজ ভাইয়া, একটু নিয়ে চলো না!”
আরাভ আরিশার কথা শুনে একবার সায়রার দিকে তাকাল। দেখল সায়রা নির্লিপ্তভাবে বসে আছে। তা দেখে আরাভ এবার আরিশাকে উদ্দেশ্য করে বলল–
– “আমার সময় নেই, আমি নিয়ে যেতে পারব না। তোরা ড্রাইভার আঙ্কল আসলে চলে যাস।”
কথাটা বলেই আরাভ যখন গটগট পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল, আরিশা তখন মন খারাপ করে সায়রার পাশে বসে পড়ল। আক্ষেপ করে বলল–
– “আজ মনে হয় আর শপিং করতে যাওয়া হবে না। শপিং না করলে বিয়েতে কী পরব?”
আরিশার মন খারাপ দেখে সায়রা ভাবতে লাগল কী করা যায়। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই সে বলে উঠল–
– “আরু, চল আমরা স্কয়ার হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে ‘জিরাফ ভাই’কে সাথে নিয়ে শপিং মলে যাব।”
সায়রার কথাটা শোনামাত্রই দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়া আরাভের পা দুটো থেমে গেল। সায়রার প্রস্তাবে আরিশা প্রথমে খুশি হলেও পরক্ষণেই কিছুটা সংকোচ নিয়ে জিজ্ঞেস করল–
– “যদি জারিফ ভাই ব্যস্ত থাকে, তখন কী করবি?”
– “আরে, তুই চিন্তা করিস না! জিরাফ ভাই সবার জন্য ব্যস্ত থাকলেও আমার জন্য সবসময় ফ্রি থাকে। আমি একবার বললেই সে আমাদের সাথে চলে যাবে। এখন চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
সায়রার কথা শুনে রাগে আরাভের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেল। তার চোখ-মুখ আর চোয়াল রাগে কঠিন রূপ ধারণ করল। আরাভ মনে মনে ভাবতে লাগল— “এই মেয়ে আমাকে একবার অনুরোধ করলে কী জাত যেত? আমি না করাতেই একেবারে সেই ‘জিরাফ’! ও কি সবসময় ওনার জন্য ফ্রি বসে থাকে? আমার সাথে যেতে ওর সমস্যা, কিন্তু আরেকজনের সাথে যেতে কোনো দ্বিধা নেই! আমিও দেখি তুমি কী করে জারিফের সাথে যাও। আর ওই জারিফ আমার ভাই হয়ে আমার বউয়ের পেছনে কেন পড়ে আছে, সেটা বুঝতে পারছি না, কিছু জিজ্ঞেস করলেও ঠিক উত্তর দিচ্ছে না হেঁয়ালি করছে।”
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন