ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিয়া জ্বলে পিয়ার দরদে

১৬তম পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান ইভা

🚫 এলার্ট- অতি সংবেদনশীল পর্ব। কা*টাকা/টি ভাল না লাগলে স্কিপ করতে পারেন।

কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ

সাইকো,, রোমান্টিক,, থ্রিলার

#হিয়া_জ্বলে_পিয়ার_দরদে

#নুসরাত_জাহান_ইভা

#পর্ব_১৬

রাত তখন ৩ টা বেজে পয়তাল্লিশ

নিকোলাস একটা মেয়ের চুল টানতে টানতে সেই পুরোনো এক তলা বাড়িটায় নিয়ে যাচ্ছে। তার চিরচেনা অন্ধকার রুমের বেডে নিয়ে শুয়ালো মেয়েটিকে। তারপর বে*ধে ফেললো হাত পা।

কিছুক্ষণ আগের কাহিনী

রাত তখন প্রায় আড়াইটা। শহরের উপকন্ঠে পরিত্যক্ত শপিং মলের পার্কিং লটটা নিঝুম হয়ে আছে। নিয়ন আলোর একটা ল্যাম্পপোস্ট বারবার মিটমিট করছে, যেন নিভে যাওয়ার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। সেখানে নিজের পুরনো রোলস রয়েস গাড়িটার পাশে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিল নিকোলাস।

​নিকোলাসের চেহারায় কোনো অভিব্যক্তি নেই। তার গভীর চোখ দুটো শূন্যতায় স্থির। ঠিক তখনই অন্ধকারের আড়াল থেকে একটা মেয়ে ধীর পায়ে বেরিয়ে এল। চড়া মেকআপ আর আঁটসাঁট পোশাকে তাকে এই নির্জন রাতে বেশ বেমানান লাগছিল। মেয়েটি একজন প্রস্টিটিউট,, অর্থাৎ খদ্দেরের আশায় পার্কিং লটে ঘুরছিল।​নিকোলাসকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মেয়েটি কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে এল। কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে সে নিকোলাসের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে এক চিলতে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তুলল। তারপর কোনো কথা না বলে আলতো করে চোখের ইশারা করল। ইশারাটা ছিল একটু নোংরা।

​মেয়েটি হয়তো ভেবেছিল নিকোলাস সাড়া দেবে। কিন্তু নিকোলাসের ভেতর তখন অন্য কিছু ঘটছিল। ওই ইশারাটা যেন নিকোলাসের মস্তিষ্কের কোনো এক গোপন সুইচে আঘাত করল। তার শান্ত চোখে হঠাৎ করেই এক অশুভ আভা ফুটে উঠল।

​পরের কয়েক সেকেন্ড ছিল ঝড়ের মতো। কোনো আর্তনাদ করার সুযোগ পাওয়ার আগেই নিকোলাস বাঘের মতো মেয়েটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার নড়াচড়ায় কোনো সাধারণ মানুষের রাগ ছিল না, ছিল এক ধরণের যান্ত্রিক আর শীতল উন্মাদনা। মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে সে তাকে গাড়ির বনেটের ওপর আছড়ে ফেলল।

​তোদের মতো নোংরা মানুষগুলোই তো জগতটাকে বিষিয়ে দিচ্ছে। সাচ আ বিচ ইডিয়ট।

নিকোলাস দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল।

​তার আঘাতগুলো ছিল নিখুঁত কিন্তু পৈশাচিক। সে যেন কোনো মানুষের ওপর রাগ ঝাড়ছিল না, বরং একটা পুরনো আবর্জনা পরিষ্কার করছিল। মেয়েটি বাঁচার চেষ্টা করছিল, কিন্তু নিকোলাসের শক্তির সামনে তা ছিল নগণ্য। পার্কিং লটের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধু ভারী নিশ্বাসের আর আঘাতের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

​

​মিনিট পাঁচেক পর সব শান্ত হয়ে এল। মেয়েটি নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। নিকোলাস পকেট থেকে একটা সাদা রুমাল বের করে খুব শান্তভাবে নিজের হাতের রক্ত মুছে নিল। তার চোখে এখন আর রাগ নেই, বরং এক অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করছে। মেয়েটিকে টেনে নিয়ে ব্যাক সিটে শুয়াল।

​তারপর গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। হেডলাইটের আলোতে পার্কিং লটের সেই রক্তমাখা জায়গাটুকু একবার দেখে নিয়ে সে স্টিয়ারিং ঘুরাল। অন্ধকার চিরে নিকোলাসের গাড়িটা চলে গেল শহরের গভীরে, যেন কিছুই ঘটেনি। ল্যাম্পপোস্টটা তখনো মিটমিট করে জ্বলছে, যেন সাক্ষী হয়ে রইল এক সাইকোপ্যাথের নিঃশব্দ উন্মাদনার।

বেড থেকে নির্গত নীলচে আলোয় বাড়িটাকে কোনো এক নরকের ল্যাবরেটরির মতো লাগছিল।

​নিকোলাস তার শার্টের হাতা গুটিয়ে টেবিল থেকে একটি ধারালো বৈদ্যুতিক ক*রাত তুলে নেয়। ক*রাতের ঘরঘর শব্দে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তার মুখে কোনো ঘৃণা নেই, বরং আছে একজন শিল্পীর মতো একাগ্রতা। সে অতি নিখুঁতভাবে ক*রাত চালিয়ে মেয়েটির হাত এবং পা শরীর থেকে আলাদা করতে শুরু করে। হাড় কা*টার কর্কশ শব্দ আর র-ক্তের ছিটকানি নিকোলাসের মনে এক পৈশাচিক সুরের মতো বাজছিল।

​

​হাত-পা আলাদা করার পর নিকোলাস কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর সে নিচু হয়ে মেয়েটির মুখের খুব কাছে নিজের মুখ নিয়ে গেল।

- এই চোখ দিয়েই তো ইশারা করেছিলে, তাই না?

নিকোলাস খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল।

​পরের মুহূর্তেই সে তার লম্বা আঙুলগুলো ব্যবহার করে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মেয়েটির অক্ষিকোটর থেকে চোখ দুটো উপ*ড়ে বের করে আনে। যে দৃষ্টিতে প্রলোভন ছিল, সেই দৃষ্টিকে সে চিরতরে নিভিয়ে দিল।

​

​এরপর শুরু হয় তার সবচেয়ে প্রিয় এবং ধীরগতির প্রক্রিয়া। নিকোলাস একটি ছোট স্ক্যালপেল এবং চি*মটা বের করে আনে। কোনো দক্ষ সার্জনের মতো সে মেয়েটির শরীরের চামড়াগুলো ইঞ্চি ইঞ্চি করে ছিঁ*ড়ে আনতে থাকে। প্রতিটি টান ছিল হিসেবি এবং যন্ত্রণাদায়ক। সে যেন একটি জ্যান্ত মানুষের দেহ থেকে তার অস্তিত্বের শেষ আবরণটুকুও মুছে ফেলতে চাইছিল।

​কয়েক ঘণ্টা পর, সেই ইলেকট্রিক বেডের ওপর আর কোনো চেনা অবয়ব অবশিষ্ট রইল না। পড়ে রইল কেবল কিছু মাংসপিণ্ড আর হাড়ের স্তূপ। নিকোলাস ক্লান্ত কিন্তু তৃপ্ত মনে টুল থেকে উঠে দাঁড়াল। সে জানে, এই রাতের কাজ শেষ। কাল সকালে সে আবার এক পরিপাটি সভ্য মানুষ হয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাবে।

নিকোলাস এসব ভেবেই মুচকি হাসলো।

তারপর শার্টের ভাজে রক্তাক্ত হাত মুছে নেয়। নিকোলাস এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তার চারপাশের মেঝে এখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে, কিন্তু তার মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই। সে খুব যত্ন করে মেঝের সেই ছিন্নভিন্ন মাংসপিণ্ড আর সাদা হয়ে যাওয়া হাড়গোড়গুলো বড় একটা বস্তায় ভরল। বস্তাটা বেশ ভারী হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নিকোলাস সেটা অনায়াসে টানতে টানতে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে নিয়ে গেল।

​সেখানে আগে থেকেই গর্ত খুঁড়ে রাখা ছিল। চাঁদের আলোয় নিকোলাস সেই বস্তাটি গর্তের ভেতর ফেলে দিয়ে মাটিচাপা দিয়ে দিল। মাটি সমান করার সময় সে নিজের হাতের ছাপগুলোও মুছে ফেলল, যেন প্রকৃতি নিজেই এই নৃশংসতার চিহ্ন গিলে নিল।

​

​তবে সবকিছু সে মাটির নিচে পাঠায়নি। প্রতিবারের মতই এবারও বাড়ির ভেতর ফিরে এসে সে টেবিলের ওপর রাখা বিশেষ কিছু অংশের দিকে তাকালো যেগুলো সে অতি নিখুঁতভাবে কে*টে আলাদা করে রেখেছিল। সে একটি স্টিলের বক্স খুলে খুব সুন্দর করে সেই অংশগুলো সাজিয়ে রাখল। এগুলো তার কাছে কোনো লাশের অংশ নয়, বরং তার বিজয়ের ট্রফি। প্রতিটি ট্রফি তাকে মনে করিয়ে দেবে সেই রাতের অন্ধকারের কথা।

বক্সটি তালাবদ্ধ করে নিকোলাস তার গোপন ড্রয়ারে রেখে দিল।

​

​সব পরিষ্কার করে নিকোলাস যখন নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল, তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। তার চেহারায় এখন সেই 'সাইকো' ভাবটা আর নেই। বরং একজন পরিশ্রান্ত কর্মজীবী মানুষের মতো শান্ত ভঙ্গি।

​বাড়িতে ফিরে সে একবার মেহেকের রুমের দরজায় চোখ ফিরালো। কিন্তু দরজা দেয়া ছিল বিধায় আর এক মুহুর্তও সেখানে দাড়াল না। সোজা রুমে ঢুকে শাওয়ার নিল। গরম পানি যখন তার শরীর থেকে রক্তের শেষ গন্ধটুকু ধুয়ে নিচ্ছিল, নিকোলাস তখন চোখ বুজে আগামী দিনের পরিকল্পনা করছিল।

নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে নিকোলাস জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখল আকাশটা আস্তে আস্তে ফর্সা হচ্ছে।

- আজ রাতে সত্যিই খুব ভালো ঘুম হবে।

এক পৈশাচিক তৃপ্তি আর শীতল এক শান্তি নিয়ে নিকোলাস গভীর ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল।

~~~~~

ভার্সিটির গেটের সামনে অধৈর্য হয়ে পায়চারি করছিল রায়হান। তার চোখ বারবার ভিড়ের মধ্যে মেহেককে খুঁজছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মেহেকের দেখা নেই। তার বদলে রায়হান দেখতে পেল মিরাকে যাকে দেখা মাত্রই রায়হানের কপাল কুঁচকে গেল।

​মিরা মেয়েটা রায়হানের ছায়ার মতো। রায়হান যেখানেই যায়, মিরা কোনো না কোনো বাহানায় সেখানে হাজির হয়। রায়হান জানে মিরা তাকে ভালোবাসে, কিন্তু মেহেকের প্রতি তার যে ভালোবাসা, সেখানে মিরার জন্য এক বিন্দু জায়গাও নেই।

​

​মিরা একটু ইতস্তত করে রায়হানের সামনে এসে দাঁড়াল।

- হাই হ্যান্ডস

মিরা কিছু বলার আগেই রায়হান তপ্ত স্বরে বলে উঠল -

আপনার লজ্জা-শরম বলতে কি কিছু নেই মিরা? কেন সারাদিন আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করেন ? আপনাকে দেখলে আমার চরম বিরক্তিতে দম বন্ধ হয়ে আসে।

রায়হানের এহেন কথায় ​মিরার চোখ দুটো জলে ভরে উঠল। কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল - আমি তো শুধু তোমাকে একটু দেখতে চেয়েছিলাম রায়হান। আমি যে তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবা...

​রায়হান হাত উচু করে থামিয়ে দিল মিরাকে।

​'ভালোবাসি' শব্দটা শোনা মাত্রই রায়হানের ভেতরের বিরক্তি চরমে পৌঁছাল। সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। চোখের পলকে একটা জোরালো থাপ্পড় বসিয়ে দিল মিরার গালে। থাপ্পড়ের শব্দে আশেপাশের দু-একজন থমকে দাঁড়াল।

​রায়হান বিদ্রূপের হাসি হেসে বলল - আপনার চোখের জল আমার মনে দয়া জাগায় না, বরং বিরক্তি বাড়ায়। যে হৃদয়ে মেহেক ছাড়া আর কারো জায়গা নেই, সেখানে আপনি কেন বারবার কড়া নাড়েন??

- ​তুমি হয়তো আমাকে ঘৃণা করো রায়হান, কিন্তু আমার এই ঘৃণিত অস্তিত্বের প্রতিটা নিঃশ্বাসে শুধু তোমারই নাম লেখা। তুমি আমায় থাপ্পড় মেরেছ রায়হান!! এর চেয়ে ভালো হতো যদি আমার হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে ফেলতে, অন্তত এই যন্ত্রণার শেষ হতো।

মিরা কথা বলতে পারছে না কান্না যেন বার বার দলা পাকিয়ে উঠছে।

- মিরা, জোর করে আর যাই হোক, কারো মনে জায়গা পাওয়া যায় না। আপনি আমার ছায়া হয়ে থাকার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন, অন্ধকার নামলে ছায়াও হারিয়ে যায়। আর আমার জীবন থেকে আপনি ঠিক সেভাবেই হারিয়ে যাবেন৷

​কথাগুলো তীরের মতো মিরার বুকে বিঁধল। রায়হান আর এক মুহূর্ত সেখানে না দাঁড়িয়ে রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেল। মিরা হাত দিয়ে নিজের গালটা চেপে ধরে সেখানেই রাস্তার পাশে বসে পড়ল। তার দুচোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে।

মিরা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা অস্ট্রেলিয়ার বড় বিজনেস ম্যান। কি নেই তার!! সব সব আছে। শুধু একটারই অভাব৷ তা হচ্ছে ভালবাসা। ছোট থেকে মিরা সবকিছু পেলেও পায় নি বাবা মায়ের থেকে তার জন্য কিছুটা সময়। পায় নি বাবা মায়ের ভালবাসা। আর এটাই তাকে যন্ত্রণা দেয় মৃত্যুসম যন্ত্রণা!!

​মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, সেটা মিরা আজ আবারও টের পেল। অপমানে, লাঞ্ছনায় তার বুক ফেটে যাচ্ছিল, কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো এত আঘাতের পরেও তার অবুঝ মনটা সেই মানুষটিকেই খুঁজছে যে তাকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই দিতে শেখেনি।

মিরা কাদতে কাদতে আনমনেই বিড়বিড়ালো

নদী নেও আমারে সাথে নেও

আমার পানে ফিরে চাও

রাইত চান্দের আলো ঝরে বন্ধু তোমারও ঘরে

হায় আলো যে জ্বলে না আমি একলা আন্ধারে।

সন্ধ্যার দিকে নিকোলাস সিড়ি বেয়ে নিচে নামছিল কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আচমকা মেহেকের ডাকে নিকোলাস পাশ ঘুরে মেহেকের পানে তাকালো। মেহেক কাউচ থেকে উঠে এসে নিকোলসের মুখোমুখি দাড়াল৷ তারপর নিকোলাসকে পা থেকে মাথা অব্দি দেখে নিল একবার। ব্যাগি জিন্স,,পরনে অফ হোয়াইট টি শার্ট তার উপর জিন্সের জ্যাকেট,,গলায় চেইন,,হাতে ব্রেসলেট।

মেহেকের সন্দেহের দৃষ্টির সামনে নিকোলাস দেয়ালের আয়নাটার দিকে তাকিয়ে নিজের চুল ব্যাকব্রাশ করে। তার মুখাবয়বে কোনো আবেগের চিহ্ন নেই, যেন পাথরে খোদাই করা কোনো ভাস্কর্য।

- What??

নিকোলাসের প্রশ্নে মেহেক এবার তাকায় নিকোলাসের চোখে।

মেহেক নিজের বুকে হাত বিধে বলে উঠে,

- মিস্টার নিকোলাস অলদ্রিন আপনার না অফিস আছে? আপনি না সিইও? অথচ আপনাকে একদিনও আমি অফিসে যেতে দেখি না। সারাদিন ঘরে আপনি কী করেন?

​নিকোলাস আয়না থেকে চোখ না সরিয়েই ঠাণ্ডা গলায় জবাব দিল, - সব মিথ্যা মিস্ট্রেস। আমার আসলে কোনো অফিস নেই।

​মেহেক চমকালো - মানে? আপনি আমার বাবার সাথে প্রতারণা করেছেন?

​নিকোলাস এবার ধীর পায়ে মেহেকের দিকে এগিয়ে এল। তার হাঁটার শব্দে এক অদ্ভুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ঘরে। নিকোলাস মেহেকের একদম কাছে এসে দাঁড়ালো, কিন্তু তার চোখে প্রেমের কোনো ছিটেফোঁটা নেই। বরঞ্চ এক ধরণের শীতল নিষ্ঠুরতা সেখানে খেলা করছে।

নিকোলাস নিচু স্বরে বলল - তোমাকে পাওয়ার জন্য তোমার বাবাকে পটানো দরকার ছিল, তাই ওই সিইও নাটকটা সাজিয়েছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিলে তুমি, তোমার বাবার নয় মিস্ট্রেস।

​মেহেক এক পা পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু নিকোলাস শক্ত হাতে তার চিবুক চেপে ধরল। তার স্পর্শ বরফের মতো শীতল। নিকোলাস রহস্যময় হাসি দিল।

- তাহলে এত টাকা কিসের? এত বিলাসবহুল জীবনই বা কেন আপনার?

মেহেকের প্রশ্নে নিকোলাস মুচকি হাসে।

- সব কিছু তোমার জানার দরকার নেই বউ। তোমার কী লাগবে বলো? দামী শাড়ি? দামী নেকলেস? হীরের রিং? যা লাগবে বলো, সব তোমার পায়ের কাছে এনে হাজির করব। কিন্তু মনে রেখো...

​নিকোলাস মেহেকের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল

- আমার টাকা কোথা থেকে আসে, কীভাবে আসে তার কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন আমি বোধ করি না। পৃথিবীর চোখে আমি কী, সেটা বড় কথা নয়। এই চার দেয়ালের ভেতর আমি তোমার মালিক, আর তুমি আমার সম্পত্তি। এটুকুই তোমার জানার জন্য যথেষ্ট মিস্ট্রেস।

​মেহেক ভয়ে কাঁপতে শুরু করল। নিকোলাস তার চিবুক ছেড়ে দিল। তারপর গালে শব্দবিহীন চুমু খেয়ে চলে গেল। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একবারও পেছন ফিরে তাকালো না নিকোলাস।

মেহেক সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। নিকোলাসের সেই ঠান্ডা কণ্ঠস্বর আর সাইকো চাহনি মেহেককে বুঝিয়ে দিল সে কোনো সাধারণ মানুষের পাল্লায় পড়েনি, বরং এক মায়াবী কিন্তু ভয়ঙ্কর খাঁচায় বন্দি হয়েছে।

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন