এইটা কোনো উপন্যাস নয়। উপন্যাস লিখার মত যোগ্যতা আমার হয় নি এখনও। ফিকশনাল গল্প হিসেবেই নিবেন❤️
বিদ্র- যারা গল্পে নাইকার ন্যাকামি পছন্দ করেন তাদের জন্য এই গল্প না।
সাইকো রোমান্টিক থ্রিলার জনরা।
#হিয়া_জ্বলে_পিয়ার_দরদে
#নুসরাত_জাহান_ইভা
#পর্ব_২১
ওয়াশরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকাতেই মেহেকের ঠোঁটের কোণে আবার সেই লাজুক হাসিটা ফুটে উঠল। গতরাতের প্রতিটি স্মৃতি তার মনে ঢেউ খেলছে। যে মানুষটার নাম শুনলে একসময় তার কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ত, আজ সেই নিকোলাসের ছোঁয়া ছাড়া মেহেক এক মুহূর্তও ভাবতে পারছে না।
একেই বোধহয় বলে - হি ফল'স ফার্স্ট,,বাট শী ফল'স হার্ডার।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসতেই মেহেক দেখল বিছানার পাশের সাইড টেবিলে একগুচ্ছ তাজা লাল গোলাপ রাখা। সাথে একটা ছোট চিরকুট:
কিছু কাজ ছিল তাই খুব ভোরে বের হতে হলো, তাই তোমায় আর জাগালাম না। তুমি ঘুমালে বড় মায়াবী লাগে মিস্ট্রেস।
চিরকুটটা বুকে জড়িয়ে ধরল মেহেক। এই তো সেই নিকোলাস, যে তার অবহেলা আর ঘৃণা সহ্য করেও এক পাহাড় ধৈর্য নিয়ে মেহেককে ভালবেসেছিল। মেহেক যখন প্রথম প্রথম নিকোলাসকে অগ্রাহ্য করত, নিকোলাস তখন শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকত। সেই শান্ত চোখের মায়াতেই আজ মেহেক পুরোপুরি বন্দি।
বিকেলের দিকে নিকোলাস যখন বাড়ি ফিরল, মেহেক আগে থেকেই বারান্দায় অপেক্ষা করছিল। কলিংবেলের আওয়াজ হওয়ার আগেই মেহেক দরজা খুলে দিল। নিকোলাস কিছুটা অবাক হয়ে হাসল।
- আজ তো দেখছি দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে ছিলে! খুব মনে পড়ছিল বুঝি?
মেহেক কোনো উত্তর দিল না, শুধু শক্ত করে নিকোলাসকে জড়িয়ে ধরল। নিকোলাসের গায়ের চেনা ঘ্রাণটা না পাওয়া পর্যন্ত যেন মেহেকের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।
নিকোলাস মেহেকের মাথায় হাত বুলিয়ে আলতো করে কপালে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল,
- জানোই তো মিস্ট্রেস আমি তোমার কাছেই ফিরব, সবসময়।
মেহেক মুখ তুলে নিকোলাসের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে আজ কোনো অভিমান নেই, শুধু আছে সমুদ্রের মতো গভীর ভালোবাসা। যে মানুষটা একসময় তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, আজ সে-ই তার পৃথিবীর ধ্রুবতারা।
নিকোলাস মেহেকের চিবুক ছুঁয়ে বলল,
- এত কী ভাবছো মেয়ে?
মেহেক মুচকি হেসে নিকোলাসের কাঁধে মাথা রেখে বলল,
- ভাবছি, ঘৃণা করতে করতে কখন যে তোমার ভালোবাসার নেশায় ডুবে গেলাম, সেটা নিজেও টের পাইনি। এখন তুমি মানেই আমার বেঁচে থাকা নিক!! ভালবাসি তোমায় বড্ড বেশি ভালবাসি।
নিকোলাস হেসে মেহেককে জড়িয়ে ধরে।
মেহেক নিকোলাসকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় গান গাইতে শুরু করে
একদিন তোমায় ঘিরে
হবে উতলা এত
ভাবি নি জীবনে
ভাবনা যত
.............…..….…..…..…..…
নিকোলাস মেহেককে নিয়ে আজ সন্ধ্যা রাতে ঘুরতে বের হয়েছে। মেহেক জানেও না তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। তাই ত প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে করে নিকোলাসের অবস্থা খারাপ করে দিচ্ছে মেহেক। নিকোলাসও আজ নিরব। কিছুতেই বলবে না তারা কোথায় যাচ্ছে এখন।
মাঝ রাস্তায় গাড়িতে ফুয়েল নেওয়ার জন্য নিকোলাস হঠাৎ একটা ফুয়েল স্টেশনের সামনে ব্রেক কষল। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে মেহেকও গাড়ি থেকে নেমে একটু পায়চারি করতে শুরু করল। রোদের হালকা আভা নিকোলাসের ওপর পড়ায় তাকে অন্যরকম লাগছিল। মেহেক মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে দেখে নিকোলাস মৃদু হেসে প্রশ্ন করল,
- কী ব্যাপার? ওভাবে তাকিয়ে কী দেখছ?
মেহেক সলজ্জ ভঙ্গিতে হাসল। এরপর সাহস করে বলেই ফেলল
- আপনার বডি স্ট্রাকচার মাশা-আল্লাহ্ এত পারফেক্ট! কি শক্তি রে বাবা!! আচ্ছা নিয়মিত জিমে যান?
মেহেকের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে নিকোলাসের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। ধীরপায়ে মেহেকের একদম কাছে এসে দাঁড়াল নিকোলাস।
গভীর চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
- শক্তি কতটুকু তা সরাসরি পরীক্ষা করলে কেমন হয়? চলো, একটা এক্সপেরিমেন্ট করি।
মেহেক কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে নিকোলাস তার এক হাত দিয়ে মেহেকের কোমর জড়িয়ে ধরে পাজাখোলা করে একপাশে তুলে নিল। মেহেক টাল সামলাতে না পেরে ভয়ে আর বিস্ময়ে নিকোলাসের চওড়া কাঁধ আর হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।
নিকোলাস তখন অদম্য শক্তিতে এক হাতেই ব্যায়াম করতে শুরু করল। সেই সাথে শান্ত গলায় কাউন্ট করতে লাগল— এক... দুই... তিন...
পড়ে যাওয়ার ভয়ে মেহেক তখন নিকোলাসকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। তার হৃদস্পন্দন তখন নিকোলাসের গলার শব্দের চেয়েও জোরে বাজছিল। এক অদ্ভুত ভালো লাগা আর রোমাঞ্চে মেহেক চোখ বুঁজে রইল, যেন এই মুহূর্তটা আর শেষ না হয়।
...…...…....…....…....…....…
খানিক পর মেহেক দেখতে পেল একটা সমুদ্রের পাশেই খুব সুন্দর ছোট্ট একটা টেবিল। টেবিলে মোমবাতি আর গোলাপের পাপড়ি। মেহেক অবাকে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে আছে। মেহেকের পরনে নীল রঙের গাউন। তার সাথে নিলিয়ে নিকোলাসও আজ নীল শার্ট আর সাদা ফর্মাল প্যান্ট পরেছে। মেহেক খুশিতে এক ছুটে যেয়ে টেবিলে বসল। নিকোলাসও পিছন পিছন গেল।
টেবিলের ওপর মোমবাতির মৃদু আলো মেহেকের চোখেমুখে এক অদ্ভুত দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছিল। টেবিলে এক গুচ্ছ নীল গোলাপ দেখতে পেল মেহেক। হাসি হাসি মুখে এক গুচ্ছ নীল গোলাপ হাতে নিয়ে মেহেক নিকোলাসের চোখের দিকে তাকালো, সেই চাউনিতে ছিল এক পৃথিবী মুগ্ধতা। নিকোলাস আলতো করে মেহেকের হাতে একটা চুমু খেয়ে নিচু স্বরে বলল,
- এই নীল গোলাপের চেয়েও আমার মিস্ট্রেস আমার কাছে অতি সুন্দরী রমনি। তোমার ওই হাসির কাছে এটার সৌন্দর্য কিছুই না।
মেহেক লজ্জায় রাঙা হয়ে গোলাপটা টেবিলের ওপর রেখে নিকোলাসের হাত ধরে টেনে তুলল।
- অনেক তো হলো ফর্মালিটি, এবার চলো সমুদ্রের সাথে একটু লুকোচুরি খেলি নিক!!
মেহেকের কথায় নিকোলাস দাড়াল। তারপর মেহেকের দুই হাত নিজের হাতের তালুতে রেখে হাঁটু গেড়ে বসল তার সামনে। নিকোলাসের এই নতিস্বীকার মেহেককে স্তব্ধ করে দিল। নিকোলাস মেহেকের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত স্বরে বলতে লাগল
- মিস্ট্রেস, এতদিন আমি শুধু এক তরফা ভালবেসে গেছি তোমায়। মেহেক খান সাইনা থেকে মেহেক অলদ্রিন বানানোর পথটা খুব একটা সহজ ছিল না। আজ তোমার এই ভালোবাসার কাছে আমি স্বেচ্ছায় হার মেনে নিলাম। আজ থেকে এই আমি এই নিকোলাসের ওপর নিকোলাসের কোনো অধিকার নেই। আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস, আমার প্রতিটি ভাবনা এখন থেকে তোমার অনুগত। আমি নিজেকে তোমার কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করলাম মিস্ট্রেস।
মেহেকের চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করে উঠল। মেহেজ কিছু বলতে চাইল, কিন্তু নিকোলাস তার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। নিকোলাস মেহেকের হাত দুটো নিজের হৃদপিণ্ডের ওপর চেপে ধরল।
- মিস্ট্রেস কিছু অনুভব করছো?? এই যে এখানে আমার হৃদয় আছে। আর এখানে প্রতিটি স্পন্দন শুধু একটি নামই জপে সেটা হচ্ছে 'মেহেক'।
মেহেক জড়িয়ে ধরল নিকোলাসকে। এক জীবনে মেহেকের আর কোনো আক্ষেপ নেই আজ।
..............…...…
মেহেক তার নীল গাউনটা কিছুটা ওপরে তুলে বালুর ওপর দিয়ে দৌড় দিতে শুরু করল। নিকোলাস হাসিমুখে তার পিছু পিছু ছুটছে। সমুদ্রের ঢেউগুলো যখন তাদের পায়ের পাতায় এসে আছড়ে পড়ছিল, মেহেক খিলখিল করে হেসে পানির ঝাপটা দিল নিকোলাসের দিকে।
- ওহ! তো আমার মিস্ট্রেস এখন যুদ্ধ করতে চাইছে?
- পারলে ধরে দেখাও!
নিকোলাস এক ঝটকায় মেহেককে কোমরে জড়িয়ে ধরল। সিক্ত হাওয়ায় মেহেকের অবাধ্য চুলগুলো নিকোলাসের মুখে এসে পড়ছে। মেহেক তার দুই হাত নিকোলাসের গলায় জড়িয়ে দিয়ে আদুরে গলায় বলতে লাগল
- তুমি বড্ড বেশি ভালোবাসতে জানো নিক। তুমি বড়ই উন্মাদ।
নিকোলাস গুনগুন করে গান ধরল
ঠিক এমন এভাবে
তুই থেকে যা স্বভাবে
আমি বুঝেছি ক্ষতি নেই
আর তুই ছাড়া গতি নেই
ছুয়ে দে আঙ্গুল ফুটে যাবে ফুল
ভিজে যাবে গা
কথা দেয়া থাক গেলে যাবি
চোখের বাইরে না
..........
রাত বাড়ার সাথে সাথে সমুদ্রের গর্জন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নিকোলাস দেখল মেহেক শীতে কিছুটা কাঁপছে। তাই আর দেরি না করে নিমিষেই মেহেককে পাঁজাকোলা করে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে তুলে নিল।
- নিক নামাও! আমি হাঁটতে পারব।
মেহেক মৃদু আপত্তি জানালেও তার দুহাত নিকোলাসকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।
নিকোলাস কোনো কথা না বলে তাকে নিয়ে পা বাড়াল সমুদ্রের ধারেই সাজানো ছোট্ট তাবুটার দিকে। যেন তাবুর ভেতরে মৃদু হলদেটে আলোর আভা আর নরম বিছানা তাদের অপেক্ষায় ছিল। বিছানায় মেহেককে খুব সাবধানে বসিয়ে দিয়ে নিকোলাস নিজেও তার খুব কাছে গিয়ে বসল।
নিকোলাস মেহেকের ভেজা চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে তার গালে হাত রাখল। আগুনের ওম আর সমুদ্রের শীতলতা মিলে এক অন্যরকম আবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে। নিকোলাস মেহেকের চোখের পাতায়, গালে আর সবশেষে তার ঠোঁটে গভীর অনুরাগে ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দিতে লাগল। মেহেক চোখ বুজে নিকোলাসের এই নিঃশর্ত আদর অনুভব করছিল।
নিকোলাস তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
- আজকের এই রাত, এই সমুদ্র আর আমার এই অস্তিত্ব সবটাই শুধু তোমার জন্য জান।
বলেই নিকোলাস মেহেকের ওষ্ঠাধর নিজের দখলে নিয়ে নিল।
নিকোলাস আর মেহেকের সেই রাতটি যেন এক অনন্ত কাব্যে রূপ নিল। তাবুর ভেতর মোমবাতির শিখা তখন থমকে আছে, আর বাইরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দগুলো মনে হচ্ছিল তাদের ভালোবাসারই এক জলন্ত সাক্ষী।
নিকোলাস মেহেকের চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। তার চোখের গভীরতা মেপে নিয়ে নিকোলাস খুব হাস্কিস্বরে বলতে শুরু করল
- জানো মিস্ট্রেস এই বিশাল নীল সমুদ্রটার দিকে তাকালে আগে আমার খুব একাকী লাগত। কিন্তু আজ তোমাকে পাশে নিয়ে মনে হচ্ছে, আমার পুরো মহাবিশ্বটাই এই কয়েক ফুট জায়গার মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। তুমি আমার সেই প্রশান্তি, যা আমি সারাজীবন খুঁজেছি। আমার মনে হয় তোমার ওই চোখের এক পলক চাহনি পাওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তোমার এই নীল গাউন আর সমুদ্রের নীল মিলে মিশে আজ একাকার হয়ে গেছে, আর আমি সেই নীলে ডুবে মরতেও রাজি আজ।
নিকোলাসের কথায় মেহেক হাসতে থাকে।
নিকোলাস মেহেকের হাতের তালুতে একটা উষ্ণ চুমু খেয়ে ফিসফিস করে আবার বলতে শুরু করল।
- আমার মিস্ট্রেস যখন হাসে, তখন মনে হয় যেন হাজারটা রূপালী তারা একসাথে আকাশ থেকে খসে পড়ছে। তোমার এই রূপের সামনে সমুদ্রের এই স্নিগ্ধতাও আজ ম্লান।
নিকোলাস মেহেককে নিজের বুকের সাথে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। মেহেকের কাঁধের ওপর নিজের থুতনি রেখে সে অনুভব করছিল মেহেকের হৃৎস্পন্দনের গতি। নিকোলাস তার এক হাত দিয়ে মেহেকের হাতগুলো মুঠোয় পুরে নিল, যেন এই স্পর্শ সে সারাজীবনের জন্য জমা করে রাখতে চায়।
মেহেক যখন লাজুক হাসিতে নিকোলাসের বুকে মুখ লুকালো, নিকোলাস তার চুলে নাক ডুবিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিল।
- তোমার শরীরের ঘ্রাণ আমাকে পাগল করে দেয়, মিস্ট্রেস। মন চায় সময়টাকে এখানেই থামিয়ে দিই। কাল যেন আর সূর্য না ওঠে, এই রাতটা যেন আমাদের ভালোবাসার চাদরেই ঢাকা থাকে সারাক্ষণ।
নিকোলাস মেহেকের কানের কাছে মুখ নিয়ে আলতো করে চুমু খায়।তারপর খুব ধীরলয়ে বলে
- আজকের রাতটা আমি স্মরণীয় করে রাখতে চাই মিস্ট্রেস!!
বলেই মেহেকের গলায় মুখ ডুবালো নিকোলাস। মেহেক যখন আবেশে চোখ বুজে নিকোলাসের শার্টের কলারটা খামচে ধরল, নিকোলাস তখন তার কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে এক দীর্ঘ নীরবতায় ডুব দিল। সেই নীরবতা ছিল হাজারো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী, যেখানে শুধু ভালোবাসার নিঃশ্বাসের আনাগোনা।
নিকোলাস ধীরে ধীরে মেহেককে আবার তার বাহুডোরে আবদ্ধ করল। এবার আর কোনো কথা নয়, শুধু অনুভূতির বিনিময়। নিকোলাস মেহেকের কপালে দীর্ঘ এক চুমু দিয়ে তাকে বিছানার নরম চাদরে শুইয়ে দিল। নিকোলাসের চোখের সেই গভীর চাউনি মেহেককে বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে, সে কতটা কাঙ্ক্ষিত।
বাইরে সমুদ্রের হাওয়া তখন উত্তাল, কিন্তু তাবুর ভেতরে এক অদ্ভুত উষ্ণতা। নিকোলাস মেহেকের চুলের ভাঁজে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
- তুমিই আমার রানী, আর আমি তোমার চিরস্থায়ী বন্দি। এই রাতটা সাক্ষী থাকল, নিকোলাস আজ থেকে শুধুই মেহেকের।
মেহেক নিকোলাসের চুলে বিলি কেটে তাকে আরও কাছে টেনে নিল। তাদের দুজনের নিশ্বাসের শব্দ যেন এক নতুন সুর তৈরি করল। নিকোলাস তার সমস্ত আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে মেহেককে আগলে নিল।
সেই রাতে সমুদ্রের বালুচরে একটি তাবু হয়ে রইল ভালোবাসার এক পবিত্র মন্দির, যেখানে নিকোলাস নিজেকে বিলীন করে দিল তার প্রিয়তমার মাঝে।
চাঁদের আলো তখন সমুদ্রের নীল জলরাশিতে পড়ে ঝিকমিক করছে, আর ভেতরে দুটি মন এক সুতোয় বাধা পরেছে। যেন নিকোলাসের সেই উন্মাদ সত্তা আজ মেহেকের ভালোবাসার চাদরে ঢাকা পড়ে এক শান্ত প্রেমিকের রূপে ধরা দিল।
চলবে,,
( মেহেকের এই সুখ সইবে ত🙂)