ফন্ট সাইজ:
থিম:
Crash

১ম পর্ব

লেখক: মহিমা

অধ্যায়:- ১

গ্রামের বিকেলগুলো সবসময়ই একই রকম, তবুও প্রতিদিন যেন একটু আলাদা লাগে।
ধুলোমাখা কাঁচা রাস্তা, দূরে ধানক্ষেতের সবুজ ঢেউ, আর মাঝেমধ্যে বাতাসে বাঁশপাতার মৃদু শব্দ—সব মিলিয়ে জীবনটা সেখানে খুব ধীরে বয়ে যেত। শহরের মতো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল না কোলাহল। দিনের শেষে পুরো গ্রামটা যেন এক অদ্ভুত শান্তির চাদরে ঢেকে যেত।
তখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি।
সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। সময়টা এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু ঠিক তখনই একটা ঝামেলা এসে হাজির হলো। আমি যে স্যারের কাছে পড়তাম, তিনি হঠাৎ করেই পড়াশোনার জন্য শহরে চলে গেলেন। যাওয়ার খবরটা শুনে প্রথমে তেমন কিছু মনে হয়নি। ভেবেছিলাম, কয়েকদিন নিজের মতো থাকি, তারপর দেখা যাবে।
স্যার চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন বেশ ভালোই কেটেছিল।
বিকেলে আর প্রাইভেটে যাওয়ার তাড়া নেই, কেউ পড়া ধরছে না, হোমওয়ার্ক নিয়ে বকাঝকা করছে না। স্কুল থেকে ফিরে নিজের মতো সময় কাটাতে পারছিলাম। কখনো মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, কখনো বাড়ির উঠোনে বসে গল্পের বই পড়া, আবার কখনো স্রেফ আকাশের দিকে তাকিয়ে সময় পার করে দেওয়া।
কিন্তু সেই স্বাধীনতার আনন্দ বেশিদিন টিকল না।
দিন যত এগোতে লাগল, পরীক্ষাও তত কাছে চলে আসতে শুরু করল। বই খুললে বুঝতে পারতাম, অনেক জায়গাতেই আমি আটকে যাচ্ছি। কিছু বিষয় নিজের চেষ্টায় বুঝে নেওয়া গেলেও সবকিছু একা সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না।
তার ওপর আম্মু প্রায়ই একই কথা বলতে শুরু করলেন।
— এভাবে হবে না। নতুন একটা টিচার খুঁজতে হবে।
আমি মুখে কিছু না বললেও বুঝতে পারছিলাম, কথাটা ভুল নয়।
বার্ষিক পরীক্ষার আর খুব বেশি দেরি নেই। এখন যদি ঠিকমতো পড়াশোনা না হয়, তাহলে পরে আফসোস করেও লাভ হবে না।
ধীরে ধীরে আমিও নতুন করে পড়ার একটা ব্যবস্থা করার প্রয়োজনটা অনুভব করতে শুরু করলাম।
তবে তখনও জানতাম না, নতুন টিচার খোঁজার সেই সিদ্ধান্তই আমার জীবনের এক অদ্ভুত ঘটনার শুরু হতে চলেছে।
আমাদের এলাকায় তখন প্রাইভেট পড়ানোর মতো মানুষ খুব বেশি ছিল না।
যারা পড়াতেন, তাদের নাম মোটামুটি সবাই জানত। একেকজনের কাছে পড়ার জন্য আবার আলাদা সুনামও ছিল। কেউ অঙ্ক ভালো পড়াতেন, কেউ ইংরেজি, আবার কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি করাতে বেশ দক্ষ ছিলেন।
সেরকমই একজন ছিলেন এলাকার এক আপু।
আম্মু কয়েকদিন ধরেই তার কথা বলছিলেন। আশপাশের অনেক ছাত্রছাত্রী নাকি তার কাছেই পড়ে, আর পড়াশোনার ব্যাপারেও তিনি বেশ যত্নশীল।
আমি বিষয়টা নিয়ে প্রথমে খুব একটা ভাবিনি। নতুন টিচার খুঁজতে হবে—এটুকুই ছিল আমার মাথায়।
কিন্তু তারপর এমন একটা কথা শুনলাম, যেটা অদ্ভুতভাবে আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিল।
নীরা।
নীরা আমাদের এলাকারই মেয়ে।
আমরা একই স্কুলে পড়তাম না। কথাবার্তাও তেমন কখনো হয়নি। আসলে পরিচয় বলার মতো কিছু ছিল না। তবুও গ্রামের পরিবেশটাই এমন—সবাই সবাইকে কোনো না কোনোভাবে চেনে।
বাজারে যেতে গিয়ে, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে, ঈদের সময় আত্মীয়দের বাড়িতে কিংবা গ্রামের কোনো অনুষ্ঠানে—এভাবে বহুবার তাকে দেখেছি।
হয়তো কখনো চোখাচোখি হয়েছে, হয়তো হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এলাকার আরও অনেক পরিচিত মুখের ভিড়ে নীরাকে আমার আলাদা করেই মনে থাকত। কেন মনে থাকত, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তখন আমার কাছে ছিল না।
হয়তো সে খুব বেশি কথা বলত না বলে, হয়তো তার মধ্যে একটা শান্ত স্বভাব ছিল, কিংবা হয়তো কোনো কারণই ছিল না।
কিছু মানুষকে আমরা অজান্তেই মনে রেখে দিই।
নীরাও আমার কাছে তেমনই একজন ছিল।
একদিন বিকেলে বন্ধুদের আড্ডায় বসে জানতে পারলাম, নীরা কয়েকদিন আগেই ওই আপুর কাছে পড়া শুরু করেছে। খবরটা শোনার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি।
আড্ডা চলছিল আগের মতোই। সবাই নিজেদের কথায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু আমার ভেতরে কোথাও যেন একটা ছোট্ট চিন্তা নীরবে জেগে উঠেছিল।
আজ এত বছর পরও আমি বলতে পারব না, ঠিক কী অনুভূতি হয়েছিল তখন।
উত্তেজনা? কৌতূহল? নাকি অন্য কিছু?
জানি না।
তবে এটুকু স্পষ্ট মনে আছে, আপুর কাছে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আমার আর খুব বেশি সময় লাগেনি।
বাড়ি ফিরে যখন আম্মু আবার নতুন টিচারের কথা তুললেন, আমি এবার কোনো আপত্তি করিনি।
বরং শান্ত গলায় বলেছিলাম,
— ঠিক আছে, পড়ব।
আম্মু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। কারণ কয়েকদিন আগেও আমি নতুন করে প্রাইভেটে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাইনি।
কিন্তু এখন কোনো সাত-পাঁচ না ভেবেই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম।
কারণ তখন আমি শুধু মনে মনে ভেবেছিলাম, নতুন টিচারের কাছে পড়া শুরু করলে খারাপ হবে না।
আর হয়তো সেখানে নীরার সঙ্গেও মাঝে মাঝে দেখা হবে।
সেদিন আমি বুঝিনি, খুব সাধারণ একটা সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে আমার জীবনের স্মৃতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলাদা একটা অধ্যায়ের দরজা খুলে দিতে চলেছে।
পরদিন বিকেলেই আম্মুকে নিয়ে আপুর বাড়িতে গেলাম।
গ্রামের ভেতরের সরু পথ ধরে কিছুটা হাঁটার পর বাড়িটা চোখে পড়ল। বাড়িটি খুব সাধারণ, তবে দেখলেই একটা শান্ত অনুভূতি আসে। সামনে ছোট্ট একটি উঠান। উঠানের একপাশে কয়েকটি ফুলগাছ, আর চারপাশে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে আছে আম, কাঁঠাল আর কিছু নাম না-জানা গাছ।
বাড়ির পেছনের দিকে ছিল একটি লম্বা বারান্দা। পরে জানতে পেরেছিলাম, সেখানেই আপু প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতেন।
আমরা পৌঁছানোর সময় বারান্দায় আর কেউ ছিল না।
আপুর সঙ্গে বসে আম্মু পড়াশোনার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। আমি পাশে বসে চুপচাপ শুনছিলাম। আপু আমার দিকে তাকিয়ে কয়েকটা সাধারণ প্রশ্ন করলেন।
— আগে কোথায় পড়তে?
— কোন বিষয়গুলোতে বেশি সমস্যা হয়?
— পরীক্ষার আর কতদিন বাকি?
আমি যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই উত্তর দিলাম।
কথাগুলো খুব সাধারণ ছিল। তবুও কেন জানি আমি একটু বেশি মনোযোগ দিয়েই সবকিছু দেখছিলাম। নতুন জায়গা, নতুন শিক্ষক, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এক ধরনের অচেনা অনুভূতি কাজ করছিল।
কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপু সামনে রাখা খাতাটা বন্ধ করলেন। তারপর হালকা হাসি দিয়ে বললেন,
— আচ্ছা, কাল থেকে চলে এসো।
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম।
ব্যাপারটা এত সহজেই হয়ে যাবে, সেটা যেন আগে ভাবিনি। আর কোনো বিশেষ কথা হলো না। কিছুক্ষণ পর আমরা বিদায় নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করলাম।
ফেরার সময় গ্রামের পথটা আগের মতোই ছিল। একই কাঁচা রাস্তা, একই ধানক্ষেত, একই বিকেলের বাতাস। দূরে কোথাও গরুর ঘণ্টার শব্দ ভেসে আসছিল, আর পশ্চিম আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছিল।
সবকিছুই আগের মতো, তবুও কেন জানি সেদিন আমার কাছে কিছুই আগের মতো লাগছিল না।
চারপাশের দৃশ্য বদলায়নি, কিন্তু ভেতরের কোথাও যেন একটা অদৃশ্য পরিবর্তন এসে বসেছিল।
কয়েকদিন আগেও বিকেলগুলো ফাঁকা লাগত। পড়াশোনার চিন্তা থাকলেও মনটা কেমন উদাস হয়ে থাকত। কিন্তু সেদিন হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মনে হলো, সেই শূন্যতাটা যেন আর নেই। অকারণ উদাসীনতাও নেই।
তার জায়গায় ঠিক কী এসেছে, সেটা তখন ভাষায় প্রকাশ করার মতো বয়স আমার ছিল না।
শুধু মনে হচ্ছিল, আগামীকাল বিকেলটা একটু তাড়াতাড়ি আসলে মন্দ হতো না।
আমি তখনও জানতাম না, জীবনের কিছু গল্প খুব সাধারণভাবেই শুরু হয়। এতটাই সাধারণভাবে, যে শুরুটা দেখে কখনো বোঝাই যায় না—একদিন সেটাই স্মৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ হয়ে থাকবে।
পরের দিন আমি ঠিক সময়েই বের হলাম।
গ্রামের সকাল তখনো পুরোপুরি গুছিয়ে ওঠেনি। চারপাশে সেই আধো আলো-আধো ছায়ার আবহ, যেন রাত আর দিনের মাঝখানে সময়টা কিছুক্ষণ থেমে আছে। রাস্তা জুড়ে শুকনো ধুলো ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় একটু চুপচাপ হয়ে পড়ে ছিল। কোথাও কোথাও ভেজা মাটির গন্ধ ভেসে আসছিল—রাতের শিশির এখনো পুরোপুরি শুকায়নি।
শুকনো পাতার ছড়াছড়ির ভেতর দিয়ে শীতের শুরুটা ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল। খুব নরমভাবে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে।
আমি হাঁটছিলাম ধীরে।
পায়ের শব্দটা নিজেই যেন ভোরের নীরবতাকে ভেঙে ফেলতে চাইছিল না। কোনো তাড়া ছিল না আমার, তবুও ভেতরে কোথাও একটা অদ্ভুত টান বারবার একই দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
মনে হচ্ছিল, আমি ইচ্ছা করে না হলেও কোনো একটা অভ্যাস আমাকে আগেই পথ চিনিয়ে দিয়েছে।
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন নিয়ম—সব মিলিয়ে ভেতরে একটা চাপা অস্বস্তি আর অজানা কৌতূহল পাশাপাশি হাঁটছিল। একটার ওপর আরেকটা চাপ তৈরি করছিল, কিন্তু কোনোটাই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না।
বাড়িটার সামনে এসে আমি একটু থেমে গেলাম।
থামাটা পরিকল্পিত ছিল না। নিজের অজান্তেই হয়ে গেল। যেন চোখ আগেই জায়গাটা চিনে ফেলেছে, পা শুধু তাকে অনুসরণ করেছে।
পেছনের দিকে তাকাতেই সেই পরিচিত বারান্দাটা চোখে পড়ল। যেখানে প্রতিদিন পড়ানো হয়।
আমি কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকলাম।
তারপর ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম।
বাড়িটা খুব সাধারণ।
সামনে ছোট একটা উঠান, মাটির ওপর ছড়িয়ে থাকা কয়েকটা শুকনো পাতা, আর কোণে কয়েকটা গাছ—যেগুলো ভোরের আলোয় আরও শান্ত লাগছিল।
উঠান পার হয়ে পেছনের দিকে যেতেই লম্বা বারান্দাটা দেখা গেল। কাঠের তৈরি সেই বারান্দার এক পাশে একটি বেঞ্চ রাখা ছিল—পুরনো, কিন্তু যত্নে রাখা।
আর ঠিক সেখানেই নীরা বসে ছিল।
বইটা খোলা, পাতার ওপর মাথা নিচু করে সে মনোযোগ দিয়ে পড়ছিল। মুখে কোনো বিশেষ অভিব্যক্তি নেই—শুধু গভীর মনোযোগের এক শান্ত ভঙ্গি।
হাওয়ার হালকা ছোঁয়ায় তার চুল মাঝে মাঝে নড়ে উঠছিল, আবার পরের মুহূর্তেই আগের মতো স্থির হয়ে যাচ্ছিল।
পুরো দৃশ্যটা চারপাশের নিঃশব্দতার সঙ্গে মিশে গিয়ে খুব স্বাভাবিক লাগছিল, কিন্তু একই সঙ্গে কেন যেন অদ্ভুতভাবে আলাদা—যেন এই নীরবতার ভেতরেই আলাদা একটা জগৎ তৈরি হয়ে আছে।
আমি সেটা আগে থেকেই জানতাম।
তবুও তাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে মনে হলো—আমি যেন এই জায়গাটাকেই প্রথমবার দেখছি।
শুধু মানুষটা নয়, পুরো পরিবেশটাই নতুন করে ধরা দিচ্ছিল চোখে। খুব ধীরে, খুব অচেনা ভঙ্গিতে।
আমি কিছু না বলে ধীরে গিয়ে বেঞ্চের অন্য পাশে বসলাম।
বেঞ্চের দুই প্রান্তে আমরা। মাঝখানে সামান্য একটা ফাঁকা জায়গা রয়ে গেল।
কিন্তু আশ্চর্যভাবে সেই ফাঁকা জায়গাটা ফাঁকা মনে হচ্ছিল না।
মনে হচ্ছিল, সেখানে কিছু একটা আছে—যা দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।
প্রথম কয়েক মুহূর্ত কেউ কিছু বলল না।
শুধু চারপাশের শব্দগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল—
গাছের পাতার মৃদু সড়সড় শব্দ, দূরে কারও পায়ের আওয়াজ, আর মাঝে মাঝে নীরার বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানোর সেই ছোট্ট শব্দ।
আমি ধীরে খাতাটা খুললাম।
কলম হাতে নিলাম, যেন লিখতে বসেছি—এই ভানটা নিজের কাছেই স্পষ্ট ছিল। তবুও থামাতে পারলাম না।
কিন্তু সত্যি বলতে, আমি কী লিখছি বা কেন লিখছি—কিছুই ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।
একটা লাইন লিখলাম।
তারপরই কলম থেমে গেল।
খাতার পাতাটা ফাঁকা ছিল না, তবুও আমার চোখে সেটা একেবারে ফাঁকা মনে হচ্ছিল—যেন লেখাগুলো সেখানে ঠিকভাবে বসছে না, শুধু অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
কলমটা আঙুলের ভেতর ধীরে ধীরে ঘুরছিল, নিজের অজান্তেই।
আর আমি মাঝে মাঝে খুব অল্প সময়ের জন্য পাশের দিকে তাকাচ্ছিলাম, তারপর দ্রুত আবার চোখ নামিয়ে নিচ্ছিলাম—যেন ওই সামান্য দৃষ্টিটুকুও ধরা পড়ে গেলে কিছু বদলে যেতে পারে।
সেদিনও কেউ কিছু বলেনি।
তবুও সেই নীরবতার মধ্যেই যেন অজান্তে একটা গল্পের প্রথম বাক্য লেখা হয়ে গিয়েছিল।
আমি তখনও জানতাম না, এই বেঞ্চ, এই বারান্দা, এই নীরব সকাল—একদিন আমার জীবনের সবচেয়ে পুরোনো অথচ সবচেয়ে স্পষ্ট স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন