নিষিদ্ধ_চাহনা
লেখিকা_সারা_চৌধুরী
পর্ব_১
🚫এলার্ট🚫 নিজের থেকে সাত বছরের ছোট বাচ্চা সুলভ চাচতো বোনের সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে চাচাতো ভাই।মেয়েটির বয়স মাত্র পনেরো বছর।।মেয়েটি ছাড়া পাওয়ার জন্য আকুতি মিনুতি করলেও ছাড়েনি ছেলেটি বরং টেপ দিয়ে মুখ আটকে দিয়েছিলো..যখন নেশা কেটে যায় ছেলেটির তখনই বুঝতে পারে সে কতো বড়ো ভুল করে ফেলেছে..বাচ্চা মেয়েটির নগ্ন শরীরের দিকে তাকিয়ে গায়ের উপর চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিয়ে কিছু না বলে উঠে চলে যায় রুম থেকে আর সেই রাতে পাড়ি জমায় সুদুর কানাডায়..কিন্তু কিছু জিনিস কি আর চাপা যায় রুমেত সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যায় কিছুক্ষন আগের সেই জঘন্য ঘটনাটা।।!
কিছুক্ষন আগের ঘটনা......
বিয়ে বাড়ির চারিদিকে আনন্দ উল্লাসে ভরপুর..গান বাজনা লাইটিং এর আলো সারা বাড়ি জুড়ে।।আজ চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে ইশান চৌধুরীর বিয়ে।।বিয়ে বাড়িতে মানুষে ভরপুর তবে কারোর কোনো ধারনা নেই এর পর কি হতে যাচ্ছে।দোতলার কর্নারের বিশাল রুম টা আজ অন্ধকারে ছেয়ে আছে.. ঘরের মাঝে আলতো গোলাপি আলো জলছে..সোফার উপর সুয়ে আছে সাদি। পুরো নাম সাদিকুর চৌধুরী সাদি..সাদীর চোখ অসম্ভব লাল শরীর তার অস্থির..আজ তার প্রেমিকার সাথে তার বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এটা সে মেনে নিতে পারছে না।সাদির শ্বাস দ্রুত চলছে..গলা শুকিয়ে আসছে..সোফার পাশেই খালি পড়ে আছে দুটো বিদেশি হুইস্কির বোতল..সাদির সারা শরীর কাপছে অজানা এক আগুনের উত্তেজনায়।।মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে এক অদ্ভুদ গোঙানি.. নিজেই নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছে সাদি..!
তখনই রুমের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ পিহু..পুরো নাম আদিবা চৌধুরী পিহু..পরনে লেহেঙ্গা বিয়েতে মজা করছিলো সে কিন্তু চাচির কথা শুনে উপরে আসে সাদিকে ডাকতে..কিন্তু সাদির এমন গোঙানি শুনে পিহু কিছুটা ভড়কে যাই।।ধীরে ধীরে সাদির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ভিতু কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে...
-"ভাইয়া তোমার কি হয়েছে...?
সাদি টেনেটুনে চোখ খুলে উঠে বসে সোফার উপর..তারপর পিটপিট করে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে পিহু দাঁড়িয়ে হুট করে পিহুকে জড়িয়ে ধরে.. পিহু কেপে উঠে..সাদির মুখ ঠেকেছে পিহুর পেটে..সাদি চুমু তে ভরিয়ে দেই পেট তারপর বিড়বিড় করে বলে...
-"আমার না অনেক দুঃখ ভুলিয়ে দিবি পিহু..!
-"কি দুঃখ ভাইয়া...!
-"ভুলিয়ে দিবি বলনা.. সাদি কিছুটা বাচ্চামি আচরন করে বলে উঠে..!
পিহু অবাক হয় সাদি ভাইকে সে সব সময় কম কথা বলা গম্ভীর রাগী অবস্থাই দেখেছে এই রুপে কখোনো দেখেনি..তাই কিছু না ভেবে পিহু উত্তর দিলো..
-"চাচি নিচে ডাকছে চলেন..খেতে হবে আপনি নাকি সারাদিন খান নাই..!
-"আমার অনেক কষ্ট রে পিহু..খেতে ইচ্ছা হয় না..!
-"আগে চলুন চুপচাপ..বলেই পিহু সাদির হাত ধরে টেনে তুললো সাথে সাথে সাদির শরীরে কারেন্ট এর মতো শক লাগে..পিহুর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকায়।।নিজের ভিতরে পুরু*ষত্বের চাহিদা জেগে উঠে..নিজের সামনে সুন্দরী পিহুকে দেখে মোহিত হয়ে যায় সাদি..সাদির চাহিদা তীব্র বেগে জেগে উঠে ঠিক তখনই...
-"আরে ভাইয়া আসো বলেই পিহু সাদিকে টানতে থাকে..!আরে ভাইয়া..পিহু সম্পুর্ণ কথা শেষ করার আগেই সাদি তার ঠোঁটজোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেই।।অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পিহু ভয় পেয়ে যায়।।দুই হাত দিয়ে সাদির বুকে কিল ঘুসি দিতে থাকে এতে সাদিকে এক চুল ও নড়াতে পারে না বরং সাদি আরো উত্তেজিত হয়ে যায়!!ঠোঁটের চুম্বন গভীর থেকে গভীর হচ্ছে এক সময় সাদি পিহু কে ছেড়ে দেয় সাথে সাথে পিহু জোরে জোরে দোম নিতে শুরু করে।। পিহু কিছু বলতে যেতেই সাদি পিহুকে কোলে তুলে বিছানাই ছুড়ে দেই..আর নিজের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে এগিয়ে যেতে থাকে পিহুর দিকে...পিহু ভয়ে পিছাতে শুরু করে তার গলা দিয়ে স্বর বেরোচ্ছে না..সাদি শার্ট টা ছুড়ে মারলো বিছানায়..তারপর ঝাপিয়ে পড়লো পিহুর উপর।পিহু কেদে উঠলো। সাদি পিহুর ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে বেশখানিক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে পিহুর গিলায় ঠোঁট ছোয়াল..পিহু এবার সাদির হাতে কামড় দিলো..সাদি চোখ তুলে গোলাপি আলোয় হাত দেখে পিহুকে বললো..
-"তাহলে চল কে কাকে কত বেশি বাইট করতে অয়ারে দেখা যাক..!
বলেই সাদি পিহুর লেহেঙ্গা খুলতে শুরু করলো পুহু ধাক্কা দিয়েও সরাতে পারলো না..সাদির শক্তপোক্ত পুরুষালী শরীরের কাছে তার শরীর চুনোপুঁটি।। এক পর্যায়ে সাদি জোরপূর্বক পিহুর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে শিরু করে..পিহুর আর্তনাদে পুরো ঘর কেপে উঠে..যেহেতু সাদির রুম সাউন্ড প্রুভ আর বাইরে গান বাজনা চলছে সেহেতু পঞ্চাদশী পিহুর আর্তনাদ কেও শুনলো না..সাদির উন্মাদনা বেড়ে গেলো..ফলস্বরুপ পিহু গোঙরাতে গোঙরাতে এক সময় জ্ঞান হারালো..চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়লো নোনাজল..হটাৎ সাদির ফোন বেজে উঠাই সাদির ঘোর কাটে..তারপর সে বুঝতে পারে কত বড় ভুলটাই না সে করেছে।কিছু না ভেবেই ডয়ার থেকে পাসপোর্ট বের করে নিয়ে এক কাপড়ে বেরিয়ে যায় সাদি..!
নিজের ছেলেকে রেগে চলে যেতে দেখে আতিয়া বেগম মনে করলো পিহু করেছে।। ছোট থেকে পিহু আর সাদির সাপে নেউলে সম্পর্ক।। আতিয়া বেগম নিজের মনে মনে বক্তে বক্তে উপরে উঠলেন সিড়ি বেয়ে।।সাদির রুমের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিতেই আতকে উঠলেন আতিয়া বেগম..তার চোখ আটকে গেছে...চিল্লিয়ে জোরে কেদে উঠলেন তিনি দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো নিথর পিহুকে...সারা বিছানায় লাল রক্তের দাগ.. তার বুঝ মতে অসুবিধা হলো না একানে কি হয়েছে..আতিয়া বেগম এর চিৎকার এ সবাই রুমে এসে হামলে পড়লো..সবার চক্ষু চড়ক গাছ...পিহুর বড় বোন কেদে উঠে ছুটে গেলো নিজের বোনের কাছে..!
ইলিয়াস চৌধুরী বেশ রেগে গেলো পিহুর অবস্থা দেখে..সাথে সাথে নিজেদের পারিবারিক ডাক্তার কে ফোন দিলো..আতিয়া বেগম আর পিহুর বড় বোন মেহু মিলে পিহুকে জামা কাপড় পরিয়ে দিলো.. মেয়েটার শ্বাস খুব ধিরে চলছে..বিছানার এক কোনে বসে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ইলিয়াস চৌধুরী নিজের ছেলে এমন কান্ড করবে তাও বাপ মা মরা মেয়েটার সাথে..এরকম সিক্ষা সেতো তার ছেলেদের দেই নি..ইশান সাদির ফোনে কল দিচ্ছে অনবরত কল এতক্ষন ঢুকলেও এক ফোন বন্ধ ইশান বেশ রেগেই বলে উঠে...
-"বাবা ওই অমানুষ্টার ফোন অফ..!
-"ইলিয়াস চৌধুরী গভীর চিন্তায় বিমত্ত..কি থেকে কি হয়ে গেলো...মেহু ভিজা তোয়ালে দিয়ে পিহুর সমস্ত শরীর মুছিয়ে দিলো পিহুর কেপে উঠলো অচেতন অবস্থাতেই...ডাক্তার আসলে পিহুর অবস্থা দেখে বলে উঠে এটা তো রে*প কেস আমি চিকিৎসা করতে পারবো না..!
এবার ইলিয়াস চৌধুরী হুংকার দিয়ে বলে উঠে আগে আমার মেয়েকে বাচান তারপর কেস দেখবেন বলেই হাতের মোবাইল এ থাকা পুলিশ এর নাম্বারে ফোন লাগিয়ে বের হয়ে যায় রুম থেকে সাথে যায় ইশান ও..!
আতিহা বেগম কেদে উঠে তার ছেলে এমন জঘন্য কাজ কিভাবে করলো সে নিজেও তো ডাক্তার এই মাসেই ডিগ্রি আনার জন্য কানাডা যাওয়ার কথা সে কিভাবে করতে পারলো এসব।। ডাক্তার পিহুকে দেখে স্যালাইন দিলো সাথে ব্যাথা আর ঘুমের ইঞ্জেকশন দিলো..তারপর আতিয়া বেগম কে উদ্দেশ্য করে বললো....
আমি যেহেতু আপনাদের পারিবারিক ডাক্তার সেহেতু আমি কিছু বললাম না..কিন্তু এটা কিন্তু রে*প কেস।। পুলিশ জানলে মিনিমাম পাঁচ বছরের জেল হবে..!আতিয়া বেগম কেপে সে কখোনো ভাবতেও পারি নি তার ছেলে এত খারাপ কাজ করবে..মেয়েটাকে সে সহ্য করতে পারতো না ঠিক আছে তাই বলে এভাবে ধ*র্ষ*ন করে মেয়েটার পুরো ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারলো...!
পুরান ঢাকার বেশ নাম করা চৌধুরী বাড়ি..এহসান চৌধুরী হাতে তৈরী এই বাড়ি তার নাম্মানুসারেই চৌধুরী বাড়ি রাখা হয়..চৌধুরী বাড়িকে চেনার আর একটা বিশাল উপাই চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিস যার বর্তমান মালিক ইলিয়াস চৌধুরী।।এহসান চৌধুরীর দুই ছেলে বড় ছেলে ইলিয়াস চৌধুরী আর ছোট ছেলে আহাদ চৌধুরী..ইলিয়াস চৌধুরীর স্ত্রী আতিয়া বেগম..ইলিয়াস চৌধুরীর দুই ছেলে এক মেয়ে।। বড় ছেলে ইশান চৌধুরী বর্তমান বাবার ব্যাবসা সামলাচ্ছে.বয়স আঠাস বছর।।আর ছোট ছেলে সাদিকুর চৌধুরী ডাক্তারি পড়ছে..বয়স বাইশ।।আর মেয়ে ইরিনা চৌধুরী বিয়ে হয়ে গেছে কিছুদিন আগেই।। ইলিয়াস চৌধুরীী ছোট ভাই আহাদ চৌধুরী।। স্ত্রী মাহিয়া খাতুন..আহাদ চৌধুরীর দুই মেয়ে এক ছেলে বড় মেয়ে মেহু চৌধুরী।। বিয়ে হয়ে কিছু বছর আগে বর্তমান ইন্ডিয়া তে থাকে...ছোট মেয়ে পিহু চৌধুরী বয়স পনেরো।। দশম শ্রেনিতে পড়ে।।আর ছেলে সাইম চৌধুরী।।
চার বছর আগে গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলো তারা পুরো পরিবার সেখান থেকে আশার সময় তাদের একটা গাড়ি খাদে পড়ে যায় ফলে গাড়ির ভিতরে থাকা সকলেই মারা যায়..গাড়িতে ছিলো আহাদ চৌধুরী.. সাইম..এহসান চৌধুরী আর মাহিয়া খাতুন আর আহাদ চৌধুরীর আম্মা ফাল্গুনি শেখ।। সবাই সাথে সাথেই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় রাস্তায় যেতে যেতে আহাদ চৌধুরী ইলিয়াস চৌধুরীর হাত ধরে বলে ভাই আমার মেয়ে দুটোকে দেখে রাকিস তারপর ই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে ইলিয়াস চৌধুরীর কলিজা প্রায় ভাই আহাদ...একদিনেই ঝরে যায় চৌধুরী পরিবার থেকে পাচ পাচটি প্রান..!
সেদিনের পর থেকে পুরো পরিবার টাকে আগলে রেখেছেন ইলিয়াস চৌধুরী।। পিহুকে নিজের মেয়ের মতো করে ভালোবেসেছেন।।মেহুকে ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন..ছোট থেকেই সাদি আর পিহুর সম্পর্ক ভালো ছিলো কিন্তু হটাৎ কি হলো জানেনা বিনা কারনে মারামারি বেধে যায় দুজনের।।বর্তমানে মেহু গুছিয়ে নিয়েছে তার পাসপোর্ট এর ভিসা শেষ যেহেতু বিয়ে আর হচ্ছে না এই ঝামেলায় সেহেতু চলে গিয়েও তার আফসোস নেই।।সে খুব জোর করলো পিহুকে নেওয়ার তবে আতিয়া বেগম রাজি না..এক সময় হতাশ হয়ে বোনের কপালে চুমু খেলেন..তার নিস্পাপ বোনটার সব শেষ।।রাগে চোখ জল জল করে উঠলো। আতিয়া বেগম কে জড়িয়ে দজরে মেহু কেদে উঠলো তার খুব একা লাগে তবুও মেয়েদের আসল ঠিকানা শশুর বাড়ি।।তাই আর দেরি না করে পিহুর খেয়াল রাখতে বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো মেহু গন্তব্য এয়ারপোর্ট।।
ইলিয়াস চৌধুরী নিচে এসে ।মেইন দরজা থেকে বের হতে যাবে ঠিক তখনই একটা ছেলে এসে দাড়ালো তার সামনে হাতে একটা খাম..ইলিয়াস চৌধুরী কিছু বলার আগেই ছেলেটি বলে উঠে ইলিয়াস চৌধুরী কে একটু ডেকে দিবেন...ইশান এতক্ষন কিছু না বলে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো এখন সে বেশ জোরেই রাসভারি কন্ঠে বলে উঠলো। যার সাথে কথা বলছো তার কাছেই তার খোজ করছো..! ছেলেটি হতভম্ব হয়ে হাতের খামটি ইলিয়াস চৌধুরীর হাতে দিলো তারপর কাপাকাপা কন্ঠে বললো..সাদি ভাই পাঠিয়েছে..ইশান ছেলেটির কলার চেপে ধরলো ছেলেটির ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা দেখেই বুজতে পেরেছে এরা সব রেগে আছে..ইশান বেশ কঠিন কন্ঠেই বললো..
ইশান:- সাদি কই...?
ছেলেটি:- ভাই তো একটু আগে এইটা আমার হাতে দিয়ে বললেন দিয়ে আসতে আপনাদের কাছে।।
ইশান:-তুই সাদিরে ভাই বলছিস তাহলে আমাদের চিনিস না কেন..?
ছেলেটি :- আসলে ফারজু আপুর সাথে সাদি ভাইয়া পেম করতো আর আমি ফারজু আপুর বাড়ির পাশেই থাকি...?
এবার ইলিয়াস চৌধুরী আর ইশান দুজনেই চমকে গেলো তার মানে সাদি এই জন্য গম্ভীর ছিলো ফারজুর সাথে ইশান এএ বিয়ে হচ্ছে বলে কিন্তু সে তো কখোনো বলে নি এসব...ইশান ছেলেটিকে ছেড়ে দিলো সাথে সাথে ছেলেটি দৌড়ে চলে গেলো সে জেনো এটার অপেক্ষা করছিলো..ইশান ইলিয়াস চৌধুরীর হাত থেকে খাম নিয়ে ভিতরে এসে বসতেই মেহু আসলো..মেহু সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতেই ইলিয়াস চৌধুরী ইশানকে চিঠি টা পড়তে বলেন..ইশান চিঠির ভাজ খুলে দেখে দুটো চিয়াথি প্রথম চিঠি টা হাতে নিয়ে খুলে পড়া শুরু করলো ইশান......
প্রিয় আব্বু,,
জানি আজ আমি কত বড় ভুল করে ফেলেছি কখোনো মাফ করবা কি জানিনা তাও মাফ করে দিও।।আমি জানি চিঠিটা তুমি পড়বা না ভাইয়া পড়বে. আমি কানাডা চলে যাচ্ছি.. যদি মনে চাই কোম্পানির শেয়ার এর কানাডার অংশ টুকু আমাকে দিয়ে দিও।।আর না দিলেও লাগবে না..আমি ডাক্তারি শেষ করছি প্রায় তিন বছর লাগবে..তোমার সপ্ন পুরন করবো..আমার ভুকের জন্য মাফ করে দিও..আম্মুকে দেখে রাখিও..আমি ঠিক থাকবো আমি সব ঠিক করে নিয়েছি আমার কোনো যোফাযোগ পাবে না..খুজলেও তবে একদিন তোমার সামনে আসবো এক চরম সত্যি নিয়ে ইনশাল্লাহ ভালো থাকবা..!
ইতি তোমার এখন কার অপদার্থ।
চিঠি টা পড়ে ইশান ইলিয়াস চৌধুরীর দিকে তাকালেন।। ইলিয়াস চৌধুরী শান্ত কন্ঠে বললেন পরের চিঠি পড়ো.ইশান আবার পরের চিঠি টুকু পড়া শুরু করলো।।
প্রিয় ভাইয়া,,,
আমি জানি তুই পড়ছিস..ফারজুরে আমি সেই ক্লাস টেন থেকে ভালোবাসি আর আজ তোর সাথে বিয়ে হলো।।ওরে কখোনো ভাবি হিসাবে মানতে পারবো না তাই খুব রাগ উঠছিলো আমি কখোনো নেশা করিনা।।তবে রুম থেকে আশার পর আমার রুমে দেখলাম তোর বন্ধুরা রেখে যাচ্ছে হয়তো পরে খাবে।। আমি কস্ট ভুলতে খেয়ে ফেলছি আর জানিনা আর যখন আমি নিজের মধ্যে আসলাম তখন দেখলাম আমি পিহুকে নষ্ট করে ফেলছি।।ভাইয়া তুই তো জানিস আমি কেমন।।আমারে ভুল বুজিস না..আমি যখন নিজের ভুল পারছি তাই চলে আসলাম এ দেশে নইতো বাংলাদেশ থাকতাম..প্রথমত ফারজু তোর বউ আর দ্বিতীয়ত পিহুর জীবন সেই কস্ট আমি নিতে পারতাম না চলে এসেছি এখানে..পিহু বড় হলে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিস.. আজ কের পর থেকে আমারে ও ঘৃনা শুরু করবে আমি জানি।। তবুও বলছি ওর বিয়ে দিতে সমস্ত খরচ আমি বহন করবো..ভালো থাকিস ভাইয়া।।।
ইতি তোর।। পিচ্চি ডাক্তার
ইশান এর চোখ পানিতে টলমল করলো সেও জানে তার ভাই কেমন তবে আজ যা করছে এর ভুল মাফ হয় না..ইলিয়াস চৌধুরী রেগে বলে উঠলেন..অমানুষ ততৈরি করেছি মেয়েটাকে মৃত্যু যন্ত্রনা দিয়ে বলে কিনা মাফ করে দিতে তার বিয়ের খরচ সে বহন করবে..!
এদিকে সাদি এয়ারপোর্টে আছে সব কিছু পার করে এবার প্লেনে গিয়ে বসলো।।কিছুক্ষন যেতেই প্লেন টি রানওয়ে ছেড়ে আকাশের মেঘের মাঝে হারাতে লাগলো শত শত যাত্রী শত রকমের সপ্ন..সাদি চোখের উপর হাত দিয়ে সিটে হেলান দিতেই ভেসে উঠে পিহুর সেই কান্নার দৃশ্য..সাদি তড়িৎ বেগে চোখ খোলে তারপর বিড়বিড় করে বলে...
-"সরি রে পিহু আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি.. তবে একদিন আমি ফিরবো।। তোর জিবন থেকে হারানো সব কিছুর বদলা নিবো। তুই আমি ঘৃনার খাতায় রেখে হলেও মনে রাখিস।।
সাদি দীর্ঘশাস ছাড়লো আজথেকে তার নতুন করে জীবন শুরু।। পিহুর মুখ টা সব সময় ভাসছে তার মনে..সাদি এক দৃষ্টিতে সিটের পাশে জানালার দিকে তাকালো রাতের আকাশে চারিদিক অন্ধকার।। সাদি চোখের উপর হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলো।।
ভালোবাসা শুধু চার অক্ষরের শব্দ নয়..এতে মিশে থাকে শত শত অনুভূতির জীবনের রাজ্য।সব সময় এই ভালো বাসা নামক অনুভুতি প্রকাশ করা যায় না।বা প্রকাশ করতে গেলেও বিবেক আ বাধা দেয়।।দুই মেরুর দুই জীব কি এক হতে পারবে।। ভালোবাসা সৃষ্টি হবে তাদের হৃদয়ে।।এক জনের মনে যখন ভালোবাসার ফুল ফুটে উঠেছে প্রিয় মানুষকে নিজের করে নেওয়ার তাড়নায় অপর পাশের মানুষ টাও ঠিক তার থেকে দ্বিগুন ঘৃনা নিয়ে বেচে আছে।।
কিছু মানুষের কাছে ভালোবাসা নিতান্তই তুচ্ছ।।আবার কিছু মানুষের কাছে ভালোবাসা মানে নতুন ভাবে বেচে থাকার অনুপ্রেরনা..ভালোবাসা আসক্তি থেকে কারো কারো কাছে ভয়ংকার রুপ নেই..কেও বা আবার ভালোবাসার অভিনয় করে নিজের পুরোনো শত্রুতার কারনে রিভেঞ্জ নেয়।।এসব বিদেশি কালচারে সাধারন বিষয় তবে বাঙালীদের কাছে ভয়ানক বেপার।।
এতো এতো কথার মাঝে আরো একটা অনুভুতি আছে।।সেটা এক প্রকার এক তরফা ভালোবাসা বা অনসাইড লাভ।।সবার মনে একটা ভালো থাকার অনুভুতি থাকে।।দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিনটা বছর।বদলে গেছে যাবতীয় সময়ের সব।।চৌধুরী বাড়ির পরিস্থিতিও বদলে গেছে।।যে ইলিয়াস চৌধুরীর কথায় পুরো চৌধুরী বাড়ির মানুষ কাপতো সেই ইলিয়াস চৌধুরী আজ বিছানা সজ্জায়।। আগের মতো নেই চৌধুরী বাড়ির সাজ সজ্জা।।বাড়িটা কেমন মন মরা হয়ে গেছে।।।প্রায় দু বছর আগে ইশান বউ নিয়ে কোম্পানির ৫০% শেয়ার নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে...এদিকে এতোদিন সাদির সাথে কারোর জোগাজোগ ছিলো না হটাৎ এক সপ্তাহ আগে যোগাযোগ হয়।।সাদি নিজের বাবার এমন করুন কথা শুনে সাথে সাথে দুদিনের মধ্যে কানাডার ভিসা রেডি করে দেয়..সেই ছোট্ট পিহু এখন আঠারো বছরের যুবতি।। অষ্টাদশি হৃদয়ে প্রথম প্রেমের ছোয়া লেগেছে কেবল।।
দুবছর আগে যখন ইশান বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছিলো তখন ইলিয়াস চৌধুরী স্ট্রোক করেন কিন্তু ইশান একবার পিছু ফিরে তাকায় নি।।।নিষ্ঠুর এর মতো বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলো পিছনে রেখে গিয়েছিলো অসুস্থ বাবা অসহায় মা আর ছোট পিহু কে।।।ইলিয়াস চৌধুরীর সেদিন থেকে দুরদীন শুরু হয়..কোম্পানি লসে ডুবতে থাকে..সে সাদিকে কোনো শেয়ার দেয় নি কোম্পানির।।যদিও চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিস এর একটি শাখা কানাডাতেও আছে।।ভাগ্য ক্রমে সেই ছেলে আজ ইলিয়াস চৌধুরী সুস্থ করার জন্য হাত বাড়িয়েছে।।
ভালোবাসা হুট করে বসন্ত বাতাসের মতো আসে।। যা হৃদয়ে দোলা লেগে যায়...কলেজ ক্যাম্পাস এর সরু রাস্তা দিয়ে হেটে চলেছে পিহু আর জেরিন।।জেরিন পিহুর বেস্ট ফ্রেন্ড কলেজ থেকে পরিচয় তাদের..পিহুর মন খারাপ দেখে জেরিন বলে উঠে...
-কিরে পিহু রানীর আজ মন খারাপ কেন কি হয়েছে...?
-বাবাই খুব অসুস্থ কানাডা নিয়ে যাবে পরশু..!
-ভালো তো তাতে তোর মন খারাপ কিসে...?
-আমি যেতে চাই না।।
-কেন...?
-সেখানে তো..আর বললো না পিহুর গলায় কতগা আটকে গেলো তিনবছর আগের সেই রাতের কথা মনে পড়লো মুহুর্তে চোখে পানি এসে ভিড়লো।।
-কিরে কাদিস কেন দোস্ত।।তোর চোখে পানি মানাই না..!
-আমার না মামনি বলেছে আজ টিসি নিয়ে যেতে প্রিন্সিপাল কে ফোনে বলে দিয়েছে..!
-মানে টিসি কি করবি..?
-বাবাই সুস্থ হতে নাকি চার-পাচ মাস সময় লাগবে বাড়িতে একা তো আর থাকতে পারবো না তাই নিয়ে যাবে।।ওর ওই দেশের কলেজে ভর্তি করাবে..!
-ওখানে না তোর ভাই আছে শুনছিলাম..?
-হুম.. পিহু ছোট করে উত্তর দেই..!
-আরে দোস্ত কয়েক মাসের বেপার চিন্তা নিস না মন খারাপ করে লাভ নেই তুই বল টিপস কখন দিবি।।
-কিসের টিপস..?
-এইজে তুই কানাডা গিয়ে ঘুরবি ওইখানে নতুন কলেজ ফ্রেন্ডস সব পাবি তার।।
-ওহ..!
-দোস্ত মন খারাপ করিস না প্লিজ..(জেরিন মন মরা হয়ে বলে তার ও খারাপ লাগছে পিহু চলে গেলে সে একা হয়ে যাবে।। তবে সে জানে পিহুর বাবাই সুস্থ হওয়া জরুরি পিহুর বাবাই এর জন্য পিহু খুব কাদে..তাই জেরিন নিজেকে শান্ত রেখে বলে উঠে...
-পিহু রানী এতো মন খারাপ করিস না তো।।
পিহু এবার হুট করে জেরিন কে জড়িয়ে ধরে কলেজ ক্যাম্পাসের গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে।।পিহু একটু বেশি আবেগি তবে কস্ট লুকাতে উস্তাদ।।জেরিন কিছুটা পিছিয়ে যায় পিহুকে জড়িয়ে রাখে পিহুর মাথায় হাত রাখে পিহুর পরনে কালো বোরকা আর হিজাব...পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠে আমি তোকে আর নাবিল ভাইকে ছাড়া থাকতে পারবো না দোস্ত আমার দোম বন্ধ হয়ে যাবে...জেরিন পিহুকে একটু হাসানোর জন্য বলে ওহ তাইলে এই বেপার পুহু রানী নাবিল্লা রে মিচ করছে আমাকে না।।পিহু এবার মুখ উঠিয়ে মুহূর্তেই রাগী ভাব নিয়ে বলে আমি তোর সাথে মজা করছি।। জেরিন চোখ ছোট ছোট করে বলে পিহু তুই রাগলেও কিউট লাগে ওই জন্য ক্রাশ বয় নাবিল্লা তোর প্রেমে হাবুডুবু খাই।।পিহু এবার রেগে নিজের হাতে থাকা ছোট ব্যাগটা জেরিন এর দিকে ছুড়ে দিয়ে হাটা শুরু করে।।জেরিন জোরে জোরে হাসতে শুরু করে।। সে জানে পিহুকে আর একটু ইমোশনাল রাখলে মেয়েটা সেন্স হারাবে।।একটা বাজে অভভাস পিহুর।।তাই তো জেরিন টপিক চেঞ্জ করে পিহুকে একটু রাগিয়ে দিলো।।সে জানে পিহুর রাগ তার উপর পাচ মিনিটের বেশি কাজ করবে না তাই সে পিহুকে প্রিন্সিপাল রুমের দিকে যেতে দেখে সেও পিহুকে ডাকতে ডাকতে তার পিছু নিলো।।
আতিয়া বেগম জরুরি সব জিনিস এক এক করে গুছাচ্ছেন।।ইলিয়াস চৌধুরীর এতোদিন সুকিৎসার অভাবে কথা বলা অফ হয়ে গেছে শুধু তাকিয়ে থাকে এটুকুই ডাক্তার বলেছে বিদেশ নিয়ে যেতে ভালো কোনো ডাক্তার দেখাতে।।আতিয়া বেগম নিজেদের জন্য দুটো ল্যাগেজ গুছিয়ে জরুরি ডাক্তারি রিপোর্ট সব ফাইলে পুরে রাখলেন তার পর ইলিয়াস চৌধুরীর মাথার কাছে টুল নিয়ে বসলেন..ইলিয়াস চৌধুরী সাদের সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে চোখে মায়া।।আতিয়া বেগম তার হাত ইলিয়াস চৌধুরীর হাতের উপর রাখলেন তারপর ডাকলেন শুনছো...ইলিয়াস চৌধুরী চোখ টেরা করে তাকালেন আতিয়া বেগম মাথা কাত করে দিল্রন তারপর আতিহা বেগম ইলিয়াস চৌধুরী হাত ধরে উচু করে একটা চুমু খেলেন তারপর বলে উঠলেন....
আমরা মেয়েটাকে আবারো বিপদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি না জানি এবার কপালে কি আছে।।মেয়েটা মোটেই যেতে রাজি না।। সেদিন পর থেকে সেই ঘটনা মনে করে মেয়েটা খুব কাদে।।আমাদের ছেলেটা ভুল করেছিলো।।এখোনো কি আগের মতো রাগচটা।।গম্ভীর।। একালসেড়ে আছে নাকি বদলে গেছে।।ওখানে যাওয়ার মেয়েটার সাথে খারাপ আচরন করবে না তো..আবার কি ভেবে হেসে বললেন যদি খারাপ আচরন করতো তাহলে নিজে থেকে পাসপোর্ট ভিসা ঠিক করে দিতো না।।ইলিয়াস চৌধুরীর চোখের কার্নিস বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।।আতিয়া বেগম সুনিপুন ভাবে চোখের পানি মুছে দিলেন ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠে আতিয়া বেগম ইলিয়াস চৌধুরীর পাশ থেকে উঠে শাড়ির আচল মাথায় টেনে দরজা খুলে দিলো।।দরজা খুলতে অবাক চোখে সামনে তাকালো.......
চলবে.....