#নিষিদ্ধ_চাহনা
#পর্ব_০৩
#লেখিকা_সারা_চৌধুরী
মামুনি আমার খুব অসুস্থ লাগছে।।।আতিয়া বেগম ভয় পেলেন।।মেয়েটা কে দেখে সত্যিই অসুস্থ লাগছে।। আতিয়া বেগম চারিদিকে চোখ বুলিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে কিয়ে কর্নারে একটা ছোট রুম দেখে সেখানে পিহুকে নিয়ে গিয়ে সুইয়ে দিলেন।।রুমে যেতেই পিহু ওয়াশরুমে গিয়ে বমি করে ফেললো।। তার জার্নি করার অভ্যাস নেই।।তাই এই অবস্থা।।আতিয়া বেগম পিহুর একটা জামা বের করে দিলো।।আসার আগের দিন শপিং করেছিলো।।কিছু টপস আর জিন্স।।।তবে আতিয়া বেগম একটা গেঞ্জি আর প্লাজু দিলেন।।তিনি জানেন এ সব দেশের মেয়েরা এগুলা পরে।। কেও দেশিও কালচার এ চলতে গেলে তাকে বুলি করা হয় তাই সে নিজেই পিহুর জন্য অনেক কিছু কিনেছে যেগুলো পিহু জানেনা।।।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে ভিতর থেকে বাইরের প্রকৃতি বোঝা মুসকিল।।পিহু ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে বেড এ সুয়ে পড়লো আতিয়া বেগম রুমের দরজা চাপিয়ে নিচে চলে গেলেন।।আসার আগে সাদি বলেছিলো নিচের রুমে আতিয়া বেগম এর জিনিস পত্র রালহতে চাইলে সেখানে থাকতে।।আতিয়া বেগম নিজেও ক্লান্ত রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ঘড়িতে সময় দেখলেন ছয়টা বেজে বিশ।।তাই সে নামাজ পড়ে নিলো।।পিহুর থেকে সে মোবাইল এ আজানের এলার্ম সেট করেছে।।যেহেতু নামাজ কাজা করেন না তিনি।।নামাজ পড়ে নিজেও একটু ঘুমালেন।।।
পিহুর ঘুম ভেঙে যায় প্রচন্ড খিদে লাগাই।।পিহু বিছানা থেকে উঠে বসে।।কোমর সমান এলো মেলো চুল গুলো হাত খোপা করে নেই।। ব্যাগ থেকে টু-পিচ বের করে পরে নেই।।তারপর মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে দশটা ত্রিশ।।পিহু চমকায়।।হটাৎ তার গা শিরশির করে।। উঠে।।পিহু দরজা খুলে বাইরে বের হয় ধিরে ধিরে দোতলার করিডোরে এসে নিচে তাকায় শুভ্র মৃদু আলো জলছে ডাইনিং এ।।।পিহু সামনে এগিয়ে বা পাশ থেকে সিড়ি দেখলো নিচে নামার।।একটু এগুতেই ধবধবে সাদা দরজা দেখতে পেলো।।কৌতিহল নিয়ে খোলার চেষ্টা করলো তবে৷ লক করা থাকায় দরজা খুললো।।পিহু দেখলো পাসওয়ার্ড দিতে হবে না হলে খুলবে না।।তাই পিহু সিড়ি দিয়ে নিচে নামলো।।।চারিদেকে একবার চোখ বোলালো।।এতো বাড়িতে দুতলায় কেও সুইমিং পুল রাখে।।পিহুর বেপার টা হাস্যকর লাগলো বেশ।।দোতলার ডান দিকে বিশাল খোলা সাদ বারান্দা।।আর বাম পাশে সুইপিং পুল ছোট একটা।।।দোতলায় একটা রুম এক্টাই পিহু আছে আর এক্টাই লক করা।।পিহু সিড়ি বেয়ে নিচে নামলো অনেক কষ্ট করে লাইট এর সুইচ খুজে চাপলো সাথে সাথে সাদা লাইট জলে উঠলো।।পিহু যেদিকেই তাকায় সেদিকে কোনো না কোনো কিছু সাদা।।এক পাশে কিচেন।।।বাড়ির দক্কিন সাইটে সোফা রাখা পাশে বিশাল কাছের দেয়াল।।ভেতর থেকেই বাইরের সব দেখা যাচ্ছে।।সোফার সামনে টিভি।।।।সিড়ির পাশে আরো দুটো রুম একটা লাইব্রেরি আর একটা বেড রুম।।পিহু বুজলো বাড়ির মানুষটি বই পড়ে।।।পিহু প্রাই তার মুখ ভুলে গেছে তবে তার প্রতি ঘৃনা আজও বেড়ে কয়েকশ গুন হয়েছে।।চারিদিকে তাকিয়ে দখলো কিচেনের সামনে ডাইনিং টেবিল।।টেবিলের উপর ফলের ঝুড়ি।।পাওরুটি আর জ্যাম।।পিহুর খিদে থাকায় চেয়ারে বসে পাওরুটি তে জ্যাম লাগিয়ে খেলো এক কামড় তবে বাঙালি মেয়েদের কি এসনে পেট ভরে।।পিহু আনিতা বেগম কে খুজতে তার রুমে গেলেন গিয়ে দেখলো রুম ফাকা।। ওয়াশরুমে আছে ভেবে খানিকক্ষন বসে রইলো।।যখন দেখলো বের হচ্ছে না।। সে পুরো বাড়ি খুজলো পেলো না।।পিহুর মন ভয়ে সিটিয়ে গেলো।।অচেনা এক বাড়ি এতো রাত তার ভিতরে খিদে পেয়েছে।।ফোন দিবে কি করে এদেশের সিম নাই।।কারোর নাম্বার জানে না।।হটাৎ ফোন বাজার আওয়াজ শুনলো।। পিহু ছুটে বাইরে এসে দেখলো টিভির টেবিল এর পাশে লান্ডফোন বাজছে।।পিহু ধরার আগেই কেটে গেলো।।মুহুর্তেই আবার কল এলো।।পিহু রিসিব করতেই ওপাশ থেকে আতিয়া বেগম বলে উঠে পিহু মা।।পিহু ফুফিয়ে উঠে।।আতিয়া বেগম উতকন্ঠা হয়ে বলে।।
-"কি হইছে মা।।ভয় পাচ্ছিস।।
-"তুমি কই মামুনি।।খুজে পাচ্ছিনা কেন আমার ভয় করছে খুব।।-(বলেই পিহু কেদে দেয়)-
-"তুই ঘুমাচ্ছিস বলে আর ডাকি নাই।।তোর বাবার ভর্তি করাবে আর একজন একানে থাকতে হবে তাই তো চকে আসলাম তোর ভাই তো ডাক্তার সে তো আর থাকতে পারবে না..!
-"আমারে নিয়ে জাও মামনি আমার ভয় করছে।।
-"পাগলী মেয়ে।। তুই এমন করলে হবে বল তপ্র বাবাই সুস্থ হোক এই দোয়া কর।। আমি কাল সকাল এ এখানে এনে ঘুরিয়ে নিয়ে যাবো।।পেসেন্ট এর সাথে এক জন এর বেশি থাকতে দেই না মা আমার বুঝে একটু।।
-"আচ্ছা।।-(পিহু মন খারাপ করে বলে)-
-"শোন মা..!
-"হুম মামনি..!!
-"ফ্রীজ এ খাবার রেখেছি।। খেয়ে নে।।পারলে ওভেনে দিয়ে গরম করে নে।।
পিহু কিছু বলার আগেই পিক পিক শব্দে কল কেটে জাই।।পিহু হতাশ হয়।।কি করবে সে।।মনে অনেক সাহস জুগিয়ে কিচেনে গিয়ে ফ্রীজ খুলে।।ফ্রীজ খুলতে চোখ কুচকে যায়।।এ বাড়ি কোনো গরু ছাগল আছে কিনা মনে করে।।।না পিহুর জানা মতে নেই।।তবে ফ্রিজ এ লেটুস পাতা ব্রোকোলি।।টমেটো শষা।। বাদে তার চোখে কিছু পড়লো না।।ভালো করে পরখ করে দেখলো একটা প্লেটে কি রালহা।। পিহু প্লেট টা বের করে দেখলো লুডুস।। পিহু বুঝলো আনিতা বেগম এটা রেখে গেছে।।পিহু টেবিল এর উপর এনে খেয়ে নিলো।।পিহু খেয়ে দেয়ে উঠে ভাবলো পুরো বাড়ি ঘুরে ঘুরে খুতিয়ে দেখবে।। এই ডাক্তার একা একা বাড়িতে কি রাখে।।পিহুর হটাৎ মনে হলো আচ্ছা উনি বিয়ে করেন নি তো সেই জন্য রুম লক করা।।তারপর নিজের মিনেই হাসলো বিয়ে করলে তো বউ কে দেখতোই।।।পিহু সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলো সাদির ঘরের সাদা দরজার সামনে এসে দাড়ালো অনেকক্ষন পাসওয়ার্ড ট্রাই করলো।।প্রতিবার রঙ দেখালো।।পিহু বিরক্ত মহা বিরক্ত কেও তার ঘরের দরজায় পাসওয়ার্ড দেই।।হটাৎ পিহুর মনে পড়ে সেই ফাহাদ না কি সে কার্ড দিছিলো।।পিহু এক দৌড়ে রুম থেকে খুজে কার্ড নিয়ে আসলো তার মানে তার মামনি কার্ড নিয়ে যায়নি।।পিহু কার্ড বাদেই পাসওয়ার্ড চাপলো আর একবার রঙ পাসওয়ার্ড দিলে লক হয়ে যাবে যতক্ষন না ফিংগার প্রিন্ট দেওয়া হয়।।পিহু রেগে কার্ড দিয়ে পাসওয়ার্ড টাইপ করলো সাথে সাথে দরজা খুলে যায়।। পিহুর হাত ফসকে কার্ড নিচে পড়ে যায়।। কিন্তু সেদিকে পিহুর কোন হেলদোল নেই।।সে রুমের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে।।।পিহু পা বাড়িয়ে রুমের ভিতর প্রবেশ করলো ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিলো পিহুর মনেই নেই কার্ডের কথা।।পিহু চারিদিকে তাকালো অফ হোয়াইট দেয়াল সাথে সাদা বিশাল বিছানা।।পিহুর মতে ছয় সাতজন ঘুমানো যাবে।।এক সাইটে সাদা ওয়ারড্রব আর একটা আলমারি বেডসাইট টেবিল এ এক টা ল্যাম্প আর একটা ছবি রাখা।।পিহু বিছানায় গিয়ে বছলো সাথে ডেবে গেলো বিছানা।।পিহু বুজলো পিছানা খুব নরম এতো নরম বিছানায় মানুষ ঘুমাই কিভাবে।।পিহু হাত দিয়ে ছবিটা তুলে নিলো ছবিটা দেখে বোজা জাচ্ছে হাতে আকানো।। একজন পুরুষের।।চোখে চশমা হাতে গিটার।।পিহুর খুব চেনা মনে হলো।।
পইহু খুব ভালো করে মনে করে দেখলো না চিনে না।। তবে ছবির নিচে ডেট দেখলো আজ থেকে সাতদিন আগের ডেট পিহু এখন বুজলো ছবি টা যেই আকুক নতুন ছবি।। তবে তার সাদি ভাইয়ের রুমে এই লোকের ছবি কেন।।পিহু ছবির নিচে ছোট্ট করে লেখা দেখলো ডা.সাদিকুর চৌধুরী।। পিহুর মাথা ঘুরছে।।অচেনা মানুষের নাম তার ভাইয়ের নামের সাথেই মিলে।।যদিও সাদিকে পিহু ভাই মানে না।।তবে সম্মানের খাতিরে ভাই বলাই যায়।।তার মতে ভাইয়েরা কখোনো এতো খারাপ হয় না যতটা সাদি পিহুর সাথে হয়েছিলো তিন বছর আগে।।পিহুর চোখে পানি জমে।সুনিপুন ভাবে মুছে উঠে দাড়াই।।ঘরের এক সাইটে সোফা রাকজা তার সামনে টি টেবিল।। টি টেবিল এর একটা ফ্লাওয়ার ল্যাম্প..পিহু মনে মনে ভাবলো মানুষ ডাক্তার হলে সারা ঘর ডাক্তারি জিনিসে ভরা থাকবে ওমা এই ঘরে কিছুই নেই।।পিহুর সন্দেহ লাগে সে আসলে ডাক্তার তো।।।পিহু এবার রুম থেকে বের হতে চাই।। দরজায় পাসওয়ার্ড দিতেই রঙ লেখা আসে।।সাথে সাথে রুমের কারেন্ট অফ হয়ে যায়।।পিহু ভড়কে যায়।।।তাকিয়ে দেখে লাল আলোয় স্পষ্ট লেখা ইউজ ফিঙ্গারপ্রিন্ট উইথ আনলক দিস ডোর।।পিহু হাতে মোবাইল জালাতে গেলে হটাৎ কিসে ধাক্কা খেয়ে ঠাস করে পড়ে যায়।। উপরে তাকাতেই দেখতে পাই........
পিহু উপরে তাকিয়ে দেখে কিছু না।।উড়নাই পা বেধে পড়ে গেছিলো।।মোবাইলের ফ্লাস জালিয়ে উঠে দাড়াতে গেলো।।তবে উঠে দাড়াতে পারলো না হয়তো দরজার সাথে ধাক্কা খেয়ে পায়ে লেগে ভালোই বেথা পেয়েছে।।পিহু অন্ধকারে ভয় পাই আবার অচেনা জায়গা।।হাটু তে মুখ গুজে দরজায় ঠেস দিয়ে বসে পড়লো।।। ভয়ে কাবু করে ফেলেছে তাকে।।চোখ বুজে গেট হয়ে বসে রইলো।এক সময় ঘুমিয়ে গেলো সেভাবেই।।।
এখোনো ভোর রাত।।আতিয়া বেগম বাড়িতে এসেছে। সাদিকে পাঠাতে চাইলেও তার ইমারজেন্সি একটা হার্ট অপারেশন থাকায় আসে নাই।।।আতিয়া বেগম বাড়ি ফিরে সমস্ত বাড়ি পিহুকে খুজে ফেললো।।।কোথাও না পেয়ে চিন্তিত হয়ে আবার দোতলায় গিয়ে ডাকা শুরু করলো।।পিহু ঘর থেকে নিজেও চিল্লাচ্ছে।।তবে রুম সাউন্ড প্রুভ হওয়াই।। পিহুর কথা দরজার ওপারে আতিয়া বেগমের কানে পৌছালো না।।আতিয়া বেগম ল্যান্ডলাইন এ সাদিকে ফোন দিলেন তবে কোনো রেসপন্স হলো না।।আতিয়া বেগম খুব ভয় পেয়ে গেলেন।।মনে কু ডাকা শুরু হয়ে গেলো।।।এদিকে ঘরে ভিতরে পিহুর পানির তৃষ্ণা লেগেছে।। গলা শুকিয়ে কাঠ।।।সারা ঘর খুজেও পানি পেলোনা।।।পিহু সারা খুজে খেজে বিছানার পাসে ক্লান্ত হয়ে বসলো জোরে বেড সাইড টেবিল এ লাত্তি দিলো।।সাথে সাথে একটা দয়ার হাল্কা ফাক হয়ে গেলো।।পিহু কৌতুহল নিয়ে ডয়ার খুলে পর পর চার টা কাচের ভোতল পেলো মুখ টেপ দেওয়া।।।পিহু ভালো করে স্মেল নিলো না কোনো গন্ধ নাই।।পিহু একটা বোতল বের করে স্যিকার খুলে সিপি খুললো।।গলা শুকানোর কারনে ঢক ঢক করে পানি মনে করে খেয়ে নিলো।।খাওয়ার পর বুজলো পচা জাতীয় কেমন গন্ধ পিহুর খালি পেটে গা গুলানো শুরু হলো বোতল প্রায় হাফের বেশি খালি করে দিয়েছে কোনো রকমে বোতল টা ঠিক ভাবে ডয়ারে রেখে উঠে দাড়াতেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো পিহুর।।চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলো।।সোফার কাছে আসতেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেলো সোফার উপরে...!!
এগারোটা বেজে গেছে।।নব দিগন্তে সূর্য উদিত হয়েছে অনেক আগেই।।পিচ ঢালা রাস্তা গুলো রোদে চিক চিক করছে।।বাতাস বইছে মৃদু।। হসপিটালের অপারেশন থিয়েটর থেকে বেরিয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে পকেট থেকে ফোন বের করলো সাদি।।।ফোন সাইলেন্ট থাকায় কিছু বুঝতে পারে নি।। বাসার ল্যান্ড লাইন থেকে একুশ বার কল আসায় ভ্রু কুচকে যায় সাদির বিরক্ত হয়ে ফোন করে।। রিং হতেই ওপাশ থেকে কল রিসিভ করে আতিয়া বেগম হয়তো কলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।।সাদি হ্যালো বলতেই আতিয়া বেগম কেদে উঠে।।নিজের মাকে কাদতে দেখে সাদির ভ্রু কুচকে যায়।। মুখ গম্ভীর করে জিগ্যেস করে....
-"কি হয়ছে আম্মু কাদছো কেন...?
-"পিহুকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না কাল রাতে তো রেখে গেছিলাম সকাল এ এসে সারা বাড়ি খুজে পেলাম না।।-(বলেই আবার কান্না শুরু করলেন আতিয়া বেগম)-
-"মানে...?
-"বাবা তুই আই না দেখ মেয়েটা কোথায় গেলো।। এই অচেনা দেশে ওর যদি কোনো ক্ষতি হয়।।।
-"ওয়েট আম্মু কেদোনা।।।
বলেই সাদি নিজের মোবাইল থেকে বাড়ির সিসি টিভি ফুটেজ চেক করা শুরু করলো হটাৎ নিজের বেড রুমের সোফার পাশে একটা মেয়েকে উবুড় হয়ে সুয়ে থাকতে দেখে সাদির বুঝতে সময় লাগে না এটাই পিহু।।।আতিয়া বেগম কে টেনশন করতে নিশেধ করে সাদি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ির উদ্দেশ্য।।।
ইলিয়াস চৌধুরী কে আই সি ইউ তে রাখা হয়েছে পনেরো দিন পর অপারেশন হবে তার।।।পাশে সব সময় একটা মানুষ থাকা লাগবে চব্বিশ ঘন্টার জন্য।। সাদিকে চিনে বলে সমস্যা নেই বড় কেবিন ঠিক রেখেছে তবে।।আতিয়া বেগম কোনো নার্স রাখতে চান না।। নিজের স্বামির পাশে নিজে থাকতে চান যদিও সাদি নার্স ঠিক করেছিলো।।আতিয়া বেগমের পিহুকে নিয়ে চিন্তা।। যদিও সাদির আচরণে বুজলেন সাদি আগের চেয়ে আরো বেশি গম্ভীর হয়েছে।।তবে রাগ খুব কম।।আতিয়া বেগম সাদিকে বলেছিলো পিহুর কলেজের কথা সাদি বলছে সময় পেলে ভর্তি করিয়ে দিবে।।আতিয়া বেগম এখন নিশ্চিন্ত।
সাদি বাড়ি ফিরে গাড়ি পার্ক করে দরজা খুলে ভিতরে আসতেই আতিয়া বেগম এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠলো।।সাদি এক চুল ও নড়লো না।।সে জানে পিহু তার মায়ের কাছে কতটা ইমপর্টেন্ট।। সাদি আলতো করে মায়ের মাতায় হাত দিয়ে বললো আমার সাথে আসো।।আতিয়া বেগম মুখ উচিয়ে তাকালেন।।ছেলের গভীর চোখের রহস্য বুজলেন না।। সাদি ধপাধপ পা ফেলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।। গিয়ে নিজের দরজার সামনে আসতেই বিরক্তিতে নিজের কপাল কুচকে গেলো।।নিজের পছন্দের শুভ্র রঙের পাসওয়ার্ড কার্ড টা পড়ে আছে।।সাদি দরজায় ফিঙ্গার দিতেই দরজা আনলক হয়ে যায়।।আতিয়া বেগম ও এতক্ষনে উপরে চলে এসেছে।।ছেলের সাথে তিনিও ঘরের ভিতরে ঢুকলেন।।।ঢুকেই অবাক হয়ে গেলো আতিয়া বেগম।। সাদি সাভাবিক ভাবেই রুমে ঢুকলো।।আতিয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো ওইজে তূমি যারে খুজছো সে।।লক করে ফেলছিলো দরজা তাই বের হতে লারে নাই।।।
আতিয়া বেগম সস্তির নিশ্বাস ছাড়লো।।পিহু কে ডাকলেন গায়ে হাত দিয়ে তবে পিহুর কোনো হেলদোল নেয়।।আতিয়া বেগম জোর করে টেনে তুললো।।পিহু পিটপিট করে চোখ খুললো সব ঝাপসা দেখছে সে।।আতিয়া বেগম কে দেখেও চোখ ছোট করে বুজার চেষ্টা করলো সে।।আতিয়া বেগম পিহুকে দাড় করিয়ে ধরে নিয়ে গেলেন তিনি ভেবেছেন না খাওয়ার কারনে এই অবস্থা।।এদিকে পিহুকে রুমে নিয়ে আসতেই।। পিহু বিছানায় টানটান হয়ে সুয়ে পড়লো আতিয়া বেগম ডাকলেও পিহু সাড়া দিলো না।।লাস্ট এ বিরক্ত হয়ে পিহু কে আর একবার ধাক্কা দিতেই পিহুর ঘুমের মধ্যেই বিরক্ত হয়ে বলে উঠে.....
-"উহু ডন্ট ডিসটার্ব নাবিল্লা।।আমি এখন আকাশে যাবো।। আমাকে জালিয়ে না।।
পিহুর কথা শুনে আতিয়া বেগম থতমত খেয়ে গেলো।।খুব মনযোগ দিয়ে ভাবলো মেয়ের আবার কি হইছে নাবিল্লা আবার কে।।আতিয়া বেগমের ভাবনার মাঝেই সাদি ডেকে উঠে তাকে।।তিনি এক মুহুর্ত দেরি না করে নিচে নেমে আসে।।।সাদি রুম থেকে বেরিয়ে আতিয়া বেগমের ফোন নিয়ে ফ্রীডম মোবাইল কোম্পানির সিম লাগিয়ে দিলো।।এটা খুব ভালো চলে।।তার পর বললেন নিচে ড্রাইভার এসেছে।।। আব্বুর কাছে যাও আম্মু।।আর আমি আসবো রাতে এখন একটু রেস্ট নিবো।।আতিয়া বেগম করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন মেয়েটা এখোনো কিছু খাইনি।। খাবার রেডি করে রেখে যায়।।সাদি গম্ভীর কন্ঠে নিষেধ করে বলে আমি অর্ডার করেছি চলে আসবে টেনশন নিও না।।এখন যাও।।আতিয়া বেগম দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন হসপিটালের উদ্দেশ্য।।
সাদি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।।তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে লম্বা শাওয়ার নেয়।।।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে গলায় ঝুলানো টাওয়েল দিয়ে চুল মুছতে থাকে পরনে ব্লাক ট্রাওজার আর ব্লাক টি-শার্ট।।। সাদি বিছানার পাশে বসতেই দেখ মতে পেলো বেড সাইড টেবিল এর ডয়ার খুলা।।সাদি ভ্রু নাচাই।।কিছু একটা অনুমান করে ডয়ার খুলে দেখে তার সন্দেহ ঠিক।।এলকোহল পান করেছে মেয়েটা।।যদিও সাদির এসবে কাজ হয় না।।বা সাদি সাধারণ এমন কিছুতে এডিক্টেড না।। তবুও মেয়েটার উপর এটা ইফেক্ট পড়বে।।সাদির ভাবনাই সাদি নিজেই বিরক্ত কি উলটা পালটা ভাবছে।।সাদি ঘরের লাইট নিভিয়ে এসি লো করে দিয়ে বিছানায় সুয়ে পড়ে।। চোখের উপর হাত দিয়ে সুয়ে থাকে।।দুই রাত নির্ঘুম বড় বড় চারটে অপারেশন করেছে।।এখন একটু ঘুম প্রয়োজন।।বলে সাদি ঘুমিয়ে পড়ে।।।।
চলবে..........