ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক টুকরো মিশ্র ভালোবাসা

১ম পর্ব

লেখক: আপন চৌধুরী

আজকের রাতটা যেন কোনো এক না বলা গল্পের পাণ্ডুলিপি। মাথার ওপর বিশাল আকাশটা কালচে নীল মখমলের চাদর হয়ে বিছিয়ে আছে, যেখান থেকে ঝরছে এক অদ্ভুত মায়া। চিরচেনা সেই চাঁদের হাসিও আজ একটু ভিন্ন, একটু বেশিই রহস্যময়। মনে হচ্ছে মহাকাশের কোনো এক নিভৃত কোণ থেকে নতুন কোনো নক্ষত্র আজ পৃথিবীর দিকে চেয়ে মুচকি হাসছে; আবার কখনো মনে হচ্ছে নক্ষত্ররা আজ বড্ড বেশি উজ্জ্বল—ঠিক যেন একেকটি জ্বলন্ত দীর্ঘশ্বাস। এই নির্জনতা আর অন্যরকম এক স্তব্ধতা ঠিক বলে দিচ্ছে—অগোচরে কিছু একটা বদলাতে শুরু করেছে। 

ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক বারোটার ঘরে স্থির। নিঝুম শহরের বুক চিরে শুধু যান্ত্রিক কিছু শব্দ ভেসে আসছে দূরে কোথাও থেকে। এই মধ্যরাতের সন্ধিক্ষণে মেলবোর্ন শহরটা এখন এক গভীর ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। দিনের সেই ব্যস্ত ইয়ারা নদীর পার কিংবা ফ্লিন্ডার্স স্ট্রেটের চেনা কোলাহল এখন নিস্তব্ধতায় ঢাকা পড়েছে। আকাশটা পরিষ্কার আর শহরের উচু উচু ভুবন গুলোর কাঁচের গায়ে চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে যেন কোন শিল্পী রুপালি রং ছিটিয়ে দিয়েছে। মাঝেমধ্যে দূর থেকে ভেসে আসা ট্রামের চাকার ক্ষীণ ঘর্ষণ কিংবা বাতাসের মৃদু ঝাপটা ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। অস্ট্রেলিয় মেলর্বোনের এই রাতগুলো এক অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা আর প্রশান্তি দুটোই একসাথে বয়ে আনে।
ঠিক এমন এক থমথমে স্নিগ্ধতার মধ্যে, সাউথ ব্র্যাস্কের এক বিলাসবহুল অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছিল দুই আবান্তক। একজনের নাম আদ্র এবং অন্যজনের নাম জিহান। তাদের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ঝকঝকে আলোক উজ্জ্বল শহর, কিন্তু সেই আলোয় কোন কৃএিমতা নেই। হাতে ধরা কফির মগ থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে, যা রাতের হিমেল বাতাসে মিশে যাচ্ছে মুহূর্তটি।
রাতের এই নিস্তব্ধতায় হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। জিহানের কথাতে। জিহান মাত্রই লিসার প্রশংসা করে বলেছিল, "লিসা মেয়েটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তোকে অনেক ভালোবাসে রে আদ্র"।
জিহানের কথাগুলো শুনে আদ্রের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তার ভিতরে জমে থাকা বিরক্তি এইবার যে অগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পরল। সে বেশ কড়া গলায় বলে উঠলো, " শোন জিহান, আমি আর কাউকে ভালোবাসতে পারব না। ভালোবাসা নামক কোনো শব্দে আমার এক বিন্দু বিশ্বাসও অবশিষ্ট নেই, আর সেখানে তুই কি না ভালোবাসার কথা বলছিস? এই অনুভূতি থেকে আমার মন বহু আগেই উঠে গেছে। আমার কাছে ওটা এখন কেবলই এক দীর্ঘ শ্বাস শব্দ ছাড়া আর কিছু নয়। তোর যদি ওই লম্পট, ইডিয়েট ন্যাকা মেয়েটাকে এতই পছন্দ হয়, তবে তুই গিয়ে প্রেম কর আমার কোন সমস্যা নেই "।
জিহান এই মাত্র কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই আদ্র নিজেকে সামলে নিল। ওর ঠোঁটের কোণে জমা হওয়া কথাগুলো জিহান প্রকাশ করার আগেই আদ্র পুনরায় বলতে শুরু করল—ওর কণ্ঠস্বর এখন আগের চেয়েও বেশি স্থির এবং অবিচল, " দয়া করে আমাকে এইসবের মধ্যে জড়াবি না জিহান। তোকে তো একদিন সব খুলেই বলছিলাম যে আমি একটা মেয়েকে কতটা ভালোবাসি সেই মানুষটার উপর আমার পাহাড় সম অভিমান জমে আছে সব জানার পরেও তুই কিভাবে এসব বলতে পারলি?
আদ্রের চোখে মুখে তখন যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। সে চূড়ান্ত সতর্ক বাণী দেওয়ার মত করে আবার বলল, "আজকের পর ফারদার ভুলেও আমার সামনে ওই মেয়ে বা অন্য কোন মেয়ের কথা তুলবি না। এটাই শেষ বার মনে থাকে যেন।
( চলুন আগে পরিচয় দিয়ে দেই। ) 
আদ্রের পূর্ণ নাম: ডাঃ #শাহরিয়ার_চৌধুরী_আদ্র। বয়স ৩১ এর কাটায়। পেশায় সে একজন হার্ট সার্জন। দক্ষতা আর সুনামের দিক থেকে তিনি পৌঁছে গেছেন শীর্ষস্থানে। আগামীকাল বিশ্বের নামকরা হার্ট সার্জন হিসাবে তিনি এওয়ার্ড পাবে। মানুষের হৃদয় বাঁচানো যার প্রতিদিনের কাজ, অথচ তার নিজের হৃদয়ের গল্পটা এখনো অজানা। তার গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা, যা এতটাই স্বচ্ছ যে ত্বকের নিচে রক্তাভ আভা স্পষ্ট বোঝা যায়। জিম করা সিক্স প্যাক বডি, চোখের রং হালকা বাদামি, যা গভীরতা আর বুদ্ধিমত্তার জানান দেয়। চুলগুলো হালকা সিল্কি, চুলের কিছু অবাধ্য গুচ্ছ কপালে এসে পড়ে যার কারণে তাকে এক অন্যরকম আভিজাত্য তৈরি করেছে। গোলাপি ওষ্ঠদয়ের অধিকারী তার ঠিক নিচে ছোট তিনটি তাকে যেন সৌন্দর্যের এক রাজটিকা করে রেখেছে। গাল ভর্তি ছাপ দাড়ি, পরিপাটি মুখাবয়ব। তার মুখশ্রী অতি মায়াবী। সে অতি সুদর্শন perfect ব্যক্তি বান একজন মানুষ। 
( তার পরিবারের পরিচয় সামনে পাবেন। ) 
আদ্রের সাথে যে কথা বলছিল সে হলো #জিহান_চৌধুরী তার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড। জিহান সেও বিষয় একজন ট্রমা সার্জন ( যিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা করেন।) সেও বাংলাদেশী। জিহানের বাবা আরাফ চৌধুরী। যে পেশায় একজন ডাক্তার এবং তার মা নাজমা চৌধুরী। নাজমা চৌধুরী পেশায় একজন প্রফেসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আরাফ ও নাজমা চৌধুরীর একটা মেয়েও আছে। মেয়ের নাম #লামিয়া_চৌধুরী_মুন। জিহানের একমাত্র বোন বলে তারা সবাই লামিয়াকে আদর করে মুন বলে ডাকে। মুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্রী। তার আরো একটি পরিচয় আছে সেটা এখন না বলি। জিহানদের নিজস্ব একটি বিশাল হাসপাতাল রয়েছে। ঢাকা শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা সেই হাসপাতালটি যেন শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং মানুষের জীবনের আশার শেষ ঠিকানা। আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক আর উন্নত সেবার সমন্বয়ে এটি শহরের অন্যতম সেরা ও বৃহৎ হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে শুধু সুস্থতার আশায় নয়, বরং নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে।
জিয়ান এতক্ষণ যার কথা বলেছিল, সে হলো লিসা। সে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। লিসা পেশায় একজন ডাক্তার। আদ্র ও জিহানের ক্লাসমেট। লিসার বাবা-মা দুজনে ডাক্তার। লিসা আদ্রকে ভালোবাসে। আদ্র যখন অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসে তখন থেকে এই মেয়েটার তার পিছনে পড়ে আছে।
লিসা বারবার আদ্রর প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে, কিন্তু আদ্র প্রতিবারই তাকে ফিরিয়ে দেয়। আদ্র অবাক হয় এটা ভেবে যে, একটা মেয়ে কতটা নির্লজ্জ, বেহায়া হতে পারে! তার নূন্যতম আত্মসম্মানবোধও কি নেই? বারবার 'না' করে দেওয়া সত্ত্বেও লিসা যেন কিছুই কানে তুলছে না। সে নির্লজ্জের মতো আদ্রর পেছনে লেগেই আছে। আদ্র এমনকি তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তার জীবনে অন্য কেউ আছে, তবুও লিসার কোনো ভ্রুক্ষেপেই নেই। আদ্রের কথা গুলো যেন লিসা সব শুনেও না শোনার ভান করে আছে। কোনো আত্মসম্মান ছাড়াই সে আদ্রর জীবনে জেঁকে বসে আছে। বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও সে নির্লজ্জের মতো পড়ে আছে, তাতে আদ্র কেবল অবাকই হয় না, বরং তার এই নাছোড়বান্দা, বেহায়াপনা আচরণ এখন আদ্রর কাছে চরম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লিসা যেন পণ করেছে, সে কোনোভাবেই আদ্রর জীবন থেকে সরে যাবে না। এর থেকে কবে রেহাই পাবে আল্লাহ মালুম জানা নেই আদ্রর।
জিহান আদ্রের কথাগুলো শোনার পর কিছুক্ষণ নীরব থাকলো। সে মূলত জানে যে আদ্র কোন এক জায়গায় আটকে আছে মানে খুবই বাজে ভাবেই আটকে আছে কিন্তু জিহানে অজানা। যে কে সেই নারী যাকে আদ্র পাগলের মত ভালোবাসে। সে আদ্রকে যখনই এটা ভেবে প্রশ্ন করে যে ভাই তুই কাকে এত ভালবাসিস? কিন্তু আদ্র তার এই কথাটা প্রতিবারই ইগনোর করে এড়িয়ে যাইত। কিন্তু জিহান এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না। সে আজকে পণ করে রেখেছে যে আদ্র কাকে ভালোবাসে, কে সেই নারী যার মায়ায় আদ্র ডুবে আছে, তাকে আজ জানতেই হবে। 
এভাবে কিছুক্ষণ সময় কেটে যাওয়ার পর জিহান বলল, তাকে তুই এত ভালোবাসিস। তাহলে তার সাথে দেখা করে নিচ্ছিস না কেন? ভালোবাসার কথা খুলে বল তাকে যে তুই কতটা ওকে চাস?
জিহানের কথাগুলো শোনার পর পরিবেশটা মুহূর্তেই আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল। জিহান কথাগুলো বলে নিজের ভাবনায় তখনও ব্যস্ত এটা ভেবেই, ছেলেটার মনে অনেক কষ্ট জমে আছে। ​আমি কিছুতেই মেলাতে পারছি না, আদ্রর মতো এমন সুদর্শন আর ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষকে কেউ ভালো না বেসে থাকে কী করে! রোগীদের প্রতি তার অসামান্য যত্ন আর অমায়িক ব্যবহারই বলে দেয় মানুষ হিসেবে সে কতটা অসাধারণ। তার চেহারায় এমন এক মুগ্ধতা আছে যে, যে কেউ একবার দেখলে তার প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য। তার ওপর সে একজন নামকরা ডাক্তার আগামীকাল আবার নামকরা ডাক্তার হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পাবে। বর্তমান সময়ে এমন একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য যেকোনো মেয়ে একপায়ে রাজি থাকবে। সব মেয়েরই স্বপ্ন থাকে তার জীবনসঙ্গী যেন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পাশাপাশি একজন রুচিবান মানুষ হয়।
এই ​সব দিক থেকেই আদ্র একদম নিখুঁত। অথচ এমন একটা ছেলেকে নাকি সেই মেয়েটি ভালোবাসে না! আমি অবাক না হয়ে পারছি না। সেই মেয়েটিকে তো অন্তত একবার হলেও নিজের চোখে দেখার তীব্র কৌতুহল জাগছে আমার মনে। 
আদ্রর দীর্ঘশ্বাসটা যেন বাতাসের ভার বাড়িয়ে দিল।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে ম্লান হেসে বলতে শুরু করল: জানিস জিহান। আমি ওর কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি, চেয়েছিলাম কেবল #এক_টুকরো_মিশ্র_ভালোবাসা। যে ভালোবাসায় পরতে পরতে মেশানো থাকবে, কিছু মান-অভিমান, কিছুটা ঝগড়া, খানিকটা অধিকার আর এক আকাশ পরিমান নির্ভরতা। অথচ সেই সামান্য চাওয়াটুকুই আজ বড্ড অপর্ণ রয়ে গেল রে আমার। 
জিহান তখনও মনোযোগ দিয়ে আদ্রের মনের গভীরতা মাপার চেষ্টা করছিল। 
একটু দম নিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ল আদ্র। তার চোখের কোনে জমা নোনা জলটুকু আড়াল করে আবার বলল: 
তার আর আমার মাঝে দূরত্ব এখন আকাশছোঁয়া, চাইলেও যেন ছুঁতে পারি না তাকে কোনোভাবে। যাকে ভালোবাসি, তার দেখা পাওয়ার পথগুলো আজ বড্ড ঝাপসা। সামান্য এক ভুলের জন্য, সে আজ আমাকে ভীষণ ঘৃণা করে। যেখানে আমি তাকে ভালোবেসেছি নিঃস্বার্থভাবে। ​
আর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কী জানিস জিহান? যাকে আমি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলাম, আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম, সামান্য এক ভুলের জন্য সে আজ আমাকে ঘৃণা করে। সেই ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে আজ আমি ছাই হয়ে গেছি। অথচ আমার অপরাধ কী ছিল? ভালোবাসাই তো? কিন্তু তার প্রতিদান হিসেবে আমি কী পেলাম—একটা জঘন্যতম মিথ্যা অপবাদ।​সেই অপবাদের কালিমা মেখে আজ আমি নিজের পরিবার থেকেও বিচ্ছন্ন। নিজের রক্ত, নিজের চেনা ছাদ সব থাকা সত্ত্বেও আমি আজ বহুদূরে। যে মানুষটা আমার পৃথিবী ছিল, সে-ই আমাকে এক নিমেষে ঘরছাড়া করে দিল। আমাকে জঘন্য সাজিয়ে সবার সামনে অপরাধী বানিয়ে সে শান্তি পেয়েছে কি না জানি না, কিন্তু আমি এই দূরত্বের প্রহরে প্রতিদিন তিলে তিলে মরছি। ঘৃণা যদি করতেই হয়, তবে আমাকে অপবাদ দিয়ে কেন? 
জিহান যেন পাথর হয়ে গেল। আদ্রর প্রতিটি শব্দ ওর বুকের পাঁজর ভেদ করে তীরের মতো বিঁধছে। আদ্রর এই ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া মনটা জোড়া দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী মন্ত্র এই মুহূর্তে জিহানের জানা নেই। সান্ত্বনার হাজারটা শব্দ ওর ঠোঁটের আগায় এসেও থমকে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, ওদের দুজনের মাঝখানে এক বিশাল স্তব্ধতার পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।বাকরুদ্ধ জিহান কেবল অপলক চেয়ে রইলো বন্ধুর দিকে। 
​আদ্রর নিথর ও বিবর্ণ অবয়বটার দিকে তাকিয়ে জিহান নিজেকে শক্ত করল। জিহানের কণ্ঠস্বর এবার আর কেবল বন্ধুর রইল না, তাতে মিশে রইল বড় ভাইয়ের শাসন আর পরম নির্ভরতা। 
আদ্রর কাঁধে হাত রেখে সে খুব নরম কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলতে শুরু করল: কে সেই রমণী আদ্র? কার দেওয়া এতটা বিষাদ তুই বুকের গহীন অরণ্যের মাঝে লুকিয়ে রেখেছিস? যা জন্য তুই নিজেকে এভাবে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিস। আজ অন্তত এভাবে চুপ করে থাকিস না, প্লিজ। তোর বুকের ভিতর জমানো এই ভারি পাথরের ভারটা নামিয়ে দে। আজ অন্তত নিজেকে আড়াল করিস না। তোকে অনেকদিন থেকে বলতে বলি, যে তোর অতীতে ঠিক কি হয়েছিল? কেন তোকে এত কম বয়সে এতটা ঝড় সইতে হলো? কিন্তু তুই প্রতিবারই এই কথাটা কৌশলে এড়িয়ে গেছি। আদ্র আর কতদিন? তোর বুকের ভেতর এই যে পাহাড় সমান পাথরের ভার জমে আছে, ওটা আজ নামিয়ে দে। ১৫টা বছর ধরে আমরা ছায়ার মতো একসাথে আছি। কলেজ পেরিয়ে আজ আমরা ডাক্তার হয়েছি, কিন্তু তোর মনের ভেতরকার সেই ক্ষতটায় আজ পর্যন্ত আমায় হাত দিতে দিলি না।
​আজ আমি তোর কোনো অজুহাত শুনব না আদ্র।আমরা আজ শুধু বন্ধু নই, তুই আমার ভাই আদ্র। তোকে যখন এতটা ছোট বয়সে একা ঝড়ের মুখে পড়তে হয়েছিল, তখন তোর পাশে থাকতে পারিনি সেই আক্ষেপটা আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে সারা জীবন। তোর পাশে আগে হয়তো থাকতে পারিনি, এটা ঠিক কিন্তু এখন আমি সব সময় তোর পাশেই আছি ভাই। সো আজকে তুই নিজের ভাই হিসেবে সব খুলে বলবি আমাকে। তুই হয়তো ভাবিস যন্ত্রণা শেয়ার করলে কমে না, কিন্তু বিশ্বাস কর, একাকী বয়ে বেড়ানো যন্ত্রণার চেয়ে ভাগ করে নেওয়া ব্যথা অনেক হালকা হয়। তোর ওই অতীতের ঠিক কী ঘটেছিল আদ্র? কিসের সেই মিথ্যা অপবাদ, যার জন্য তোকে নিজের রক্ত আর ভিটেমাটি ছাড়তে হলো? আজ নিজেকে আর আড়াল করিস না। নিজেকে একটু মুক্তি দে। বন্ধু হিসেবে না হলেও, অন্তত একজন ডাক্তার হিসেবে জানি—চাপা রাখা কষ্টগুলো মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে দেয়। আজ তুই আমায় সব বলবি, পুরোটা বলবি।
চলবে...........))
সূচনা পর্ব
গল্পের নাম:এক_টুকরো_মিশ্র_ভালোবাসা 
লেখক :আপন_চৌধুরী

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন