মুখের ভেতর, মনে হচ্ছে বাচ্চা ছেলেটি গভীর ভাবনায় ব্যস্তা
এদিকে ইরফান ঘরের দরজা আটকে বড় বড় পা ফেলে বিছানার কাছে গিয়ে মাইরাকে ঠাস করে বিছানার মাঝে ফেলে। মাইরা কোমরে ব্যথা পেয়ে চোখমুখ কুঁচকে নেয়। কিছু বলতে চায়, তবে ইরফানের ভয়ংকর রাগান্বিত দৃষ্টি দেখে মাইরার কথা আটকে যায়।
ইরফান ভস্ম করে দেয়া চোখে মাইরার দিকে চেয়ে আছে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর মাইরাকে সাজসজ্জায় দেখে যতটা মুগ্ধ হয়েছিল, এখন তার চেয়ে হাজরগুণ বেশি রেগেছে। মাইরার এই সাজসজ্জা অন্যকে বিয়ে করার জন্য। এটা ভাবতেই ইরফানের রাগ তড়তড় করে বাড়ছে বই কমছে না। রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ডান পা দ্বারা বেডের কোণায় জোরেসোরে এক লাথি বসায়। মাইরা ভীত চোখে তাকায়। মেয়েটা ঢোক গিলছে বারবার। ভীতি কণ্ঠে কিছু বলতে চায়, তার আগেই ইরফান ডান হাঁটু বেডের উপর রেখে মাইরার দিকে ঝুঁকে বা হাতে মাইরার চুলের গোছা শক্ত হাতে ধরে, ডান হাতে মাইরার গাল চেপে হিসহিসিয়ে বলে, 'হাসবেন্ড রেখে বিয়ে করছিলি কেন? হোয়াই?'
মাইরা দু'হাতে ইরফানের হাত সরাতে চায়। মাথায় আর গালে প্রচণ্ড ব্যথা পাচ্ছে সে। ইরফান মাইরার লাল রঙের রাঙানো ঠোঁটজোড়ায় ডান হাতের বুড়ো আঙুল শক্ত হাতে এপাশ-ওপাশ করে আর রাগান্বিত স্বরে বলে, 'এসব কেন লাগিয়েছিস, কথা বল স্টুপিড গার্ল?'
মাইরার চোখের কোণে পানি জমতে শুরু করে। ইরফানের হাত সরাতে চাইলেও পারেনা। ইরফানের এতোক্ষণের ব্যবহারে বুঝেছে, ইরফান জানতো না তার আর নাছিমের বিয়ের ব্যাপারে। কিন্তু নাছিম যে তার ঘরে এসে বলল, তার বন্ধুরা সব জানে। মাইরা ঠিকঠাক হিসাব মিলাতে পারে না। ইরফান মাইরাকে চুপ দেখে আরও রেগে যায়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, 'বল স্টুপিড, কেন বিয়ে করতে গিয়েছিলি? কোথায় পেয়েছিস এতো সাহস?'
মাইরার বাচ্চাদের মতো কান্না পায়। সে কি ইচ্ছে করে বিয়ে করতে গিয়েছে না-কি! উল্টে সে শেষমেষ কোনো উপায় না পেয়ে পালাতে পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু সে ব্যর্থ হয়েছে। আর ইরফান তো তাকে বউ মানবে না, তাকে ভুলে যেতে বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলছিল। শেষবার বলেছিল, তাকে খুব দ্রুত তালাক দিয়ে দিবে। তবে সে বিয়ে করে নিলে ইরফানের কি? মুখ চেপে ধরায় মাইরার মুখ গোল হয়ে আছে। সে ঠিক করে কথা বলবে, তাও পারছে না। মেয়েটার প্রচণ্ড রাগ লাগছে। মাইরা রাগ থেকে ওভাবেই আদোআদো স্বরে বলে, 'করবো বিয়ে। আপনার....
ইরফান রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে মাইরার ডান গালে ঠাস করে থাপ্পড় মেরে দেয়। মাইরা গালে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে। ইরফান রাগান্বিত স্বরে বলে, 'বিয়ে করার সাধ মেটাবো। ওয়েট!'
এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পরনের পরিহিত ব্ল্যাক শার্টের বোতাম একটা একটা করে খুলতে শুরু করে। শক্ত দৃষ্টি মাইরার পানে। মাইরা ইরফানকে শার্ট খুলতে দেখে ঢোক গিলল। কান্নামাখা গলায় বলে, 'কি করবেন আপনি?'
ইরফানের কাট কাট জবাব, 'রে'প।'
মাইরা চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে ওঠে, 'কিহহহ??'
ইরফান শক্ত গলায় বলে, 'যে কারণে বিয়ে করার সাধ জেগেছে। সব মেটাবো, যাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি।'
মাইরা দু'হাতে চোখ মুছে ভীত চোখে তাকায়। গলায় কিছুটা জোর দিয়ে বলে, 'একদম আমার কাছে আসবেন না, অসভ্য লোক। বাইরে সবাই আছে। তাছাড়া আমি বিয়ে করে নিলে আপনার কি হ্যাঁ? আপনি তো আমাকে বলেছিলেন, এই বিয়ে যেন আমি ভু......'
বাকিটুকু শেষ করার আগেই ইরফান ঝট করে মাইরাকে তার কোলে উঠিয়ে নিয়ে ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরে। মাইরা হতভম্ব হয়ে যায়। পড়ে যাওয়ার ভয়ে দু'হাতে ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে। ইরফান বা হাতে মাইরাকে শক্ত করে ধরেছে। ডান হাতে মাইরার শাড়ির আঁচল টান মেরে কাঁধ থেকে ফেলে দেয়। সেফটিপিন দিয়ে আটকে ছিল, ফলে মাইরা কাঁধে ব্যথা পেয়ে মৃদু গোঙায়। ইরফানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে ব্যর্থ হয়। ইরফান বা হাতে মাইরার কাঁধ চেপে ধরে রেখেছে, ডান হাতে মাইরার উন্মুক্ত ফর্সা পেটে হাতের বিচরণ চালায়। সময় পেরোয়, ইরফানের কোনো খেয়াল নেই। মাইরা হাসফাস করে। দু'হাতে ইরফানকে ঠেলে। বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয় নিজেকে ছাড়াতে।
ইরফান ওভাবেই মাইরাকে বেডে শুইয়ে দেয়, সাথে সে-ও মাইরার উপর আধশোয়া হয়।
ইরফান তার উপর শুয়ে পড়েছে বুঝতেই মাইরা মোচড়ামুচড়ি শুরু করে। ইরফান তার কাজে ব্যস্ত। মাইরার অতিরিক্ত নড়াচড়ায় ইরফানের কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ে। একসময় চরম বিরক্ত হয়ে ইরফান মাইরাকে ছেড়ে সামান্য মাথা উঁচু করে মাইরার দিকে তাকায়। একই সময়ে মাইরা-ও ইরফানের দিকে তাকালে দু'জনের চোখাচোখি হয়। সাথে সাথে মাইরা লজ্জায় চোখমুখ খিচিয়ে নেয়। মিনমিন করে বলে,, 'সরুন প্লিজ!'
ইরফান মাইরার দিকে চেয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলে, 'নো।'
এরপর মাইরার ঠোঁটজোড়ায় শব্দ করে চুমু এঁকে মাইরার গলায় মুখ গুঁজে শ্বাস টেনে বলে, 'এট ফার্স্ট তোমাকে রে'প করব। দ্যান ছাড়াছাড়ি। আন্ডারস্ট্যান্ড?'
কথাটা বলে ইরফান মাথা উঁচু করে মাইরার দিকে এগোলে মাইরা চোখ বড় বড় করে দু'হাতে তার ঠোঁট চেপে ধরে। এই লোকটা যা ত্যাড়া, সত্যি সত্যি তার সাথে কিছু করে ফেলবে। ইরফান রেগে মাইরার মুখ থেকে টান মেরে হাত সরিয়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, 'ডিস্টার্ব করলে থাপ্পড় দিয়ে সব দাঁত ফেলব তোমার।'
কথাটা বলে ইরফান আবার-ও এগোতে নিলে মাইরা এবার ইরফানের ঠোঁট চেপে ধরে। ইরফান শক্ত চোখে তাকায়।
দরজার বাইরে থেকে মাইরার মায়ের কন্ঠ কানে আসে। ভদ্রমহিলা সমানে দরজা ধাক্কাচ্ছে আর মাইরা বলে ডাকছে। সাথে ইরফানকেও দরজা খুলতে বলছে। স্বাভাবিক। এটা গ্রাম। একটা মেয়েকে কোনো ছেলে এভাবে ঘরে নিলে কতজন কত কথা বলবে! তাছাড়া মাইরা এখনো ভাবছে, তাদের বিয়ের কথা কেউ জানেনা। মাইরা ইরফানের দিকে চেয়ে ঢোক গিলে বলে, 'মা ডাকছে। সরুন প্লিজ!'
মাইরার মায়ের কণ্ঠ ইরফানের কানে আসলেও তার মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেল না। তার দৃষ্টি মাইরার দিকে। মাইরার ফর্সা মুখ, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক যা এখনো অক্ষত। ইরফানের দৃষ্টি নরম হয়ে এসেছে। মাইরা ইরফানের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলাতে পারেনা। তীব্র লজ্জায় মেয়েটা হাসফাস করে।
ইরফান মাইরাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে ডান হাত নামিয়ে মাইরার কোমরে গুঁজে রাখা শাড়ি খুলতে নেয়। কোমরে ইরফানের হাতের স্পর্শ পেয়ে মাইরা কেঁপে ওঠে। কাঁপা কণ্ঠে দ্রুত বলে, 'আমাদের বিয়ের কথা কেউ জানে না। প্লিজ কিছু করবেন না!'
ইরফানের হাত থেমে যায়। দৃষ্টিতে আরেকটু শান্ত ভাব আসে। মাইরা ইরফানের দিকে চেয়ে বারবার ঢোক গিলছে। ইরফান আর কিছু বলল না। মাইরার উপর থেকে উঠে দাঁড়ায়।
wscte leate to alle dissate erste 151 1202 at sealest
মাইরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দ্রুত উঠে শাড়ি দিয়ে নিজেকে ঢেকে নেয়। লজ্জায় তার হাত-পা কাঁপছে।
ইরফান মাইরার দিকে তাকিয়ে দ্রুতহাতে আধখোলা শার্টের বোতাম লাগায়। দরজার ওপাশে মাইরার মা এখনো ডাকছে মাইরাকে। মাইরা ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে নিলে ইরফান বা হাতে মাইরার হাত শক্ত করে ধরে। মাইরা কিছু বলার আগেই ইরফান ঘরের দরজা খুলে দেয়। দরজার সামনে মাইরার মা দাঁড়ানো। পাশে লাবিব। বাকি সবাই একটু দূরে দূরে দাঁড়ানো। সকলের দৃষ্টি ইরফান-মাইরার দিকে।
শুধু শুদ্ধ ও নাছিম বাড়ির ভেতর নেই। মাইরার মা ছলছল নয়নে মেয়ের দিকে তাকায়। ফর্সা গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ চোখ এড়ায় না ভদ্রমহিলার। মেয়েটা আজ তার স্বামীর হাতেও মার খেয়েছে। তার উপর মেয়ের স্বামী-ও যদি তার মেয়েটাকে এভাবে মারেন, তবে তার মেয়ের কপালে সুখ থাকবে কি করে? মাইরাকে সে হোস্টেলে পাঠিয়েছিল, মাইরা যাতে একটু ভালো থাকে। কারণ তার ঘরে মাইরার শান্তি ছিল না। মেয়েটাকে অন্তত একটা ভালো ঘরে বিয়ে দিতে চায়, যে তার মেয়েকে একটা ফুলের টোকা-ও দিবে না। কিন্তু ইরফানকে তার মোটেও তেমন মনে হচ্ছে না। উল্টে মনে হচ্ছে, ইরফান তার মেয়েকে হয়ত মারার উপরেই রাখবে।
নাছিম ভালো ছেলে বলেই সে মাইরার মতামত না থাকলেও সে মেয়ের সুখের আশায় বিয়েতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ইরফানকে তার উগ্র লাগছে। ইরফানের স্বভাব, আচার-আচরণ কিছুই ভালো লাগছে না।
মাইরা একবার মায়ের দিকে তাকিয়েছিল, আবার তখনি অভিমানী দৃষ্টিজোড়া নামিয়ে নেয়।
লাবিব ইরফান-মাইরার দিকে তাকিয়ে শব্দ করে বলে, 'খুচিব ডুলাবাই আপুইকে আদল কলচে।'
ছোট্ট বাচ্চার কথাটি থমথমে পরিবেশকে মুহূর্তেই ভীষণ বিব্রতকর করে তোলে। তবে ইরফানের মাঝে কোনো প্রভাব পড়ল না। সে এখানে দাঁড়ালো না। মাইরার হাত আরেকটু শক্ত করে ধরে ঘর থেকে বেরোতে চাইলে বুঝল, মাইরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইরফান ঘাড় বাঁকিয়ে মাইরার দিকে তাকায়। মাইরার মাথা নিচু। ইরফান বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
'থাপ্পড় খেতে চাইছ?'
মাইরা ঢোক গিলল। সে মায়ের উপর অভিমান করেছে খুব। কিন্তু তার মায়ের তো দোষ নেই। সে জানে ইরফান তাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু মাইরা এভাবে যেতে চায় না। আর পাঁচজনের মতো ভালোভাবে মায়ের দোয়া নিয়ে যেতে চায়। মাইরা মাথা তুলে তার মায়ের দিকে তাকায়। বলতে চায়, তার আর ইরফানের বিয়ের ব্যাপারটি। কিন্তু তার আগে মাইরার মা ইরফানের উদ্দেশ্যে বলে, 'তোমাদের বিয়ে যেভাবেই হোক। আমি আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিতে পারবো না। আমার মেয়ের হাত ছাড়ো।'
মাইরা বিস্ময় দৃষ্টিতে তার মায়ের দিকে তাকায়। ইরফানের দৃষ্টি মাইরাতে নিবদ্ধ। মাইরার মায়ের কথা কর্ণকুহরে পৌঁছালে মুহূর্তেই তার চোখমুখে ক্রোধ জমা হয়। ইরফান ঘাড় সোজা করে ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে, 'আই ডোন্ট কেয়ার। বউ আমার, ডিসিশন আমার। দ্যট'স এনাফ।'
মাইরার মা রেগে যায়। ইরফানকে তার যথেষ্ট অভদ্র বলে মনে হচ্ছে। তার মেয়েকে সে কোনো নরকে পাঠাতে চায় না। অতঃপর বলে, 'তুমি যে যথেষ্ট বেয়াদব ছেলে, তা আমি বুঝেছি। আমার মেয়েকে মার খাওয়ানোর জন্য কখনোই তোমার হাতে আমার মেয়েকে তুলে দিব না।'
ইরফান তীব্র রাগে ফেটে পড়ে। চোখজোড়া বুজে ফোঁসফোঁস করে শ্বাস নেয়। মাইরার ধরে রাখা হাত আর-ও শক্ত করে ধরে। মাইরা ব্যথা পায়, তবে টু-শব্দ করে না।
মাইরার মায়ের কথা রুমা নেওয়াজের পছন্দ হলো না। সে এগিয়ে আসে এদিকে। যদিও সে জানে ইরফান কারো কথা শোনা পাত্র নয়। তবে মাইরার মা তার ছেলেকে বেয়াদব বলায় ভদ্রমহিলার গায়ে লেগেছে। তাছাড়া মাইরার চঞ্চলতা তার ভীষণ অপছন্দ। তার মতে, তার ছেলের পাশে অন্তত মাইরাকে মানায় না। রুমা নেওয়াজ ইরফানের উদ্দেশ্যে বলে, 'ইরফান, মেয়েটিকে ছেড়ে দাও। ওর চেয়ে ভালো মেয়ে তুমি ডিজার্ভ কর।'
শুদ্ধ আর নাছিম বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মিনিট দুই আগে। এখানে সকলের কথাবার্তা শুনে বোঝা যাচ্ছে এদের মাঝে দ্বন্দ্ব বাঁধবে। শুদ্ধ নাছিমকে ছেড়ে ইরফানের দিকে এগিয়ে আসে।
নাছিমের নির্জীব দৃষ্টি মাইরার পানে। সে বোধয় এ জগৎে নেই তার বার্বিডলকে হারিয়ে।
ইরফান এমনিতেই রেগে আছে মাইরা প্লাস মাইরার মায়ের কথায়। তার উপর নিজের মায়ের কথা শুনে রেগে আরও বোম হয়ে যায়। ইরফান তার লালিত চোখজোড়া তার মায়ের পানে রাখে। মাইরার হাত ছেড়ে মাইরাকে টেনে মাইরার মাথা তার বুকে চেপে রাগান্বিত স্বরে বলে, 'আমার বউ কে হবে, এটা যাস্ট আমি ঠিক করব। অন্যকেউ নয়। তাছাড়া আমি আমার ডিসিশন জানিয়েছি। কারো ডিসিশন চাইনি।'
কথাগুলো বলে ইরফান দৃষ্টি ঘুরিয়ে মাইরার মায়ের পানে রেখে গমগমে স্বরে বলে, বউ আমার, শাওয়ারের প্রয়োজনীয়তার কারণ যেমন আমি হব। সেইভাবে, আমার যখন ইচ্ছা হবে, আমার বউয়ের মলমের প্রয়োজনীতার কারণও আমি-ই হব। ইট'স মাই চয়েস।
মাইরার মা রেগে তাকিয়ে আছে ইরফানের দিকে। তার বোঝা শেষ, এই ছেলে এক নম্বর অভদ্র। সে কিছুতেই তার মেয়ের জীবন এই ছেলের হাতে দিয়ে, মাইরার জীবন নষ্ট হতে দিবে না।
এদিকে রুমা নেওয়াজের রাগান্বিত দৃষ্টি মাইরার দিকে। সাথে ইরফানের উপর সে বিরক্ত। ইরফান এই মেয়ের মাঝে কি দেখল?
মাইরা ইরফানকে ঠেলে সরানোর বৃথা চেষ্টা করছিল এতক্ষণ। তবে ব্যর্থ হয়েছে। ইরফান নিজেই মাইরার মাথার পিছন থেকে হাত সরিয়ে মাইরার হাত ধরে টানলে মাইরাকে গাট্টা মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইরফান ভস্ম করে দেয়া দৃষ্টিতে তাকায় মাইরার দিকে। বা হাতে মাইরার গাল চেপে, মাইরার মুখ উঁচু করে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
'স্টুপিড গার্ল, থা'প্প'ড় খেতে না চাইলে চুপচাপ আমার সাথে আসবে।'
মাইরা কেঁপে ওঠে। ভেজা চোখে তাকায় ইরফানের দিকে। সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। তবে সে তার মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে এভাবে ইরফনের সাথে যেতে চায় না। এই বিয়েতে তার মায়ের তো কোনো দোষ নেই। যা দোষ সব তার সৎ বাবার। মাইরা তার মাকে বুঝিয়ে বলে তবেই ইরফানের সাথে যেতে চায়।
মাইরার মা শক্ত গলায় বলে,
'আমার মেয়েকে ছাড়তে বলেছি।'
ইরফানের দৃষ্টিতে আরও ক্রোধ জমা হয়। শুদ্ধ বড় বড় পা ফেলে ইরফানকে টেনে মাইরার থেকে সরিয়ে আনে। ইরফান শুদ্ধকে ধাক্কা দেয়। শুদ্ধ নিজেকে সামলে বলে,
দেয়। শুদ্ধ নিজেকে সামলে বলে।
'ইরফান প্লিজ, এভাবে সিনক্রিয়েট করিস না।'
ইরফান শুদ্ধের কলার চেপে রাগান্বিত স্বরে বলে,
'ওদের সাহস কি করে হয়, আমার বউকে ছাড়তে বলার?'
শুদ্ধ ঢোক গিলল। তার মাথা ঘুরছে। কিভাবে এসব হ্যান্ডেল করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
মাইরার মা মাইরার উদ্দেশ্যে শক্ত করে বলে,
'মাইরা ঘরে যা।'
মাইরা কেঁপে ওঠে। তার কান্না পাচ্ছে। কি করবে সে? সে তো ইরফানকে চায়, কিন্তু ইরফানের এসব স্বভাব দেখে তার মা মানতে পারছে না। সে মায়ের অবাধ্য কি করে হবে? যে মা সৎ হয়েও যতটা পেরেছে তাকে আগলে রেখেছে।
এদিকে মাইরার মায়ের কথা ইরফানের গায়ে যেন আগুন ধরিয়ে দিল। মাইরার মা ছেলে হলে এতক্ষণে বোধয় ইরফান তাকে পিটিয়ে জান নিয়ে নিত। ইরফান মাইরার মায়ের দিকে চেয়ে ফোঁসফোঁস করতে করতে বলে,
'ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে আমি বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্টেড নই।'
কথাটা শেষ করে ইরফান তার বামদিকে দাঁড়ানো লাবিবের ঘাড় ধরে লাবিবকে উঁচু করে ধরে ছুঁড়ে ফেলার কায়দায়। বাচ্চা ছেলেটি ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে ওঠে। কেঁদে দিয়ে বলে,
'খুচিব ডুলাবাই পুতা পুতা।'
ইরফানের কান্ডে সকলে হতভম্ব হয়ে যায়। মাইরা, লাবিবের বাবা, মা সকলের কলিজা ছ্যাত করে ওঠে। ইরফান ডান হাতে মাইরার গাল চেপে রাগান্বিত স্বরে বলে,
'ভালোভাবে আমার সাথে যাবি না-কি তোর ভাইকে আছাড় মেরে নাড়িভুড়ি সব বের করব? স্পিক আপ।'
মাইরা বিস্মিত হয় ইরফানের কান্ডে। এই মুহূর্তে ইরফানকে তার কাছে সবচেয়ে নিষ্ঠুর আর পাষাণ লাগছে। একটা বাচ্চার সাথে কেউ কি করে এমন করতে পারে? লাবিব কাঁদতে কাঁদতে বলে,
গায়ে! লাবিব কাদতে কাদতে বলে,
'আপুই আপুই বাতাও। মা বাতাও। খুচিব ডুলাবাই পুতা।'
লাবিবের বাবা ভীত চোখে চেয়ে আছে। মাইরার বিয়ে উপলক্ষ্যে সে নাছিমের থেকে টাকা নিয়েছে, এজন্য সে চাইছিল মাইরার সাথেই নাছিমের বিয়ে হোক। বলার প্রস্তুতি-ও নিচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই এরকম ঘটনায় ভদ্রলোক ভীত হয়। নিজের ছেলের চেয়ে তো টাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় তার কাছে। ইরফানের উদ্দেশ্যে বলেন,
'আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও। ওই মেয়েকে নিয়ে যাও।'
মাইরা অসহায় চোখে তার ভাইয়ের দিকে চেয়ে আছে। চোখের কোণে পানি। একটু আগেও ইরফানকে সে চেয়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তে ইরফানের উপর থেকে তার মন একদম উঠে গেছে।
শুদ্ধ ছোট্ট লাবিবের দিকে তাকায়। বাচ্চা ছেলেটি কাঁদছে। মায়া লাগলো তার। সে ইরফানকে যতটুকু চেনে, তার মনে হয় ইরফান ছেলেটাকে ফেলবে না। কিন্তু এ কথা এদের কিভাবে বোঝাবে?
ইরফানের এসব রিয়েকশনে এখানে অবস্থানরত সকলে ইরফানকে কেউ বুঝবে? উল্টে মাইরার মা আরও চেতে গিয়ে ইরফানের হাতে মাইরাকে দিবে না। এটা এই মাথা গরম বেদ্দপটাকে কিভাবে বোঝাবে? শুদ্ধ বলে,
'ইরফান, ও বাচ্চা ছেলে। ছেড়ে দে ওকে। কাঁদছে।'
ইরফানের কানে শুদ্ধের কথা যায় না। সে মাইরাকে চুপ দেখে আরও রেগে তাকায়। মাইরা ভাঙা গলায় বলে,
'আমার ভাইকে ছেড়ে দিন। আমি যাব আপনার সাথে।'
ইরফান বোধয় একটু শান্ত হলো। বা হাতে ধরে রাখা লাবিবের ঘাড় তখনই ছেড়ে দেয়। মাইরা ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে ওঠে 'ভাই' বলে। লাবিবও কেঁদে দেয়। নিচের দিকে দু'ইঞ্চি পড়ার আগেই শুদ্ধ দ্রুত লাবিবকে কোলে নিয়ে নেয়।
মাইরার মা ভয় পেয়ে গুটিয়ে গিয়েছিল। ছেলেকে অক্ষত দেখে ভদ্রমহিলা স্বস্তির শ্বাস ফেলে।
ইরফান আর এক সেকেন্ডও সময় ব্যয় হতে দেয় না। ঝট করে মাইরাকে কোলে তুলে নেয়। কোনোদিকে না তাকিয়ে বড় বড় পা ফেলে সামনের দিকে
দিকে এগিয়ে যায়। মাহরা হরফানের দিকে তাকায়। মেয়েটার লজ্জা নয়,
কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট। ইরফানকে দেখে তার ভয় হচ্ছে। ইরফান কেন এমন? একজন মানুষ হিসেবে ইরফান মাইরার কাছে খুব নিচে নেমে গিয়েছে। মেয়েটা কিচ্ছু বলল না। নিরব অশ্রু গড়িয়ে পড়ে মেয়েটার।
লাবিবের বাবা দ্রুত এগিয়ে এসে শুদ্ধের কোল থেকে লাবিবকে নিয়ে নেয়। ভদ্রলোকের জানে এতক্ষণে বোধয় পানি আসল।
মাইরার মা ইরফানের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে নিলে শুদ্ধ ভদ্রমহিলার সামনে দাঁড়িয়ে বোঝানোর স্বরে বলে,
'আন্টি প্লিজ! আমার কথা শুনুন। আমার উপর ভরসা রাখুন। মাইরা না চাইলে আপনার মেয়েকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার।'
তিনি শক্ত গলায় বলে,
'মাইরা যথেষ্ট ছোট। ও নিজের ভালো বোঝে না। আমি এরকম বেয়াদব ছেলের সাথে আমার মেয়ের জীবন জুড়তে দিব না। তুমি তোমার ভাইকে এটা স্পষ্টভাবে বলে দাও।'
ইরফানের গায়ে জ্বলুনি ধরল মনে হলো। পায়ের গতি বাড়ায়। দৃষ্টি মাইরার পানে রেখে রূঢ় গলায় বলে,
'আমার ওয়াইফ আমার রাইটস। আমার রাইটস আমি বুঝে নিই, এট অ্যানি কস্ট। এখানে অন্যকারো ডিসিশন ভ্যালুলেস। আই রিপিট, অন্যদের ডিসিশন যাস্ট ভ্যালুলেস। উইথআউট মি।'
ইরফান কথাগুলো বলতে বলতে নাছিমের পাশ কাটিয়ে বাড়ির মেইন গেইট দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। সকলে ফ্যালফ্যাল করে কেবল চেয়ে রইল। মাইরা আর ইরফানের মায়ের চোখেমুখে রাগ।
নাছিম দু'পা ডানদিকে সরে দাঁড়ায় বুহুকষ্টে। ডান হাতে গেইট আঁকড়ে ধরে, দৃষ্টি ইরফান-মাইরার পানে। যারা এগিয়ে যাচ্ছে তাদের একে অপরের প্রতি তীব্র অধিকারবোধ নিয়ে। যে অধিকার নাছিমের বুকের বা পাশের ব্যথাকে ধা ধা করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। নাছিম আরও দু'পা এগোলো, ইরফানের কোলে পুতুলের মতো ওই মেয়েটিকে সে খুব ভালোবেসে একটি নাম দিয়েছিল, 'বার্বিডল'। যার উপর শুধু সে অধিকার চর্চা করবে বলে কিছুক্ষণ আগেই বড্ড তাড়াহুড়ো করছিল। নাছিমের কি হলো কে জানে, ছেলেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখার সহ্যক্ষমতা হারালো। বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে। হাঁটার চলন এলোমেলো দেখে ফাইজ ডাকল নাছিমকে। ছেলেটা শুনলো না। শুদ্ধ নাছিমের পিছু দ্রুত পা চালায়।
নাছিমকে। ছেলেটা শুনলো না। শুনাছিমের পিছু দ্রুত পা চালায়।
নাছিম দাঁড়িয়ে যায়। তাকায় পিঠ ফেরানো ইরফানের পানে। দুর্বল কন্ঠে
ডাকে,
'ইরফান?'
ইরফানের চলন্ত পা থেমে যায়। মুখাবয়বে ক্রোধের ছড়াছড়ি। যার পরিমাণ বাড়লো বই কমলো না। দু'হাতে মাইরাকে আরেকটু শক্ত করে ধরল। যা তীব্র রাগের বহিঃপ্রকাশ। মাইরা তাকালো ইরফানের পানে। ঢোক গিলে বলে,
'আমাকে নামিয়ে দিন।'
তখনই ইরফান ক্রোধে ভরা চাহনী মাইরাতে নিক্ষেপ করে। মাইরা কেঁপে ওঠে। ইরফান সামনে এগোলো পূর্বের চেয়ে দ্রুতপায়ে। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় হেলিকপ্টারের ভেতর উঠে বসে ইরফান, কোলে মাইরা। একজন দরজা বন্ধ করে দিলে, হেলিকপ্টার চালু হয়। ধীরে ধীরে ব্লেড ঘুরতে থাকে। এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার উপরদিকে উঠতে শুরু করে। মাইরা ভীত হয়। নিজেকে গুটিয়ে নেয়। ইরফান বুঝতে পেরে মাইরাকে নিজের সাথে আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে। মাইরা ইরফানের দিকে তাকায়। বলে,
'আমি আপনার সাথে যেতে চাই না।'
তীব্র শব্দের ফলে যদিও কথা শোনা গেল না। তবে ইরফান মাইরার ঠোঁট নাড়ানোটুকু বুঝতে পেরে রেগে তাকায়। মুখ এগিয়ে এনে মাইরার ঠোঁটজোড়ার দখল নিতে চায়, মাইরা আন্দাজ করতে পেরে দ্রুত তার মুখ ইরফানের বুকে চেপে রাখে। ইরফান বিরক্ত হয়ে মাইরার গলায় মুখ গুঁজে কিছু অংশ জুড়ে দাঁত বসিয়ে দেয়। মাইরা ব্যথা পেয়ে ডান হাতে ইরফানের পিঠের দিকের শার্ট খামচে ধরে। ইরফান সেভাবেই থাকলো। রাগ নিবারণ করতে চাইছে হয়ত। মাইরা-ও শক্ত হয়ে চুপ থাকলো।
নাছিমের দৃষ্টি উপরদিকে ভাসমান হেলিকপ্টারের পানে। এ পর্যায়ে এসে ছেলেটার চোখ ভরে উঠল।
সে পারছে না মানতে। কি করে মানবে? তার বার্বিডলকে তার-ই বন্ধুর পাশে কি করে দেখবে সে? সে বার্বিডলকে পাওয়ার জন্য কতকিছু করল, কতই না তাড়াহুড়ো করছিল যেন তার বার্বিডলকে হারাতে না হয়। কিন্তু সে যে বার্বিডলকে নিজের নামে লিখতে চাওয়ার আগেই, মেয়েটিকে হারিয়ে বসেছিল, শুধু খবরটি তার কানে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেল। বুকটা জ্বলছে ভীষণ। শরীর ভেঙে আসছে। নিজেকে সামলে নিতে চাইলো খুব করে।
কিন্তু সে যে বার্বিডলকে নিজে নামে লিখতে চাওয়ার আগেই, মেয়েটিকে হারিয়ে বসেছিল, শুধু খবরটি তার কানে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেল। বুকটা জ্বলছে ভীষণ। শরীর ভেঙে আসছে। নিজেকে সামলে নিতে চাইলো খুব করে। কিন্তু ব্যর্থ হলো। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় নাছিম হঠাৎ-ই ধপ করে বসে পড়ে কাঁচা মাটিতে।
ততক্ষণে শুদ্ধ, ফাইজ দৌড়ে আসে নাছিমের কাছে। দু'জনেই হাঁটুমুড়ে বসে নাছিমের দু'পাশে। ভেঙে পড়া বন্ধুকে আগলে ধরে দুই বন্ধু। আশেপাশের অনেকেই তাকিয়ে আছে নাছিমের দিকে। বরবেশে একজনকে দেখল, অথচ মাঝখান থেকে মেয়েটির আগের বর এসে তুলে নিয়ে গেল। বিষয়টি সিনেমাটিক লাগলো ভীষণ। অনেকে নানা কথা বলছে কানেকানে। ফাইজ চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
'নাছিম ঠিক আছিস?'
নাছিমের মুখে কথা নেই। মনটা বড্ড ক্লান্ত তার। শুদ্ধ নাছিমের শেরওয়ানির কয়েকটা বোতাম খুলে দিয়ে নাছিমের বুকে হাত দিয়ে বলে,
'এ্যাই নাছিম, নিজেকে শান্ত কর।'
এবার নাছিম অসহায়ত্বে ঘেরা টলমল চোখদুটো তুলে শুদ্ধের দিকে তাকায়। ভাঙা গলায় বলে,
'বার্বিডল ছাড়া এই মন শান্ত হবে না রে। ওকে এনে দে না আমার কাছে!'
শুদ্ধ অসহায় চোখে তাকায়। মাইরার প্রতি নাছিমের আবেগী মনোভাব দেখে ছেলেটা ভীষণ অবাক হয়। নাছিম কবে মাইরার প্রতি এতটা দুর্বল হয়ে গেল?
অথচ সে কিছুই জানতে পারলো না। জানলে হয়ত কিছু করত। আবার ভাবল, সে কি করত? তার হাতে কি আদৌ কিছু ছিল? জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সব উপর থেকে ঠিক করা থাকে। এখানে যে তাদের কিচ্ছু করার থাকে না। এইজন্যই তো, নাছিম মাইরাকে এত চেয়েও পেল না। পেল না ইরফানকে অন্তরা-ও। মেয়েটা ইরফানের অপেক্ষায় তার বিয়ের বয়স পার করে ফেলল। অথচ এক নিমিষেই কত নিখুঁতভাবে হারিয়ে ফেলল তার মনমানুষকে।
অন্যদিকে ইরফান-মাইরা, যাদের বিয়েটা হয়েছে একদম হুট করে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, অনিচ্ছাকৃতভাবে। বিয়ের পর কেউ কাউকে মানতে চাইতো না পর্যন্ত। চাইবে কি করে, দু'জনেই বিপরীত মেরুর মানুষ। একে অপরকে পছন্দও করে না। অথচ তাদের ভাগ্য আল্লাহ একসাথে জুড়ে দিয়েছে। এর নাম-ই বুঝি ভাগ্য?
শুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। দুই বন্ধু নাছিমকে ধরে একটি চেয়ারে বসায়।
বাড়ির এক কোণায় সামিয়া দাঁড়িয়ে। তার দৃষ্টি নাছিমের পানে। সে অবাক হয়নি। সে জানতো নাছিমের ব্যাপারটি। নাছিম মাইরার বাড়ির ঠিকানা তার থেকে নিয়েছিল। এখন বিয়ে করে নেয়ায় সামিয়া উল্টে অবাক হয়েছিল, নাছিম মাইরাকে রেখে অন্যকাউকে বিয়ে করায়। অথচ নাছিমের বিয়েটা মাইরার সাথেই ছিল। শুধু তারা জানতো না। সামিয়ার ভীষণ খারাপ লাগছে নাছিমের জন্য। আগে ভেবেছিল নাছিম শুধু মাইরাকে পছন্দ করে। কিন্তু আজ বুঝতে পারছে, নাছিম মাইরাকে নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস ছিল।