ফন্ট সাইজ:
থিম:
পর সমাচার এই যে

২য় পর্ব

লেখক: ইসরাত আরা ইতি

#পর_সমাচার_এই_যে

#পর্ব_২
#ইসরাত_আরা_ইতি
_“নেই ফাবিয়ার সেল্ফ রেসপেক্ট। পৃথিবীতে একমাত্র নাবিলের কাছেই ফাবিয়ার সেল্ফ রেসপেক্ট পুড়ে ছাই হয়ে যাক। ফাবিয়া নির্লজ্জ থাকুক। ফাবিয়া নির্লজ্জই থাকুক! একটা নাবিলের কাছে।”
কথা গুলো বলে ক্লান্ত ভঙ্গিতে সিটে গা এলিয়ে দেয় ফাবিয়া। নরম দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাতের জমকালো মহানগর দেখছে। অহেতুক দৃষ্টি ঘুরপাক খায় নিয়ন আলোতে। নাবিল তখনো তাকায় না,তার সম্পূর্ণ মনোযোগ ড্রাইভিংয়ে। স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে ডানে মোড় নিলো। রিধিতাকে ওর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি যখন বনানী ঢুকলো তখন ফাবিয়া হঠাৎ উদাস গলায় বলে ওঠে,“আঙ্কেল যদি জানতে পারে তার ছেলের অঘোষিত প্রেমিকাটি এতো রাতে ক্লাবে গিয়েছে, আঙ্কেল খুব ডিজাপয়িনটেড হবে তাইনা? আমি ঐ একটা মানুষকে কখনোই ডিজাপয়িনটেড করতে চাইনা। আমি বাড়িতে গিয়ে মেসেজ পাঠিয়ে দেবো আঙ্কেলকে। আমি চাইনা আমার ব্যাপারে সে বাইরে থেকে শুনুক। আমিই বলবো সব।”
নাবিল নির্লিপ্ত একটানা। ফাবিয়া ম্লান হেসে বলে,“কথা বলবেই না?”
ফাবিয়াদের বিলাসবহুল বাড়িটার নাম দি ভিনটেজ গার্ডেন। গেটের সামনে এসে গাড়িটা থামে। ফাবিয়া অহেতুক বসে থাকে গাড়িতে আর মিনিট পাঁচেক। নাবিলের কঠোর মুখটা ততক্ষণ আঁটকে ছিল ফাবিয়ার হাতের ক্ষততে। ঐ সময়ে ছেলেটার সাথে ধস্তাধস্তিতে লেগেছিল,ধাক্কা খেয়ে টেবিলে পড়েছিল। চামড়াটা ফেটে গেছে বারি খেয়ে। নাবিলের দৃষ্টি ওখানটায় পড়েছে দেখে জায়গাটা কামিজে তৎক্ষণাৎ ঢেকে নিলো ফাবিয়া। পরপর নেমে পড়লো দ্রুত। দ্রুত নামতে গিয়ে যখন হোঁচট খেল,নাবিল হাত বাড়িয়ে ধরলো ওকে। বলিষ্ঠ হাতের এক থাবায় আয়ত্তে এলো পলকা শরীরটা। এবারের মতো কোনোভাবে সামলে গিয়েছে বুঝতে পেরেই চোখ খুললো ফাবিয়া। 
ও চেয়ে আছে সৌম্য পুরুষটির গলার কাছের অনিন্দ্য কঠোর সৌন্দর্য টুকুতে। ওখানটায় গোগ্রাসে কয়েকটা চুমু দিয়ে শান্ত করতে চাইছিল নিজের আজন্ম তৃষিত বুকটাকে। পারলো না অমোঘ লজ্জায়,চোখ সরিয়ে নিল সবসময়ের মতো। নুইয়ে নিলো দৃষ্টি।
_“মেয়েটার নাম আজরিন। আমাদের সাথেই পড়তো। ঐ মেয়েটাই। আর ঘাটার দরকার নেই। শি ইজ টোটালি হ্যাপি উইদ ইয়র ফাদার‌। ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু বি প্যানিকড। এ ধরণের মেয়েরা এতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।”
খানিকটা অবাক হলো ফাবিয়া,“তুমি কীভাবে জানলে..!”
_“যেতে যেতে বের করলাম নাড়ি নক্ষত্র।”
_“তুমি আমার ই-মেইল চেক করেছো? আইডিতে ঢুকেছো?”
একরত্তি সংকোচ কিংবা অপরাধবোধের ছাট নেই দোহারা মুখটায়। বরং ঠোঁট বাকলো সামান্য হাসিতে,হাসিটা ম্লান।
_“আমার কাছে ঐ পাঁচ জায়গা থেকে কল এসেছে যেখানে তুমি মেয়েটার খোঁজ লাগিয়েছো। তোমার আইডি ঘাটার প্রয়োজন পড়েনি। একচুয়ালি কখনো প্রয়োজন পড়েনা।”
ফাবিয়াকে ধীরস্থির হাতে দাঁড় করিয়ে দিল। ফাবিয়া আর চোখ তোলেনি,চোখ দু'টো টলটলে হয়েছে লজ্জা আর হতাশায় সেটুকু ঢাকতেই আর চোখ তোলেনি। দারোয়ান গেট খুলে দাড়িয়ে আছে। এদিকে ঘুরে তাকায়নি এখনো। নাবিলের দৃষ্টি ফাবিয়ার সিঁথির ফাঁকে। বলল আবার,
_“আর যদি কিছু দেখার থাকেও তবে বিষয়টা আমি দেখছি,তুমি এটার ধারেকাছে আসবে না।”
আইঢাঁই করে উঠলো ফাবিয়া,ভার গলায় বলল,“নাবিল প্লিজ!”
_“নো ফাবিয়া!”
আদেশটুকু ভীষণ সাবলীল।
_“প্লিজ নাবিল!”
_“নো ফাবিয়া।”
_“নাবিল!”
_“নো!”
_“প্লিজ!”
_“আই সেইড নো! হু? বোঝা যায়নি? বলো আমাকে! বুঝতে পারোনি?”
এটুকু বলতে গিয়েও উঁচু হয়নি গলা। অথচ কট্টর জোর মিশে আছে কথাটায়। আঁচ পেয়ে ফাবিয়া ওখানেই থামে। নাবিল দৃষ্টি ঘুরিয়ে দারোয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল,“গভর্নেসকে গিয়ে বলুন আপামনি হাতে চোট পেয়েছে। তাকে এসে নিয়ে যেতে। ডাক্তারকে কল করে কানেক্ট করে দিচ্ছি। আই হ্যাভ টু গোওও।”
গাড়ি ঘুরিয়ে রাস্তার ধূলো উড়িয়ে চলে যায়। ফাবিয়া দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁয়, হাসছে সে। বোঝা গিয়েছে আজ খুব চটেছে এই ছেলে। ভীষণ চটেছে! এই রাগ নিয়ে কয় ঘন্টা পার করে কে জানে।
দরজা খুলে দেয় গভর্নেস পারুল। এসে ফাবিয়াকে আগলে ধরলো। বাড়িতে পা রেখেই আশেপাশে তাকায় ফাবিয়া। কেন তাকায় সে জানে না, এই বাড়ির আসবাব ছাড়া একটি লোকের প্রতিও আগ্রহ নেই তার। পারুল ওর দৃষ্টি পড়ে বলল,“স্যার নেই। ভাইয়ারাও নেই।”
পারুলকে কফি দিতে বলে সে গটগট করে হেঁটে চলে যায় তার ঘরে। সোজা ঢুকে পরে ওয়াশ রুমে। চোখে মুখে জল ছেটাতেই পারুল এসে কফি দিয়ে যায়। ফাবিয়া বাথটাবে পানি ভর্তি করে ওভাবেই কফির মগ হাতে ডুবে যায় বাথটাবে। এটা তার খুবই পছন্দের একটি কাজ। এভাবে বাথটাবে গা ডুবিয়ে কফি খাওয়া অথবা ডায়েরী লেখা। 
এক কিনারায় ডায়েরীটা রেখে আজও কিছু আজগুবি কথা লিখতে মন চাইলো। ডায়েরী লেখার অভ্যাস হয়েছে রাওনাফ আঙ্কেলের কথায়। আঙ্কেল তার ছেলে মেয়েদের ডায়েরী লিখতে সবসময় তাগিদ দেন। আঙ্কেলের ভাষ্যমতে, মানুষের অতীতকে সুন্দর করে রেখে দিতে হয় সাজিয়ে। আঙ্কেল মানুষটাই অন্যরকম,ফাবিয়ার ভীষণ পছন্দের। 
আর এদিকে তার পাপা, যিনি ডায়েরী লেখার মানে কি বুঝবে? তিনি অতীত সুন্দর করে রাখতে চান না, কারণ তার অতীত গুলো সব নিকৃষ্ট। নিকৃষ্ট অতীতকে ধামাচাপা দেয় সবসময় ফাবিয়ার পাপা,ডায়েরীতে তুলে রাখেনা।
হাঁফ ছাড়ে ফাবিয়া, ফোনটা বাজছে পিকপিক আওয়াজ তুলে,ফুপি কল দিচ্ছে। এই পরিবারে এই একটা মানুষ যার সাথে কথা বলা যায়,যাকে ফাবিয়া ভালোবাসে। তাই অবলীলায় রিসিভ হলো ঐ কল। 
_“বাইরে থেকে ফিরে কল করে জানাতে হয় তো বাবা। টেনশন করি তো।”
_“কোনো অঘটন ঘটলে ঠিকই কল পেতে, এতো বিখ্যাত লোকের মেয়ে আমি।”
আয়েশা কিছুক্ষণ চুপ থাকেন, এরপর ধীরে বলতে শুরু করেন,“নাবিলের সাথে গেছিলে?”
_“না। ও চলে এসেছিল। কোথা থেকে যেন উড়ে এলো। সবসময় যেভাবে আসে। আমি ডাকিনি।”
_“এইবার তোমাদের একটা ডিসিশনে যাওয়া উচিত। হয় বিয়ে করো নয় যার যার পথ সে সে দেখবে। যেহেতু পারিবারিকভাবে কিছুই হবে না। মিস্টার রাওনাফ করীম যতটুকু নরম হতে চাইছে বাট তোমার পাপা তো তোমার পাপা।”
_“তুমি কি ভাবছো? আমি তাকে ভয় পাই। আমি যেকোনো সময় নাবিলের হাত ধরে ওর ঘরে চলে যাওয়ার সাহস রাখি।”
_“তো যাচ্ছো না কেন?”
আয়েশা উদগ্রীব হয়ে আছে উত্তরটা জানতে,ফাবিয়া বলল,“কি সুন্দর একটা মানুষ ফুপি! কি সুন্দর! যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে আমি ওকে হ্যাঁ বলে দিলেই। এতো ভোগাতে ইচ্ছে করছে না তো। এমনিই, দু চোখে এখন যা দেখতে পাচ্ছি, যতটুকু সুখ ছুঁতে পারছি। পরে গিয়ে এতটুকুও কপাল থেকে খোয়াতে মন চাইছে না!”
আয়শার গলা নরম হয়ে আসে ভাইঝির উদ্দেশ্যে,
_“তোমার ওভাবে ওর সাথে জড়ানো উচিত হয়নি বাবা।”
_“অ্যাট দ্যাট টাইম, আমার ওর ওপর ফল করা ব্যতীত অন্য কোনো অপশন ছিল না ফুপি। ও রাখেনি। নয়তো দুনিয়ার এতো ছেলে থাকতে ক্লাসরুমের এক কোণে বসে চুপচাপ নোটবুকে কাটাকাটি করা, হকি রুমে একা একা প্র্যাকটিস করতে থাকা গোমরামুখো ছেলেটার ওপরই কেনো আটকাবো বলো? হি ইজ সামথিং,দ্যাট আই নেভার এভার হ্যাড বিফোর। হি ইজ দ্য অনলি থিং। ওকে ভালোবাসা আমার লাইফের একমাত্র অনিন্দ্য সুন্দর অনুশোচনা। আমি রোজ একবার করে এই অনুশোচনা করি। করতে ভালোলাগে।
আয়েশা এবার পুরোপুরি চুপ হয়ে গেলেন। ফাবিয়া কল কেটে ডায়েরী নিয়ে ব্যস্ত হয়।
“এটা ফাবিয়া মাহমুদ। একজন করাপ্টেড ক্ষমতাধর পলিটিশিয়ানের সুযোগ্য মেয়ে। মানুষ আমাকে এভাবেই জানে।”
এটুকু লিখে ফাবিয়া কেটে দিলো লাইন দুটো, পৃষ্ঠা উল্টে আবার লিখতে শুরু করলো,“নাবিল রেগেছে। কারণ আমি তাকে ইনফর্ম করিনি। আচ্ছা কি ইনফর্ম করতাম তাকে? আমি বলতাম আমি আমার পাপার রক্ষিতাকে ধরতে যাচ্ছি? এটা বলতাম? এই লোকটা এতো অবুঝ কেন?
হ্যা ভীষণ অবুঝ এই লোক। যেই ছেলেটার সাথে আমার খুব প্রতিযোগিতা চলতো একসময়, ছেলেটাকে আমি শুরু থেকে খুব হিংসা করতাম। একটু ঝগড়ুটে ছিলো ছেলেটা, ক্লাসমেটদের পাত্তাই দিতো না। নিজের মতো থাকতো। পড়াও বেশি পারতো। একদিন কৌতুহলী হয়ে খোজ নিয়ে দেখি ছেলেটার মা নেই। আমারও তো মা নেই, তবে আমি তো হাসিখুশি থাকতাম। পরে বুঝলাম, আমি আর ও দু'জন ভীষণ আলাদা। আচার আচরণে। আরেকটা পার্থক্য অবশ্য রয়েছে আমাদের মাঝে। আমার একটা জিনিস আছে, যেটা ওর নেই। ওর কেন! এই পৃথিবীতে আর কারো নেই। আমার একটা নাবিল আছে। যে শুধুমাত্র আমার।”
লেখা থামিয়ে পাতাটার দিকে ঝাঁপসা চোখে তাকিয়ে থাকে ফাবিয়া। খানিক বাদে টুপ টুপ করে গড়িয়ে পরে চোখের পানি। ভিজে যায় পাতাটা। বড় বড় শ্বাস ফেলে ফাবিয়া,ডায়েরীটা দূরে সরিয়ে রেখে কাঁপা কাঁপা হাতটা বাড়িয়ে বাথটাব সংলগ্ন তাক থেকে তার ওষুধের ঝাপিটা বের করে পাঁচ রকমের পাতা থেকে পাঁচটা ওষুধ খেয়ে নেয়। চোখের পানি বিরতি নেয়না ওর। 
পানি ধুতে ফাবিয়া বাথটাবে ডুব দেয়। দেড় মিনিট। দেড় মিনিটে দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্যটা। মাম্মা পড়ে আছে বিছানায়, মুখ দিয়ে তার ফ্যানা বেরুচ্ছে। মাম্মার হাতে একটা ছোট বোতল। ওতে বিষ ছিলো। ফাবিয়া হোমওয়ার্ক শেষ করে মাম্মাকে খিদের কথা বলতে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল মাম্মার পায়ের কাছে। বিস্ময়ে চোখের পাতা প্রশস্ত করে চেয়ে রইল মাম্মার মুখের দিকে ফাবিয়া। সে বুঝলো না তখন তার মাম্মা কি করেছে, ভাবলো মাম্মা বমি করে এভাবে শুয়ে আছে কেন?
এতো ডাকলো, গলা ফাটিয়ে ডাকলো, মাম্মা উঠলোই না। 
ফাবিয়া তখন ক্লাস টু-তে পড়তো। মেয়েটা ভয় পেয়ে গিয়ে ঝাপালো মায়ের বুকে। ঝাঁপিয়ে পরতেই আরো একদফা আঁতকে উঠেছিলো। মাম্মার গা ছিলো বরফের মতো ঠান্ডা। 
পানি থেকে মাথা তুললো ফাবিয়া। বাথটাবে ডুব দিয়ে থাকা দেড় মিনিটে তার মৃত্যুসম যন্ত্রণা হলো,আর পারছিলো না কিছু দেখতে। গলার কাছে আবার সেই অসহনীয় উৎপীড়ন। হাঁপাতে হাঁপাতে ফাবিয়া গলা চেপে ধরে রেখে বসে রইল চুপচাপ। 
◻️
ফোনটা এসেছে উর্বীর কাছ থেকে। নাবিল নাম্বারটা দেখতে পেয়ে রিসিভ করে ব্লুটুথ কানে চাপলো। হাত ব্যস্ত স্টিয়ারিংয়ে। নরম সুরে জানতে চাইলো,“ঘুমাননি মামুনি!”
_“ঘুমটা কেটে গেছে হঠাৎ নাবিল। ফাবিয়ার কী হয়েছে? তোমার পাপার কাছে কল এলো ভেলভেট নোয়ার নামক কোনো ক্লাব থেকে। হোয়্যাট ইজ হ্যাপেনিং বাবা!”
_“নাথিং মামুনি। পাপাকে টেনশন করতে বারণ করুন। 
_“ফাবিয়া ঠিক আছে?”
_“হু। শি ইজ ইনোসেন্ট! বিষয়টা পরে আপনাদের বলবো।”
উর্বী খানিকটা ইতস্তত করলেও বলে দিলো,
_“তুমি তো জানো নাবিল, ক্লাবে গিয়ে নাচা নাচি করা। তোমার পাপা একদম হেইট করে এসব, আর না এসব আমাদের সাথে যায় তো…”
_“সে একটা লক্ষী আমার মামুনি। অকারণে টেনশন নিয়েন না। পাপার সাথে যায়না এমন কিছু সে করবে না।”
স্থির গলায় ধীরে ধীরে শব্দগুলো উচ্চারণ করে নাবিল কল কাটে। কল কেটে নাবিল ফোনের মেসেজটা দেখলো,“রাগ কমলে ভিডিও কল দিয়ো। আমি ঘুমাচ্ছি না।”
আগারগাঁওয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত গাঢ় হয়ে এসেছে। আবহাওয়া গুমুটে। গা শিরশিরে এক হাওয়া বইছে কেবল‌। নাবিল গাড়িটা পার্ক করেছে যেখানে,জায়গাটা নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের চওড়া রাস্তা। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে কোনো রকম আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ না পড়ায় ভ্রাম্যমান খাবারের দোকান গুলো এরিয়াটা মাতিয়ে রেখেছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ঘটি গরম বিশৃঙ্খলার খবরে সয়লাব হচ্ছিল নেট দুনিয়া। আজ সম্ভবত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রেইড বসেছে এখানে। নাবিল রাস্তায় পা ফেলেই বুঝতে পারলো। সটান হয়ে মিনিটখানেক চুপচাপ ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে সে, মূলত প্ল্যানটাকে আরেকবার ঝালিয়ে নিচ্ছিল বিশ্রামরত মস্তিষ্ক। উর্দ্ধতনদের চোপা বন্ধ করার এই একটাই উপায়। তথ্যগুলো আজকের মধ্যে হাতে নিতে হবে। চারপাশে ক্যাটকেটে আলো জ্বলছে। নাবিলের পিছু পিছু নেমে এলো ইন্সপেক্টর শাহিদ। 
_“স্যার এটাক দেবো আপনি বললে। ফোর্সকে বলে দিই? আমার মনে হয়না কাজটা কৌশলে করা যাবে। ও ভীষণ ধূর্ত। বুঝে যাবে।”
নাবিল ঘড়ি দেখছে। নির্লিপ্ত চোখ জোড়া কয়েক মিটার ব্যবধানের বিরাট জটলাতে রেখে বলল,“এটাকের কথা আজ বাদ দাও। ভুলে যেয়োনা ওখানে একটা মেয়েকে পাঠিয়েছি। সে প্রফেশনাল নয়। মেয়ে মানুষের ব্যাপার। একটু রয়ে সয়ে। তার ওপর মডেল। এই টাইপের মেয়েগুলোকে বাইরে থেকে যতটা স্মার্ট লাগে এদের মাথার ভেতরটা ততটাই ফাঁপা। নার্ভাসনেসে সবটা ঘেটে না গেলেই হয়। প্ল্যান বি রেডি করে যেতে হবে।”
জটলার চারপাশেও উৎসুক মানুষের আরেক অবিশ্বাস্য জটলা। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে, কেউ মোবাইলে ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। কেউ আবার অসহায় চোখে নিজের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
হঠাৎ একে একে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো গুটিয়ে দেওয়ার পুলিশি নির্দেশ এলো। এই থানার ওসি ফোর্স নিয়ে সবটা দেখভাল করছে। নাবিলের দৃষ্টি ওদিকটা থেকে সরছিল না দেখে শাহিদ বলল,“একদম ফালতু মেয়েছেলে সব। ন্যুনতম সিভিক সেন্স নেই। যেই একজন কেক নিয়ে ভাইরাল হয়েছে অমনি সবাই লেজ নাড়তে নাড়তে এসেছে। কথা বলার ধরণ দেখেই বোঝা যেত কতটা অসভ্য।”
লোহার কাঠামো সরানোর শব্দ, টিনের চাল ভাঙার ঠকঠকানি, প্লাস্টিকের টেবিল উল্টে পড়ার শব্দে ঐ রোডের রাতের বাতাস ভারী হয়ে উঠল ক্রমশ। কারও চা, কারও ফুচকা, কারও ভাজাপোড়ার দোকান, কারো হাঁসের মাংস আর ছিটা রুটির সামান্য সংসার। সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে মহানগরের এই রাস্তা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে।
সবটা ফেলে নাবিলের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো এক পাশে। ভিড়ের একটু পাশেই ছিল ছোট্ট একটা কেকের দোকান। কাঁচের বাক্সে সাজানো কয়েকটি কেক, পাশে ক্রিমের বোতল, কিছু রঙিন মোমবাতি। এসবের পাশেই পাথুরে মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে মেয়েটি। এখানে দু'দিন এসে দু'দিনই মুখোমুখি হয়েছে মেয়েটির। বয়স আন্দাজ করলে বিশের ওপর টেনে নেওয়া যায়না। গোলগাল, নিরীহ একটা মুখ। ঐ চোখ ছলছল মুখের অবস্থা দেখলে বলে দেওয়া যায় এই সামান্য আয়োজনটুকুই ছিল মেয়েটার অবলম্বন।
একজন কনস্টেবল এসে টেবিলটাতে হাত দিতেই মেয়েটা কেঁপে উঠে ছুটে গেল।
_“ভাই, একটু আস্তে... এগুলো ভেঙে ফেলবেন না। স্যার প্লিজ আমাকে একটু সময় দিন। আমি সব সরিয়ে নেব।”
_“আপনাদের সন্ধ্যা থেকে বলা হচ্ছে। শোনেননি কেন? গায়ে লাগে না তাইনা?”
জুতোর বাড়ি সপাটে গালে পড়লে মুখের অবস্থা যেমন হয়। মেয়েটাকেও ঠিক অমন মলিন লাগছে। নাবিল লক্ষ্য করলো বেশভূষায় মেয়েটি এখানকার আর পাঁচজন উদ্যোক্তার থেকে ব্যতিক্রম। নয়তো তেল চিপচিপে মাথা নিয়ে কেউ কেক বিক্রি করতে আসেনা। 
কেউ থামল না। এক ঝটকায় টেবিলটা উল্টে গেল। কেকের বাক্স মাটিতে পড়ে ঢাকনা খুলে গেল, সাদা ক্রিম ধুলোয় মিশে গেল। একটা কেকে লেখা ছিলো Happy Birthday, সেটার অক্ষরগুলোও মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে অবলীলায়।
_“নাম কী? নাম কী?”
ওসি কেন নাম জিজ্ঞেস করছে মেয়েটা বুঝতে পারছে না,থমথমে গলায় বলল,“মারজানা অনু!”
এরপর কয়েক সেকেন্ড শুধু তাকিয়ে রইল সেদিকে। এবার চোখের নোনাধারা লাই পেয়েছে বড্ডো। ঠোঁট কাঁপল। এতক্ষণ মানুষের ভিড়ের সামনে শক্ত হয়ে থাকা মুখটা হঠাৎ ভেঙে গেল। সে মাটিতে বসে পড়েছে নিশ্চুপে কাঁদতে কাঁদতে। দুই হাত দিয়ে ভাঙা কেকের বাক্সটা তুলে বুকে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল আচমকা,একটু শব্দ করেই।
শহরের এই রাস্তার রাতটুকু ব্যস্ত হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। গাড়ি ছুটছে, মানুষ হাঁটছে, দূরের একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে আলো এসে পড়ছে ওর মুখে। আলো জ্বলজ্বলে মুখটা। অথচ মেয়েটার পৃথিবীটা যেন ওই কয়েকটি ভেঙে পড়া কেকের মধ্যেই আটকে গেছে। প্রশাসনের কাছে যেটুকু অবৈধ রিজিক। কিন্তু অনু জানে এতটুকু গড়তে ওর কতটা পরিশ্রম গিয়েছে বিগত কয়েকটা দিন। ওর কাছে ওটাই ছিল একটা সংসার। একটা স্বপ্ন। আগামীকালটাকে কোনো রকমে বাঁচিয়ে তোলার ছোট্ট চেষ্টা।
মেয়েটাকে মাথা নুইয়ে লুক চেঞ্জ সেলুনের এই পাশটাতেই আসতে দেখে হাতের সিগারেটটা পায়ের নিচে ফেলে পিষে দিল নাবিল। হাত নেড়ে ধোঁয়াটে বাতাসটুকু সরালো সামনে থেকে। অনু পাশ কাটিয়ে ঠিক চলে যাবে যাবে এমন সময় নাবিল গম্ভীর হয়ে ডাকলো ওকে,“এক্সকিউজ মি!”
দাঁড়াল ঠিক,তবে কথা বলল না মেয়েটা। ফ্যালফ্যাল করে নাবিলকে মেপে নিচ্ছিল ঐ টলটলে চোখজোড়া। গলার স্বর টুকু যতটা সম্ভব নিচু করা যায়,করলো নাবিল,যাতে মেয়েটা ঘাবড়ে না যায়,“বাড়ি কোথায় আপনার? এখান থেকে যেতে পারবেন না। মেট্রো বন্ধ। গণপরিবহন বন্ধ। দুয়েকটা উবার চলছে শুধু। বাড়ি কোথায় আপনার?”
নাবিলকে চূড়ান্ত হতবাক করে দিয়ে এতক্ষণের নিভু নিভু মুখটা জ্বলে উঠলো,কন্ঠে ধার,“তা দিয়ে আপনার কী?”
চোখজোড়া ভীষণ শান্ত নাবিলের। অযাচিতভাবে এই মেয়েটির জন্য উৎকণ্ঠা দেখানোর মানে নেই,এর গলা বলে দিচ্ছে একাই একশো। তবুও বলল,“যাতে কোনো বিপদে না পড়েন সেজন্য…!”
মেয়েটার অস্থির চোখজোড়া আশেপাশে দেখছিল। চোখের পানি মুছে দম টেনে বলল,“আমি অমন মেয়ে নই। সরুন সামনে থেকে,নয়তো ঐ পুলিশ ডাকবো আমার পিছু পিছু এলে।”
একদম বাতাসের বেগের সাথে সমানে পাল্লা দিয়ে মেয়েটি সোজা পথে হাঁটতে শুরু করেছে। দিনের শেষে একজন মেয়ে তাকে মাতাল, চরিত্রহীন ভাবছে,বিষয়টা নাবিলের কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে। পাশ থেকে শাহিদ বলল,“এর কী মাথার তার ছেঁড়া নাকি? আপনি তো তাকে কোনো বাজে প্রস্তাব দেননি স্যার।”
নাবিল একটু ভাবুক হয়ে প্রশ্ন করলো,
_“তার আগে বলো আমার লুকে একটু পরিবর্তন আনা উচিত কিনা? ইদানিং মনে হচ্ছে আমার! বাচ্চা মেয়েগুলো ভয় পাচ্ছে। চলো সেলুনে ঢুকি। কাজটা সেরেই যাই চুলের।”
বলতে বলতে নাবিল গা ঝাড়া দিয়ে দু’কদম এগিয়ে গেল। ওখানকার দায়িত্বরত ওসি তাইজুল ইসলাম অবশ্য চিনে ফেলেছে তাকে। দেখামাত্রই সবিনয়ে হাত এগিয়ে দিলো। মুখের সেই কঠোর হাসিটা ফিরিয়ে এনে সালামের জবাব দিয়ে বললো নাবিল,“মেয়েদের আরো সুন্দর ভাবে সামলাতে হয়। You know how!”
_“আরে এরা এমনিতেও নির্লজ্জ। নরম কথায় ধরেনি তখন। তা ‌আপনি এখানে স্যার?”
_“নাইট ওয়াকে বেরিয়েছি। রাতে বেশী খেয়ে ফেলেছি। আসছি!”
নাবিল গাড়িটা টেনে সামনে নিয়ে পার্ক করলো সেলুনের অপজিটের পার্কিং লটে। যেন সে ভীষণ ব্যস্ত সেলুনে ঢুকবে তাই অমন করে পা চালিয়ে ভেতরে ঢুকে বসলো।‌ সেলুনের কর্ণধার সুদীপ্ত ভৌমিক ভদ্রলোক সুলভ হেসে এগিয়ে এসে বসার জায়গা দেখিয়ে দিলো।
_“অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল আমার।”
_“জি। আগে বসুন। কফি?”
_“হু।”
খানিক বাদে কাঙ্খিত মেয়েটা এলো। তাকে এখানেই আসতে বলা হয়েছিল। সংকোচ মাখা হাতে কাঁচের দরজা ঠেলে রিসিপশনে ঢুকতেই নাবিলের সামনে পড়লো। আশেপাশে সতর্ক ভঙ্গিতে নজরপাত করে বসলো এসে নাবিলের সামনে। শাহিদ ব্যতীত আশেপাশে কেউ নেই। মেয়েটা নিজের পার্স থেকে ছোট্ট বক্সটা বের করে দিতে দিতে বলল,“আগেই ড্রাঙ্ক ছিল। আমার বিশেষ কিছু করতে হয়নি। নাবিল বস্তুটা হাতে নিয়ে চেক করলো। মেয়েটার কৌতুহলী নজর নাবিলের মুখ থেকে সরছে না। হুট করে বলল,
_“আপনার নাম্বারটা পেতে পারি!”
নিকষ কালো গম্ভীর চোখজোড়া তুললো নাবিল। দৃষ্টি মেয়েটার মুখেই স্থির রেখে বলল,
_“আপনার বিরুদ্ধে মামলাটা তুলে নেওয়া হবে। আমি আপনার জন্য এতটুকুই করতে পারবো! থ্যাংকস ফর ইয়র কোঅপারেশন। আপনি সবসময় সেইফ থাকবেন।”
হাসে মেয়েটা,বলে,“বুঝতে পেরেছি। আপনি কমিটেড!”
নাবিল জবাব হীন। মেয়েটা আশেপাশে তাকিয়ে বলল,
_“তো এক কাপ কফি?”
_“আপনার বিরুদ্ধে মামলাটা তুলে নেওয়া হবে। আমি আপনার জন্য এতটুকুই করতে পারবো!”
রাশভারী গলায় সেই একঢালা জবাব। আশা ছেড়ে দিয়ে উঠলো মেয়েটা। বিদায় নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেল সেলুন থেকে। 
হেয়ার স্টাইলিস্ট এসে খানিক বাদে জানতে চাইলো,“বলুন,কেমন লুক চাচ্ছেন স্যার।”
উঠলো নাবিল,“একজনকে আগে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। আরেকদিন আসবো।”
◻️
_“নাবিউল করীম খান। পুরো নাম এটা। অন্যকোনো নাম নেই। চব্বিসেই ইস্ট ওয়েস্ট থেকে স্নাতক সম্পন্ন। ২৬ ছুঁই ছুঁই তখন এই ছেলে সিভিল সার্ভিস এক্সাম দিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম যুবা ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পায়। আশেপাশে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই,পথে কোনো হতাশা নেই। বড়ো লোক বাপের তাগড়া ছেলে,যেন জন্মেছেই সফলতার সিঁড়িতে ধেইধেই করে চড়ার জন্য। বয়স সাতাশ বছর দুই মাস,তখন প্রশিক্ষণ শেষে এএসপি হিসেবে প্রথমেই যশোর পোস্টিং পেয়ে যায়। এরপর মাঠ পর্যায়ে দেড় বছরের চাকরির পরে সিআইডিতে যোগদান। এই দেড় বছরের চাকরিতে সে মোট তিন জায়গায় পোস্টিং পেয়েছে। যশোর, নীলফামারী, এবং চট্টগ্রাম। মোট তিনটা ইস্যু ছিলো। যশোরের সাব জজ আহমদ শরীফ মার্ডার ইস্যু, নীলফামারীর রেড হান্টার্স ইস্যু এবং চট্টগ্রামে তেরো কোটি টাকার একটা লিজ প্রোপার্টির ইস্যুতে একে ছয়মাস পরপর জায়গা বদলাতে হয়েছে। ঘাড় ত্যারা স্বভাবের জন্য কোথাও গিয়ে টিকতেও পারেনা। তবে সিআইডিতেও বেশিদিন টিকতে পারেনি এসে। মেজর আসিফ হত্যা মামলায় নাক ঢুকানোর জন্য ডিআইজি নিজেই ছাটাই করে দিয়েছেন। ঐ টিম ভেঙে গেছে। এরপর ঢুকেছে এসবিতে। এর স্বল্পদিনের ক্যারিয়ার চক্রটা যদি ঘেটে দেখো তবে বুঝতে পারবে। সমসাময়িক তরুনদের মধ্যে ভীষণ ঈর্ষা জাগানিয়া এক ব্যক্তিত্ব। দেখতে শুনতে ভালো। 
মার্জিত গম্ভীর চলন। চুলে পুলিশি কাট। দেখলে মনে হবে অতি সজ্জন ব্যক্তি‌। বাট ট্রাস্ট মি, জাত হারামি শুয়োরের বাচ্চা। হাড়ে বজ্জাত। কথা কম বলে তাই বোঝা যায় না। চট্টগ্রামের কাহিনীটা বলি,ত্রিশের শ্রমিক আন্দোলনের পরে, সরকারের গদি যখন নড়বড়ে তখন ওখানকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জোহা তেরো কোটি টাকার বন্দরের লিজটা স্বজনপ্রীতি করে অপজিশনের এহসানুল করিমকে দিয়ে দিয়েছে। দু'জন আবার ভায়রা ভাই। শালা তখন বুঝতে পারেনি সরকার নামবে না গদি থেকে । একত্রিশে যখন এক দফা মেনে নিয়ে সরকার গদি শক্ত করলো। এরপর শামসুজ্জোহা পড়েছে মাইনকার চিপায়। বেচারা সরকারি দলের চাপে ছিল খুব। নিজের চাকরি বাঁচাতে আজ এর পায়ে ধরে তো কাল এর পায়ে ধরে। এই সুযোগে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে শামসুজ্জোহার সুন্দরী বৌকে ভোগ করেছে আমাদের দলীয় কেন্দ্রীয় নেতা খসরু। চেনো তুমি,কানা খসরু নামে বেশি চিনে থাকবে। চট্টগ্রাম শাখার সেক্রেটারি। এই কাহিনীর পরে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব চুপ থেকেছেন নিজেদের জান আর চাকরি বাঁচাতে। এই হিরো গিয়ে এই ব্যাপারটাতেও নাক গলিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের বৌয়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েই তাৎক্ষণিক ভাবে এরেস্ট করিয়েছে খসরুকে। অথচ ওর ওপর সুপরিয়র থেকে চাপ ছিল। ইনফ্যাক্ট রাওনাফ করীমের কাছেও পঞ্চাশ লাখ টাকার অফার নিয়ে গিয়েছিলাম নিজের ছেলেকে সামলাতে। 
সেবার প্রাইম মিনিস্টার ছোট খাটো একটা ধাক্কা ভালোই খেয়েছিল এই নাবিউল করীম খানের জন্য। কারণ খসরু ছিল তার একনিষ্ঠ মুরিদ। 
ইচ্ছা করে শুয়োরটাকে উড়িয়ে দিই। কিন্তু দলের এই পরিস্থিতিতে এটা একটা ন্যাশনাল ইস্যু হয়ে যাবে। ও একা চললে কী হবে। ওর কানেকশন লম্বা। তাই দুইবেলা ওষুধ নিচ্ছি নিজের নার্ভ কন্ট্রোলে রাখতে। কদ্দিন পারি তা জানিনা। আল্লাহ জানে আমার মেয়েটাকে কী খাইয়েছে এ আর এর পরিবার।”
সৌপ্তিক হালদার গান নামিয়ে টেবিলে রাখে যেটা এতক্ষণ স্থির ছিল এই কক্ষের দেয়ালে সাঁটানো টার্গেট বোর্ডের মধ্যবর্তী জায়গায় আটকানো ফটোটাতে। বেশ কৌতুহল নিয়ে জানতে চায়,“নৌ পরিবহন মন্ত্রীর মেয়ের এমন একজন লোকের সাথে ঘোর প্রণয় হবার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।”
এ দফায় এই প্রশ্নে অতিরিক্ত বিরক্ত হলেন একরাম মাহমুদ। 
_“পিচ্চিকালের প্রেম। টিফিন আদান-প্রদান করতে করতে প্রেম হয়ে গেছে। দেড় বছরের চাকরিতে তিন জায়গায় পোস্টিং করালাম যাতে একটু ছুটাতে পারি দুইটাকে,কাজ হয়নি। আমার মেয়ে মস্ত আহাম্মক। মা মরা বলে চড়া হতেও পারছি না। বুঝালেও কাজ হয়না। একরোখা,জেদী। ঘেন্না করে আমাকে। একটু ঢংগী ঠিক মায়ের মতোই। ঐ ছেলেকে তার লাগবেই,নয়তো সে বিয়েই করবে না। সেদিন রাতে রেগে বলে দিয়েছি আমি,“ওকে বিয়ে করো না। তবে ঐ ছেলে নয়। অন্তত যদ্দিন আমার পাওয়ার পজিশন আছে। কম হিউমিলিয়েট হইনি আমি রাওনাফ খানের থেকে।”
সৌপ্তিক হালদার উঠে নাবিলের ছবিটা টানলো টার্গেট বোর্ড থেকে। গাম খুলে হাতে এলো ছবিটা। কতক্ষন চেয়ে থেকে বলল,“জামাই হিসেবে মন্দ হতো না আমাদের। মেয়েরা কি যেন বলে? ড্যাশিং। হ্যাঁ ভীষণ ড্যাশিং সে।”
একদলা থুথু জমেছে একরাম মাহমুদের মুখে।
_“তুমি আমার মেজাজ গরম করিয়ো না তো। ওর বাপটাকে যাস্ট সহ্য হয়না। মুখটা দেখলেই আমার ছয় কোটির কথা মনে পড়ে। যেটা ঐ লাইফকেয়ার হসপিটালের নিচে আটকা পড়ে আছে। অথচ আমার হাতে বিল্ডার্স এখনো রয়েছে,তারা একশো বিশ কোটির প্রজেক্ট নিয়ে রেডি। একটু গ্রিন সিগন্যাল পেলেই লাশ ফেলার দায়িত্ব তাদের। আমার পকেটে যেতো কত আন্দাজ আছে? মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু করতে পারছি না। মায়ের মতো সুইসাইডাল স্বভাবে। আচ্ছা,কাজের কথা বলো‌!”
_“কাজের কথা এতো বলার কিছু নেই। পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকার মাল আঁটকে আছে। তুমি গ্রিন সিগন্যাল দিলে বারো কোটি তোমার। থরে থরে আসবে টাকা। আমার মনে হয়না বিগত দশকে তুমি এই ধ্বংসাবশেষ থেকে এতটা কামাতে পেরেছো।”
একটু থামে সৌপ্তিক হালদার। প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে আবার হাতের ফটোতে আনে,
_“ফাবিয়াকে রাজি করাও। মার্টিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে বলেছে। সামনের মাসে আসবে। এটা যে তোমার আমার জন্য কতটা লাভজনক হবে ভাবতেও পারছো না। মার্টিনের বাবা ইয়েস কার্ড দিয়ে দিলে তুমি আর তোমার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার সিকিউরড আজীবনের জন্য! সোজা ইউএসএর সাথে কানেক্ট হয়ে যাবে। কেউ বালও ছিঁড়তে পারবে না।”
একরাম মাহমুদের মুখটা থমথমে। বিষয়টা স্বপ্নের মতো। তিনি রোজ স্বপ্ন দেখেন তিনি রাজ করবেন সর্বোত্র। কিন্তু মেয়েটার জন্য সেটা সম্ভব হবে বলে মনেও হয়না। তবে আঙুল তিনি একবার বাকাবেন। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে একটু চেষ্টা তো করতেই হবে।
_“মার্টিন কবে আসবে? ভিক্টর বলেছে কিছু?”
_“সপ্তাহ দুয়েক পরে।”
ফোন বাজে হঠাৎ,কথা থামিয়ে একরাম মাহমুদ ফোনটা কানে চাপতেই কেয়ারটেকার বলল,“স্যার আপামনি বাড়িতে এসেছে। নাবিউল করীম সাথে ছিল।”
_“ঐ শুয়োরের বাচ্চা বাড়িতে ঢুকছিল?”
_“না স্যার। আপামনিকে গভর্নেসের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছে।”
◻️
দরজাটা খুলেছে রাওনাফ। উর্বীও হাই তুলতে তুলতে নিচতলায় নেমেছে। রাওনাফকে এড়িয়ে প্রশ্ন করলো নাবিলকে,
_“কিছু খাবে? বানিয়ে দেবো? নাকি এখন ভাত খাবে!”
_“অল্প ভাত খাবো।”
উর্বী হেসে মাথা দুলিয়ে কিচেনের কাছটাতে যায়। রাতে চিকেনের একটা পদ করেছিল সেটা গরম করতে। রাওনাফ ছেলের মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল,“তোমাদের কারণে ইদানিং আমার রাতে ঘুম হচ্ছে না।”
_“কাজ ছিলো অফিশিয়াল।”
সোফা ঠেশে বসে বুটের ফিতা খুলতে খুলতে ক্ষীণ জবাব নাবিলের। রাওনাফ সামনে গিয়ে বসলো,“ব্যাস? শেষ জবাব? একটু সবটা খুলে বললে কষ্ট হয়ে যায়?”
_“ঠিক কিসের জবাবদিহিতা চাইছো তুমিও বললে না। অফিসের ব্যাপারে হলে ইটস্ ভেরী ভেরী রিস্কি টু টেল ইয়ু এনিথিং। বলবো না আমি। আর যদি প্রসঙ্গটা ফাবিয়া হয় তবে সে সেইফ এন্ড ফাইন। উই আর কানেক্টেড টু ইচ আদার! উই আর টোটালি ফাইন।”
_“তো একটা কনক্লুশনে তো আসতে হবে! আমার ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে! তোমরা রীতিমতো আমার সাথে ফাজলামি করছো!”
রাওনাফের গলা খানিকটা চড়ে আসতেই উর্বী তাড়াহুড়ো করলো,নাবিলকে টেনে নিতে বলল,“নাবিল হাত ধুয়ে বসো তো।”
নাবিল হাত ধুয়ে একটা প্লেট তুলে কিচেনে চলে যায় সরাসরি। উর্বী চমকে বলে,“আরে তুমি বসো। আমি সব নিয়ে আসছি ওখানে।”
_“অল্প খাবো মামুনি। এতো আনুষ্ঠানিকতার কিছু নেই। এই প্লেটে তুলে দিন আপনার আন্দাজ মতো।”
উর্বী তাই করে। তরকারি দিতে দিতে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে,যত দিচ্ছে মনে হচ্ছে নাবিলের কম পড়ে যাবে। তাই আরো দিচ্ছে। নাবিল এক ধ্যানে মোলায়েম মুখটা দেখলো কতক্ষণ। অদূরে থমথমে মুখে বসে থাকা স্বামীর মুখে দৃষ্টি স্থির রেখে ফিসফিসিয়ে বলে,“তোমার পাপার কাছে কেউ বলেছে ফাবিয়া অন্য ছেলের সাথে ক্লাবে। তাই মাথা গরম হয়ে আছে।”
নাবিল খেতে বসেছে। উর্বী পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আচমকা কাঁধে একটা ছোট্ট নরম হাতের স্পর্শে মুখে লোকমাটা তুলতে গিয়েও থামে নাবিল। পরপর হাতটাকে বলিষ্ঠ হাতে টেনে এনে শরীরটা কোলে বসিয়ে বলল,“জেগে আছিস। তোর পাপা এই দোষটাও আমার ঘাড়ে দেবে!”
রাহার চোখে ঘুম যদিও। পিট পিট করে তাকিয়ে আছে তবুও। বিছানা খালি পেয়ে করিডোরে এসে দাদা ভাইয়ার গলা শুনেই এখানে নেমেছে। 
_“তো কার ঘাড়ে দেবো দোষ? তোমার জন্যই তো জেগে আছে! দিনে সময় দিতে পারছো না বোনকে! ফ্যামিলিকে!”
রাওনাফ গম্ভীর জবাব দিয়ে টিভিতে মনোযোগ ভিড়াতেই নাবিল লোকমা তুলে রাহার মুখের সামনে ধরে। লক্ষী মেয়ের মতো টুপ করে লোকমাটা মুখে নিয়ে রাহা হাসছে। জানতে চাইলো নাবিল,
_“ক্লাস টেস্টের রিপোর্ট?”
নাবিলের প্রশ্নের জবাব উর্বী দেয়। ছুটতে ছুটতে দোতলায় উঠে টেস্ট পেপার এনে নাবিলের হাতে ধরিয়ে নালিশের মতো করে বলল,“জিরো। হাসছে দেখো আবার।”
খেতে খেতে নাবিল টেস্ট পেপারে নজর বুলিয়ে ধীরে জবাব দিলো,“অন্তত সে চেষ্টা করেছে। প্রোগ্রেস দেখুন মামুনি। কাটাকাটি করে পাঁচের অধিক সময় রেজাল্ট মেলানোর চেষ্টা করেছে। এন্ড দ্যাটস এনাফ।”
রাহা দাদা ভাইয়ার কথায় লাই পেয়ে মাম্মার মুখে তাকিয়ে হাসে দুষ্টু হাসি। নাবিল ওর মুখে আরেক লোকমা তুলে দিয়ে বলল,“আমি ভীষণ খুশি আপনার চেষ্টা দেখে। বলুন কী লাগবে সানশাইন?”
রাহা অবলীলায় বলল,“ঐ বার্বিটা,পাপা দেয়নি যেটা। বলেছে পুরনো বার্বিটা রিসেল না করা অবধি নতুনটা নেয়া যাবে না। কিন্তু আমার দুটো বার্বিই চাই।”
_“হুমমম। মঞ্জুর। আর!”
_“আর কিছু না।”
দাদা ভাইয়াকে আগলে ধরে বসে আছে রাহা। ছাড়বেই না। নাবিলও ছাড়তে দেয় না। চোখ তুলে মামুনিকে ইশারা করতেই উর্বী এসে নাবিলের হাত ধুতে পানি দিলো প্লেটেই। টিস্যু এনে দিলো। বোনকে গলায় ঝুলিয়ে নাবিল ধীরপায়ে গিয়ে বসলো পাপার পাশে। রাওনাফ ছেলের মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে পুরনো গম্ভীরতাটুকু সরিয়ে টিভির চ্যানেল চেঞ্জ করে দিয়ে বলল,“এখন না ঘুমিয়ে এখানে বসে কী করছো?”
রাহা ঘুমিয়ে গিয়েছে আবার,দাদানের বুকে। নাবিল পাপার প্রশ্নের জবাবে বলল,“পরিবারকে সময় দিচ্ছি।”
উর্বী বাবা ছেলের জন্য কফি নিয়ে নিজেও বসে পড়লো সাথে। রাত্তির আড়াইটা তখন। রওশান মঞ্জিলের লিভিং এরিয়া জমকালো হয়ে আছে। রাওনাফ করীম খান আর তার স্ত্রী মশগুল হয়ে উঠেছে পলিটিক্যাল টকশো নিয়ে। তাদের কফি ফুরিয়েছে। ঠান্ডা হয়ে আছে নাবিলের কফি। কারণ তার হাত দুটোর একটা বোনকে বুকে চেপে রেখেছে,আরেকটা হাত বোনের মাথায়। 
ফাবিয়া ভেবেছিল ঐ হুতুম পেঁচা মার্কা রাগ আজকের রাতের আগে অন্তত নামবে না। কিন্তু ওকে ভুল প্রমাণিত করে শেষ রাতে কলটা বাজে। তখন রাত তিনটা প্রায়। শাওয়ার নিয়ে বসেছে নাবিল। তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ফাবিয়া নিজের দিকে তাকালো শুরুতেই। গায়ে অফ হোয়াইট রঙের পাতলা একটা নাইটি মাত্র। এ অবস্থায় কল রিসিভ করবে না আর হাতে অত বেশী সময়ও নেই ড্রেস চেঞ্জ করার। তাহলেই এই লোক ফোন অফ করে নিজের কাজে ডুব দেবে। এরপর সারাদিন ঘুমাবেন। কাল বিকালের আগে আর হাতের নাগালে পাওয়া যাবে না। ফাবিয়া সেকেন্ডে ভেবে পায়ের কাছ থেকে চাদরটা টেনে নিয়ে শরীর ঢেকে রিসিভ করলো কলটা। ঐ মুখটা দেখবে বলে ঘুমায়নি তখন থেকে।
নাবিল চুপচাপ তাকিয়ে আছে। ভেজা মাথা মুছে তোয়ালেটা গলায় ঝুলিয়ে রেখেছে। অস্থির গলায় জানতে চাইলো ফাবিয়া,“বাসায় গিয়েছো?”
নাবিল জবাব না দিয়ে ধীর গলায় বলল,“হাত দেখাও!”
ফাবিয়া ব্যান্ডেজে মোড়ানো হাতটা তুলে দেখালো। 
_“পেইন কিলার কোনটা নিয়েছো দেখাও। সাথে কী ওষুধ নিয়েছো? দেখাও।”
ফাবিয়া ওষুধের পাতাটা উঁচু করে ধরলো বাধ্য মেয়ের মতো। ও বুঝতে পারছে এতটুকু জানতেই কলটা করা। ল্যাপটপ টেনে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো নিজেকে সামলে। বলল,
_“এতটুকু জানতেই কল করেছো? রাখবে এখুনি কলটা? কাজ আছে তোমার? রেগে আছো এখনো? আর কখনো যাবো না তোমাকে না বলে।”
নাবিল ওসব কথারও ধার না ধেরে বললো,“Close your eyes!”
_“তারপর?”
_“অ্যান্ড দ্যাটস অল! এতটুকুই।”
ফাবিয়া বাধ্য মেয়ের মতো চোখ বুজিয়ে আছে। নাবিল বলে উঠলো খানিক বাদে, স্পষ্ট করে,“বিয়ের কথা ভাবি এবার? তোমাকে অনেক সময় দেয়া হয়েছে। ইটস্ টাইম টু মেইক আ গ্রেট ট্রান্জিশন।
_“কিসের ট্রান্জিশন? ফ্রম হোয়ার টু হোয়ার?”
ফাবিয়ার গলায় অবাকের সুর। নাবিল গলাটা খাদে নামিয়ে রেখেই বলল,
_“ফ্রম আমি যেটা এখন বলতে পারছি না যে “অফ হোয়াইট তোমার গায়ে ফোটে না। ইয়ু শ্যুড ওয়্যার ল্যাভেন্ডার অ্যাট নাইট” টু আমি একদিন বলতে পারবো যে,“ইয়ু হ্যাভ টু ওয়্যার ল্যাভেন্ডার এট নাইট।” আই যাস্ট ওয়ানা দিস কাইন্ডা ট্রাঞ্জিশন বিটুইন আস।” 
ফাবিয়া দম আটকে শুয়ে থাকে চুপচাপ। 
নাবিল আরেকটু ঝুকলো স্ক্রিনে, গম্ভীর মুখ আর চওড়া কপাল শিথিল হয়ে এলো ক্রমশ,“বোঝোনি? বাংলায় ভেঙে ভেঙে বলি?”
_না,হু।
একবার না বোধক, একবার হ্যাঁ বোধক দোলাল মাথা। নাবিল নিঃশব্দে হাসে অল্প। বলে,
_“আমি তোমাকে এখন বলতে পারছি না যে রাতে তোমার ল্যাভেন্ডার রংটা পড়া উচিত। পারছি না ফাবিয়া। কিন্তু আমি কখনো তোমাকে শুধু বলবোই না বরং জোর করবো,ধমকাবো,লিটারেলি বাধ্য করবো,তুমি বাধ্য থাকবে,তুমি অসহায় রকমের বাধ্য থাকবে এই রংটা রাতে পড়তে। এতটুকুই রুপান্তর চাই সময়ের,আমাদের মাঝে। অনেকটা সময় দিয়ে ফেলেছি তোমাকে, অহেতুক।”
এরপর আর ফাবিয়ার চোখ মেলার শক্তি এমনিতেই নেই। কেবল চাদর টেনে নাইটির গলার কাছটাও ঢেকে নিলো। নাবিল তখন কলটা কেটে দিবে বলে হাত বাড়ালো,খসখসে গলাটা নেমে এলো খাদে,“গুড নাইট। কাজে বসবো আমি। এন্ড ডোন্ট ইয়ু ডেয়ার টু ওপেন ইয়র আইজ! বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে না,বাট আই হ্যাভ টু সি মাই মুন‌। গিভমি ফাইভ মিনিটস,গিভ মি ইয়র সাইলেন্স। আমি আসলে চুপচাপ চাঁদ দেখতে ভালোবাসি।”
#চলমান…..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন