পর্ব-১
মামি আমাকে কিছু খেতে দাও না?”
মিহির কথা শেষ হতে না হতেই মিহির মামি মিহির গালে ঠাসস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন। কিঞ্চিত রেগে গিয়ে বললেন__
"অলক্ষ্মী মেয়ে একটা। সারাদিন শুধু খাওয়া খাওয়া করিস।আর কতো খাবি রে? মা কে খেয়েছিস,বাপ কে খেয়েছিস,আর কি কি খাবি বল তো? আমি কি এইখানে খাবারের ভান্ডার খুলে বসেছি? আমি যখন তখন তোকে খেতে দিতে পারবো না।দূর হ চোখের সামনে থেকে।”
কথাটা বলেই মিহির মামি হনহনিয়ে রুমের ভেতর চলে গেলেন। মিহি বারান্দায় ছিল এতক্ষন। মামি চলে যেতেই গালে হাত দিয়ে বারান্দায় বসে পরল। আকাশের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। বাচ্চা মেয়েটার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। আকাশ অনেক তারার ভেতর একটি তারা বেশি চকমক করছে।অশ্রু সিক্ত নয়নে আকাশের সেই চকমক করতে থাকা তারা দেখে মিহি হাত দিয়ে চোখের জল মুচে নিলো। এরপর তারার দিকে তাকিয়ে একা একাই বলতে লাগল__
"ও মা, মা মিহি কি তোমায় খেয়ে ফেলেছে মা? মামি বললো মিহি নাকি তোমায় খেয়ে ফেলেছে। মিহি তোমাকে কি তরে খেয়ে ফেলেছে মা ? তুমি কি আর মিহির তাছে আসবে না? সবার মা আছে কিন্তু মিহির মা নেই। কারণ মিহি তো মিহির মাকে খেয়ে ফেলেছে। ও মা তুমি আমার তাছে এতটু ফিরে এতো না? আমি আর তোমাকে খাবো না মা”
আকাশে দিকে তাকিয়ে একা একাই তারা কে নিজের মা মনে করে কথা বলতে থাকা মেয়েটার নাম মিহি। বয়স বেশি না মাত্র পাঁচ বছর হবে। ছোট্ট মিহি থাকে ওর মামীর কাছে। মিহি কে জন্ম দিয়ে ওর মা মিরা মারা গিয়েছেন। মিহির মায়ের মৃত্যুর শোক ভুলতে না পেরে মিহির জন্মের এক মাস পর মিহির বাবা ও মারা যান।এরপর থেকেই মিহি তার মামার বাড়িতে থাকে। মিহির মামী শারমিন মিহিকে দুচোখে দেখতে পারেননা। আজকালের দিনে কি পরের মেয়েকে কেউ পালতে চায়? এই কারণে ছোট থেকেই মিহিকে অনেক অত্যাচার করে এসেছেন তিনি। মিহির মামা আমজাদ আলী অনেক বছর আগেই বিদেশে পারি জমিয়েছেন। মিহির একটা মামাতো ভাই আছে, ওর নাম রাজ। বয়স ৮ বছর। পড়ে ক্লাস থ্রি তে।
”আর কতদূর ভাই ? কই নিয়ে আসলি আমাকে? এই গ্রামে এতো অন্ধকার কেনো? সবাই কি সন্ধে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে? তোর দাদুর বাড়ির চক্করে বাবার কাছে বকা শুনবো। বাড়ি যাবো চল তাড়াতাড়ি”
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কথাটা বললো রিদ। রিদের কথা শুনে ওর বন্ধু অভ্র ঠান্ডা গলায় বললো__
"রিদ রিল্যাক্স ইয়ার যাবো তো! আংকেল কিছু বলবে না। আর এই গ্রামটা এমনই সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে যায় কোনো মেয়ে বাড়ি থেকে বের হয় না।”
অভ্রর কথায় রিদ আর কিছু বললো না। রিদ ভালো ভাবেই জানে এখন কিছু বলেও লাভ হবে না। বাড়ি গিয়ে পাপার কাছে বকা শুনতে হবে এটা ও ১০০% সিউর।
আজকে শুক্রবার ছিলো। অভ্র রিদকে নিয়ে ওর দাদুর বাড়িতে এসেছিল। অভ্রর দাদুবাড়ি গ্রামে। যার কারণে সকালেই এসেছিলো। কিন্তু এখন বাড়ি যেতে যেতে সন্ধ্যা লেগে গিয়েছে। গ্রামটা একদম নির্জন আর শান্ত। মনে হচ্ছে একটা জনপ্রাণী ও নেই। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত, মাঝেমধ্যে কাঁচা রাস্তা আঁকাবাঁকা হয়ে চলে গেছে। দূরে কেরোসিন বাতির মৃদু আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওইদিকটাই কেউ রয়েছে। ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
গ্রামের রাস্তা অনেক খারাপ তার উপর আবার কালকে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল , রিদের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। রিদ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে কপাল কুঁচকে অভ্রকে বললো__
"ভাই আমি আর হাঁটতে পারছি না। একটু বসবো আমি। পা ব্যাথা করছে।"
"আচ্ছা সামনে চল ওইখানে একটা মোটা গাছের ডাল কাঁটা আছে বসার জন্য ,ওইখানে বসিস"
অভ্র রিদের উদ্দেশ্য কথাটি বলল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই গাছের ডাল অব্দি পৌঁছে অভ্র আর রিদ দুজন মিলে রাস্তার পাশে কেঁটে রাখা মোটা গাছের ডালে বসলো। ডালে বসতেই ডালটা মটমট শব্দ করে উঠলো মনে হলো এক্ষুনি ভেঙে পড়ে যাবে। রিদ তাড়াহুড়ো করে উঠে দাড়ালো ভয়ে।
রিদকে এভাবে উঠে দাঁড়াতে দেখে অভ্র মৃদু হেসে বললো__
“ভয় পাস না ভাঙবে না। ধরে বস”
এইদিকে
মিহি খিদের জ্বালাই ছটপট করতে থাকে , বেচারী সকাল থেকে তেমন কিছু খাই নি। মিহি বাহিরে চলে আসলো। সামনে একটা বাড়ি। মিহি ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো বাড়িটির দিকে। মিহি দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললো__
“আমাকে এত্তু থেতে দাও কাকি”
কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সারা শব্দ আসলো না। মিহি অনেকক্ষণ ডাকলো। কিন্তু কেউ এলো না। মিহি সেখান থেকে চলে যায়।
মেয়েটা হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে চলে আসে। মিহির চোখ যায় দূরে একটা ডালে দুটো ছেলে বসে আছে। মিহি গুটিগুটি পায়ে ছেলে দুটোর কাছে এগিয়ে যায়।
অভ্র দেখতে পায় একটা বাচ্চা মেয়ে ওদের কাছেই আসছে। মেয়েটাকে দেখে অভ্রর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। এতো সুন্দর বাচ্চা ও এর আগে কখনো দেখে নি। বাচ্চা মেয়েটা একটা গোলাপী রঙের বেবি শার্ট পড়েছে শার্ট টা হাঁটু অবধি এসেছে। আর লম্বা লম্বা চুলগুলো ২ দিকে জুটি করা। অভ্র অবাক হলো মিহির চুল দেখে। বাচ্চা মেয়েদের চুল কখনো এতো বড়ো হয়? অভ্র দেখলো মেয়েটার চোখের মণি নীল রঙের। গায়ের রং ধবধবে ফর্সা, অভ্রর কাছে মনে হলো জ্বলজ্যান্ত একটা পুতুল সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে অজান্তেই বলে উঠলো
"মাশাআল্লাহ আল্লাহর সৃষ্টি কি সুন্দর"
পরক্ষণেই অভ্রর মনে হয় এটা কোনো ভূত না তো? কারণ এই গ্রামে কোনো মেয়েই সন্ধ্যার পর বের হয় না তাহলে এই বাচ্চা মেয়েটি এই সন্ধ্যা বেলা একা একা ঘুরছে কেনো? অভ্র ভিতু দৃষ্টিতে মিহির দিকে তাকালো।
এরপর চিল্লিয়ে বলে উঠলো__
"রি রিদ ভূত ভূত"
রিদ এতোক্ষণ অন্য দিকে তাকিয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। রিদের এইদিকে কোনো খেয়াল ছিলো না। অভ্রর চিল্লানি শুনে রিদ ঘুরে বসলো। অভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো__
"কি হয়েছে?"
"দে দেখ মামা ওইখানে একটা ভূত দাঁড়িয়ে আছে"
অভ্রর কথায় রিদ মিহির দিকে তাকালো। রিদ দেখতে পেলো একটা পুতুলের মতো বাচ্চা রেগে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে যেনো জলজ্যান্ত একটা পুতুল। রিদ মেয়েটার তাকানোর ভঙ্গি দেখে হেসে দিলো।
মিহি এতক্ষন ধরে অভ্রর কথা শুনলো। মিহির খুব রাগ হলো ওকে ভুত বলাতে। মিহি কি ভুত? তাহলে মিহিকে ভুত বললো কেনো? মিহি মুখ ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করে__
“আমাকে ভূত বলছো কেনো?আমি কি তরেছি?তোমাল ঘাড় মোতকিয়ে দিয়েছি?"
মিহির আধো আধো কথা শুনে অভ্র আর রিদ হাসলো। অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে বললো__
“ও তুমি ভুত না? আমি তো ভাবলাম তুমি ভুল পিচ্চি ভুত। আমাদপর ঘাড় মটকাতে এসেছো”
মিহি আবারো মুখ ফুলিয়ে নিলো। ও কি দেখতে ভুতের মতো? মিহির খুব রাগ হলো অভ্রর উপর। রিদ অভ্র আর মিহির কথা শুনছে খুব মনোযোগ দিয়ে। মিহি অভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো__
_"আমি ভুত না তুমিই ভুত হু”
অভ্র মিহির কথা শুনে হেসে দিলো। ওর এতোক্ষণে ভয় দূর হয়ে গেছে। ও বুঝতে পরেছে এটা কোনো ভুত নয়,এটা একটা মিষ্টি পুতুল। অভ্র মিহির কাছে এসে মিহিকে নিজের কোলে তুলে নিলো। এরপর মিহির হাতে একটা চুমু দিয়ে বললো।
_"এই সময় বাহিরে এসেছো কেনো ভূত? তোমার মতো মিষ্টি ভুতকে নিয়ে যদি কেউ পালিয়ে যায়, তখন কি হবে?
_"আমার খিদে পেয়েছে জানো? মামী আমাকে খেতেই দিচ্ছে না। কতো তরে বললাম মামি আমাতে থেতে দাও। তিন্তু মামি বললো আমি নাকি মাকে থেয়ে নিয়েছি। বাবাকে থেয়ে নিয়েছি। আমি কি তরে আমার বাবা মাকে থেয়ে নিয়েছি বলো?”
মিহির কথাগুলো অভ্র আর রিদ শুনলো। ওরা বুঝতে পারলো মিহি হয়তো মিহির মামা বাড়িতে থাকে। আর মিহির মামি মিহিকে পছন্দ করে না। এইটুকু বাচ্চা মেয়েকে কি কি বুঝিয়েছে ভাবতেই কেমন যেনো লাগছে। বাবা মা মারা গেছে এতে বাচ্চাটার কি দোষ? রিদ ওর পকেটে হাত দিয়ে দেখলো একটা চকলেট আছে।
পকেটে সব সময় চকলেট থাকে , কারণ ওরা সিগারেট খায়, আর সিগারেট খাওয়ার পরে একটা করে চকলেট খায় এতে মুখে সিগারেটের গন্ধ থাকে না। রিদ চকলেটটা মিহির হাতে দিলো
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে বললো __
"এতা তো তোমাল আমি তেনো নিবো?”
রিদ মুচকি হেসে বললো__
_"আমি তোমাকে দিচ্ছি তুমি নাও। কেউ কিছু ভালোবেসে দিলে নিতে হয়”
মিহি রিদের কথা শুনে চকলেটটা নিয়ে ডালের উপর বসলো। রিদ আর অভ্র গিয়ে মিহির কাছে বসলো। মিহি রিদকে ওর চকলেটটা এগিয়ে দিয়ে বললো__
“ এত্তটু খুলে দাড ”
রিদ চকলেট খুলে ওর হাতে দিল। মিহি খিদের জ্বালায় অতি দ্রুত চকলেটটা মুখে পুরল। অভ্রর মনে হলো এই পুতুলটাকে যদি সে নিজের সাথে করে নিয়ে যেতে পারত তাহলে কতো ভালো হতো।
হঠাৎ এক ঝলক হিমেল হাওয়া বয়ে গেল চারদিকে। গাছের পাতাগুলো মড়মড় শব্দ করে উঠল। আকাশে মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জন জানান দিল প্রবল বৃষ্টি আসছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে না আর। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ তীব্রতর হলো।রিদ আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত স্বরে বলল
“অভ্র বৃষ্টি নামবে। তাড়াতাড়ি চল, দেরি করলে বাসায় পাপা টেনশন করবে।”
রিদের কথায় অভ্রর ধ্যান ভাঙলো। অভ্র মিহির দিকে তাকালো তারপর আলতো করে মিহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো
“এখন বাসায় যাও ভুত। আমরা আবার আসবো তোমার সাথে দেখা করতে”
মিহি কিছু বলতে নিবে এমন সময় বাতাসে মিহির চোখে এসে কিছু একটা পড়লো। মিহি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নিলো। চিৎকার দিয়ে উঠলো মেয়েটা। মিহির চিৎকারে অভ্র এবং রিদ দুজনেই ভয় পেয়ে গেলো। ওরা বুঝতে পারলো না মিহির কি হয়েছে। মেয়েটা এভাবে চিৎকার করলো কেনো? রিদ তাড়াহুড়ো করে মিহিকে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো।
“ কি হয়েছে ? দেখি আমাকে দেখতে দাও”
মিহি চোখ ডলতে ডলতে বললো “চোখ খুব জলতে।”
রিদ মিহির হাত ওর চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে নরম গলায় বললো “আচ্ছা আমাকে দেখতে দাও। এখনি ঠিক হয়ে যাবে”
রিদ মিহিকে ভালো করে নিজের কোলে বসিয়ে নিয়ে ওর চোখে ফুঁ দিয়ে দিলো। পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে আলতো করে মিহির চোখে থাকা ময়লা বের করে দিলো।
“এখনো কি চোখ জ্বলছে?”
রিদের কথায় মিহি মাথা দুপাশে নাড়িয়ে বললো “না আর জ্বলচে না”
মিহির কথায় রিদ মুচকি হাসলো। রিদকে হাসতে দেখে অভ্র বললো ”নাটকের শেষ নাই”
রিদ অভ্রর দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো “চুপ শালা”
মিহি টুপ করে রিদকে একটা চুমু দিলো। রিদ মিহির দিকে তাকিয়ে হাসলো। মিহির গাল টেনে দিয়ে বললো ”আমিও চুমু দেই?”
মিহি ওর দুই গাল ধরে বললো ”না চুমু দিও না” রিদ হেসে বললো” না না আমি চুমু দিবোই”
মিহি নিজের গাল দুহাত দিয়ে শক্ত ধরে আছে। রিদ জোড় করে মিহির গালে একটা চুমু একে দিলো। মিহি খিলখিল করে হেসে উঠলো।
একটু দূরে বড় একটা পুরনো আমগাছের নিচে কয়েকজন লোক গোল হয়ে বসে আছে। সামনে একটা ছেঁড়া তাসের প্যাকেট ছড়িয়ে রাখা, মাঝখানে রাখা কিছু টাকা। পাশে মাটির উপর একটা হারিকেন জ্বলছে। তার হলুদ আলোয় সবার মুখ আধো আধো দেখা যাচ্ছে। লোকগুলো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসব খেলছে। গ্রামের ভাষায় এই খেলাকে জুয়া খেলা বলে।
হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন, যার নাম রহমত হাতের তাসটা ফেলে দিয়ে অন্ধকারের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। সামান্য দূরে রাস্তার ধারে কাটা গাছের ডালটার ওপর রিদ আর অভ্রর অবয়ব দেখা যাচ্ছে। রহমত দেখল রিদ মিহির গাল টেনে তাকে আদর করছে। কিন্তু নেশাগ্রস্ত আর কুটিল মস্তিকের রহমতের চোখে সেই পবিত্র দৃশ্যটা ধরা দিল নিকৃষ্ট রূপে। সে পাশের জনের গায়ে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো
“ওই দেখ।পোলা দুইটা ওই একরত্তি মাইয়াডারে নিয়া নির্জনে কী করতাছে৷ দেখছস পোলাডা তো মাইয়াডারে কোলে নিয়া খারাপ ইঙ্গিত দিতাছে।”
তার কথায় বাকি লোকগুলোরও দৃষ্টি সেদিকে ঘুরে গেল।
হারিকেনের ক্ষীণ আলো আর দূরের অন্ধকারের ফাঁক দিয়ে তারা দেখতে পেলো দূরের ভাঙা গাছের ডালে একটা বাচ্চা মেয়ে এবং দুইটা ছেলে বসে আছে। মেয়েটা একটা ছেলের কোলে বসে আছে।
কয়েকজনের ঠোঁটে কেমন যেন বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। একজন বললেন
“ভাইজান ওইডা মিহি না? ওই যে হেতি হের মামির লগে থাহে”
লোকটার কথায় একজন সম্মতি দিয়ে বললেন
”হ হঠিক কইছেন মাইয়াডা ভালোই পাকনা। এই রাত্তিরে দুইডা পোলা লইয়া বইসা আছে। এহন থেইকাই এমন না জানি বড়ো হইলে কেমন হইবো।”
“এই পোলা দুইডার মধ্যে একটারে চিনি ওই যে ওইডা হইতাছে সালামত মিয়ার নাতী। আরেকটা রে চিনি না”
রহমত বলে উঠলো
“ভাই, অনেক দেখতাছি। চলেন ওগো যাইয়া কিছু কইয়া আসি। এমন নষ্টামি তো মাইনা নেওয়া যায় না। এই মাইয়ার দেখাদেখি অন্য মাইয়ারাও বিগড়াইবো।”
“হ ঠিক কইছস। পোলাপান তো দিন দিন ব*ল পাকনা হইতাছে। এখন যদি শাসন না করি, তবে তো গেরামের নাম ডুববো।”
লোকগুলো দলবেঁধে এগিয়ে গেলো রিদ আর মিহির দিকে। তাদের হাতের হারিকেনটা দুলছে রিদ দূর থেকে দেখতে পেলো। ও তাড়াতাড়ি করে মিহিকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো। লোকগুলো কাছে পৌঁছাতেই একজন চিৎকার করে তেড়ে এলো
“এইখানে কী তামাশা হচ্ছে? এই মাইয়ার সাথে কী কুকাম করতেছো তোমরা?”
রিদের মেজাজ এমনিতে তিরিক্ষি হয়ে ছিল। সে বিরক্ত স্বরে জবাব দিল “কি বলতে চাইছেন আপনি? ভালো করে কথা বলেন। কি করতে যাব আমরা?”
“তর্ক করো আমাগো লগে? এই মাইয়া তোমাদের কে হয় শুনি?”
অভ্র পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সামনে এগিয়ে এল। ও নরম গলায় বোঝানোর চেষ্টা করল
“আরে চাচা, আমরা তো এখানে বসে ছিলাম। পিচ্চিটা আমাদের কাছে এসেছে। তাই ওর সাথে একটু কথা বলছিলাম। আপনারা ব্যাপারটাকে এভাবে খারাপ ভাবে নিচ্ছেন কেন?”
দলের মধ্যে থাকা বয়স্ক একজন লোক অভ্রর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন
“ওই অচেনা পোলারে চিনি না হের কথা বাদ দিলাম। কিন্তু তুমি তো অভ্র তুমি তো জানতা এই গেরাম কেমন। এইখানে বাইরের পোলার লগে মাইয়া মাইনষের এমন ঘেঁষাঘেষি চলে না। মাইয়া ছোট হোক বা বড় পরপুরুষ তো পরপুরুষই। নিজের আপন বাপ চাচা হইলে আলাদা হিসাব ছিল। তার ওপর এই রাইতে পথে এমন কইরা বইসা আছো এইডা কেমন দেখায়? গেরামের একটা মান-সম্মান আছে না?”
“লোকগুলোর কথা শুনে রিদ বললো
“আজব কথা ভাই। আপনাদের কি মাথার প্রবলেম নাকি? কিসব উল্টা পাল্টা বলছেন? একটা বাচ্চা মেয়ে ও ওর সাথে আমরা কি ঘেঁষাঘেঁষি করবো?”
লোকটা রেগে গিয়ে রিদকে বললেন_ ”এই চোপ একদম আমরা কি ঘাসে মুখ দিয়া চলি? আমরা নিজের চোখে দেখছি তোমরা মাইয়াডার লগে নষ্টামি করতাছো”
লোকটার কথা শুনে রিদের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। অভ্র চোখের ইশারায় রিদকে চুপ করতে বললো। রিদ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। অভ্র লোকগুলোর উদ্দেশ্যে বললো
“মাথা ঠিক আছে আপনাদের? ও একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে। ওর সাথে আমরা কি নষ্টামী করবো? আমরা ওইখানে বসে ছিলাম তখন মেয়েটা এসে আমাদের সাথে কথা বললো। বাচ্চা মানুষ তাই রিদ আদর করে একটু চুমু দিয়েছে এতে খারাপ কি?”
"বেশি ঘুরাবুজ আমাদের দিতে আইসো না। তোমরা কি করতাছিলা সেইডা আমরা দেখছি।”
লোকগুলোর কথা শুনে অভ্র আকুতি মিনতি করে বললো_
"চাচা বোঝার চেষ্টা করেন। মেয়েটাকে চিনি না আমরা। আমরা ওর সাথে কোনো খারাপ কিছু করি নি। আর সব থেকে বড়ো কথা মেয়েটা একটা বাচ্চা ওর সাথে আমরা কি করবো বলুন?”
মিহি চুপ করে বসে আছে। একবার রিদের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার ওই লেকগুলোর দিকে তাকাচ্ছে। মেয়েটা কিছুই বুঝতে পারছে না।
মিহির দিকে তাকিয়ে একটা লোক বললেন_
“ এই মাইয়ার মামিরে কেউ খবর দেন। আইসা দেইখা যাক মাইয়া কেমন পাকনা হইছে ছোড থেইকাই”
লোকটার কথা শেষ হতে না হতেই আরেকজন লোক দৌড়ে গেলো মিহির মামিকে ডাকতে।
গ্রামে আরো অনেক লোক জড়ো হলো। তবে প্রত্যেকেই পুরুষ। কোনো মহিলা মানুষ উপস্থিত নেই।
কয়েকজন গিয়ে মোড়লকে ডেকে আনলেন। মোড়ল এসে দাড়াতেই আশেপাশে সবাই অনেকটা চুপ করে গেলো। মোড়ল গিয়ে একটা চেয়ারে বসলেন। সবাই মোড়লকে ঘিরে গোল করে দাড়িয়ে আছে। মোড়ল রিদকে বললেন_
“ঘটনা কি খুইলা কও”
চলবে....#মিহি
#লিখিকা_রুপন্তী_সরকার
পর্ব-২
রিদ চকলেট খুলে ওর হাতে দিল। মিহি খিদের জ্বালায় অতি দ্রুত চকলেটটা মুখে পুরল। অভ্রর মনে হলো এই পুতুলটাকে যদি সে নিজের সাথে করে নিয়ে যেতে পারত তাহলে কতো ভালো হতো।
হঠাৎ এক ঝলক হিমেল হাওয়া বয়ে গেল চারদিকে। গাছের পাতাগুলো মড়মড় শব্দ করে উঠল। আকাশে মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জন জানান দিল প্রবল বৃষ্টি আসছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে না আর। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ তীব্রতর হলো।রিদ আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত স্বরে বলল
“অভ্র বৃষ্টি নামবে। তাড়াতাড়ি চল, দেরি করলে বাসায় পাপা টেনশন করবে।”
রিদের কথায় অভ্রর ধ্যান ভাঙলো। অভ্র মিহির দিকে তাকালো তারপর আলতো করে মিহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো
“এখন বাসায় যাও ভুত। আমরা আবার আসবো তোমার সাথে দেখা করতে”
মিহি কিছু বলতে নিবে এমন সময় বাতাসে মিহির চোখে এসে কিছু একটা পড়লো। মিহি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নিলো। চিৎকার দিয়ে উঠলো মেয়েটা। মিহির চিৎকারে অভ্র এবং রিদ দুজনেই ভয় পেয়ে গেলো। ওরা বুঝতে পারলো না মিহির কি হয়েছে। মেয়েটা এভাবে চিৎকার করলো কেনো? রিদ তাড়াহুড়ো করে মিহিকে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো।
“ কি হয়েছে ? দেখি আমাকে দেখতে দাও”
মিহি চোখ ডলতে ডলতে বললো “চোখ খুব জলতে।”
রিদ মিহির হাত ওর চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে নরম গলায় বললো “আচ্ছা আমাকে দেখতে দাও। এখনি ঠিক হয়ে যাবে”
রিদ মিহিকে ভালো করে নিজের কোলে বসিয়ে নিয়ে ওর চোখে ফুঁ দিয়ে দিলো। পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে আলতো করে মিহির চোখে থাকা ময়লা বের করে দিলো।
“এখনো কি চোখ জ্বলছে?”
রিদের কথায় মিহি মাথা দুপাশে নাড়িয়ে বললো “না আর জ্বলচে না”
মিহির কথায় রিদ মুচকি হাসলো। রিদকে হাসতে দেখে অভ্র বললো ”নাটকের শেষ নাই”
রিদ অভ্রর দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো “চুপ শালা”
মিহি টুপ করে রিদকে একটা চুমু দিলো। রিদ মিহির দিকে তাকিয়ে হাসলো। মিহির গাল টেনে দিয়ে বললো ”আমিও চুমু দেই?”
মিহি ওর দুই গাল ধরে বললো ”না চুমু দিও না” রিদ হেসে বললো” না না আমি চুমু দিবোই”
মিহি নিজের গাল দুহাত দিয়ে শক্ত ধরে আছে। রিদ জোড় করে মিহির গালে একটা চুমু একে দিলো। মিহি খিলখিল করে হেসে উঠলো।
একটু দূরে বড় একটা পুরনো আমগাছের নিচে কয়েকজন লোক গোল হয়ে বসে আছে। সামনে একটা ছেঁড়া তাসের প্যাকেট ছড়িয়ে রাখা, মাঝখানে রাখা কিছু টাকা। পাশে মাটির উপর একটা হারিকেন জ্বলছে। তার হলুদ আলোয় সবার মুখ আধো আধো দেখা যাচ্ছে। লোকগুলো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসব খেলছে। গ্রামের ভাষায় এই খেলাকে জুয়া খেলা বলে।
হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন, যার নাম রহমত হাতের তাসটা ফেলে দিয়ে অন্ধকারের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। সামান্য দূরে রাস্তার ধারে কাটা গাছের ডালটার ওপর রিদ আর অভ্রর অবয়ব দেখা যাচ্ছে। রহমত দেখল রিদ মিহির গাল টেনে তাকে আদর করছে। কিন্তু নেশাগ্রস্ত আর কুটিল মস্তিকের রহমতের চোখে সেই পবিত্র দৃশ্যটা ধরা দিল নিকৃষ্ট রূপে। সে পাশের জনের গায়ে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো
“ওই দেখ।পোলা দুইটা ওই একরত্তি মাইয়াডারে নিয়া নির্জনে কী করতাছে৷ দেখছস পোলাডা তো মাইয়াডারে কোলে নিয়া খারাপ ইঙ্গিত দিতাছে।”
তার কথায় বাকি লোকগুলোরও দৃষ্টি সেদিকে ঘুরে গেল।
হারিকেনের ক্ষীণ আলো আর দূরের অন্ধকারের ফাঁক দিয়ে তারা দেখতে পেলো দূরের ভাঙা গাছের ডালে একটা বাচ্চা মেয়ে এবং দুইটা ছেলে বসে আছে। মেয়েটা একটা ছেলের কোলে বসে আছে।
কয়েকজনের ঠোঁটে কেমন যেন বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। একজন বললেন
“ভাইজান ওইডা মিহি না? ওই যে হেতি হের মামির লগে থাহে”
লোকটার কথায় একজন সম্মতি দিয়ে বললেন
”হ হঠিক কইছেন মাইয়াডা ভালোই পাকনা। এই রাত্তিরে দুইডা পোলা লইয়া বইসা আছে। এহন থেইকাই এমন না জানি বড়ো হইলে কেমন হইবো।”
“এই পোলা দুইডার মধ্যে একটারে চিনি ওই যে ওইডা হইতাছে সালামত মিয়ার নাতী। আরেকটা রে চিনি না”
রহমত বলে উঠলো
“ভাই, অনেক দেখতাছি। চলেন ওগো যাইয়া কিছু কইয়া আসি। এমন নষ্টামি তো মাইনা নেওয়া যায় না। এই মাইয়ার দেখাদেখি অন্য মাইয়ারাও বিগড়াইবো।”
“হ ঠিক কইছস। পোলাপান তো দিন দিন ব*ল পাকনা হইতাছে। এখন যদি শাসন না করি, তবে তো গেরামের নাম ডুববো।”
লোকগুলো দলবেঁধে এগিয়ে গেলো রিদ আর মিহির দিকে। তাদের হাতের হারিকেনটা দুলছে রিদ দূর থেকে দেখতে পেলো। ও তাড়াতাড়ি করে মিহিকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো। লোকগুলো কাছে পৌঁছাতেই একজন চিৎকার করে তেড়ে এলো
“এইখানে কী তামাশা হচ্ছে? এই মাইয়ার সাথে কী কুকাম করতেছো তোমরা?”
রিদের মেজাজ এমনিতে তিরিক্ষি হয়ে ছিল। সে বিরক্ত স্বরে জবাব দিল “কি বলতে চাইছেন আপনি? ভালো করে কথা বলেন। কি করতে যাব আমরা?”
“তর্ক করো আমাগো লগে? এই মাইয়া তোমাদের কে হয় শুনি?”
অভ্র পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সামনে এগিয়ে এল। ও নরম গলায় বোঝানোর চেষ্টা করল
“আরে চাচা, আমরা তো এখানে বসে ছিলাম। পিচ্চিটা আমাদের কাছে এসেছে। তাই ওর সাথে একটু কথা বলছিলাম। আপনারা ব্যাপারটাকে এভাবে খারাপ ভাবে নিচ্ছেন কেন?”
দলের মধ্যে থাকা বয়স্ক একজন লোক অভ্রর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন
“ওই অচেনা পোলারে চিনি না হের কথা বাদ দিলাম। কিন্তু তুমি তো অভ্র তুমি তো জানতা এই গেরাম কেমন। এইখানে বাইরের পোলার লগে মাইয়া মাইনষের এমন ঘেঁষাঘেষি চলে না। মাইয়া ছোট হোক বা বড় পরপুরুষ তো পরপুরুষই। নিজের আপন বাপ চাচা হইলে আলাদা হিসাব ছিল। তার ওপর এই রাইতে পথে এমন কইরা বইসা আছো এইডা কেমন দেখায়? গেরামের একটা মান-সম্মান আছে না?”
“লোকগুলোর কথা শুনে রিদ বললো
“আজব কথা ভাই। আপনাদের কি মাথার প্রবলেম নাকি? কিসব উল্টা পাল্টা বলছেন? একটা বাচ্চা মেয়ে ও ওর সাথে আমরা কি ঘেঁষাঘেঁষি করবো?”
লোকটা রেগে গিয়ে রিদকে বললেন_ ”এই চোপ একদম আমরা কি ঘাসে মুখ দিয়া চলি? আমরা নিজের চোখে দেখছি তোমরা মাইয়াডার লগে নষ্টামি করতাছো”
লোকটার কথা শুনে রিদের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। অভ্র চোখের ইশারায় রিদকে চুপ করতে বললো। রিদ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। অভ্র লোকগুলোর উদ্দেশ্যে বললো
“মাথা ঠিক আছে আপনাদের? ও একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে। ওর সাথে আমরা কি নষ্টামী করবো? আমরা ওইখানে বসে ছিলাম তখন মেয়েটা এসে আমাদের সাথে কথা বললো। বাচ্চা মানুষ তাই রিদ আদর করে একটু চুমু দিয়েছে এতে খারাপ কি?”
"বেশি ঘুরাবুজ আমাদের দিতে আইসো না। তোমরা কি করতাছিলা সেইডা আমরা দেখছি।”
লোকগুলোর কথা শুনে অভ্র আকুতি মিনতি করে বললো_
"চাচা বোঝার চেষ্টা করেন। মেয়েটাকে চিনি না আমরা। আমরা ওর সাথে কোনো খারাপ কিছু করি নি। আর সব থেকে বড়ো কথা মেয়েটা একটা বাচ্চা ওর সাথে আমরা কি করবো বলুন?”
মিহি চুপ করে বসে আছে। একবার রিদের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার ওই লেকগুলোর দিকে তাকাচ্ছে। মেয়েটা কিছুই বুঝতে পারছে না।
মিহির দিকে তাকিয়ে একটা লোক বললেন_
“ এই মাইয়ার মামিরে কেউ খবর দেন। আইসা দেইখা যাক মাইয়া কেমন পাকনা হইছে ছোড থেইকাই”
লোকটার কথা শেষ হতে না হতেই আরেকজন লোক দৌড়ে গেলো মিহির মামিকে ডাকতে।
গ্রামে আরো অনেক লোক জড়ো হলো। তবে প্রত্যেকেই পুরুষ। কোনো মহিলা মানুষ উপস্থিত নেই।
কয়েকজন গিয়ে মোড়লকে ডেকে আনলেন। মোড়ল এসে দাড়াতেই আশেপাশে সবাই অনেকটা চুপ করে গেলো। মোড়ল গিয়ে একটা চেয়ারে বসলেন। সবাই মোড়লকে ঘিরে গোল করে দাড়িয়ে আছে। মোড়ল রিদকে বললেন_
“ঘটনা কি খুইলা কও”
চলবে....