#ঝরা_শিউলির_দিনে
#পর্ব ২৭
#তামান্না_ইসলাম_শিমলা
_______________________
বিকেলের আলো মলিন হয়ে আসছে পশ্চিম আকাশে।
সিলেটের পাহাড়ি বাতাসে মিশে আছে শীতলতা। চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, দূরের গাছপালার পাতায় বাতাসের সোঁ সোঁ আওয়াজ। সেই বিশাল রাজকীয় বাড়িটার সামনে এসে থামল আভিয়ানের কালো বাইকটা।বাইক বন্ধ করতেই চারপাশটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আভিয়ান ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকল। আর ঢুকেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ড্রয়িংরুমের অবস্থা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্র।
সোফার উপর পা তুলে আধশোয়া হয়ে বসে আছে নিদ্রা আর জাওভান। টিভিতে ফুল ভলিউমে কোনো অ্যাকশন মুভি চলছে। দ সামনের টি-টেবিল ভর্তি চিপসের প্যাকেট, কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান, ছড়িয়ে থাকা টিস্যু। নিদ্রা চিপস মুখে পুরতে পুরতে বলছে,
“এই সিনটা দেখ! আরে আরে আরে! ধুর! মারা গেল!”
জাওভান হো হো করে হেসে উঠল।
“তুই সিনেমা দেখে এত ইমোশনাল হস কেন?”
ওদিকে ফুয়াদ এক কোণায় দাঁড়িয়ে ফোনে তার বউয়ের সাথে কথা বলছে। আভিয়ান কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে সবটা দেখল। তারপর হুট করেই কপালের শিরা ফুলে উঠল তার।
“তোরা কি বাড়িটাকে সার্কাস বানিয়ে ফেলেছিস?”
গর্জে উঠল সে। তিনজনের কেউই পাত্তা দিল না। বরং নিদ্রা একবার তাকিয়ে আবার চিপস মুখে পুরল।
“ওহ! মরা মানুষটা ফিরেছে।”
জাওভান নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ! হারানো সন্তান ফিরে এসেছে!”
ফুয়াদ ফোন সরিয়ে হাঁক দিল,
“জান, পরে কথা বলি। হারামজাদা অবশেষে ফিরেছে।"”
কল কেটে দিল ফুয়াদ। পরপর এগিয়ে এলো সে। আভিয়ান বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত।
“এসব কী শুরু করেছিস তোরা?"
"বেশ করেছি। তুই তেরোটা দিন এভাবে আমাদের টেনশনে রেখেছিস তার চাইতে কমই করছি।"
আভিয়ান নির্লিপ্ত। হেলমেটটা টেবিলে ছুঁড়ে রেখে শান্ত স্বরে বলল,
“তোদের নাটক শেষ হলে আমি উপরে যাই?”
“না, হবে না।”
এইবার ফুয়াদ কলার ধরে টেনে বসিয়ে দিল তাকে।
“আজকে হিসাব হবে।”
আভিয়ান বিরক্ত হয়ে হাত সরিয়ে নিল। নিদ্রা চোখ ছোট করে সন্দিহান চোখে পর্যবেক্ষণ করল আভিয়ানকে। শুধালো,
“সত্যি করে বল, কী হয়েছে তোর?”
“কিছু না।”
“মিথ্যা বলছিস কেন?"
“যা বললাম তা-ই।”
“আভি!"
“নিদ্রা, মাথা খাস না।”
আভিয়ানের কণ্ঠস্বরে বিরক্তি স্পষ্ট। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর হঠাৎ আভিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
“এক মিনিট।”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তিনজনকে পর্যবেক্ষণ করল সে।
“তোরা জানলি কীভাবে আমি এখানে?”
জাওভান খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চিপস মুখে পুরল। জবাব দিল,
“তোর কাজিন বলল।”
আভিয়ান কপাল কুঁচকাল।
“কোন কাজিন?”
নিদ্রা এবার উত্তর দিল,
“এরিনা।”
মুহূর্তেই আভিয়ানের চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল।
“ও কী করে জানল?”
তিনজনই একসাথে কাঁধ ঝাঁকাল।
“কি জানি!”
মাঝ থেকে ফুয়াদ বলল,
“ও এসে একদম শিওর হয়ে বলল তুই এখানে। এমন ভাব যেন নিজের চোখে দেখে এসেছে।”
জাওভান হেসে উঠল। বলল,
“আমরা তো প্রথমে ভাবলাম আন্দাজ মারছে। কিন্তু দেখ, একদম ঠিক।”
আভিয়ান এবার সত্যিই কিছুটা থেমে গেল। চোখের গভীরে চিন্তার ছাপ ফুটল ক্ষণিকের জন্য। এরিনা, সে কীভাবে বুঝল? নিদ্রা এবার সামনে ঝুঁকে এলো।
“এখন বল, তোকে কী শাস্তি দেওয়া যায়?”
আভিয়ান বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াতে নিল।
“তোরা এখন বের হ।”
“বস।”
“নিদ্রা, সর।”
“বস বলছি।”
“আমি উপরে যাচ্ছি।”
“তুই কোথাও যাচ্ছিস না।”
ফুয়াদ আর জাওভান মিলে আবার টেনে আভিয়ানকে বসিয়ে দিল সোফায়। জাওভান এবার চোখ কুঁচকে তাকাল। নিদ্রা আঙুল তুলে বলল,
“আজকে তোর জেরা হবে। প্রথম প্রশ্ন, তেরো দিন ধরে তুই কী করছিলি?”
আভিয়ান নির্লিপ্ত গলায় জবাব দিল,
“বেঁচে ছিলাম।”
ফুয়াদ থমকে তাকাল।নতারপর বিড়বিড় করল,
“এই ছেলেকে একদিন আমি সত্যি খুন করব!”
ড্রয়িংরুমের উত্তপ্ত পরিবেশটা ধীরে ধীরে কিছুটা শান্ত হয়েছে। টিভির শব্দ কমিয়ে দিয়েছে নিদ্রা। ফুয়াদ সোফার একপাশে হেলান দিয়ে বসে আছে। জাওভান টেবিলের উপর পা তুলে চিপসের শেষ টুকরোটা মুখে পুরল। আর মাঝখানে বসে আছে আভিয়ান। একদম নির্লিপ্ত। যেন এই পুরো বিশৃঙ্খলার সাথে তার কোনো সম্পর্কই নেই।
সে মাথা পেছনে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। কালো টি-শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। হাতে রগ ফুলে আছে স্পষ্ট। চোয়াল শক্ত। ক্লান্তিও আছে, তবে সেটা আড়াল করতে ওস্তাদ সে। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর জাওভান হঠাৎ গলা খাঁকারি দিল।
“আচ্ছা ওয়েট!”
ফুয়াদ ও নিদ্রা চোখ সরু করে তাকাল জাওভানের দিকে। ফুয়াদ কাঁধ ঝাঁকিয়ে শুধালো,
“তুই আবার কী শুরু করবি?”
জাওভান ভ্রু নাচাল। বলল,
“ইম্পর্ট্যান্ট প্রশ্ন।”
পরপর ধীরে আভিয়ানের দিকে তাকাল জাওভান। গম্ভীর ভাব নিয়ে শুধালো,
“অপরূপা কেমন আছে?”
মুহূর্তেই আভিয়ানের বন্ধ চোখদুটো খুলে গেল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি গিয়ে পড়ল জাওভানের উপর। জাওভান সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয়ভাবে হাত তুলল।
“আরে রাগ করিস না ভাই! আমরা তো শুধু জানতে চাইছি ভাবী কেমন আছে।”
“ভাবী?”
আভিয়ানের কণ্ঠস্বর একটু বেশিই শীতল শোনাল। আভিয়ানের মুখাবয়বের প্রতিক্রিয়া দেখে হেসে ফেলল ফুয়াদ।
“না হলে কী ডাকব? লিটেল কিটেনের মাম্মা?”
নিদ্রাও এবার মুচকি হাসল। আভিয়ানের চোখ মুখের আদল পাল্টে যাচ্ছে। বেশ আনন্দ পাচ্ছে তারা। জাওভান আভিয়ানের উপর পা তুলে বসল। চিপস খেতে খেতে বলল,
“সত্যি বলতে কী, তোদের তিনজনকে একসাথে দেখলে ফ্যামিলি ফ্যামিলি লাগে।”
আভিয়ান কোনো জবাব দিল না। শুধু ধীরে ধীরে পকেট থেকে সিগারেট বের করল। লাইটার জ্বালাল। আগুনের হলদেটে আলো এক মুহূর্তের জন্য তার চোখে প্রতিফলিত হলো। তারপর ধোঁয়া ছেড়ে শান্ত গলায় বলল,
“তোদের কাজ নেই?”
“নেই।”
একসাথে জবাব দিল তিনজন। জাওভান এবার একটু সিরিয়াস হলো।
“আভি, ফান বাদ দে।”
ফুয়াদও গম্ভীর হয়ে এলো। নিদ্রা ধীরে বলল,
“আমরা তোকে অনেকদিন ধরে চিনি। তুই কারো প্রতি এতটা এটাচড কখনো হসনি।”
আভিয়ান নির্লিপ্ত, নিরুত্তর। সে আপনমনে সিগারেটে টান দিল। আভিয়ানের এমন নির্লিপ্ত ভাব দেখে নিদ্রা খানিকটা এগিয়ে এলো। জাওভানও ততক্ষণে উঠে বসেছে। সামনের দিকে ঝুঁকে এলো সে। সোজাসাপটা প্রশ্ন করল,
“তুই কি ওকে ভালোবাসিস?”
মুহূর্তেই পুরো হলরুমটা নিশ্চুপ হয়ে গেল। বাইরে থেকে গমগমে শব্দ শোনা যাচ্ছে ক্ষীণভাবে। আভিয়ান মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ সিগারেটের ধোঁয়া দেখল। তারপর অত্যন্ত গা-ছাড়া স্বরে জবাব দিল,
“না।”
তিনজনই একসাথে বিরক্ত হয়ে উঠল। আভিয়ান পাত্তা দিল না সেসবে। ধীরে ধীরে সিগারেট শেষ করল সে। অ্যাশট্রেতে চেপে নিভিয়ে রাখল। তারপর উঠে দাঁড়াল।
জাওভান ভ্রু কুঁচকে তাকাল। হাত টেনে ধরে আবারো শুধালো,
“সত্যিটা বল।”
আভিয়ান কোনো জবাব দিল না প্রথমে। হাত ছাড়িয়ে শুধু ধীর পায়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা ধরল। তার ভারী পদক্ষেপের শব্দ ছড়িয়ে পড়ছে নিস্তব্ধ বাড়িটায়। সিঁড়ির মাঝখানে গিয়ে হঠাৎ থামল সে। পেছনে তাকাল না।
শুধু গভীর, অদ্ভুত শান্ত একটা কণ্ঠ ভেসে এলো তার থেকে।
“ভালোবাসা খুব ছোট্ট একটা শব্দ, জাওভান।”
নিদ্রা, ফুয়াদ, জাওভান তিনজনই চুপ হয়ে গেল। সকলের দৃষ্টি স্থির আভিয়ানের দিকে। জাওভান সময় নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,
"তবে?"
“মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন সময়ের সাথে সেটা ফুরিয়েও যায়। অনুভূতি বদলায়, মানুষ বদলায়, প্রয়োজন বদলায়।”
আভিয়ানের স্পষ্ট জবাব। ফুয়াদ চোখ তুলে তাকাল। দেখে নিল আভিয়ানকে। জিজ্ঞেস করল,
"তার মানে তুই বলতে চাচ্ছিস, তুই তাকে ভালোবাসিস না। তাই তো?"
আভিয়ান থেমে গেল। তার চোখে দেখা মিলল উজ্জ্বলতা। হাসির রেখা। তবে তা দেখার সৌভাগ্য হলো না পেছনে থাতা কারোরই। আর না আভিয়ান দেখাতে চাইল। কেবল আওড়াল,
“একদমই না। সে আমার কোনো ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি নয়। সে এমন এক বিশৃঙ্খলা, যা আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে ছড়িয়ে গেছে।”
জাওভানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল ধীরে ধীরে। ফুয়াদ উত্তেজিত কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ল,
"কী বলতে চাচ্ছিস স্পষ্ট ভাবে বল।"
আভিয়ান স্থির কণ্ঠে বলল,
“সে আমার ভালোবাসা নয়।"
আভিয়ানের দিকে তিনজোড়া চোখ নিবদ্ধ। সকলেই জবাব পেতে মরিয়া। নিদ্রা ধীর স্বরে শুধালো,
"তাহলে কে সে?"
“সে আমার মস্তিষ্কের নেশা, আমার ধ্বংসের সবচেয়ে সুন্দর কারণ। আর এমন এক অনুভূতি, যেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছেটাও আমার নেই। কারণ সে আমার ভালোবাসার চাইতেও বেশি কিছু, সে আমার গোটা জাহান।”
সকলের চোয়াল ঝুলে পড়েছে। ফুয়াদ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলল,
"এত গভীরে কবে গেলি, আভি?"
"প্রায় এক যুগ আগে।"
"হুয়াট!"
একসাথে চেঁচিয়ে উঠল সকলে। মানে কী এসবের? একযুগ আগে মানে? এই ছেলে কোন ধোয়াশার মাঝে রাখছে তাদের? আভিয়ান এ পর্যায়ে পেছন ফিরে তাকাল। বাঁকা হেসে বলল,
"রাজা হয়ে দাবার গুটি সাজালাম আমি, আর এক অযাচিত আগমন ঘটিয়ে চেকমেট দিয়ে গেল আমার আগন্তুক রানী।"
থামল আভিয়ান। আবারো মুখ ঘুরিয়ে নিল। বিড়বিগ করে বলে গেল,
"এবার এই অধম রাজার দায়িত্ব তার মহারানীকে তার রাজত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। যে রাজত্ব হুট করেই এলোমেলো করে দিয়ে গিয়েছিল আমার রানী, এবার সেটা গোছানোর দায়িত্বটাও তার। আর একটু অপেক্ষা, এবার আর আমার রানীর পালানোর পথ নেই। আর না আছে হারানোর।"
পুরো ঘরটা স্তব্ধ হয়ে রইল। কারো মুখে কোনো কথা নেই। যদিও এই ধোঁয়াশা বুঝতে আবারো কাঠখড় পোড়াতে হবে তাদের সবাইকে। তবে তা সময় নিয়ে। আভিয়ান আর দাঁড়াল না। ধীরে ধীরে উপরে উঠে গেল।
আর নিচে বসে থাকা তিনজন শুধু নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। আভিয়ান পুরোপুরি দৃষ্টির আড়াল হতেই লাফিয়ে উঠল তারা তিনজন। চিৎকার করে বলে উঠল,
"অবশেষে!"
____________________
মেঘে ঢাকা একটা দুপুর। সময়টা দুপুর হলেও আকাশের রঙ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। শহরের ওপর যেন ধূসর এক চাদর টেনে দিয়েছে প্রকৃতি। দূরে কোথাও মৃদু বজ্রের গর্জন, বাতাসে ভেজা কাগজ আর মাটির মিশ্র গন্ধ। ছাদের কার্নিশ বেয়ে টুপটাপ করে পানি পড়ছে। মাঝে মাঝেই হালকা বাতাস এসে লাইব্রেরির কাঁচের দরজাটাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
পুরোনো সেই লাইব্রেরিটার ভেতরটাও আজ অদ্ভুত শান্ত।
বইয়ের পাতার গন্ধে ভরে আছে চারপাশ। কাঠের লম্বা তাকগুলোতে সারি সারি বই, কিছু পাঠক চুপচাপ বসে পড়ছে। বাইরে বৃষ্টি থেমে থেমে পড়ছে বলেই হয়তো আজ জায়গাটা আরও বেশি নরম, আরও বেশি নির্জন লাগছে।
অপরূপা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
হাতে কয়েকটা বই। নীল রঙের কটন শাড়িটা আজ খুব সাধারণভাবেই পরেছে সে। কোনো সাজ নেই, তবুও মেঘলা আলোয় তার মুখটা স্নিগ্ধ লাগছে। খোলা চুলের কিছু ভেজা গোছা গাল ছুঁয়ে আছে।
আজ অফিস বন্ধ। সকালে অভ্রর সাথে ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খোলার কাজ শেষ করে দু’জনে ভেবেছিল একটু লাইব্রেরিতে ঢুঁ মেরে যাবে। কিন্তু বের হওয়ার আগেই এমন বৃষ্টি নেমে গেল যে আটকে পড়তে হলো।পিহু এদিকে মেঝেতে বসে একটা ছড়ার বই উল্টেপাল্টে দেখছে। অভ্র কবিতা শোনাচ্ছে আর সে খিলখিল করে হাসছে। অভ্র তাকিয়ে মুচকি হাসল।
বৃষ্টি কিছুটা কমতেই তারা বের হলো লাইব্রেরি থেকে।
ফুটপাত ভেজা। রাস্তার পাশে ছোট ছোট পানির গর্তে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। দূরে গাড়ির হেডলাইটগুলোও ঝাপসা লাগছে। অভ্র পিহুকে কোলে নিয়ে হাঁটছে।
পিহু তার কাঁধে মাথা রেখে গল্প করে যাচ্ছে একের পর এক।
অপরূপা ধীর পায়ে পাশে হাঁটছে। অনেকদিন পর আজ তার মনটা একটু হালকা লাগছে। অভ্র হঠাৎ বলল,
“একটা প্রশ্ন করব?”
অপরূপা তাকাল।
“জ্বি বলুন?"
"কিছু মনে করবেন না, কৌতুহল বসত জিজ্ঞেস করছি। এই যুগে তো সচারাচর কাউকে অকেশন ছাড়া শাড়ি পরতে দেখি না। আপনি সবসময় ক্যারি করেন, না মানে..."
অভ্র আসলে গুছিয়ে বলবে পারছে না। তবে অপরূপা বুঝে নিল। হাসলো মৃদু। জবাব দিল,
"শাড়িতে নারী, জানেন তো? বিয়ের পর থেকেই আমি শাড়ি পরতাম, ভালো লাগতো বলা চলে। তবে এখন পরি নিজের জন্য। নিজের কাছে ভালো লাগে বলেই।"
অপরূপার জবাবে অভ্র হাসলো। কথা ঘুরাতে প্রশ্ন ছুড়ল,
“কী ধরনের বই পছন্দ?”
“যেগুলো মানুষকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়।”
“ডিপ।”
“আপনার?”
“ট্রাভেল, হিস্ট্রি আর সাইকোলজি।”
“সাইকোলজি কেন?”
অভ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“মানুষকে বুঝতে ভালো লাগে।”
অপরূপা মৃদু হাসল। প্রশ্ন করল,
“মানুষকে পুরোপুরি বোঝা যায়?”
“না,”
অভ্র আকাশের দিকে তাকাল। তারপর জবাব দিল,
“কিছু মানুষকে যত বুঝতে যাবেন, তত জটিল লাগবে।”
অপরূপা জানে না কেন, কথাটা শুনে তার মনে হঠাৎ করেই একটা মুখ ভেসে উঠল। ভেসে উঠল সবুজাভ এক জোড়া চোখ। গম্ভীর মুখ। অবাধ্য নীরবতা। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। অভ্র ফের শুধালো,
"আপনার জীবনের লক্ষ্য কী? বা সপ্ন?"
"ভালো একজন মা হওয়া।"
জবাবে মুগ্ধ হলো অভ্রু। হাসল কিঞ্চিৎ। পিহু হঠাৎ বলে উঠল,
“আমারও এত্তা চপ্ন আচে!”
অভ্র হেসে জিজ্ঞেস করল,
“ওমা! কী স্বপ্ন শুনি?”
পিহু দু’হাত আকাশের দিকে ছড়িয়ে দিল। বলল,
“আমি মাম্মা আর পাপার হাত ধরে হাত্তে চাই। এতাই আমার চপ্ন।”
মুহূর্তেই থেমে গেল চারপাশ। অপরূপার পা যেন মাটিতে আটকে গেল। শ্বাস আটকে এলো বুকের ভেতর। অভ্রও স্পষ্ট অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। পিহুর একটু মন খারাপ হলো। মুখটা চুপসে গেল এবার। ছোট্ট গলায় বলল,
“কিন্তু আমার তো পাপা নেই।”
তারপর পরমুহূর্তেই চোখ জ্বলে উঠল। কিছু না ভেবেই আপনমনেই বলে উঠল,
“কিন্তু আমার এত্তা ইয়ান আচে! ইয়ান আমায় কুব আদর করে।”
ইয়ানের নাম উচ্চারণ করতেই গাল ভরে হাসল পিহু।
অপরূপার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। পিহু আবার ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“কিন্তু ইয়ান কুব পঁচা। অনেক অনেক পঁচা।”
অভ্র এক সাথে পলক অপরূপার দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে আনল পিহুর দিকে। জিজ্ঞেস করল,
“কেন?”
“ইয়ান বারবার নাই হয়ে যায়। পিহু অনেক মিস করে। ফোনও করে না। কিন্তু পিহু তবুও ইয়ানকে অনেক লাভিউ করে।”
ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এলো গভীর, ভারী এক পুরুষালী কণ্ঠস্বর।
“ইয়ান নিজেও তার লিটেল কিটেনকে অনেক অনেক অনেক লাভিউ করে। মোর দ্যান এনিথিং, মাই লিটেল কিটেন।"
কণ্ঠটা শোনামাত্রই অপরূপার বুক কেঁপে উঠল। চটজলদি ঘুরে দাঁড়াল সে। মেঘলা বিকেলের আধো আলোয় ফুটপাতের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে আভিয়ান।
পরনে কালো ট্যাংটপ , ভেজা চুল গুলো এলোমেলো।দু’হাত পকেটে ঢোকানো। চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে শুধু পিহুর উপর। আর সেই চোখের গভীরে অদ্ভুত এক ক্লান্তি, তৃষ্ণা আর প্রশান্তি মিশে আছে এক হয়ে। সবাই একসাথে চমকে পেছনে তাকাল।
ঝিরঝিরে বৃষ্টির পর্দার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে আভিয়ান।সম্পূর্ণ ভিজে গেছে সে। কালো ট্যাংটপটা ভিজে গায়ে সেঁটে আছে, যার কারণে বুক, কাঁধ আর বাহুর প্রতিটা শক্ত পেশির রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। বুকটা অস্বাভাবিক দ্রুত ওঠানামা করছে, যেন অনেক দূর দৌড়ে এসেছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে সে। পরিস্থিতি পিহুর ছোট্ট মাথায় খেলতেই চিৎকার করে উঠল সে,
“ইয়াআআন!”
এক ছুটে অভ্রর কোল থেকে নেমে দৌড়ে গেল সে। আভিয়ানও সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল। দুই হাত মেলে দিতেই পিহু গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার বুকে। কিন্তু পরমুহূর্তেই ছোট্ট মুখটা ফুলিয়ে ফেলল সে।
“তুমি কুব পঁচা, ইয়ান!”
আভিয়ান ক্লান্ত, ভেজা মুখ নিয়েও হাসল মৃদু। জড়িয়ে নিল পিহুকে নিজের বক্ষে।
“আই নো, লিটেল কিটেন।”
“না, তুমি জানো না!”
পিহুর চোখ ভিজে উঠেছে,
“কোথায় ছিলে তুমি? তুমি নাই হয়ে গিয়েচিলে কেন? পিহু এত্ত এত্ত ফোন করেচে, তবুও তুমি দলো না!”
শেষ কথাটুকু বলতেই গলা কেঁপে উঠল পিহুর।এই বুঝি কেঁদে উঠবে। আভিয়ানের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই নরম হয়ে গেল। সে ধীরে পিহুর দুই গাল হাতে নিল। অপরাধী স্বরে উচ্চারণ করল,
“সরি।”
পিহু কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
“পিহু তোমাকে অনেক মিচ করেছে।”
আভিয়ান চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্তের জন্য। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার। কেন এই বাচ্চাটার প্রতি তার এত টান, সেটা তারও জানা নেই। তবে এটুকু জানে, তার লিটেল কিটেন তার কাছে অনেক কিছু। এই ছোট্ট প্রাণটা অভিমান করলেও তার হৃদয়ে ঝর ওঠে।
আভিয়ান কপাল ঠেকাল পিহুর কপালে।
“আমিও আমার লিটেল কিটেনকে অনেক মিস করেছি।”
“তাহলে কল দলো নাই কেন?”
“ভুল হয়ে গিয়েছে।”
“ইচ্চা করে?”
“না।”
“সত্যি?”
"হু।"
"আর করবে না, পিহু তাহলে অনেক রাগ করবে। আর রাগ ভাঙবে না।"
আভিয়ান নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। বাধ্য ছেলের মতো আওড়াল,
“প্রমিস। এমন আর হবে না।”
পিহু এবার দুই হাত দিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। বলে উঠল,
“পিহু রাগ করচে।”
আভিয়ান মৃদু স্বরে বলল,
“স্যরি।”
“অনেক রাগ করেচে।”
“আরো বেশি স্যরি, থাউজ্যান্ড টাইমস স্যরি।”
“আরো বেশি রাগ করেচে। তবুও পিহু ইয়ানকে লাভিউ।”
এইবার সত্যি সত্যিই হেসে ফেলল আভিয়ান। ভেজা চোখের কোণে অদ্ভুত এক কোমলতা ফুটে উঠেছে তার। পিহুর পিঠে হাত রেখে চুমু খেল গালে। উচ্চারণ করল,
“লাভিউ টু, লিটেল কিটেন।”
অতঃপর সে পিহুকে কোলে তুলে উঠে দাঁড়াল। এক পলক পেছনে তাকালেই দেখা গেল দূরে বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে আছে নিদ্রা, ফুয়াদ আর জাওভান। তিনজনের মুখেই চওড়া হাসি। আভিয়ান শুধু চোখ দিয়ে ইশারা করতেই জাওভান ঠোঁট বাঁকিয়ে স্যালুট করল।
“রোমান্স মোড অন, বয়েজ। চলো।”
নিদ্রা খিলখিল করে হেসে বাইকে উঠে বসল।
ফুয়াদও মাথা নাড়িয়ে ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। আজ সকালেই চারজন একসাথে সিলেট থেকে ফিরেছে। গত তিনদিন তারা নিজেরাও নিজেদের সব যোগাযোগ বন্ধ রেখেই ছিল। পাহাড়, বৃষ্টি, নির্জন রাস্তা, সব মিলিয়ে নিজেদের মতো কাটিয়েছে সময়। আর ফেরার পথে লাইব্রেরির সামনে হঠাৎ আভিয়ানের চোখ আটকে যায়। অভ্র আর অপরূপাকে দেখেনচিনতে অসুবিধা তার হয়নি। সেই দৃশ্য থেকে আভিয়ান আর সামনে এগোতে পারেনি সে।
আভিয়ান ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। গম্ভীর চোখে একবার অপরূপার দিকে তাকাল। তারপর অভ্রর দিকে।
“কোথাও যাচ্ছেন?”
অপরূপা কিছু বলার আগেই অভ্র দ্রুত বলে উঠল,
“না না স্যার। আমরা বাসায় ফিরছিলাম। মিস অপরূপাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েই আমি....”
“তার প্রয়োজন নেই।”
শান্ত, অথচ কেটে যাওয়ার মতো গম্ভীর কণ্ঠ আভিয়ানের।অভ্র থেমে গেল। আভিয়ান এবার সরাসরি তাকাল অপরূপার দিকে।
“আসুন।”
একটা শব্দ। সেই শব্দে আছে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা , যেখাে না বলার কোনো সুযোগটাও নেই। অপরূপা হতভম্ব হয়ে একবার তাকাল অভ্রর দিকে, একবার তাকাণ আভিয়ানের দিকে। তারপর সত্যিই কিছু না বুঝে সে দৌড়ে পিছু নিল আভিয়ানের। ততক্ষণে আভিয়ান বাইকে উঠে বসেছে। পিহুকে আজ সামনে ফুয়েল ট্যাংকের উপর বসিয়েছে সে। ছোট্ট দু’হাত দিয়ে পিহু হ্যান্ডেল ছুঁয়ে আছে।আভিয়ান লুকিং গ্লাসে তাকাল। সেখানে ভেসে উঠল অপরূপার আধভেজা মুখ। ভেজা চুল গাল ছুঁয়ে আছে। শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ছে হালকা। তার বুকের ভেতরটা আবার অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল। চোখ সরিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,
“উঠে বসুন। ফাস্ট।”
অপরূপা দ্বিধা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কথা বলতে গিয়েও থেমে গেল সে। সেদিন তো অপরূপা আর আভিয়ানের মাঝেখানে বসেছিল পিহু। তবে আজ? মানে তাকে আজ সরাসরি আভিয়ানের পেছনেই বসতে হবে। তার উপর লোকটার পরনে শুধু কালো একটা ট্যাংটপ।
ভেজা কাপড়ের নিচে পুরো পেশীবহুল পিঠটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। প্রশস্ত কাঁধ, টানটান বাহু সবকিছু মিলিয়ে অদ্ভুত এক অস্বস্তি গ্রাস করল অপরূপাকে। উঠতে গেলে তো কাঁধ ধরতেই হবে। কী করবে না করবে বুঝে উঠতে পারছে না কোনো ক্রমে। পরমুহূর্তেই ভেসে এলো আভিয়ানের কণ্ঠস্বর,
“উঠছেন না কেন?”
আভিয়ানের কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি। বৃষ্টি আবার বাড়ছে। সে কড়া স্বরে বলল,
“নিজের কথা বাদই দিন। লিটেল কিটেনের জ্বর বাঁধাতে চান?”
অপরূপা থেমে গেল। শেষমেশ অস্বস্তি গিলে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। সাবধানে আভিয়ানের কাঁধে হাত রাখল।মুহূর্তেই যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল দু’জনের শরীরে। অপরূপা দ্রুত উঠে বসে হাত সরিয়ে নিল। আভিয়ান ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে দিতে বলল,
“ধরে বসুন। পড়ে যাবেন।”
“কিছু হবে না।”
আড়চোখে লুকিং মিররে তাকাল আভিয়ান। তারপর এক হাতে আলগোছে পিহুকে আগলে ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে হালকা অ্যাক্সিলারেট করেই আচমকা ব্রেক কষল।
“আহ!”
তাল সামলাতে না পেরে অপরূপা দু’হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আভিয়ানের কোমর। তার কপাল গিয়ে ঠেকল আভিয়ানের প্রশস্ত, উষ্ণ পিঠে। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড। অতঃপর আভিয়ানের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল ক্রুর বাঁকা হাসি। আর কিছু বলল না আভিয়ান। শুধু বাইক স্টার্ট দিল। বৃষ্টিভেজা রাস্তা চিরে দ্রুত ছুটতে শুরু করল বাইক। অপরূপা চোখ বন্ধ করে রইল ওভাবেই। তার নিজের হৃদস্পন্দনও অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছে আভিয়ানের বুকের ধুকপুকুনিটা। প্রতিটা স্পন্দন যেন পিঠ ভেদ করে এসে আঘাত করছে তার বুকে। অথচ অপরূপা না চাইতেও পারছে না হাত সরাতে। উল্টো বৃদ্ধি পেল তার আঙুলের কম্পন। নিজের হৃৎস্পন্দনের গতি তার না যত মাত্রা হারাচ্ছে, তার চাইতে কয়েকগুন বেশি মাত্রা ছাড়াচ্ছে আভিয়ানের হৃৎস্পন্দন। যা স্পষ্টতই অনুভব করতে পারছে অপরূপা। ঠোঁট কামড়ে বাইকের গতিটাও বাড়াল আভিয়ান। হাতের বাঁধন শক্ত হলো অপরূপার। পরপর মাথা ঝাঁকাল আভিয়ান, ভেজা চুলের পানি গুলো গিয়ে লাগল অপরূপার পিঠে। ঠোঁটের কোণে জমে থাকা অস্থির নিঃশ্বাসটা ধীরে ধীরে বাইরে ছাড়ল আভিয়ান। অতঃপর মাথা সামান্য নত করে, বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষীণ স্বরে নিজেকেই বিড়বিড় করে বলল,
"আপনার স্পর্শ আমার সমস্ত সংযমকে বিদ্রোহী করে তুলছে, আমার অপ্সরা। নিজের অজান্তেই বক্ষের ভেতর বহুদিন মৃত পড়ে থাকা কোনো অনুভূতি আজ পুনর্জন্ম নিচ্ছে উন্মত্ত, বেপরোয়া, সর্বনাশা হয়ে।"
পরপর বৃদ্ধি পেল ছুটে চলা বাহনের গতি। কাঁপতে লাগল বাতাস, পিছিয়ে যেতে লাগল পথঘাট, বৃক্ষ, নগরীর আলো। আর সেই সঙ্গেই আভিয়ানের অধরের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল এক দুর্বোধ্য, বেপরোয়া হাসি। বহুদিন নিস্তব্ধ পড়ে থাকা হৃদস্পন্দন আজ যেন পুনরায় শিখে নিল উন্মাদনা। বক্ষগহ্বরে তখন তাণ্ডব চালাচ্ছে দুর্বিনীত এক সুর, বহুদিন বন্দি থাকা অনুভূতিরা আজ সব শৃঙ্খল ভেঙে মেতে উঠেছে উচ্ছ্বাসে। আর সেই সুরে তাল মেলাল উন্মাদ পুরুষটি নিজেও,
"ওও, তাইতো প্রেমের গান লিখেছি
আর তাতে তোর নাম লিখেছি
মাঝরাতে বদনাম হয়েছে মন।
যেই না চোখের ইচ্ছে হলো
তোর পাড়াতেই থাকতে গেল
ডাকনামে তোর ডাকতে গেল মন।
কী করি এমন অসুখে?
জমেছে মরণ এ বুকে!"
________
#চলবে
মন্তব্য করে যাবেন কেমন? #কোন_বাঁধনে_বাঁধি_আমি গল্পটা পড়েছেন? না পড়লে পড়ে আসুন। এটাতে ৫০০+ রিয়াক্ট ও
https://www.facebook.com/61565409956359/posts/122221293974513665/?app=fbl
এটাতে ৩০০+ রিয়াক্ট ফিলাপ করে দিন দ্রুত। তাহলে গল্পও দ্রুত পাবেন।