ফন্ট সাইজ:
থিম:
অধিনায়ক সাদমান শেখ

১ম পর্ব

লেখক: আরিভা
অধিনায়ক সাদমান শেখ 
কলমে: আরিভা 
পর্ব: ০১
চাঁদ রাতের উৎসবমুখর আমেজে মুখরিত 'মাহমুদ শেখ নিবাস'। আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর, অথচ ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা পার হলেও বাড়িটির কারো চোখে নেই ঘুমের লেশমাত্র। বাড়ির মেয়ে ও ছোট সদস্যরা ব্যস্ত হাতে মেহেদির রঙে হাত রাঙাতে, আর উঠতি যুবকেরা মেতে উঠেছে ছাদের খোশগল্পে।
শেখ পরিবারের শেষ উত্তরসূরী খাইরুল শেখ ও তার একমাত্র  ছেলে সাদমান শেখ। প্রতিবছর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ফুফু, খালামনি এবং কাজিনরা। আটজন কাজিনের মধ্যে রবিন, ইকবাল, সুনেহরা,  তিতলি এবং  সাদমান—তারা এই পাঁচজনই সমবয়সী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। সম্পর্কে তারা যেমন কাজিন, তেমনি গভীর বন্ধুত্বের মেলবন্ধনেও আবদ্ধ।
এই মুহূর্তে সাদমান, রবিন আর ইকবাল বাড়ির ছাদে বসে আগামীকালের ঘোরার পরিকল্পনা ও আড্ডায় মশগুল। অন্যদিকে, সুনেহরা ও তিতলি ব্যস্ত ছোট কাজিনদের হাত মেহেদীতে রাঙিয়ে দিতে। বাড়ির অন্দরমহল সরগরম ঈদের প্রস্তুতিতে; সাদমানের মা মহিমা শেখের সাথে রান্নার আয়োজনে হাত লাগিয়েছেন দুই ফুফু সেলিনা বেগম, জোসনা বেগম এবং খালা সিতারা পারভীন।
এই বিশাল রাজপ্রাসাদতুল্য জমিদারবাড়ির বর্তমান সদস্য বলতে কেবল সাদমান, তার বাবা খাইরুল শেখ এবং মা মহিমা শেখ। ১৮ শতকের দাপুটে জমিদার জাফর শেখের রক্ত বহন করে চলা এই বংশের শেষ উত্তরাধিকারী সাদমানের বাবা খাইরুল শেখ ও সাদমান নিজে।
তবে এই বনেদী পরিবারের নামের সাথে জড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ ইতিহাস ও অমীমাংসিত রহস্য। সাদমানের দাদা মাহমুদ শেখ ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী। জীবনের দীর্ঘ একটি অংশ তিনি আমেরিকায় কাটিয়েছেন প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে গবেষণায়। কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি হঠাৎ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পর আর কোনো খোঁজ মেলেনি মাহমুদ শেখের।
রাত বাজে বারোটা। নিচে ছোট কাজিনদের চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে গেছে, এতক্ষণে মনে হয় সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎ ছাদের দরজা দিয়ে আগমন ঘটলো সুনেহরা আর তিতলির। তারা এসে আড্ডায় যোগ দিল। সুনেহরা বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে উঠলো, — "উফ! আর বলিস না, ওই পিচ্চি তিনটা মেহেদির নাম করে আমাকে জ্বালিয়ে মারছে।"
তখন ইকবাল বলে উঠলো, — "তুই কি তিনজনকে একাই মেহেদি লাগাসনি নাকি? তিতলি কী করছে?" — "তিতলির কথা আর বলিস না, ও শুধু ফোনে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত আর এদিকে আমার মরনদশা।" — "এই সুনেহরা, আমাকে দোষ দেওয়া বন্ধ কর। আমি এমনিতেও মেহেদি দিতে পারি না, তুই যেহেতু পারিস তুই মর। তোর মরায় আমাকে টানছিস কেন?"
সাদমান তাদের ঝগড়া থামাল। — "তোরা কি ছোট বাচ্চা? এমনভাবে ঝগড়া করছিস কেন?"
সুনেহরা অনেক হাসিখুশি ও একটু দুষ্টু ধরনের মেয়ে, কাজিনদের সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া ও হাসাহাসি এসব নিয়ে মেতে থাকে। অন্যদিকে তিতলি সারাক্ষণ ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত। সুনেহরা সাদমানের ছোট ফুফু জোসনা বেগমের মেয়ে; পড়াশোনার সুবাদে এই বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকে।
সুনেহরা বলে উঠলো, — "কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে মশাইরা, একটু আমরাও শুনি বল তো।" রবিন বলে উঠলো, — "এই তো, কালকে কী কী করব এসব নিয়ে।" তখন ইকবাল বলল, — "আচ্ছা সাদমান! নানার ঘরের দরজায় তালা দেওয়া কেন? আমি প্রতিবারই যখন আসি দরজায় তালা দেখি। তোকে জিজ্ঞেস করব করব বলে আর করা হয়নি।"
নিস্তব্ধ চারপাশ, ছাদে থাকা ফুলগাছের আশেপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে শত শত জোনাকি পোকা। মাঝে মাঝে বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ের বন থেকে ভেসে আসছে শিয়ালের ডাক। ইকবালের প্রশ্নে সাদমান চুপ করে রইল।
তার পর সুনেহরাও বলে উঠলো, — "আসলেই তো সাদমান! আমি তো বেশিরভাগ সময়ই এই বাড়িতে থাকি। দরজাটাতে সবসময় তালা দেওয়া কেন থাকে?"
বিষয়টা নিয়ে সবার কৌতূহল বেড়ে চলেছে। তখন হঠাৎ রবিন বলে উঠলো, — "নানার নিখোঁজের পর কি আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি? শুনেছি আমাদের জন্ম হওয়ার আগে থেকেই তিনি নিখোঁজ। আসলে ঘটনা কী হয়েছিল, তুই কি জানিস?"
সাদমান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। তারপর পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরাল। সাদমানের সিগারেট খাওয়ার বদভ্যাস সম্পর্কে সবারই জানা। সিগারেট ধরালেই সুনেহরা চেঁচিয়ে ওঠে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না, সুনেহরা বলে উঠলো, — "এই কুত্তা! তোর এই লাঠিটা মুখে না লাগাইলে কি মুখ দিয়ে কথা বের হয় না? ছি!"
সাদমান একটা মৃদু হাসি দিল। — "তোরা কি আমার সিগারেট নিয়ে ইন্টারেস্টেড নাকি দাদা মাহমুদ শেখের ইতিহাস জানতে?"
সবাই তখন একযোগে বলে উঠলো, — "আচ্ছা, দে বল নানার কাহিনি কী?"
সাদমান তখন সবাইকে চুপচাপ থাকতে বলল। — "এই, ধীরে ধীরে কথা বল। বাবা যদি শুনে ফেলে, তবে সমস্যা হবে।" সুনেহরা তখন বলল, — "কেন কেন? মামা শুনলে কী হবে?" — "কারণ তোদের মামা দাদাকে নিয়ে কোনো কথা বলা পছন্দ করেন না।"
সবাই একটু ভাবুক হলো। নিজের বাবার কথা বলতে পছন্দ করেন না, এর মানে কী? সবাই বসে যেন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। আর অন্যদিকে তিতলি কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনতে ব্যস্ত। তিতলি সাদমানের খালাতো বোন, ইকবাল বড় ফুফুর ছেলে এবং সুনেহরা ও রবিন ভাইবোন—ছোট ফুফুর ছেলেমেয়ে।
তখন সুনেহরা বলল, — "আচ্ছা সাদমান, এখন কি বলবি নানার ইতিহাসটা?"
সাদমান গিয়ে সুনেহরার পাশের চেয়ারে বসল, একেবারে সুনেহরার গা ঘেঁষে। তারপর সুনেহরার কানে কানে বলল, — "বললে আমার কী লাভ?" সুনেহরা ভ্রু কুঁচকে বলল, — "বললে কালকে তোকে কুত্তার গোশত রান্না করে খাওয়াব।" — "দেথ!"
সাদমান সুনেহরার পাশ থেকে উঠে দাঁড়াল এবং বলতে শুরু করল, — "দাদার সম্পর্কে তোরা যতটুকু জানিস, আমিও ততটুকুই জানি। কিন্তু বাবা দাদাকে অনেক চিঠি পাঠাতেন, আবার দাদার কাছ থেকেও জবাব আসত। চিঠিগুলো সব দাদার এই ঘরেই আছে। তারপর আমি শুনেছি, দাদা তাঁর জীবন নিয়ে একটা বই লিখেছেন কিন্তু বইটা প্রকাশ করার আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। আমি যতদূর জানি, বইটাও ওই ঘরেই আছে।"
সবাই চোখ বড় বড় করে সাদমানের কথাগুলো শুনছে এবং সবাই চরম অবাক। ইকবাল বলল, — "সাদমান! এখন ওই ঘরে প্রবেশের উপায় কী?"
সাদমান পকেট থেকে আরেকটা সিগারেট বের করে ধরাল। তখন সুনেহরা চিৎকার করে বলল, — "কুত্তা! মুখের মধ্যে এই বালটা না দিলে কি কথা বের হয় না তোর? তুই আস্ত একটা কুত্তা।" কথাটা বলে নাকে-মুখে গরম নিঃশ্বাস ফেলে সে হাঁপাচ্ছিল। সুনেহরার একদম পছন্দ নয় সাদমানের এই সিগারেটের নেশা। সাদমানের বয়স ২৩ আর সুনেহরার বয়স ২২; তারা সমবয়সী। সুনেহরা বেশিরভাগ সময় এই বাড়িতেই থাকে এবং সাদমানের সাথে তার খুনসুটি লেগেই থাকে। সুনেহরার বকাগুলো সাদমানের বেশ ভালোই লাগে। এমনও দিন গেছে, সাদমান শুধু সুনেহরাকে রাগানোর জন্যই তার সামনে ইচ্ছে করে সিগারেট ধরায়।
— "এই ঝগড়ুটে মহিলা! এখানে আরও ভাইবোনেরা আছে, তাদের মতো চুপচাপ শোন আমি কী বলি।" সাদমান সামনে এগিয়ে একটা চেয়ারের ওপর এক পা রাখল এবং বিচক্ষণ ও তীক্ষ্ণ ভাষায় বলল, — "আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে। এখানে কেউ কি শুনতে চায়?"
সবাই মিলে একসুরে বলে উঠল, — "হ্যাঁ, আমরা শুনতে চাই।" সাদমান চেয়ারে পায়ের ওপর পা তুলে বসল, তারপর বলতে লাগল, — "আমি যেভাবে বলব সেভাবে সবাই কাজ করলে, তবেই আমরা দাদার সেই প্রাচীন কক্ষে প্রবেশ করতে সক্ষম হব।" সুনেহরা বলল, — "আচ্ছা, প্ল্যান কী, সেটা তো বল।" — "ধৈর্য ধরুন, ঝগড়ুটে মহিলা।" — "এই কুত্তা! তুই আমাকে ঝগড়ুটে মহিলা বলা বন্ধ করে তাড়াতাড়ি প্ল্যান বল।" — "তো শোন সবাই।"
এটা বলার পর সবাই সাদমানের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকাল। তারপর সাদমান আবার বলে উঠল, — "শুনতে বলছি সবাইকে।" তখন সুনেহরা ফুঁসে বলে উঠল, — "বল না কুত্তা! তোর গেউ গেউ সবাই শুনছে।" — "না মিস ঝগড়ুটে মহিলা! সবাই শুনছেনা। আপনার বান্ধবী তিতলির হেডফোনটা যদি টেনে নিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারেন, তবে আপনাকে দুই দিন জ্বালাব না।"
সুনেহরা সময় নষ্ট না করে সাথে সাথে চেয়ার থেকে উঠে তিতলির কান থেকে হেডফোনটা ফেলে দিল নিচে। তিতলি চিৎকার করে উঠল, — "এই সুনেহরা! কী করলি এটা তুই? আমার কত দামি হেডফোন ছিল এটা!" এটা বলতে বলতে তিতলি নাককান্না জুড়ে দিল। তখন সুনেহরা বলল, — "চুপ! ন্যাকামি কান্না বন্ধ কর আর সাদমানের প্ল্যান শোন। তো মিস্টার কুত্তা সাদমান, দুই দিন জ্বালানো বন্ধ, তাই না?" — "হ্যাঁ, মিস ঝগড়ুটে মহিলা!" — "শুধু আমি জ্বালাব তোকে, তাই না?" দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে বলল সুনেহরা। — "হ্যাঁ, খারাপ মহিলা!" — "ওয়াও, সে তো দারুণ!"
তিতলি রাগান্বিত কণ্ঠে বলে উঠল, — "তার মানে সুনেহরা, তুই সাদমানের সাথে বাজি ধরে আমার সাথে এমন করলি?" নাক কান্না করতে করতে বলল তিতলি। — "উফ তিতলি, তোর ন্যাকামি কান্না বন্ধ কর। কালকে সালামি পাবো, সেখান থেকে টাকা দিয়ে তোকে একটা হেডফোন কিনে দেব। টাকা গেলে যাক, তোর কুত্তার সাদমানের হাত থেকে তো দুই দিন বাঁচলাম।" এটা বলেই বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সুনেহরা।
চাঁদের আলোয় সুনেহরাকে যেন এক অন্যরকম চাঁদ মনে হচ্ছে। ফর্সা গায়ের রঙ, বাহারি লম্বা চুল, মিষ্টি হাসি—যেন আস্ত একটা কাঠগোলাপ ফুল।
রবিন চেঁচিয়ে বলে উঠল হঠাৎ, — "এই, তোদের এই ন্যাকামি কি বন্ধ করবি? সাদমানকে কি তার প্ল্যানটা বলতে দিবি? নানার নিখোঁজের ইতিহাসটা জানা অনেক জরুরি। এই সাদমান! বল তুই, শুরু কর।" — "না, তোরাই বল। এই চুল্লাদের জ্বালায় আর পারলাম কই। আমি আর বলব না, তোরাই বল গে।"
ইকবাল বলে উঠল, — "এই সাদমান! তুই এবার ন্যাকামি শুরু করলি কেন? বল না তাড়াতাড়ি, প্লিজ।" সাদমান মুখে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল, — "আমার একটা শর্ত আছে।" — "কী শর্ত?" — "সুনেহরাকে বল আমার পা ধরে সালাম করতে, তবেই প্ল্যান বলব।"
সুনেহরা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। সে নিজেকে আর সামলাতে পারল না, সোজা গিয়ে সাদমানের গলা চেপে ধরে বলতে লাগল, — "তোর প্ল্যানের গুষ্টি কিলাই! কুত্তা!" ইকবাল আর রবিন ছুটে গিয়ে সুনেহরাকে টেনে সাদমানের কাছ থেকে আলাদা করল এবং তাকে আবার চেয়ারে এনে  বসালাল।
সাদমান গলায় হাত দিয়ে কাশি দিতে দিতে বলল, — "আমি তোদের আর কোনো প্ল্যান বলব না, শেষ। আমি চলে যাচ্ছি।" তখন রবিন এগিয়ে এসে সাদমানকে থামাল, — "এই সাদমান, এমন কেন করতেছিস? বল না প্ল্যানটা!" — "তাহলে আমার শর্ত মানতে হবে এবং শর্তের মধ্যে একটা পরিবর্তন হবে।"
রবিন বিরক্তির চাহনিতে বলল, — "কী পরিবর্তন?" সাদমান গিয়ে আবার চেয়ারে বসল, পকেট থেকে আরেকটা সিগারেট বের করে ধরাল, তারপর পায়ের ওপর পা তুলে বলতে লাগল, — "তোর বোনকে বল আমার পা ধরে ক্ষমা চাইতে এবং আরেকটা হলো, যে দুই দিন না জ্বালানোর বাজি হয়েছিল সেটা ক্যানসেল।"
সুনেহরা আবার চিৎকার করে উঠল, — "শয়তান কুত্তা! তোর এখনো দম ফুরোলো না? উফ, তোর জ্বালায় আমি বাঁচি না।" ন্যাকামি কান্নার ভঙ্গিতে বলল সুনেহরা। এরপর সবাই মিলে সুনেহরাকে অনুরোধ করতে লাগল। একপর্যায়ে সুনেহরা কানে হাত দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, — "বাস! থাম তোরা! ধরছি আমি ওই কুত্তার পা! উফফ!!!"
সাদমান তখনও পায়ের ওপর পা তুলে অন্যদিকে তাকিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া আকাশে ওড়াচ্ছিল। সুনেহরা বিরক্তিকর চাহনিতে সাদমানের দিকে এগিয়ে গেল, তারপর সাদমানের পা অল্প একটু ছুঁয়ে বিড়বিড় করে বলল, — "আমায় ক্ষমা করে দে।" — "নো নো, শব্দটা হবে 'ক্ষমা করে দেন'। আবার বল, পা ধরে।" — "উফফ! আমাকে ক্ষমা করে দেন।" এটা বলেই সুনেহরা গিয়ে নিজের চেয়ারে বসল।
এরপর সবাই সাদমানকে প্ল্যানটা বলতে অনুরোধ করল। — "প্ল্যানটা একদম সিম্পল! দাদার ঘরের চাবিটা চুরি করতে হবে।" সবাই তখন একসুরে বলে উঠল, — ""চুরি????"
ইকবাল বলে উঠল, — "চুরি? কীভাবে করব চুরি আর চাবি কোথায়, সেটাই তো আমরা জানি না।" — "হ্যাঁ, চুরি করতে হবে! চাবিটা আছে বাবার আলমারিতে।" রবিন তখন বলল, — "মামার আলমারির চাবি আমার জানামতে সবসময় মামার কাছেই থাকে।" — "গরু বোনের গরু ভাই রবিন! শোন, চাবির দুইটা কপি থাকে। একটা বাবার কাছে আছে, আরেকটা আমার আম্মুর কাছে আছে। আর আম্মু চাবিটা ঘুমানোর বালিশের নিচে রাখেন।"
ইকবাল বলল, — "তো মামির বালিশের নিচ থেকে চাবিটা কে নেবে?" সাদমান সিগারেটের শেষ অংশটা জোরে টেনে ফেলে দিতে লাগল। সাদমানকে থামিয়ে সুনেহরা বলল, — "বাল, এটা খেয়ে মরে যাস না কেন কুত্তা?" সুনেহরাকে থামিয়ে রবিন বলল, — "সুনেহরা, থাম।" সুনেহরা মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল।
তারপর সাদমান বলা শুরু করল, — "জল্লাদ মহিলা মিস সুনেহরা! শুনুন আমার প্ল্যানটা। কালকে যখন আমরা ঈদের নামাজ পড়তে যাব, তখন বাড়িতে বাবা-ফুফারা কেউ থাকবেন না। আমরা পুরুষেরা সবাই চলে যাব। চুরিটা করতে হবে তখন। এই চুরির কাজটি আঞ্জাম দেবে আমাদের দুই মহীয়সী নারী—মিস সুনেহরা ও মিস তিতলি।"
সুনেহরা ফুঁসে বলে উঠল, — "আমি কোনো চুরি করতে পারব না।" — "আপনাকে যে চুরিটা করতেই হবে, মিস সুনেহরা। কারণ আমি আপনাকে চোর বানাতে চাই।" — "এই কুত্তা, সর! আমি পারব না। তোর চুরি তুই কর গে।" — "তিতলি আর সুনেহরা, তোমরা শোন। তিতলি আমার আম্মুকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখবে আর এই দিকে সুনেহরা গিয়ে বালিশের নিচ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে  দ্বিতীয় ড্রয়ার থেকে চাবিটা চুরি করবে—এটাই প্ল্যান।"
তখন ইকবাল বলে উঠল, — "মামা যদি পরে জানে যে তার আলমারি থেকে নানার ঘরের চাবিটা গায়েব?" — "না, ইকবাল জানবে না! কারণ বাবা তেমন একটা ওই আলমারি খোলেন না। এখন সুনেহরা আর তিতলিকে ভালো করে বুঝিয়ে বল, আমি গেলাম, অনেক ঘুম পাচ্ছে।"
এটা বলেই সাদমান ছাদ থেকে নিচের সিঁড়ি দিয়ে চলে গেল।
[চলবে...]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন