#Darkness_Love_Said
#মুক্তি_আক্তার_শ্রাবন্তী
#পর্ব_০২
তিয়াশ এগিয়ে এসে একটানে মুসকানকে শুয়া থেকে বসিয়ে দেয়। মুসকান শরীর অসহ্য ব্যাথায় আর দূর্বলতার কারনে ঢলে পরছিলো। কিন্তু এতে বিন্দু মাত্র দয়া হলো না তিয়াশের। সে তো মেতে আছে প্রতিশোধের নেশায়। তিয়াশ মুসকানকে ধাক্কা দিয়ে বেড থেকে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বলে........
তোকে এই বাড়িতে শুয়ে-বসে খাওয়ানোর জন্য আনিনি। আজ থেকে আমার সমস্ত কাজ তুই নিজে করবি। আমার কাপড় ধোয়া থেকে আমার এঁটো প্লেট টা পর্যন্ত তুই ধুবি। ওয়াশরুমে আমার কাপড় আছে, যা গিয়ে ধুয়ে ছাদে নেড়ে দিয়ে আসবি।
মুসকান অসহায় চোখে তিয়াশের দিকে তাকায়। মুসকানের শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। মুসকান বেশিক্ষণ আর বসে থাকতে পারলো না। যেই না উঠে দাড়াবে, ওমনি মাথা গুড়িয়ে ফ্লোরে পরে যায়। তিয়াশ তা দেখে বিরক্তি শ্বাস ফেলে মুসকানকে ওখানে রেখেই আবারো রুম থেকে বের হয়ে যায়।
প্রান ঘন্টাখানেক পর মুসকানের সেন্স আসলে সে তার পাশে তানহাকে দেখতে পায়। তানহা আতঙ্কিত মুখ নিয়ে মুসকানের পাশে বসে আছে। মুসকান উঠে বসতে নিলে তানহা বাধা দিয়ে বলে..........
ভাবি উঠো না, তুমি জ্বর বাধালে কিভাবে? তোমার তো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছিলো। আমি আর তানজিল তোমাকে ডাকতে এসে দেখি ফ্লোরে পরে আছো।
মুসকান কিছু বলতে পারছে না, তার গলা বেধ করে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না। সে শুধু করুন চোখে তানহার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। তা দেখে তানহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে..........
কেঁদো না ভাবি, আমি জানি ভাইয়া তোমার সাথে ভালো আচরন করেনি। ভাইয়া ভাবছে তোমার ফুপির পালিয়ে যাওয়ার পিছনে তোমার হাত আছে। আজ যা হচ্ছে সব তোমার ফুপির জন্যই হচ্ছে। সে গেলো তো গেলো তোমার নাম আবার কেনো চিঠিতে উল্লেখ করলো? আজ চিঠিতে তোমার নাম না থাকলে ভাইয়া তোমার সাথে এমনটা কখনোই করতো না। জানো ভাবি, ভাইয়া তোমার ফুপিকে নিয়ে কতশত স্বপ্ন বুনেছিলো। সে প্রায় বলতো সাথীর সাথে মুসকানকেও এই বাড়িতে নিয়ে আসবো। মেয়েটা অবুঝ ফুপি ছাড়া কিছু বুজে না। মুসকান হবে আমাদের প্রথম সন্তান। ভাইয়ার কথা গুলো শুনে আমরা সবাই খুশি হতাম। কিন্তু ভাগ্যের কি লীলাখেলা। তোমাকে যে সন্তান ভাবলো, আজ তারই বউ তুমি।
মুসকান কিছু বললো না, শুধু চুপচাপ শুনলো। কারন সে ও গতকালের আগের দিন পর্যন্ত ভাবতো তিয়াশ তাকে স্নেহ করে একদম সন্তানের মতো। কিন্তু গতকাল তিয়াশ সবটা ভুল প্রমান করে দিলো। তানহা আর কিছু বলবে তার আগেই রুমে দরজা ঢেলে প্রবেশ করে তানজিল। সে এসেই মুসকানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলে.........
ভাবি এখন কেমন লাগছে? ডক্টর এসে তোমার মেডিসিন দিয়ে গেছে। এখন একটু সুস্থ বোধ করছো?
তানজিলের কথায় মুসকান মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে। মুসকান সাথীর সাথে বেশ কয়েকবার শিকদার প্যালেস এসেছিলো বলে সবার সাথেই তার ভালো সখ্যতা। সবার সাথেই সে পূর্বপরিচিত। কিন্তু তখনের পরিচয় আর আজকের পরিচয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ। তানজিল রুমে ডুকে বেডের এক কোনে বসতেই একজন সার্ভেন্ট এসে খাবার দিয়ে যায়। তানহা নিজ হাতে মুসকানকে খাইয়ে দেয় আর বিভিন্ন কথা বলতে থাকে, সাথে তানজিলও। তানজিল হঠাৎ করে বলে উঠে........
ভাবি, তুমি এবার দশম শ্রেনিতে তাই না?
মুসকান মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুজায়। তা দেখে তানজিল আবার বলে..........
তোমাদের তো আর ১৬ দিন পর টেস্ট এক্সাম?
এবারো মুসকান মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুজায়। তানজিল মুসকানের দিকে তাকিয়ে বলে.......
কাল থেকে স্কুলে যেও, এখন ক্লাস মিস করা মানে অনেক কিছু মিস করা।
মুসকান এবারো মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুজায়। তারপর আর কেউ কিছু বলে না। তানহা মুসকানকে খাইয়ে মেডিসিন খাইয়ে আবারো বেডে শুয়ে দিয়ে দুজনে চলে যায়। মুসকান আবারো ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়।
___________________
কিয়ান তুমি এসব কি বলছো? তিয়াশ এটা কিভাবে করতে পারলো? আমার এতটুকু মেয়েকে তিয়াশ কিভাবে বিয়ে করতে পারলো? ও আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলবে কিয়ান।
আমি যা বলছি সব সত্যি সাথী। তিয়াশ মুসকানকে বিয়ে করেছে। রিয়াদ আমাকে বলেছে। কাল বিয়েতে ও উপস্থিত ছিলো। তোমার বড় ভাই কিসের প্রোজেক্টের শেয়ারের জন্য মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। আর তুমি কি পাগল সাথী চিঠিতে কেনো মুসকানের নাম নিলে। তোমার এই ভুলের মাসুল ওই ছোট মেয়েকে দিতে হচ্ছে।
কিয়ান আমি তো ভেবেছি মুসকান চিঠি টা পাবে। আমি ফোন না দিলে আমাকে খুঁজতে রুমে এসে চিঠি টা ও পাবে। কিন্তু এটা কি হলো। আমার মেয়েটা মরে যাবে কিয়ান। তিয়াশের সম্পর্কে তোমার ধারনা নেই। আমি শুধু শুধু ওকে ছেড়ে আসিনি। তিয়াশের জীবন কখন কোথায় শেষ হবে, তা কারো জানা নেই। তিয়াশের আসল পরিচয় এখনো কেউ জানে না কিয়ান। আর আমি যদি কাউকে জানাতাম তাহলে তিয়াশের হাতে আমাকে মরতে হতো। আল্লাহ আমি এখন কি করবো, আমার মেয়েটাকে আমি কিভাবে বাঁচাবো?
সবটা তোমার জন্য হয়েছে সাথী। আজ তোমার জন্য মুসকান বিপদে। আল্লাহ জানে ওই জানোয়ার টা এতটুকু বাচ্চার সাথে কিরূপ আচরন করছে।
সাথী অঝোরে কান্না করতে থাকে কিয়ানের কথা শুনে। হ্যা কিয়ান তার ভালোবাসার মানুষ। তিয়াশের সাথে সম্পর্কের ১ বছর পার হতেই সাথী তিয়াশের ব্যাপারে এমন কিছু জেনে যায়, যা জানা তার মোটেও ঠিক ছিলো না। তিয়াশ তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলো,,,সাথী কাউকে এসব বললে সে সাথীকে মেরে ফেলবে। আর সাথীকে তার সাথে সারাজীবন থাকতে হবে, অন্যথায় সাথীর মৃত্যু তিয়াশের হাতে হবে। সেদিন সাথী ভয় পেয়ে রাজী হয় তিয়াশের সাথে থাকার, আর তিয়াশ যা বলতো তাই করতো। কিন্তু সাথী তিয়াশের আড়ালে কিয়ানের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। সে এমন ভাবে কিয়ানের সাথে সম্পর্কে থাকতো, যা কারো বুজার সাধ্য ছিলো না। সাথীর কোনো কালেই মুসকানকে রেখে বাহিরে সেটেল হওয়ার স্বপ্ন ছিলো না। শুধু মাত্র তিয়াশের হাত থেকে পালাতে চিঠিতে লিখেছে সে তার আমেরিকান বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালাচ্ছে।
কিয়ান এক হাতে সাথীকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে থাকে। কিন্তু কিয়ানের নিজেরই চিন্তায় মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। সে নিজেও মুসকানকে খুব ভালোবাসে। মুসকানের মতো মিষ্টি একটা মেয়ে স্নেহ না করে কেউ থাকতেই পারবে না।
_________________
রাত প্রায় ১২ টার কাছাকাছি, জ্বরের তীব্রতার কারনে মুসকান বেড ছেড়ে উঠতে পারেনি। তানহা আর তানজিল আর তাদের বাবা তাজুল শিকদার এসে তার খোঁজ-খবর নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতো কিছুর মাঝে তিয়াশের মা নিপা বেগম একবারো মুসকানকে দেখতে আসেনি। বিয়ে বাড়ির সমস্ত ঘটনা জানার পর, তার মনেও ধারনা হয় মুসকান সাথীকে পালাতে সাহায্য করেছে। সাথীকে সে ভীষন পছন্দ করতো ছেলের বউ রুপে। কিন্তু মুসকানের জন্য আজ সাথী তার ছেলের বউ হলো না, বরং মুসকান বউ হলো। এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তাই মুসকানের অসুস্থতার কথা শুনেও সে দেখতে আসেনি।
মুসকান ঘুমিয়ে আছে বেডের এক কোনে গুটি-শুটি মেরে। তখনই রুমে প্রবেশ করে তিয়াশ, তার হাতে ব্যান্ডেজ, নেশায় টলছে। ঠিক মতো দাড়ানোর ক্ষমতা টুকুও নেই। রুমে ডুকে আশেপাশে না তাকিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়। আধঘণ্টা পর শাওয়ার নিয়ে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে কোমড়ে একটা টাওয়াল পেছিয়ে রুমে এসে বেডে দিকে চোখে যেতেই মুসকানকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তার নিভে আসা রাগটা পুনরায় জীবিত হয়ে যায়। সে এগিয়ে এসে বেডের উপর উঠে মুসকানের উপর আধশোয়া হয়ে শুয়ে মুসকানের অধরে অধর মিলিয়ে দেয়। ঘুমের মাঝে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করে উঠে। তা দেখে তিয়াশ তার ডান হাতে মুসকানের দুই হাতে মাথার উপর তুলে শক্ত করে বেডের সাথে চেপে ধরে। মুসকানের দুই চোখ বেয়ে অঝোরে পানি পরতে থাকে।
পুরো ২০ মিনিট পর তিয়াশ মুসকানের অধর ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেতেই মুসকান হাপরের মতো শ্বাস নিতে থাকে। কিন্তু সেটাও সহ্য হলো না তিয়াশের, সে সাথে সাথে মুসকানের গলার ভাজে তার দন্তপাটি বসিয়ে দেয়। আর সাথে সাথে মুসকান চিৎকার করে উঠে। রুম সাউন্ড প্রুফ হওয়ায় মুসকানের আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছালো না। মুসকান কাঁদতে কাঁদতে বলে.......
আল্লাহর দোহায় লাগে আমাকে আর এভাবে অত্যাচার করবেন না। আমি এবার মরে যাবো। আপনি প্লিজ একটু দয়া করুন আমার উপর। আপনি তো এমন ছিলেন না তিয়াশ আঙ্কেল।
এমন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত মুসকানের কান্না সাথে আঙ্কেল ডাকায় তিয়াশের রাগ যেনো সপ্তম আকাশ পৌঁছায়। সে মুখ উঠিয়ে মুসকানের গলা চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে........
আমি তোর আঙ্কেল গত কালকের আগ পর্যন্ত ছিলাম। গত কাল আমার নামে কবুল বলার পর তুই আমার দাসী হয়েছিস। আরেকবার ভুল করেও ওই মুখে আঙ্কেল ডাকলে তোর জিভ আমি কেটে ফেলবো।
তিয়াশের নিরব হুমকিতে আরো কেপে উঠে ছোট্ট মেয়েটা। তিয়াশ কথা গুলো বলেই মুসকানের জামার গলার অংশ ধরে একটানে ছিড়ে ফেলে। যার ধরন তিয়াশের সামনে মুসকানের বক্ষ উন্মুক্ত হয়ে যায়। তিয়াশ নিজের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে মুসকানের বক্ষের নরম মাংসে চাপ প্রয়োগ করে। আর মুসকান আকাশ-বাতাস কাপিয়ে চিৎকার করতে থাকে। মুসকান নিজেকে ছাড়ানো বৃথা চেষ্টা করে। তিয়াশ এক হাতে মুসকানের দুই হাত আটকে রেখে আরেক হাতে মুসকানের পুরো শরীরে অবাধ্য বিচরন করতে থাকে। তিয়াশের হাতের বিচরন এসে থামে মুসকান নিষিদ্ধ জায়গা। তিয়াশ সেখানেও খামচে ধরার মতো করে চেপে ধরে। মুসকানের এবার দম ফুরাবার পালা। তিয়াশ হাত সরিয়ে সাইড থেকে মুসকানের ওড়না নিয়ে মুসকানের হাত বেধে বেডের সাথে বেধে দেয়। তারপর মুসকানের উন্মুক্ত বক্ষের নরম মাংসে মুখ নামিয়ে এনে কামড়ে ধরে। মুহূর্তেই মুসকানের নরম মাংসে তিয়াশের দন্তপাটির দাগ বসে রক্তের ছোপ ছোপ রেখা দেয়। তিয়াশ একটানে মুসকানের সেলোয়ার খুলে ফ্লোরে ফেলে দেয়। তারপর নিজের পৈশাচিক চাহিদা মেটাতে পশুর মতো হামলে পরে মুসকানের উপর। মুসকান অসহায়নী ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কিছু মুহূর্ত পার হতেই সেন্সলেস হয়ে যায়। তবুও থামে না তিয়াশ।
পাক্কা দেড়ঘন্টা মুসকানের উপর নিজের অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে মুসকানের ওপর পাশে শুয়ে পরে। জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে ঘাড় ঘুড়িয়ে পাশে অচেতন মুসকানকে দেখে বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেলে। তারপর বেড থেকে উঠে দাড়িয়ে কোমড়ে টাওয়াল পেঁচিয়ে মুসকানকে পাঁজাকোলে তুলে নেয়। মুসকানকে কোলে তুলে নিতেই তিয়াশ মুসকানের গায়ের তাপমাত্রা আঁচ করে। তারপর কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতেও যেনো তিয়াশের কোনো রকম মায়া হলো না। সে মুসকানকে ওয়াশরুমে নিয়ে বাথটবে আচড়ে ফেলার মতো ফেলে দিয়ে বালতি ভর্তি পানি মুসকানের শরীরে ঢেলে দেয়। মুসকান তাতে ধরফড়িয়ে উঠে সামনে তাকিয়ে তিয়াশকে দেখে আরো ঘাবড়ে যায়। পুরো শরীর যেনো তার জ্বলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ যেনো তার পুরো গায়ে মরিচের গুড়ো ঢেলে দিয়েছে। মুসকান আল্লাহকে এক মনে স্মরন করতে থাকে। তার মনে হচ্ছিলো আজই যেনো তার শেষ দিন। সবকিছু তার চোখে ঝাপসা লাগছিলো। তিয়াশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মুসকানকে পর্যবেক্ষণ করে শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে যায়। আর মুসকান সেখানেই পরে থাকে।
প্রায় ১ ঘন্টা পার হওয়ার পরও মুসকান কে ওয়াশরুম থেকে বের হতে না দেখে তিয়াশ ভ্রু কুঁচকে ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকায়। না কেনো আওয়াজও নেই। তিয়াশ বিরক্তি শ্বাস ফেলে ওয়াশরুমে ডুকে দেখে মুসকান এখনো একিভাবে বাথটবে পরে গোঙ্গরাচ্ছে। তিয়াশ এবার দ্বিগুন বিরক্তি নিয়ে মুসকানকে ধরে শাওয়ার নেওয়ায়। তারপর বাথরোব গায়ে জড়িয়ে রুমে এনে বেডে শুয়ে দিয়ে একটা পেইন কিলার আর বার্থ কন্ট্রোল পিল খাইয়ে দেয়। এরপর রুমে লাইট অফ করে মুসকানকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে। মুসকান জ্বরের ঘোরে তিয়াশের উষ্ণ বুকটাকে আশ্রয়স্থল ভেবে বিড়ালছানার মতো গুটিয়ে যায়। তিয়াশ কিছু না ভেবে চোখ বন্ধ করে রাখে, আর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পরে।
__________________
আজকের সকাল টা যেনো বিষণ্ণতায় ঘেরা। মুসকান দাড়িয়ে আছে বারান্দায়। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। যে মেয়েটা অসুস্থ হলে এক সময় পুরো বাড়ির মানুষ পাগল হয়ে যেতে, আজ তার এতটা অসুস্থতার সময়েও তার পাশে কেউ নেই। কিন্তু স্বামী নামক অমানুষটা আছে শারীরিক নির্যাতন করার জন্য। মুসকান আকাশ পানে তাকিয়ে নিরবে চোখ পানি ফেলতে ফেলতে বলে..........
আম্মু দেখছো তোমাদের আদরের মুসকানের করুন পরিনতি। তোমার মেয়ে ভালো নেই আম্মু। আমি মরে যাচ্ছি আম্মু। আমাকে তুমি তোমার কাছে নিয়ে যাও আম্মু। ফুপিও আমাকে ধোকা দিয়ে চলে গেলো আর তুমি এই স্বার্থপর পৃথিবীতে একা ফেলে চলে গেলে। আম্মু তোমার মুসকানের বড্ড কষ্ট হচ্ছে। আম্মু তুমি ফুপির স্বপ্নে গিয়ে বলে এসো তার ছোট মুসকান ভালো নেই। সে যেনো ফিরে এসে আবার সব ঠিক করে দেয়। আমি পারছি না আম্মু।
মুসকান কথা গুলো বলেই ডুকরে কেঁদে উঠে। আচমকা ঠান্ডা হাতের শীতল স্পর্শ তার উদরে লাগতেই কেপে উঠে মুসকান। তিয়াশের উপস্থিতি বুজতে পেরে মুসকান থরথর করে কেপে উঠে। তিয়াশ মুসকান চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে হিসহিসিয়ে বলে........
আমার নামে নালিশ করছিস তোর মরা মায়ের কাছে? তোর মরা মা আমাকে কি করতে পারবে রে? কিছুই করতে পারবে না। আর কি বললি তোর ফুপি ফিরে এসে সব ঠিক করে দিতে? কিছুই আর ঠিক হবে না। তোকে আমি বিয়ে করেছি মানে তোকে সারাজীবন আমার সাথেই থাকতে হবে। তুই মরে গেলেও তোর লাশ নিয়ে আমি থাকবো। তবুও তোর রেহাই নেই আমার হাত থেকে। তোর ফুপির বেইমানির ফল তুই সারাজীবন ভোগ করবি রে মুসকান।
মুসকানের মুখে কোনো কথা নেই। সে কথা বলতে যেনো ভুলে গেছে। তার শরীর ক্রমে ঢলে পরতে চাইছে। তিয়াশ মুসকানের অবস্থা বুজে কুটিল হেসে মুসকানের জামা বেদ করে হাত মুসকানের বুকে নিয়ে বুকের নরম মাংসে খামচে ধরে। এবার আর সহ্য করতে পারলো না মুসকান। আচমকা ঘুরেই তিয়াশের গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।
তুই নিজেকে কি ভাবিস? তোর কি আমাকে মানুষ মনে হয় না? তোর মাঝে আদৌ কোনো মানুষের সত্ত্বা আছে, নাকি জানোয়ারে পরিনত হয়েছিস? লজ্জা করে না এক সময় যাকে মেয়ে ভাবতি আজ তার উপর নিজের দৈহিক চাহিদা পূরন করতে? তুই তো কোনো সাধারন মানুষই না, তুই পুরো সাইকো একটা। ফুপি ভালোই করেছে তোর মতো জানোয়ারকে বিয়ে না করে।
মুসকান কথা গুলো বলেই রাগে কাঁপতে থাকে। আর তিয়াশ মুসকানের হাতে থাপ্পড় খেয়ে ডান দিকে হেলে পরে সেভাবে থেকেই মুসকানের কথা গুলো শুনে। মুসকান থামতেই তিয়াশ ঝড়ে গতিতে মুসকানের গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। থাপ্পড়ের দাপটে মুসকান ফ্লোরে পরে আর্তনাদ করে উঠে। তিয়াশের রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। চোখ দুটো লাল বর্ন ধারন করেছে। হাতের শিরা গুলো ফুলে উঠেছে। তিয়াশ মুসকানের চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলে দাতে দাত পিষে বলে.........
আমি জানোয়ার, আমি সাইকো, আমি নিকৃষ্ট, আমি শয়তান, আমি চরিত্রহীন, আমার মাঝে কোনো মানুষের সত্ত্বা নেই। তবুও তোকে আমার সাথে থাকতে হবে। কি যেনো বললি? তোর ফুপি পালিয়ে গিয়ে ভালো করছে, তাই না? তা তুই ঠিকি বলেছিস! আজ তোর ফুপি পালিয়েছে বলেই তোর মতো কচি মাল কে বিয়ে করে আনতে পেরেছি। এবার নিজের চাহিদাও মেটাবো, আর তোকে দিয়েই আমাকে ঠকানোর প্রতিশোধ নিবো।
কথা গুলো বলেই তিয়াশ মুসকানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আর সাথে সাথে বারান্দার রেলিং এর সাথে কপাল লেগে ফুলে যায়। তিয়াশ সেখান থেকে রুমে এসে ওয়াশরুমে চলে যায়। মুসকান সেখানে বসে থেকেই হাটু ভাজ করে দুই হাত দিয়ে হাটু আঁকড়ে ধরে সেখানে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠে।
চলবে.....................