ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়ার পেছনের সত্য

১ম পর্ব

লেখক: সেতু আক্তার

রিয়া ছিল একদম সাধারণ একটা কলেজ স্টুডেন্ট।

নতুন শহর, নতুন কলেজ, নতুন জীবন-সবকিছুই তার কাছে একটু অচেনা লাগছিল। কিন্তু সে চেষ্টা করছিল নিজেকে মানিয়ে নিতে।
সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার।
ক্লাস শেষ করে রিয়া একা একা বাসায় ফিরছিল। রাস্তাটা ভীষণ ব্যস্ত ছিল, কিন্তু তার মনটা ছিল অন্য কোথাও।
হঠাৎ-
তার ফোন কেঁপে উঠল।
একটা নোটিফিকেশন।
অচেনা ফাইল।
নাম লেখা ছিল-
"DON'T OPEN"
রিয়া ভ্রু কুঁচকে গেল।
- "এটা আবার কী?"
প্রথমে সে ভাবল এটা স্প্যাম বা ফেক ফাইল। কিন্তু তার ভেতরের কৌতূহল তাকে থামতে দিল না।
সে ফাইলটা ওপেন করল।
 ভিডিও শুরু হলো...
একটা অন্ধকার ঘর।
ঘরের মাঝখানে একটা চেয়ার।
চেয়ারে বসে আছে একটা মেয়ে।
তার হাত বাঁধা।
আর ক্যামেরার পেছন থেকে একটা ভারী কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে-
- "তুই যেটা দেখছিস, সেটা যদি কারও সাথে শেয়ার করিস... তাহলে তুই পরের জন হবি।"
ভিডিওটা হঠাৎ কেটে গেল।
 স্ক্রিন ব্ল্যাক।
রিয়া কয়েক সেকেন্ড নড়তে পারল না।
তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
- "এটা... আমি কেন পেলাম?"
সে আবার ভিডিওটা খুঁজে দেখল।
কিন্তু-
ফাইল নেই
 নোটিফিকেশন নেই
 কোনো ট্রেস নেই
যেন কিছুই হয়নি।
🌙 সেই রাত
রিয়া সারারাত ঘুমাতে পারল না।
বারবার মনে হচ্ছিল সেই মেয়েটার চোখ।
ভয় + অসহায়তা + অজানা একটা কণ্ঠস্বর-সব মিলে তার মাথা ভার হয়ে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই তার ফোন আবার কেঁপে উঠল।
একটা মেসেজ।
অচেনা নাম্বার।
"তুই ভিডিওটা দেখেছিস, তাই না?"
রিয়ার বুক ধক করে উঠল।
সে দ্রুত রিপ্লাই দিল-
"তুমি কে? কে পাঠিয়েছে এটা?"
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর উত্তর এলো-
"আমি সেই মানুষ, যে তোকে এখন থেকে দেখছে।"
রিয়া ফোনটা প্রায় ফেলে দিচ্ছিল।
তার হাত কাঁপছিল।
সে আবার লিখল-
"মজা করছ?"
কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
শুধু seen।
পরের দিন কলেজ
রিয়া চেষ্টা করল সবকিছু ভুলে যেতে।
"এটা নিশ্চয়ই কোনো prank," সে নিজেকে বুঝাল।
কিন্তু কলেজে ঢুকতেই সবকিছু আরও অদ্ভুত লাগল।
ক্লাসরুমে ঢোকার সময় পেছন থেকে কেউ বলল-
- "তুই ঠিক আছিস?"
রিয়া ঘুরে তাকাল।
একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
শান্ত মুখ, গভীর চোখ, আর অদ্ভুত একটা আত্মবিশ্বাস।
- "তুমি কে?" রিয়া জিজ্ঞেস করল।
ছেলেটা একটু থেমে বলল-
- "আমি আরিফ।"
রিয়া কিছু বলার আগেই আরিফ নিচু স্বরে বলল-
- "তুই যে ভিডিওটা দেখেছিস... সেটা ভুল করে তোর কাছে আসেনি।"
রিয়ার মুখ শক্ত হয়ে গেল।
- "মানে?"
আরিফ চারপাশে তাকিয়ে বলল-
- "এই কলেজে কিছু জিনিস আছে... যেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না।"
রিয়া বিরক্ত হয়ে বলল-
- "তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ?"
আরিফ হালকা হাসল, কিন্তু হাসিটা স্বাভাবিক ছিল না।
- "ভয় না... সতর্ক করছি।"
 দূরের ছায়া
কলেজের ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল একজন ছেলে।
সাদা শার্ট, নিখুঁত চুল, আর মুখে শান্ত হাসি।
তার নাম-শুভ্র।
সে নিচে রিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার হাতে ফোন।
স্ক্রিনে লেখা-
TARGET: RIYA
সে আস্তে করে বলল-
- "শুরু হয়ে গেছে..."
 শেষ দৃশ্য
রিয়া জানে না-
তার জীবন এখন আর আগের মতো থাকবে না।
আরিফ জানে কিছু একটা... কিন্তু পুরোটা না।
আর শুভ্র-
সে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে... নীরবে।রিয়া আজ কলেজে আসে একটু অন্যভাবে।
গত রাতের সেই ভিডিও আর অচেনা মেসেজ তার মাথা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও যায় না। বারবার মনে হয়-কেউ যেন তাকে নজর রাখছে।
কিন্তু সে নিজেকে বোঝায়-
- "এটা শুধু কোনো prank... কিছুই না।"
--- কলেজে সকাল
ক্লাস শুরু হয়।
কিন্তু রিয়া আজ ক্লাসে মন দিতে পারে না।
তার চোখ বারবার ঘুরে যায় চারদিকে।
প্রতিটা মুখ আজকে অচেনা লাগে।
ঠিক তখনই-
তার পাশে এসে বসে আরিফ।
শান্ত গলায় বলে-
- "তুই ঠিক আছিস?"
রিয়া একটু বিরক্ত হয়ে বলে-
- "তুমি কি আমাকে ফলো করছ নাকি?"
আরিফ হালকা হাসে।
- "না... আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই তুই এখনও safe আছিস কিনা।"
রিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
- "মানে?"
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ থাকে।
তারপর নিচু গলায় বলে-
- "গতকাল যে ভিডিওটা তুই দেখেছিস... সেটা সাধারণ কিছু না।"
রিয়া ধীরে ধীরে তার দিকে ঘুরে তাকায়।
- "তুমি আবার শুরু করছ?"
আরিফ এবার সিরিয়াস হয়ে যায়।
- "আমি মজা করছি না।"
---
হঠাৎ ফোন কাঁপে
রিয়ার ফোন আবার কেঁপে ওঠে।
Unknown notification.
একটা নতুন ফাইল এসেছে।
নাম:
"WATCH AGAIN"
রিয়া এক মুহূর্ত থেমে যায়।
তার হাত ঠান্ডা হয়ে আসে।
আরিফ দ্রুত বলে-
- "ওটা খুলিস না!"
কিন্তু রিয়া থেমে থাকতে পারে না।
তার কৌতূহল আবার জেগে ওঠে।
সে ফাইলটা ওপেন করে ফেলে।
এবার ভিডিওটা আরও ভয়ংকর।
একটা অন্ধকার করিডোর।
দেয়ালে লেখা:
> "তুই পালাতে পারবি না"
ক্যামেরা ধীরে ধীরে এগোয়।
আর হঠাৎ-
একটা দরজা খুলে যায়।
ভেতর থেকে দেখা যায়-
একটা চেয়ার...
আর সেই চেয়ারে বসে আছে একজন মেয়ে।
তার মুখ পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু তার হাতে লেখা আছে-
"RIYA"
রিয়া হঠাৎ ফোন ফেলে দিতে যায়।
কিন্তু তখনই ভিডিওতে কণ্ঠস্বর শোনা যায়-
- "তুই দেখছিস... তাই এখন তুই আমাদের।"
ভিডিও শেষ।
---
রিয়া কাঁপতে থাকে।
তার শ্বাস দ্রুত হয়ে যায়।
আরিফ এবার তার হাত ধরে ফেলে-
- "শোন, তুই একা না।"
রিয়া ফিসফিস করে বলে-
- "এটা কী হচ্ছে আমার সাথে?"
আরিফ নিচু গলায় বলে-
- "তুই এখন একটা খেলায় ঢুকে গেছিস... যেটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে।"
---
কলেজের ছাদে দাঁড়িয়ে শুভ্র।
তার হাতে ফোন।
স্ক্রিনে লেখা আপডেট:
"Target reacting as expected."
সে হালকা হাসে।
- "ভালো... ভয় কাজ করছে।"
তার পাশে দাঁড়িয়ে একজন লোক বলে-
- "পরের স্টেপ?"
শুভ্র ধীরে ধীরে বলে-
- "এখন ওকে একা হতে দাও।
রিয়া বুঝতে পারে-
এই ভিডিও শুধু ভিডিও না...
এটা কোনো warning না...
এটা একটা শুরু।
আর সে ইতিমধ্যে এই খেলায় ঢুকে গেছে।রিয়া সারারাত ঘুমাতে পারে না।
চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যটা ভেসে আসে-
অন্ধকার ঘর, চেয়ার, আর দেয়ালে লেখা তার নাম।
RIYA
সে বারবার নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে-
- "এটা কোনো prank... কেউ ভয় দেখাচ্ছে শুধু..."
কিন্তু মনের ভেতর একটা ভয় চুপচাপ বেড়েই চলেছে।
---
 পরের দিন সকাল
কলেজে ঢুকতেই পরিবেশটা অন্যরকম লাগে।
কেউ বেশি কথা বলছে না।
কেউ কেউ নিচু গলায় ফিসফিস করছে।
রিয়া ক্লাসে ঢুকতেই তার বন্ধু তানিয়া দৌড়ে আসে।
- "রিয়া... তুই খবরটা শুনেছিস?"
রিয়া থেমে যায়।
- "কী খবর?"
তানিয়া একটু কাঁপা গলায় বলে-
- "নোভা... আমাদের ব্যাচের মেয়ে... গতকাল থেকে নিখোঁজ।"
রিয়ার বুক ধক করে ওঠে।
- "কী বলছিস তুই?"
তানিয়া ফোন বের করে একটা ছবি দেখায়।
নোভা।
হাসিখুশি একটা মেয়ে।
রিয়ার মাথায় হঠাৎ সেই ভিডিওর মেয়েটার ছবি ভেসে ওঠে।
চেয়ারে বসা...
হাত বাঁধা...
---
মনে হচ্ছে সব জুড়ে গেছে
রিয়া দ্রুত নিজের ফোন বের করে।
পুরোনো ভিডিও খুঁজতে থাকে।
কিন্তু-
 ভিডিও নেই কোনো ফাইল নেই কোনো প্রমাণ নেই
যেন কিছুই ঘটেনি।
ঠিক তখনই-
পেছন থেকে একটা শান্ত গলা শোনা যায়।
- "তুই আবার খুঁজছিস?"
রিয়া ঘুরে তাকায়।
আরিফ দাঁড়িয়ে।
তার চোখে আগের মতোই সেই রহস্যময় শান্তি।
- "তুমি জানো কিছু?" রিয়া জিজ্ঞেস করে।
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ থাকে।
তারপর ধীরে বলে-
- "নোভা... প্রথম ছিল।"
রিয়া থমকে যায়।
- "মানে?"
আরিফ চারপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বলে-
- "এই কলেজে একটা জিনিস শুরু হয়েছিল অনেক আগে... আমরা কেউ জানতাম না।"
রিয়া রেগে যায়।
- "তুমি সবসময় অর্ধেক কথা বলো কেন?"
আরিফ এবার তার দিকে সরাসরি তাকায়।
- "কারণ পুরো সত্যটা জানলে তুই এখানে এক মুহূর্তও থাকবি না।"
---
 নতুন মেসেজ
রিয়ার ফোন হঠাৎ কেঁপে ওঠে।
Unknown number।
মেসেজ:
> "নোভাকে খুঁজতে চাইলে রাত ১২টায় কলেজ লাইব্রেরির ভিতরের পুরোনো রুমে আয়।"
রিয়া একদম স্থির হয়ে যায়।
আরিফ দ্রুত বলে-
- "যেও না।"
রিয়া তাকায়।
- "তাহলে সত্যটা আমি জানব কীভাবে?"
আরিফ চুপ।
তার চোখে প্রথমবার একটু ভয় দেখা যায়।
---
 রাত নামল কলেজ লাইব্রেরি।
পুরো বিল্ডিং প্রায় অন্ধকার।
শুধু করিডোরে একটা পুরোনো লাইট টিমটিম করছে।
রিয়া ধীরে ধীরে ভেতরে ঢোকে।
তার পেছন থেকে দূর থেকে আরিফ তাকে ফলো করছে।
--
চারপাশে শুধু বইয়ের গন্ধ।
নীরবতা।
হঠাৎ-
একটা বই নিজে নিজে তাক থেকে পড়ে যায়।
ঠাস!
রিয়া চমকে ওঠে।
সে নিচু হয়ে বইটা তোলে।
বইটা খুলতেই ভেতরে একটা কাগজ।
লেখা:
> "তুই দেরি করছিস, রিয়া..."
রিয়ার শ্বাস দ্রুত হয়ে যায়।
ঠিক তখনই-
আরেকটা শব্দ।
ক্লিক...
একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
সে দ্রুত পেছনে তাকায়।
অন্ধকার থেকে একটা কণ্ঠস্বর শোনা যায়-
- "তুই সত্য খুঁজতে এসেছিস... কিন্তু সত্য তোকে খুঁজে নিয়েছে।"
রিয়া কাঁপা গলায় বলে-
- "কে তুমি?!"
কোনো উত্তর নেই।
শুধু ধীরে ধীরে একটা লাইট জ্বলে ওঠে।
আর সেখানে-
একটা দেয়ালে বড় করে লেখা:PROJECT SHADOW রিয়া দেয়ালের দিকে তাকাতেই হঠাৎ থেমে যায়।
কারণ দেয়ালের পাশে-
নোভা'র ছবি।
কিন্তু শুধু ছবি না...
ছবির পাশে লেখা- "Experiment 01 - FAILED"
রিয়ার চোখ বড় হয়ে যায়।
ঠিক তখনই-
পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর খুব কাছে এসে বলে-
- "তুই এখন সিস্টেমের ভিতরে ঢুকে গেছিস..."
রিয়া ঘুরে তাকায়।কিন্তু কিছুই দেখা যায় না।শুধু অন্ধকার।আর তারপর লাইট অফ।
- চলবে...
ছায়ার পেছনের সত্য 
সেতু আক্তার 
(দয়া করে সবাই একটু পড়ুন আর follow করুন আর যারা এই গল্পটি পুরো পরতে চান তারআ আমার কাঠগোলাপ আইডি থেকে পরে আসতে পারেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন