ফন্ট সাইজ:
থিম:
ফাইযান সিকদার

১ম পর্ব

লেখক: তানজিলা আহমেদ স্পর্শীয়া

এনগেজমেন্ট রিং টা অবনীর হাতে পড়াতেই যাবে আলভী সেই মুহূর্তে একটা বিকট শব্দে তার হাত থেকে রিং টা পড়ে যায় মাটিতে।সে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই ফাইযানের রক্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।আলভী কিছু বুঝে উঠার আগেই ফাইযান তার কলার চেপে ধরলো।বেশ জোরে থাপ্প/র বসালো আলভীর গালে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

" তোর সাহস কি করে হয় আমার জিনিসে হাত বাড়ানোর? আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি তাই তোকে আমি শুধু ওকে দেখে রাখতে বলেছিলাম।আর তুই কিনা তার সুযোগ নিলি? কেমনে পারলি আমার সাথে এমন বেঈমানি করতে?"
বলতে বলতেই কয়েকবার আলভীকে থাপ্প/ড় মারলো।পর পর শক্ত হাতে আলভীর গাল চেপে ধরে বলল,
" বল কেন এমন বেঈমানি করলি? আমি ঠিক টাইমে না আসলে হয়তো তুই ওকে বিয়ে করে নিতি।"
ফাইযানের হাত এখনও আলভীর গালে চেপে ধরা ।তখনই অবনী ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ফাইযানের হাতে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
" আপনি কি করছেন ফাইযান ভাইয়া?"
আলভীর জন্য অবনীর এতো দরদ দেখে ফাইযান এর রাগ আরো বেড়ে গেল।সে অবনীর গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
" কি করছি দেখছিস না? এতো দরদ কেন এই ছেলের প্রতি তোর?"
" আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন উনি আপনার ছোট বেলার বন্ধু।"
ফাইযান অবনীকে আগাগোড়া দেখলো। মেয়েটা আজ শাড়ি পড়েছে, নীল শাড়ি।যেটা সে অবনীকে ওর বার্থডের দিন গিফট করেছিল। এতো বলার পরেও মেয়েটা শাড়িটা কখনোই পড়েনি। আর আজ পড়লো তাও আবার এই ছেলের জন্য। ফাইযান এর রাগ বাড়লো সে আগের ভঙ্গিতে বলল,
" তো আমার বন্ধু বলে কি তাকে তুই নাগর বানিয়ে নিবি?"
অবনী কিছু বলতে যাবে তার আগেই অবনীর বাবা আলমগীর সাহেব রাগী গলায় বললেন,
" কি শুরু করেছো তুমি ফাইযান? এইটা ভদ্রলোকের বাড়ি।আর তুমি আমার মেয়ের এনগেজমেন্টে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছো কেন? তুমি না দেশের বাইরে ছিলে?"
ফাইযান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
" দেশে ফিরেছি আজ সকালে। আর ফিরেই এই দৃশ্যটা দেখলাম! আমার ভালোবাসার মানুষটা অন্যের নামে আংটি পরছে। ওয়াহ কিয়া সিন হে!"
আলমগীর সাহেব একই ভঙ্গিতে পুনরায় বললেন,
" ফাইযান তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো আমি তোমার মামা হই। ভদ্র ভাবে কথা বলো।"
" ভদ্র হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন?"
আলমগীর সাহেব কিছু বলতে যাবেন তার আগেই পাশ থেকে আলভীর মা আমেনা বেগম এসে ফাইযান এর সামনে দাঁড়ালেন।নরম কন্ঠে বললেন,
" ফাইযান বাবা থামো। দেখো এইখানে ঘরের মানুষ ছাড়া বাইরের কেউ নেই। তুমি বলো তুমি কি বলতে চাইছো কি চাও তুমি?"
ফাইযান চোখ সরু করে তাকালো আমেনা বেগমের দিকে। সামনে দাঁড়ানো মানুষ টা তাকে নিজের ছেলের মতো করেই ভালোবাসে।এই পর্যায়ে তার রাগ একটু কমে এলো।সে মৃদু গলায় বলল,
"কি চাই? আমি আমার অবনীকে চাই। আমি চাই আমার জীবনের ভালোবাসা অন্য কারো নামে আংটি না পরুক।"
আমেনা বেগম একটু এগিয়ে এসে ফাইযানের গালে হাত রেখে বললেন,
"বাবা, ভালোবাসা যদি সত্যি হয় সে কখনো হারায় না। কিন্তু এই মুহূর্তটা তুমি জোর করে নয় মন জয় করে নিতে পারো।"
ফাইযান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো আমেনা বেগমের চোখে। এরপর ধীরে ধীরে তার দৃষ্টি সরলো অবনীর দিকে। অবনী চোখ নামিয়ে রেখেছে। গালে অশ্রুর রেখা, ঠোঁট কাঁপছে। ফাইযান দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।পর পর বলল,
" বিয়ের পরও মন জয় করা যায়।"
আলমগীর সাহেব ফাইযান এর দিকে তেড়ে এসে বলল,
" মানে তুমি এখন কি করতে চাও?"
" আমি অবনী কে নিজের অর্ধাঙ্গীনী বানাতে চাই।"
ফাইযান স্পষ্ট জবাব।কি সুন্দর বলে দিল এই কথা কোনো দ্বিধা ছাড়াই। কিন্তু এই কথা অবনীর কাছে বজ্রপাতের মতোই হলো। সে যেন কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। চোখ বড় বড় করে তাকালো ফাইযানের দিকে। নিজের কানে যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। মেয়েটা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
"কী বললেন আপনি?"
" আমি তোকে আমার স্ত্রী করতে চাই। আজ, এখনই।"
চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে এলো। সবাই থম মেরে দাঁড়িয়ে। আলভী তখন বাস্তবে ফিরলো। সে এগিয়ে এলো ফাইযানের উদ্দেশ্যে বলল,
"তুই পাগল হয়ে গেছিস ফাইযান? তুই জানিস তো ওর আর আমার এনগেজমেন্ট ছিল আজ? তাও এমন কথা বললি?"
ফাইযান একটুও পিছপা না হয়ে বলল,
"তুই জানিস আমি ওকে ভালোবাসি। জানিস আমি ওর জন্য ফিরে এসেছি। তোরও তো আমার মতোই জানা উচিত ছিল ও আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা।"
আলভী থমকে গেল। কিছু বলতে গিয়েও কণ্ঠ আটকে এলো। অবনী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে একের পর এক। চারপাশে জোড়া জোড়া চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তাতে যেন কারো কিছু যায় আসে না।
এই প্রথম আলমগীর সাহেবের গলার স্বর নরম হলো বলল,
"অবনী মা তোর মতামতই সব। তুই যা বলবি তাই হবে। তোর মা আমাদের ছেড়ে অনেক আগেই চলে গিয়েছে। আমিও বেশ ভালো নেই দুই বার স্ট্রোক করেছি এইটা তুই জানিস। আমার মনে হয়না ফাইযান তোর সাথে খারাপ আচরণ করবে। আমি ওর মামা নিজ হাতে মানুষ করেছি আমি ওকে। আর তোর ফুফুও তোকে খুব ভালোবাসে। তোর যদি মতামত থাকে তাহলে আমি কল করে তোর ফুফু আর ফুফাকে আসতে বলছি।"
ঘরজুড়ে নিস্তব্ধতা। সবাই অপেক্ষা করছে অবনীর মুখ থেকে একটি শব্দের। মেয়েটা ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকালো ফাইযানের দিকে। তার ঠোঁট কাঁপছে বাবার সামনে না করতে পারবে না সে। শেষ পর্যায়ে মেয়েটা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
" তুমি যেটা চাও সেটাই হবে বাবা।"
ফাইযানের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠলো। কিন্তু সেই হাসি কেবল বাইরের, ভেতরে কোথাও একটা তীক্ষ্ণ কাঁটার মতো খচখচ করছে। আর অবনী? সে যেন হেরে গেল অন্য জগতে। আলভী এক পা পিছিয়ে গেল। মুহূর্তেই তার মুখ থমথমে হয়ে গেছে। অনেক না বলা কথা ঠোঁট পর্যন্ত এসে থেমে গেল। সে জানে, আজকের দিনটা কেবল একটা আংটি পরানোর নয় একটা অনুভবের মৃত্যু, আরেকটা সম্পর্কের জন্ম।
অতঃপর আলমগীর সাহেব ফোনে ফারিহা বেগমকে বললেন,
"ফারিহা, একবার বাসায় আয় তো। কিছু জরুরি কথা আছে।"
ফারিহা বেগম ফোনের ওপাশ থেকে চিন্তিত কণ্ঠে জবাব দিলেন,
"ভাইয়া, কিছু হয়েছে?"
"আসলে তোর ছেলের কাণ্ডটাই তুই এসে নিজের চোখে দেখ।"
মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে ফারিহা বেগম পৌঁছে গেলেন। ঘরে ঢুকতেই তার চোখ আটকে গেল ফাইযানের মুখে, তারপর অবনীর অশ্রুসিক্ত মুখে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে তাকে বেশি সময় লাগল না।
"ফাইযান!"
শক্ত কণ্ঠে ডাক দিলেন তিনি।
ফাইযান মাথা নিচু করেই বলল,
"মা, আমি কিছু ভুল করিনি। আমি শুধু আমার ভালোবাসার অধিকার চাইছি।"
ফারিহা বেগম আলমগীর সাহেবের দিকে তাকালেন।তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
"ভাইয়া, আপনি তো জানেন, আমি অবনীকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসি। কিন্তু এইভাবে হুট করে?"
মায়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই ফাইযান বলল,
" মা জীবনে অনেককিছুই হুট করে হয় এবং হয়ে আসছেই।"
ফারিহা বেগম গম্ভীর চোখে ফাইযানের দিকে তাকালেন। অবনী এখনও কান্না করছে।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ছেলের হাত চেপে ধরলেন। দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
"ফাইযান, ভালোবাসা যদি সত্যিই হয়, তবে সেটা কখনো অন্যের চোখে অশ্রু এনে দেয় না। তুমি আজ আমার সামনে দাঁড়িয়ে এমন এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছো, যেটা অবনীর মনকে ভেঙে দিচ্ছে।"
"মা, আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। ও-ই আমার সবকিছু।"
ফারিহা বেগম চোখে অশ্রু জমে উঠলেও তিনি কণ্ঠ দৃঢ় রাখলেন বললেন,
"কিন্তু ওর চোখের দিকে তাকাও, বাবা। তুমি কি দেখছো সেখানে? ভালোবাসা না ভয়? এই মুহূর্তে তুমি জোর করে ওকে নিজের করতে চাইছো, অথচ ওর ঠোঁট কাঁপছে, চোখে আতঙ্ক। এভাবে কি সত্যি ভালোবাসা টিকে থাকে?"
অবনী মাথা নিচু করে ফেলল। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে নিরবে।
আলভী সাহস করে এগিয়ে এসে বলল,
"ফাইযান, তুই যদি সত্যিই ওকে ভালোবাসিস, তবে ওর মতামতকে সম্মান করতে শিখ। শুধু নিজের অনুভূতির জন্য ওকে কষ্ট দেওয়া মানেই ভালোবাসা নয়।"
ফাইযান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"কিন্তু আমি তো জানি ও-ই আমার। ছোটবেলা থেকে আমি জানি অবনী শুধু আমার।"
এই মুহূর্তে আলমগীর সাহেব হঠাৎ কাশতে কাশতে বসলেন। ঘরের সবাই ছুটে গেল তার দিকে। অবনী দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ধরে বসে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে বলল,
"আব্বু! কি হয়েছে?"
 ফাইয়াজ এতকিছুর মধ্যেও বুদ্ধি খাটিয়ে ডাক্তারকে তড়িঘড়ি করে ফোন করল। ফারিহা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললেন,
"দেখেছো, তোমার এই একরোখা জেদে কী হয়েছে? অবনীর বাবা অসুস্থ মানুষ। তার কাঁধে এমন বোঝা চাপানো কি ঠিক?"
আলমগীর সাহেব হঠাৎ মৃদু হেসে উঠলেন, যদিও কণ্ঠে দুর্বলতা স্পষ্ট। সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকালো। তিনি কাশির ফাঁকে ফাঁকে ধীরে ধীরে বললেন,
" ওর কোনো দোষ নেই।‌ ফারিহা তুমি ওদের বিয়ের ব্যবস্থা করো। আমি জানি ফাইযান আমার মেয়েকে ভালো রাখবে।"
আলমগীর সাহেবের সেই কথাটা বজ্রপাতের মতো আঘাত করল অবনীর বুকের ভেতর। তার ঠোঁট কাঁপছে। এদিকে ফাইযানের চোখ চকচক করে উঠল, যেন হেরে যাওয়া এক যুদ্ধ হঠাৎ আবার জিতে যাচ্ছে সে।
অবনী কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,
"বাবা… আমি… আমি কি একটাও কথা বলার সুযোগ পাব না?"
সবাই তাকিয়ে আছে অবনীর দিকে। আলমগীর সাহেব চোখ তুলে তাকালেন মেয়ের দিকে, ধীরে ধীরে বললেন,
"অবনী, আমার সময় খুব বেশি নেই। আমি চাই তোমাকে নিরাপদ হাতে রেখে যেতে। আমি জানি ফাইযান ভুল করছে, জেদ করছে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তোমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। আর তোমার কষ্ট আমি দেখতে পারব না। তুমি ওর সাথে ভালো থাকবে।"
অবনীর আর কিছু বলার রইলো না। তার বুকের ভেতর হাহাকার জমে উঠছে। ঠোঁট কাঁপছে, চোখে অশ্রু জমে বুক ভাসাতে চাইছে। কিন্তু বাবার অসুস্থ মুখটা দেখেই যেন সবকিছু আটকে গেল। বাবাকে না বলতে তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, সাহস পাচ্ছে না।
ফাইযান একপা এগিয়ে এলো, অবনীর চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করে বলল,
"অবনী, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি তোর সব অশ্রু মুছে দেবো। তুই শুধু আমাকে একটা সুযোগ দে।"
অবনী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। আলভী দূরে দাঁড়িয়ে হাত মুঠো করে রেখেছে, কিন্তু মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না। তার চোখে অপূর্ণতার যন্ত্রণা, আর অক্ষমতার হাহাকার।
ফারিহা বেগম নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে বললেন,
"ভাইয়া, আজকের দিনটা খুব বড় একটা সিদ্ধান্তের দিন। অবনী মেয়েটা ভেতর থেকে ভেঙে যাচ্ছে। কিন্তু তুমি যেভাবে বলছো, তাতে মনে হচ্ছে তুমি আর সময় দিতে চাও না।"
আলমগীর সাহেব চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ফেললেন। তারপর দুর্বল কণ্ঠে বললেন,
"হয়তো আমি স্বার্থপর। কিন্তু আমার বিশ্বাস, অবনী ফাইযানের সাথে নিরাপদ থাকবে। আমি চাই… এখনই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা হোক।"
...........
রাত আটটা ঘরজুড়ে সাজসজ্জা, আলো ঝলমল করছে। অথচ পরিবেশের ভেতর এক অদ্ভুত ভারী চাপা টানটান ভাব। বাইরে থেকে লোকজন আসছে, ভেতরে কাজের তাড়া কিন্তু ঘরের প্রতিটি মুখেই কেমন যেন চাপা গ্লানি।
অবনী নীল শাড়ি পরে কোণায় বসে আছে। গালে শুকনো অশ্রুর দাগ, ঠোঁট কাঁপছে। মেকআপ আর গয়নার আড়ালে তার চোখের লালচে ক্লান্তি লুকোচ্ছে না। পাশেই বসে আছে আমেনা বেগম, বারবার মেয়েটার হাত চেপে ধরছেন, তিনি মনের ভেতরের ঝড়টা কিছুটা কমিয়ে দিতে চাইছেন।
ফাইযান ঘরের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আছে, পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা। চোখে অদ্ভুত তৃপ্তির ঝিলিক, তবে কোথাও যেন ভয়ও লুকিয়ে আছে। অবনী সত্যিই তার হয়ে উঠবে তো? নাকি কেবল নামেই স্ত্রী হবে? ভাবনায় মশগুল সে।
আলভী বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট জ্বালালেও সেটা ঠোঁটে নিয়ে টানতে পারলো না। তার বুকের ভেতর একধরনের অগ্নিপিণ্ড জমে আছে। মেয়েটাকে হারানোর যন্ত্রণা, অবনীর বাবার মুখের সামনে প্রতিবাদ করতে না পারার অসহায়তা সব মিলিয়ে দম আটকে যাচ্ছে।
ফারিহা বেগম ঢুকলেন ঘরে, অবনীর মাথায় হাত রেখে মমতামাখা চোখে বললেন,
"মা, মন শক্ত করো। বিয়ে মানে শুধু দু’জন মানুষের মিলন না, দুই পরিবারের বিশ্বাসের সম্পর্ক। আজ থেকে তুমি শুধু আমাদের অবনী না, আমাদের পরিবারের মেয়ে হবে।"
অবনী মৃদু মাথা নাড়লো, তবে তার চোখে এখনও জলের ধারা। কিছু বলতে গিয়েও যেন আটকে যাচ্ছে। ভেতরে এক অদৃশ্য শিকল তাকে বেঁধে ফেলেছে।
হঠাৎ পাশ থেকে আমেনা বেগম অবনীর হাত ধরে নরম স্বরে বললেন
“মা, যদি মনে কষ্ট থাকে, আজই বলো। বিয়ে মানে সারাজীবনের বন্ধন। এই এক মুহূর্তেই যদি তুমি মুখ না খুলো সবকিছু পাল্টে যেতে পারে। বাবার কথা ভেবে চুপ থেকো না।”
চলবে?
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ। আর আপনাদের মতামত জানাবেন।
#ফাইযান_সিকদার
সূচনা পর্ব 
কলমে: #তানজিলা_আহমেদ_স্পর্শীয়া

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন