#মিস্টার_স্ট্রেঞ্জার
#লেখনীতে_রওনোক_জাহান_হায়াত
#পর্ব_২
__ রাতের বৃষ্টির শেষ ফোঁটা মাটিতে খেলছিল,আর এখন সকালে সূর্যের সোনালী কিরণ যেন ছড়িয়ে দিয়েছে সাড়া শহরকে।ভিজে রাস্তার ধুলো কেশরির মতো ঝলমল করছে। বাতাসে মাটির গন্ধ মেশা আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পাখিরা ভেজা পাখায় ডানা ঝাঁকিয়ে উঠেছে । আর আকাশটা পরিষ্কার ,যেন কেউ হঠাৎ করে সব মেঘ সরিয়ে দিয়েছে। শহরটা যেন নতুন জীবনে ফিরে এসেছে বৃষ্টির কান্নার পর রোদ্দুরে হাসি মাখিয়ে। _
_ইনায়া ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। আজ তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন। বেচারি বেশ নার্ভাস। নতুন পরিবেশ ,নতুন জায়গা , সব মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতি।
ইনায়া রেডি হয়ে নিচে যায়। সবাই অলরেডি নাস্তা করতে বসে গেছে। ইনায়া গিয়ে নাতাশার পাশে বসে। রশিদ সাঈদ মেয়ের দিকে তাকিয়ে একটা কোমল হাসি দিয়ে বললেন, -
" গুড মর্নিং, মামুনি। "
ইনায়া মিষ্টি হাসি দিয়ে উওর দিলো, -" গুড মর্নিং, আব্বু। "
রশিদ সাঈদ কোমল কন্ঠে বললেন, -" আজ তো তোমার ভার্সিটিতে প্রথম দিন। তাই সাবধানে যাবে আর কোন সমস্যা হলে আমাকে বা তোমার ভাইয়াকে জানাবে। "
ইনায়াও বাধ্য মেয়ের মতো উত্তর দিলো, - "ঠিক আছে আব্বু। "
_ইনায়া বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে। তাইহিম এতোক্ষণ ওর জন্য অপেক্ষা করছিল। ইনায়া গাড়িতে উঠতেই তাইহিম গাড়ি স্টার্ট দেয়। ইনায়া তাইহিমের দিকে ফিরে বলে, -"ভাইয়া তুই আমাকে ভার্সিটির রোডের একটু সামনে নামিয়ে দিস। "
তাইহিমের লক্ষ্য রাস্তার দিকে থাকলেও ইনায়ার কথায় তার ভ্রু কুঁচকে যায়। প্রশ্ন করে, - " কেনো? গেটের সামনে নামালে কি হবে? "
--" কিছুই হবেনা শুধু আমি একটু রাস্তাটা ঘুরে দেখতে চাইছিলাম তাই। "
তাইহিম দীর্ঘশ্বাস ফেললো। এই মেয়ের সাথে সে কথায় পারবে না। তাই সম্মতিসূচক মাথা নাড়ানো।
________________________________________________
_রাইয়ান বিরক্তি নিয়ে গাড়িতে বসে আছে। এক ঘন্টা ধরে জ্যামে আটকে আছে । তার উপর দিয়ে পায়ে আঘাত পাওয়ার কারণে অসহ্য ব্যথা। বিরক্তিতে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল, -
" আমি কিন্তু এবার বিরক্ত হচ্ছি সাদিক। রাগের মাথায় কিন্তু তোর মাথাও ফাটিয়ে দিতে পারি। "
_ সাদিক বেচারা অসহায় দৃষ্টিতে রাইয়ানের দিকে তাকালো। অসহায়ক কন্ঠে বলল, -
" আমি কি করতে পারি ভাই? আমি নিজেই তো এখন বিরক্ত হচ্ছি। এই জ্যাম যে কখন ছুটবে কে জানে?
_ রাইয়ান মুখ ঘুরিয়ে জানালার বাহিরে তাকালো। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল এক নির্দিষ্ট স্থানে । যেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক মানবী। এ সেই মেয়েটি। সে তো মেয়েটিকে চিনে। এই মেয়েটি তো গতরাতে তাকে সাহায্য করেছিল। গতরাতে মেয়েটার মুখ ভালোভাবে পরক্ষ না করতে পারলেও আজ ভালোভাবে পরখ করে নিচ্ছে। কি মিষ্টি দেখতে। হরিণী চোখ গুলো কেমন চারপাশে তাকাচ্ছে। গোলাপি ঠোঁট জোড়াতে কি সুন্দর হাসি। কোমর সমান চুলে বিনুনি বাধা। ইশ একটা মানুষ বুঝি এতো সুন্দর হয়। কই আগে তো সে কোনো মেয়েকে এমন করে পর্যবেক্ষণ করেনি। তাহলে আজ কেনো এই মেয়েটাকে তার বারবার দেখতে ইচ্ছে করছে? এই ৩১ বছর জীবনে সে কখনো কোন মেয়ের দিকে এমন ভাবে তাকায় নি। এই মেয়ে যে তার ঘুম হারাম করে দিল। রাইয়ান বেশ অস্থির কন্ঠে সাদিককে বলল, -
" সাদিক, ফলো হার। আমার ওর সব ইনফরমেশন চাই। ইমিডিয়েটলি। "
হঠাৎ রাইয়ানের এমন অস্থির কণ্ঠ শুনে সাদিক একটু হকচকিয়ে ওঠে। রাইয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, -
"কার কথা বলছিস তাই, বন্ধু? "
রাইয়ান ইনায়ার দিকে ইশারা করে।
_"ওই যে ,আইমিন ইনায়া সাঈদ। যে আমাকে কাল সাহায্য করেছিল। "
সাদিক মাথা নাড়িয়ে কথা না বাড়িয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। রাইয়ানের সাথে তার বন্ধুত্ব দশ বছরেরও বেশি। সাদিক হলো রাইয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড। রাইয়ানকে আগে কখনো কোনো মেয়ের জন্য এভাবে কথা বলতে বা তার ইনফরমেশন চাইতে দেখেনি।
________________________________________________
সারা রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন। জানালা গুলো বন্ধ, কালো পর্দা দিয়ে ঢাকা। রাইয়ান বেডে বসে আছে। হাতে ইনায়ার একটা ছবি। গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে সে ছবিটা । এই মেয়েটা তার মনের মাঝে তোলপাড় তৈরি করেছে। বারবার ইচ্ছে করছে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে।এতো মায়া কেনো এই মেয়েটার মুখে।একটু্ আগে সাদিক ওকে ইনায়ার সব ইনফরমেশন দিয়েছে। ইনায়া কে, কোথায় থাকে, কি করে, তার পরিবারে কে কে আছে সব। রাইয়ান বেশি অবাক হয়েছিল এটা জেনে যে ইনায়া তাইহিমের বোন। কারণ রাইয়ান, সাদিক, তাইহিম একই ভার্সিটিতে পড়তো। পড়াশোনা শেষ করে তাইহিম আবার দেশে ফিরে আসে। তারপর যে যার লাইফ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে কারোর সাথে কারোর আর তেমন যোগাযোগ হয়না।
রাইয়ানের ঠোঁটে গভীর হাসি ফুঁটে উঠে। গভীর কন্ঠে বলে উঠলো, -
"It's time to meet you with your Mr. Stranger again, little stranger. "
_রাইয়ান সাদিকে ফোন করে। দশ মিনিট পর সাদিক রাইয়ানের রুমে প্রবেশ করে। রাইয়ান এখনো ঠাই বেডে বসে আছে। সাদিক গলা পরিষ্কার করে বলে উঠে,
-" রাইয়ান, এতো জরুরিভাবে ডাকলি যে? "
রাইয়ান সাদিকের দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত কন্ঠে বলে ,
"তাইহিমের সাথে দেখা করলে কেমন হয়? "
_সাদিক বেশ অবাক কন্ঠে বলে, -"হঠাৎ? "
-"বারে বন্ধু হয় আমাদের। "
সাদিক ভ্রু কুঁচকে বলে, -"শুধুই কি বন্ধুত্বের খাতিরে? নাকি ওর ছোটো বোনের জন্য? "
রাইয়ান বেশ বিরক্তি নিয়ে বলে, - " বেশি বুঝিস তুই। এসব কিছু না। জাস্ট অনেক বছর হলো তাইহিমের সাথে দেখা হয় না তাই বললাম। "
সাদিক অনেক কষ্টে নিজের হাসি কন্টোল করে বলে, -"আচ্ছা। ঠিক আছে।"
_______________________________________________
সকাল ১১ টা বেজে ৩৫ মিনিট।
তাইহিম ওর অফিসে বসে আছে । ওর সামনে বসে আছে রাইয়ান আর সাদিক। তাইহিম নিরবতা ভেঙে বলে উঠলো,
-"তা হঠাৎ আমার কথা কিভাবে মনে পড়লো? "
সাদিক ঝেড়ে কাশে। মৃদু কন্ঠে বললো-
"এভাবে বলছিস কেনো? আর তুইও তো আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করার চেষ্টা করিস নি। "
তাইহিম কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাইয়ান বেশ শান্ত কন্ঠে বললো, -"দোষটা আমাদের সবার। তাই এখন এসব নিয়ে কথা কাটা*কাটি করে লাভ নেই। "
তাইহিম আর সাদিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালো। তারপর ওরা ওদের মতো কথা বলতে থাকে।
________________________________________________
ইনায়া ওর ক্লাস রুমে বসে ছিল। ওর আহানা আর সাথীর সাথে বেশ ভালোই বন্ধুত্ব হয়েছে। তিনজনে মিলে পুরো ভার্সিটি ক্যাম্পাস ঘুরেছে। নতুন ফ্রেন্ড পেয়ে অনেক খুশি।
_ইনায়া দেখে আহানা খুব কমই কথা বলছে। তাই ও আহানাকে জিজ্ঞাসা করে,
" কি হয়েছে আহানা? তুই এমন চুপচাপ হয়ে বসে আছিস যে? "
আহানা মনমরা হয়ে বললো- "আরে আর বলিস না। একটা আজাইরা বেডারে আমি ভালোবাসি। 'one sided love' বলতে পারিস। দুদিন হলো শা*লাটা ভার্সিটিতে আসে না। তাই ভালো লাগছে না। "
ইনায়া আর সাথী কি বলে বেচারিকে সান্তনা দিবে বুঝে উঠতে পারছে না। সাথী কোনো রকমে বললো-
"চিন্তা করিস না। হয়তো কোনো কিছু নিয়ে ব্যস্ত আছে। "
আহানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
﹏ এক মাস পর। ﹏
_বিকালের আকাশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। দমকা হাওয়াতে শরীরে শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ এই বৃষ্টিতে বৃষ্টি বিলাস করছে। আর কেউ কেউ বা নিজের কষ্টগুলি মিশিয়ে দিচ্ছে বৃষ্টির ফোঁটার সাথে। কারোর মনে আনন্দের স্রোত বয়ে যাচ্ছে , আবার কারো মন দুঃখের বিষাদে আচ্ছন্ন।_
◡◡◡এই মেঘলা দিনে একলা
ঘরে থাকে নাতো মন,
কাছে যাবো কবে পাবো,
ওগো তোমার নিমন্ত্রণ? ◠◠◠
_অনুভূতি প্রকাশ করার সব চেয়ে ভালো মাধ্যম হলো গান। গানের মাধ্যমে মানুষের অঘোষিত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ করা যায়। ইনায়াও তার ব্যতিক্রম নয়। নিজের লুকিয়ে রাখা সুপ্ত অনুভূতিগুলো সে গানের মাধ্যমে প্রকাশ করছে। এই অনুভূতিগুলো তার কাছে একদম নতুন। সেই বৃষ্টির রাতের আহত অচেনা পুরুষটি যে তার মনে উকিঁ-ঝুঁকি দিচ্ছে। তার সে শান্ত শীতল নীল চোখ জোড়া যে ইনায়ার মনে বারবার ভেসে উঠছে। ইনায়া চাই সেই পুরুষের সাথে তার আর একটি বার দেখা হোক। সে যে সেই অচেনা পুরুষটির নাম জানতে চাই।
ইনায়া বিষন্ন কণ্ঠে বলে উঠে, -"আমাদের কি আবার দেখা হবে ,মিস্টার স্ট্রেঞ্জার? এই এক মাসেও যে আমি আপনাকে একবারও ভুলতে পারি নি। এ কেমন অনুভূতি? "
_ইনায়ার ভাবনার মাঝে হঠাৎ নাতাশা ওর রুমের দরজায় কড়া নাড়ে। ইনায়া নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে গিয়ে দরজা খুলে। নাতাশা বেশ ব্যস্ত কন্ঠে বললো-
"কিরে এখনো রেডি কেনো হলি না? আজকে তো ভাইয়ার জন্য মেয়ে দেখতে যাবো। তুই কি যাবি না বলে ভেবেছিস নাকি? "
-"না তেমনটা না। কিন্তু ভাইয়া তো এই বিয়েটা করতে চায় না। "
-"সেটা তো আমিও জানি। কিন্তু বাবাকে কে বুঝাবে? সে তার বন্ধুর মেয়েকে ছেলের বউ বানানোর জন্য বসে আছে। "
ইনায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর বলে,
-"লিজা যদি ভালো মেয়ে হতো তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু যেখানে ওর ক্যারেক্টারই ঠিক নেই । সেখানে আমার ভাইয়ার জীবন নষ্ট করার কি খুব দরকার? "
-"ইনু, চিন্তা করিস না। ভাইয়া তো বললো ও এই বিয়ে যে করেই হোক আটকাবে। আর আমরা তো ওকে হেল্প করার জন্য আছিই। "
_ইনায়া মাথা নাড়লো। একটা মলিন হাসি দিয়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়ায়। রশিদ সাঈদ তাইহিমের বিয়ে তার বন্ধুর মেয়ে লিজার সাথে ঠিক করেছে। কিন্তু লিজা মোটেও ভালো মেয়ে না। এক কথায় বলতে গেলে ক্যারেক্টারলেস। তাই তাইহিম ওকে বিয়ে করতে চায়না। কিন্তু বাবার সামনে সত্যিটা আনতে হলে তার প্রমাণের প্রয়োজন। তাই তাইহিম এখন প্রমাণ জোগাড় করছে।_
***************************************************
রাইয়ান ওর হোম অফিসে বসে ছিল। কিছু ডকুমেন্ট চেক করছিল। তখনি সাদিক প্রবেশ করে। সাদিকে দেখে রাইয়ান ফাইলটি বন্ধ করে। স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠে,
-"তোকে যে কাজটা করতে বলেছিলাম সেটা করেছিস? "
সাদিক ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠে, " একদম। শুধু সময়ের অপেক্ষা। "
রাইয়ান একটা শান্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই ওর মুখ কালো হয়ে যায়। বেশ ভারি কন্ঠে বলে উঠে, -"রিদওয়ান আর স্টেফেনের কোনো খোঁজ পেলি? "
সাদিক একটা ঢোক গিলে উওর দেয়,
- "হোটেলে উঠেছে। তোকে অ্যাটাক করার পর থেকে পালিয়ে পালিয়ে থাকছে। "
রাইয়ান একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে,
-"পালিয়ে আর যাবে কত দূরে। আমাকে আর আমার পরিবারকে যারা কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করে তাদের আমি এমনি এমনি ছেড়ে দেই না। "
সাদিক মাথা নাড়ে।
_দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করে। সাদিক কথা ঘুরিয়ে বলে উঠে,
"আচ্ছা, তুই তোর little stranger এর সাথে কখন দেখা করবি? "
_হঠাৎ ইনায়ার প্রসঙ্গ উঠতেই রাইয়ানের মুখের ভাব কিছুটা কোমল হয়ে যায়।সেটা সাদিকও বুঝতে পেরে মুচকি মুচকি হাসে। তার বন্ধুর মনে যে আইমিন ইনায়া সাঈদ জায়গা দখল করেছে সেটা সে বেশ বুঝতে পারছে। রাইয়ান শান্ত কন্ঠে বলে,
-"খুব তাড়াতাড়ি।"
সাদিক প্রশ্ন করে, -"যদি তাইহিম রাজি না হয়?"
রাইয়ান ডার্কলি হেসে বলে, -
"আমি তো কারোর পারমিশন নিতে যাচ্ছি না। যেটা আমার বলে আমি ভেবে রেখেছি সেটা আমার করেই ছাড়বো।"
সাদিক ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাস করলো, -"তোর প্ল্যানটা কি একটু বলবি? "
--"আমার কোনো প্ল্যান নেই। জাস্ট যেটা আমার সেটা আমার করতে চাইছি। "
সাদিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, -" তোদের যা ইচ্ছা কর। আমি এসবে নেই। "
এই বলে সাদিক রাইয়ানের অফিস থেকে বের হয়ে যায়। রাইয়ান ও আবার ডকুমেন্ট চেক করতে শুরু করে। বাবা একটু অসুস্থ থাকায় এখন সব দায়িত্ব ওর কাধেই এসে পরেছে। নিজের কোম্পানির সাথে সাথে বাবা টার ও দেখাশোনা করতে হয়। ইভানের পড়াশোনা যাতে ক্ষতি না হয় তার রাইয়ান ইভানকে এসব ব্যবসার কাজে জড়ায় নি।__
__রাইয়ান সবে কাজ শেষ করে নিজের রুমের দিকে ফিরছিল তখনি মিনা বেগম পিছন থেকে রাইয়ানকে ডাকলো। রাইয়ান থেমে যায়। তার দিকে ফিরে শান্ত কন্ঠে বললো,
-"কিছু বলবে, আম্মু? "
মিনা বেগম মাথা নেড়ে ছেলের কাছে আসলেন। নরম কন্ঠে বললেন,
-"তোমার বাবা তোমার উপর হওয়া অ্যাটাকের কথা জানতে পারার পর থেকে অসুস্থ হয়ে গেছেন। "
মিনা বেগম থামলেন। ছেলের দিকে তাকালেন। রাইয়ান এখনো শান্ত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মায়ের পরবর্তী বাক্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছে। মিনা বেগম আবার বলতে শুরু করলেন,
-"তোমার বাবা চান না তুমি বা ইভান কেউই এই ঝামেলায় জড়াও। পুরোনো দ্বন্দ্ব পুরো..... "
-"পুরোনো দ্বন্দ্ব ততদিন পর্যন্তই থাকে যত দিন সেটা পুরোনো রাখা হয়। কিন্তু ওরা তা করে নি। আমার উপর অ্যাটাক করেছে। সবচেয়ে বড় কথা ওরা আব্বুর উপরও অ্যাটাক করেছে যেটা তুমি আর আব্বু আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে গেছো। "
রাইয়ানের কথাগুলো শান্ত কন্ঠে বললেও ওর গাঢ় নীল চোখ জোড়া রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। তা দেখে মিনা বেগম চুপসে যায়। ছেলের এমন পরিবর্তন তিনি খুব ভালো করেই জানেন। এ যে ঝড় আসার পর্বাভাস। রাইয়ান আবার বলে উঠে। তবে এবার তার কন্ঠে রাগ আর ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।
-"ওরা যদি রক্ত ঝরাতে চাই তাহলে তাই হবে। তবে এবার আমাদের নয় ওদের রক্ত ঝরবে। "
এই বলে রাইয়ান হনহন করে নিজের চলে যায়। মিনা বেগম ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
************************************************
রাইয়ান ওর রুমে বসে আছে। তার দৃষ্টি ফোনের গ্যালারিতে। গত একমাত্র ধরে সে ইনায়াকে স্টক করছে। তাইহিম কে বলতে চেয়েছিল কিন্তু পরে আর বলে নি।এই মেয়ের প্রতি যে সে খুব গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পেরেছে। এই একমাস সে ইনায়া কে প্রতি দিন স্টক করেছে। রাইয়ান ইনায়ার ছবিতে হাত বুলিয়ে বলে,
-" You made to believe in love. Believe me little stranger, I'm really obsessed with You. And I can do anything to make you mine. Anything."
রাইয়ান গভীর দৃষ্টিতে ইনায়ার ছবি পর্যবেক্ষণ করছে। তার little stranger এত সুন্দর কেনো? সে যখন আমেরিকাতে ছিল তখন কত শত সুন্দরী সুন্দরী নারী দেখেছে । কই কখনো তো কোনো মেয়ের প্রতি এমন অনুভব করে নি সে। তার চোখে ইনায়ার জন্য আছে একরাশ আসক্তি,আকাঙ্ক্ষা আর অন্য কিছুর মিশ্রণ। তার যে এই মেয়েকে চাই।
***************************************************
ইভান ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসেছিল। তার ফ্রেডদের সাথে কথা বলছিল। তখন আহানা এসে ওর সামনে দাড়ায়। দেখেই মনে হচ্ছে বেশ রেগে আছে। আহানা বেশ রাগি কন্ঠে বললো-"আমার সাথে আসুন। "
ইভান ভ্রু কুঁচকে বললো-" কাকে বলছো? "
-"আমি কার সামনে দাঁড়িয়ে আছি? "
-"আমার সামনে। "
-"তাহলে অবশ্যই আপনাকে।"
ইভান আর কথা না বাড়িয়ে আহানার সাথে যায়। ওরা ক্যাম্পাসের শেষ কর্নারে গিয়ে দাঁড়ায়। আহানা বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো,
-"ওই ডাইনি টা কে ছিল? "
ইভান অবাক কন্ঠে বললো-,
-"কার কথা বলছো? "
-"যেই শাকচুন্নিটার সাথে গতকাল আপনি হেসে হেসে বলছিলেন। "
-"ও আমার ক্লাসমেট ছিল। "
আহানা কটমট করে বলে উঠলো, - "এই বা*লের ক্লাসমেট আপনার পকেটে রাখুন। কথা বলবেন মেনে নিলাম কিন্তু এতো হাসাহাসি করার কি ছিল? "
ইভান ও এবার বেশ চটে যায়। এতক্ষণ আহানা জেরা সহ্য করতে পারলেও এবার আর পারলো না। বেশ কড়া কন্ঠে বললো-
"এই। এই বেয়া*দপ মেয়ে, এগুলো কি ধরনের ভাষা? গালা*গালি কেনো করছো? "
-"একশো বার বলবো। আপনি একদম ওই মেয়ের সাথে কথা বলবেন না। "
ইভান ভ্রু কুঁচকে বলে, -"কেনো? কেনো আমি তোমার কথা শুনতে যাবো? "
আহানা চেঁচিয়ে বলে, -"আমি বলেছি তাই। "
ইভানও চেঁচিয়ে বলে, -"কে হও তুমি আমার? "
-"আমি আপনার জুনিয়র হই। "
-"আর আমি তোমার সিনিয়র ভাইয়া হই। You should be listen to me. "
আহানা চেঁচিয়ে বলে, -"এই না। আপনাকে আমি কোনো দিনও ভাইয়ের চোখে দেখি নি.... "
আহানা নিজের মুখ চেপে ধরে। আহানা আর এক মুহূর্তও না দাড়িয়ে সেখান থেকে এক দৌড়ে পালিয়ে যায়। ইভান ওর যাওয়ার দিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে।
চলবে
______________________________________