ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসার মরশুম

১ম পর্ব

লেখক: Shruti sarkar

ভালোবাসার মরশুম 

পর্ব : ১ 
লেখিকা : শ্রুতি সরকার 
মাঙ্গির নাতি ভালো ভাবে বলছি ছবিগুলো কাট। 
ছেলেটির দাঁতের দাঁত চেপে রসিয়ে বলল কেন বেবি ছবিগুলো না কাটলে কি করবে।  
এইবার ইশরাতের রাগ আকাশ ছুলো। ইশরাত বললো রিদান হকি স্টিক দে।  
ছেলেটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই....
রিদান ইশরাতের হাতে হকিস্টিক দিতে, ইসরাত বেধরম মারতে লাগলো ছেলেটাকে। আর অন্যদিকে ওরা তিনজন বেশ ভালই মজা নিচ্ছে কারণ এই দৃশ্য তারা অনেক দিন পরে দেখলো। 
ইসরাতের হাতের হকি স্টিকের
কয়েকটা বারি খেয়েই ছেলেটি বলে উঠলো আম্মা আম্মা আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দিন আর কেউ ছবি তুলবো না। 
ইসরাত থেমে বলল কি বললি আবার বলতো? 
ছেলেটি বলল আর কোনদিন ছবি তুলবো না। নিজের ছবি বাদে থুক্কু থুক্কু নিজের ছবিও তুলবো না এখন থেকে।
এই কথা শুনে পেছন থেকে রিদান মেহরিন রাইমা হু হা করে হেসে দিল। 
রাইমা বলল শালা এত তাড়াতাড়ি পল্টি নিয়ে নিলি।
মেহেদিন বলল শালা পুরুষ জাতিটাই নাটক বাজ। 
রিদান বলল পুরুষ জাতিকে নিয়ে কোন কথা বলবি না।
তখন ইসরাত বলে উঠলো আমার সামনে এখনই তুই সব ছবি ডিলিট করবি। 
তোর কত ছবি তোলার শখ আমি তোর পিছন দিয়ে ভরে দেব শালা মাঙ্গের নাতি। 
তখনই রিদানের ফোন বেজে উঠলো। রিদান বিরক্ত হয়ে বলল শালার জিন্দেগি এই সময় আবার কে কল দিল? 
ফোনটা বের করতে দেখলো আরিস ভাইয়া কল করেছে। রিদার মনে মনে পরল আমাদের সুখ কেউ সহ্য হয় না।
তারপর কে ডেকে বলল আরিস ভাইয়া কল দিয়েছে। 
ইসরাত শেষবারের মতো ছেলেটাকে শাসিয়ে এসে বলল কলটা ধর। 
কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে আরিস ভাইয়া বলে উঠলো তোরা কই কয়টা বাজে রাতের দেখেছিস তোরা আব্বু এয়ারপোর্টে গেছে। আব্বু আসার আগে তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়। 
তাছাড়া আজকে তোদের খবর করে ছাড়বে। এই কথা বলেই কলটা কেটে দিল। 
চারজন বেশ চিন্তায় পরল
এখান থেকে বাড়ি যেতে না হলেও এক ঘন্টা লাগবে আবার আজকে নাকি বড় আপাকে দেখতে আসবে। 
অন্যদিকে পরপর চারটা গাড়ি এসে থামলো বাড়ি তিন গিন্নি এগিয়ে এলেন। 
নাবিলা বেগম সায়রা রহমানকে দেখেই এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বললেন কেমন আছো বড় আপা তোমাকে কতদিন পরে দেখলাম। সায়রা রহমান হেসে বললেন প্রতিদিন তো ভিডিও কলে কথা বলিস। সবাই হেসে উঠলো। নাবিলা বেগম বললেন ভিডিও করে দেখা আর সামনাসামনি দেখা নাকি এক কথা তখনই সাফওয়ান নওশীন বলে উঠলেন বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি সব গল্প করবে নাকি ভিতরে যাবে না তার কথা শুনে সকলেই ভিতরে দিকে যেতে লাগলো। 
সকলেই ড্রয়িং রুমে গল্পে মগ্ন  
তখনই ইসরাত মেহেরিন কে বলল দেখতো সবাই কি করছে? 
মেহেরি মাথাটা ভেতরে ঢুকিয়ে
উঁকি দিতে দেখল সবাই গল্পে ডুবে আছে। মেহেরিন এসে ইসরাত কে বলল
আপাতত কেউ সিঁড়ির দিকে খেয়াল নেই। এই কথা শুনে ইসরাত বললো শোন তোরা সবাই আমাদের যাতে কেউ না দেখে সবাই চুপচাপ যার যার ঘরে চলে যাবে। 
সিড়ির দ্বিতীয় ধাপে পা রাখতেই। সালমা বেগম বলে উঠলেন কিরে বাড়ির চার দিচ্ছো চোরের মত কোথায় যাচ্ছিস উপরে। 
ওরা চারজন পিছে ঘুরে সবার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে বত্রিশ পাটি দাঁত একটা ক্লোজআপ মার্কা হাসি দিয়ে বলল কি যে বলোনা দাদী। উপরে কোথায় আবার যাব আমরা তো নিচে নামছিলাম তোমাদের সাথে দেখা করতে। 
ইসরাত রাইমার পায়ে পাড়া দিয়ে বলল কি রে রাইমা বল বল আমরা নিচে নামছিলাম না?
আমতা আমতা করে বলল। হ্যাঁ হ্যাঁ আমরা নিচে নামছিলাম তো। 
তখনই বাইরে থেকে শোনা গেল পাশের বাড়ির কলিমের মায়ের গলা বৃদ্ধ মহিলাকে চাচ্ছেন বাড়ির বেগম চুরি করে নিয়ে গেছে
আল্লাহ গো আমার এত কষ্টের বেগুন
ক্যারাই নিল 
আহাজারি শুনে সকলে বাইরে বেরিয়ে এল সালমা বলল কিরে কলিমের আম্মা তোর কোন বেগুন চুরি করছে কেডা চুরি করছে
কুলিমের মা বলে উঠলো ক্যারাই জানি আমার বেগুন খেতে থেকে বেগুন চুরি করে নিয়ে গেছে
কুলিমের মার কথাগুলো শুনে ওরা চারজন দে উঠল 
আর যাব না বেগুন তুলিতে ও ললিতে
 আর যাব না বেগুনে তুলিতে
তাদের চারজনের এই উদ্ভট গান শুনে নওশীন বাড়ির ছেলেমেয়েরা হাসলেও রহমান বাড়ির ছেলেমেয়েরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন