ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ে খলনায়ক

৫ম পর্ব

লেখক: লাবিবা ওয়াহিদ

#প্রণয়ে_খলনায়ক - [০৫]

লাবিবা ওয়াহিদ

[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]

--"আমার ক্লাসের জন্য দেরী হচ্ছে।"

--"ওকে। নাও হোয়াট?"

--"কী মানে? আমি অলরেডি লেইট! পথ ছাড়ুন।"

--"তার আগে সরি বলো।"

--"কেন?"

--"আমাকে অপমান করেছ তাই!"

--"আপনাকে কখন অপমান করলাম আমি?"

--"কফির বদলে গরম পানি এনেছ, অলরেডি পুরো ভার্সিটিতে আমাকে নিয়ে হাসা-হাসি হচ্ছে। এর জন্য তোমাকে তো সাফার করতেই হবে, সুইট সিক্সটিন।"

--------------

---"সু..সুইট সিক্সটিন? মানে কী?"

--"সুইট সিক্সটিনেই তো আমাকে ফাঁসিয়েছ।"

--"মানে?"

--"বিয়ে?"

মোহ চমকে উঠে বিয়ের কথা শুনে। ইরতেজা বাঁকা হেসে বলল,

--"কী ভেবেছ, আমি বিয়ের কথা মনে রাখিনি? তিন বছরে তুমি এতটাও চেঞ্জ হওনি যে তোমাকে চিনতে পারব না।"

মোহ নিজেকে সামলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল। নিজেকে মনে মনে সে শক্ত করল, সে কিছুতেই ইরতেজার প্রতি দূর্বল হবে না। সে কাঠ কাঠ গলায় বলল, "শত্রুর মুখ এমনিতেও ভোলা যায় না।"

--"শত্রু? হু?"

--"আমি।"

ইরতেজা ভ্রু নাচিয়ে বলল,

--"কেন মনে হলো এটা?"

--"আপনিই তো বলেছেন আমি ইচ্ছে করে আপনাকে ফাঁসিয়েছি।"

--"ইটস ট্রু। তোমার দোষেই বিয়ের মতো সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছি আমি।"

--"বিয়ে মানে কী জানেন আপনি? আমি কখনো আপনার ঘাড়ে চাপতে যাইনি।"

--"ইটস অলসো ট্রু।"

মোহ নিজেকে সামলে নেয়। পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে ইরতেজা আবারও তার পথ আটকে বলল,

--"ফার্স্ট— আপোলজাইস, দ্যান গো!"

--"আম নট।"

--"ডোন্ট ডু দ্যাট সুইট সিক্সটিন! আমি তোমায় মাফ না করলে তোমাকে শান্তিতে নিঃশ্বাসটাও ফেলতে দিব না, আম ইরতেজা ইউ নো? কথার খেলাফ করি না।"

--"চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন?"

--"তোমার বুঝি তাই মনে হচ্ছে?"

--"যা করার করেন। কিন্তু আমি এ জন্মেও আপনার কাছে মাফ চাইব না। যা করেছি বেশ করেছি!"

ইরতেজার চোয়াল এবার শক্ত হয়ে এলো। চোয়াল শক্ত করে বলল,

--"আর ইউ শিওর?"

--"হান্ড্রেড পার্সেন্ট।"

ইরতেজা আচমকা তার পথ ছেড়ে দিয়ে বলল,

--"ওকে, ইটস ইওর চয়েজ। পরে আবার আফসোস করিও না যেন।"

--"আপনাকে বিয়ে করে এমনিতেও কম আফসোস করছি না জীবনে।"

ইরতেজা সচরাচর রাগে না। খুব কমই রাগতে দেখা যায় তাকে। কিন্তু সে এবার ক্ষেপে গেল, সে হালকা চেঁচাল—

--"স্টপ!"

মোহ আর দাঁড়াল না। সে হনহন করে নিজের ক্লাসের দিকে চলে যায়। ইরতেজা তিক্ত হয়ে নিজের কপালে দুই আঙুলের বিচরণ চালাল। হালকা হাঁসফাঁস করে বলল,

--"ঠিকই আছে, এটার গায়েও তো আমার দাদারই রক্ত বইছে। জেদি হবে এটাই স্বাভাবিক।"

মোহ ক্লাসে পৌঁছে দেখল ম্যাম অলরেডি ক্লাসে চলে এসেছেন। সম্ভবত নতুন লেকচারার সে। অল্পবয়সী যুবতী লাগল ওনাকে। বেশ সুন্দরী, পরিপাটি। মুখের দিকে তাকালেই কেমন শান্তি অনুভূতি হয়। অলরেডি পুরো ভার্সিটি জুড়ে তার নাম পড়ে গেছে। ছেলেরা তার অলক্ষ্যে "ক্রাশ ম্যাম" ডাকনাম দিয়েছে। এত অল্প বয়সে এরকম একটা ভার্সিটিতে প্রেফার ছাড়া আসাটা বেশ অসম্ভবই। মোহকে দেখে নতুন লেকচারার বললেন,

--"লেট কেন?"

--"ফ্যামিলি প্রব্লেম হয়েছে ম্যাম! আম সরি।"

আহিন প্রথম ক্লাসে এতটাও শক্ত হলো না। সে নিজেকে সামলে মোহকে ভেতরে আসার অনুমতি দিয়ে বলল,

--"নেক্সট টাইম থেকে এরকম ভুল যেন না হয়। ভালো ছাত্র-ছাত্রী হতে হলে আগে টাইম মেইনটেইন শিখতে হয়।"

আহিনের প্রথম ক্লাস এটা, যারপরনাই সে কিছুটা অপ্রস্তুত এবং নার্ভাস। তবে সে বরাবরই নিজের অনুভূতিগুলো চেপে রাখতে জানে। এবারও তাই মনে হলো সে ভিষণ কনফিডেন্সের সাথে সবার সাথে পরিচয় হচ্ছে। সবাই জানতে পারল আহিনের নাম আর কিছুটা বৃত্তান্ত।

ক্লাস শেষে মেয়ে-ছেলেরা সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে যায়। অধরাও ক্লাসে উপস্থিত ছিল, যার মুখ থেকে সচরাচর কারো প্রশংসাই শোনা যায় না। সে অবধি বলল,

--"শিজ সো ব্রিলিয়ান্ট। আম ইম্প্রেসড!"

মৌরি বলল,

--"হ্যাঁ, ম্যামের কণ্ঠস্বর অনেক কোল্ড লেগেছে আমার। যদিও আমরা নতুন তবে এতটা ইম্প্রেস কারো ওপরই হইনি।"

তারিয়া বলল,

--"শুনেছি ম্যামের বাড়ি নাকি গ্রামে?"

অধরা বেশ বিরক্ত হলো তাদের কথাতে নাক গলানোর জন্য। সে কেন যেন এই মেয়েটাকে বিশেষ পছন্দ করতে পারে না। কই মৌরিও তো তাদের নতুন বন্ধু, কিন্তু তাকে নিয়ে তো অধরার এরকম অনুভব হয় না। সে এই মেয়ের ক্ষেত্রেই যত বিরক্ত হয়। বিরক্তির কোনো শক্ত কারণ নেই, ওইযে আছে না কারণ ছাড়া ভাল্লাগে না। ওরকমই।

--"তোর আজ আসতে এত দেরী কেন হলো মোহ? সায়েবা জিজ্ঞেস করল।

মোহ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। প্রায়ই বাড়িতে ঝামেলা হয়। এর কারণ তারই আপন জেঠা। লোকটা বাবাকে কষ্ট দিয়ে বললে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন, কেমন কাহিল হয়ে যান। বড়ো ভাইকে আরিভ সাহেব ভীষণ ভালোবাসেন। কিন্তু ভালোবাসার প্রকাশটা কখনো করতে পারেননি। কিংবা প্রকাশের সেই সুযোগটা আসেনি কখনো। এসব দাঙ্গা, প্রতিহিংসা দেখতে দেখতে সে ক্লান্ত। এটাও বড়ো একটা কারণ ইরতেজার প্রতি তার ক্রোধের। সে বান্ধবীদের এ বিষয়ে কিছু বলল না, শুধু নীরব রইলো।

----------------------

মৌরি ক্যান্টিন থেকে স্যান্ডউইচ নিয়ে তা খেতে খেতে হাঁটছে। সে ভাবছে তৈমুরের কথা। কোনো কারণ ছাড়াই লোকটাকে তার ভীষণ পছন্দ। লোকটা কখনোই তাকে পটানোর চেষ্টা করেনি, তবুও মৌরি দূর থেকেই পটে গেছে। এটাতে কী লজ্জা পাওয়া উচিত নাকি গর্ব করা উচিত তার জানা নেই।

সে খাচ্ছিল হঠাৎ কেউ একজন টান দিয়ে তার স্যান্ডউইচটা কেড়ে নেয়। মৌরি চমকে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখল নিহিন। নিহিনই তার স্যান্ডউইচটা কেড়ে নিয়ে এখন খাচ্ছে। মৌরি বিরক্ত হয়, রাগ হয়। কী পরিমাণ অসভ্য হতে পারলে কেউ এই ধরণের কাজ করে? নিহিন স্যান্ডউইচের গায়ে একেকটা কামড় দিতে দিতে বলল,

--"উম.. ক্যান্টিনের স্যান্ডউইচ এতটা টেস্টি কবে থেকে হলো? নিশ্চয়ই তোমার হাতের ছোঁয়ার জাদু।"

--"এটা কী ধরণের অসভ্যতামি? আমার স্যান্ডউইচ নিয়েছেন কোন সাহসে?"

--"কেন, তুমিই তো বলেছ আমি ছিনতাইকারী। ছিনতাকারীরা ছিনতাই করবে না তো কী করবে? চুমু দেবে?"

মৌরির গাল লাল হয়ে যায় নিহিনের অশালীন ভাষায়। সে বলল, "ছি। মুখের ভাষার কী ছিঁড়ি!"

--"সরি ফর দ্যাট, বাট আমি একটু লাগামহীনই। তুমি তো ভদ্রলোক পছন্দ করো না।"

--"এই ফালতু কথাটা কে বলেছে?"

--"অফকোর্স তুমি, ওইযে বলেছিলে "ছি-ন-তা-ই-কা-রী!"

মৌরি কথা বাড়াতে চাইলো না। সে মিনমিন করে গালমন্দ করল নিহিনকে। নিহিন তা বুঝতে পেরে বলল,

--"আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকেই বকছ? সাহস তো কম দেখছি না তোমার।"

--"আপনাকে কেন বকতে যাব আমি?"

--"কেন নয়, আমি নিশ্চয়ই তোমার সাথে এমন কিছু করিনি যার জন্য তুমি আমার প্রশংসা করবে তাও মুখ তেতো করে? যাও আরেকটা স্যান্ডইউচ নিয়ে আসো। একটাতে মন ভরেনি।"

--"আপনার হাত-পা নেই?"

--"হাত-পা আছে ঠিক.. তবে তোমার হাতের স্যান্ডউইচ কিছুটা ডিফারেন্ট। নাও গো এহেএড! খবরদার উলটা পালটা কিছু করবে না। নয়তো মনে নেই আমি কী করেছিলাম ছিনতাইকারীদের সাথে? ভয় না পাও, এটলিষ্ট তোমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য একটু কৃতজ্ঞতা তো দেখাতে পারো! রাইট?"

মৌরি কিছুটা দমে গেল। এবার সে পারল না নিহিনকে কটু কথা শোনাতে। সত্যিই তো, সেদিন নিহিন না থাকলে তার সাথে ভয়াবহ কিছু হতে পারত না। এজন্য সে আপাতত তর্কে গেল না। চুপচাপ ক্যান্টিন থেকে আরেকটা স্যান্ডউইচ কিনে আনল। সেটা নিহিনকে দিতেই নিহিন মুচকি হাসল। বলল,

--"দ্যাটস গুড গার্ল। এই ছিনতাইকারী তোমায় আজকের জন্য ছেড়ে দিল।"

নিহিনের কথা শুনে মৌরি চোখ রাঙিয়ে চলে যায়। নিহিন তো স্যান্ডউইচ খেতে খেতে নিজেদের আড্ডাখানায় চলে যায়। সে মৌরিকে ভেবে বেশ অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করছে। মৌরি মেয়েটা কখনো ভদ্র তো আবার কখনো ধানিলঙ্কা। সে মোটেও খারাপ না। শুনেছে মৌরির বাবা হার্ট সার্জন। তার বাবা হার্টের রোগী.. ভাবছে বাবাকে চেকআপে নিয়ে যাবে। এপয়েন্টমেন্ট লাগবে অবশ্য, তবে তা তার বাবার কাছে কোনো ব্যাপারই না। এক চুটকিতেই হয়ে যাবে। কিন্তু সে এসব কেন ভাবছে এটা ভেবেই তার কপাল কুঁচকে যায়।

নিহিন আড্ডাখানায় এসে দেখল সবাই উপস্থিত আজ। তবে আজ স্বচ্ছকে বেশ অস্বাভাবিক লাগছে। সে চুপ করে বসে থাকলেও তার মধ্যে কেমন চাপা হাঁসফাঁস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা যে কেবল সেই লক্ষ্য করেছে তা নয়, সবাই দেখছে। সম্ভবত ওরা জানেও স্বচ্ছের এই অস্বস্তির কারণ?

নিহিন তো অকপটে বলেই বসল,

--"কিরে স্বচ্ছ। আমাদের আহিন আপা তো লেকচারার হয়ে গিয়েছে। ভাবী ডাকার বদলে এখন ম্যাডাম ডাকতে হবে, কী অস্বস্তিকর!"

কাশিফ বলল,

--"ভাবী কী আর ম্যামই বা কী? সম্মান তো সম্মানই। ম্যাম ডেকে নাহয় আরেকটু বাড়িয়েই রেসপেক্ট দিলাম।"

ইরতেজা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,

--"কিন্তু স্বচ্ছের জন্য তো উনি শুধুই "আহিন।" এর আগে পিছে আর কিছু নেই।"

নিহিন বলল,

--"ভার্সিটিতে এখন যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই ভাবী, ওপস সরি আহিন ম্যামেরই চর্চা হচ্ছে।"

স্বচ্ছ নিহিনের সূক্ষ্ম খোঁচা বুঝতে পেরে চোখ রাঙিয়ে তাকাল। তা দেখে নিহিন হাসতে হাসতে বলল,

--"ওপস, আমি তো ভয় পেয়ে গেছি।"

©লাবিবা ওয়াহিদ

চলবে~~

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যারা "প্রেম ছুঁয়েছে মন" ই-বুকটি পড়েছেন তারাই চিনতে পারবেন এই "আহিন-স্বচ্ছ" জুটিকে। এই জুটি সম্পর্কে বিস্তারিত "নোটবার্তা" আগামী পর্বতে জানাব। এখন এইটুকুই লিখতে পেরেছি তাড়াহুড়ায়। আপনাদের কেমন লেগেছে এই ছোটো পার্টটি? অবশ্যই মন্তব্য করবেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন