ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ে খলনায়ক

৭ম পর্ব

লেখক: লাবিবা ওয়াহিদ

#প্রণয়ে_খলনায়ক - [০৭]

লাবিবা ওয়াহিদ

[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]

মৌরি তার ফোনটা নিতে এসেছিল নিজের বাবার চেম্বার থেকে। মৌরি তৈমুরের কেবিন অতিক্রম করার মুখেই কী ভেবে যেন তাকাল ভেতরে। মূলত তার দেখার আগ্রহ হচ্ছে যে তৈমুর তার পাঠানো খাবার খাচ্ছে কিনা। সে দরজার ফাঁকে হালকা উঁকি দিতেই দেখল তার খাবার অন্য একজন ডাক্তার খাচ্ছে বসে। আর তৈমুর পাশে বসে অন্য খাবার খাচ্ছে আর মোবাইল দেখছে। মৌরির ভেতরে ভাঙনের শব্দ হলো যেন। সে ঠায় দাঁড়িয়ে রয় চুপ করে।

তৈমুরের কলিগ ডাক্তার খাবারের প্রশংসা করছে কিন্তু তৈমুরের সেসবে কান নেই। মৌরি অনুভব করল তার চোখ ভিজে আছে। কেন যেন হৃদয় নিংড়ে দেওয়ার মতো দুঃখ হচ্ছে তার। মৌরি সরে এলো। টলমল পায়ে বাবার চেম্বারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে। বুক ভার, মাথা ভনভন এবং অসাড় হয়ে আসা পা জোড়া, দেহের কোনো কিছুই যেন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। মৌরি বহু কষ্টে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে লাগল, লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল একপাশে দাঁড়িয়ে। নিজেকে বুঝ দিল, নিশ্চয়ই তৈমুর খেয়েছে। সে খামাখাই এত দুঃখ পাচ্ছে।

প্রেমে পড়লে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, নিজের দুঃখকে নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক সময় ইতিবাচক নানান ভ্রম তুলে নিজেকে বুঝ দেয়, নিজেকে শান্ত করে। তবে এর স্থায়ীত্বের কোনো গ্যারান্টি নেই। একসময় এই মিথ্যে বুঝও ম্লান হয়ে পড়ে, মনটাও আর মিথ্যে বুঝে ভুলে না। মৌরির জীবনে এখনো এই স্টেজটা আসেনি। এজন্য সে নিজেকে সামলে উঠতে সক্ষম হলো। সে চলে যায় বাবার কাছে, নিশ্চয়ই বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে সে সব দুঃখ ভুলে যাবে?

------------------------------

অধরা ক্লাসে এসে দেখল তার কোনো বন্ধুরাই নেই। অধরার ভ্রু কুঁচকে যায় এতে। তারিয়া অধরাকে দেখে ছুটে এলো তার কাছে। বলল,

--"তুমি এখানে কেন, তোমাকে তো ডেকে পাঠিয়েছে সিনিয়র ভাইয়ারা। বাকিরা গিয়েছে, তুমিও চলে যাও।"

অধরার ভ্রু কুঁচকে যায় তারিয়ার মুখে এসব শুনে। সে সরু চোখে চেয়ে বলল,

--"সবাইকে?"

--"হ্যাঁ, সব মাথাকে মানে ফ্রেন্ডকে।"

--"তুমি যাওনি কেন তবে?"

তারিয়া যেন আকাশ থেকে পড়ল। শুকনো ঢোক গিলে বলল,

--"না, না। আমি যাব না, আমি ওদের খুব ভয় পাই।"

--"তুমি না আমাদের ফ্রেন্ড হও, সেরকম প্রিটেন্ড করো। তো বিপদের সময়ে তুমি মুখ লুকাচ্ছ কেন?"

তারিয়া চুপসে গেল। আমতা আমতা করে বলল,

--"আসলে আজকে তো আমাদের এসাইনমেন্ট জমা দেবার লাস্ট ডেট, আমি এখনো ওটা কমপ্লিট করিনি। তোমরাই যাও।"

অধরা তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। শব্দহীন বিচ্ছিরি গালি ছুঁড়ল তারিয়ার দিকে। এই মেয়ে চরম স্বার্থপর অধরা আগেই বুঝেছে। তবে সেও দেখে নিবে এই মেয়েকে— এমন লুক দিয়ে সে বেরিয়ে গেল।

অধরা করিডোর দিয়ে হাঁটছিল এমন সময়ই তার হাতে হেঁচকা টান লাগে। সে মুহূর্তেই একটি খালি ক্লাসের মধ্যে পৌঁছে যায়। অধরা পিছে তাকিয়ে দেখল সোবহান— যে কিনা দরজা আটকাতে ব্যস্ত।

--"এগুলো কোন ধরণের ফাইজলামি? দরজা আটকাচ্ছ কেন?"

সোবহান অধরাকে আপাদমস্তক দেখে বাঁকা হাসল। বলল,

--"বউকে আদর করব কী লোককে দেখিয়ে? অবশ্য, তুমি চাইলে আই ডোন্ট মাইন্ড!"

--"বাজে বকা বন্ধ করো।"

সোবহান চোখের পলকে এসে অধরার কোমর জড়িয়ে নিজের কাছে টেনে আনল। নিচু গলায় ঠাট্টা করে বলল,

--"দ্যান লেট মি কিস.. তোমার ওই ঠোঁটের ভাজের স্পর্শ বিহীন শুকিয়ে যাচ্ছি।"

অধরা এবার কী যেন ভাবল, এরপর মুখে সুন্দর হাসি ফুটিয়ে বলল,

--"ওহ তাই, তৃষা আপনাকে দেয়নি?"

--"তৃষা তো আমার বউ না, প্রশ্নই ওঠে না। আমার তো শুধু তোমার তৃষ্ণা পায়, জান।"

অধরা সোবহানের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,

--"এত বউ ভক্ত কবে থেকে হলেন?"

--"যবে থেকে বলেছি কবুল.."

সোবহান অধরার দিকে ঝুঁকে কাছাকাছি আসতেই নিবে ওমনি অধরা সোবহানের মুখে ওড়না বেঁধে দিল। সোবহানের ধ্যান ভাঙে, সে বুঝতেই পারেনি অধরার গলা জড়িয়ে ধরার সময়ে তার হাতে ওড়নাটাও ছিল। অধরা নিজেকে ছাড়িয়ে দূরে সরে যায়। গলায় তেজ ফুটিয়ে বলল,

--"কিস? ইন ইওর ড্রিম! ডিভোর্সের কথা বলার পর এত পিরিত দেখাতে আসবে না। স্টে এওয়্যে ফ্রম মি!"

সোবহান নিজের মুখ থেকে ওড়নার বাঁধন খুলে কপালের রগ ফুটিয়ে বলল,

--"ডোন্ট ক্রস ইওর লিমিট!"

--"লিমিট? যে মানুষ নিজেই লিমিট ক্রস করে বসে আছে সে আমাকে লিমিট শেখাচ্ছে? ওয়ান্ডারফুল।"

অধরা চলে যেতে নিলে সোবহান পিছু ডাক দিল,

--"তোমার ওড়না।"

--"ফেলে দেওয়া জিনিস ফেরত নিই না।"

অধরা চলে যায়। সোবহান ওড়না মুঠিবদ্ধ করে অদ্ভুত করে হাসে। সে বলল,

--"আই লাইক ইওর এটিটিউড, সুইটহার্ট।"

অধরা আসল ক্যাম্পাসের পেছনে, যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল বাকিরা। নিহিন অধরাকে আসতে দেখে চওড়া হাসি দিয়ে বলল,

--"আসেন আসেন মৌরির গার্লফ্রেন্ড। হোয়াটস আপ?"

মোহ বিরক্ত হয়ে তাকাল ইরতেজার দিকে। ইরতেজা তার দিকে তাকিয়ে আছে। ওরা ওদের দাঁড় করিয়ে রাখলেও এখনো কিচ্ছুটি বলেনি। ততক্ষণে সোবহানও এলো, তার গলায় ঝোলানো একটা হলুদ ওড়না। ওটা দেখে স্বচ্ছ ভ্রু কুঁচকে বলল,

--"ওড়না?"

সোবহান আড়চোখে অধরার দিকে তাকিয়ে ওড়না থেকে পারফিউমের ঘ্রাণ নিল। সুর টেনে বলল,

--"হ্যাঁ, নতুন একটা গার্লফ্রেন্ড হলো তো। ওর সাথেই টাইম স্পেন্ড করে আসলাম।"

অধরা গরম চোখে তাকাল। সায়েবা একপলক সোবহানের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করব বলল,

--"খাটাশ একটা!"

সোবহান এবার সব মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলল,

--"ওহ, তোমরা সবাই চলে এসেছ?"

অধরা তাকাল সোবহানের দিকে, সোবহান তার দিকে তাকিয়েই ভ্রু নাচাল। অধরা নজর সরিয়ে খুবই ঠান্ডা গলায় বলল,

--"সবাই আসেনি!"

অধরার কথা শুনে ছেলেরা সবাই কনফিউজড হয়ে পড়ে, মেয়েরাও। অধরার দিকে হতভম্ভ হয়ে তাকায় মোহ আর সায়েবা। মৌরি আজ মনের দুঃখে চুপ মেরে আছে, কী হচ্ছে কী হবে তা দেখা-শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার মাঝে নেই। এজন্য সে নীরব থাকল। সায়েবা বলল,

--"সবাই আসেনি মানে?"

নিহিন ওদের একজন একজন করে গুণে দেখল সবাই আছে। তাহলে আসেনি কে? কাশিফ জিজ্ঞেস করল,

--"কে আসেনি?"

--"তারিয়া। ও আপনাদের ভয়ে মুখ লুকিয়ে আছে ক্লাসরুমে। শিজ আওয়ার ফ্রেন্ড।"

কাশিফ বাঁকা হাসল। খেয়াল করল দূরে এক জুনিয়র যাচ্ছে। সে তাকে ডাকল। জুনিয়র ছেলেটা ভয়ে ভয়ে আসল,

--"বহিপীরের বউ তাহেরাকে ডেকে আনো তো।"

অধরা বানান শুধরে দেয়, "তারিয়া!"

--"ওই একই। কাম অন ব্রাদার, গো এহেএড!"

কাশিফ ছেলেটার পিঠ চাপড়ে তাকে পাঠিয়ে দেয়।

ছেলেটা যাওয়ার পরেও দেখল সবাই চুপ। তখন কাশিফ বলল,

--"মুখের মধ্যে কী ইরর সিস্টেম চালু করেছ তোমরা? চুপ কেন? দেখি কোন বাঘের বাচ্চা তোমরা একেকজন।"

কিছুক্ষণের মধ্যে তারিয়াকেও টেনে-হিঁচড়ে আনা হয়, সে তো কিছুতেই আসতে চায়নি। তারিয়াকেও দাঁড় করানো হয় মোহদের সাথে, একদম অধরার পাশে। তারিয়া ভীত মুখে বলল,

--"আমি কী করেছি? আমাকে টেনে আনল কেন?"

নিহিন তারিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

--"হেই বেবি!"

তারিয়ার কাঁদো কাঁদো অবস্থা, সে বলল,

--"আমি কিছু করিনি ভাইয়া, বিশ্বাস করুন।"

সোবহান ক্রুর হেসে বলল,

--"শুনলাম আমাদের ভয়ে নাকি লুকিয়ে থাকো?"

--"ন..ন..না না তো ভাইয়া।"

কাশিফ ভ্রু কুঁচকে বলল, "তুমি তো সেকেন্ড টাইমার তাই না?"

মোহরা সবাই অবাক হয়ে তাকাল তারিয়ার দিকে। শুধু হেলদোল নেই অধরার মাঝেই। সে তারিয়াকে নিয়ে একদমই আগ্রহী না। ওরা জানতই না তারিয়া তাদের সিনিয়র হতে হতে ব্যাচমেট হয়ে গেছে। লজ্জায় তারিয়ার মুখ ছোটো হয়ে যায়। নিহিন অবাক সুরে বলল,

--"ওহ, এর মানে ফেইল করেছ? সো স্যাড!"

তারিয়ার লজ্জায়, অস্বস্তিতে মাথা নিচু হয়ে যায়। ইরতেজা এবার মুখ খুলল। মোহর উদ্দেশে বলল,

--"হেই মোহ, লুক এট মি।"

মোহ তাকাল। ইরতেজা সেই চোখে চোখ রেখে বলল,

--"প্রেম করেছ কখনো?"

মোহর পিলে চমকে ওঠে এ কথা শুনে। প্রেম করার সময়ই কোথায় ছিল তার? তবুও মোহ গলা উঁচিয়ে বলল,

--"হ্যাঁ, প্রতি মাসেই একজন করে বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ করি আমি। এইত, আজ নতুন একজনের সাথে ডেটে যাচ্ছি।"

ইরতেজার ভ্রু কুঁচকে যায় এ কথা শুনে। পরমুহূর্তেই মেয়েটার অহেতুক কথা ধরতে পারল সে। ক্রুর হেসে বলল,

--"আচ্ছা ঠিক আছে, আজ তবে তোমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কাপল ছবি তুলে আমাকে দেখাবে। ইটস ইওর টাস্ক, ওকে?"

মোহ হতভম্ভ হয়ে পড়ে। তবুও হার না মেনে বলল,

--"আমি আমার পার্সোনাল লাইফ কাউকে দেখাতে ইন্টারেস্টেড নই!"

--"আচ্ছা তাই? তবে এক কাজ করো, দ্রুত ক্যান্টিনের সবচেয়ে বাশি খাবারটা নিয়ে আসো।"

মোহ গেল না, পাঠানো হলো তারিয়াকে। নিহিন ততক্ষণে মৌরির অস্বাভাবিক চুপসে থাকা লক্ষ্য করছে। সে আচমকা মৌরির চোখ থেকে চশমাটা টান দিয়ে কেড়ে নিল। মৌরির ধ্যান ভেঙেছে এমন ভান করে সামনে তাকায়, সে মোটামুটি বেশ বিরক্ত।

--"কী সুন্দরী, বদহজম হয়েছে নাকি? এত চুপ কেন?"

--"আমার চশমা ফেরত দেন!"

--"কেন? ছিনতাইকারীরা কখনো কোনো জিনিস কেড়ে নিলে ফেরত দেয়, শুনেছ?"

--"দেন আমার চশমা, বেশি হচ্ছে।"

নিহিন হাসল,

--"দিব, তার আগে একটা টাস্ক কমপ্লিট করো।"

মৌরি কপাল কুঁচকে বলল,

--"কী?"

--"আমার ইন্সটায় ফলো দাও। একবার ফলো দিলে আনফলো করবে না কখনো।"

মৌরি বিরক্তির সাথে মেনে নিল, একটা ইন্সটা ফলোই তো। সে অহেতুক কতজনকেই তো ফলো দিয়ে রাখে, নিহিনও নাহয় ওই অহেতুক ফলোয়িং লিষ্টে অবহেলায় পড়ে থাকবে। মৌরি ফোন বের করল,

--"ইউজার নেম বলেন।"

নিহিন হাসল, মেয়েটা তার ইউজার নেমও জানে না। নিহিন তার নাম বলতেই মৌরি ঝাপসা চোখে তা খুঁজে। দেখল নিহিনের ফলোয়ার প্রায় আটাশ হাজার ছুঁইছুঁই। দয়া করে সেও একটা ফলো বাড়িয়ে দিল। নিহিন বলল,

--"ভের‍্যি গুড, নাও তোমার চশমা। আর আমার থেকে ফলো ব্যাক পাবার চিন্তাও করবে না।"

মৌরি বিরক্তির সাথে চশমা হাতে নিতে গেলে নিহিন নিজে তাকে পরিয়ে দিল। মৌরি মাথা তুলে তাকাতেই বলল, "পারফেক্ট।"

কাশিফ তাকাল সায়েবার দিকে। সায়েবা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নেয়,

--"এইযে সাইক্লোন, আবার দেখা হয়ে ভালো লাগল।"

--"সাইক্লোন?"

--"ইয়েস। শুনেছি আজ তোমাদের মাহফুজ স্যারের এসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট?"

--"হ্যাঁ তো?"

--"দেখি, কী লিখেছ এসাইনমেন্টে!"

সায়েবা হম্বিতম্বি করল। মাহফুজ স্যার খুব কড়া। সে কিছুতেই রিস্ক নিতে চাচ্ছে না। তাই সে স্পষ্ট করে না করে দেয়। কাশিফ নিজের চোখের চশমা ঠিক করে এগিয়ে আসে এবং সায়েবার হাত ধরে টান দেয়। সায়েবা একদম কাশিফের উপর গিয়ে পড়ে। কাশিফ সায়েবার এক হাত শক্ত করে ধরে আরেক হাতে সায়েবার পিঠে থাকা ব্যাগের চেইন খুলে এসাইনমেন্টটা একপ্রকার জোর করে নিয়েই তাকে ছেড়ে দিল। সায়েবা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দূরে সরে দাঁড়ায়, চেঁচিয়ে বলল,

--"কী হচ্ছে কী, আমার এসাইনমেন্ট ফেরত দেন।"

কাশিফ বাঁকা হেসে এসাইনমেন্টটা দেখছে। পেজ উলটে পালটে দেখে বলল,

--"বাহ, দারুণ লিখেছ তো।"

থেমে আবার বলল,

--"আজই লাস্ট ডেট তাই না?"

বলেই সে সবার সামনে এসাইনমেন্ট তৎক্ষণাৎ মাঝখান থেকে ছিঁড়ে ফেলল। শুধু তাই না, সেটা চার ভাগ করে তবেই ক্ষান্ত হলো সে। কাশিফ মুচকি হেসে বলল,

--"হ্যাপি জার্নি, সাইক্লোন।"

অধরা রেগে যায় এই কাণ্ড দেখে, সে এগিয়ে কিছু করতে যাবে তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সোবহান। সোবহান খুব নরম গলায় বলল,

--"উহু, অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো তোমার থেকে এক্সপেক্ট করি না জান। এবার আমার পালা, দাবার গুটি চালানোর।"

তারিয়া আসল, ইরতেজা কনফার্ম করে নিল—

--"কতদিনের বাশি?"

--"দ..দ..দুইদিনের।"

ইরতেজা বাশি বার্গারটা নিয়ে এগিয়ে আসল মোহর দিকে। মোহ পেছাতে চাইল। ইরতেজা তাকে নিজের বাহুতে আবদ্ধ করে বলল,

--"ইট দিস, এলাচি।"

--"না। ছাড়ুন আমাকে।"

ইরতেজা মোহর না শুনল না। উলটো জোর করে তাকে খাইয়ে দিল। জোর করে খাইয়ে দেওয়ার জন্য মোহর ভেতর থেকে সব বেরিয়ে আসার উপক্রম। সে গলগল করে বমি করল একদম ইরতেজার গায়েই।

©লাবিবা ওয়াহিদ

চলবে—

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যারা পড়ছেন সবাই মন্তব্য করার চেষ্টা করবেন। আপনাদের মন্তব্য দেখলে আমার লেখার খুদা উঠে, নয়তো অভুক্ত লাগে নিজেকে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন