ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ে খলনায়ক

১৭তম পর্ব

লেখক: লাবিবা ওয়াহিদ

#প্রণয়ে_খলনায়ক - [১৭]

লাবিবা ওয়াহিদ

[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]

মৌরি ঠিকই বলেছিল, একদিনের ব্যবধানে মোহর প্রতি সবার পরিচিত সুর বদলে গিয়েছে। যারা তার পিছে-সামনে তাকে নিয়ে গাল-মন্দ, বদনাম করে বেড়াত তাদের মুখেই আচমকা খই ফুটছে। মোহর নামে ছড়ানো সেই গুজবে যেন শক্ত চড় মেরে দিয়েছে ইরতেজা। সবাই বুঝতে পেরেছে মোহ আসলে ইরতেজার কাজিন। আর কাজিন, কাজিনে আশেপাশে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এই অবধি অনেকেই মোহকে ইনিয়ে বিনিয়ে তার মন জয়ের চেষ্টায় আছে, চেষ্টাটা শুধুমাত্র ইরতেজাকে ঘিরে। তাই আগে থেকে যারা মোহকে হেনস্তা, টর্চার করার চিন্তা করেছিল তারা মুহূর্তেই গুটিয়ে গেছে।

সবচেয়ে করুণ অবস্থা নাতাশার, সে যে এখনো ধরা পড়েনি এটাই অনেক। সে ভয় পাচ্ছে না, আবার পাচ্ছেও। সে ধারণাই করতে পারেনি মোহ ইরতেজার কাজিন। নাতাশার হাতে তখন ইরতেজা আর মোহর পাশাপাশি হলরুমের ছবিটা, কিন্তু এই ছবি কাজে লাগানোর সুযোগটাই তার হলো না। কেন যে সে এত কাচা কাজ করল। আগে জানলে মোহকে সে কখনোই টার্গেট করত না, শুধু কয়েকটা থ্রেট দিয়ে ছেড়ে দিত। তার টার্গেট তো অধরা হওয়ার কথা, সে অধরাকে না ধরে মোহকে কেন বেছে নিল ভেবেই সে কপাল চাপড়াচ্ছে।

মোহর মতো একই অবস্থা সায়েবারও। তবে বেশিরভাগ সায়েবা আর সোবহানকে ভিন্ন চোখে দেখছে। কেউ কেউ বলছে তাদের দুজনের মাঝে কাজিন সম্পর্কের চাইতেও ভিন্ন কিছু চলছে। এক-দু'বার সায়েবা এবং সোবহানকে কয়েকজন একসাথে দেখেছিল, সেটাই মশলা মেশাতে মেশাতে এতদূর গড়িয়েছে। সায়েবার কান অবধি যখন পৌঁছাল তার বমি আসার উপক্রম। সোবহান সোজা ভাষায় একটা ক্যারেক্টারলেস, সায়েবার ছোটো থেকেই চরিত্রহীনদের প্রতি প্রকট অনীহা। সেখানে সোবহানের সাথে সে প্রেম করবে? সায়েবা বন্ধুদের সামনে বমি করার ভান ধরল। এতে মৌরি ভ্রু কুঁচকে বলল,

--"এমন করছিস কেন?"

--"মানুষের রুচিতে গা ভাসাচ্ছি!"

অধরা বলল,

--"ঠিকই ত, মানুষের রুচি এত বিচ্ছিরি কী করে হয়।"

মোহ চিন্তিত হয়ে বলল,

--"চুপ কর, দাদাজান মনে হচ্ছে আমাকে টর্চার করতে চাচ্ছিল, এজন্য এখানে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। উফ, এসব যন্ত্রণা আর নেওয়া যাচ্ছে না।"

মৌরিকেও হতাশ দেখাল। সে গতকাল বাড়ি ফেরার সময়ে তৈমুরকে অন্য এক মেয়ের সাথে রাস্তা পার হতে দেখেছিল, আবার গতকাল রাত একটা বাজে নিহিনের বিরক্তিকর মেসেজ পেয়েছে। নিহিন তাকে ইন্সটায় ফলো ব্যাক করেনি, তবুও এই ছেলে মাঝরাতে তাকে বিরক্ত করেছে। কারণও অত্যন্ত হাস্যকর। নিহিন কোথায় যেন কার রেস করেছে, সেটার রিলস ভিডিও আপলোড করেছে, এখন মৌরির টাস্ক হচ্ছে এটা মৌরিকে পাঁচবার দেখে ভিডিওতে লাভ দিতে হবে, পাঁচটা লাভ ইমুজি দিতে হবে। মৌরি তা করেনি, তাকে নিহিন জ্বালিয়েছে তাকে আরও দশ মিনিট। মৌরি না পেরে ফোন বন্ধ করে দিয়েছে, যদি নাম্বারেও চেষ্টা করে তবেও পাবে না। এই ছেলের ঠিক নেই, দেখা গেল তার নাম্বারও যোগাড় করে তাকে কল দিয়ে বসে আছে। এখনো মৌরির ফোন বন্ধ।

সায়েবা এসব ক্যাচাল শুনতে না পেরে ব্যাগ নিয়ে বের হলো। বলল,

--"আমার মুক্ত বাতাসের প্রয়োজন। আগামীকাল আমার শুট আছে গাইজ, আমি কিছুতেই চাচ্ছি না এসব ক্যাচালে পড়ে আমার চেহারা নষ্ট হোক। এমনিতেও আমার ডায়েটও ফলো করতে হচ্ছে।"

সায়েবাকে কেউ আটকাল না। আসলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা একটা অযুহাত ছিল। আজ কাশিফকে এসাইনমেন্ট দেওয়ার কথা। সে অনেক ঘাটাঘাটি করে, একজন পরিচিত লেকচারার ভাইয়ার সাহায্য নিয়ে এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করেছে। সায়েবা ছুটল কাশিফের নির্ধারিত এক স্থানে। এই রুমটা ছাদের কাছাকাছি, এদিকটায় কেউ আসে না। কিংবা বলা যায়, এখানে কারো আসা বারণ।

সায়েবা আসতেই দেখল কাশিফ বসে বই পড়ছে। চোখে তার নতুন ফ্রেমের চশমা। কাশিফের অন্যতম শখ তার পাওয়ারের চশমাটাকে নতুন নতুন রূপ দেওয়া। সে কখনোই এক চশমায় অভ্যস্ত থাকতে পারে না। বলা বাহুল্য, তার আলাদা কালেকশনই আছে শুধু চশমার। ছোটো থেকে তিল তিল করে সব চশমা জমিয়ে রেখেছে সে। কোনো কারণে কোনো চশমা ভেঙে গেলেও সে সেই ভাঙা অংশটাও যত্ন করে আগলে রেখেছে। তার এই কালেকশনের কথা শুধুমাত্র লোকমুখেই শোনা, কিন্তু কাছের কয়েকজন ব্যতীত তার সেই চশমাঘর কেউ দেখার সুযোগ পায়নি।

সায়েবার গায়ে জ্বলন ধরে যায় কাশিফকে এভাবে পড়তে দেখে। সে যদি কখনো সুযোগ পায়, ছবি তুলে কাশিফের চশমাঘর পুরো ভাইরাল করে দিবে। এর চাইতে পারফেক্ট পানিশমেন্ট কাশিফের জন্য হতেই পারে না। মানুষ সবচেয়ে বেশি আঘাত পায় তার শখে আচড় পড়লে। তাও যদি হয় সেটা তিলতিল করে গড়া।

সায়েবা সূক্ষ্ম খোঁচা দিয়ে বলল,

--"বাহ! প্রতিমন্ত্রীর ছেলে কাশিফ মির্জাও বুঝি কারো জন্য অপেক্ষা করে?"

সহসা কাশিফের মনোযোগ নষ্ট হলো। সে বিরক্ত হয়ে মাথা তুলে চাইল। কাশিফ একাডেমিক পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্টিকেল, হিস্টোরিক্যাল যেকোনো লেখাই পড়তে পছন্দ করে। এতে করে তার জ্ঞানের পিরিধি বাড়ে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন টপিকে তার আকাশচুম্বী আগ্রহ। একমাত্র প্রেম কিংবা অনুভূতির ক্ষেত্রে সে শূন্যের কোঠায়, পাথর মানব সে।

--"আ'ম রিডিং!"

--"পড়তেও পড়তেও অপেক্ষা করা যায়, এটা একটা ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাও জানে।"

কাশিফ বই পাশে রেখে উঠে দাঁড়াল, কোমরের দিকে টি-শার্ট ঠিক করতে করতে এগিয়ে আসতে লাগল। বলল,

--"লেট করে এসেছ বলে এখন বাহানা খুঁজছ তাই না? তোমার আসার কথা কখন ছিল?"

সায়েবা অন্যদিকে ফিরে বলল,

--"দশটায়।"

--"এখন কয়টা বাজে?"

--"দ...দুপুর!"

--"ওহ গুড! আমি তো ভাবলাম তোমার ওই হাতের ইউজলেস ঘড়িতে মাত্র দশটা বেজেছে রাইট?"

--"স..সরি, আমার ক্লাস ছিল তখন!"

--"তোমার সরি দিয়ে কী হবে আমার? ক্লাস তো শেষ বারোটায়। স্যার নিশ্চয়ই তোমার ঘড়িতে এগারোটা বাজার অপেক্ষায় ছিল না?"

সায়েবা এবার রেগে গেল। হাতের এসাইনমেন্ট কাশিফের বুকে ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেলে বলল,

--"এর মানে আপনি এসাইনমেন্ট করবেন জেনেও আমাকে এত খাটিয়েছেন?"

কাশিফ বাঁকা হেসে বলল,

--"এটা ক্ষতিপূরণ, সাইক্লোন।"

--"রাখেন আপনার ক্ষতিপূরণ। আমি ভুলেও আপনার ধার ঘেঁষব না। ক্ষতিপূরণকে চায়ে ডুবিয়ে খান, যত্তসব।"

সায়েবা হনহন করে চলে আসল। ইচ্ছে করছে কাশিফের চশমাটা ভেঙে তার চোখে ভাঙা কাচগুলো ফুটিয়ে দিতে, কী অসভ্য এই ছেলে।

কাশিফ চোখের দেখায় এসাইনমেন্ট গুলো দেখল। খুব বেশি ভালো না হলেও বোঝা যাচ্ছে সায়েবা অনেক চেষ্টা করেছে। এতে কাশিফের মুখজুড়ে ক্রুর হাসি ছড়াল। মিনমিন করে বলল,

--"ইম্প্রেসিভ।"

মোহ বাড়ি ফিরতেই মেহমানের ঘ্রাণ পেল যেন। লিভিংরুমে ঢুকতেই তার সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হলো। মোহর দাদী হায়াত আক্তার এবং তার শাশুড়ি কিংবা জেঠী.. রাফিয়া রহমান। দুজনই মোহর শরীর খারাপের কথা শুনেই ছুটে এসেছেন। রাফিয়া রহমান ভীষণ কোমল মানুষ। কিন্তু স্বামীর জন্য পারেন না এখানে আসতে, ছেলে-মেয়ে দুটোকে আদর করতে। রুচি ত এখন নেই, তাই দূর থেকে তার জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। জেঠীর সাথে আমার সুন্দর, নরম এক সম্পর্ক। কিন্তু এই সম্পর্কের সৌন্দর্য কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়েছে বোধহয় ইরতেজার সাথে তার আকদের পরপরই। সে এখন চাইলেও মন খুলে কথা বলতে পারে না। মোহর মাথায় যেন এটা গেঁথে গেছে রাফিয়া তার জেঠি নয় শাশুড়ি। এই ব্যাপারটা রাফিয়া রহমানও বুঝতে পারেন। এজন্য প্রতিবার মোহকে এটা বুঝ দিতে হয় উনি এখনো মোহর জেঠীই আছেন। কিন্তু মোহর মধ্যে সেই বুঝটা ক্ষণস্থায়ী। যখন রাফিয়া আবার দূরে চলে যান, সেই বুঝ আবারও হুড়মুড়িয়ে জানালা দিয়ে পালায়। আর হায়াত আক্তার হচ্ছেন মুক্ত মানুষ। পনেরো দিন এই ছেলের বাসায় কাটান আবার বাকি পনেরো ওই ছেলের বাড়ি কাটান। স্বামীর প্রতি তাঁর আবার ভীষণ অভিমান। সেই অভিমান কীভাবে কাটাবেন বুরহান সাহেব, তা নিয়ে হয়তো তাঁর চিন্তাও নেই। থাকুক বুড়োটা, যতদূর থাকার থাকুক।

দাদীর কোলে বসে আছে পরিবারের সবচেয়ে ছোটো সদস্য, রাদিন। দাদী আসার পর থেকে রাদিন কিছুতেই পায়রার বদনাম করা থামাচ্ছে না। বলেই যাচ্ছে তো বলেই যাচ্ছে। মোহ সালাম দিয়ে লিভিংরুমে প্রবেশ করল। দুজনই মোহকে দেখে হাসলেন। রাফিয়া রহমান মেয়েটাকে টেনে তাঁদের মাঝখানে বসালেন। মোহর মুখ পরখ করে বললেন,

--"কী বাজে চেহারা হয়েছে আড়াচির। নিজের যত্ন নাও না?"

দাদী, জেঠীর কথায় শুনে মোহ ঢের বুঝল ইরতেজা তাদের সত্যিটা বলেনি, সস্তি পেল সে। হায়াত আক্তার মোহকে একপাশে জড়িয়ে ধরে বললেন,

--"আমার নাতনিটাকে কতদিন কাছে পাই না। হুট করে অসুস্থ না হলে আরও আগেই আসতাম। তোদের ছাড়াও যে আমার ভালো লাগে না। খুব ইচ্ছে হয় সবাইকে এক আঁচলে বেঁধে রাখি।"

রাফিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনিও কিছুটা অসহায় তাঁর স্বামীর জেদের কাছে। রাফিয়া তবুও হাসলেন, হেসে মোহর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

--"সমস্যা নেই আম্মা। শুনলাম বাবা নাকি আসছেন তাড়াতাড়ি, দেখবেন আপনার ছেলেরা না চাইতেও আবার মুখোমুখি হবে।"

এ কথা শুনে মোহর মুখ বাংলার পাঁচ হয়ে গেল যেন। বুরহান সাহেব আসা মানে তো ইরতেজাকে উঠতে বসতে সহ্য করতে হবে। এখন ত বাড়িতে তাও শান্তি পায়, তখন ত বাড়িতেও দম ফেলতে পারবে না। সে কেন যেন দাদার আসার কথা শুনলে খুশিই হতে পারে না। সে দোয়া করল, সেই দিন আরেকটু দেরীতে আসুক।

---------------------------

ইরতেজা আর তার বাকি চার বন্ধু মিলে আচমকাই ট্যুর প্ল্যান করল। উদ্দেশ্য, চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্পট ঘুরে আসবে। যেহেতু পরশুদিন নবীন বরণের অনুষ্ঠান সেহেতু আগামীকাল রাতেই আবার ঢাকায় ফিরে আসবে। এখন রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা, গাড়িসহ সব প্যাকিং ঠিকঠাক। ওরা গাড়িতে উঠে সবে গাড়ির দরজাটা লাগিয়েছে, এমন সময়ই ইরতেজার ফোনে কল আসল। ইরতেজা পকেট থেকে ফোন বের করতেই চমকে উঠল, এ যে বুরহান সাহেবের বাংলাদেশী নাম্বার। ইরতেজা ড্রাইভারকে গাড়ি স্টার্ট দিতে না করে কল রিসিভ করল। কিন্তু ইরতেজা হ্যালো বলার আগে ওপাশ থেকে বুরহান সাহেব বললেন,

--"এয়ারপোর্টে বসা আমি, দ্রুত আমাকে পিক করো।"

ইরতেজা অবাক হলো না, সে বুরহান সাহেবের স্বভাব জানে। ইরতেজা ঠান্ডা গলায় বলল,

--"পারব না, ট্যুরে যাচ্ছি। অন্য কাউকে কল করো।"

--"অন্য কাউকে কল করার হলে সিম ওপেন করে প্রথমেই তোমাকে কল করতাম না নিশ্চয়ই?"

--"এখন ট্যুর ভেস্তে দিবে?"

--"এত বছর পালছি তোকে কী ট্যুর নিয়ে খোঁচা শোনার জন্য অভদ্র? দাদার আবদার রাখবি না আগে বললেই হত, বেয়াদব!"

ইরতেজা হতাশ। দাদার কথা চেয়েও ফেলতে পারল না। কল কেটে ড্রাইভারকে বলল,

--"এয়ারপোর্টে চলো।"

ইরতেজার বন্ধুরা অবাক।

--"মানে কী? এয়ারপোর্টে কেন?"

--"দাদা এসেছে!" ইরতেজার ঠান্ডা গলা।

ব্যস্ত শহরের জ্যাম ঠেলে ওরা অবশেষে এয়ারপোর্ট পৌঁছাল। এয়ারপোর্ট পৌঁছে দেখল বুরহান সাহেব একটা টুলে বসে আছেন, তাঁর পাশেই খাম্বার মতো দাঁড়ানো লুইস। এই লুইসটার গায়ের গড়ন ভীষণ আলাদা। তাকে দেখলে কেমন বড়ো-সড়ো দানবের মতো লাগে। অথচ হাইট শুধু ছ'ফিট। ওদের দেশে এই হাইট স্বাভাবিক।

ইরতেজা বিরক্ত হয়ে বলল,

--"লুইস যখন ছিলই, তখন আমাকে ডাকলে কেন?"

--"কারণ লুইস আমার নাতি না। তুমি আমার নাতি থেকে ত্যাজ্য হলে আবার ভিন্ন কথা।"

ইরতেজার বন্ধুরা মুখ টিপে হাসল। প্রত্যেকেই বুরহান সাহেবকে সালাম দিল সুবালকের মতো। অথচ একেকজন শ%য়তানের হাড্ডি। কিন্তু কী আর করার, বন্ধুসমাজের স্বভাবই এটা। বুরহান সাহেব সুন্দর করে সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,

--"সালাম নিয়েছি, এখন তোমরা আসতে পারো। তোমাদের সাথে সময় অন্যসময় ফিক্স করব। গুডবাই।"

যা বলা হলো তাই করল বাকিরা। গাড়ি নিয়ে চলে গেল। বুরহান সাহেব লুইসকে ইশারা করতেই আরেকটা গাড়ি এসে থামল তাদের সামনে। বেশ দামী এই গাড়ি। বুরহান সাহেব হাই তুলতে তুলতে উঠে দাঁড়ালেন, ইরতেজার উদ্দেশে বললেন,

--"উঠো গাড়িতে। আজকে ঘুমাব, আগামীকাল আবার আড়াচির বাড়িতে ব্রেকফাস্ট করতে যাব।"

ইরতেজা বিরক্ত গলায় বলল,

--"গেলে যাও, আমাকে শুনাচ্ছ কেন?"

--"কারণ, তুমিও সঙ্গে যাচ্ছ।"

চলবে—

বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেমন লেগেছে জানাবেন, আপনাদের মন্তব্য মিস করছি। নতুন পর্ব ১০-১১ তারিখে দেওয়ার চেষ্টা করব। আগামী পরশু থেকে ফাইনাল পরীক্ষা, দোয়ায় রাখবেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন