#প্রণয়ে_খলনায়ক - [১৯]
লাবিবা ওয়াহিদ
[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]
মৌরি আর সায়েবা মিলে শাড়ি পরে একসাথেই ভার্সিটি এসেছে। ওরা অডিটরিয়ামে নেই। অডিটরিয়ামের বাইরে একটা ফাঁকা স্থানে দুজন দাঁড়ানো, মূলত বাকি দুজনের জন্য অপেক্ষা করছে তারা। কথার ছলে ওরা হাত নাড়িয়ে নাচের স্টেপগুলোও অনুশীলনে রাখছে। দূরে একসাথে দাঁড়ানো স্বচ্ছ, কাশিফ আর নিহিন।
নিহিনের মৌরির ওপর চোখ পড়ার পর থেকে কেন যেন তাকেই চোখে হারাচ্ছে। আড়চোখে, সরাসরি বারবার দেখছে তাকে। মেয়েটাকে সে বুঝি আগেই লক্ষ্য করেছিল নাকি আজই ভালো করে দেখল। বাসন্তী শাড়িতে চশমা পরিহিত মেয়েটা ব্যতীত বাকিসব অস্পষ্ট লাগছে তার। ঠিক পোট্রেট ক্যামেরার মতো।
স্বচ্ছ ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে কয়েকবার। এবার সে মুখ খুলল,
--"এত দেখলে হবে?"
নিহিন আনমনে বলল,
--"সুন্দরকে না দেখে উপায় আছে?"
কাশিফ নিহিনের কাঁধে জোরে চাপড় মেরে বলল,
--"এই শালা, কে সুন্দর?"
নিহিন চেয়েই রইলো, কিছু বলল না। পরপর স্বচ্ছের কাঁধে হাত রেখে মুগ্ধ গলায় বলল,
--"চাশমিশ নারী নাকি পরিরে, কাশিফ?"
স্বচ্ছ হালকা কেশে বলল, "আমি স্বচ্ছ।"
নিহিন চট করে স্বচ্ছের দিকে তাকিয়ে বোকা হাসল। মাথা চুলকে বলল,
--"ওই আর কি স্বচ্ছ বলতে গিয়ে কাশিফ বলে ফেলেছি।"
কাশিফ খোঁচা দিয়ে বলল,
--"প্রেমে পড়লে শেয়ালও গাধা হয়ে যায়।"
--"শাট আপ ব্রো! আমি কিছুতেই গাধা না।"
স্বচ্ছ বলল,
--"হবি গাধা, যদি তুই তোর এই ভালো লাগাকে অস্বীকার করিস। সময় থাকতে বলে দেয়া উচিত। আমি সময় মতো বলার আগেই দেখি আহিনকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। আমার কলিজাটা জিভের আগাতে চলে আসছিল। ভাগ্যিস কপাল ভালো ছিল বলে এখনো আহিনকে হারাইনি।"
কাশিফ হেসে বলল,
--"তুই হলি আমাদের বন্ধুমহলে সবচেয়ে ইউনিক, স্বচ্ছ। তোর প্রেম তোর নামের মতোই স্বচ্ছ স্বচ্ছ ভাইব দেয়। আজ কি ভাবী শাড়ি পরে আসবে বলে মনে হয়?"
স্বচ্ছ তীব্র হতাশ হয়ে বলল,
--"জানা নেই। তবে এটুকু জানি উনি ফেলে দিবেন না।"
কাশিফ আবারও বলল,
--"তোকে দিয়ে বন্ধুমহলে শাড়ি গিফটের রচনা শুরু হয়েছে। তুই কেনার পরপরই সোবহান ওর গার্লফ্রেন্ড অধরার জন্য কিনল, এরপর চাপে পড়ে ইরতেজা কিনল তার কাজিনের জন্য। একা আমি আর নিহিনই বাকি আছি।"
নিহিন আফসোস করে বলল,
--"এই মেয়েটাকে আগে এত দারুণ ভাবে চোখে পড়লে আমিও তোদের ট্রেন্ডে গা ভাসাতাম। কিন্তু আফসোস, লাভ এট ফার্স্ট সাইটটা আজকেই হয়েছে।"
কাশিফ, স্বচ্ছ হো হো করে হেসে উঠল। মার-পিট করা নিহিন পাটোয়ারীর লাভ এট ফার্স্ট সাইট, তাও আবার যে তাকে ছিনতাইকারী বলে। নিহিন এক দণ্ড পাত্তা দিল না ওদের, সে শুধু দেখে গেল তার প্রিয়তমাকে। উপলব্ধি করল। আজ অবধি যে কয়টা ডেট সে করেছে, সবার থেকে মৌরি ভিন্ন। তার মধ্যে এমন কিছু আছে যা নিহিনকে এতদিন চৌম্বুকের মতো টেনেছে। এখন টানতে টানতে নিহিনকে সোজা প্রেমের পুকুরে ঠেলে ফেলে দিল? এই অপরাধে কী মৌরিকে তার শাস্তি দেওয়া উচিত?
ইরতেজা এল এর মাঝে। সে সাদা শার্ট আর নেভি ব্লু প্যান্ট পরেছে। তাকে খুব একটা পাঞ্জাবিতে টানে না। সে শার্ট-টিশার্টেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ইরতেজা ওদের কথোপকথনে বাম হাত ঢুকিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
--"কী নিয়ে আলাপ হচ্ছে?"
স্বচ্ছ বলল,
--"নিহিন প্রেমে পড়েছে।"
বলেই স্বচ্ছ যেই সামনে তাকাল, তার গলায় নিঃশ্বাস আটকে গেল। সামনে আহিন আসছে, তার গায়ে স্বচ্ছের দেওয়া শাড়িটা। স্বচ্ছের পলকহীন, থমকে যাওয়া নজর সকলে অনুসরণ করল। নিহিন ত তা দেখে হো হো করে হাসতে হাসতে বলল,
--"কিন্তু এবার স্বচ্ছ প্রেমে পড়েছে।"
আহিন তাদের অতিক্রম করতে নিলে সকলে সম্মানের সাথে সালাম দিল তাকে, একমাত্র স্বচ্ছ ছাড়া। সে শুধু হা করে আহিনকে দেখছে। ইরতেজা সামনে মৌরিদের দেখল। পরপর ওদের সাথে অধরাকেও দেখা গেল। অধরাকে দেখে নিহিন সোবহানকে বলল,
--"কিরে, আর কোনো কালার পেলি না.. শেষমেষ কালো শাড়ি?"
সোবহান হালকা হেসে মাথা চুলকে বলল,
--"আসলে আমি শাড়ি দেইনি, এখনো গাড়িতেই পরে আছে। থাক না, পরুক ওর পছন্দমতো।"
ইরতেজা মোহকে দেখতে না পেয়ে বিরক্ত হলো, সাথে বাকিদের এত মেয়েলি আলাপ করতে দেখে তার বিরক্তির পরিমাণ বাড়ল। ইরতেজা বিরক্ত হয়ে বলল,
--"মেয়েদের মতো ড্রেসআপ নিয়ে গসিপ করতে কবে থেকে শুরু করেছিস তোরা? এটা খুব ডিসগাস্টিং!"
নিহিন তাকে খোঁচা দিয়ে বলল,
--"তোর মতো ফিলিংলেস এসব বুঝবে না।"
কাশিফ বলল,
--"নো গাইজ, স্টপ দিস টপিক। আমাদের সাথে এসব আলোচনা যাচ্ছে না।"
যখন বন্ধুরা অন্য টপিকে চলে গেল ইরতেজা দেখল মোহ তৈমুরের সাথে আসছে। মোহ আসলেই শাড়ি পরেনি, সে অর্গাঞ্জার একটা সুন্দর থ্রি-পিছ পরেছে। ব্যাপারটা কেন যেন ইরতেজার ভীষণ ইগোতে লাগল। সে কখনোই কারো জন্য শাড়ি কেনা ত দূর, একটা কলমও কিনেনি। সেখানে বুরহান সাহেবের চাপে পড়ে জীবনে প্রথম শাড়ি কিনল, উপহার দিল। অথচ মোহ তার কথা পাত্তাই দিল না। ইরতেজা তৈমুরের হাতে থাকা মোহর গিটারটা দেখল লাল নজরে।
মোহ বন্ধুদের কাছে চলে গেলে তৈমুর আসে ছোটো ভাইদের কাছে। মৌরি তো তৈমুরকে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। অনুভব করল তার কান গরম হয়ে আছে। প্রিয় মানুষের সামনে এই প্রথম শাড়ি পরা তার। ধ্যান ভাঙল সায়েবার গলায়।
--"কী মোহ, শাড়ি কোথায়? আমরা সবাই পরেছি আজ আর তুই!"
মোহ বন্ধুদের সামলে বলল,
--"দ্যাখ আমি শাড়ি খুব একটা পরতে জানি না। একবার শাড়ি খুলে যাওয়ার পর আমি ভীষণ লজ্জায় পড়েছিলাম, এরপর থেকে শাড়ি আমার জন্য ফোবিয়ার মতো।"
মোহ কোনোমতে বুঝ দিয়ে বন্ধুদের শান্ত করল। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে মোহর শাড়িতে ফোবিয়া হলেও এখন নেই। সে শুধু ইরতেজার শাড়িকে নাকচ করতে কোনো শাড়িই পরেনি। যাতে করে বিপদে পড়লে একটা বুঝ দেওয়া যায়।
সকলে ভেতরে চলে গেল। মৌরি, সায়েবা চলে যায় ব্যাক স্টেজে। তবে কিছুক্ষণ বাদেই মৌরি বেরিয়ে আসল। তৈমুর বারান্দায় দাঁড়িয়ে পেশেন্ট নিয়ে কলে কথা বলছে। মৌরি তৈমুরকে প্রাণ ভরে দেখে নিল। তৈমুর মৌরিকে দেখতেই তার দিকে ফিরে দাঁড়াল। মুখে তার ভুবন ভুলানো হাসি, যেই হাসিতে মৌরি বারবার মূর্ছা যায়।
--"আরে মৌরি, কেমন আছ?"
--"জি ভালো। ধন্যবাদ আসার জন্য।"
তৈমুর হেসে বলল,
--"এটা বলতে পারো আমাদের পারিবারিক প্রোগ্রাম। দাদা ইনভাইটেট। এজন্য ভাবলাম তোমাদের চিয়ারআপ করতে চলে আসি। আগে কখনো নবীনবরণ প্রোগ্রামে আসিনি। ওই এসেছিলাম ইরতেজার সময়ে।"
মৌরির খুশিতে পাগল পাগল লাগল নিজেকে। তৈমুর এসেছে, তাও তাদের জন্য। মৌরি ব্লাশিং করল। তৈমুর তা খেয়াল না করে বলল,
--"কোনো কিছুতে পার্টিসিপ্যান্ট করছ?"
--"হুঁ, নাচ দিচ্ছি।"
--"ওয়ান্ডারফুল, স্যারের মেয়ের এই ট্যালেন্টের কথা ত জানতাম না। আজ তবে তোমার নাচ দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে।"
মৌরি লাজুক গলায় ধন্যবাদ জানাল। ভেতর থেকে ভাষণের আওয়াজ আসছে, যা তৈমুরের একদমই পছন্দ না। মৌরি জিজ্ঞেস করল,
--"ভেতরে আসবেন না?"
--"ডোন্ট মাইন্ড, আমার আসলে এসব লেকচার এত একটা পছন্দ না।"
--"ভেতরে আপনার দাদাকে দেখলাম। কেমন উজ্জ্বল করে বসে আছে।"
তৈমুর হেসে বলল,
--"দাদা এমনই। যেখানেই যায় সবার এটেনশন পেয়ে যায়। কতজন যে উঠতে বসতে সালাম দেয়।"
--"মনেই হয় না উনি আপনাদের দাদা, এখনো ইয়াং লাগে.. যেন আপনার বাবার বয়সী।"
তৈমুর হো হো করে হেসে দিয়ে বলল,
--"আমাদের দাদা ভীষণ স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। খাবারের ডায়েট, ওয়ার্কআউট, বাছ-বিচার সবই করেন।"
মৌরি অবশ্য আগেই এসব মোহর থেকে তবে তৈমুরের মুখে শুনে তার ভীষণ ভালো লাগছে। মৌরি ওয়ার্কআউটের কথা শুনে অবাক হয়ে বলল,
--"এ বয়সে ওয়ার্কআউট?"
--"হুঁ। জিমে দাদার রেগুলার আনা-গোনা।"
তৈমুরের আবারও কল আসলে সে বিদায় নিল। মৌরি সেখানেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো, তাদের মুহূর্তটুকু স্মৃতিচারণ করল। আজকের দিনটা এত সুন্দর কেন? মিনিট পাঁচেকের মধ্যে নিহিন এসে তার পাশে দাঁড়াল।
--"এখানে কী করছ?"
মৌরি বিরক্ত হলো, নিহিনের পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে নিহিন তার পথ আটকাল। মৌরি বিরক্ত গলায় বলল,
--"কী সমস্যা?"
--"তোমরা সুন্দরীদের জিভ এত তেঁতো হয় কেন? বাসায় কী খেতে দেয় তোমায়? নরম সুরে কথা বলতে পারো না?"
--"না পারি না।"
--"সেদিন ছিনতাইকারীর হাত থেকে বাঁচানোর সময় ত কত নরম করে কথা বলেছিলে, এখন কী সমস্যা।"
--"তখন বুঝিনি আপনি আমার বিরক্তির কারণ হবেন।"
--"ও আচ্ছা তাই। ডোন্ট মাইন্ড সুন্দরী, আসলে আমি ছিনতাইকারী ত তাই বিরক্ত না করে থাকতে পারি না। দেখি, তোমার ফোন বের করো।"
--"কেন?"
--"নতুন ছবি আপলোড করেছি, ওটাতে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে আসো।"
মৌরি বাধ্য হয়ে তাই করল।
--"এবার খুশি?"
--"শাড়িতে তোমাকে সুন্দর লাগছে, মৌরি।"
মৌরি অবাক হলো, তবে বিশেষ কিছু বলল না। চলে গেল। নিহিন নিজের মোবাইল বের করে মৌরির পাঠানো নতিফিকেশনটা দেখল, পরপর কী বুঝে স্ক্রিনশট নিয়ে নিল। নিহিন আপনমনে হেসে বলল,
--"নিজে ছিনতাই করতে করতে কবে যে আমার হৃদয়টাই ছিনতাই হয়ে গেল, তা টেরই পেলাম না। এর শাস্তিস্বরূপ তুমি ভুগবে, বাসন্তী মেয়ে।"
অনুষ্ঠান চলাকালীন আহিন বুরহান সাহেবকে সালাম দিল। তার সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখল দূরে দাঁড়ানো স্বচ্ছ। সে অবাকই হলো। আহিন বুরহান সাহেবকে চিনে কী করে? এর মাঝে স্বচ্ছ আহিনকে দেখল বাইরে যেতে। স্বচ্ছ তৎক্ষণাৎ তার পেছনে গেল।
আহিনের বাবা বারবার কল দিচ্ছে তাকে। এজন্য মাইকের শব্দ থেকে দূরে দাঁড়িয়ে সে বাড়িতে কথা বলে নিল। কথা শেষ করে যেই পেছনে ঘুরল ওমনি কারো বুকে ধাক্কা খেল সে। স্বচ্ছ আহিনের কোমর ধরে তাকে পড়া থেকে বাঁচিয়ে বলল,
--"ভয় পাবেন না আহিন, আমি আপনারই আপনজন।"
আহিন চমকে বাঁধন ছেড়ে কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেল। কথা বলতে গিয়ে গলা কিছুটা কেঁপে উঠল,
--"এখানে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছ কেন?"
--"আপনার কথা শেষের অপেক্ষা করছিলাম।"
স্বচ্ছ তখনো মুগ্ধ চোখে আহিনকে দেখছে। আহিন এতে চোখে চোখ রাখতে পারল না, নজর লুকাল। তা বুঝতে পেরে স্বচ্ছ মুচকি হেসে বলল,
--"ধন্যবাদ আহিন, উপহারটা ফেলে না দিয়ে এভাবে সম্মান দেওয়ার জন্য।"
আহিন নিশ্চুপ, আশেপাশে সতর্ক নজরে তাকাল। তাকে কেউ স্বচ্ছের সাথে দেখে ফেললে সমস্যা। স্বচ্ছ আবারও ঘোর লাগা গলায় বলল,
--"এই শাড়িতে আপনি মানুষটা আমার চোখে নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন আহিন। ইচ্ছে করছে এখনই আপনার রেশমী চুড়িতে রাঙানো হাতটা ধরে কাজী অফিস চলে যাই। কেন শুভ কাজে এত বাঁধা দিচ্ছেন?"
--"আমি তোমার শিক্ষক হই, সাবধানে কথা বলো।"
স্বচ্ছ হাসল। দুই ধাপ আহিনের দিকে এগিয়ে গিয়ে অস্বাভাবিক শীতল গলায় বলল,
--"প্রশ্নই আসে না। এই জন্মে আপনি আমার বউ বাদে আর কিছুই নন। আপনি হয় আহিন, নয়তো শাহরিয়ার স্বচ্ছের একমাত্র বউ। আর কোনো পরিচয় নেই আপনার।"
মোহ আচমকাই তার গিটারটা খুঁজে পাচ্ছে না। হুট করেই যেন চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেছে। মোহ নিজে খোঁজাখুঁজি করল কিন্তু বন্ধুদের বুঝতে দিল না। মোহর প্যানিক লাগছে, রুচির দেওয়া উপহার ওটা। এই প্রথম সে এই প্রোগ্রামে এটা বাজাবে। ওটা ছাড়া সে গান কী করে গাইবে? অস্বস্তি, অস্থিরতায় মোহ চুপ করে বসে রইলো। এখনই মৌরি আর সায়েবার নাচ। সে চাচ্ছে না স্টেজে ওঠার আগেই তাদের টেনশনে ফেলতে।
এর মাঝে অধরার ফোনে অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। সে সবার অগোচরে বেরিয়ে এলো অডিটোরিয়াম থেকে। খালি ক্লাসের সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে অচেনা নাম্বারে কল দিয়ে চেষ্টা করতে লাগল। নিশ্চয়ই সোবহান তার সাথে প্র্যাঙ্ক করছে। এমনিতেই ছেলেটা যা চোখে হারাচ্ছে তাকে। আচমকাই কেউ অধরার মুখ চেপে ধরে তাকে খালি এক ক্লাসে টেনে নিল। ক্লাসজুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার। অধরা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। অন্ধকারের মাঝেই একজোড়া হাত অধরার শাড়ি টেনে খুলে ফেলল, সঙ্গে শাড়ি টেনে ছেঁড়ার শব্দও ভেসে আসল কানে।
®লাবিবা ওয়াহিদ
চলবে—
বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। চেষ্টা করেছি সবাইকে এক পর্বে আনার, এটা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল আমার জন্য। এত এত চরিত্র যে সাজাতে গিয়েই গল্প স্লো হয়ে যাচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হবেন না পাঠকমহল। কেমন লেগেছে আজকের পর্ব অবশ্যই জানাবেন। আমি আপনাদের লোভনীয় মন্তব্যের অপেক্ষায় বসলাম কিন্তু।