#প্রণয়ে_খলনায়ক
| পর্ব ২৩ | (এলার্ট পর্ব)
লাবিবা ওয়াহিদ
[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]
--"আপনি এনেছেন আমার জন্য? কে বলেছে আপনাকে বিরিয়ানির কথা?"
ইরতেজা বিরক্তি দেখাল। কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
--"তোমার জন্য আমার বিরিয়ানি আনতে বয়েই গেছে। এখন খেয়ে উদ্ধার করো, আমার অন্য কাজও আছে।"
মোহর ফোনে তখনই তৈমুরের মেসেজ এলো, "বিরিয়ানি পেয়েছিস? সরি আমি আসতে পারিনি, হাসপাতালে বিজি। এজন্য ইরতেজাকে দিয়ে কিনিয়ে পাঠালাম। কেমন লাগল সারপ্রাইজ?"
মোহ ব্যাপারটা না বুঝলেও রাদিন ইরতেজার নাম্বার ভেবে তৈমুরকে ভয়েজ পাঠিয়েছে। ভয়েজ শুনে তৈমুর রাদিনের ভুল বুঝতে পেরেছে। সাথে যা বুঝার বুঝে গেছে। তাই ভাই আর ভাইয়ের বউকে কাছাকাছি আনতেই তৈমুর এই কাণ্ড করল। তাও আবার বুরহান সাহেবের নাম করে ইরতেজাকে ব্ল্যাকমেইল করে। আল্লাহ তার যা পাথর ভাই দিয়েছে, একে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। জোরে করে ধরে ধরে কিছু করালেও যেন লাভ।
মোহর আশায় এবারও জল পড়ল, সে ইরতেজার প্রতি তার আকাঙ্খা, আশা সব হারিয়ে ফেলছে। সেই স্বস্তির জায়গাটায় বিরক্তি, অসহ্য ভাব চলে আসছে। একটা পাথরের সাথে কী আদৌ অনুভূতি আদান-প্রদান সম্ভব? সম্পর্কটা সত্যিই বিষাদময়, বোঝা।
--"আপনার বিরিয়ানি আপনিই খান।"
বলেই মোহ চলে যেতে নিলে ইরতেজা থামায়।
--"লিসেন, বিরিয়ানি খাও বা ফেলে দাও এটা তোমার ইচ্ছে। বাট এসব আলগা ঝামেলা থেকে আমাকে দূরে রাখো।"
মোহ থমকে গেল। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে বিরিয়ানি ছিনিয়ে নিয়ে বলল,
--"ঠিক আছে ফেলে দিচ্ছি। আপনি ফিরে যান।"
এবার ইরতেজা তার হাত ধরে থামিয়ে বলল, "ডোন্ট ওয়েস্ট ফুড! আমার আনা খাবার ফেলবে কেন?"
মোহ বিরক্ত হয়। ইরতেজার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,
--"আপনি আসলে চান কী আমার থেকে? নিজেও সুখে থাকবেন না আমাকেও থাকতে দিবেন না তাই ত?"
ইরতেজা মোহর চোখের দিকে তাকাল, আজ মোহর চোখের ভাষা ভিন্ন। যেন গোপন অনেককিছুই সেই চোখে ভেসে উঠেছে। যা ইরতেজা বরাবরের মতোই পড়তে ব্যর্থ। তবুও ইরতেজা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
--"ফাইন, ফেলে দাও। আজকাল তোমাকে জ্বালানোর বদলে তুমিই আমাকে জ্বালাচ্ছ। ফল হবে না, টেক ইওর টাইম।"
বলেই ইরতেজা চলে গেল। মোহ চুপ করে তার যাওয়া দেখল। সে খাবার ফেলল না, কাউকে দিলোও না। নীরবে ঘরে নিয়ে গেল। বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে দেখতে খেলো। খাওয়ার রুচি নেই, তবুও জোর করে খেলো। কেন, তা সে জানে না। ইরতেজার মতো পাথরকে সহ্য করতে করতে সেও যেন অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছে দিনকে দিন। অদূর থেকে ইরতেজা মোহর বারান্দায় ফোনের ক্যামেরা জুম করে দেখল মোহ বসে বসে বিরিয়ানি খাচ্ছে। ইরতেজা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে তার গাড়ির দিকে চলে গেল। যেতে যেতে তৈমুরকে টেক্সট করল,
--"তুমি বলেছিলে না তোমার বোন আমার খাবার ফেলে দিবে? তোমার বোন বসে বসে খাচ্ছে। ইরতেজাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ো না ব্রো।"
---------------------------------
--"লুইস, দেখি আমার প্রথম কাস্টমারকে পাঠাও।"
লুইস মাথা নাড়িয়ে বাইরে চলে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে অধরা এলো। নদীর তীরের এদিকটায় বালি উঠানোর ট্রলার বানানো হয়। তাই ঘুট, খুট শব্দ থামছে না। তার ওপর এই ছোটো খাটো ঘরটাও ভাঙাচোরা, যেন বড়ো হাওয়া পড়লেই ধসে পড়বে। অধরা মাস্ক খুলে ম্যাড়মেড়ে শব্দে চেয়ারটায় বসল। তার সামনে বেশ ভাব মেরে বসা বুরহান মিয়াজী। তাঁর চেহারার কোনো পরিবর্তন নেই, যেন তাঁর আগে থেকেই জানা এখানে অধরা আসবেই। অধরাকেও চমকাতে দেখা গেল না। বুরহান সাহেব বললেন,
--"বাইরে চলো, নদীর স্বচ্ছ হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলার মজাই আলাদা।"
অগত্যা, অধরা গেল। বুরহান সাহেব নদীর তীর ধরে হাঁটতে লাগলেন, অধরা তখনো চুপ।
--"কী চাও বলো?"
--"থ্যাঙ্কস দাদাভাই সেদিন সাহায্য করার জন্য।"
অধরা থেমে আবারও বলল,
--"শুনেছি একসময়ে বাবার অনেক হেল্প করেছেন আপনি। এবার আমারও কিছু হেল্প লাগত।"
--"মা&র্ডার টাইপ হেল্প? ইউ নো, আমি অল্প ছোটোখাটো ইস্যুতে জড়াই না।"
--"ছোটোও না আবার মার্ডা&রো না। তবে একটা পরিবার বিধ্বস্ত করতে চাই।"
বুরহান সাহেব ক্রুর হেসে বললেন,
--"ধ্বংসলীলা? আই লাইক ইট! এর বদলে কী দিচ্ছ? আমি ফ্রিতে কাউকে কিছু করে দেই না, তা জানো নিশ্চয়ই?"
--"আপনি কী চান?"
--"তোমার বাবা কত পার্সেন্ট শেয়ার দিবেন?"
অধরা অবাক হলেও পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নেয়। বলল, "কাজ হয়ে গেলে জানাব আপনাকে।"
বুরহান সাহেব পান মুখে দিলেন। ইদানীং পান খাচ্ছেন টুকটাক। স্যুট, বুট পরা লোক পান চিবুচ্ছে, দেখতে অদ্ভুতই লাগে। তবুও বুরহান মিয়াজী কি না পারে?
--"ইউ আর আ ব্রেইভ গার্ল। যাকে একসময় উপরে তুলেছিলাম আবার তাকে নিচে নামাতে হবে। এজন্যই এই গেম খেলা এত পছন্দ আমার। তুমি কখনো না বললে আমিই ওটারে চেয়ার থেকে নামাতাম। রাস্কেল, হারামজাদা কোথাকার।"
অধরা অবাক হলো,
--"আমি তো এখনো বলিইনি আমি কী চাই।"
--"মুখ খুলে বলার দরকার নেই, রক্ত গরম বিচ্ছুগুলা কী চায় তা জানা আছে আমার। তুমি শুধু নিজের পড়াশোনায় মনোযোগ দাও, আর নতুন হেডলাইনের প্রস্তুতি নাও।"
অধরা বুরহান মিয়াজীকে বিদায় দিয়ে যেতে নিবে এমন সময়ই বুরহান সাহেব বলল,
--"লুকিয়ে সোবহান সাহিলকে বিয়ে করেছ রাইট?"
অধরা অবাক হলো না, এই তথ্য যোগাড় করা বুরহান সাহেবের নিকট দুধ-ভাতই বটে।
--"জি, তবে শীঘ্রই ডিভোর্স দিচ্ছি।"
--"দিতে পারবে না।"
--"কেন?"
--"তুমি চাও না তাই, নাতনি।"
অধরা অবাক হলো, "কেন চাইব না? অবশ্যই চাই। আমি কখনোই জীবনে কোনো চিটারকে জায়গা দিই না।"
--"যদি তুমি ডিভোর্স দিতে পারো, আমি তোমার বাবার শেয়ার নিব না। দেখি, পারো কতটুকু!"
অধরার ইগোতে লাগল। সে সিদ্ধান্ত নিল, সে সোবহানকে ডিভোর্স দিয়েই ছাড়বে। সে তৎক্ষণাৎ সোবহানকে টেক্সট দিল, "আগামীকাল কোর্টে আসবে। ডিভোর্সের ব্যাপারে কথা আছে।"
রাতে যখন অধরা রাস্তা পার হতে নিচ্ছিল তখনই কেউ অধরার পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরল। বিষাক্ত কিছু নাকে বিঁধতেই সে জ্ঞান হারালো। যখন জ্ঞান ফিরল নিজেকে একটা সুন্দর বিছানায় দেখল। চট করে উঠে বসতেই সোবহানকে দেখল, সোবহান শুধু একটা স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে আছে। অধরার বেশ রাগ হলো বটে। এগুলা কী ধরণের ফাজলামি?
অধরা বিছানা থেকে উঠার আগেই সোবহান আবার তাকে ধরে বসিয়ে দিল।
--"কী হচ্ছে, তুমি এভাবে আমাকে এখানে এনেছ কেন? চড় খেতে চাও?"
--"ছি ছি, হাসবেন্ডকে কেউ চড় দেওয়ার কথা বলে?"
--"শাট আপ! তোমার নামে আমি মামলা দিব আমি, এত বড়ো সাহস আমাকে কিডন্যাপ করেছ?"
--"তুমি ভালো কথার মেয়ে নও যে সহজ কথায় চলে আসবে। তোমার মতো ত্যাড়া মেয়ের সাথে ত্যাড়া কাজই হয়। নাও, লেট মি কিস ইউ!"
সোবহান ঠোঁট বাড়িয়ে দিতেই অধরা তার ঠোঁট লুকিয়ে চেঁচাল,
--"খবরদার এসব অকাজ করবে না। আমি কিন্তু চেঁচিয়ে তোমার মাকে ডাকব।"
--"ডাকো, মম এমনিতেই তোমাকে দেখতে চেয়েছিল। মম দেখলে বুঝতে পারছ ত, ডিভোর্স আর দেওয়া হচ্ছে না।"
বলেই সোবহান অধরার গালে, কপালে, গলায় চুমু দিতে লাগল। অধরা চেঁচাল আবারও। সোবহান তা তোয়াক্কা না করে অধরাকে শুইয়ে দিল। হিম শীতল গলায় বলল,
--"অধরা প্লিজ, এভাবে দূরে সরিয়ে দিয়ো না। তুমি ভালো করেই জানো তুমি আমার কাছে কি। আমার কী কপাল দেখো, বিয়ে করেছি অথচ বউকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর সৌভাগ্য হয়নি।"
অধরা সেসব কথা না শুনে সোবহানকে ঠেলতে লাগল,
--"প্লিজ, সোবহান। ছাড়ো। বেশি হচ্ছে। আগামীকাল আমাদের কোর্টে দেখা হওয়ার কথা।"
সোবহান অধরাকে বুকে নিয়ে লাইট নেভালো রিমোট সিস্টেমের মাধ্যমে। অতঃপর অধরার মাথায় থুঁতনি ডুবিয়ে অধরাকে আরও নিজের কাছে টেনে নিয়ে মাদক স্বরে বলল,
--"আগামীকাল একসাথেই কোর্টে যাব বউ, এখন হাসবেন্ডের বুকে ঘুমাও। কিছুদিন পর ত তোমার জন্য আমি হারাম হয়ে যাব।"
অধরা চুপসে গেল সোবহানের শেষ কথাটা শুনে। ছেলেটা এত মেয়েদের মাঝে মেতে থাকলেও ঠিকই জানে ডিভোর্স হলেই তারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যাবে। বুকে এত ব্যথা হচ্ছে কেন তার? সোবহান আচমকা তার মাথা তুলল, ঠোঁটের কাছাকাছি এসে ফিসফিস গলায় বলল,
--"জাস্ট আ লিপ কিস অধরা, আই বেগ ইউ।"
বলেই অধরার জবাবের অপেক্ষা করল না, ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে ফেলল। প্রথমবারের মতো অধরাও বাঁধা দিল না। অধরার এতটা কাছে থেকে সোবহান অনুভব করল তার চোখের পাঁপড়ি ভিজে আছে। আরও কাছে টেনে নিল তাকে, খুব করে চাইল সময়টা থেমে যাক।
চলবে—
বিঃদ্রঃ ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, আমি পড়ব আপনাদের কিউট মন্তব্যগুলো।
"ইরতেজা ভাই" ইবুকটি কিনেছেন ত? ২৫% ছাড়ে বইটইয়ে নতুন গল্পটি পেয়ে যাচ্ছেন।❤️