ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ে খলনায়ক

২৫তম পর্ব

লেখক: লাবিবা ওয়াহিদ

#প্রণয়ে_খলনায়ক - [২৫]

লাবিবা ওয়াহিদ

[কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]

কাশিফ, স্বচ্ছ, ইরতেজা, নিহিন মিলে সোবহানের সেলুনে বসা। কাশিফ, নিহিনের কিল খেয়ে সোবহান দূরে গিয়ে বসেছে। কাশিফ গলা উঁচিয়ে চেঁচাল, "আহাম্মক, ছাগল! বিয়ে করেছিস বললে কী তোকে খেয়ে ফেলতাম? আগে কেন জানাসনি?"

নিহিন বলল, "জানাবে কেন? কে হই আমরা? অধরা ওর গার্লফ্রেন্ড হলে বউ হয়ে টপকাল কেমন করে?"

স্বচ্ছ বলল, "সোবহান, একা একা বিয়ে লুকালি? তাও আমাদের থেকে? আমি ত আহিনের ব্যাপারে তোদের গোড়া থেকে সব বলেছি।"

সোবহান বলল, "আমার জানানোর মতো অবস্থা ছিল না, বিলিভ মি। কতবার জানাতে চেয়েছিলাম, তোরা যদি রেগে যাস সেই ভেবে বলিনি।"

কাশিফ চোখ রাঙিয়ে বলল, "হ্যাঁ, এখন তো জেনে তোকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিচ্ছি তাই না?"

নিহিন বলল, "আরে তোরা বসে আছিস কেন? আমাকে বল শুধু, ওর বিয়ের গিফট হিসেবে ওর হাত-পা ভেঙে দেই।"

ইরতেজা এবার মুখ খুলল, "তোরা কী বাচ্চা? এত ইমম্যাচিওর বিহেভিয়ার কেন? মানুষের পার্সোনাল লাইফের অনেককিছুই সবসময় শেয়ার করা যায় না। প্রাইভেসি মেইনটেইন করতে হয়। তোরা নিশ্চয়ই বাচ্চা প্রসেসিং কীভাবে করে তার এক্সপ্লেইনেশন চাইবি না।"

সোবহান ভেবেছিল ইরতেজার কথায় কিছুটা ইমোশনাল হবে। কিন্তু শেষে দিয়ে বাচ্চা প্রসেসিং এর কথা শুনে সে রেগেই গেল!

--"শাট আপ ব্রো! কই থেকে কই চলে গেছিস তুই?"

নিহিন বলল,

--"এ আর নতুন কী? জানিস না আমাদের ইরতেজা বহুত দূর পর্যন্ত ভাবে? বিয়ে যেহেতু হয়েছে বাচ্চা ত হবেই।"

কাশিফ বলল,

--"ইরতেজার এত জ্ঞান নিতে ইন্টারেস্টেড নই আমি।"

দুই বন্ধু দুই পাশে থম মেরে বসল। কাশিফ তার নিউজফিড ঘাটতে গিয়ে আচমকা সায়েবার একটা ভিডিও সামনে আসল। সেই ভিডিওতে সায়েবা একটা পেজ থেকে পাওয়া উপহার রিভিউ করছে। ভিডিওটা হুট করেই সামনে আসা, কাশিফ কখনোই তার অফিশিয়াল পেজে ফলো দেয়নি। কী ভেবে সাউন্ড ছাড়াই সায়েবার ভিডিওটা সে দেখছে। নাকে রাগ সুড়সুড় করা মেয়েটা কী সুন্দর করে হেসে ক্যামেরার দিকে চেয়ে কথা বলছে। তার কথা বলার ভঙ্গি, নড়াচড়া, হাতকে বিভিন্ন প্রসঙ্গে নাড়ানো, সবটাই যেন কাশিফের জন্য নতুন। তাকে কখনো হাসতে দেখেনি সে। সেই নবীন বরণের পর থেকেও মেয়েটা তার ধার ঘেঁষে না। ক্ষতিপূরণের নামে কাশিফও তাকে ডাকে না। হয়তো খেয়ালেই ছিল না মেয়েটাকে। আজকাল একজনকে ভালো লাগতে শুরু করেছে তার, তাই সায়েবা কিংবা অন্য কারো প্রতি তার আগ্রহ নেই।

স্বচ্ছ জিজ্ঞেস করল, "কিরে কী দেখছিস?"

কাশিফ চট করে ফোন সরিয়ে বলল, "এইত, নিউজফিড স্ক্রলিং।"

বন্ধুদের গুমোট আয়োজনের মাঝে আচমকাই মোহ এবং রাদিন হাজির হয়। রাদিনের চুল কাটবে না। এ নিয়ে সারা বাড়ি মাথায় তুলে রেখেছিল। নীলিমাও ছেলের চুল কাটিয়েই ছাড়বেন। আরিভ সাহেব এসব দেখে ছেলেকে কি যেন বললেন। এরপর রাদিন এক পায়ে রাজি হয়ে গেল। তবে শর্ত দিল সে সোবহানের সেলুনের গিয়ে চুল কাটাবে। ওই সেলুনের সার্ভিস নিবে। মা শর্ত ত মানলেনই তবে মোহকেও ফাঁসিয়ে দিলেন। অগত্যা, মোহকে আনতেই হলো। সোবহান ত আর নিজের সেলুনে সবসময় বসে থাকে না। কিন্তু এখানে পাঁচ মাথা একসাথে দেখে তার নিঃশ্বাস গলায় আটকে গেল। সে কি আর জানত এটাও ওদের আড্ডাখানা? ইরতেজার সে অবশ্য সে তাকাল না, চোখ ফিরিয়ে নেয়।

নিহিন ত মোহকে দেখেই বলল,

--"আরে চাশমিশের গার্লফ্রেন্ড না তুমি? তুমি ছেলেদের সেলুনে কী করো? হানি সিং-এর হেয়ারকাট দিতে আসছ নাকি?"

নিহিন তখনও রাদিনকে খেয়াল করেনি। রাদিনকে দেখতেই এই প্রসঙ্গে আর কথা বলল না। খুব দ্রুততার সঙ্গে প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলল,

--"তো চাশমিশের গার্লফ্রেন্ড, তোমার ফ্রেন্ড কোথায়? খোঁজ-খবর জানো? আজকাল ক্যাম্পাসে খুব একটা দেখি না।"

মোহ'র জবাব দিতে ইচ্ছা করল না। তবুও বলল,

--"ক্লাস করছে না নিয়মিত। একটু অসুস্থ।"

কাশিফ বলল,

--"অসুস্থ? নাকি অধরা আর সোবহানের মতো চুপ করে বিয়ে করে গা ঢাকা দিয়েছে?"

কলশি মনে হয় জায়গা মতো ফেটেছে। মোহ আর নিহিনের একসাথে বুক মুঁচড়ে উঠল, তবে নিহিনেরটা বেশি। নিহিন কাশিফের পিঠে এক ঘা বসিয়ে দিয়ে বলল,

--"কথাবার্তা সাবধানে বল শালা! ও বিয়ে করতে যাবে কেন?"

মোহ অবাক হয়ে বলল,

--"বিয়ে? অধরা?"

কাশিফ হেসে বলল,

--"যাক, গোল তবে আমরা একাই খাইনি। জি ম্যাডাম, আপনার বান্ধবী পালিয়ে বিয়ে করেছে। তাও আমাদের বন্ধুর সাথে। এখন কী আপনাদের সম্মান করে আপা ডাকব নাকি বেয়াইন ডাকব? সম্পর্কে ত শত্রু থেকে বেয়াইনই হয়ে গেছেন।"

বড়োদের কথা রাদিনের খুব একটা মাথায় ঢুকল না। সে উলটো আরেক বোম ফাটাল। ইরতেজার কাছে ছুটে গিয়ে বলল,

--"দুলাভাই! আমাকে কোন হেয়ারকাটে মানাবে বলো তো?"

পীনপতন নীরবতা খেলে গেল সেলুনের এই এরিয়াতে। স্বচ্ছ হতভম্ভ হয়ে বলল,

--"আমি কি ভুল শুনলাম?

নিহিন শূন্য চোখে রাদিনের দিকে তাকিয়ে বলল,

--"ভুলই শুনেছি সম্ভবত। ইরতেজা আর বিয়ে? নো ওয়ে! ও কি আর সোবহানের মতো বলদ নাকি!"

নিহিন ইরতেজার মুখের দিকে তাকাল। সে মনে-প্রাণে চাইল ইরতেজা যে বিবাহিত নয় সেটা স্বীকার করুক। কাশিফও নিহিনের সাথে সহমত। হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল,

--"ধ্যাত, বাচ্চা-কাচ্চা ত কত কিছুই বলে। ওদের কথায় কান দিতে হয় নাকি?"

কিন্তু সোবহান হেসে উড়িয়ে দিতে পারল না। সে মোহ এবং ইরতেজাকে পরখ করছে। ইরতেজাকে দেখে সেভাবে কিছু না বোঝা গেলেও মোহ ভয়ে সিটিয়ে যাচ্ছে। তার কয়েক মাসের বিবাহিত জীবনের অভিজ্ঞতা বলছে, গণ্ডগোল কিছু ত হয়েছেই।

সোবহান বলল,

--"ইরতেজা। তোকে ও দুলাভাই বলল কেন? সত্যি করে বল ত?"

ইরতেজার উত্তর রাদিনই দিয়ে দিল।

--"ওমা, ইরতেজা ভাই যে আড়াচি আপুর বর তা কী তোমরা জানো না? দুলাভাই বলেনি তোমাদের?"

স্বচ্ছ জিজ্ঞেস করল,

--"হু ইজ আড়াচি?"

মোহ ধপ করে পাশের সোফায় বসে পড়ল। সবার আর বুঝতে বাকি নেই ঘটনা কী। একেকজন একেক জায়গায় অসহায়ের মতো বসে পড়লো। যেন শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। আজকে যেন চমকের উপর চমক খাচ্ছে। নাকের ডগায় বসে দুই বন্ধু বিয়ে সেরে ফেলেছে তার তারা কিছুই টের পায়নি? সোবহানও থম মেরে বসে আছে। তার অন্য কোনো বন্ধু বিয়ে করলে মানা যেত। তাই বলে ইরতেজা? তাদের ইরতেজা?? যার মধ্যে বিন্দুমাত্র রসকষ নেই সে?

নিহিন ত মোহর উদ্দেশে জিজ্ঞেস করল,

--"এই পাথরকে বিয়ে করেছ তুমি? ইরতেজা রোমান্স জানে তো?"

ইরতেজা নিহিনের মাথায় গাট্টা মেরে ধমক দিল,

--"বাচ্চা আছে এখানে।"

কাশিফ চ্যাঁচাল,

--"সো হোয়াট! কিরে ভাই, সবাই কি বিয়ে করার কম্পিটিশনে নেমেছে?"

স্বচ্ছ তখনই আহিনকে মেসেজ করল,

--"এই আহিন, আপনি কি গোপনে বিয়েশাদি করেছেন?"

আহিন তখন সন্ধ্যার নাস্তা করছিল। এরকম মেসেজ দেখে তার নুডুলস নাকে উঠতে নিচ্ছিল। কোনোরকমে পানি খেয়ে নিজের গলা ভেজাল, শান্ত হলো। আহিন স্বচ্ছকে ধমক দিয়ে মেসেজ করল,

--"এই ছেলে, সমস্যা কী তোমার? কিসব আবোল তাবোল বকছ? আমি বিয়ে করলে তুমি পিছে ঘুরতে কেন?"

স্বচ্ছ বুঝল আহিন বিয়ে-টিয়ে করেনি কাউকে। সে কিছুটা স্বস্তি পেল। রিপ্লাইয়ে বলল,

--"হ্যাঁ তাইত। আমি থাকতে আপনাকে বিয়ে কোথাও বিয়ে করতে দিব নাকি?"

এতকিছুফ পরেও রাদিন আবার বলল,

--"দুলাভাই আমার হেয়ারকাট?"

মোহ রেগে বলল,

--"ওর মাথার সব চুল ছাটাইয়ের ব্যবস্থা করুন। না পারলে আমাকে মেশিন দিন, আমি নিজ হাতে করে দিচ্ছি। ওর টাক মাথায় বেল ফাটাব আমি।"

---------------------------------

বাড়িতে ফিরেও নিহিন খেতে পারছে না, শুতে পারছে না। শুলেও ঘুমাতে পারছে না। কেমন ছটফট করছে মন। না পেরে সময় না দেখেই মৌরিকে কল দিল। এই মাঝরাতে নিহিনের কল দেখে বিরক্তই হলো সে। ভেবেছিল কল ধরবে না, কিন্তু নিহিন কল দিয়েই যাচ্ছে। মৌরি না পেরে কল রিসিভ করল। সে কল রিসিভ করতেই নিহিন ব্যস্ত গলায় প্রশ্ন করল,

--"এই তুমি কি লুকিয়ে লুকিয়ে বিয়েশাদি করেছ?"

মৌরি চমকে উঠে বলল,

--"মানে?"

--"যা প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দাও।"

--"আজব! আমি বিয়ে করতে যাব কেন?"

--"কারেক্ট! ভুলেও অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা চিন্তাও করবে না। নয়তো এই ছিনতাইকারী তোমায় সুখে বাঁচতে দিবে না চাশমিশ!"

চলবে—

বিঃদ্রঃ অনেকদিন পর পেজে এসেছি। কেমন আছেন আপনারা?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন