#Twin_love_story
#লেখনীতে_তাসফিয়া_নূর_জারা
#সূচনা_পর্ব
"আজকের দিনটি ছিল মায়রার জীবনের এক অনন্য ও স্মরণীয় দিন। ঠিক এই দিনটিতেই সে এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখেছিল। আজ সে পা রেখেছে তার জীবনের আঠারোতম বসন্তে। এই বিশেষ দিনের জন্য বাবা অনেক আগেই একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আঠারো বছরে পা রাখলেই তিনি তার দুই আদরের যমজ কন্যাকে উপহার দেবেন তাদের স্বপ্নের বাইক।
মেয়েরা সেই স্বপ্ন বহু আগেই দেখেছিল। বাবার কাছে বাইকের আবদার তারা কম করেনি, কিন্তু তখন তাদের বয়স ছিল কম। বাবা তখন শুধু মুচকি হেসে বলতেন, “সময় হলে পাবে।” আর আজ সেই সময়ই এসেছে। কথা রেখেছেন বাবা যমজ দুই মেয়ের জন্মদিনে তিনি কিনে দিয়েছেন দুইটি সুন্দর বাইক।
বাইক পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে দুই বোন। চোখে তাদের ঝিলমিল স্বপ্ন, হৃদয়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। আর দেরি না করে তারা বেরিয়ে পড়ে শহর ঘুরতে। দুই বোন দুই দিকে ছুটে চলে "মেহরুন আর মায়রা" স্বাধীনতার হাওয়ায় ভেসে।
মেহরুন ঘোরাঘুরি শেষ করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু মায়রা? সে নিজের মতো করেই পথের ডাক শুনছিল। সময়ের হিসেব তার কাছে তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল। কখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হয়ে এসেছে,সে তা খেয়ালই করেনি।
আজকের দিনটা শুধু জন্মদিন নয়, মায়রার জীবনে স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ নেওয়ার দিনও বটে।মায়রা মনের আনন্দ দিব্যি ঘুরছিলো।আর ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই এক অদ্ভুত দৃশ্যের মুখোমুখি হলো সে। ফাঁকা রাস্তার ঠিক মাঝখানে, রাজকীয় ভঙ্গিতে শুয়ে আছে একটি কুকুর। যেন রাস্তাটাই তার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য। মায়রা চমকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে চলন্ত বাইকে জোরে ব্রেক কষে। টায়ারের সঙ্গে রাস্তার এক মুহূর্তের অভিযোগ, তারপর নীরবতা।
মায়রা প্রথমে ভদ্রভাবে কুকুর টা সরাতে চেষ্টা করল। “এই যে ভাই, একটু সাইড দেন না!” কিন্তু কুকুর মহাশয় চোখ আধখানা খুলে তাকাল, যেন বলছে— ‘তুই কে? আর এই রাস্তা আমার!’
এরপর মায়রা হাত নেড়ে, পা ঠুকে, এমনকি হালকা হুঁশহাঁশও করল। কিন্তু কুকুর এক চুলও নড়ল না। সে দিব্যি নিজের মতো আরাম করে শুয়ে রইল, যেন পৃথিবীর সব সময় তার হাতে।
সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মায়রা হাল ছেড়ে দিল। বাইকের সিটে হেলান দিয়ে বসল, হেলমেটটা একটু ঠিক করল, আর হঠাৎই তার মাথায় এল এক দারুণ বুদ্ধি।সঙ্গে সঙ্গে হেলমেট খুলে ফেলল।এরপর গলা খাঁকারি দিয়ে সে গলা ছেড়ে গান ধরল,
“ওই যে কুকুর ভাই, রাস্তার রাজা,
মাঝখানে শুয়ে আছো। কি যে মজা!
আমি কিন্তু মানুষ, বাইকও আমার,
একটু সাইড দিলে কমে না সম্মান-ভার!
উঠো না ভাই, নইলে গান চলবে,
সুরের চাপে কান তোমার কাঁপবে!
আঠারো হলো বয়স আজ আমার,
ডগ কনসার্ট শুনে যাও—ফ্রি উপহার!”
না চাইলে টিকিট, না চাইলে চেয়ার,
রাস্তার মাঝেই বসে শোনো লাইভ ফেয়ার!
আমি গাইবো জোরে, তুমি দেবে হাই,
নড়লে কিন্তু বলবো—ভালো কুকুর ভাই!”
মায়রা গানের আনন্দে একেবারেই মগ্ন। নিজের সুরে নিজেই হাসছে, গাইছে, আর আঠারো বছরের উচ্ছ্বাসে পৃথিবীটাকে যেন আপন করে নিচ্ছে। ফাঁকা রাস্তা, রাতের নিস্তব্ধতা, আর তার কণ্ঠে ভেসে ওঠা হাসি–মাখা গান সব মিলিয়ে মুহূর্তটা ছিল অদ্ভুত সুন্দর। কুকুরটাও যেন মায়রার গানে মন্ত্রমুগ্ধ। রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে, লেজটা গুটিয়ে, সে মন দিয়ে শুনছিল সেই অদ্ভুত ‘ডগ কনসার্ট’।
ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ রাতের নীরবতা ভেঙে কিছু দূর থেকে ভেসে এলো এক গভীর কণ্ঠ,
“এই যে… বাইক ওয়ালী মহারানী!”
মায়রা চমকে উঠে গান থামাল। কুকুরটাও এক লাফে উঠে দাঁড়াল, যেন বলছে -‘শো শেষ?’ মায়রা তাকিয়ে দেখল, কিছুটা দূরে এক অচেনা যুবক দাঁড়িয়ে আছে। রাতের আধারে তার চেহারা অস্পষ্ট। তবে দূর থেকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে তার নিঃশ্বাস ভারী, কপালে ঘাম, চোখে অদ্ভুত এক ক্লান্ত অথচ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। মনে হলো, সে এইমাত্র কোনো ঝড়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসেছে।
সে যুবক আর কেউ নয়, "গ্যাংস্টার মাহতিম আয়ান চৌধুরী"
আজই বহু বছর পর ইংল্যান্ড থেকে দেশের মাটিতে পা রেখেছে সে। কিন্তু মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পুরোনো শত্রুদের আক্রমণে তাকে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে এক অসম লড়াইয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সেই লড়াই শেষ করে, শরীর ভাঙা ক্লান্তিতে সে দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার ধারে, হাঁপাতে হাঁপাতে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল।
ঠিক তখনই বাতাস ভেদ করে তার কানে এসে লাগে এক অদ্ভুত গান। না, সেটা কোনো প্রশিক্ষিত শিল্পীর কণ্ঠ নয়—তাতে ছিল প্রাণ, ছিল উচ্ছ্বাস, ছিল জীবনের প্রতি এক নির্ভেজাল ভালোবাসা। কৌতূহলে সে মাথা তোলে। চোখ চলে যায় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইক আর তার ওপর বসে থাকা এক সুন্দরী মেয়ের দিকে।
হাসিমুখে, নির্ভয়ে, রাতের সঙ্গে গল্প করতে করতে গান গাইছে সে।
এক মুহূর্তের জন্য মাহতিম তার সমস্ত ক্লান্তি ভুলে গেল। অচেনা মেয়েটার সেই প্রাণবন্ত উপস্থিতি, আর নির্ভীক হাসি যেন অদ্ভুতভাবে তাকে টেনে নিল। অজান্তেই সে এগিয়ে এলো কয়েক কদম, আর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি নিয়ে বলে উঠল,
“বাহ! মিসস আপনি তো দেখছি বেশ সাহসী নারী।
এই প্রথম মাহতিম নিজ থেকে কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলল।এর আগে সে কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা তো দূর চোখ তুলে তাকায়নি পর্যন্ত।
মাহতিমের কথাটা শুনে মায়রা প্রথমে একটু ভ্রু কুঁচকাল, তারপর ঠোঁটের কোণে খেলল এক চিলতে হাসি। সে ধীরে ধীরে বাইক থেকে নেমে দাঁড়াল, হাত দুটো কোমরে রেখে চোখে চোখ রাখল অচেনা যুবকের।
মায়রা হালকা ঠাট্টার সুরে বলল,
"সাহসী নাহলে “এই রাতের বেলায় রাস্তায় কুকুরের সামনে বসে কনসার্ট দিতাম নাকি?”
মাহতিম হেসে ফেলল। সেই হাসিতে ক্লান্তি ছিল,কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল বিস্ময়।তবে সে বলল,
“সত্যি বলতে কি,”আমি অনেক কনসার্ট দেখেছি… কিন্তু কুকুরকে শ্রোতা বানিয়ে এই প্রথম দেখলাম।”
মায়রা কুকুরটার দিকে তাকাল। কুকুরটা তখনও ওদের দিকে তাকিয়ে, যেন আলোচনাটা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
মায়রা গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ও কিন্তু খুব ভালো শ্রোতা“একদম কোনো বিরক্তি নেই। আপনাদের মতো হঠাৎ এসে ‘মহারানী’ বলে চিৎকারও করে না।”
মাহতিম একটু থমকাল। তারপর হাসিমুখে বলল, “দুঃখিত, তবে ‘বাইক ওয়ালী মহারানী’ না বললে চলে না। আপনার এই সাহস, এই আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে ওই নামটাই মানায়।”
মায়রা চোখ সরিয়ে নিল, কিন্তু হাসিটা লুকোতে পারল না।
“নাম জানার আগেই উপাধি?” এরপর মৃদু স্বরে বলল, “আপনি তো বেশ দুঃসাহসী পুরুষ মনে হচ্ছে।”
মাহতিম কাঁধ ঝাঁকাল। বলল,
"হয়তো!অচেনা রাত, অচেনা রাস্তা, আর অচেনা একজন এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে একটু দুঃসাহস দেখানোর?”
মায়রা এবার সত্যিই তাকিয়ে দেখল তাকে। লোকটার চোখে যেন অনেক গল্প জমে আছে, অথচ সে একটাও বলছে না।
মাহতিম এবার মায়রাকে জিজ্ঞেস করলো,
"তা সাহসী নারী এই রাতের আধারে কোথায় বের হয়েছিলেন?আর এতো সাহসী নারী হয়েও কুকুর কে কেন গান গেয়ে ইমপ্রেস করছিলেন?
মায়রা পুনরায় বাইকে হেলান দিতে দিতে বলল,
''আর বইলেন না আজকে দিন টা ছিলো আমার জীবনের বেস্ট দিন।মানে আমার পয়দা ডে। থুক্কু আমার জন্মদিন।তো ড্যাডের থেকে বাইক গিফট পেয়ে মনের আনন্দ বের হয়েছিলাম পুরো শহর ঘুরে বেরাতে।আর ঘুরতে ঘুরতে কখন যে দিন পেরিয়ে রাত হয়ে গেছে। সেই খেয়ালও ছিলো না।তো এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময়ই দেখতে পেলাম কুকুর মহাশয় গা ছেড়ে শুয়ে আছে। শত চেষ্টা করেও তাকে পথ থেকে সরাতে না পেরে শেষে ভাবলাম একটু গান গাই। এতে যদি সে ইমপ্রেস হয়ে পথ থেকে সরে যায়।তাই আর কি!
মাররা নিজের কথা শেষ করেই মাহতিম কে জিজ্ঞেস করলো,
" বাট আপনি এখানে কী করছেন?” কৌতূহলের আড়ালে জিজ্ঞেস করলো।
মাহতিম হালকা হাসল।
“আমি তো আপনার গান শুনছিলাম। আর ভাবছিলাম।কিছু মানুষ হঠাৎ আসে, কিন্তু তাদের উপস্থিতিটা অদ্ভুতভাবে মনে থেকে যায়।”
মায়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,
“আর কিছু মানুষ হঠাৎ কথা বলে ফেলে… আর বোঝাও যায় না, সেটা প্রশংসা নাকি ফ্লার্ট।”
মাহতিম চোখে চোখ রেখে হেঁসে উত্তর দিল, “হয়তো দুটোই।” একটু থেমে গিয়ে পুনরায় মৃদু হেসে বলল,
"Anyway, happy birthday! Many good wishes and congratulations to you.”
মায়রা কিছু টা হেঁসে বলল,
“Thank you so much for your kind wishes and congratulations!”
রাতটা তখন আর নিঃসঙ্গ রইল না। দুজন অচেনা মানুষ নামহীন, পরিচয়হীন,কথার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে একটু করে পরিচিত হয়ে উঠছিল।
আর ফাঁকা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই কুকুরটা যেন ভাবছিল“আজকের কনসার্টটা কিন্তু বেশ জমে গেল!”রাত আরও একটু গাঢ় হলো। দূরের স্ট্রিটলাইটের আলোয় মায়রার বাইকের ক্রোম অংশ ঝিলমিল করছে। কুকুরটা আবার বসে পড়ল এইবার আগের চেয়েও আরাম করে, যেন বুঝে গেছে গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
মায়রা এবার হালকা করে হেলমেটটা হাতে নিল।
“নামহীন মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে আমার কিন্তু আপত্তি নেই,কিন্তু বেশি সময় দিলে ওরা রহস্যময় হয়ে ওঠে।
মাহতিম মৃদু হেসে মাথা ঝুঁকাল। “তাহলে রহস্যটা একটু কমাই।একটু থেমে বলল, “আমি মাহতিম আয়ান চৌধুরী।”
নামটা শুনে মায়রার চোখে কোনো বিস্ময় ফুটল না, বরং এক ধরনের স্বাভাবিক আগ্রহ। সে বলল,
“নামটা ভারী,“কিন্তু আপনি নিজে ততটা ভারী মনে হচ্ছেন না। ক্লান্ত, হ্যাঁ… কিন্তু ভারী না।”
মাহতিম বুঝতে পারল এই মেয়েটা মানুষ পড়তে জানে। খুব ভালোভাবেই জানে।
“আর আপনি?” মাহতিম পাল্টা জিজ্ঞেস করল।
মায়রা একটু হাসল।বলল,
“মায়রা। শুধু মায়রা হলেই চলবে। এই শহরে নামের সঙ্গে বেশি কিছু জুড়ে দিলে ঝামেলা বাড়ে।”
বাতাসে হালকা ঠান্ডা। কোথাও থেকে রাতের ফুলের গন্ধ ভেসে এলো।মাহতিম হঠাৎ খেয়াল করল এতক্ষণ পর তার শরীরের ব্যথাটা যেন কম মনে হচ্ছে। অদ্ভুত।
মাহতিম হঠাৎ বলল,
“আপনি ভয় পান না?এভাবে একা, রাতে, অচেনা মানুষের সঙ্গে?”
মায়রা কাঁধ ঝাঁকাল। “ভয় পেতে শিখিনি,তারপর চোখে দুষ্টু ঝিলিক নিয়ে বলল,
“আর অচেনা মানুষ মানেই খারাপ এই ধারণাটাও আমার নয়। কেউ কেউ অচেনাই ভালো।”
কুকুরটা ঠিক তখনই একটা ছোট ‘ঘেউ’ করে উঠল, যেন কথাটার সমর্থন জানাচ্ছে।
মাহতিম হেসে ফেলল।
“দেখছি, আমার পক্ষের ভোটও পড়ে গেছে।”
মায়রা বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে চাবিটা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, “ও বিচার করতে জানে। খারাপ মানুষ হলে এতক্ষণে তাড়া দিত।”
কিছুক্ষণ নীরবতা। কিন্তু সেটা অস্বস্তিকর নয় বরং আরামদায়ক। দুইজনই বুঝতে পারছিল, এই নীরবতার ভেতরেও কথা আছে।
শেষমেশ মায়রা বলল,
“আমাকে এখন যেতে হবে। রাত যত বাড়ে, শহর তত কম অচেনা হয়ে যায়।”
মাহতিম মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। “হ্যাঁ। কিছু রাত আছে, যেগুলো বেশি টানলে ভারী হয়ে যায়।”
মায়রা বাইকে উঠল। ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার আগে একবার তাকাল মাহতিমের দিকে।
হাসতে হাসতে বলল,
“আজকের কনসার্টের টিকিট ফ্রি ছিল, “তাই পরেরটা যদি কখনো হয়, তখন কিন্তু দাম দিতে হবে।”
মাহতিমের চোখে হালকা বিস্ময় আর হাসি নিয়ে উত্তর দিল,
“আমি অপেক্ষা করব। কুকুর শ্রোতা থাকুক বা না থাকুক।”
বাইকটা ধীরে ধীরে ফাঁকা রাস্তায় মিলিয়ে গেল। শব্দটা মিলিয়ে যাওয়ার পরও মাহতিম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। মনে হলো এই শহরে ফিরে এসে, প্রথমবারের মতো কিছু একটা ঠিক জায়গায় এসে দাঁড়াল।
আর কুকুরটা?
সে মাহতিমের দিকে তাকিয়ে লেজ নাড়ল, যেন বলছে।
“চিন্তা করিস না,। এই গল্পের পরের কনসার্টটা এখনও বাকি।
চলবে....