ফন্ট সাইজ:
থিম:
Twin Love Story

৩য় পর্ব

লেখক: তাসফিয়া নূর জারা
#twin_love_story 
#তাসফিয়া_নূর_জারা 
#পাঠ_৩
মায়রা আর মাহতিম তখনও সেখানে দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল।এরমধ্যে মায়রা কে ডাকতে ডাকতে মেহরুনও একপর্যায়ে সেইদিকে চলে আসছিলো।
দূর থেকে হঠাৎ মেহরুনের কন্ঠ ভেসে আসতেই মায়রা তা শুনতে পেয়ে তারাহুরো করে মাহতিমের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
আমাকে এখন যেতে হবে।
মাহতিম কারণ জিজ্ঞেস করার আগেই সে পালানোর জন্য দৌড় লাগালো। 
মায়রাকে চলে যেতে দেখেই মাহতিম উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠল,
 
"—Hey,You Biker girl! পালিয়ে যাচ্ছো?যাও! তবে তোমার বাবাকে জানিয়ে রেখো, আমাকে ছাড়া যদি অন্য কারো সঙ্গে তোমাকে ভাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমি তাকে অন্য কারো সঙ্গে ভাগিয়ে দিয়ে। তোমাকে বিয়ের আসর থেকে তুলে এনে বিয়ে করে নেব!
চলে যেতে যেতে মায়রা মাহতিমের কথাটা স্পষ্টই শুনতে পেল। সে থেমে গিয়ে এক পলক মাহতিমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিল।সে মুখে হাসি রেখেই ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, 
"এই যে মিস্টার বাঁচাল চৌধুরী,এটা কি প্রপোজ ছিলো না হুমকি? 
মাহতিম দূর থেকে পুনরায় চিৎকার করেই বলল, "দুটোই"
মাহতিমের এই ছোটো উত্তরেই মায়রার মুখে হাসি ফুটে উঠল,সে আর কিছু না বলে পুনরায় দৌড় লাগাল।
মাহতিম মায়রার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। 
----------------------------
ঘন্টা খানেক পর 
~~~~~~~~~~~~~~~
মায়রা আর মেহরুন দুজন দুজন কে খুঁজে পেয়ে টুকটাক জিজ্ঞেস বাদ শেষ করে। এরপর তারা আরো কিছু শপিং করে নিলো।শপিং করতে করতে মায়রা আর মেহরুন দুজনেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। এতোক্ষণের দৌড়ঝাঁপে পা দুটো যেন আর চলতেই চাইছিল না, তার ওপর পেটের ভেতর থেকে ক্ষুধার তীব্র ডাক উঠছিল। একে অপরের দিকে তাকিয়েই তারা বুঝে গেল, আর এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না।তাই আর কথা না বাড়িয়ে দু’জনে শপিং মল থেকে বের হয়ে পাশের একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ল। যমজ হলেও স্বভাবে খানিকটা আলাদা—মায়রা মেনু হাতে নিয়ে নতুন নতুন খাবার বেছে নিচ্ছিল, আর মেহরুন চুপচাপ বসে চারপাশ দেখছিল। কিছুক্ষণ পর পেট ভরে খেয়ে দু’জনেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ক্লান্তি যেন খানিকটা কমে গেল।রাত প্রায় শেষের দিকে তাই  খাওয়া শেষ হতেই বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে তারা রাস্তায় বের হলো। রাস্তায় হালকা বাতাসে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে মায়রা আপন মনে কথা বলছিল, আর মেহরুন হঠাৎ ব্যাগ খুলে আর কতো টাকা আছে তা দেখতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখের রং বদলে গেল।ব্যাগের ভেতর তাকিয়ে সে অবাক হয়ে দেখল—যে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে তারা বের হয়েছিল, সেখান থেকে এখন আর মাত্র দুইশো টাকা পড়ে আছে! মায়রার দিকে তাকিয়ে মেহরুন ধীরে ধীরে বলল,
“আমরা বোধহয় শপিং একটু বেশিই করে ফেলছি। 
যমজ দুই বোন একসঙ্গে হেসে উঠল, কিন্তু সেই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে রইল একরাশ বিস্ময় আর সামান্য দুশ্চিন্তা।
ঠিক সেই হাসির মাঝেই,
ধুপ! ধাপ! ধপ!
হঠাৎ তিনজন ছিনতাইকারী সামনে এসে হাজির! মুখ বাঁধা, চোখে হিংস্রতা ।একজন রাগী গলায় বলল,
“কী বাবুরা, রাতের বেলা ঘুরতে বের হইছ নাকি?
চলো, আমাদেরকেও তাহলে সঙ্গে নিয়ে নাও!”
কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো মায়রা আর মেহরুন একটুও ভয় পেল না।বরং তিনজনের কথা শুনে দু’জনেই হেসে কুটিকুটি!
মায়রা আর মেহরুনের অকারণ হাসিতে ছিনতাইকারীরা পুরোপুরি কনফিউজড। তিনজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে যেন চোখে চোখে প্রশ্ন করছে, “এরা ভয় পাচ্ছে না কেন?”
একজন ছিনতাইকারী গলা খাঁকারি দিয়ে আবারও গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করল,
 “ওই শালিরা, হাসাহাসি বাদ দে!আমরা এই এলাকার নাম্বার ওয়ান ছিনতাইকারী।তাই হাসি বাদ দিয়া নিজেগো লগে যা আছে সব বাইর কর!”
মায়রা হাসি চেপে রেখে একদম নিরীহ মুখে বলল,
 “ পাতি ছিনতাইকারী ভাই, সত্যি বলছি… আমাদের কাছে এখন যা আছে, সেটা আপনাদের কাজে লাগবে না।”
একজন ছিনতাইকারী গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“কেন? “কারণ…কি”
মেহরুন ব্যাগ খুলে ব্যাগের ভেতরটা ভালো করে দেখাল।
ব্যাগের ভেতরে উঁকি দিয়ে ছিনতাইকারীদের চোখ কপালে উঠল। একজন অবিশ্বাসী গলায় বলল—
“এইটা কী? মাত্র দুইশো টাকা?”
মায়রা দুঃখী মুখ করে মাথা নেড়ে বলল,
“জি ছিনতাইকারী ভাই। শপিং করতে করতে টাকা যে কোন দিক দিয়ে উড়ে গেছে, টেরই পাইনি।”
এক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর ছিনতাইকারীদের একজন রেগে গিয়ে বলে উঠল,
 “ধুর বাল এরা তো দেহি আমাগো থিকাও বড় ফকির।হুদাই এদের আটকাইছি। এই দুইশো টাকায় তো চা-সিগারেটও জুটবো না!”
ঠিক তখনই মেহরুন ঠাণ্ডা গলায় বলে উঠল,
“ভাই, চাইলে এই দুইশোটা আপনাদের দিয়ে দিতে পারি। কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
তিনজন একসঙ্গে বলল,
“শর্ত?”কি শর্ত?
মায়রা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
“আপনারা আমাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। রাত তো অনেক হয়েছে!”
ছিনতাইকারীরা এবার পুরোপুরি হতবাক। এরা ছিনতাই করতে এসেছে, নাকি বডিগার্ড হতে?
প্রথম জন বাকি দুইজন কে একটু সাইডে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
 “এই মেয়ে দুই ডারে ঠিক মনে হইতাছে না।
দ্বিতীয় জন সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বলল,
 “হ,এমনেই ওগো দুইডারে দেখতে পুইরা একই রকম আমারও কেমন জানি ভালো লাগতাছে না।”
তৃতীয় জন দাঁত কিঁচিয়ে বলল,
“এদের কাছে যহন কিছু নাই, তাইলে আর কী করার! লো, দুইডারেই তুলে নিয়া যাই।”
প্রথম জন বোকার মতো জিজ্ঞেস করল,
 “কিন্তু ভাই, এই ছেমরি দুইডা তুইলা নিয়া আমরা করমুটা কী?”
এই কথা শুনে তৃতীয় জন রেগে গিয়ে প্রথম জনের গালে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিল,
 “ নির্বোধ একটা! তোর মাথায় গোবর ছাড়া আর কিছুই নাই!”
এইদিকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে মায়রা আর মেহরুন সবকিছু দেখছিল।
ওদের থাপ্পড়-থাপ্পড়ি কাণ্ড দেখে দুই বোন একসঙ্গে হেসে উঠল।
প্রথম জন গালে হাত চেপে ধরে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রইল।
এবার দ্বিতীয় জন সাহস করে বলল,
 “কিন্তু ভাই আমরা তো মাত্র তিনজন। এই দামড়া দামড়া দুইডা ছেমরি রে কেমনে তুইলা নিম?”
তৃতীয় জন বিরক্ত গলায় বলল,
"একটা রে তোর কাঁধে ওঠায় দিম, আরেকটা রে ওর কাঁধে। ব্যস, শেষ!”
দ্বিতীয় জন ঢোক গিলতে গিলতে বলল,
"কিন্তু কাঁধে, কিভাবে নিমু?
দ্বিতীয় জনের কথা শুনে তৃতীয় জন বিরক্তিতে দাঁত চেপে ধরল। গলার স্বর কড়া হয়ে উঠল,
 “কীভাবে নিব মানে কী? মাথার উপর মাল তোলার মতোই তো! জীবনে কিছুই তোলোস নাই নাকি?”
প্রথম জনের গলা কেঁপে উঠল,
 “ভাই… মাল আর মানুষ কি এক জিনিস নাকি?”
তৃতীয় জন তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঝাঁঝালো স্বরে বলল,
“চুপ কর! বেশি বুদ্ধি দেখাস না। আগে একটাকে তুল, তারপর সব নিজেই বুঝে যাবি।”
আর কথা না বাড়িয়ে তিনজন আবার ঘুরে এসে মায়রা আর মেহরুনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
এবার তাদের ভঙ্গিতে আর আগের মতো দ্বিধা নেই,বরং জোর করে সাহস জোগাড় করার চেষ্টা।হঠাৎ তৃতীয় জন পিছন দিক থেকে একটা ধারালো ছুরি বের করল। রাস্তার হলদে আলোয় ছুরির ধারটা হালকা ঝিলিক দিয়ে উঠল। গলা ভারী করে, হুমকির সুরে সে বলল,
“শোন, আমরা এহন তোগো দুইডারে আমাগো লগে নিয়া যাম। যদি কোনো চালাকি করছ… তাইলে এইডা দেখছোস?”সে ছুরিটা একটু উঁচু করে ধরল।
 “এক পুঁছে সোজা উপরে পাঠায় দিম।”
কথাগুলো শেষ হতে না হতেই অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল।
মায়রা আর মেহরুন একে অপরের দিকে তাকাল।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
তারপর দু’জন একসাথে উচ্চস্বরে হেসে উঠল।
এমন খোলাখুলি, নির্ভেজাল হাসি—যেন কেউ ভীষণ মজার কোনো কথা বলে ফেলেছে, যা শুনে না হেসে থাকা একেবারেই অসম্ভব।নীরব রাতের মধ্যে সেই হাসি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল।
দুই বোনের এমন হাসিতে তিন ছিনতাইকারীই হতবাক হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকাল।
 
মায়রা হাসি সামলে বলল, 
 “ভাই, ভয় দেখানোর হলে ভয়ংকর কিছু দিয়া দেখা। বাচ্চাদের মতো এইসব খেলনা ছুরি মুড়ি দিয়া কেন ভয় দেখাস? এসব খেলনা দেখলে তো ভয় লাগার বদলে উল্টো আরও হাসি পায়।”
 
মায়রা থামতেই মেহরুন কথা ধর, 
“আর এসব খেলনা দেখানোর দরকারই ছিল না। আগে বললে আমরা এমনিতেই তোদের সঙ্গে চলে যেতাম। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমাদের শখ চোরের বাড়ি থেকে ঘুরে আসার।”
 
দুই বোনের কথা শুনে তিন ছিনতাইকারীর মুখের ভাব একেবারে বদলে গেল। ভয় দেখাতে এসে তারা এখন নিজেরাই হতাশ, কিংকর্তব্যবিমূঢ়— কাকে যে ভয় দেখাতে এসেছিল, আর কারাই বা আসলে ভয়ংকর, সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না। তৃতীয় জন বিরক্ত হয়ে ছুরিটা মাটিতে ফেলে দিয়ে বলল, 
 “এই দেখ, সিরিয়াস কথা বলতাছি। একদম ফাজলামো করবি না।”
 
কথা টা শেষ করেই সে প্রথম আর দ্বিতীয় জনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"এই,ওদের দুই ডারে কাঁধে তুলে নে।”
 
ঠিক তখনই মায়রা আর মেহরুন একসঙ্গে ফুঁসে ওঠে বলল, 
 “আমাদের সঙ্গে বেশি সাহস দেখাতে আসিস না। নাইলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। পরে নিজেরাই পালিয়ে কূল খুঁজে পাবি না।”
ওদের হুমকিতে প্রথম জন ভয় পেয়ে তৃতীয় জনের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, 
"ভাই, আমি আগেও বলছি, এখনো বলতাছি—এই মাইয়া দুইডারে একদমই সুবিধার লাগতাছে না। ওগো এত সহজভাবে নিয়েন না।”নাইলে সত্যি পালিয়ে কূল খুঁজে পাইবেন না।
 
দ্বিতীয় জনও সায় দিয়ে বলল, 
“হ ভাই, আমারও একই মনে হইতাছে। ওগো বরং একাই যাইবার দেন।
তৃতীয় জন ওদের দুজনের কথা একটু গভীরভাবে ভেবে দেখল। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সে মায়রা আর মেহরুনের দিকে তাকিয়ে বলল— “বেশ, কাঁধে ওঠানোর দরকার নাই। ওরা দুজন পায়ে হেঁটেই আমাগো লগে আহুক।”
 
মেহরুন সঙ্গে সঙ্গে বলল 
“ঠিক আছে। তবে আমাদের একটা শর্ত আছে।”
 
‘শর্ত’ কথাটা শুনে তৃতীয় জন বিরক্তি জড়ানো কণ্ঠে বলল, 
 “আবার কিসের শর্ত?”
 
মেহরুন দু-এক কদম সামনে এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল
 “তোরা সামনে হাঁটবি, আর আমরা তোদের পিছু পিছু হাঁটব।”
মেহরুনের কথা শুনে তিনজনই বোকার মতো একে অপরের দিকে তাকাল। কয়েক মুহূর্তের নীরবতা ভেঙে তৃতীয় জন বলল,
"ঠিক আছে। তবে কোনো চালাকি করলে কিন্তু ছাড় নাই।”
 
মায়রা ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি টেনে বলল,
 “চালাকি করার দরকার পড়লে তখন দেখা যাবে।”
 
এই কথা শুনে দ্বিতীয় জন অস্বস্তিতে গলা খাঁকারি দিল। প্রথম জন চাপা স্বরে বলল,
 “ভাই, মাইয়া দুইডা কিন্তু খুব সাংঘাতিক। 
 
তৃতীয় জন হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিল। 
“চুপ কর। বেশি কথা বলিস না।”
 
এরপর তিনজন সামনে হাঁটা শুরু করল। মায়রা আর মেহরুন ঠিক তাদের বলা মতোই কয়েক কদম দূরে পিছু নিল।
 রাতটা তখন অস্বাভাবিক রকম চুপচাপ। শুধু শুকনো পাতার মচমচ শব্দ আর দূরে কোথাও পেঁচার ডাক।হাঁটতে হাঁটতে মায়রা ফিসফিস করে মেহরুনকে বলল,
 “খেয়াল করছিস? তিন নাম্বারটা সবচেয়ে চালাক।”
 
মেহরুন চোখ সরু করে সামনে তাকিয়ে বলল,
 “হ্যাঁ। আর ওই দুইটা ভয় পাইতাছে। সময় আইলে আসল খেল দেখাবো ।”
হাঁটতে হাঁটতে ওরা ধীরে ধীরে গভীর জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়ল। চারপাশে তখন ঘন গাছপালা, ঝুলে থাকা লতা আর অদ্ভুত অদ্ভুত ছায়া। বাতাসটাও কেমন ভারী।হঠাৎ করেই চোখে পড়ল একটা ছোট্ট ঘর—গাছের শিকড়, শুকনো ডাল আর পাতাপুঞ্জ জোড়া দিয়ে বানানো।ঘরটা দেখে মায়রার ভ্রু কুঁচকে গেল। খুব নিচু স্বরে সে মেহরুনকে বলল,
“চুরেদের ঘর কি সত্যিই এমন হয় নাকি?”
মেহরুন কিছু না বলে শুধু তাকিয়ে রইল। তার চোখে তখন স্পষ্ট সতর্কতার ঝিলিক।ছিনতাইকারী তিনজন ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। প্রথম জন এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল।
তৃতীয় জন মায়রা আর মেহরুনের দিকে তাকিয়ে খেঁকিয়ে বলল,
“এইডাই আমগো বাড়ি। নে, আজকের রাত তোরা দুইডা হেনেই থাকবি।”
তারপর দ্বিতীয় জন তৃতীয় জনের কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
 “ভাই, মাইয়া দুইডারে কি কালকে পাচার কইরা দিবেন?”
তৃতীয় জন শয়তানি হাসি দিয়ে জবাব দিল,
 “হ, কাইল সকালেই ওগো দুইডারে পাচার কইরা দিম।”
ওদের ফিসফিসানি দেখে মায়রা আর মেহরুন বুঝে গেল—নিশ্চয়ই এদের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য আছে।
মায়রা আস্তে করে মেহরুনকে বলল,
 “মেহরুন, শোন। আমার মনে হচ্ছে এদের কোনো কুমতলব আছে। আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে।”
মেহরুন মায়রার কথায় সায় দিয়ে ধীরে বলল,
 “হ্যাঁ, ঠিক বলছিস। তবে আমরা এদের ধ্বংস করেই এখান থেকে বের হবো। তার আগে এখান থেকে এক পা ও বের করবো না।”
এরপর ঘরের ভেতরে ঢুকতেই ওদের নাকে এল স্যাঁতসেঁতে মাটির গন্ধ। আলো বলতে দেয়ালের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ক্ষীণ চাঁদের আলো। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে শুকনো পাতা আর পুরোনো হাড়গোড়—কোনটা পশুর, কোনটা মানুষের বোঝা মুশকিল।মায়রার গা শিউরে উঠল। সে চারপাশে চোখ বুলিয়ে ধীরে ধীরে মেহরুনের পাশে এসে দাঁড়াল।তিন ছিনতাইকারী দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই রইল। প্রথম জন গম্ভীর গলায় বলল,
 “ভিতরে চুপচাপ বসে থাক। বেশি চালাকি করলে কিন্তু ভালো হইব না।”
মেহরুন কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নাড়ল। কিন্তু তার চোখে তখন ভয়ের বদলে অদ্ভুত এক স্থিরতা।ঘরের এক কোণে ওদের বসতে বাধ্য করা হলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তৃতীয় জন মোটা কাঠের লাঠি হাতে নিয়ে পাহারা দিতে লাগল।কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে আগুন জ্বালানোর শব্দ এল। ছিনতাইকারীরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে লাগল।
এই সুযোগেই মায়রা খুব নিচু স্বরে বলল,
 “মেহরুন, আমি দরজার ডান পাশে একটা আলগা কাঠ দেখেছি। ঠিক সময়ে ওটা কাজে লাগাব।
মেহরুন কথাটা শেষ হতেই মায়রা ফিসফিস করে বলল,
 “ বইন পালানোর আগে ওগো চুরি করা যতো টাকা পয়সা গয়না গাটি যা আছে সব আমরা ওগো চোখের সামনে দিয়া চুরি কইরা নিয়া যাম।তারপর সেই টাকা দিয়া তুই আর আমি মিললা আবারও শপিং করব।
মেহরুন দুষ্টু হেসে বলল,"বাহ তুই কথা টা তো খারাপ বলছ নাই।বাট শপিং করার আগে কিছু টাকা পয়সা  ফকির মিছকিন গো দান কইরা নিম।যাতে তারা আমাগো লিগা ভালো ভালো দুয়া কইরা দেয়।জানি পরবর্তী তে আমরা এর থেকেও বড়সড় দাও মারতে পারি।
ওদের দুজনের ফিসফিসের মাঝেই হঠাৎ বাইরে থেকে তৃতীয় জনের গলা ভেসে এল,
 “এই মাইয়া দুইডা! বেশি ফিসফিস করিস না।
চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন