ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

৭ম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_৭

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

আজকে তিয়ানের হলুদের অনুষ্ঠান। চারপাশ হলুদ গোলাপি মরিচ বাতিতে ছেয়ে আছে। আজকের থিম মেয়েদের হলুদ গোলাপি মিশেলের লেহেঙ্গা আর ছেলেদের হলুদ পাঞ্জাবি সাথে গোলাপি ম্যাচিং ওড়না। বক্সে গান বেজে চলেছে মৃদু স্বরে। ছেলেমেয়েরা অনেকে নাচানাচি করছে। অনেকে আড্ডা দিচ্ছে একসাথে বসে। হলুদের অনুষ্ঠানে কোমল ও আছে একদম সেজেগুজে পটের বিবি হয়ে। আর তা দূর থেকে অবলোকন করছে কেউ। বাগানে স্টেজ হওয়ায় কিয়ানের বেলকোনি থেকে স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয় সেটা। রাগে ওর হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে আছে।চোয়াল কাপছে অনবরত। চোখের ভিতরে দেখে মনে হচ্ছে লাভা বয়ে চলেছে।

কোমল স্টেজ এর এক পাশেই বসে আছে। আর ওর থেকে কিছুদূর কিছু ছেলে বসে আছে।যারা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে ওকে।তবে ওর তাতে মনোযোগ নেই। ও তো গতকালের ঘটনা নিয়েই চিন্তায় আছে এখনো। এটা নয় যে ওর কিয়ান কে পছন্দ নয়। তবে ভালোবাসা বাসি হিসেবে না। এমনিই জাস্ট ভালো লাগে।

ছেলেগুলোর এই কোমলের উপর দৃষ্টি দেয়া দৃষ্টিগোচর হলো না কিয়ানের। কোমল ওর ফালতু ভাবনা বাদ দিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। উদ্দেশ্য স্টেজে তিয়ানের আর ওর হবু বৌয়ের সাথে আড্ডা মারা। চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে দুই পা সামনে দিয়েছে কি দেয়নি তাঁর মধ্যেই ওই ছেলেগুলোর মধ্যে একজন ওর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা দিলো ইচ্ছা করে। কোমল অন্য মনষ্ক থাকায় হালকা ধাক্কাতেই টলে পড়তে নিলো। তবে ছেলেটি ওর কোমর পেচিয়ে ধরলো নিজের বলিষ্ঠ হাতে। শুধু তাই নয় ছেলেটির হাতের নখ গেঁথে গেলো কোমলের কোমরের কাছে ফাঁকা স্থানে। নাক মুখ কুঁচকে ছিটকে দুরে সরে এলো কোমল। তবে ছেলেটিকে কিছুই বলতে পারলো না কোমল। ওকেই তো ধরতে গিয়ে এমনটা হলো। তার উপর ছেলে আবার কনের ছোট ভাই। ও যদি অন্যমনস্ক হয়ে না হাটতো তবে এসব কিছু হতো না। ছেলেটিকে কিছুই বলতে না দিয়ে দৌড়ে স্টেজে চলে গেলো কোমল।

কোমল তিয়ান দের সাথে আড্ডা দেয়ার মাঝেই একটু পর একটা বাচ্চা মেয়ে এসে কোমলের কানে কানে কিছু একটা ফিস ফিস করে বলে গেলো। কোমল উঠে দাঁড়ালো বসা থেকে। একবার এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে দেখে নিলো। নাহ। কারোর নজরই এখন ওর দিকে নেই। ছোটো ছোটো পা ফেলে এগিয়ে চললো ফাঁকা বাড়ির ভিতরে। গেটের কাছে গিয়ে একবার ঘাড় কাত করে দেখে নিলো। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত।

সারা বাড়ির লাইট নেভানো। শুধু মাত্র প্রত্যেকটা করিডোরের শেষ প্রান্তের লাইট জ্বালানো। সেই আলোই আবছা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। হালকা আলোয় দেখতে বড্ড বেগ পোহাতে হলো কোমল কে। তবুও হাতড়ে হাতড়ে পৌঁছে গেলো তৃতীয় তলার করিডোরের শেষ প্রান্তে। একদম কিয়ানের রুমের সামনে। দরজা হালকা ভেজানো ছিলো। যার দরুন হালকা হাতে ধাক্কা মারতেই খুলে গেলো দরজা। রুমের মধ্যে পুরো অন্ধকার। শুধুমাত্র সবুজ বাতির একটা ড্রিম লাইট জ্বালানো। যার আলোতে আলোকিত চারপাশ। ঘরে ঢুকে দুই পা বাড়াতেই ঠাস.. করে ওর পিছন থেকে বন্ধ হতে গেলো দরজা। ভয় পেলো মেয়েটা। কেঁপে উঠলো সামান্য। রুমের লাইট জ্বলে উঠলো। কোমল পিছনে ঘুরে দাঁড়ালো। যা বুঝেছে তাই। কিয়ান ওর পিছনে দাঁড়িয়ে। ও কিছু বলার পূর্বেই কিয়ান ওকে টেনে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো। ঝর্নার ট্যাপ ছেড়ে ওকে দার করিয়ে ঠেসে ধরলো সেখানে। যেনো নড়াচড়া করতে না পারে। দুজনেই ভিজে একাকার। কোমল তাকালো ওর দিকে। কিয়ান এর চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে। কোমল বুঝলো না ও হঠাৎ এতো রেগে যাওয়ার কারণ।

“আ.. আপ..”

কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওর ওষ্ঠ জোড়া নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো কিয়ান। এমন হঠাৎ স্পর্শে কেঁপে ওঠে কোমলের নাজুক শরীর। এই স্পর্শে ছিলো না কোনো ভালোবাসা,কোমলতা। ছিলো শুধু হিংস্রতা,রাগের বহিঃপ্রকাশ। গভীর চুম্বনের মাঝেই হঠাৎ হঠাৎ কামড়ের স্পর্শ পায় কোমল।দুই হাত দিয়ে ওকে ঠেলে সোয়াতে চায় তবে পারে না। কিয়ান ওর দুই হাত নিজের এক হাটের মুঠোয় নিয়ে নেয়। পেছনে চেপে ধরে। ওর ছটফটানি কমাতে পা দুটো নিজের পায়ের সাথে আটকে নেয় কৌশলে। অন্য হাত দিয়ে ওর কোমরের যেই স্থানে ছেলেটি খামচে ধরেছিল সেই স্থানটি ডলে ডলে পরিষ্কার করতে লাগলো। যেনো কোনো নোংরা লেগেছে সেখানে।

সময় গড়ালেও কিয়ানের কোমলকে ছাড়ার কোনো ভাবাবেগ লক্ষ করা গেলো না। কোমলের ছটফটানি বাড়তে লাগলো অনবরত। এক সময় কিয়ানের এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে গেলো মেয়েটি কিয়ান যখন টের পেলো কোমল জ্ঞান হারিয়েছে তখন ছেড়ে দিলো ওর ঠোঁট জোড়া। আঙুল দিয়ে স্লাইস করতে লাগলো। লাল রক্তিম ঠোঁট জোড়া। রক্ত বেরিয়ে এসেছে ঠোঁট থেকে।

ঘুমন্ত অবস্থায়ই ওকে এক হাতে সামলিয়ে অন্য হাত দিয়ে শাওয়ার জেল ঘষতে লাগলো ওর সারা শরীরে।

অতপর ঘুমন্ত কোমলকে কোলে তুলে নিয়ে হাটা ধরলো ওর ঘরের উদ্দেশ্যে। ওর ঘরে এসে ওকে নামিয়ে দিলো বিছানার উপর।

কাউকে কল দিয়ে কিছু বললো।কিছুক্ষণ পর দরজায় নক পড়লে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। তিয়ান আর রাইসা দাড়িয়ে ঘরের সামনে।রাইসা ঘরের ভিতরে ঢুকলেও তিয়ানকে ঘরে ঢুকতে দিলো না কিয়ান। রাইসাকে বললো,

“ওর ড্রেস চেঞ্জ করে দে তাড়াতাড়ি।”

‘হুম’ বলে রাইসা ঘরের ঢুকে গেলো।

কিয়ান ঘর থেকে বের হয়ে তিয়ানের সাথে হাটা ধরলো। নিজের ঘরে ঢুকে ভিজে জামাকাপড় ছেড়ে শুকনো কাপড় পরে নিলো। কেবিনেটের উপর থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নিলো হাতে করে। ঘর থেকে বের হয়ে হাটা ধরলো বাড়ির বাহিরের উদ্দেশ্যে। তিয়ান আবার কিয়ান কে জিজ্ঞেস করলো,

“কি হয়েছে? আর তুমি কোমল এর ঘরে কি করছিলে? তাও ভেজা।”

“স্বর্ণ সেন্সলেস হয়ে গেছে।”

সাথে সাথে তিয়ান এর পা দুটো থেমে গেলো। অবাক হয়ে গেলো বেচারা। আবার হাটা শুরু করে বললো,

“হোয়াট? কিভাবে?”

“জাস্ট ছোট করে একটা কিস করেছিলাম। তাতেই সেন্সলেস হয়ে পড়লো। স্ট্রেঞ্জ গার্ল।”

বিস্ময় আরও বেড়ে গেলো ছেলেটার। চোখ দুটো রসগোল্লার মতো করে বললো,

“ছোটো করে? এমন ছোট করে কিস করলে যে মেয়েটা সেন্সলেসই হয়ে গেলো?”

“ওর মা বোধহয় ওকে ঠিক মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ায়নি। এর থেকে ছোট কালেই আমাকে দিয়ে দিতো? মানুষ স্বর্ণ যেভাবে যত্ন করে আমিও ওকে স্বর্ণের মত যত্ন করে রাখতাম।”

“লাইক সিরিয়াসলি! ব্রো? লাস্ট পর্যন্ত বনুকে তুমি স্বর্ণের সাথে তুলনা করছো। অথচ আমি এতদিন দেখে এসেছি ছেলেরা তার ভালোবাসার মানুষদের চাঁদ, ফুলের সাথে তুলনা করে। আর তুমি স্বর্ণ?”

“হ্যাঁ স্বর্ণ। চাঁদের গায়েও কলঙ্ক আছে অথচ ও কলঙ্ক বিহীন। ফুল অস্থায়ী, সময়ের সাথে ঝরে পড়ে। কিন্তু স্বর্ণকে তুই যতই ভেঙে গুঁড়িয়ে কিংবা পুড়ে গলিয়ে ফেল না কেনো। স্বর্ণর গায়ে কোনো আচর লাগে না। সেটা স্বর্ণ, স্বর্ণই রয়ে যায়। তাই ও আমার স্বর্ণকোমল। জাস্ট আমার স্বর্ণ।”

“হ্যাঁ তোমারই স্বর্ণ। এতো লজিক কোথায় পাও তুমি তা তুমি আর এক আল্লাহ্ মালুম। এবার বলো যাচ্ছি কোথায় আমরা?”

“আমরা কেনো? জাস্ট আমি যাচ্ছি একটা কাজে। তুই তোর অনুষ্ঠান সেলিব্রেট কর।”

“আর তোমাকে যে ব্যাচেলর পার্টির কথা বলেছিলাম। তার কি?”

“তোরা স্টার্ট করিস। আমি এসে পরে জয়েন হবো।”

তিয়ান মাথা নেড়ে স্টেজের দিকে চলে গেলো। আর কিয়ান নিজের ব্ল্যাক মার্সিডিজ বেঞ্জ নিয়ে বের হলো। ওর অনেক পছন্দের গাড়ি এটা। বলা চলে শখের।

_

হলুদের অনুষ্ঠান চলছে রমরমা। অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছে এই অনুষ্ঠানে। অনেকের ইচ্ছা ছিলো কোমলকে দেখার। তখনই কোমলের কথা মনে পড়ে সকলের। অনুষ্ঠানে খুঁজে পাওয়া গেলো না ওকে। তখনই সকলে চিন্তায় পড়ে গেলেন। তবে রাইসা তাদের বলে দিয়েছে তৎক্ষণাৎ কোমলের নাকি শরীর খারাপ। তাই ও রুমে চলে গিয়েছে রেস্ট করার জন্য। আর রাইসা কে বলে গিয়েছে যে তাকে যেনো কেউ ডিস্টার্ব না করে।

“আর ইউ সিঙ্গেল মিস্টার তূর্য?”

ধড়ফড়িয়ে উঠলো ছেলেটি। এলিজার থেকে কিছুটা দূরেই একটা চেয়ার পেতে বসে ছিলো তূর্য। পরনে কালো জিন্সের প্যান্ট সাথে অফ হোয়াইট শার্ট আর কালো কোট। তখনই কানে আসলো ফিসফিসানির আওয়াজ। কেউ যেনো কানের খুব কাছে থেকে কথা বলছে। অন্যমনস্ক হয়ে থাকায় ভয় পেয়ে গেছে ছেলেটি। ঘাড় হালকা কাত করে পাশে তাকাতেই চোখে পড়লো একটা হলুদ পাখি বসে আছে ওর পাশে। মাথাটা কানের দিকে ঝুকে আছে। আচ্ছা এই হলুদ পাখিটার নাম কি যেনো? বেনেবউ! এমন একটা বেনেবউ থাকা কিন্তু মন্দের কিছু না। হাসলো ছেলেটি । তবে সেটি দন্ত পাটির নিচে চাপা পড়ে রইলো। সকলের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেলো সেই হাসি। একা একাই বিড়বিড় করলো,

“বেনেবউ!”

“হুম? কিসের বউ?”

থতমত খেয়ে গেলো ছেলেটি। রাইসার থেকে চোখ ঘুরিয়ে তাকালো স্টেজের দিকে। তবে মনোযোগ স্টেজের দিকে রাখতে পারলো কই? পাশে বসে বাজ পাখির মতো শানিত দৃষ্টি দিয়ে ওকে গিলে চলেছে রাইসা। আর ওর স্টেজ থেকে মনোযোগ সর রাইসার সুন্দর মুখের দিকে চলে যাচ্ছে। ও যে বামন। বামন হয়ে কি আর চাঁদে হাত বাড়ানো সাজে? কেনো নয়? তবে এই পাখিকে এমনি এমনি ধরা যাবে না। ধরতে হবে ফাঁদে ফেলে। কৌশল অবলম্বন করে।

“আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন না যে?”

“হ্যাঁ।”

“মিথ্যে বলবেন না। আমি জানি আপনি এখনো সিঙ্গেল। আর নাতো আপনার কোনো বউ অথবা গার্লফ্রেন্ড আছে। আমাকে তাহলে মিথ্যে বললেন কেনো?

“আপনাকে কৈফিয়ত দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না।”

“অবশ্যই আপনি দিতে বাধ্য। কেনোনা….”

ওর দিকে হালকা ঘাড় কাত করে তাকালো তূর্য। ওর কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে বললো,

“আমি জানি আপনার মনের মাঝে কি চলছে। তবে সেটা ভুলে যান ম্যাম। কারণ আমি একজন সাধারণ কর্মচারী।আপনার পরিবার কখনোই এটা মেনে নেবে না। আর নাতো আমার মতো একজন কর্মচারীর সাথে মানিয়ে চলতে পারবেন আপনি। আমাদের স্ট্যাটাসের আকাশ পাতাল পার্থক্য।শুধু শুধু মরীচিকার পিছনে ছুটে নিজের ক্ষতি করার কোনো মানে হয় না।আর তাছাড়াও আপনার এখন উড়ন্ত বয়স। একটা ছেলেকে দেখে ভালো লাগবে এটা স্বাভাবিক। তবে এটা ভালোবাসা নয়।”

“আমি সত্যি সত্যি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”

কথার ফাঁদে পরে গেলো মেয়েটি।

“সত্যি?”

“প্রমাণ লাগবে?”

“কি প্রমাণ দিতে পারবেন আপনি?”

“কি প্রমাণ চাই আপনার? যা বলবেন তাই করতে পারবো।”

“যা বলবো তাই?”

উপর নিচ মাথা নাড়ালো রাইসা। সেটা দেখে মিচকি হাসলো তূর্য।

“ঠিক আছে তবে কাল সকালে দেখা হচ্ছে।”

#চলিত

( ছোট কিস এই অজ্ঞান হয়ে গেছে। তাহলে বুঝো বড় কিস করলে কি হবে। অবশ্যই তোমাদের থেকে ভালো রেসপন্স আশা করছি।রেসপন্স ভালো না পেলে লেখার আগ্রহ পাই না। সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যায়। আসসালামুয়ালাইকুম। )

Inspired by > বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের কাল্পনিক - অকাল্পনিক সকল কিছু।

Happy reading 🫰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন