ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণকোমল

১২তম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরা হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_১২

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

বাদ জোহর জানাজার আয়োজন করা হয়েছে তিয়ানের । গরম পানি করে তাতে বড়ই পাতা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোসলে। মৃত ব্যক্তি বেশিক্ষণ রাখতে নেই। পুরো বাড়ি আতর বাতির ঘ্রাণে ম ম করছে। একটু পর পর গোলাপ জল ছিটিয়ে দিচ্ছে কিছু মানুষ।

বিয়ে বাড়ির আয়োজন এক দিনেই পরিণত হয়েছে কষ্টের সাগরে। পুরো বাড়ি এখনও একটুও বিয়ের সাজে। অথচ সেই প্যান্ডেলের নিচে আজ বিয়ে নয় বরং পাত্রের শেষ গোসল হচ্ছে। হায় জীবন!;ব্যাপারটা সত্যি বেদনা দায়ক। যেই এলিজা কথায় কথায় নিজের গম্ভীর ভাব প্রকাশ করতো সেই এলিজাও পর্যন্ত কেঁদেছে তিয়ান এর জন্য। কিয়ানকে তিনি পছন্দ করতো না এমনকি বাড়ির কাউকেই না। তবে তিনিও বলতে বাধ্য তিয়ান ছেলেটা সত্যি খুব ডিসেন্ট ছিলো।

আসে পাশের লোক জন হা হুতাশ করছে। ছেলেটা খুব ভালো ছিলো তবে এমনটা করলো কেনো? তবে এই কেনোর কোনো উত্তর এখনও নেই। সকলে এখন বুঝে গিয়েছে ছেলেটি কিছুই করেনি। যদি সত্যি কিছু করতো তাহলে এমন ভাবে কখনোই নিজের জীবন দিতে পারতো না।

_

বিধ্বস্ত মুমূর্ষ অবস্থায় বাড়ির মেইন ফটক পর্যন্ত আসতেই পা দুটো আপনা আপনি থেমে গেলো রাইসার। ও ভেবেছিলো হয়তো বাড়িতে এসে হাজার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে ওকে। বাড়িতে নতুন বউ থাকবে খুশিতে ছেয়ে থাকবে চারপাশ। তবে এই কাহিনি তো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তবে ও নিজেই যে এমন চমকে যাবে বুঝতে পারেনি। মুখ চোখ কিছুটা ফুলে ফেঁপে রয়েছে অতিরিক্ত কান্না করার দরুন। রাস্তা থেকে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছে যাতে করে কেউ কিছু বুঝতে না পারে।বিতবুও আরেকটু পানির ছিটা দিয়ে বাড়ির গেট পেরিয়ে ভিতরে পা রাখতে যাবে তখনই দুজন বৃদ্ধ লোক গেট দিয়ে বের হতে হতে বললেন,

“আহারে! ছেলেটা বড্ড ভালো আর মিশুক ছিলো গো। সকলের সাথে মার্জিত পূর্ণ ব্যবহার করতো। কি থেকে কি কি হয়ে গেলো? জানি আত্মঘাতী কখনো জান্নাত প্রবেশ করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের কখনো ক্ষমা করে না।তবুও বলবো আল্লাহ্ যেনো তাকে ক্ষমা করে দেন।”

এসব শুনে রাইসা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো তাদের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষন। অতপর দ্রুত পায়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই হৃৎস্পন্দন হুর হুর করে বেড়ে গেলো ওর।

তিয়ানকে গোসল করিয়ে সাদা কাফন পরিয়ে খাটিয়ায় সোয়ানো হলো মাত্র। বাড়ির ভিতর থেকে একে একে সকলে এসে দেখে নিচ্ছে বাড়ির অন্যতম মানিক কে। বাড়ির উজ্জ্বল নক্ষত্র টাকে। অকালে এভাবে সকলকে ছেড়ে চলে যাবে সেটা বোধহয় কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি।

“ভাইয়া।”

চিৎকার কোর দৌড়ে খাটিয়ার দিকে গেলো রাইসা। তিয়ানের নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া দেহ টা দেখে অনবরত হিচকি তুলে কাদতেঁ লাগলো মেয়েটা। গম্ভীর মুখী হওয়ায় কিয়ানের সাতে তেমন একটা কথা না হলেও তিয়ানের সাথে ওদের সকল ভায় বোনের ভালোবাসাই ছিলো ভিন্ন রকম। সকলের সাথে খুব সহজেই মিশে যেতো তিয়ান।

গলায় গলায় খাতির ছিলো ওদের সকল ভাই বোনের। একসাথে কত খেলাধুলা করেছে ওরা। এই তো গতকালও কত সুন্দর সকলে মিলে একসাথে নাচানাচি হুড়াহুড়ি করলো। এর মধ্যে কি এমন হলো যে ওর ভাইটা এভাবে এই খাটিয়ায় শুয়ে আছে? নিথর হয়ে পড়ে আছে তিয়ানের ফর্সা সুন্দর দেহখানি। যা এইমধ্যে আগের চেয়েও আরও দিগুন ফর্সা হয়ে গেছে। ফ্যাকাশে বর্ন ধারণ করেছে।

এই দৃশ্য দেখে নিজের দুঃখের কথা বেমালুম ভুলে গেলো মেয়েটি। খাটিয়ায় হেলান দিয়ে কাদতেঁ লাগলো। কিছুক্ষণ পর রাতুল এসে রাইসাকে নিজের সাথে করে একপাশে নিয়ে গেলো।

রাইসা কালকে যে সারাদিন সারারাত বাড়িতে ছিলোনা এতো ঝামেলার মধ্যে সেটা কারো নজরেই আসেনি। তিয়ান তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছে তবে রাইসার যে মরণে ভয় লাগে। ও যে এই জীবন নামক নরকে পুড়তে চায়না। তবে তাছাড়া যে আর কিছুই করার নেই। ও যে তিয়ানের মতো এতো সাহসী নয়।

_

তিয়ান কে নিয়ে যাওয়া হবে জানাজা পড়ানোর জন্য। খাটিয়ার প্রথম পায়া ধরলেন তিয়ানের বাবা সাদমান চৌধুরী। ভদ্রলোকের মুখ ফ্যাকাশে বর্ন হয়ে আছে। চোখ রক্তিম লাল হয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক কেঁদেছেন তিনি। ছেলের খাটের পায়া কাঁধে নিতেই আবার হুহু করে কেঁদে দিলেন তিনি। কেঁপে উঠলো তার সমস্ত শরীর। এই কাঁধেই একদিন ছেলেকে নিয়ে পুরো এলাকা ঘুরেছেন তিনি। অথচ আজ ছেলের লাশের খাটিয়া কাধে নিতে হচ্ছে তাকে। এও কি মেনে নেয়া সম্ভব একজন বাবার পক্ষে? যেখানে ছেলের তার লাশের খাটিয়া বহন করার কথা ছিলো সেখানে তিনি ছেলের খাটিয়া বহন করছে। না চাইতেও ওই অন্ধকার কবরে রেখে আসতে হচ্ছে ছেলেকে।দুটোই যে তার বড় আদরের ছেলে।

তার পাশের পায়া ধরেছে কিয়ান। বড় ভাই হয়ে ছোট ভাইয়ের লাশের খাটিয়া বহন করছে। তবে ওর চোখ মুখে কোনো অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে না। উপর থেকে দেখা না গেলেও ভিতরের সাথে যুদ্ধ করে যে অনুভূতি কে মাটি চাপা দিয়েছে একমাত্র পরিবারের কথা ভেবে। বড় ছেলে হয়ে ও যদি ভেঙে পরে তবে বাকিদের কে সামলাবে? সকলে ওর বাহিরের টা দেখলেও ভিতরের দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া টা কেউ দেখছে না। ভিতরের যন্ত্রণা যে কাউকে বলতে পারছে না। দেখাতে পারছে না কাউকে নিজের বুক চিরে ভিতরটা। তিয়ান ছোট হয়েও সব সময় আগলে রেখেছে ওকে। কোমলের তিন বছর বয়সে দেশ ছেড়ে চলে আসার পর পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলো কিয়ান। হাসি খুশি ছেলেটা যেনো কিছুদিনেই হাসতে ভুলে গিয়েছিলো। বাড়ির সকলে এটাকে বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে গেলেও তিয়ান সবসময় ওকে সাপোর্ট করেছিলো। কোমলের সাথে যোগাযোগ করে ওই কিয়ান কে কোমলের সকল ছবি দিয়েছিল।বড় হলে কোমলকে ওর কাছে এনে দেয়ার কথা বলেছিলো।ওর একাকীত্ব দুর করার চেষ্টায় সব সময় মুখিয়ে থাকতো ছেলেটা। ভাইকে বড্ড ভালোবাসতো যে। সেই ভালোবাসা থেকেই নিজের জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেখেও এক মুহূর্তের জন্যও মুখ ফুটে ভাইয়ের নাম বলেনি নীলির কাছে। এতো কিছু করেছে যে ভাই ওর জন্য সেই তিয়ানের জন্য ওর যে বুকটা মরুভূমি হবেনা তা কিভাবে সম্ভব? তবে তা দেখানোর সব রাস্তা কি বন্ধ।

পিছনের দুই খাটিয়া ধরেছে রাতুল আর ইরিশ। বন্ধু বলো, ভাই বলো এই তিয়ানই ছিলো ওদের। বাহিরের ছেলেদের সাথে ওদের মেলামেশা খুব একটা ছিলো না। যেখানে ওরা তিন জনই একশো সেখানে বাহিরের ছেলেদের কোনো প্রয়োজন ছিলো না কোনো দিন।কিয়ান এর সাথে ওদের যেমন দূরত্ব ছিলো ঠিক ততটাই ঘনিষ্টতা ছিলো তিয়ানের সাথে। একসাথে বড় হয়েছে, খেয়েছে,খেলাধুলা করেছে। একসাথে পড়াশোনা করেছে। ওরা যে এক বয়সী ছিলো। দুজনের চোঁখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরে পরছে। একটি পর পর ফুপিয়ে উঠছে দুজনে।

খাটিয়া কাঁধে তুলতেই গেটের কাছ থেকে ভেসে আসলো হাহাকার এর ধ্বনি। কোমল এসকল বিষয়ে যেনো একটু বেশিই নীরব। তবে চোখ দিয়ে দিয়ে ওর পানি পড়ছে।

সকলে দুই পা এগোতেই কোথা থেকে নীলি দৌড়ে এলো। তিয়ানকে নিয়ে যাচ্ছে দেখে এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে দৌড়ে এসেই জড়িয়ে ধরলো কিয়ানের পা জোড়া। আহাজারি করে কাদতেঁ লাগলো মেয়েটা।

“ভাইয়া ওকে নিয়ে যাবেন না প্লীজ। আমি ওকে একটু দেখতে চাই। দয়া করে ওকে একটু নামিয়ে দিন। আপনার পা ধরে ভিক্ষা চাইছি ভাইয়া।”

তবে কিয়ান কোনো উত্তরও করলো না। কাঁধের খাটিয়াও নামালো না কাধ থেকে। শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো নিজের জায়গায়। নীলি আবার বললো,

“ও ভাইয়া প্লিজ ওকে একটু শেষ বারের মত দেখতে দিন না আমায়। আপনিও তো কাউকে ভালোবাসেন। নিশ্চয়ই বুঝছেন আমার কষ্ট টা। আমিও ওকে বড্ড ভালোবাসি ভাইয়া। দোহায় আল্লাহর একবার ওকে একটু দেখতে দিন।”

এবার যেনো একটু টললো কিয়ান একবার বাবার মুখের দিকে তাকালেন উত্তরের আশায়। সাদমান চৌধুরী ইশারায় বললেন নামিয়ে দিতে। ততক্ষণে সেখানে নীলির বাবা চাচারাও উপস্থিত হয়েছেন। মেয়ের এমন আহাজারি তারা মেনে নিতে পারেনি। তাই শেষ পর্যন্ত নিয়েই এসেছেন এখানে। তারা সকলেই খবর পেয়েছিলেন। নীলি ও খবর পেয়ে আসতে চাওয়ায় আটকে রেখেছিলেন। তবে মেয়ের আহাজারির কাছে হার মানতে হয়েছে সকলকে।

তিয়ানের খাটিয়া নিচে নামিয়ে ওর মুখের কাপড় সরিয়ে দেয়া হলো। নীলির চোখের পানি অনবরত ঝরেই যাচ্ছে। ও তিয়ানের মুখটা নিজের দু হাতের আজলায় রেখে একটু সময় তাকিয়ে দেখলো নিজের ভালোবাসাকে।

“ এ তুমি কি করলে তিয়ান? তুমি তো জানো রেগে গেলে আমি এমন একটু আকটু রাগ দেখাই। তবে আজকে খুব বেশি রাগ দেখিয়ে ফেলেছি যে এভাবে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে। তুমিতো জানো তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। তুমি তো আমাকে কথা দিয়েছিলে যে সারাজীবন আমার হাত ধরে আমাকে আগলে রাখবে। তবে এই নশ্বর পৃথিবীতে আমাকে একা করে কেনো রেখে চলে গেলে? আমার রাগ পরলেই আমি তোমার কথা শুনতাম। বোঝার চেষ্টা করতাম তোমাকে। তবে তুমি যে আমাকে সেই সুযোগ দিলে না। আমাকে যে তোমার বাচ্চার মা বানালে না তিয়ান । ধোঁকা দিয়ে চলে গেলে তুমি আমাকে ছেড়ে। অথচ আমার যাওয়ার কথা ছিলো তোমার আগে। বলেছিলে আমি যতদিন আমি বেঁচে থাকবো আমার হাত কখনও ছাড়বে না তুমি। তবে এভাবে কেনো আমার হাত ছেড়ে দিলে তুমি?এই তিয়ান ওঠো। দেখো আমি তোমার কথা শুনবো। আর এক নাটক করতে হবে না।বন্ধ করো এসব। আমার আর ভালো লাগছে না কিছু। এভাবে শুয়ে থাকতে দেখতে একদম ভালো লাগছে না।তিয়ান, এই তিয়ান? ওঠো.. এই তিয়ান..তিয়ান।”

হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে পড়লো নীলি। আর তাতেই ঘটলো বিপত্তি।নোজ ব্লিডিং হতে শুরু করলো ওর। সেই রক্তে ভেসে গেলো তিয়ানের সমস্ত শরীর। সকলে হতবাক হয়ে গেলো এহেন কাণ্ডে। তবে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নীলি ঢলে পড়লো তিয়ানের খাটিয়ার পাশে। নীলির বাবা এসে দুহাতে আঁকড়ে ধরলো মেয়েকে। তবে হায়রে অসহায় নিয়তি! নীলিও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো তিয়ানের শিয়রে। সাজানো গোছানো যাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সেখানে আজ দুটো মানুষ মৃত্যু শয্যায় শায়িত।নীলির বাবা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠেলন।

নীলি ব্রেইন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলো। যা ধরা পরে কিছুদিন আগেই। তবে তখন যে খুব দেরি হয়ে গিয়েছে। ওর হাতে বেশিদিন বাঁচার মেয়াদ ছিলো না। সেই কারণেই ভাইয়ের করুন অবস্থা রেখেও বিয়ে করতে চেয়েছিলো বেচারি। তবে একটা ভুল বোঝাবুঝিতে পুরো ধ্বংস হয়ে গেলো দুটো জীবন। দুটো পরিবার। আদও কি ভুল বোঝাবুঝি? নাকি কারো তৈরি ছলনা?

অতপর দুজনকে আবার একসাথে গোসল দেয়া হলো চৌধুরী বাড়িতে। নীলির শেষ একটা ইচ্ছা ছিলো যা ও শুধু মাত্র ওর বাবাকে বলেছিলো। ও মারা গেলেও যেনো ওর কবর এমন কোথাও দেয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে ওর আর তিয়ান এর কবর পাশাপাশি হয়। তাই মেয়ের ইচ্ছা পূরন করতে তিয়ানের সাথে সাথে নীলি কেও শোয়ানো হলো তিয়ানের পাশের কবরে। মারা গিয়েও যেনো পূর্ণতা পেলো দুজনের ভালোবাসা।

জানাজা শেষে ওদের কবরের সামনে দাড়িয়ে পাজামার পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করলো কিয়ান। কাগজটা সকালে তিয়ানের পড়ার টেবিলে পেয়েছিলো কিয়ান। প্রথম সম্বোধন দেখেই বুঝেছিলো এটা নীলির উদ্দেশ্যে লেখা। তাই তখন ওর পুরোটা পড়া হয়নি। ভেবেছিলো নীলীকে কখনো দেবে কাগজটা। তবে নীলি ও যে এভাবে ওর ভাইটার সাথে চলে যাবে তা ও কখনোই বোঝেনি।

হাতের কাগজের ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করলো নীলির কবরের উদ্দেশ্যে।

প্রিয় নীলাঞ্জনা,

তোমাকে আমি কত টুকু ভালোবাসি জানো নীলাঞ্জনা? ওই অসীম আকাশের মতো। যার কোনো শেষ নেই। সেই গভীর অতল সাগরের মতো যার শেষ অব্দি আজ পর্যন্ত কেউ পৌঁছাতে পারেনি। তোমার আমার ভালোবাসার ভীতটা এভাবে ভেঙে যাবে আমি কখনো বুঝিনি জানো?

তুমি জানো তোমাকে আমি ভালোবাসি চার বছর ধরে অথচ তুমি কখনোই জানলে না তোমাকে ভালোবাসার বয়স আমার এক যুগ পেরিয়েছে। নীল শাড়ি পরিহিত এক বাচ্চা মেয়ের প্রেমে পড়েছিলো এই মন আরও এক যুগ আগে। আর সেই মেয়েটি তুমিই ছিলে নীলাঞ্জনা। আমার প্রথম প্রণয় তুমি নীলি, আমার নীলাঞ্জনা। সেই ভালোবাসা আজ একটা জায়গাতেই আটকে গেলো তোমার বলা সেই ‘ মরে যাও ‘ শব্দটিতে। তুমি সত্যিটা জানতে চাওনি তাই আমিও আর না বললাম তোমাকে। নাহলে পরে তুমি বড্ড আফসোস করবে তোমার বলা সেই বিষাক্ত কথাগুলো বলার অপরাধে। শেষ পর্যন্ত শুধু একটাই কথা বলতে চাই তোমাকে আমি নীলাঞ্জনা, আমি তোমাকে ঠকাইনি, আমি সত্যি বড্ড ভালোবাসি তোমায়। দিন আর রাতের মতোই সত্যি আমার ভালোবাসা। জীবনের এই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি শুধু এটাই বলবো, ভালোবাসি আমার নীলাঞ্জনা।”

ইতি

তোমার এক অসহায় প্রেমিক।

চিঠির উপর দু ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। ভিজে একাকার হলো চিঠির কাগজ। এই নির্জন স্থানে কেউ দেখলো না ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের এই নীরব যন্ত্রণা।

#চলবে

[ ১৭০০+ শব্দের পর্ব এটা। আশাকরি সকলের ভালো রেসপন্স পাবো। অন্তত তিয়ান আর তার নীলাঞ্জনার এই সুন্দর সমাপ্তির জন্য। ]

Take love 🤍

হ্যাপি রিডিং 🫰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন