১৮+এলার্ট 🔞
পাঁচ বছর পরে বাড়ি ফিরেছে রেমান বাড়ির বড় পুত্র রৌদ্র রেমান। তবে কাউকে না জানিয়ে এসেছে সে। যাকে বলে সারপ্রাইজ দিতে। বর্তমানে সে রেমান বাড়ির মূল দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তাকে দেখে রেমান বাড়ির বিশ্বস্ত দারোয়ান খালেক মিয়া যেন খুশিতে পাগল প্রায়।
"আরে রৌদ্র বাবা তুমি? কেমন আছো? সার ম্যাডাম ক...
সে বাড়ির লোকজনকে উচ্চস্বরে ডাকতে গেলে রৌদ্র দ্রুত তার মুখ চেপে ধরলো। ফিসফিসিয়ে আওড়ালো
"আরে চাচা থামো! এভাবে ডেকো না। আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে এসেছি। তুমি মাটি করে দিও না।
বলে মুখ ছেড়ে দিলো। খালেক মিয়া হেসে বলল
"সারপেরাইজ? ওহ চমকাইয়া দিবা , বুঝছি বুঝছি।"
"হুঁ তা তোমার খবর কি? বুড়ো হয়ে গেছ দেখছি। বাড়ির সবাই কেমন আছে তোমার?"
"তোমগোর দোয়ায় আল্লাহর রহমতে ভালোই আছে।"
"বাহ্! নূহা এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে না? পড়াশোনা কেমন চলছে?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো।"
"আচ্ছা আমি তাহলে ভেতরে যাই। দেখি কার কেমন রিয়েকশন হয়।"
"আইচ্ছা।"
"আর হ্যাঁ। লাগেজ গুলো ভিতরে নিয়ে এসো একটু।"
"ঠিক আছে বাবা।"
বৃদ্ধের সঙ্গে আলাপ চারিতার সমাপ্তি করে রৌদ্র এগিয়ে গেল। বুকের ভেতর কেমন অন্যরকম অনুভূতি খেলা করছে। পাঁচ বছর পরে সে তার 'ননীর পুতুল'কে দেখবে। পরিবারের সবাইকে দেখবে। সদর দরজা হাট করে খোলা। অবশ্য এ বাড়ির দরজা মধ্যরাতের পূর্বে বদ্ধ হয় না। আবার অতি ভোরে খুলে দেয়। রৌদ্র দরজার সামনে দাঁড়াতেই সর্বপ্রথম চোখে পড়লো বাড়ির দুই কর্তাকে। যারা সোফায় বসে খবরের কাগজে মগ্ন। সোফার আশেপাশে ছোটাছুটি করছে সায়নী ও এরিদ। একজন অন্যজনের পিছনে ছুটছে আর খিলখিল করে হাসছে।
—আসুন এবার এই পরিবারের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই। এই বাড়ির একমাত্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি হচ্ছেন 'আলতাফ রেমান' অর্থাৎ বাড়ির প্রধান কর্তার স্ত্রী 'মরিয়ম বেগম'। তার দু ছেলে — আহমদ রেমান ও সাফকাত রেমান।
বড় ছেলে আহমদ রেমান। তার স্ত্রী রুবায়েত বেগম। তাদের সন্তান একজনই—রৌদ্র রেমান।
ছোট ছেলে সাফকাত রেমান। তার স্ত্রী রেহমা বেগম। তাদের সন্তান তিন জন—বড় মেয়ে 'নিভৃতা নিহা'। যে বর্তমানে ভার্সিটি পড়ুয়া। মেজ ছেলে 'নুশান'। এবার ক্লাস ফোরে পড়ছে। ছোট মেয়ে 'নূরি'। সে সবে ওয়ানে পড়ছে। এদিক দিয়ে দ্বিতীয় কর্তা প্রথম জনকে ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই।
—এবার গল্পে ফেরা যাক.....
"আব্বু? ছোট আব্বু?"
আচানক পরিচিত কন্ঠে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো দুই কর্তা। যুবকের পানে চোখ পরতেই তারা থ হয়ে গেলেন। দুজনেই একসঙ্গে উচ্চস্বরে বলে উঠলেন
"রৌদ্র?"
"সারপ্রাইজ!"
রৌদ্র হেসে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো। আহমদ রেমান উঠে পুত্রকে আলিঙ্গন করলেন।
"কেমন আছিস বাবা? না জানিয়ে চলে এলি।"
"ভালো আছি আব্বু। তোমরা সবাই কেমন আছো?"
"আলহামদুলিল্লাহ।"
পরিচিত কন্ঠস্বরে দুই গিন্নী ও রান্নাঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এলেন। রুবায়েত বেগম ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেললেন। রৌদ্র গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো।
"কতোদিন পরে তোকে দেখলাম বাবা।"
"কেঁদো না আম্মু।"
রেহমা বেগমের ও খুশিতে চোখজোড়া টলটলে হয়ে উঠলো। তিনি চুমু এঁকে দিলেন রৌদ্রর কপোলে। অন্যদিকে নুশান নূরি ভ্রু কুঁঞ্চিত কোমরে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে। রেগেমেগে গাল ফুলিয়ে রেখেছে দু'জনই।
"বাহ্ ভাইয়া এত্তো এত্তো আদর পেয়ে আমাদের ভুলে গেলে। একবার জিজ্ঞেস ও করলে না কেমন আছি।"
রৌদ্র ঘুড়ে তাদের পানে চাইলো। একগাল হেসে দু'জনকে জড়িয়ে ধরে বললো
"তোদের ভুলবো আমি? অসম্ভব! পাকনা গুলো কেমন আছেন আপনারা?"
"ভালোই ছিলাম। তুমি আসায় আদরের ভাগ কম পড়ে যাবে দেখে এখন খারাপ আছি।"
নূরির কথায় রৌদ্র হো হো করে হেসে উঠলো। গাল টেনে বললো
"পাকনা বুড়ি একটা।"
অতঃপর একটু থেমে পুনরায় দুজনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ল
"আমার ননীর পুতুলটা কোথায়?"
"সে কি রুম ছেড়ে বের হয়? রুমেই আছে। নয়তো তোমার রুমে।" ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলল নুশান। ফিঁচলে হাসলো যুবক। রুবায়েত বেগম বললেন
"যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে। কতো জার্নি করেছিস। পরে গল্প করিস। আমি নাহয় খাবার পাঠিয়ে দেব।"
"আমার রুম?"
"আরে নিভৃতা প্রতি সপ্তাহে তোর রুম পরিস্কার করে রাখে। নিশ্চিন্তে যেতে পারিস...."
রেহমা বেগমের কথায় রৌদ্র খানিক অবাক হলো। ভ্রু নাচিয়ে শুধাল
"ননীর পুতুলটা আজকাল কাজ করাও শিখে গেছে?"
"হ্যাঁ তবে শুধু আপনার জন্য।"
রৌদ্র হেসে উঠলো। মাথা চুলকে বললো
"আচ্ছা আমি যাই।"
বলে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল। ড্রয়িং রুমে থাকা সকলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। অতঃপর গিন্নীরা দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলেন। বাড়ির বড় পুত্র এসেছে ভালোমন্দ রান্না না করলে হয়!
রুমের দ্বার খুলে জায়গায় জমে গেল রৌদ্র। সম্মুখে উন্মুক্ত তার ব্যক্তিগত রমণীর সম্পূর্ণ কায়া। মূলত নিভৃতা শাড়ি পড়ছিল। তবে একাংশ ও পড়া হয় নি। সবে সায়া ব্লাউজ গায়ে জড়িয়ে শাড়ির একটুখানি সায়ায় গুজেছে।
আচানক দরজা খোলার আওয়াজে ঘাবড়ে গেল মেয়েটা। এ সময়ে দোতলায় কে আসবে! ঘাড় উঁচিয়ে তাকালো সম্মুখে। সামনর দৃশ্য চোখ আপনাআপনিই ছানাবড়া হয়ে গেল তার। সেকি কল্পনা করছে? কল্পনাই হয়তো। নইলে এটা কি করে সম্ভব? সে হাত দিয়ে চোখ কচলিয়ে মাথা নেড়ে পুনরায় তাকালো। নাহ্ এবারও তাই-ই দেখতে পাচ্ছে। অবাকতায় সে নিজের অর্ধ উন্মুক্ত শরীর ঢাকতে ও ভুলে গেছে বোধহয়।
রৌদ্রর দৃষ্টিতে মাদকতা উপচে পড়ছে। এই মুহূর্তে তার চোখে চাইলে হয়তো মনে হবে সে আসলেই নেশাগ্রস্ত। সে দরজা বন্ধ করে ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। নিভৃতার অতি সন্নিকটে এসে দাড়ালো। রমণী এখনো একই ভাবেই অবলোকন করছে তাকে। যুবক এক হাতে রমণীর উন্মুক্ত কোমর খামচে ধরলো। রমণীর ধ্যান ভাঙল এবার। ব্যাথাতুর শব্দ বেরিয়ে এলো মুখ থেকে। সেসব পাত্তা না দিয়ে অবিশ্বাস্য কন্ঠে শুধাল
"র..র..রৌ.. রৌদ্র?"
রৌদ্র ফিঁচলে হেসে হাস্কি স্বর বললো
"নাম নিতেই যদি এতো সময় নাও তবে ইন্টিমেন্ট পর্যন্ত যেতে কত সময় নিবি সোনা?"
খানিক বিরতি নিয়ে পুনরায় ফিসফিসিয়ে শুধাল
"এসেছিলাম সারপ্রাইজ দিতে বাট নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম। এই খুশিতে তোমার কুমারীত্ব লুটে নেই। কি বলো?"
নিভৃতার শরীরে তরল শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। যেন সে লজ্জা পেতেও ভুলে বসেছে। রৌদ্র নিভৃতার কোমর আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করলো কয়েকবার। পরমুহূর্তে নিজেদের মধ্যে থাকা খানিক দুরত্ব মিটিয়ে রমণীকে নিজের শরীরের সঙ্গে লেপ্টে নিলো। রমণীর লিপবাম দেয়া অধরজুগল তিরতির করে কাঁপছে। সেথায় চোখ পড়তেই যুবক যেন তার ধীরস্থিরতা হারিয়ে ফেললো। একপ্রকার হামলে পড়লো অধরজুগলে। প্রথমে নিম্নাষ্ট চুষতে লাগলো যেন সে বহু বছরের ক্ষুধার্ত। অতঃপর নিম্নাষ্ট ছেড়ে ওপরের ওষ্ঠে হানা দিল। তবে সে কামড় দিচ্ছে না শুধু চুষে দিচ্ছে।
খানিক বাদে নিভৃতা তাকে ঠেলতে লাগলো। শ্বাস টানতে কষ্ট হচ্ছে রমণীর। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে রৌদ্র কয়েক সেকেন্ড ছাড় দিল অতঃপর পুনরায় নিজের কালচে অধরের নিচে পিষ্ট করে ফেললো। রমণী এবার নিঃশ্বাস নিতে না পেরে জোরে এক ধাক্কা দিল রৌদ্রকে। অধরে মগ্ন হয়ে থাকা রৌদ্র এক ধাক্কাতেই টললো। এক পা পিছিয়ে গেল রমণীর থেকে। নিভৃতা জোরে জোরে শ্বাস টানছে। বুক অস্বাভাবিক গতিতে ওঠানামা করছে যা রৌদ্রকে আরো বেশি আকৃষ্ট করছে। সে পুনরায় এগিয়ে এসে নিভৃতাকে এক হাতে ঝাপটে ধরে অন্যহাতে ব্লাউজের বোতাম খুলতে লাগল।
রমণী ছটফটিয়ে উঠলো। সরাতে চাইলো তবে ব্যর্থ সে।
"কি সমস্যা? আমি কি এখন জেগে জেগে ও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি? কি আজব!"
চলবে..............
আলতো শিহরণ
লেখনীতে আইজা
সূচনা পর্ব
নোট: গল্পটা ইরোটিক ধাঁচের। যাদের ইরোটিক রোমান্স পছন্দ নয় তারা পরবর্তী পর্ব গুলো পড়বেন না। সূচনা পর্ব কেমন লেগেছে জানাবেন। রেসপন্স করবেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব দ্রুত দিব।
শব্দ সংখ্যা:১০০০+