বাইরে ঝড় শুরু হয়েছে।পুরোনো লাইব্রেরির জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা আছড়ে পড়ছে।আর ভেতরে...সাইফা কাঁপা হাতে ধরে আছে সেই চিঠি।খামের ওপর লেখা
—"শুধুমাত্র সাইফার জন্য।"তার বুকের ধুকপুকানি এত জোরে হচ্ছে যে মনে হচ্ছে পুরো লাইব্রেরিতে শব্দটা শোনা যাচ্ছে।সাইফ তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।অস্বাভাবিক চুপচাপ।মনে হচ্ছে সেও ভয় পাচ্ছে।সাইফা ধীরে ধীরে খামটা খুলল।ভেতরে একটা ভাঁজ করা কাগজ।পুরোনো।হালকা হলুদ হয়ে গেছে।কিন্তু হাতের লেখাটা স্পষ্ট।এটা তার মায়ের লেখা।সাইফার চোখ ভিজে উঠল।সে পড়তে শুরু করল।
"আমার সোনা মেয়ে,যদি তুই এই চিঠি পড়িস, তাহলে হয়তো আমি তোর পাশে নেই।কিন্তু বিশ্বাস কর, আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোকে ভালোবেসেছি।"সাইফার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। "তুই ছোটবেলায় সবসময় জিজ্ঞেস করতিস, আকাশের তারা কেন জ্বলে।আমি বলতাম, কিছু মানুষ চলে যাওয়ার পরও আলো হয়ে থাকে।"তার গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।সে মাকে ভীষণ মিস করে।কিন্তু পরের লাইনটা পড়তেই তার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
"সাইফা, আমাদের পরিবারে একটা সত্য আছে..."যে সত্যের জন্য মানুষ মরেছে।"লাইব্রেরির বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।সাইফের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
"আরমান কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।"সাইফা জমে গেল।
"যে আগুনে সবাই তাকে মৃত ভেবেছিল...সেই আগুন লাগানো হয়েছিল।"
— "কি...?"তার ঠোঁট কেঁপে উঠল।
"আর যারা এটা করেছিল...তারা এখনও বেঁচে আছে।"বজ্রপাত হলো।ধাম!এক মুহূর্তের জন্য পুরো ঘর আলোকিত হয়ে উঠল।সাইফার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।সে দ্রুত পরের অংশে চোখ বুলাল। "আরিফকে বিশ্বাস করেছিলাম।এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল।"
আরিফ!আবার সেই নাম।
"যদি কোনোদিন আরিফ ফিরে আসে..."তাহলে তার কাছ থেকে দূরে থাকবি।"সাইফার বুক কেঁপে উঠল।ঠিক তখনই কেউ লাইব্রেরির বাইরে হাঁটছে।ধাপ...ধাপ...ধাপ...দুজনেই চুপ হয়ে গেল।সাইফ মুহূর্তেই সতর্ক হয়ে উঠল।তার চোখ অন্ধকার হয়ে গেল।
— "পেছনে থাক।"সাইফা কিছু বলার আগেই সাইফ দরজার দিকে এগিয়ে গেল।দরজা খুলে বাইরে বের হলো।করিডোর ফাঁকা।কেউ নেই।কিন্তু মেঝেতে একটা কালো গোলাপ পড়ে আছে।তার সাথে একটা ছোট্ট কার্ড।সাইফ কার্ডটা তুলে নিল।আর পড়ে তার মুখ শক্ত হয়ে গেল।কার্ডে লেখা
— "চিঠিটা পড়ে ফেলেছো বুঝি?এবার সত্যের জন্য প্রস্তুত হও।"নিচে একটা নাম।যে নাম দেখে সাইফের চোখে প্রথমবার খাঁটি বিস্ময় ফুটে উঠল।"আরিফ"সাইফার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।কারণ বহু বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটা...সম্ভবত ফিরে এসেছে।