বেজমেন্টের ভেতর বাতাস যেন ভারী হয়ে গেছে।টেবিলের উপর রাখা ভিডিও টেপটার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।THE NIGHT OF FIREপনেরো বছর ধরে লুকিয়ে থাকা সত্য।আজ হয়তো সেটা প্রকাশ পাবে।সাইফ পুরোনো ভিডিও প্লেয়ারে টেপটা ঢুকাল।কয়েক সেকেন্ড ঝিরঝির শব্দ।তারপর স্ক্রিনে ছবি ভেসে উঠল।রাত।একটা বিশাল ভবন।আগুনে জ্বলছে।সাইফার বুক ধক করে উঠল।কেন জানি দৃশ্যটা খুব পরিচিত লাগছে।ভিডিওতে মানুষ দৌড়াচ্ছে।চিৎকার করছে।সবদিকে ধোঁয়া।হঠাৎ ক্যামেরায় এলিনা চৌধুরীকে দেখা গেল।
— "দ্রুত!ওকে নিয়ে বের হও!"তার কোলে একটা ছোট্ট মেয়ে।অরোরা।সাইফার চোখ ভিজে উঠল।ভিডিওতে এলিনা কাউকে শিশুটাকে তুলে দিলেন।আর সেই মানুষটা...রেহান রহমান।পুরো ঘর নিস্তব্ধ।ভিডিওতে রেহান বলছেন
—"আমি ওকে নিরাপদে নিয়ে যাব।"এলিনা মাথা নাড়লেন।কিন্তু ঠিক তখনই...পেছন থেকে কয়েকজন মুখোশধারী মানুষ এগিয়ে এলো।তাদের পোশাকে সেই একই প্রতীক।The Shadow Orderরিয়ান মুঠো শক্ত করল।
— "তাহলে আগুনটা দুর্ঘটনা ছিল না।"রাশেদ ধীরে মাথা নাড়লেন।
— "না।"
— "ওটা পরিকল্পিত হামলা ছিল।"ভিডিওতে হঠাৎ বিস্ফোরণ।স্ক্রিন কেঁপে উঠল।সাইফা চোখ বন্ধ করে ফেলল।মাথার ভেতর আবার স্মৃতি ফিরে আসছে।আগুন।ধোঁয়া।কান্না।
— "অরোরা! দৌড়াও!"এইবার সে স্পষ্ট শুনতে পেল।এটা এলিনার কণ্ঠ।তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।ঠিক তখনই...ভিডিওর শেষ অংশে এমন কিছু দেখা গেল যা কেউ আশা করেনি।একজন মানুষ মুখোশ খুলল।ঘরের সবাই জমে গেল।রাশেদ চৌধুরীর মুখ সাদা হয়ে গেল।
— "না..."কারণ সেই মানুষটা অপরিচিত নয়।সে ছিল...রাশেদের নিজের ছোট ভাই।সবাই হতবাক।সাইফ অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।
— "মানে... পরিবারের কেউ জড়িত ছিল?"-রাশেদ চোখ বন্ধ করলেন।
— "আমি ভেবেছিলাম সে আগুনে মারা গেছে।"
— "কিন্তু সে বেঁচে ছিল।"পুরো ঘর নিস্তব্ধ।ঠিক তখনই সাইফার হাত কাঁপতে শুরু করল।সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না।সাইফ দ্রুত তার পাশে এসে দাঁড়াল।
— "তুমি ঠিক আছো?"সাইফা ধীরে মাথা নাড়ল।কিন্তু তার চোখে ভয়,কষ্ট,আর বিভ্রান্তি।এতদিন যেটাকে দুর্ঘটনা ভেবেছিল...সেটা আসলে হত্যা প্রচেষ্টা ছিল।আর সে নিজেই ছিল সেই রাতের প্রধান লক্ষ্য।সাইফ তার দিকে তাকিয়ে রইল।মনের অজান্তেই একটা সিদ্ধান্ত নিল।যে-ই এর পেছনে থাকুক...যে মূল্যই দিতে হোক...সে সাইফাকে আর কখনো বিপদে পড়তে দেবে না।আর ঠিক তখনই...বেজমেন্টের দরজার বাইরে কারও পায়ের শব্দ শোনা গেল।ঠক...ঠক...ঠক...সবাই একসাথে ঘুরে তাকাল।কারণ এই সময় সেখানে কারও থাকার কথা নয়।