--
সকালের রোদটা জানালার ফাঁক গলে এসে সোজা তাসিফার মুখের উপর পড়ছে।
ভণ্ডপার্টিরা আজ কেউ ভার্সিটিতে যাবে না। গতকাল তাসিফার বাসা থেকে ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর ঘুমাতেও দেরি হয়েছিল। তাই আজ সবাই সকালটা একেবারে ঘুমিয়েই কাটাচ্ছে।
তাসিফা ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। স্বপ্নে হয়তো কিছু দেখছে। ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি।
হঠাৎ আয়রা বেগমের গলা ফাটানো চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।
-"ওরে নবাবজাদি।!"
হাতে ধরা খুন্তিটা তখনো গরম, রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এসেছেন। ঘড়িতে তখন ১২টা বাজে।
তাসিফা পিটপিট করে চোখ মেলল। চোখে ঘুম আর বিরক্তি একসাথে। ব্ল্যাঙ্কেটটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে বলল,
-"উফ মা, চেচামেচি করো না তো। আর পাঁচটা মিনিট ঘুমাই। প্লিজ!
কিন্তু আয়রা বেগমের কানে সে কথা ঢুকলোই না। মেয়ের এই অলসতা দেখলে ওনার মাথা গরম হয়ে যায়। রাগে গজগজ করতে করতে খুন্তি দিয়ে "টুকুস" করে বসিয়ে দিলেন তাসিফার পশ্চাতদেশে।
"আউচ" বলেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে সে। তাসিফা লাফ দিয়ে উঠে বসল।ব্যাথা পাওয়া জায়গাটায় হাত বুলাতে বুলাতে চোখে পানি চলে এলো। অভিমানী গলায় বলল,
-"মা,তুমি আমায় মারতে পারলে? আমি তোমার পেটের মেয়ে না?"
আয়রা বেগম কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ালেন। চোখ দুটো রাগে লাল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে মেয়ের কান্না দেখে মায়াও লাগছে। শক্ত গলায় বললেন,
-"চুপ। নাটক বন্ধ কর। এখন উঠে পুরো ঘর গুছাবি। একটা ধুলাও যেন না থাকে।"
তাসিফা মাথা চুলকাতে চুলকাতে ফিসফিস করে বলল,
-"আমি যদি এখন ভার্সিটিতে থাকতাম, তাহলে এই ঘর কে গুছাতো শুনি? তুমিই তো গুছাতে।"
কথা শেষ হওয়ার আগেই আবারও "টুকুস" করে তাসিফার পিঠে খুন্তি বসালেন আয়রা বেগম আর বললেন,
-"বেশি কথা বলবি না। আজ যাসনি তাই তোর দায়িত্ব। যদি যেতিস, আমি নিজেই সব করতাম।"
বলেই রাগে গটগট করে আয়রা বেগম রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন। যাওয়ার সময় খুন্তিটাও নিয়ে গেলেন।
তাসিফা বিছানায় বসে রইল। একদিকে পিঠে ব্যথা, অন্যদিকে মায়ের বকা। কিন্তু ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসিও আছে।
---
খুন্তির বাড়ি খাওয়ার পর তাসিফার আর শুয়ে থাকার উপায় নেই। ঢুলুঢুলু চোখে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো। ঠান্ডা পানির ঝাপটায় ঘুমটা অর্ধেক পালালো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো ভালো করে আচড়ে নিলো।
তারপর শুরু হলো ঘর গোছানোর কাজ।
প্রথমে নিজের রুমের সিলিং ফ্যানটা ওড়নার আঁচল দিয়ে মুছলো। এরপর একে একে ড্রয়িং রুম, ডাইনিং, মা-বাবার রুমের সব ফ্যান মুছলো। তারপর বিছানা ঝাড়া, টেবিল গোছানো, মেঝেতে ঝাড়ু।
কাজ করতে করতে দুইবার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু থামেনি। কারণ সে জানে কাজ শেষ না করলে আবার খুন্তির বাড়ি পড়বে পিঠে।
কাজ শেষ করে তাসিফা ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে সোফায় এসে বসল। পা দুটো টনটন করছে। ঠিক তখনই মনে পড়লো "পরশু তার মিডটার্ম!"
কথাটা মাথায় আসতেই বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল। একটা লাইনও পড়া হয়নি। তাসিফার মন চাচ্ছে হাত-পা ছড়িয়ে বসে বসে কাঁদতে।
ওদিকে রান্নাঘরে আয়রা বেগম ভুনা খিচুড়ি রাঁধছেন। আলমগীর আলম সকাল ৮টায় নিজের কাজে বেরিয়েছেন। আসবেন হয়তো দুপুরে নয়তো রাতে।
কিছুক্ষণ পর আয়রা বেগম রান্নাঘর থেকে খাবার এনে ডাইনিং টেবিলের উপর রেখে ডাকলেন,
-"তাসিফা খেতে আয়।"
ফোস করে একটা শ্বাস ফেলে খাবার খেতে চলে এলো তাসিফা। ডাইনিং এ বসতেই চোখ চকচক করে উঠল।
টেবিলে বড় কাঁসার প্লেটে ধোঁয়া ওঠা গরম ভুনা খিচুড়ি। পাশে ছোট দুটো বাটিতে গরুর মাংসের আচার আর রসুনের আচার।
আয়রা বেগমের দিকে তাকিয়ে খুশি মনে বলল,
-"থ্যাঙ্ক ইউ মা।"
তারপর খিচুড়ি খেতে লাগল।
---
অন্যদিকে জুয়িনের হাতে বাজারের ব্যাগ। ভিতরে এক কেজি টাটকা গরুর মাংস।
অনেকদিন হয়েছে গরুর কালা ভুনা খাওয়া হয় না জুয়িনের। এই খাবারটা জুয়িনের খুব পছন্দের।
কিন্তু পড়েছে এক বিপাকে। কারণ সে গরুর কালা ভুনা রান্না করতে জানে না।
ঘড়িতে এখন দুপুর ১.৩০ বাজে।
তাই জুয়িন ভাবলো তাসিফাকে জানাবে। তাই কল লাগালো তার নাম্বারে।
তাসিফা সেই সময় মোবাইলে রিলস দেখছিলো। হঠাৎ জুয়িনের কল আসায় তাসিফার গাল লাল হয়ে উঠল। তবে নিজেকে সামলে নিয়ে কল রিসিভ করল।
-"হ্যালো?"
জুয়িন শান্ত স্বরে বলল,
-"আমার ফ্ল্যাটে আয় তো জলদি।"
বলেই কল রেখে দিলো। তাসিফা ভ্রু কুঁচকে কান থেকে মোবাইল সরালো। আর মনে মনে বলল,
-"হঠাৎ নিজের ফ্ল্যাটে কেন ডাকছে?"
তাসিফা গায়ের গেঞ্জি-প্যান্ট চেঞ্জ করে গোল জামা পরলো। মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে আয়রা বেগমের কাছে গিয়ে বলল,
-"আম্মু আমি একটু আসছি।" বলেই বেরিয়ে পড়ল নিজের ফ্ল্যাট থেকে।
আয়রা বেগম তখন রান্নাঘরের কাজেই ব্যস্ত ছিলেন। মেয়ের কথা শুনে শুধু বললেন
-"আচ্ছা যা।"
---
রোদের তেজে ছাদ গরম হয়ে আছে। তাসিফা ওড়নার আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে জুয়িনের ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়ালো। বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। কি দরকারে ডাকলো কে জানে।
তাসিফা দরজায় নক করার সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল। যেন ভিতরে কেউ তাসিফার জন্যই দাঁড়িয়ে ছিল।
দরজার ওপাশে জুয়িন। পরনে কালো টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার। চুলগুলো এলোমেলো আছে। জুয়িন এক পাশে সরে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
-"ভেতরে আয়।"
তাসিফা মাথা নিচু করে "জ্বী" বলে ঢুকে পড়ল। জুয়িনের বাসাটা সবসময়ের মতোই নিট এন্ড ক্লিন। কোনো জিনিস এদিক সেদিক নেই। হালকা এসির ঠান্ডা বাতাসে তাসিফার গরমে ঘামা শরীরটা একটু শান্তি পেল।
সোফার এক কোণায় চুপ করে বসে পড়ল তাসিফা। জুয়িন কিছু না বলে কিচেনে চলে গেল। ফ্রিজ খোলার শব্দ হলো। একটু পর জুয়িন ফিরে এলো হাতে ঠান্ডা পানির বোতল আর একটা কাঁচের গ্লাস নিয়ে।
গ্লাসে ঢকঢক করে পানি ঢেলে গ্লাসটা তাসিফার দিকে এগিয়ে দিলো জুয়িন।
-"নে, পানি খা। গরম লাগছে নিশ্চয়ই?"
তাসিফা ছোট করে বলল,
-"থ্যাঙ্ক ইউ" বলেই কাঁপা কাঁপা হাতে গ্লাসটা নিলো তাসিফা। তারপর গলায় পানি ঢেলে দিলো। ঠান্ডা পানিতে গলা ভিজে যেতেই প্রাণটা জুড়ালো।
পানি খাওয়া শেষ হতেই জুয়িন আবার তাসিফার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে নিলো। তারপর সেটা ডাইনিং টেবিলে রেখে এসে তাসিফার পাশের সোফাটাতেই বসে পড়ল। একদম কাছে।
তাসিফা চমকে উঠল। সারা শরীরে কেমন যেন শিরশিরে অনুভূতি। লজ্জায় কান লাল হয়ে গেল। সে মাথা আরও নিচু করে ফেলল।
কিছুক্ষণ নিরবতা। তারপর জুয়িন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,
-"কালা ভুনা রান্না করতে পারিস?"
তাসিফা থতমত খেয়ে গেল। এতক্ষণ ধরে ডেকে এনে শেষে এই কথা?
সে আমতা আমতা করে বলল,
-"জ্বী, পারি। কিন্তু হঠাৎ কালা ভুনার কথা কেন?"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তাসিফার দিকে তাকিয়ে বলল,
-"অনেক দিন ধরে ইচ্ছে করছে কালা ভুনা খাওয়ার। কিন্তু আমি তো রান্না করতে পারি না। তাই তোকে ডাকলাম। একটু রান্না করে দিতে পারবি প্লিজ?"
"প্লিজ" শব্দটা শুনে তাসিফার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। জুয়িনের মতো গম্ভীর মানুষও "প্লিজ" বলে?
তাসিফার মায়া হলো খুব। সে ছোট করে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
-"আচ্ছা। আমি রান্না করে দিতে পারবো।সমস্যা নেই।"
কথাটা বলেই তাসিফা উঠে দাঁড়ালো। রান্নাঘরে ঢুকতেই দেখল সব মসলা,মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা আগেই কেটে ধুয়ে গুছিয়ে রাখা। জুয়িন বোধহয় আগেই সব রেডি করে রেখেছে।
তাসিফা হাসিমুখে কাজে লেগে পড়ল। নন-স্টিকে তেল দিলো, পেঁয়াজ ভাজলো, মসলা কষালো। পুরো রান্নাঘরে কালা ভুনার সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল।
ওদিকে জুয়িন রান্নাঘরের দরজার কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাসিফাকে দেখল। তারপর বিরক্ত হয়ে সোফায় গিয়ে মোবাইল নিয়ে বসল।
--
আধা ঘণ্টা পর জুয়িনের আর ভালো লাগছে না। বোরিং লাগছে। সে মোবাইল রেখে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-"এতক্ষণ লাগে নাকি কালা ভুনা করতে?"
---
রান্নাঘর থেকে টুকটাক শব্দ ভেসে আসছিল। চুলার আগুনে গরম হয়ে থাকা রান্নাঘরটায় তাসিফা ঘেমে একাকার হয়ে নিজের মতো রান্না করে চলেছে। কপালের ছোট ছোট ঘামের ফোঁটা গুলো বারবার হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিচ্ছিল সে। কিন্তু তবুও তার রান্নায় কোনো বিরতি নেই।
জুয়িন দূর থেকে রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়াতেই তাসিফার দিকে চোখ পড়ল। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল সে। তাসিফা যে তাকে খেয়ালই করেনি, সেটা বুঝতে পেরে জুয়িনের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে শয়তানি হাসি ফুটে উঠল।
মাথায় তখন এক দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল।
চুপচাপ পা টিপে টিপে রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে তাসিফার একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়াল জুয়িন। তাসিফা তখনও নিজের কাজে ব্যস্ত। এক হাতে খুন্তি, অন্য হাতে মসলার বাটি নিয়ে সে আপনমনে রান্না করে যাচ্ছে।
জুয়িন একটু ঝুঁকে তাসিফার কানের একেবারে কাছে মুখ নিয়ে গেল।তারপর জোরে চেঁচিয়ে বলল,
-“ভাও!”
তাসিফা আঁতকে চেঁচিয়ে উঠল,
-"আআআআ!”
হাতে থাকা খুন্তিটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। বুকের ওপর হাত রেখে কয়েক সেকেন্ড হাঁপাতে হাঁপাতে পেছনে তাকাতেই সামনে জুয়িনকে দেখে তার চোখ কপালে উঠে গেল।
আর অন্যদিকে জুয়িন তাসিফার অবস্থা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারল না। একেবারে পেট ধরে হাসতে শুরু করল।
তাসিফা কয়েক সেকেন্ড হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর তার মুখটা রাগে লাল হয়ে গেল। রান্নার কথা ভুলে গিয়ে সে সঙ্গে সঙ্গে খুন্তিটা জুয়িনের দিকে তাক করে ধরল,
-“অসভ্য লোক একটা! এভাবে কেউ ভয় দেখায়? আরেকটু হলেই তো আমি সত্যিই হার্ট অ্যাটাক করে ফেলতাম!”
জুয়িন হাসি থামানোর ভান করে তাসিফার দিকে তাকাল। কিন্তু চোখেমুখে তখনও দুষ্টুমি লেগেই আছে।
সে ধীরে ধীরে তাসিফার আরও কাছে এগিয়ে এল। তাসিফা খুন্তিটা আরও শক্ত করে ধরে বলল,
-"এই! কাছে আসবেন না। একদম মাথা ফাটিয়ে দেব!”
জুয়িন তার কথায় একটুও ভয় পেল না। বরং নির্বিকার ভঙ্গিতে তাসিফার গালটা আলতো করে ধরে ফেলল।
তাসিফা থমকে দাঁড়িয়ে গেলো।
জুয়িন চোখ টিপে মুচকি হেসে বলল,
-"সামান্য একটা জিনিসে হার্ট অ্যাটাক করে ফেলাটা বেমানান, ম্যাডাম।”
তাসিফা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
-"সামান্য জিনিস?”
জুয়িনের হাসিটা আরও চওড়া হলো। গালের ওপর আঙুল রেখে সে একটু ঝুঁকে তাসিফার চোখের দিকে তাকালো।
জুয়িন এক মুহূর্ত থেমে নিজের দিকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলল,
-"তোর সামনে যে আসল জিনিসটা দাঁড়িয়ে আছে, সেটা দেখে তুই ফিদা হয়ে হার্ট অ্যাটাক করে ফেলতে পারিস।”
কথাটা বলেই সে চোখ টিপে যোগ করল,
-“আই ডোন্ট মাইন্ড।”
তাসিফা কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে জুয়িনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তাসিফা কি জবাব দেবে বুঝে উঠতে পারল না। লজ্জায় দুই গাল টকটকে লাল হয়ে গেছে।
জুয়িনের দিকে আর এক সেকেন্ডও তাকাতে পারল না।
মুখ ঘুরিয়ে বিরক্তির সুরে "ধ্যাত" বলে, আবার রান্নায় মনোযোগ দিলো।
জুয়িন নিজের মাথা চুলকিয়ে হেসে বলল,
-"ওকেই আর ডিস্টার্ব করব না। আর কত সময় লাগবে রান্না শেষ হতে?"
তাসিফা হাতের তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলল,
-"আর ৫ মিনিট।"
জুয়িন ছোট করে "ওহ" বলে আবার সোফায় গিয়ে বসে পড়ল।কালা ভুনার ঘ্রাণে পেটের ভিতর ক্ষুধা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
---
৫ মিনিট পর তাসিফা চুলা অফ করে দিলো। গরুর কালা ভুনা রান্না শেষ। কালচে রঙের ঘন ঝোলের উপরে তেল ভাসছে। নন-স্টিকের পাত্রটা দুই হাতে সাবধানে ধরে ডাইনিং টেবিলের মাঝখানে বসিয়ে দিলো।
সাথে সাথেই গরম গরম কালা ভুনার গন্ধে পুরো বাসাটা "ম ম" করে উঠল।
জুয়িন আগেই টেবিলে বসে পড়েছে। চোখ দুটো পাত্রের দিকে স্থির। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজাচ্ছে বারবার।
তাসিফা হেসে রাইস কুকার থেকে ভাত বেড়ে নিলো। তারপর বেশি করে গরুর কালা ভুনা প্লেটে তুলে দিয়ে প্লেটটা জুয়িনের দিকে এগিয়ে দিলো।
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
-"তুই কখন খাবি?"
তাসিফা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল,
-"আ..মি, আমি বাসায় গিয়ে খেয়ে নিব নে।"
জুয়িনের মুখটা সাথে সাথে গম্ভীর হয়ে গেল আর বলল,
-"এখানে খেলে কি কোনো প্রব্লেম হবে নাকি?"
তাসিফা তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।
-"না, তা হবে না। আপনি খান।"
জুয়িন এবার চোখ রাঙিয়ে বলল,
-"বেশি পাকনামি করবি না। প্লেটে রাইস বেড়ে আমার পাশে বসে পড়। একসাথে খাব।"
তাসিফা আবার কিছু বলতে যাবে, অমনি জুয়িন ধমক দিয়ে উঠল,
-"খেতে বলেছি খা।"
তাসিফা আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ নিজের জন্যেও প্লেটে রাইস আর কালা ভুনা বেড়ে জুয়িনের পাশের চেয়ারটাতেই বসে পড়ল।
নিজের হাতের রান্না মুখে দিয়েই তাসিফার চোখ চকচক করে উঠল। সত্যিই অনেক মজা হয়েছে। বারবার নিজেই নিজের প্রশংসা করছে মনে মনে।
একটু পর সাহস করে জুয়িনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-"কেমন হয়েছে?"
জুয়িন ভাত চিবাতে চিবাতে একবার তাসিফার দিকে তাকালো। তারপর অপ্রস্তুত হয়ে চোখ নামিয়ে বলল,
-"হুম,ভালো।"
শুধু "ভালো" শব্দটা শুনেই তাসিফার মনটা নেচে উঠল। ঠোঁটের কোণে লেগে গেল এক চিলতে হাসি।
#চলবে
[ আসসালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছো?আশা করি দিব্বি আছো।
আলহামদুলিল্লাহ আজ আমার এক্সাম শেষ হয়েছে।আজ ভেবেছিলাম গল্প লিখব না, রেস্ট নিবো।কিন্তু তোমাদের এতো মেসেজ আর ভালোবাসা দেখে না লিখে পারলাম না। তোমরাই তো আমার লেখার প্রেরণা।
আশা করি এই পর্বেও তোমরা সবাই সুন্দর করে রেসপন্স করবে।আর পরবর্তী পর্ব পেতে চাইলে ফলো দিয়ে পাশে থাকবে সবাই]