ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 24

লেখক: F. Tabassum

ইরা সুন্দর একটা জামা পড়ে তৈরি হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে এলো। গ্যারেজে কতগুলো ব্র্যান্ডের চকচকে গাড়ি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো থাকলেও, সে কোনো গাড়িতে হাত দিল না, এমনকি ড্রাইভারকেও ডাকল না। নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে যখন সে কলেজে এক সাধারণ মেয়ে হিসেবে যাচ্ছে, তখন রাস্তায় একটা খোলা রিকশায় চড়ে যাওয়াটাই তার কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।
বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুটা পথ ফুটপাত ধরে হেঁটে রিকশা স্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই ইরার পিঠের পেছনে এক অদ্ভুত শিরশিরে অনুভূতি হলো।
তার মনে হলো—কেউ একজন তীক্ষ্ণ নজরে তাকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরা থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরল। চারপাশে নজর বুলাল। পথচলতি ব্যস্ত মানুষ, চায়ের দোকানের ভিড় আর দুটো রিকশা ছাড়া সন্দেহজনক কাউকেই সে দেখতে পেল না।
"ইস! মনের ভুল মনে হয়..."
ইরা নিজের মাথার কাল্পনিক চিন্তাগুলোকে ঝেড়ে ফেলে আবার নিজের ছন্দে হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু... ইরা দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তেই রাস্তার পাশের এক গলি থেকে ধীর পায়ে বের হয়ে এলো এক রহস্যময় লোক।
সানগ্লাস আর হুডি পরা লোকটা ইরা যে পথ ধরে চলে গেছে, সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে উঠল—
— "মাত্র দুটো বছর... শুধু মাত্র দুটো বছর অপেক্ষা করো, ইরা। তারপর আমাদের দেখা হবে।"
কথাটা বলেই লোকটা রাস্তার ভিড়ের মধ্যে যেন মিলিয়ে গেল।
...

ওদিকে ইরা রিকশায় চড়ে সোজা কলেজের সামনে এসে পৌঁছাল।
কলেজের প্রধান গেটের সামনে পৌঁছাতেই তার মুখের সব ক্লান্তি উধাও হয়ে গেল। কারণ গেটের ঠিক পাশেই ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিল তার কলেজের তিন বান্ধবী—যার কাছে সে দেশের নামজাদা পরিবারের সন্তান নয়, শুধুই তাদের আদুরে বন্ধু ইরা।
ইরার তিন বান্ধবী—তানিয়া, নিশা আর মেহজাবিন—গেটের সামনেই তাকে ঘিরে ধরল।
তানিয়া বেশ উৎফুল্ল গলায় বলল, "আজকে তোদের কোনো অজুহাত শুনব না কিন্তু! আজকে আমার জন্মদিন! তাই কলেজের ঠিক পেছনের ওই ফ্যান্সি ক্যাফে আর রেস্টুরেন্টটায় আমরা সবাই মিলে হ্যাপি আওয়ার উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছি।"
চার বান্ধবী মিলে হাসতে হাসতে গল্প করতে করতে হেঁটে হেঁটে রেস্টুরেন্টটার সামনে এসে দাঁড়াল। উঁচুতে রেস্টুরেন্টের নামটা লেখা দেখতেই ইরার ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল।
সে মনে মনে ভাবল—‘হায় রে কপাল! তানিয়া বেছে বেছে এই রেস্টুরেন্টটাই পেল? এটা তো আমার আদিয়ান ভাইয়ের ওন করা প্রিমিয়াম রেস্টুরেন্ট চেইন! ভাইয়াকে খালি হোয়াটসঅ্যাপে একটা টেক্সট পাঠিয়ে এক লাইন লিখে দিলে পুরো রেস্টুরেন্ট খালি করে আমাদের জন্য ভিআইপি ট্রিটমেন্ট আর স্পেশাল শেফ স্পেশাল আইটেম ফ্রিতে হাজির করে দেবে!’
তবে নিজের পরিচয় গোপন রাখার কথা মনে পড়ে যেতেই ইরা সেই চিন্তা চেপে রেখে চেপে মুচকি হাসল।
ঠিক তখনই তানিয়া খুব ভাব নিয়ে নিজের ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করতে করতে ঘোষণা দিল—
— "শোন তোরা, মেনু কার্ড দেখে যার যা ইচ্ছা অর্ডার দে। আজকের স্পেশাল দিনে পুরো বিল কিন্তু আমার তরফ থেকে গ্র্যান্ড ট্রিট!"
ইরা মনে মনে হেসে ভাবল—‘তুই বিল দিবি দে বোন, কিন্তু তুই যদি জানতিস এই রেস্টুরেন্টের আসল মালিক তোর ঠিক পাশেই ক্যাজুয়াল জামা পরে দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে বোধহয় তুই হার্ট অ্যাটাকই করতিস!’
.
.
.
খাওয়া-দাওয়া শেষে যখন ওয়েটার টেবিলে বিলের ফাইলটা এনে রাখল, তানিয়া সেটা খুলে এক নজর দেখেই যেন মনে মনে একটু বিষম খেল!
প্রিমিয়াম রেস্টুরেন্টের দাম বলে কথা—বিলের অঙ্কটা তানিয়ার ধারণার চেয়ে বেশ কিছুটা বেশিই এসে গেছে। তবে বার্থডে গার্ল হিসেবে মুখের ভাব স্বাভাবিক রাখার শত চেষ্টা করছিল সে। ওদিকে নিশা আর মেহজাবিন তখন রেস্টুরেন্টের নান্দনিক নান্দনিক কোণগুলোতে সেলফি আর ক্যাজুয়াল ছবি তুলতে এতই মগ্ন যে, টেবিলের এই সূক্ষ্ম টানটান উত্তেজনা তাদের চোখেই পড়ল না।
ইরা তানিয়ার সেই ইতস্তত মুখটার দিকে তাকাল। বন্ধুকে এই আনন্দের দিনে এমন অস্বস্তিতে ফেলার মেয়ে সে নয়! সে ফোনটা বের করে আদিয়ানকে একটা স্পেশাল মেসেজ ঠুকে দিল—
" ভাইয়া, আমার কলেজের পেছনের এই রেস্টুরেন্টে আমি আমার ফ্রেন্ডের বার্থডে পার্টিতে আসছি। !"
মেসেজ সেন্ড হওয়ার ঠিক এক মিনিটের মাথায়...
টেবিলের পাশে বিনয়ের সাথে এসে দাঁড়াল রেস্টুরেন্টের ফ্লোর ম্যানেজার। সে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল—
— "ম্যাম, আপনাদের জন্য একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ অ্যানাউন্সমেন্ট আছে!"
তানিয়া অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকাল— "জি?"
ম্যানেজার বেশ প্রফেশনাল গলায় বলল— "আজ আমাদের এই ব্রাঞ্চের ১০০ নম্বর কাস্টমার হিসেবে সৌভাগ্যবশত আপনাদের টেবিলটি সিলেক্টেড হয়েছে! আমাদের লাকি কাস্টমার পলিসি অনুযায়ী আপনাদের আজকের পুরো বিলের ওপর ফ্ল্যাট ৭০% ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে!"
কথাটা শোনামাত্রই তানিয়ার চোখ দুটো আনন্দে চকচক করে উঠল! সে তো ভয়ে ছিলো এত টাকা কিভাবে দিবে? তার উপর বলেছিলো সব টাকা আজ সে দিবে। এইবার যেন আকাশ থেকে চাঁদ হাতে পেল সে। এমনকি ছবি তোলা রেখে নিশা আর মেহজাবিনও চট করে টেবিলে ছুটে এলো— "ওয়াও! মারাত্মক লাক তো তোর তানিয়া!"
তানিয়া হাসিমুখে ডিসকাউন্টেড বিলটা মিটিয়ে দিল।
আর একপাশে বসে ইরা মিষ্টি করে হেসে মনে মনে বলল— ‘ ভাইয়া... তুমি যে সত্যিই একদম পারফেক্ট সময়মতো এন্ট্রি মারতে পারো, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল!’

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 24 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন