বিকেলের দিকে ইনায়া যখন অফিসে বসে পরবর্তী ফাইল দেখছিলেন, ওর ফোনে আবার একটা নোটিফিকেশন টোন বেজে উঠল। স্ক্রিন অন করতেই ওর চোখে পড়ল আরও একটা অদ্ভুত মেসেজ, যাতে শুধু একটা জটিল আলফা-নিউমেরিক কোড লেখা।
ইনায়া মেসেজটার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এর আগেরও ফোনে ঠিক এমনই একটা কোড এসেছিল। সেবার ও প্রায় চার ঘণ্টা মাথা খাটিয়ে, বিভিন্ন প্যাটার্ন ট্রাই করেও ওটা ডিকোড করতে পারেনি। ওটার কোনো অর্থ বা সূত্র ওনি উদ্ধার করতে পারেনি। তাই এবারও কোডটা দেখে ও তেমন একটা গুরুত্ব দিলো না। ওর মনে হলো, কোনো টেলিকম কোম্পানি বা হ্যাকারদের পাঠানো কোনো সাধারণ 'স্প্যাম মেসেজ'। সে ফোনটা লক করে ব্যাগে চালান করে দিলেন।
হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই, কোনো নক না করেই দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল কেউ। ইনায়ার ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে গেল। এই দপ্তরে তার অনুমতি ছাড়া দরজার হাতল স্পর্শ করার দুঃসাহস খুব কম মানুষেরই আছে। বিরক্তি নিয়ে মুখ তোলার মুহূর্তে দরজায় থমকে দাঁড়ানো অবয়বটার দিকে নজর পড়তেই তার ভেতরের রূপটা থমকে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে আদিয়ান। কিন্তু আজকের আদিয়ান দেখতে বেশ ভিন্ন। ধুলোমাখা জুতো, এলোমেলো উসকোখুসকো চুল, আর টাইয়ের নটটা আলগা হয়ে বুকের কাছে ঝুলে আছে। তার চোখের কোণে গভীর ক্লান্তির কালচে ছোপ, চোখ দুটি লালচে । হাতে চেপে ধরে রাখা কালো ল্যাপটপ ব্যাগটা যেন স্রেফ একটা যন্ত্র নয়, বরং সমস্ত পৃথিবীর কোনো ভার।
ইনায়া ধীরে ধীরে চেয়ারের হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসল।
—ভাইয়া...?
গলার স্বরে স্পষ্ট সংশয়। আদিয়ান কোনো জবাব দিল না। তার শুকনো ঠোঁট দুটো একবার কাঁপল, কিন্তু কোনো শব্দ ফুটল না। সে যেন নিজের পা দুটোকে টেনে টেনে সামনে নিয়ে এল। ধুপ করে বসে পড়ল ইনায়ার সামনের চেয়ারটায়। হাতের ল্যাপটপটা টেবিলে এমনভাবে রাখল, যেন নিজের ভেতরের সমস্ত পরাজয়কে বোনের সামনে তুলে ধরছে।
ইনায়া ভাইয়ের চোখের ভেতরের ভাঙনটাকে খুব কাছ থেকে পরখ করল । কপালে জমে থাকা সূক্ষ্ম ঘামের বিন্দু, থরথর করে কাঁপা হাতের আঙুল—সবকিছুই কোনো এক ঝড়ের আগাম বার্তা দিচ্ছে।
সে চেয়ার থেকে আরও একটু এগিয়ে এসে সোজা হয়ে বসল।
—কী হয়েছে তোমার?
আদিয়ান দু-হাতে মুখ ঢাকল। বেশ কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল নীরবতায়। চারপাশের শূন্যতা যেন একটা ভারী পাথরের মতো দুজনের বুকের ওপর চেপে বসেছে।
অবশেষে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আদিয়ান মুখ তুলল। তার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল,
—"ইনায়া... ইন গ্রুপের অবস্থা খুব খারাপ। একদম শেষ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।"
ইনায়ার মুখের প্রশান্ত ভাবটা নিমেষেই মিলিয়ে গেল। চোখের পলক ফেলা থমকে গেল তার।
—কী হয়েছে?
আদিয়ান কম্পিত হাতে ল্যাপটপের ঢাকনাটা খুলল। স্ক্রিনটা অন করে ইনায়ার দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে নিচু গলায় বলল,
—"ইন গ্রুপের যারা মূল ইনভেস্টর ছিল, তাদের বেশিরভাগই রাতারাতি তাদের ইনভেস্টমেন্ট তুলে নিয়েছে। আর যারা এখনো আছে, তারাও আর নতুন করে এক টাকাও ফান্ড দিতে চাইছে না। শুধু তাই না... আগে যারা বড় বড় অর্ডার দিয়েছিল, তারাও একে একে অর্ডার ক্যানসেল করছে। অনেকে আবার যেগুলো অলরেডি বুক করে ডেলিভারি নিয়েছিল, সেগুলোও নানাবিধ অজুহাতে ফেরত পাঠাচ্ছ। চারদিক থেকে পুরো ব্লক হয়ে গেছি আমরা।"
ইনায়ার কপালে চিন্তার সূক্ষ্ম ভাঁজগুলো এবার গভীর হলো।
—"কিন্তু হঠাৎ করে এমন ধস নামল কীভাবে?"
—"সেটাই তো বুঝতে পারছি না!"
আদিয়ান অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল। তার চোখে ফুটে উঠল তীব্র অপরাধবোধ।
—"আমি এতদিন সবকিছু একা সামলানোর চেষ্টা করেছি রে। একটার পর একটা সমস্যা আসছিল, ভাবছিলাম কোনোভাবে ম্যানেজ করে নেব। ইনভেস্টরদের হাতে-পায়ে ধরেছি, নতুন ইনভেস্টর খোঁজার চেষ্টা করেছি, পুরোনো ক্লায়েন্টদের ধরে রাখার চেষ্টা করেছি..."
একটু থেমে সে এক তিক্ত হাসি হাসল।
—"কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলাম না। আমি পুরোপুরি হেরে গেলাম।"
ইনায়া কিছু বলল না। তার চোখ দুটো এবার স্ক্রিনের নথিপত্রগুলোর ওপর বোলাতে লাগল। আদিয়ান ল্যাপটপটা বোনের আরও কাছে এগিয়ে দিল।
—"এই কারণেই তোর কাছে এসেছি। কোম্পানিটা এখন এমন একটা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে যে... যেকোনো সময় দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।"
ইনায়া মাউসটা নিজের হাতে নিল। স্ক্রিনে একের পর এক আর্থিক ক্ষতির রিপোর্ট, বকেয়া ঋণের হিসেব, বাতিল হওয়া অর্ডারের দীর্ঘ তালিকা আর ইনভেস্টমেন্টের রানিং ডিটেইলস ভেসে উঠছে। একটা একটা করে ফাইল খুলে দেখছিল সে। কোনো কথা নেই।
মিনিটের পর মিনিট কেটে গেল। আদিয়ান চুপচাপ বসে রইল বোন কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেই ভয়ে। ইনায়ার এই অস্বাভাবিক নীরবতা তার ভেতরের অস্থিরতাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
শেষ পর্যন্ত ইনায়া ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল। মাউস থেকে হাত সরিয়ে টেবিলের ওপর দু-হাত রাখল।
তারপর ভাইয়ের দিকে তাকাল। তার মুখটা এখন অস্বাভাবিক রকমের শান্ত।
—"ভাইয়া..."
—"হুম?"
—"আপাতত কোম্পানিটা পুরোপুরি বন্ধ করে দাও।"
আদিয়ান যেন কথাটা ঠিকমতো শুনতেই পেল না হয়তো তার মগজ শব্দগুলোর অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হলো। সে চমকে উঠে বলল,
—"কী?"
—"ইন গ্রুপ আপাতত পুরোপুরি বন্ধ করে দাও। সমস্ত অপারেশন স্থগিত করো।"
আদিয়ান কিছুক্ষণ হাঁ করে বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখেমুখে অবিশ্বাস্য আতঙ্কের ছাপ।
—"কিন্তু... কোম্পানি বন্ধ করে দিলে তো সব শেষ হয়ে যাবে ইনায়া! বাজারে রটে যাবে আমরা শেষ! আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে!"
—"না ভাইয়া। সব শেষ হবে না।"
সোজা হয়ে বসে ইনায়া বলল,
—"কখনো কখনো একটা বড় যুদ্ধ জিততে হলে আগে পিছু হটতে হয়। শত্রু যখন চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে, তখন না বুঝে লড়ে যাওয়ার নাম বীরত্ব নয়—ওটা বোকামি। আমরা এখন ব্যাকফুটে যাব, যাতে পরের চালটা একদম সরাসরি শত্রুর বুকে দেওয়া যায়।"
আদিয়ান বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ইনায়ার শেষ কথাগুলোর তীক্ষ্ণতা যেন তার কান পেরিয়ে মগজে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নিল।
হঠাৎ ভীষণ দুশ্চিন্তা তার অস্থির চোখেমুখে ফুটে উঠল। সে চেয়ারের ওপর আর একটু ঝুঁকে এল।
—"কিন্তু... এই যে এতগুলো কর্মী? যারা বছরের পর বছর ধরে দিনরাত খেটে আমাদের সাথে রয়েছে... ওদের কী হবে ইনায়া? কোম্পানি বন্ধ হলে তো ওরা সপরিবারে পথে বসে যাবে!"
আদিয়ানের গলার কাঁপুনিতে স্পষ্ট প্রকাশ পেল একজন মালিকের চেয়েও একজন অভিভাবকের দায়িত্ববোধ।
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে কোনো জবাব দিল না। এই ব্যাপারটা তাকেও বেশ চিন্তায় ফেলেছে। একটু ভেবে নিয়ে বললো,
—"আমাদের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেবো না। আপাতত অর্ধেক কর্মচারীকে অ্যারিসের কোম্পানিতে শিফট করার ব্যবস্থা করো। আর বাকি অর্ধেককে শিফট করে দাও বাবার অফিসে।"
আদিয়ান চমকে উঠে চোখ জোড়া বড় বড় করে তাকাল।
—"সবাইকে ভাগ করে? এভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে অ্যাবজর্ব করানো কি এতই সহজ?"
—"হুম। সহজ না হলেও এটাই করতে হবে। ওদের কারও চাকরি যেন কোনো অবস্থাতেই না যায়। এতদিন যারা আমাদের ওপর ভরসা রেখে ঘাম ঝরিয়েছে, দুঃসময়ে তাদের এভাবে মাঝদরিয়ায় ফেলে দিতে পারব না আমরা।"
একটু থেমে, ইনায়া মৃদু হেসে বলল,
—"আমি আজ রাতে বাড়ি ফিরে অ্যারিসের সাথে কথা বলব। ও ম্যানেজ করে নেবে, তুমি জানো ও এই ব্যাপারগুলোতে কতটা দক্ষ। তুমি অহেতুক এগুলো নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজেকে আর কষ্ট দিও না।"
আদিয়ান একটু স্বস্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বুকের ভেতরের অপরাধবোধের পাথরটা কিছুতেই হালকা হচ্ছিল না। ব্যর্থতার বিষাদ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল।
কিছুক্ষণ পর নিজের অজান্তেই তার চোখের কোণ দুটো ভিজে উঠল। একদম কাঁদো কাঁদো হয়ে, ধরা গলায় বলল,
—"তাহলে... তোর কোম্পানিটা? মানে... তোর প্রথম সাফল্য, তোর কষ্টের বদলে গড়া ‘ইন গ্রুপ’? ওটার কী হবে রে?"
কথাটা শেষ করতে পারল না আদিয়ান। তার শব্দগুলো আটকে গেল গলার কাছে। ইনায়া স্তব্ধ হয়ে ভাইয়ের চোখের দিকে তাকাল। যে বড় ভাই সবসময় তাকে আগলে রেখেছে, আজ সেই মানুষটাকে এতটা নিঃস্ব, এতটা শিশুর মতো অসহায় লাগছে। ইনায়া তার ভেতরের সমস্ত যন্ত্রণা আর কষ্টকে হাসির আড়ালে লুকিয়ে ফেলল। ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলল এক চেনা হাসি।
—"আমরা অতটাও গরিব হয়ে যাইনি ভাইয়া যে একটা কোম্পানি হাতছাড়া হলে আমাদের পথে বসতে হবে।"
আদিয়ান কোনো জবাব দিতে পারল না। তার চোখের কোণ বেয়ে একবিন্দু জল গড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলো। ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে সে যন্ত্রণায় বলল,
—"কিন্তু ওটা তো তোর নিজের হাতে তৈরি প্রথম স্বপ্ন ছিল... তোর সবটুকু আবেগ জড়িয়ে ছিল ওটার সাথে..."
নিজের ভুলের কারণে বোনের এত বড় স্বপ্ন ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে—এই সত্যটা আদিয়ানকে যেন ভেতরে ভেতরে হত্যা করছিল।
ইনায়া আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। টেবিলের পাশ ঘুরে এসে আদিয়ানের কাঁধে একটা হাত রাখল। সে হেসে বলল,
—"কোম্পানি গেলে কী হয়েছে? যে মানুষটা আমার সাথে থেকে আরও একশোটা ‘ইন গ্রুপ’ দাঁড় করানোর ক্ষমতা রাখে, সেই ভাইয়া তো আমার পাশে সুস্থভাবে আছে, তাই না? কোম্পানি বড়, না কি তুমি?"
আদিয়ান এবার মাথা নিচু করে ফেলল। আর কোনো কথা বলার মতো শক্তি তার ছিল না।
ইনায়া এবার পরিবেশের ভারিক্কি ভাবটা কাটাতে নিজের স্বাভাবিক গলায় ফিরে এল। ভাইয়ের কাঁধে মৃদু চাপ দিয়ে বলল,
—"এক কাজ করো। অহেতুক মন খারাপ না করে আপাতত বাবার সাথে গিয়ে ওঁর কোম্পানিটা সামলাও। বাবার বয়স হয়েছে, একা একা এই বিশাল সেটআপ সামলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে ওনার। তোমার মতো একজন শার্প মাইন্ড পাশে পেলে বাবারও খুব বড় একটা সাহায্য হবে।"
আদিয়ান আস্তে আস্তে মাথা নাড়ল।
—হুম।
অত্যন্ত ছোট একটি শব্দ। কিন্তু সেই একটিমাত্র শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে রইল এক পাহাড়সম কষ্ট, নিজের ব্যর্থতার গ্লানি আর বোনের নেওয়া সিদ্ধান্তের কাছে নিজের পরাজয় মেনে নেওয়ার নীরব সম্মতি।
ইনায়া আবার নিজের চেয়ারে ফিরে এসে বসল। ল্যাপটপের দিকে চোখ রেখে ফাইলগুলো ক্লোজ করতে করতে হঠাৎ গম্ভীর হয়ে উঠল তার চেহারা।
—"আর একটা কথা, ভাইয়া।"
আদিয়ান মুখ তুলে তাকাল।
—"এই ইন গ্রুপ বন্ধ হওয়ার খবরটা আপাতত আমরা দুজন, অ্যারিস আর বাবা ছাড়া যেন চতুর্থ কোনো কান পর্যন্ত না পৌঁছায়।"
আদিয়ান অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,
—"কাউকে বলব না? মানে আমাদের লিগ্যাল টিম বা কাছের শেয়ারহোল্ডারদেরও না?"
—"কাউকে না। অন্তত এখনই নয়। কোম্পানি বন্ধের খবর বাইরে ছড়ালে শকভ্যালু তৈরি হবে। বাজারে আমাদের শেয়ার হু হু করে পড়বে আর অযাচিত অনেক বিতর্কিত প্রশ্ন উঠবে। আগে আমরা ভেতরের সব নথিপত্র গুছিয়ে নিই, কর্মীদের সেফ জায়গায় শিফট করি। ব্যাকস্টেজ ক্লিয়ার হলে তারপর আমরা অফিশিয়ালি যা করার করব।"
আদিয়ান কিছুক্ষণ বোনের এই ঠান্ডা মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ইনায়া কেমন যেনো একটু। সব পরিস্থিতিতে ঠান্ডা থাকে, একদম চুপচাপ।
আদিয়ান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
—"ঠিক আছে।"
—"খুব ভালো। আমি ড্রাইভারকে বলছি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে।"
আদিয়ান কেবিন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দরজাটা আবার নিজে থেকেই আটকে গেল। ইনায়া চেয়ারে হেলান দিয়ে ল্যাপটপের মনিটরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। স্ক্রিনের মাঝখানে তখনও স্পষ্ট হরফে জ্বলজ্বল করছে সেই নাম—'IN GROUP'।
একসময় নিজের মেধা, শ্রম আর বুকভরা স্বপ্ন দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানটার জন্ম দিয়েছিল ইনায়া, আজ সময় আর পরিস্থিতির নিষ্ঠুর দাবার চালে সেই নিজের হাতে গড়া স্বপ্নটাকেই সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিতে হলো তাকে।ইনায়ার চোখে কিন্তু কোনো অশ্রু ছিল না, ছিল না কোনো আফসোস। কারণ সে জানে, বাঘ যখন দু-পা পিছু হটে, তা পালানোর জন্য নয়—বরং আরও শক্তিশালী একটা লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য!
বিড়বিড় করে বললো,
"বাংলাদেশে আসার পর থেকে এত সব ঝামেলা যদি কোনো একটা মানুষ করে থাকে তবে আমি কসম করে বলছি যেদিন সামনে পাবো সেদিন তোর বুকে আমি ৫৭ টা কোপ বসিয়ে বুক ঝাজরা করে দিবো। শালা হারামজাদা!"