ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ আসক্তি সিজন-২

পর্ব 34

লেখক: F. Tabassum

ফ্ল্যাটের কাগজপত্রের ফর্মালিটি শেষ হতেই ইনায়া ল ফার্ম থেকে হাফ-ডে ছুটি নিলেন। আইরাকে কোলে তুলে নিয়ে রোহানকে সাথে নিয়ে সে সোজা ফার্নিচারের শোরুমগুলোর উদ্দেশ্যে বের হলেন। নিজের মনে তখন এক অদ্ভুত তাড়া—আজ রাতের আগে তাকে একটা নতুন আস্তানা গড়ে তুলতে হবে।
বিকেলের রোদের মাঝেই ইনায়া একের পর এক শোরুম ঘুরে আইরার জন্য একটা সুন্দর বেড, একটা সোফা সেট, ডাইনিং টেবিল আর কিছু দরকারি হোম অ্যাপ্লায়েন্স কিনে ফেললেন। সব কটা শোরুমের ম্যানেজারকে এক্সট্রা ডেলিভারি চার্জ দিয়ে বলা হলো—আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে যেন সব মালামাল তার নতুন ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ইনায়া রোহানের হাতে নতুন ফ্ল্যাটের চাবিটা তুলে দিয়ে বললেন—
"রোহান, কিছু এক্সট্রা লোক হায়ার করো। ফার্নিচারগুলো ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর সাথে সাথে সব সুন্দর করে সেট করে ফেলবে। রাতের মধ্যে যেন পুরো ঘরটা থাকার মতো গুছিয়ে ফেলা হয়।"
রোহান দক্ষতার সাথে ম্যামের দেওয়া দায়িত্ব পালনে ছুটে গেল। সে লেবার নিয়ে, নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো নতুন ফ্ল্যাটটা ফার্নিচার দিয়ে সাজিয়ে, একদম পরিপাটি করে গুছিয়ে ফেলল।
.
.

এদিকে ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। দিনের সমস্ত ধকল শেষে ইনায়া আইরাকে নিয়ে ফেং ম্যানশনে ফিরে এলো। উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট—সে এখানে থাকতে আসেননি, তার আর আইরার জরুরি কিছু কাপড় আর জিনিসপত্র নিতে এসেছেন।
মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে ইনায়া দেখলেন পুরো ম্যানশন জুড়ে থমথমে নীরবতা। ড্রয়িংরুমে বা করিডোরে কেউ নেই। হয়তো সকালের ওই ভয়ঙ্কর ঝড়ের পর যে যার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। ঝর্ণা বেগমও হয়তো ওনার গেস্ট রুমেই আছেন।
দুপুর থেকে হসপিটাল আর ফার্নিচার মার্কেটের চক্কর কাটতে কাটতে ইনায়া আর আইরা—দুজনেরই পেটে এক দানা খাবারও পড়েনি। ক্ষুধায় আইরার কচি মুখটা একদম শুকিয়ে গিয়েছিল। ইনায়া আইরাকে লিভিং রুমের সোফাটায় বসিয়ে রেখে ওর কপালে একটা চুমু খেলেন।
"আম্মু, তুমি এখানে একটু বসো। মাম্মা জলদি কিছু রান্না করে আনছে, কেমন?"
ইনায়া নিজেই রান্নাঘরে ঢুকলেন। তার শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত ছিল, কিন্তু মেয়ের জন্য ক্লান্তি উবে গেল। ফ্রিজ থেকে দ্রুত কিছু ফ্রেশ সবজি আর চিকেন বের করে সে ঝটপট এক বাটি গরম সুপ আর রাইস তৈরি করে নিলেন সন্ধ্যার জন্য।

রাতের রান্না শেষ করে ইনায়া খাবারগুলো ডাইনিং টেবিলে সাজালেন। তারপর আইরাকে এনে নিজের পাশে বসিয়ে নিজের হাতে মুখে তুলে খাওয়াতে লাগলেন। ইনায়া নিজেও শান্ত মনে নিজের রান্না করা খাবার খেতে বসলেন। পাশে বসে ছোট ছোট লোকমা মুখে তুলছিল আইরা। মা আর মেয়ের মাঝখানে কোনো কথা নেই, কেবল যান্ত্রিক নীরবতা।

অফিস থেকে ফিরে এবং নিজেদের রুম থেকে বের হয়ে একে একে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে এলেন বাড়ির সবাই। অ্যারিস, ইভান, সাইমা, শামীমা বেগম এবং জিয়ান ফেং, ঝর্ণা  বেগম —সবাই যখন টেবিলে এসে বসলেন, ওনারা দেখলেন ইনায়া আর আইরা সম্পূর্ণ নির্বাক হয়ে নিজেদের প্লেটের দিকে তাকিয়ে খাচ্ছে।
ইনায়ার সেই অসম্ভব শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে অ্যারিসের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। সকালের সেই তিক্ত তর্ক, ওর মুখের ওপর ইনায়ার ছুড়ে দেওয়া সেই 'ডিভোর্স' শব্দটা—সবকিছু যেন অ্যারিসকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। ওর খুব ইচ্ছে করছিল ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরে বলতে, "আই অ্যাম সরি বউ, আমাকে ভুল বোঝো না।" ওর তীব্র ইচ্ছে করছিল এই অভিমানী মেয়েটাকে নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওর সব কষ্ট দূর করে দিতে। কিন্তু ড্রয়িংরুমে থাকা সবার উপস্থিতি ওকে স্তব্ধ করে রাখল। সে আর কিছু না বলে চুপচাপ নিজের প্লেটে খাবার তুলে নিলেন।

খাবার শেষ হওয়া মাত্রই ইনায়া আইরার হাত ধরে টেবিল থেকে উঠে পড়লো। ওরা কারও দিকে তাকালেন না, একটা কথাও বললেন না। তবে আজ রাতে ইনায়া ওর আর অ্যারিসের মাস্টার বেডরুমের দিকে গেলেন না; সে আইরাকে নিয়ে সোজা আইরার নিজের পার্সোনাল পিঙ্ক কালারের বেডরুমে ঢুকে দরজাটা লক করে দিলেন। টেবিলে বসা বাকি সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে যার যার মতো খাওয়া শেষ করে যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেলেন।

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত নয়টা। পুরো ফেং ম্যানশন যেন এক মরণোত্তর ঘুমে আচ্ছন্ন। আইরার ঘরের ভেতরে জিরো ওয়াটের ডিম লাইটের আলো জ্বলছিল। আইরা পা টিপে টিপে দরজার কাছে গিয়ে একটুখানি ফাঁক করে বাইরের করিডোরটা দেখে এল। তারপর ইনায়ার দিকে ফিরে ফিসফিস করে বলল—
"মাম্মা! বাইরে কোনো আওয়াজ নেই, সবাই একদম গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে গেছে।"
"ঘুমাবেই তো আম্মু... রাতের খাবারের সুপ আর তরকারিতে আমি পরিমাণমতো কড়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। কাল সকালের আগে ওদের জাগার কোনো ক্ষমতাই নেই।"
আইরা মাথা নেড়ে বললো, "বাহ! খুব ভালো হয়েছে। চলো মাম্মা, এবার আমরা আমাদের সব কিছু গুছিয়ে নিই।"
মা আর মেয়ে মিলে চটজলদি অথচ নিঃশব্দে নিজেদের আলমারি খুলে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করলেন। ইনায়ার দরকারি আইনি ফাইল, ওর কাপড়-চোপড় এবং আইরার সব প্রিয় খেলনা আর জামাকাপড় ব্যাগে ভরতে ভরতে কম করে হলেও ১২ থেকে ১৪টি বড় বড় লাগেজ আর ব্যাগ রেডি হয়ে গেল।
সব গোছানো শেষ করে ইনায়া শেষবারের মতো আইরার ঘরের দরজাটা খুলে অ্যারিসের মাস্টার বেডরুমে ঢুকল। বিছানায় অ্যারিস তখন ঘুমের ওষুধের তীব্র রেশে একদম অচেতন হয়ে আচ্ছন্ন অবস্থায় ঘুমিয়ে আছেন। ওর ডান হাতটা বিছানার ওপর ছড়ানো। ইনায়া ওর ব্যাগ থেকে আগে থেকেই রেডি করে রাখা ডিভোর্স পেপারস আর কিছু আইনি কাগজ বের করলেন। অ্যারিসের সেই অচেতন হাতের আঙুলে স্ট্যাম্প প্যাডের কালি মাখিয়ে কাগজের নির্দিষ্ট জায়গায় ওর টিপসই আর সিগনেচার নিয়ে নিলেন। অ্যারিস টের পেলেন না তার নিজের অজান্তেই জীবনের সবচেয়ে বড় সর্বনাশটা আজ রাতে হয়ে গেল।

কাগজটা নিয়ে ইনায়া নিচে নেমে রোহানকে সিগন্যাল দিলেন। রোহান অলরেডি ম্যানশনের পেছনের গেটে বড় একটা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। সে আর ওর সাথে আসা দুজন বিশ্বস্ত লোক কোনো শব্দ না করে একে একে ১৪টি ব্যাগ গাড়ির ডিকিতে আর ব্যাক সিটে তুলে নিলেন। ইনায়া আইরার হাত ধরে শেষবারের মতো এই ফেং ম্যানশনের দিকে তাকালো— যে বাড়ি ওর কোল খালি করেছে, ওর মেয়ের জীবন নিতে চেয়েছে, সেই বাড়ির মায়া আজ সে চিরতরে ত্যাগ করলেন।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রোহান ওদের নিয়ে গুলশানের সেই নতুন ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। সেখানে পৌঁছে রোহান নিজেই সারারাত জেগে লোকবল নিয়ে প্রতিটা ব্যাগ খুলে কাপড়চোপড় আর জিনিসপত্র দিয়ে নতুন বাসাটা একদম রাজকীয় কায়দায় সাজিয়ে গুছিয়ে দিল, যাতে সকালে ঘুম থেকে উঠে আইরার কোনো কষ্ট না হয়।
.
.
পরদিন সকাল প্রায় দশটা।
ফেং ম্যানশনের একেকজন সদস্য যখন চোখ মেললো, ওদের মনে হচ্ছিল ওদের মাথাটা যেন টনটন করছে, শরীর অসম্ভব ভারী আর অবশ হয়ে আছে। ড্রয়িংরুমে এসে শামীমা বেগম আর জিয়ান ফেং যখন আইরার রুম আর ইনায়ার রুম একদম শূন্য, আলমারিগুলো হাট করে খোলা আবিষ্কার করলেন—তখন ওনাদের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল!
অ্যারিস তখনো চোখ রগড়াতে রগড়াতে নিচে নামছিলো, ওর চোখ দুটো লাল। ইভান আর সাইমাও ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে এসে ধপ করে বসে পড়লেন।
ইভান মাথায় হাত দিয়ে বললো, "উফ! কাল রাতে খাওয়ার পর থেকে এত ভয়ঙ্কর ঘুম কেন আসছিল আমাদের? আমি তো অ্যালার্ম শুনেও উঠতে পারিনি!"
শামীমা বেগম কেঁদে উঠে, অ্যারিসের দিকে তাকিয়ে বললো, "কারণ ইনায়া আমাদের সবাইকে খাবারের সাথে কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়েছিল ! ও আমাদের সবাইকে অচেতন করে, আইরাকে সাথে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে! দেখ, ওর ঘরের একটা সুতোও অবশিষ্ট নেই!"
শামীমা বেগমের এই কথা শোনামাত্রই অ্যারিসের চোখের ঘুম এক সেকেন্ডে উবে গেল। ওর পায়ের তলার মাটি যেন হাজার ফুট নিচে ধসে পড়ল। যে ইনায়াকে সে কাল রাতেও ওর চোখের সামনে দেখেছেন, সেই ইনায়া ওকে এভাবে ড্রাগড করে, ওর নিজের মেয়েকে নিয়ে ওর জীবন থেকে উধাও হয়ে গেছে—এটা ওর মস্তিষ্কও ভাবতেই পারেনি। ওর বুকের ভেতর ভয়ঙ্কর রাগের আগুন একসাথে জ্বলে উঠল।

অ্যারিস ড্রয়িংরুমের টেবিলের উপর ডিভোর্স পেপারস আবিষ্কার করলো, যার নিচে তার নিজেরই টিপসই আর সিগনেচার জ্বলজ্বল করছে। নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয়টা যেন সে এই কাগজের টুকরোয় দেখতে পাচ্ছিল।
রাগে, যন্ত্রণায় আর এক আদিম উন্মাদনায় অ্যারিসের মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিল। হাতের কাছের সেই দামী ভিনটেজ ফুলদানিটা সে সজোরে আছাড় মারলেন দেয়ালে। ঝনঝন শব্দে ওটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এরপর ওর লক্ষ্য হলো ড্রয়িংরুমের সেই বিশাল সেগুন কাঠের টেবিল—সেটার ওপর রাখা যাবতীয় শোপিস, ল্যাপটপ, আর ইনায়ার ফেলে যাওয়া কিছু বই—সবকিছুর ওপর তার অমানুষিক ক্রোধ ঝড়ে পড়ল। প্রতিটি আঘাতে ফেং ম্যানশনের দেওয়ালে কম্পন সৃষ্টি হচ্ছিল।
অ্যারিস পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল, "ইনায়াআআআআআআআআআ! এই সাহস তুই দেখালি? আমাকে ড্রাগড করে, তুই আমাকে ডিভোর্স দিয়েছিস?! তুই ভেবেছিস আমি তোকে খুঁজে পাব না? তুই ভেবেছিস এই শহর এতই ছোট যে আমার চোখের আড়ালে তুই পালাবি?"
ইভান আর সাইমা দূরে দেওয়ালের পাশে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা জানত, অ্যারিসের এই রূপ কত ভয়াবহ। অ্যারিস যখন শান্ত থাকে, তখন সে একজন মাফিয়া কিং; কিন্তু যখন সে উন্মাদ হয়, তখন সে এক তান্ডব। অ্যারিস টেবিলটা ধাক্কা দিয়ে উল্টে ফেলে দিলেন, মেঝেতে কাঁচের টুকরো আর ছাইয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ল ওর সাজানো সংসার।
অ্যারিসের শার্টের কলারটা এলোমেলো, চোখ দুটো রক্তবর্ণ, হাতের তালু থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে—কিন্তু সেই যন্ত্রণার চেয়ে ওনার ভেতরের 'ইনায়াকে হারানোর' যন্ত্রণাটা অনেক বেশি ছিল। অ্যারিস সোফার ওপর বসে পড়ে নিজের মাথাটা দুহাতে চেপে ধরলেন। চারপাশটা তখন ভেঙে পড়া কাঁচ আর ধ্বংসস্তূপে ভরা।
হাঁপাতে হাঁপাতে রক্তিম চোখে অ্যারিস ড্রয়িংরুম ছেড়ে নিজের রুমে এসে দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিল। তারপর এগিয়ে গেল জানালার সামনে। বাইরে তখন কড়া আলো, কিন্তু তার ভেতরটা জমাট বাঁধা আঁধারে মোড়ানো। তার চোখের দিকে তাকালে যে কেউ শিউরে উঠত। সেখানে রাগের চেয়েও অনেক বেশি ছিল হারানোর ভয়, বুকফাটা কষ্ট, আর এমন এক তীব্র ভালোবাসা—যা সে শত চেষ্টা করেও মেনে নিতে পারছে না যে চিরতরে ফুরিয়ে গেছে।
হালকা কাঁপাকাঁপা গলায়, নিজের অজান্তেই সে বিড়বিড় করে গেয়ে উঠল—
"পাগল হয়েছি আমি অনেক আগেই...
হেরে গেছি আজ আমার নিজের কাছে।
কিছু বোঝে না দু'চোখ তুমি ছাড়া,
সব হারাতেও রাজি পেতে তোমাকে..."

এদিকে গুলশানের ফ্ল্যাটেও ইনায়াও মনের ভেতর জমে থাকা চাপা কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস। তার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠল, আর অজান্তেই বেরিয়ে এল সেই লাইনগুলো—
"ঝড় হয়ে দিলে সব ধ্বংস করে,
ক্ষত দেখাবো কাকে?"
ফেং ম্যানশনের জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যারিস যেন পুরো পৃথিবীকে শুনিয়ে গেয়ে উঠল—
"পারবে না থামাতে কেউ আমাকে,
সব শেষ করবো নিজের হাতে!
প্রতি নিশ্বাসে নাম তোমার,
লেখা আমার মনের ভেতরে...
পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দেবো,
করবো ছারখার তোমায় না পেলে..."
গুলশানের ফ্ল্যাটে ইনায়া অভিমানে গেয়ে উঠল—
"ভালোবাসা করেছো অপমান,
দিয়ে আমায় অপবাদ..."
ফেং ম্যানশনের শূন্যতা কাঁপিয়ে অ্যারিস শেষবারের মতো গেয়ে উঠল—
"তোমাকে না পেলে যে পাবে না কেউ,
জ্বলবে আগুন বারেবার..."
গান থেমে গেল। দুপ্রান্তের দুটো ঘরেই নেমে এল থমথমে নিস্তব্ধতা। মনে হচ্ছিল, দুটো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ যেন এইমাত্র কোনো অদৃশ্য সুরে মিলে গিয়ে আবার মিলিয়ে গেল।  ইনায়ার গা ঘেঁষে ছোট্ট একটা হাতের ছোঁয়া লাগল।
আইরা! এতক্ষণ মায়ের এই আনমনা গান আর চোখের পানি দেখছিল ছোট্ট মেয়েটা। সে বুঝতে পারেনি ডিভোর্স কী, দূরত্ব কী, কিংবা সম্পর্কের এই জটিল হিসাবগুলো কী। সে শুধু দেখেছে তার মাম্মাকে বিষণ্ণ লাগছে।
আইরা হঠাৎ করে নিজের গোল গোল চোখ দুটো আরও বড় করে মায়ের মুখের দিকে তাকাল। তারপর মিষ্টি হাসি দিয়ে চঞ্চল গলায় বলে উঠল,
— "ওয়াও মাম্মা! তুমি কী কিউট করে গান গাও!"
মেয়ের এই সরল গলার ডাকটা ইনায়াকে বর্তমানের বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনল। সে কয়েক মুহূর্ত অপলক তাকিয়ে রইল আইরার দিকে। চোখের কোণে তখনো কান্নার আমেজ লেগে আছে, অথচ সেই ভেজা চোখেই এক ফালি রোদের মতো মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
ইনায়া হাঁটু গেয়ে মেঝেতে বসল এবং ছোট্ট মেয়েটাকে নিজের বুকে টেনে তুলে নিল। আইরা তার ছোট ছোট নরম হাত দুটো দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ইনায়ার গলা। মায়ের কাঁধে মুখ গুজে সে যেন খুঁজে পেল তার সবটুকু নিরাপত্তা।
ইনায়া মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে দিল, কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেলো। তারপর ফিসফিস করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
— "পাগলী একটা..."

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 34 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন