#Dose_It_Hurt
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ০১
⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Prologue
Sawyer
আমার দিকে চেয়ে থাকিস না, হারামজাদা।
আমার পা অনবরত কাঁপছে, আর আমি মিলিয়নতম বার নিজেকে থামানোর চেষ্টা করি। আমি বুঝে যাচ্ছি, আমি যে নার্ভাস সেটা একেবারে চোখে পড়ছে। কিন্তু আমি কীভাবে নার্ভাস হবো না, যখন আমার মায়ের কাজিনের স্বামীর ভাইঝি আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে?
তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে ভূত দেখেছে। যদিও গত ছয় বছর ধরে আমিই একরকম ভূতের মতো ছিলাম। কিন্তু সত্যিই যদি আমি ভূত হতাম, তাহলে এই অভিশপ্ত ফ্লাইটে উঠতে হতো না।
আমরা দু'জন দুটো চেয়ারে বসে, পরস্পরের ঠিক মুখোমুখি, ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি। সে আবার ইন্দোনেশিয়ায় কী করতে যাচ্ছে? এখন তো প্রায় বড়দিন!
ধরেই নিচ্ছি, এটা তার অফিসের কাজ হতে পারে। কারণ, সে পরেছে স্কার্ট, ম্যাচিং ব্লেজার আর লুবটিন হিল। কে আবার লুবটিন হিল পরে ট্র্যাভেল করে?
তাতে কী। যেটা আসল, সেটা হলো—সে আমাকে চিনে ফেলেছে, আর এই মুহূর্তে এটা একেবারেই ভালো কিছু না।
পিঠ দিয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে, আর আমি প্রায় নিশ্চিত আমার আন্ডারআর্মেও দাগ পড়ে গেছে।
আমি যতটা সম্ভব অদৃশ্য থাকতে চাইছি, সেও তাই করছে। নির্লিপ্ত ভাব দেখাচ্ছে, অথচ মোটেও নির্লিপ্ত না। ধীরে ধীরে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। সাধারণত এতে সন্দেহ করার কিছু থাকে না, কিন্তু ওরও আন্ডারআর্মে দাগ পড়েছে, আর প্রতি দুই সেকেন্ডে একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে।
খুব সাবধানে ফোনটা কানে তুলল, চেষ্টা করছে সোজা পাতলা চুলের আড়ালে সেটা লুকাতে। চুলগুলো এতটাই পাতলা, প্রায় স্বচ্ছ—সে যতই ভাবুক ফোনটা লুকাতে পারছে, আসলে পারছে না।
বিচ।
ওর নজরের সামনে দিয়ে পালানো যে কীভাবে সম্ভব, আমার ধারণা নেই। কিন্তু আমার হাতে আর বিকল্প নেই। হয় আমি এখনই বেরিয়ে যাই, নয়তো তারা আমাকে খুঁজে পাবে।
অদৃশ্য হওয়া বাদ, এখন জীবন রক্ষার সময়। আমি আমার ক্যারি-অন ব্যাগটা তুলে নিই, উঠে দাঁড়াই, আর চেষ্টা করি স্বাভাবিকভাবে হাঁটার।
“এই!” সে চেঁচায়, কিন্তু আমি ভিড়ের মাঝে মিশে যাই, চোখে পানি এসে যাচ্ছে। আমি বছরের পর বছর দেশ ছেড়ে যাওয়াটা এড়িয়ে গেছি, সব সময় ভেবেছি ধরা পড়ে যাব, আর এখন সেটাই সত্যি হতে চলেছে।
হৃদপিণ্ড পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে আসবে মনে হচ্ছে, আমি সোজা গিফট শপে যাই, একটা জিপ-আপ হুডি, সোয়েটপ্যান্ট আর একটা বল ক্যাপ কিনে নেই। তারপর একটা বাথরুম খুঁজে বের করে বদলানোর জন্য ঢুকে পড়ি, বারবার পিছনে ফিরে তাকাতে তাকাতে।
বাথরুমেও ভিড়, তাই মাথা নিচু করে দ্রুত একটা স্টলে ঢুকে পড়ি। হাত কাঁপছে, চুলগুলো একটা লো বান করে গুটিয়ে ফেলি, টুপি মাথায় দিয়ে নিই। তারপর জ্যাকেটটা পরি, হুড তুলে দিই যাতে বাকি চুল ঢেকে যায়। শেষে শর্টসের ওপর সোয়েটপ্যান্ট চড়িয়ে নিই। গরমে আর অ্যাড্রেনালিনে আমি ইতিমধ্যে গলছি।
তারপর হাত ধুয়ে ছুটে যাই টিকিট কাউন্টারে, হাপাতে হাপাতে পৌঁছাই, প্রায় গিয়ে মুখে পড়ি এজেন্টের।
সে আমার দিকে তাকায়, আমার আকস্মিক উপস্থিতিতে একটু চমকে ওঠে।
“May I hel—”
“আমি পরের ফ্লাইটের একটা টিকিট চাই,” আমি তার কথা শেষ হওয়ার আগেই বলে ফেলি, কথাগুলো মুখে জড়িয়ে পড়ছে।
সে চোখে মুখে অবাক ভাব নিয়ে কম্পিউটারে কিছু ক্লিক করে, কয়েকটা কি চাপ দেয়।
“একটা ফ্লাইট ইন্দোনে—”
“না, ওইটা না,” আবার থামিয়ে দিই। “অন্য কোনো ফ্লাইট।”
সে চোখ বড় করে তাকায়। আমি তাকে বিরক্ত করছি, সেটা স্পষ্ট। তবে ওয়াইন খেয়ে তার দিনটা কাটিয়ে দিতে পারবে, আর আমি? ধরা পড়লে চিরতরে বিদায়।
“একটা ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে চল্লিশ মিনিটের মধ্যে।”
“সেইটাই দাও,” আমি বলি, টাকাভর্তি একটা বান্ডিল আর আইডি কাউন্টারে রাখি।
সে বিরক্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, ধীরে ধীরে টিকিট প্রসেস করতে থাকে, টাকাও গুনছে, যেন ইচ্ছা করেই ধীর।
“তুমি আট ডলার নয় সেন্ট কম দিছো,” ঠান্ডা গলায় বলে।
আমি সাধারণত কাস্টমার সার্ভিসে কাজ করা লোকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না। তারা যথেষ্ট ঝামেলা সামলায়। কিন্তু যদি এই আট ডলার নয় সেন্টের জন্য আমি ধরা পড়ে যাই, তাহলে আমি সরাসরি ওর দিকে আঙুল তুলে বলব, “এই মেয়েটা করেছে!”—তারপর দৌড় দিব।
নিচু গলায় গালাগাল করতে করতে পকেট থেকে দশ ডলারের একটা নোট বের করে টেবিলে রাখি।
সে ভুরু কুঁচকে সেটা নিয়ে নেয়, কাজ চালিয়ে যায়।
আমি বারবার কাঁধের উপর দিয়ে তাকাচ্ছি, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে এয়ারপোর্টে ভিড় অনেক, আর এখনো কোনো রাগী ইউনিফর্ম-পরা বন্দুকধারীর মুখ দেখা যায়নি।
“তোমার লাগেজ কিছু আছে?”
“না, শুধু ক্যারি-অন,” আমি বলি।
আরও কয়েক মিনিট পর অবশেষে সে টিকিটটা, চেঞ্জ আর আইডি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
“গেট ১০২। টার্মিনাল বি।”
আমি সেগুলো হাতে নিয়ে একটা তাড়াহুড়োর “ধন্যবাদ” ছুঁড়ে দিয়ে ছুট লাগাই শাটল বাসের দিকে, আমার ডাফল ব্যাগটা আমার পায়ে ঠুকরে পড়ছে বারবার।
TSA, শাটল ট্রিপ আর তারপর টার্মিনাল পেরিয়ে গেটে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমার মনে হয় আমি মরেই গেছি। তারা ইতিমধ্যেই আমার নাম স্পিকারে ডেকেছে, আর আমি নিশ্চিত যে পৌঁছাতে পারব না। গেটের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার আগমুহূর্তে পৌঁছাই।
“দাঁড়ান!” আমি চেঁচাই।
কর্মচারীটা আমাকে আসতে দেখে, আর আমি শপথ করে বলছি—ও যদি চায়, আমি ওকে ব্লোজব দিতে রাজি—ও হাসিমুখে একটু সরে দাঁড়ায়, আমায় ঢুকতে দেয়। আমি দৌড়ে প্লেনের দিকে ছুটে যাই, আর তখনও পিছন ফিরে দেখি কেউ আসছে কি না।
প্লেন টেক-অফ না করা পর্যন্ত আমার হৃদয় নিজের জায়গায় ফিরতে চায় না।
আর টেক-অফের পরও আমি অপেক্ষা করছি—কখন যেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল প্লেন থামিয়ে বলে, "একজন পলাতক আছে এই প্লেনে।"
চলবে......