ফন্ট সাইজ:
থিম:
Dose It Hurt

২৬তম পর্ব

লেখক: Translator by

#Dose_It_Hurt

#Translator_by_গল্প

#পর্বঃ২৬

⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌

Chapter 25

Sawyer

“আমাকে কনুই মারা বন্ধ করো, তুমি বিশাল বোকা!” আমি ফিসফিসিয়ে চেঁচালাম।

“তাহলে সরো,” সে গর্জে উঠল। “এত ছোট্ট একটা জিনিস হয়েও তুমি অবিশ্বাস্য পরিমাণ জায়গা নিয়ে নাও।”

“Moi(আমি) ?” আমি অবাক হয়ে বুকে হাত রাখলাম। “তুমি কি কখনো নিজের এক হাতের চারপাশের মাপ দেখেছ? একদম চিন্তার বিষয়। তোমার এ নিয়ে ডাক্তার দেখানো উচিত।”

“আমার ডাক্তার দরকার নেই। বরং তোমার উচিত শুয়ে থাকা। তোমার এখনও Concussion আছে, আর ওটা তোমার বিচারবুদ্ধি বিকৃত করে দিচ্ছে।”

আমি চোখ সরু করলাম, বিরক্তিতে ফুঁ দিয়ে। “তুমি একেবারে অসহ্য,” আমি তীক্ষ্ণ স্বরে বললাম।

Enzo আর আমি যে অদ্ভুত এক ধরনের শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম, সেটা এখনই ছাই হয়ে গেল। সে এতটাই... বিরক্তিকর। সবসময় ভাবে সে ঠিক। একেবারে জ্ঞানীগুণী সাজা। আর সবসময় আমাকে এমনভাবে দেখে, যেন ঠিক বুঝতে পারছে না সে কি হাঙরে রূপান্তরিত হয়ে আমাকে খেয়ে ফেলতে চায়, নাকি চায় না। আর আমি-ই বুঝতে পারছি না ওটা আদৌ আকর্ষণীয় কিনা।

সত্যি বলতে, যদি সে হাঙরে রূপান্তরিত হয়ও, তাতে কিছু যায় আসে না। মনে হয় এতে আমাদের দু’জনেরই উপকার হবে।

আমরা সিগন্যাল বীকন খুঁজছি, আর এসে পড়েছি হলওয়ের অপর পাশে লুকানো একটা ছোট্ট কপবক্সে। আমি ভেবেছিলাম এখানে হয়তো কোনো দরজা থাকবে, কিন্তু সেই দৈত্যাকার মানুষটার আড়ালে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, যে পুরো জায়গাটা দখল করে আছে।

“সরো,” আমি গজরালাম, কনুই মেরে, যখন তাকের পিছনে তাকাচ্ছি—ভর্তি... কফি বীজে। অনেক কফি বীজ।

“দেখো, কফির দেবতা তোমাকে আশীর্বাদ করেছে,” সে বিদ্রূপ করে বলল।

“চুপ করো,” আমি কেটে দিলাম। তীব্রভাবে নিশ্বাস ছেড়ে পিছিয়ে এলাম। “এখানে কিছুই নেই।”

আমি পাশ কাটিয়ে বেরোতে গেলাম, আর সেটা করতেও পারলাম, কিন্তু সেই সাথে সফলভাবে আমার পাছা তার লিঙ্গের সাথে ঘষে দিলাম। তার হাত সঙ্গে সঙ্গেই আমার কোমরে চলে গেল, শক্ত করে ধরে আমাকে আটকে দিল।

আমার নিঃশ্বাস থেমে গেল, আর হৃদপিণ্ড গলায় উঠে গেল।

“সাবধানে, bella,” সে অন্ধকার স্বরে সতর্ক করল। “তুমি হয়তো এখনও আমাকে ক্ষমা করোনি, কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার অনেক পদ্ধতি আমার জানা আছে।”

আমার একমাত্র প্রতিক্রিয়া হলো এক বিব্রতকর হাঁসফাঁস। সে আমাকে আরও শক্ত করে ধরল।

“আমি আবার হাঁটু গেড়ে বসতে পারি আর তোমাকে একদম ভিন্ন ধরনের দেবতার আশীর্বাদ দেখাতে পারি,” সে গুনগুন করে বলল, তার উচ্চারণ আরও ঘন হয়ে গিয়ে কথাগুলোকে আরও কদর্য কামুক শোনাচ্ছে।

এটা। একদম। ভয়ানক।

আমার ফুসফুস থেকে যেন সব অক্সিজেন বেরিয়ে গেছে, নিঃশ্বাসই নিতে পারছি না। আমি তার হাত থেকে বেরিয়ে এলাম, কাঁধের ওপর দিয়ে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিতে চাইলাম—যদিও চেষ্টা করেও মনোযোগ দিতে পারলাম না, কারণ আমার উরুর মাঝখানটা জ্বালা করছে।

“তুমি বরং এখানে আমাকে চো**দার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই Concussion খাবে, তার চেয়ে আমাকে সত্যিকারের অর্গাজম দেওয়ার চেষ্টা করাটা কম সম্ভাব্য।”

তার মেরুদণ্ড সোজা হয়ে গেল, আর মুখের অভিব্যক্তি মার্বেলের মতো শক্ত হয়ে গেল।

ওহ, Fuck।

আমি বিদ্যুৎবেগে কপবক্স থেকে বেরিয়ে এলাম, তার চ্যালেঞ্জে ফেঁসে যাওয়ার আগেই। আমি Enzo আর তার বিশাল লিঙ্গকে আমাকে বিভ্রান্ত করতে দিতে পারি না। এই ধ্বংসপ্রায় লাইটহাউসের ভেতরের শক্তি গঠনটার মতো দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

Sylvester আর Enzo একে অপরকে একদম সহ্য করতে পারে না—যদিও তারা কোনোদিনই একে অপরকে পছন্দ করত না—আর Enzo আশেপাশে না থাকলে Sylvester আমার সাথে এমনভাবে কথা বলে, যেন আমি থেকে যাওয়ার জন্য রাজি হয়েছি।

আমি ঠিক করেছি গতকাল রাতে চলে যাব, কিন্তু তাকে সেটা বলার সাহস পাচ্ছি না। ভয় পাচ্ছি বলার পর কী হবে। তাই Sawyer Bennett-এর স্বভাবমতো, আমি চুপ করে থাকি আর তাকে স্বপ্ন দেখতে দিই। যদিও সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের মতো।

আমি জানি Enzo বোঝে Sylvester-এর প্রতি আমার প্রতি আসক্তি বাড়ছে, কিন্তু কতটা খারাপ হয়ে গেছে সেটা আমি তাকে বলিনি। ওরা দু’জনেরই রাগ খুব খারাপ, আর আমি চাই না কিছু হোক যা আমাদের বীকন খোঁজার সুযোগ—আর সেখান থেকে দ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ—নষ্ট করে দেয়।

Enzo-র উত্তপ্ত দৃষ্টি উপেক্ষা করে, আমি ছোট্ট করিডোরটা ঘুরে দেখলাম। আর তারপর হঠাৎ একটা ধারণায় হোঁচট খেলাম, যা আগে ভাবিনি।

“যদি প্রবেশপথটা দ্বিতীয় তলায় না থাকে?” আমি জোরে ভাবলাম। তারপর Enzo-র দিকে ফিরলাম। সে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে রইল, আমার কথার পরের অংশের অপেক্ষায়।

“আমি ভেবেছিলাম প্রবেশপথ উপরে থাকবে কারণ সেটাই যুক্তিসঙ্গত, তাই না? তুমি তৃতীয় তলায় যাবে দ্বিতীয় তলা দিয়ে... কিন্তু যদি প্রবেশপথটা নিচের তলায় থাকে আর সোজা উপরে যায়?”

সে মাথা কাত করে ভাবল। কিছুক্ষণ পর ঠোঁট চেপে ধরে মাথা নাড়ল, আমার দিকে হাঁটতে হাঁটতে হাতের গোঁড়ালি দিয়ে আমার চিবুক ঠেলে দিল।

“ভালো ভেবেছ, bella,” সে গুনগুন করে বলল, চোখে শয়তানি ঝিলিক নিয়ে। যেন কোনো মিলন-সংকেতের জবাব দিচ্ছে, আমার ক্লিট স্পন্দিত হলো, আর উরুর মাঝখানে ভিজে উঠল।

এতটাই সহজ।

“Sylvester এখনও নিচে আছে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সে বেরোনো পর্যন্ত,” Enzo বলল, যেন সে এক সেকেন্ড আগেও আমার পা ফাঁক করে ভেতরে তাকাতে যাচ্ছিল না।

“শীঘ্রই ঝড় আসছে, আর কালও আরেকটা হবে। তাকে কীভাবে বাইরে বের করব?” আমি ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম।

সে মাথা নাড়ল। “এখনও ঠিক করিনি। কিন্তু আমরা সেই অভিশপ্ত আলো পর্যন্ত পৌঁছবই।”

আমি ঠোঁট চেপে সিঁড়ির দিকে তাকালাম।

“ততক্ষণে, আমাকে ওর সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।”

সে এমনভাবে মুখ কুঁচকাল, যেন আমি তার গলায় একটা লেবু গুঁজে দিয়েছি। যদিও সেটা তার স্বাভাবিক মুখভাবের চেয়ে খুব আলাদা নয়—Enzo-র একেবারে খাঁটি ‘রেস্টিং বিচ ফেস’।

“তাতে ও আরও উৎসাহ পাবে।” সে বলে।

“হ্যাঁ, অন্তত আমাদের একজনের ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহ পাবে,” আমি যুক্তি দেখালাম। “যদি সে ভাবে আমি থেকে যেতে পারি, তাহলে আমার দিকে একটু ঢিলে দেবে। কিন্তু যদি সে ভাবে আমি যাচ্ছি, তাহলে আরও আঁকড়ে ধরবে।”

“আমি তোমাকে একা—”

“ছেড়ে যাচ্ছ তুমি, কারণ আমি বলেছি,” আমি কেটে দিলাম। “বিশ্বাস করো বা না করো, আমি এতদূর এসেছি কারণ আমি অসহায় নই, আর সে আমার জীবনের প্রথম অদ্ভুত লোক নয়।”

সে আমাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করল, চোখে এক অজানা আবেগ নিয়ে।

“আমি বিশ্বাস করি তুমি নিজেকে সামলাতে পারবে, Sawyer। কিন্তু সে একবারও সীমা ছাড়ালে, বা আমি যদি এক মুহূর্তও মনে করি তুমি বিপদে আছো, আর না। আমি ঢুকে পড়ব, আর লোকটাকে মেরে ফেলব। তখন আর কোনো লুকোচুরি থাকবে না।”

আমার মুখ হা হয়ে গেল, চোখ বড় হয়ে উঠল। সে সিরিয়াস। একেবারে সিরিয়াস। শেষবারের মতো উত্তপ্ত দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে সে সতর্ক করল, “আমি ঘরে থাকব।”

এখানে কি গরম হয়ে গেল? আমার কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমে উঠল।

আমি সেটা হালকাভাবে উড়িয়ে দিতে চেয়ে বললাম, “ঠিক আছে, দোস্ত।”

তারপর সিঁড়ির দিকে দৌড় দিলাম—আমার যতটা হাওয়ার দরকার, ততটাই এখন জীবনে ঈশ্বর ও দরকার।

*********

ঈশ্বর, এটা এতটাই বিরক্তিকর যে সহ্য করা মুশকিল।

আমি যখন নিচে নেমে Sylvester-কে জিজ্ঞাসা করলাম, সে কি কিছু টিভি দেখতে চায় কিনা, তখন ভেবেছিলাম আমি হয়তো একটু সোপ অপেরা দেখে মন অন্য দিকে সরাতে পারব—কারণ Sylvester সবসময় ওগুলোই দেখে।

কিন্তু বাইরে ঝড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, আর আমাদের সিগনাল নেই। তাই এখন আমরা শুধু সোফায় বসে আছি, চটচটে শব্দ করা আগুনের দিকে তাকিয়ে, এবং কোনোমতে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

সে কথাবার্তায় অভ্যস্ত নয়, আমি বুঝতে পারি। কিন্তু এই মুহূর্তে, আমি বরং আনন্দের জন্য আঙুল গলায় ঢুকিয়ে বমি করব।

“গত রাতে আবার ভূতদের শুনতে পেয়েছ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আরেকটা বিষয় ফুরিয়ে যায়।

“মেহ,” সে গম্ভীরভাবে গলা খাঁকারি দিয়ে হাত নাড়ল। “আমি এখন এই শব্দের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি শিশুর মতো ঘুমাই।”

“শুনতে লাগছিল যেন উপরের মেঝেতে কেউ আঁচড়াচ্ছে,” আমি বললাম। “যেন তারা বেরিয়ে আসতে চাইছে।”

তার চোখ হঠাৎ গাঢ় হয়ে উঠল। ভূতদের প্রতি যতটা সহনশীল Sylvester, সে এদের নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। হয়তো কারণ এখানে যে আত্মারা থাকে, তারা তার হাতের কাজ।

“দুঃখিত,” সে বিড়বিড় করল। “আমার মনে হয় না এটা তোমার জন্য বেশি সমস্যা হবে কিছুদিন পর।”

“তুমি ভাবছ আমি এদের সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাব?” আমি জানতে চাইলাম।

“তেমন কিছু। আমার মনে হয় তারা শুধু অস্থির। আমি ওদের সামলে নেব, তুমি চিন্তা কোরো না,” সে আশ্বাস দিয়ে আমার হাঁটুতে হাত রাখল। আমি চেষ্টা করলাম তার শক্ত হাতের চাপে না সঙ্কুচিত হতে, কিন্তু প্রায় অসম্ভব। মনে হচ্ছিল যেন পিঠ বেয়ে পিচ্ছিল পোকা উঠে যাচ্ছে।

“আরাম করো,” সে জোরে হেসে উঠল। “আমাকে ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে আঘাত করব না।”

আমি জোর করে হাসলাম, কিন্তু তবুও হাঁটুটা তার হাতের নিচ থেকে সরিয়ে নিলাম।

আমি হয়তো ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করছি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি তাকে আমাকে ছোঁয়ার অনুমতি দেব। Sylvester সেই ধরনের মানুষ, যে সুযোগ পেলেই সীমা ঠেলে দেয়। আমি না বলা পর্যন্ত সে ছোঁবে, আর তখনও হয়তো একটু বেশি চেষ্টা করবে।

Enzo-ও তাকে বলেছে যেন আমাকে না ছোঁয়, কিন্তু তবুও সে চালিয়ে গেছে।

“তোমার ওই রকম ট্যাটু কেন?” সে জিজ্ঞেস করল, আমার চামড়ায় Simon যে দুই শব্দ এঁকেছে তা দেখিয়ে—Fuck You।

আমি নিচের দিকে তাকালাম, আর অজান্তেই ঠোঁটে একটা হাসি চলে এল যখন আঙুল দিয়ে কালো কালি ছুঁয়ে দিলাম। আমি ওকে মিস করি। হয়তো জীবনে যতজনকে মিস করেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

আমি তাকে মাত্র দু'বার দেখেছি, কিন্তু সে ছিল আমার প্রথম সত্যিকারের বন্ধু। একমাত্র বন্ধু।

আমার হাসি মিলিয়ে গেল। সে হয়তো ভাবছে আমি ইচ্ছে করেই হারিয়ে গেছি। আমি জানি সে বুঝত, কিন্তু যদি আমি আর কখনো তাকে না দেখি? যদি আমি ফিরে যাওয়ার আগেই সে নিজেই কোথাও হারিয়ে যায়?

Simon একবার বলেছিল—সে এক ঘুরে বেড়ানো আত্মা। বেশিদিন এক জায়গায় থাকে না—আমার মতো। তাকে আর কখনো না দেখার ভাবনাটা আমার চোখে পানি এনে দেয়।

“আমার বন্ধু এটা করেছে,” আমি সহজভাবে উত্তর দিলাম।

সে গম্ভীর স্বরে খেঁকিয়ে উঠল, যেন খুব একটা মুগ্ধ হয়নি। “আচ্ছা, আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই,” Sylvester শুরু করল, অস্বস্তিকরভাবে নড়াচড়া করে। আমার বুক ধক করে উঠল, কারণ আমি ইতিমধ্যেই বুঝে গেছি কোথায় এটা যাচ্ছে।

আমি গলা খাঁকারি দিলাম, আর হাতগুলো নিজের ইচ্ছেমতো অস্থিরভাবে নড়তে লাগল। চুল থেকে জামায়, আবার চুলে, তারপর ঠোঁটে চলে গেল।

“বলুন?” আমি কণ্ঠ চেপে বললাম। আমি বিব্রতকর পরিস্থিতি সামলাতে ভীষণ খারাপ।

“আমি আনুষ্ঠানিকভাবে তোমাকে এখানে থাকার আমন্ত্রণ জানাতে চাই।” কিছুক্ষণ থেমে সে যোগ করল, “আমার সাথে।”

আমি আবার গলা খাঁকারি দিলাম বোধহয়, কিন্তু আমার হৃদস্পন্দনের শব্দে নিজেই নিশ্চিত নই। কেন জানি এত নার্ভাস লাগছে, বুঝতে পারছি না। আমাকে শুধু ‘না ধন্যবাদ’ বলতে হবে। সহজ।

“ওয়াও,” আমি নিশ্বাস ফেলে বললাম। “এটা ভীষণ উদার প্রস্তাব।” সে মাথা নাড়ল, যেন আগেই জানত।

“আসলে, আমার মনে হয় আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে আমার কিছু জিনিস গুছিয়ে নিলে ভালো হবে,” আমি হালকা হেসে বললাম।

সে কপাল কুঁচকে তার ঘন দাড়ি হাত বুলিয়ে দেখল।

“আমার মনে হয় না এটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শোনায় মনে হচ্ছে তুমি বিপদে আছ। ভালো হবে যদি এখানে থাকো।” সে আমার উরুতে হাত চাপড়ে দিল, যেন সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তারপর উঠতে গেল।

“উম, আচ্ছা, তোমার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু আমি যাচ্ছি,” আমি কেটে বললাম। সে থামল, তারপর আবার বসে পড়ল। দারুণ। আমি চাইছিলাম সে বরং মেনে নিয়ে এগিয়ে যাক।

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, মনে হলো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো জ্ঞান শেয়ার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

“এটা জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ—মুক্তভাবে থাকার। তোমার টাকার দরকারই পড়বে না।”

আমার অস্বস্তি আরও বাড়ল। আসলে আমি জানিই না কেন ভেবেছিলাম এখানে থাকা ভালো হবে। এখন ভাবতেই বমি আসছে।

“হ্যাঁ, আমি কৃতজ্ঞ। সত্যি। কিন্তু আমি মনে করি আমি ঠিক থাকব।” আমি হেসে কথা নরম করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু তার ভেতর থেকে যেন একটা অন্ধকার ছড়িয়ে আসছে।

আমার ঘাড়ের পশম খাড়া হয়ে উঠল, আর যে সামান্য শান্তি Sylvester আর আমার মধ্যে ছিল, তা এক অশুভ অনুভূতিতে ভরে গেল। অ্যাড্রেনালিন ধীরে ধীরে শিরায় ছড়িয়ে পড়ল, হৃদস্পন্দন আরও বাড়িয়ে দিল যখন Sylvester আমাকে তাকিয়ে দেখল।

“তুমি গেলে আমি ওদের বলে দেব তুমি কে,” সে হুমকি দিল, স্বর গভীর ও কঠিন।

আমি বিভ্রান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকালাম। মুখ খুললাম, আবার বন্ধ করলাম, কিছু বলার ভাষা হারিয়ে।

“আমি মনে করি, তুমি যেমন বলেছ, যারা তোমার পেছনে আছে তারা যদি সত্যিই এত ক্ষমতাবান হয়, তবে তারা তোমার অবস্থান জানতে খুবই আগ্রহী হবে। আমি ধরে নিচ্ছি তুমি আইনের হাত থেকে পালাচ্ছো, আর তোমাকে গ্রেফতার করতে ওদের কিছুই আটকাতে পারবে না।”

আমার দৃষ্টি সুচের ছিদ্রের মতো সরু হয়ে এলো, আতঙ্ক আর বিস্ময়ের মিশ্রণে বুক ধড়ফড় করছে।

“তুমি কেন এমন করবে?”

“আমি চাই তুমি এখানে থাকো। আমি তোমাকে স্বচ্ছন্দ জীবন দিতে পারি, যদি তুমি আমাকে অনুমতি দাও।”

“ব্ল্যাকমেইল করে?” আমি ক্ষোভে জ্বলে উঠলাম, নার্ভাসনেস সব ভুলে গিয়ে। আমি খুব রাগান্বিত, আর কে তাকে ধারণা দিয়েছে যে আমি চাপের মুখে চুপ করে থাকি?

“তুমি জানো, অন্য কোনো পলাতক হলে এই সুযোগের জন্য মরিয়া হয়ে যেত,” সে খেঁকিয়ে উঠল, আমার প্রশ্ন এড়িয়ে।

“হ্যাঁ, যেমন সেই বন্দিরা যাদের তুমি মেরেছ?” আমি ঠাট্টা করলাম। “তুমি ভাবছ আমি পলাতক কেন?”

“আরে, আমি হয়তো বুড়ো, আর সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারি না, কিন্তু আমি বোকা নই। তুমি আশা করছ আমি বিশ্বাস করব যে তোমার মতো এক তরুণী বেঁচে থাকার জন্য অবৈধ কিছু করোনি?”

আমি মুখ খুলতেই সে চালিয়ে গেল—

“নিজেকে বিক্রি করা, সন্দেহ নেই। হয়তো চুরি করাও। যাই হোক, তুমি নির্দোষ নও। আর আমি বাজি ধরে বলতে পারি পুলিশ তোমার অবস্থান জানতে খুশি হবে।”

কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি শুধু তার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। আমি জানতাম Sylvester যতটা বন্ধুসুলভ দেখায় ততটা নয়, কিন্তু সে এতদূর যাবে ভাবিনি।

আমার fight or flight প্রবৃত্তি সক্রিয় হয়ে গেল, আর আমি উঠে দাঁড়ালাম, যদিও এখনও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। স্পষ্টতই সে আমাকে সহজে যেতে দেবে না। আমি নিজেকে বোকা মনে করছি যে আগে তার একাকিত্বের গভীরতা বুঝিনি। নিঃসঙ্গতা তাকে পাগল করে তুলেছে, আর সে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

কিন্তু আমি যদিও একজন পালিয়ে বেড়ানো মানুষ, আমি কোনোভাবেই নীচে পা মুছার পাপোষ নই। আমি সবসময় প্রতিরোধ করব। এটা Kev কঠিনভাবে শিখেছে, আর Sylvester-ও শিখবে।

“তুমি ঠিক বলেছ। বাঁচার জন্য আমি খারাপ কাজ করেছি, আর আমি অবশ্যই নির্দোষ নই। তাই ভুল কোরো না, তুমি তার ব্যতিক্রম নও,” আমি গর্জে উঠলাম।

Sylvester-এর মুখ ঝড়ের মতো অন্ধকার হয়ে গেল—এটাই ছিল একমাত্র সতর্কতা—এরপর সে দাঁড়িয়ে আমাকে জোরে চড় মারল, যার ধাক্কায় আমি সোজা ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলাম।

সে আমার দিকে আঙুল তাক করে গর্জে উঠল, “এটাই শেষবার তুমি আমার নিজের বাড়িতে আমাকে অসম্মান করলে।”

তারপরই, কাঠের কৃত্রিম পা যতটা অনুমতি দেয়, তত দ্রুত সিঁড়ির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমি হতবাক—দৃষ্টি থেকে ঝিলমিল তারা সরাতে, গাল জ্বালিয়ে ওঠা আগুন সামলাতে, আর মুখের ভেতর রক্ত জমতে এক সেকেন্ড লেগে গেল। আমার জীবনে ভয়ঙ্কর জিনিস ঘটেছে, কিন্তু Kev-ও কখনও আমাকে এভাবে মারেনি।

“তুমি কী করছ?” আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম, যখন দেখলাম সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ছুটছে।

পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আমি তার পিছু নিলাম, আর সিঁড়ির মাথায় পৌঁছালাম ঠিক তখনই, যখন সে শটগান তুলে সরাসরি Enzo-র দিকে তাক করল—Enzo করিডরের মাঝপথে দাঁড়িয়ে, মুখে তীব্র এক অভিব্যক্তি।

উপরে ওঠার পথে কোনও এক সময়ে সে নিশ্চয়ই বন্দুকটা তুলে নিয়েছে।

“তোর ঘরে ফিরে যা, ছেলে,” Sylvester সতর্ক করল, কণ্ঠস্বর স্থির—যেন কোনও বুনো ভালুককে উত্তেজিত না করার চেষ্টা করছে।

“হবে না,” Enzo গর্জে উঠল, আর সাথে সাথেই Sylvester বন্দুকের সামনের অংশটা ঠেলে দিল, স্পষ্ট হুমকি।

আমি শপথ করে বলছি, যদি সে গুলি চালায়, আমি তার ওই কৃত্রিম পায়ে লাথি মারব আর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করব না।

হঠাৎ, যেন এই গোলমালেই বিরক্ত হয়ে, কোথা থেকে যেন টেনে আনা শিকলের শব্দ ভেসে এল, যা Sylvester যা বলতে যাচ্ছিল তা থামিয়ে দিল। তার মাথা হঠাৎ উঁচু হল, চোখ ছাদের দিকে—ওপরে যেন এক অস্থির আত্মা এদিক-ওদিক পায়চারি করছে, পদক্ষেপ ভারী আর প্রতিধ্বনিময়।

“তুই ওদের রাগিয়ে দিয়েছিস,” সে কাঁধের উপর দিয়ে থুতু ফেলে বলল।

“আমি?” আমি হতবাক হয়ে বললাম। “পাগলামি তো তুমি করছ।”

“তুই এখনও পাগলামি দেখিসনি, মেয়েছেলে। এখন ভেতরে যা।”

শেষ শব্দটি মুখ থেকে বের হতেই ওপরে পদশব্দ হঠাৎ থেমে গেল, তার কণ্ঠের শব্দ যেন আরও গর্জনময় হয়ে উঠল।

ভেতরে মানে কোথায়?

আমার প্রশ্নের উত্তর দ্রুতই পাওয়া গেল—সে বন্দুকের নল ইশারায় তার নিজের ঘরের দিকে নির্দেশ করছে।

আমার চোখ আরও বিস্ফারিত হল। “কখনও না,” আমি কড়া গলায় বললাম। “আমি তোমার সাথে থাকব না।”

Enzo পাগলাটে লোকটার দিকে এগোতে লাগল, কিন্তু Sylvester তা টের পেয়ে বন্দুক তার দিকে তাক করে দিল।

“পিছিয়ে যা! আমি তোর মাথা উড়িয়ে দেব।”

“Enzo, চলে যাও,” আমি গর্জে উঠলাম। Sylvester-র কাঁধের ওপরে দিয়ে Enzo-র দৃষ্টি আমার দিকে এল।

নীরবে আমি ঠোঁট নাড়লাম, “Cave।”(গুহা)

ওকে আমাকে বিশ্বাস করতেই হবে পালানোর ব্যাপারে—এটাই আমার সবচেয়ে ভালো জানা কাজ।

Enzo দাঁত চেপে ধরল, গালের পেশি যেন ফেটে যাবে। তার চোখ গাঢ় কালো হয়ে উঠছে, আর দৃষ্টি যেন মৃত্যুর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবুও ধীরে ধীরে সে আবার ঘরের দিকে পিছিয়ে গেল।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে দৃষ্টি সরাল না। Sylvester আমাদের শোবার ঘরের দরজা জোরে বন্ধ করে দিল এবং চাবি দিয়ে তালা লাগাল।

এর আগেই যে সে আমার দিকে অস্ত্র ঘুরিয়ে দেয়, আমি ঘুরে সোজা সিঁড়ির দিকে দৌড়ে গেলাম।

“ধুর, ফিরে আয়!”

আমি এত দ্রুত নিচে নামছিলাম যে প্রায় সামনের দিকে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছিলাম। Sylvester করিডর দিয়ে তেড়ে এসে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে, কিন্তু আমি সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছি, তার আগেই সে শেষ ধাপে পৌঁছল।

“ফিরে আয়!” তার চিৎকার দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে থেমে গেল। শ্বাস দ্রুত চলছে, অ্যাড্রেনালিন আর আতঙ্ক আমার রক্তে লড়াই করছে, আমি সোজা cave-এর (গুহার) দিকে দৌড়ালাম।

ওটাই একমাত্র জায়গা যেখানে আমি পালাতে পারি।

আমি শুধু আশা করতে পারি, সে আমাকে ওখানে খুঁজে পাবে না।

চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন